সব বর্জ্য নদীতেই কেন ফেলি?

  সাহাদাৎ রানা ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বর্জ্য

আজ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব নদী দিবস। দিবসটির সূচনা আশির দশকে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া রাজ্যে হলেও বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে ২০১০ সাল থেকে।

এর সূচনা করেছিল নদীবিষয়ক নাগরিক সংগঠন ‘রিভারাইন পিপল’। পরবর্তী সময়ে গঠিত হয় ‘নদী দিবস উদযাপন পরিষদ’। তারা দিবসটির বাংলাদেশ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ ও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছর দিবসটির বাংলাদেশ প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘নদী একটি জীবন্ত সত্তা, এর আইনি অধিকার নিশ্চিত করুন।’

বাংলাদেশে নদী দিবস পালন একটি ভিন্ন তাৎপর্য; যেখানে নদী আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকার অংশ, সেখানে নদী দিবস পালন করে এর গুরুত্ব মনে করিয়ে দিতে হচ্ছে! এই পরিস্থিতি একদিনে হয়নি। নদীর আশীর্বাদে আমাদের ভূপ্রকৃতি, সভ্যতা, সংস্কৃতি, যোগাযোগ ও উৎপাদন ব্যবস্থা, পরিবেশ-প্রতিবেশ গড়ে উঠলেও দুর্ভাগ্যবশত আমরা নদীর প্রতি বিরূপ আচরণ করে আসছি। যে কোনো বর্জ্য নদীতে ফেলার এক সর্বনাশা সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এমনকি দাম না পাওয়া কোরবানির চামড়াও এ বছর আমরা নদীতে ফেলেছি!

দেখা গেছে, এবারের ঈদুল আজহায় চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাননি ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা। চামডার দাম এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তিন দশকের মধ্যে এ বছর কোরবানির ঈদে কাঁচা চামড়ার দাম ছিল সবচেয়ে কম। ঈদের দিন সারাবেলা অপেক্ষার পরও ন্যায্য দামে কোনো ক্রেতা পাননি ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় পশুর মূল্যবান চামড়া অনেকে মাটিতে পুঁতে ফেলে করেছেন প্রতিবাদ। অনেকে আবার মাটিতে না পুঁতে নদী ও খালে ফেলেছেন কাঁচা চামড়া। মূল্য না পেয়ে ভুক্তভোগীদের এমন প্রতিবাদ আমাদের সবার কাছে একেবারে নতুন। তাই বিষয়টি সারা দেশেই আলোচনার জন্ম দেয়। প্রতিবাদস্বরূপ ভুক্তভোগীদের এমন প্রতিবাদ সবাই গ্রহণও করেছেন। তবে মাটিতে পুঁতে ফেলে প্রতিবাদ অবশ্যই গ্রহণযোগ্য; কিন্তু নদী কিংবা খালে চামড়া ফেলে প্রতিবাদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মেনে নেয়ার মতোও নয়।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীতে চামড়া ফেলার বিষয়ে কোনো বাধা দেয়া হয়নি। নদীতে চামড়া ফেলা মানে একদিকে যেমন চামড়া পচে আমাদের পরিবেশের ক্ষতি করছে; তেমনি ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে নদীর পানির। নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি নদীর অন্য জলজ প্রাণীরও ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু আমাদের সবার দৃষ্টির সামনে এমনটি হলেও আমরা কেউ কোনো প্রতিবাদ করিনি।

এমনিতেই নানা কারণে আমাদের নদীগুলো প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে। এর মধ্যে চামড়া ফেলে নদীর আরও ক্ষতি করা মানে আমরা পরোক্ষভাবে নিজেরা নিজেদের ক্ষতি করছি। প্রতিবাদ দাবি আদায়ের অন্যতম ভাষা, এটা সত্যি। কিন্তু অন্যের ক্ষতি করে, বিশেষ করে পরিবেশের ক্ষতি করে এমন প্রতিবাদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। স্থানীয় প্রশাসনের উচিত এখনই যেসব নদীতে পশুর চামড়া ফেলা হয়েছে তা অতি দ্রুত উঠিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলা এবং আগামীতে মাটিতে না পুঁতে যারা নদী কিংবা খালে পশুর চামড়া ফেলবে, তাদের শাস্তির আওতায় আনার ঘোষণাও দিতে হবে। কেউ যদি দাম না পেয়ে প্রতিবাদ জানাতে চান, তবে তা মাটিতে পুঁতে ফেলুন, নদীতে নয়।

বিশ্বে এমন কোনো জায়গা পাওয়া যাবে না, যেখানে নিজের ইচ্ছামতো পশুর চামড়া নদীতে ফেলা হয়। এটা শুধু আমাদের পক্ষেই সম্ভব। অবশ্য শুধু কোরবানির সময় নয়; প্রায় সারা বছরই আমরা দেখি, কোনো পশুপাখি মারা গেলে মৃত প্রাণীটি নদীতে ফেলে দেয়া হচ্ছে। একবারও ভেবে দেখি না, এতে নদীর কী ক্ষতি করছি আমরা। তবে এখন সময় এসেছে, এ বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হওয়ার। আমাদের দেশের চারপাশে নদ-নদী এবং অভ্যন্তরে রয়েছে খাল-বিল।

নদ-নদী ও খাল-বিল প্রকৃতির এক অপার দান; অথচ এমন দানকে আমরা ধ্বংস করছি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই সবার উচিত একটু সচেতন হয়ে নদ-নদীগুলো দূষণ থেকে রক্ষা করা; প্রকৃতির অপার দানকে নিজেদের প্রয়োজনে বাঁচিয়ে রাখা।

সাহাদাৎ রানা : সাংবাদিক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×