শুধু মারলেই হবে না দাফনও করতে হবে

  শরিফুল ইসলাম খান ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফারমার্স ব্যাংক নিয়ে মাতম উঠেছে দেশজুড়ে। তাদের আর্থিক কেলেঙ্কারির ফলাফলে এখন হাজারও গ্রাহক আতঙ্কে। অধিক মুনাফার আশায় বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্যারামিটার যাচাই না করে যারা বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করেছিলেন, তারা তাদের মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে ভয়ে আছেন। ইতিমধ্যে যারা জমানো টাকা উত্তোলন করতে পেরেছেন তারা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন। বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, এ ব্যাংকটির মরে যাওয়া উচিত বা এটাকে মেরে ফেলা দরকার। ব্যাংকিং খাতে যে নৈরাজ্য চলছে গত ৫-৭ বছর ধরে, তিনি হয়তো সেটাকে সুস্থ করার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। এর আগে ব্যাংকের একজন শীর্ষ নির্বাহী এ ধরনের ব্যাংকের জন্মই ছিল আজন্মের পাপ বলে মন্তব্য করেছেন। সঠিক কথা বলেছেন তারা। যদিও নির্দিষ্ট করা হচ্ছে না ব্যাংকটিতে কর্মরত ব্যাংকারদের কী হবে, বিশেষ করে যারা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত তাদের অথবা গ্রাহকদের দায় পরিশোধিত হবে কীভাবে ও বিতরণকৃত ঋণের যে অংশ কলঙ্কিত সেগুলো কীভাবে ফেরত আনা যাবে। ফারমার্স ব্যাংকের কর্মকাণ্ডে বোদ্ধা মহল আরও দু-চারটি ব্যাংক নিয়ে আগাম ভাবছেন। ইতিমধ্যে মার্জারের আইনকানুন পোক্ত করার ব্যবস্থা চলছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার, ইতিমধ্যে আরও তিনটি নতুন ব্যাংকের জন্মের আলামতও পাওয়া যাচ্ছে।

ফারমার্স ব্যাংকের আলোকে অতি সাধারণ মানের একজন ব্যাংকার হিসেবে বলতে চাই, ব্যাংকিং নিয়ে বা এর সুস্থ খাত তৈরির জন্য যারা চিন্তা করছেন, তারা গত ৫-৭ বছর ধরেই সোচ্চার; কিন্তু যেটি হওয়ার তা হচ্ছে সবার নাকের ডগার সামনে দিয়ে। ব্যাংক নিয়ে ভাবনা ও আক্ষেপ বাইরের মহল ছাড়াও অভ্যন্তরীণভাবেও স্পষ্টতই লক্ষণীয়। ব্যাংকের পরিচালকরা বলছেন ব্যাংকে ভালো মানের শীর্ষ নির্বাহী নেই। শীর্ষ নির্বাহীরা আবার বলছেন, ব্যাংকে ভালো মানের ব্যাংকারের সংখ্যা নগণ্য পর্যায়ে রয়েছে। পরিচালক ও শীর্ষ নির্বাহীদের অতি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, এ অবস্থা তৈরির জন্য ব্যাংকের অনেক পরিচালক এবং শীর্ষ নির্বাহীও দায়ী। পাটিগণিতের অঙ্কের মতো ‘মনে করি’ ব্যবহার করে আমি যদি বোঝাতে চাই তা হলে বলতে হবে- কোনো ব্যাংকারকে যদি এসইভিপি পদ থেকে ডিএমডি পদে প্রমোশন দেয়াকালে ব্যাংকটির বোর্ডসভা তাকে প্রমাণিত অনৈতিকতার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে উপযুক্ত মনে না করেন এবং সেটি যদি জানাজানি হয়ে যায়, তাহলে তখন তাকে ১-২ বছর থামিয়ে রেখে তার মধ্যে একটা আত্মোপলব্ধি তৈরির পথ না করে কিছুদিন বাদেই অন্য আরেক ব্যাংকে ডিএমডি পদে পদোন্নতি দেয়া হলে ওই ব্যাংকার তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড বজায় রাখতে যেমন সাহসী থাকবেন, তেমনি অন্য ব্যাংকাররাও এ উদাহরণ দেখে অনৈতিক কার্যকলাপকে বেছে নেবেন। কারণ তারা জেনে যাবেন ওসবে কিচ্ছু আসে যায় না, নেতা ঠিক তো সব ঠিক। উপরের ঘটনাটিতে কি পরিচালক বা শীর্ষ নির্বাহীদের হাত বা সম্পর্ক নেই? বহু ব্যাংকেই এভিপি/ভিপি পদ থেকেই প্রমোশন নির্ভর করে পরিচালকদের ওপর, যেখানে তা হচ্ছে না সেখানে উচ্চ ব্যবস্থাপনার হাতেই থাকে তা। অথবা মনে করি শাখা ব্যবস্থাপক থাকাকালীন কোনো ব্যাংকার যদি ব্যাংকের স্পর্শকাতর হিসাব সাস্পেন্স ডেবিট করে নিজের ব্যক্তিগত সম্পদের ব্যবস্থাপনার কাজে লাগান, পরে সেটি সংশোধিত হয়ে থাকলেও তিনি উঁচু স্তরে আসীন হলে সেই ব্যাংকে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটতে পারে, সে ভয় থাকবেই। কারণ যে কারোর বেলায় কথা আর বড় বড় বুলিতে খাসিয়ত ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হলেও সেটি বদলাতে চেতনার জমিতে অনেক পরিশ্রমী চাষাবাদের প্রয়োজন। অথবা ধরি ব্যাংকের কার্যালয়ে নেশার সামগ্রীসহ হাতেনাতে ধরা পড়ার পর তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাস্বরূপ সাসপেন্ড করা হয়, তখন এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে যদি আরও বড় পদবি দিয়ে তাকে বাহারি অবস্থায় টিকিয়ে রাখা হয়, তার কাছ থেকে সংশোধনমূলক কোনো আচরণ বা নৈতিক ব্যাংকিং আশা করা খুবই কঠিন।

ব্যাংকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনাগুলো যখন ঘটে, যারা এই অর্থ আত্মসাৎ করেন, তারা উড়োজাহাজে করে ব্যাংকের টাকা নিয়ে যান না। এগুলো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আত্মসাৎ হয়। এই প্রক্রিয়ায় আমরা ব্যাংকাররা কি জড়িত নই? কেউ হেডম বা গাটসের অভাবে, কেউ চাকরি রক্ষার্থে, কেউ নিজ সুবিধা আদায়ের জন্য জড়িত হন, কেউবা আবার অজ্ঞতার কারণে জড়িয়ে পড়েন। কেউ অতি চালাকিতে রেহাই পান, কেউ বলির পাঁঠা হন। এসব দেখে ব্যাংকারদের মধ্যে যারা এগুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে চান কিন্তু চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন না, তারা হন হতাশ আর যারা অদম্য অভিলাষী তাদের কেউ কেউ সেগুলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলেন। শুধু তাই নয়, সার্বিক ব্যাংকিং সুস্থতার থোড়াই কেয়ার করেন তারা। ভালো মানের ব্যাংকারের সংকট ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার মুখ থুবড়ে পড়ার আরও কতগুলো কারণ হল- প্রধান কার্যালয় ও শাখাগুলোর কর্মীদের মধ্যে সব ক্ষেত্রে বৈষম্য। পারফরম্যান্স থেকে শুরু করে বেতন ভাতাদি, বিদেশ ভ্রমণ, ক্ষমতা সবকিছুতেই শাখার কর্মকর্তারা বেশ পেছনে। এমনকি প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন ও আচরণ করে থাকেন। এতে ফলাফল দাঁড়ায়, মনস্তাত্ত্বিক একটি বিভাজন আপনা-আপনি তৈরি হয়ে যায়। আরেকটি বিশেষ ধারা ব্যাংকে ভালো মানের ব্যাংকার সংকট তৈরি করছে। সেটি হচ্ছে, বেশ কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ধরনের সখ্য বজায় রেখে তর তর করে বেড়ে উঠছেন কিছু ব্যাংকার। ফলে জ্ঞান দিয়ে নিজেকে তৈরি করার চেয়ে তোষামোদির পথকে তারা শ্রেয়তর হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। তোষামোদি যারা করছেন না বা করতে পারছেন না, তারা ভাবছেন জ্ঞান অর্জনে লাভ কী? তাই গুটিয়ে নিচ্ছেন নিজেদের জ্ঞান অর্জনের পথ থেকে, চালিয়ে যাচ্ছেন নির্দিষ্ট জ্ঞানের সীমারেখায় চাকরি। নতুন বা পুরনোর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণের এক ধরনের খেলাও নষ্ট করছে ব্যাংকারদের মেধা। নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা যায় এমন ব্যাংকারদের নিয়ে দল গঠন করে ব্যাংক পরিচালনার অলিখিত নিয়ম চলছে বহু আগে থেকে। ব্যাংকগুলোর চকচকে-তকতকে শাখা বিস্তার ও তৈরির মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল অনৈতিকতার সূত্রপাত। তারপর লোভ বাড়তে বাড়তে ব্যাংক এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেন ব্যাংক রাতারাতি বড় লোক হওয়ার এক কারখানা। বাস্তবে হচ্ছেও তা। গত ৫-৭ বছরে নির্দিষ্ট পার্সেন্টের বিনিময়ে ঋণ প্রদান শুধু সরকারি ব্যাংকগুলোতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, প্রাইভেট অনেক ভালো মানের ব্যাংকেও এ প্রথা নানা কৌশলে ব্যাংকাররা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তারাই আবার নিজেদের একটা শক্ত ভিত তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। কেউ কেউ ব্যাংকের অর্থ অপচয় করে ব্যাংকারদের জ্ঞানবৃদ্ধির ও তাদের মজবুত করে গড়ে তোলার নতুন যে পদ্ধতি অবলম্বন করেন, তা খুবই সনাতনী। এগুলো দৈনন্দিন কাজের ভেতর দিয়েই করা সম্ভব। অতীতে তা-ই হয়েছে। তারা খোঁজই নেন না ব্যাংকাররা এতে করে প্রেষণা পাচ্ছেন, নাকি চাকরির দায়ে নিষ্পেষিত হচ্ছেন? নতুন ধারা বলে যারা এগুলো জাহির করেন, তারা কোনো না কোনোভাবে এসবের সুবিধাভোগী।

ব্যাংকারদের জঘন্য পরিবেশ তৈরিতে আমরা ব্যাংকাররা যে বহুলাংশে দায়ী, সেটি প্রমাণের আর অপেক্ষা রাখে না। ঊর্ধ্বতন ব্যাংকার, যারা নীতিনির্ধারণে আছেন তাদের হিপোক্রেসি ৭০-৭৫ ভাগ কমিয়ে আনলেই অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে সঠিক ধারা সৃষ্টি সম্ভব এবং বহিরাগত অনেক চাপও সামলানো যাবে তাতে। ফারমার্স ব্যাংকে বহু ব্যাংকার কীভাবে অনৈতিক পন্থায় কোটি কোটি টাকা বিতরণ করেছেন তা ওই ব্যাংকের আশপাশে স্থাপিত চায়ের দোকানদারও জানে। আমরা জেনেও না জানার ভান করেছি অথবা শক্ত হাতে দমনের চেষ্টা শুরু করতে পারিনি। এখন এই ব্যাংকের মরণ প্রয়োজন। কিন্তু এর মরণের পর দাফন কাফনের সুন্দর ব্যবস্থা রাখতে হবে, নইলে এর পচা-গলা গন্ধে অন্যরাও বিব্রত হবে, এটি পরিবেশও নষ্ট করবে। গত প্রায় ৪-৫ বছর ধরে অনেক ব্যাংক বেতন বৃদ্ধি করছে না অথচ বাইরে থেকে অনেক ব্যাংকারকে অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নিয়ে আসছেন। একই পদবিতে পুরনোরা এই নতুনদের তুলনায় কখনও কখনও লাখ টাকা পিছিয়ে থাকেন। বাস্তবে পারফরম্যান্সে পুরনোরা পিছিয়ে থাকলে ঠিক ছিল; কিন্তু ৫০ ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বহু বেতনের ব্যাংকারদের চেয়ে কম বেতনভোগীর দক্ষতা কোনো অংশেই কম নয়। এতে কি অনেক ভালো মানের ব্যাংকার হতাশ হচ্ছেন না? ব্যাংকের লোগো পরিবর্তন, ব্যাংকের ভাড়া, ব্যাংকের নিজস্ব ইমারত তৈরি, যন্ত্রপাতি আমদানির আগে সেগুলো সরজমিন দেখতে যাওয়া- সবকিছুতেই নিয়ম ভঙ্গের এক প্রথা চালু রয়েছে ব্যাংকিং খাতে। সর্বোপরি অযাচিত মুনাফার কারণেও অনৈতিকতার এক বিরাট দহে ব্যাংকিং খাত ও ব্যাংকাররা জ্বলে-পুড়ে খাক হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেতন ও গ্রেড বৈষম্য রয়েছে। কোনো ব্যাংক তিন বছরে প্রভিডেন্ট ফান্ড উভয় অংশ-গ্র্যাচুইটি প্রদান করেন, তো অন্য ব্যাংক করেন পাঁচ বছরে বা আট বছরে। কোনো ব্যাংকে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পদ পর্যন্ত ২০টি গ্রেড রয়েছে, আবার কোথাও রয়েছে ১০-১২টা। নিয়মনীতি কাগজে যতটা পোক্ত, বাস্তবে তার উল্টো। কারও জন্য এক ধরনের আচার, আরেকজনের জন্য সেটা ভিন্ন।

নির্দিষ্ট কলামে অনিয়মের গল্প শেষ করা যাবে না। গত চার বছর আগে ইত্তেফাকের এক কলামে বলেছিলাম- প্রতিষ্ঠানের ইট-সিমেন্টেরও প্রাণ আছে, অবিচার বেশি মাত্রায় হলে অজ্ঞরা অনেক বড় হয়ে গেলে প্রকৃতি প্রতিশোধ নেয়। প্রতিশোধের আগুনে পুড়ে ছাই হওয়ার আগে সবিনয়ে অনুরোধ করছি- ব্যাংক বাঁচাও, ব্যাংকার বাঁচাও এই স্লোগানে অতি দ্রুত বিআইবিএম, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ খোন্দকার খালেদ ইব্রাহিমের মতো ব্যক্তিদের নিয়ে খুব জরুরি হয়ে পড়েছে একটি আলাদা কিছু প্রতিষ্ঠার, যার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতকে কড়া নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে হবে, আর কোনো দেরি না করেই। সেখানে পরীক্ষিত, অভিজ্ঞ ব্যাংকারদেরও থাকার প্রয়োজন আছে। আমি হলফ করে বলতে পারি, এ ব্যবস্থায় ব্যাংক সিধা রাস্তায় চলে আসবে। বাঁচবে ব্যাংক, বাঁচবে ব্যাংকার। আতঙ্কমুক্ত হবে গ্রাহক। নইলে অন্যসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করে বৈধভাবে বহির্দেশের লোকবল যেমন করে আমাদের দেশ থেকে হাজার কোটি টাকা কামাই করে নিয়ে যাচ্ছে, এ খাতেও এক সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তখন কোনো রিচার্ডসন, কোনো জেকবস, বা কোনো দাদা আমাদের পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন আর আমরা বাউল গানে সুর তুলব- তোমরা খেয়ে নিয়ে চলে গেলে, আমরা চেয়ে চেয়ে দেখলাম বলার কিছু ছিল নাগো...।

শরিফুল ইসলাম খান : ব্যাংকার

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter