সবাইকে নিয়েই ভালো থাকতে হবে

  ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সবাইকে নিয়েই ভালো থাকতে হবে
প্রতীকী ছবি

মানুষে মানুষে সম্পর্কগুলো ক্রমেই কৃত্রিম হয়ে উঠছে। ক্রমাগত মানুষের প্রতি মানুষ বিশ্বাস হারাচ্ছে। এর কারণ কি সময়ের পরিবর্তন? প্রযুক্তির উৎকর্ষ নাকি মানবিক মূল্যবোধের অবনমন, কিংবা সম্পর্কের এ পরিবর্তনের সঙ্গে আরও কোনো হিডেন ফ্যাক্টর কাজ করছে? বিষয়টি নিয়ে সমাজবিজ্ঞানীরা হয়তো গবেষণা করছেন; কিন্তু সেই গবেষণার ফলাফল প্রয়োগ করে মানুষের বিশ্বাস আর সম্পর্কের জায়গাটা তৈরি করা এখন খুব জটিল হয়ে পড়েছে।

মানুষের বাইরের আর ভেতরের আচরণ একইভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। আবার একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের ভাবনা ও আচরণের পার্থক্য রয়েছে। সেটাকে কোনো একটা নিদিষ্ট শ্রেণিবিন্যাসের মধ্যেও আনা সম্ভব নয়। এই যে সম্পর্কে চিড় বা ফাটল ধরেছে তাকে কীভাবে জোড়া লাগানো যায়, সেটির কর্মকৌশল আমাদের অস্তিত্বের প্রয়োজনেই গ্রহণ করতে হবে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, মানুষ কখনও একা ভালো থাকতে পারে না।

সবাইকে নিয়েই ভালো থাকতে হয়। নতুবা সম্পর্কের ভারসাম্যের তারতম্যের কারণে সমাজ, অর্থনীতি, শিক্ষা, রাজনীতি, মনস্তত্ত্ব, দর্শন- সবখানেই ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়। গবেষণা বলছে, সম্পর্ক গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সততা, কথা দিয়ে কথা রাখার প্রবণতা, বিশ্বস্ততা, বন্ধুত্ব, দায়িত্ব নেয়ার ক্ষমতা, বোঝার ক্ষমতা, স্বচ্ছতা, ভালোবাসার মতো মৌলিক উপাদানগুলো থাকা দরকার। কিন্তু এ উপাদানগুলো এখন অনেকটা দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা ডেঙ্গুজ্বরের যে প্রাদুর্ভাব দেখেছি, তার জন্য অনেকাংশে সামাজিক সম্পর্কের অবনতিকে দায়ী করা যেতে পারে। আগে যেমনটা মানুষের সম্প্রীতির মাধ্যমে সামাজিক সংস্কারের উদ্যোগ ও সামাজিক আন্দোলন দেখা যেত, তেমনটি আর চোখে পড়ছে না। এর প্রধান কারণ হল মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের ব্যবধান বা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মানুষ ও প্রকৃতি একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।

প্রকৃতির উদারতা মানুষের মধ্যে চিন্তা করার অসীম ক্ষমতা সৃষ্টি করেছে; কিন্তু চিন্তার মধ্যে যখন আবর্জনা ঢুকেছে, তখন মানুষ জীবনকে জটিল বানিয়ে ফেলেছে। যেখানে মানুষ বিশুদ্ধ সম্পর্কের বলয় সৃষ্টি করতে না পেরে ক্রমাগত একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবর্তিত হচ্ছে, বিলম্বিত জীবনের অবরুদ্ধ সংকট থেকে মানুষকে অনেক বড় ত্যাগ করে মুক্তির পথ খুঁজতে হচ্ছে; কিন্তু সবসময় সেখান থেকে মানুষ পরিত্রাণ পাচ্ছে না। জীবন যে খুব সহজ।

জীবনের সঙ্গে মানুষের চিন্তাও যে সহজ-সরল হতে হবে, এটি মানুষ ভুলতে বসেছে। প্রকৃতি মানুষে মানুষে সম্পর্কের কথা বললেও মানুষ নিজের আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে বের হতে পারছে না বলে চিন্তার ক্ষেত্রেও তার স্বাধীন সত্তার বিকাশ ঘটাতে পারছে না। মানুষের নির্মল, স্বচ্ছ ও পবিত্র অন্তর কলুষিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে যতদিন মানুষ অসৎ থাকছে ততদিন তার কোনো শত্রু থাকছে না। কিন্তু যখন মানুষ সততাকে ধারণ করছে, তখন তার শত্রুর অভাব হচ্ছে না। এর কারণ প্রকৃতির নিয়মকে না মেনে মানুষ মানুষের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক না গড়ে অবৈধ আর্থিক সম্পর্ক গড়ে তুলছে। ভেতর আর বাইরের এ বৈপরীত্য একই ফ্রিকোয়েন্সিতে ভাইব্রেট করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। কিন্তু যদি ভেতর-বাইরে একই লেভেলে থাকত তবে পদার্থবিদ্যার জ্ঞান থেকে এটিকে কোহেরেন্ট ও ইউনিসন বলা যেত।

ব্যক্তিস্বার্থের সঙ্গে মানুষের ভোগবাদিতা এমনভাবে যুক্ত হয়েছে, মানুষের কাজের মধ্যে তার নেতিবাচক প্রতিফলন ঘটছে। যেমন- ঢাকা মহানগরে ইমারত তৈরির ক্ষেত্রে যে নিয়ম মেনে চলার কথা, সেগুলো মানা হয় না। যারা ব্যক্তিগতভাবে কিংবা রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মাধ্যমে বাড়ি নির্মাণ করছেন, তারা এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়তেও রাজি নন। এতে করে আলো, বাতাস, পানিসহ প্রকৃতির যে উপাদানগুলোর অবাধ বিচরণ হওয়ার কথা ছিল, তা হচ্ছে না।

মানুষের লোভ ও স্বার্থপরতায় প্রকৃতি তার নিজের বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলেছে। আবার বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে সরকারি আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সেটি তদারকির দায়িত্ব যাদের ছিল তারা নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেননি। দায়িত্ব পালনের অবহেলার ক্ষেত্রে দুই ধরনের মনোভাব কাজ করতে পারে। এর একটি হল নিজের কাজের ও দায়িত্বের প্রতি উদাসীনতা আর অন্যটি হল অবৈধ অর্থের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া।

হেনরি ফেয়ল তার মডার্ন অর্গানাইজেশনাল ম্যানেজমেন্ট থিওরিতে বলেছেন, কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য থাকতে হবে। কোনো কর্তৃত্ব প্রয়োগের আগে দায়বদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। কিন্তু দায়ভার ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি আমাদের মধ্যে না থাকায় এক ধরনের কাল্পনিক ও অবাস্তব ফলাফল আমরা লক্ষ করছি। একই ফ্ল্যাটে বসবাসকারী মানুষ একে অন্যকে বিশ্বাস করতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের ধারণাই নেই তার আশপাশে বা ফ্ল্যাটে কারা বাস করছে। এখানে মানুষের প্রতি মানুষের অবিশ্বাসের কারণে হাইপোথেটিক্যাল ফোবিয়া বা ভীতি সৃষ্টি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক বিভিন্ন নেতিবাচক ঘটনা মানুষের মনে মানুষ সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি করছে। এতে করে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়নে সবাই একত্রে কাজ করতে পারছে না।

আবার মানুষের মানসিকতাও সমাজ এবং পরিবেশ উন্নয়নে প্রভাবিত হচ্ছে না। সবাই একে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর কৌশল গ্রহণ করেছে। এর ফলে ডেঙ্গুর মতো বিপর্যয় যখন ডেকে এনেছে, মানুষ তখন তারা বুঝতে পারছে একা ভালো থাকা যায় না; সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে হয়। আরেকটি বিষয় আমরা লক্ষ করছি, তা হল যে কোনো ধরনের বিপর্যয় ও সমস্যার দায় মানুষ নিতে চায় না। অথচ কোনো একটি বিপর্যয়ের দায়িত্ব যে সবার ওপর কোনো-না-কোনোভাবে বর্তায়, সেটি মানুষের মনস্তত্ত্বে নেই। একটা ছোট উদাহরণ দিলে বিষয়টি আমাদের কাছে পরিষ্কার হবে। একটি কোম্পানির হঠাৎ ব্যবসায় লোকসান হল।

একদিন দুপুরে সেই কোম্পানির কর্মচারীরা ক্যান্টিনে লাঞ্চ করে ফেরার সময় অফিসের প্রবেশমুখে একটি নোটিশ দেখতে পেল। নোটিশে লেখা ছিল- কোম্পানির লোকসানের জন্য দায়ী ব্যক্তি গতকাল মারা গেছেন। সেমিনার রুমে একটি কফিনে উনার লাশ রাখা হয়েছে।

ইচ্ছুক ব্যক্তিরা উনাকে দেখতে পারেন। সহকর্মীর মৃত্যুর খবর শুনে প্রথমে কর্মচারীরা খুব দুঃখ পেল। এরপর তারা কৌতূহলবশত মৃত ব্যক্তিটি কে? এই ভেবে মৃত ব্যক্তিকে দেখতে সেমিনার রুমে গেল। কর্মচারীরা সবাই সেমিনার রুমে এসে একত্রিত হল, সবাই ভাবতে লাগল, আসলে কে সেই কর্মচারী যে কোম্পানির সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল? একে একে তারা যখন কফিনের কাছে গেল এবং কফিনের ভেতরে তাকাল, হঠাৎ তারা কিছু একটা উপলব্ধি করে বাকস্তব্ধ ও হতভম্ব হয়ে গেল। যেন মৃতদেহটি তাদের খুব আপন কেউ!

আসলে কফিনের ভেতরে রাখা ছিল একটা আয়না। যেসব কর্মচারী কফিনের ভেতরে তাকিয়েছিল, আসলে তারা নিজেদের চেহারাই দেখতে পেয়েছিল। আয়নার এক পাশে একটা কাগজে লেখা ছিল, গোটা পৃথিবীতে শুধু একজন ব্যক্তিই আছে, যে তোমার সাফল্যের পথে বাধা দিতে সক্ষম, আর সেই ব্যক্তি হচ্ছ ‘তুমি’ নিজে। এ গল্পটির মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারছি- কোনো একটি সিস্টেম নষ্ট হয়ে গেল তার দায় সবার। কারও পক্ষে এ দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

সব ক্ষেত্রে সরকারকে দায়ী করে কোনো সমস্যার সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়। সমস্যা কিংবা জটিলতা মানুষ ও এ ক্ষেত্রে যাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে সবার দায়িত্বহীনতার কারণেই ঘটে। দুর্নীতির জন্য যারা দুর্নীতি করছে তারা যেমন দায়ী, তেমনি তাদের যারা এ বিষয়ে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে সাহস জোগাচ্ছে তারাও সমভাবে দায়ী। ঘুষ দেয়া আর নেয়া সমপর্যায়ের অপরাধের মধ্যে পড়ে। এ মহামূল্যবান কথাটি অনেকেই মুখ দিয়ে বললেও তারাও ঘুষ দেয়া-নেয়ার মতো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। বিষয়টি তাদের বাইরের মনস্তত্ত্ব জানলেও ভেতরের মনস্তত্ত্ব তা বিশ্বাস করে না কিংবা বোঝার চেষ্টা করে না।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ঘুষ গ্রহণকারীর পাশাপাশি ঘুষ দাতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যে ঘুষ নেবে তার বিরুদ্ধে তো ব্যবস্থা নিতে হবেই, আর যে দেবে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ দু’জনই অপরাধী। এ বিষয়টি মাথায় রেখে সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। কে কত আয় করল, কে কত খরচ করল তারও একটা হিসাব থাকা উচিত, বিশেষ করে, বড় ধরনের খরচের।

কে কোন খাতে, কোন উদ্দেশ্যে খরচ করছে, তার সেই আয়ের উৎস কী, এর হিসাব রাখা প্রয়োজন। চাওয়া-পাওয়ার সীমা আছে। সম্পদের সীমা আছে। মানুষ আসলে অন্ধ হয়ে যায় অর্থের জন্য। কিন্তু এটা ভুলে যায়, মরে গেলে কিছুই সঙ্গে নেয়া যাবে না, কবরে একাই যেতে হবে। যা রেখে যাবে সেটা আর কোনোদিন তার কাজে লাগবে না। আর যদি বেশি রেখে যায় তবে ছেলেমেয়ের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। ওই নিয়ে মারামারি-কাটাকাটি শুরু হয়ে যাবে।

সম্পদের পেছনে অন্ধের মতো ছুটে বেড়ানো আর নিজের সবকিছু নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। আমরা অনেকেই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিল্পপতি হতে চাই। এসব হওয়ার উদ্দেশ্য যদি অর্থ উপার্জন হয়, তবে এ পেশাগুলোর মানবিক মূল্যবোধ থাকে না। ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে সেবার মনোভাব তৈরি না হয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্কের মনোভাব তৈরি হয়। ঠিক তেমনি দালানকোঠা নির্মাণের ক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়াররা যদি প্রকৃত স্টাকচারাল ডিজাইন ও ড্রয়িং না করে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশে কাজ করে, তবে তা মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। শিল্পপতিরা নিজেদের লাভকে গুরুত্ব দিয়ে যদি মানুষের প্রচেষ্টা, প্রকৃত বেতন, প্রণোদনা ও উন্নয়নকে প্রাধান্য না দেয়, তবে মানবিক সম্পর্কে চিড় ধরার কারণে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়।

এসব থেকে বের হয়ে আমাদের এথিক্যাল ও লজিক্যাল সম্পর্কের শক্ত বন্ধন গড়ে তুলতে হবে। তবেই সব ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে। আমাদের এখন নিজেদের বিশুদ্ধ করার সময় এসেছে। আমাদের পরস্পরের সম্পর্কগুলো যদি নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে হয় তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যা সমাধান সম্ভব। সবার ভালোকে মাথায় রেখে আমাদের সিদ্ধান্ত, কর্ম ও আচরণকে প্রাধান্য দেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। তবেই সম্পর্কের মধ্যে যে বিশ্বাস ও শক্তি তৈরি হবে তা মানুষ, সমাজ ও দেশকে মানবিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেবে।

ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী : অধ্যাপক, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×