স্বদেশ ভাবনা

তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যাও মানবিক ইস্যু

  আবদুল লতিফ মন্ডল ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যাও মানবিক ইস্যু

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চার দিনের ভারত সফরকালে দুই দেশের মধ্যে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারে ভারতকে অগ্রাধিকার প্রদান, ফেনী নদীর ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি ভারতকে সরবরাহ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোয় গ্যাস পাঠানো এবং বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের উপকূলে ভারতের ২০টি রাডার সিস্টেম নেটওয়ার্ক স্থাপন। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ঝুলে থাকা তিস্তা ইস্যুটির আলোচনার কথা থাকলেও সেটি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি, যদিও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে দেয়া যৌথ বিবৃতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে সমাধানে পৌঁছতে ভারতের সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছে তার সরকার (যুগান্তর, ৬ অক্টোবর)।

ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল বিএনপি এ চুক্তিকে ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। ৬ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার, ফেনী নদীর পানি ভারতের ত্রিপুরায় সরিয়ে নেয়া এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোয় গ্যাস পাঠানোর চুক্তি সুস্পষ্টভাবে সংবিধান পরিপন্থী।

এসব চুক্তি সংবিধানের ১৪৫ক অনুচ্ছেদের গুরুতর লঙ্ঘন, যা সংবিধানের ৭ক অনুচ্ছেদের অধীনে সংবিধান লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের শামিল। এসব চুক্তির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান তিনি।

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমর ও সম্পাদক ফয়জুল হাকিম ৬ অক্টোবর এক বিবৃতিতে বলেছেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারে ভারতকে অগ্রাধিকার প্রদান, নিজ দেশে জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও ভারতে তরল-গ্যাস রফতানি, দীর্ঘ ১০ বছর তিস্তার পানিবণ্টনে ভারতের প্রতারণা সত্ত্বেও ফেনী নদীর পানি ভারতকে সরবরাহের অনুমোদন প্রদান সরকারের জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের দৃষ্টান্ত। বিবৃতিতে তারা বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে ভারতকে ২০টি নজরদারি রাডার স্থাপন করতে দেয়ারও কঠোর সমালোচনা করেন।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরেও যে তিস্তা চুক্তি হবে না, সেই আভাস আগেই ছিল। কিন্তু যেটা কল্পনাও করা যায়নি সেটা হল ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেয়ার জন্য সমঝোতা স্মারক সই।

তিনি বলেন, অতি সামান্য মাসুলে দেশের দুটি বন্দর ভারতকে ব্যবহার করতে দেয়া হলে নিজস্ব আমদানি-রফতানির ওপর বড় প্রভাব পড়বে। উপকূলে পর্যবেক্ষণের জন্য ২০টি রাডার স্থাপন করবে ভারত। নৌবাহিনী থাকার পরও কেন ভারতের সহায়তায় এ রাডার স্থাপন করতে হবে তা স্পষ্ট নয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরকালে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ‘সবচেয়ে দৃষ্টিকটু লেগেছে ফেনী নদী থেকে পানি প্রত্যাহারের বিষয়টি। তিস্তা তো বাদ পড়ে গেছে সেই কবেই, সফরের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ছোট ছোট কয়েকটি নদীর বিষয়ে একটি রূপরেখা চুক্তি, তারও কোনো লক্ষণ দেখা গেল না। মাঝখানে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো এই ফেনী চুক্তি। ঠিক এ সময়ে এ রকম একটা চুক্তি কেন করতে হবে, তা আমার কাছে এক বিস্ময়’ (প্রথম আলো, ৮ অক্টোবর)।

ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেয়া এবং তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরে ভারতের অনীহা আলোচনা করাই এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০০৫ সালের এক তথ্যের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্বত্য এলাকা ও খাগড়াছড়ি থেকে বেশ কয়েকটি উপনদী ফেনী নদীর ওপর এসে পড়েছে। এর মধ্যে মুহুরি নদী উল্লেখযোগ্য।

শুকনো মৌসুমে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফেনী নদীতে ৪৭ কিউসেক পানি থাকে। পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক বলেছেন, এটি আসলে অনেকগুলো নদীর একটি অববাহিকা। ফেনী জেলা এবং উজানে খাগড়াছড়ি জেলার মানুষ এর দ্বারা উপকৃত। ফেনী নদীর পানি কমে গেলে এই উপনদীগুলোয়ও পানি প্রবাহ কমে যাবে। যার কারণে ফেনী নদীর সঙ্গে হুমকির মুখে পড়বে এসব নদীর জীববৈচিত্র্য এবং এর স্থানীয় বাসিন্দারাও।

আমাদের পররাষ্ট্র সচিব বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সীমান্ত দিয়ে বয়ে চলা ফেনীর পানি পেলে ভারতের ত্রিপুরার সাব্রুম অঞ্চলের মানুষের পানিকষ্ট মেটে- ভারতের এ অনুরোধের পটভূমিতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পূর্ণ মানবিক কারণে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মানবিক ইস্যুর সঙ্গে আর কোনো ইস্যুকে মেশানো ঠিক নয়। দক্ষিণ ত্রিপুরার ওই অঞ্চলটাতে খাবার পানি নেই। আর সে কারণেই বাংলাদেশ পানি দিতে সম্মত হয়েছে। ভালো যুক্তি। তবে প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিশেষ করে দেশটির উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও পরিবেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে চুক্তি সম্পাদনে বাংলাদেশের অনুরোধ বারবার অগ্রাহ্য হচ্ছে কেন? অর্থনীতি ও পরিবেশের ধ্বংস রক্ষা কি মানবিক ইস্যু নয়?

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এর মধ্যে শুধু গঙ্গা ছাড়া আর কোনো নদীর পানিবণ্টনে চুক্তি নেই। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নয়াদিল্লিতে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির প্রস্তাবনায় পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে দু’দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানিবণ্টনের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

এর আগে ১৯৮৪ সালের ২১ মার্চ ভারতের লোকসভায় এক বিতর্কে অংশ নিয়ে দেশটির তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাও তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সম্পাদনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন (India-Bangladesh Relations, Volume 1, Edited by Avtar Singh Bhasin)।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশ সবসময় তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বণ্টনে চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর জোর দিয়ে আসছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে এমন সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে এ বিষয়ে অভিন্ন মত পরিলক্ষিত হয়েছে।

১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণদানকালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির ন্যায্য বণ্টনে ভারতের অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন এবং বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন (India-Bangladesh Relations, Volume 1, Edited by Avtar Singh Bhasin)।

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর জোর দিয়েছেন। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে তিস্তা নদীর পানিবণ্টনের বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া প্রয়োজন মর্মে যৌথ ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

২০১১ সালের ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে তা হয়নি। সে সময় (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়াকে ড. মনমোহন সিং দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

২০১৫ সালের জুনে (৬ ও ৭ জুন) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর করেন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ছাড়াও সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, সংসদের বাইরে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি মোদির সফরকে স্বাগত জানায়।

প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরকালে বাংলাদেশ সরকার, বিরোধী দল এবং দেশের জনগণ আশা করেছিল, তিস্তার পানির ন্যায্য বণ্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। কিন্তু সে সময় ১৯টি চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। ওই সময় নরেন্দ্র মোদি তিস্তা চুক্তি সইয়ের জন্য সময় চেয়েছিলেন।

প্রায় দুই বছর পর ২০১৭ সালের এপ্রিলে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওই মেয়াদকালেই চুক্তি সইয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। সে প্রতিশ্রুতি কার্যকর হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরকালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে দেয়া যৌথ বিবৃতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে সমাধানে পৌঁছতে ভারতের সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে তার সরকার। মোদির বক্তব্যে আশান্বিত হওয়ার কারণ নেই, কারণ সব অংশীদার কবে সমাধানে পৌঁছতে পারবেন, কিংবা আদৌ সমাধানে পৌঁছতে পারবেন কিনা তা একমাত্র ভবিৎব্যই জানেন।

গত আগস্টে ঢাকা সফরকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্করের বক্তব্য তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। ওই সফরকালে জয়শঙ্কর বলেছিলেন, দু’দেশের জন্য লাভজনক হয়, এটা বিবেচনায় রেখে অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানিবণ্টনে একটি ফর্মুলা বের করতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। সাংবাদিকরা তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির অগ্রগতি জানতে চাইলে জয়শঙ্কর বলেছিলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের একটা অবস্থান আছে। প্রতিশ্রুতি আছে, এটা আপনারা সবাই জানেন। এতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।’

তার এ বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আমাদের কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ ‘তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তিটি আর হচ্ছে না’- এমন মতপ্রকাশ করেন। তারা আরও বলেন, ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সফরকালে একটি ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টে পানিসম্পদ ব্যবহারের জন্য নদীর অববাহিকাভিত্তিক সমাধানে দুই পক্ষই একমত হয়েছিল। সুতরাং নতুন করে অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবহারের ফর্মুলার প্রয়োজন নেই।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সার্বিক কৃষি খাত তিস্তার পানিপ্রবাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০০ বছর আগে তিস্তা উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম নদী হিসেবে পরিচিত ছিল।

করতোয়া, আত্রাই, যমুনেশ্বরী ইত্যাদি নদী তিস্তার বিপুল জলরাশি নিয়ে প্রবাহিত হতো। একসময়ের অনন্ত যৌবনা তিস্তা এখন অপমৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদী নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে তিস্তার ভারতীয় অংশের গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করে দেশটি এককভাবে পানি নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রয়োজন ছাড়াই বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিলে ডুবে যায় বাংলাদেশের অনেক এলাকা।

আবার গ্রীষ্ম মৌসুমে বোরো চাষ ও অন্যান্য ফসল ফলানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানি দেয়া হয় না বাংলাদেশকে। ফলে বাংলাদেশের ১২৫ কিলোমিটার তিস্তা অববাহিকায় সার্বিক কৃষি খাত ও জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। তাছাড়া শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ ভীষণভাবে কমে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। সার্বিকভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রশ্নে ভারতের অভ্যন্তরীণ মতানৈক্যের দোহাই দিয়ে ভারত সরকার এ পর্যন্ত চুক্তিটি স্বাক্ষর করেনি। এখন নতুন ফর্মুলার কথা বলা হচ্ছে। আমাদের সরকারও তাতে সায় দিচ্ছে।

মনে রাখতে হবে, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন বাংলাদেশের মানুষের, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্ন। মানবিক কারণে ফেনী নদীর পানির ভাগ ভারতকে দেয়া হলে অভিন্ন নদী তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ পাবে না কেন? ভারত সরকার তাদের অভ্যন্তরীণ বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে তিস্তার পানির ন্যায্য বণ্টনে দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষরে এগিয়ে আসুক- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×