স্বদেশ ভাবনা

কৃষিকে সমান গুরুত্ব দিয়েই উন্নয়ন

  আবদুল লতিফ মন্ডল ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কৃষিকে সমান গুরুত্ব দিয়েই উন্নয়ন

গত ৬ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ কৃষক লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি রক্ষায় আবাদি জমিতে শিল্পকারখানা স্থাপন না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা উন্নত হব, শিল্পায়নে যাব। কিন্তু সেটা কৃষককে ত্যাগ করে নয়, কৃষিকে ত্যাগ করে নয়। কারণ কৃষি আমাদের বাঁচিয়ে রাখে, খাদ্য দেয়, পুষ্টি দেয়, সবকিছু করে। তাই আমরা উন্নয়ন প্রকল্পটা এমনভাবে নিই, যাতে কৃষক সবচেয়ে গুরুত্ব বেশি পায়।’ আমাদের জীবনে কৃষক ও কৃষির অবদান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। কৃষিকে সঙ্গে নিয়েই কেন আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাব, তা আলোচনা করাই এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য।

এটা সত্য যে, জিডিপিতে সার্বিক কৃষি খাতের (সার্বিক কৃষি খাত বলতে বোঝায় শস্য, বন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সমন্বয়ে গঠিত কৃষি খাত) অবদান আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। স্বাধীনতার প্রথম দশকে জিডিপির চার ভাগের প্রায় তিন ভাগ আসত কৃষি খাত থেকে। এখন তা ২০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কমে গেলেও এখনও ‘কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান কর্মকাণ্ড এবং জীবনীশক্তি’ (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮)। তাছাড়া সার্বিক জিডিপিতে কৃষির রয়েছে পরোক্ষ অবদান। বিশেষ করে বৃহৎ সেবা খাতের মধ্যে পাইকারি ও খুচরা বিপণন, হোটেল ও রেস্তোরাঁ এবং পরিবহন, সংরক্ষণ ও যোগাযোগ খাতের প্রবৃদ্ধিতে এ খাতের রয়েছে মূল্যবান অবদান।

স্বাধীনতার প্রথম দশকে দেশের মোট জনশক্তির ৭৫ শতাংশ কৃষি খাতে নিয়োজিত ছিল (দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা : ১৯৮০-৮৫)। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৮ সালের তথ্য মোতাবেক কৃষিতে নিয়োজিত জনশক্তি ৪০ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এলেও স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত জনসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষিতে শ্রমশক্তির সংখ্যা সাকল্যে কমেনি। সম্প্রতি প্রকাশিত কৃষিশুমারি-২০১৯-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট পরিবারের ৪৬ দশমিক ৬১ শতাংশ পরিবার কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে ৫৩ দশমিক ৮২ শতাংশ গ্রামে, ১০ দশমিক ৪৬ শতাংশ শহরে বাস করে। বিভাগভিত্তিক এ হার হচ্ছে- বরিশাল ৬৬, চট্টগ্রাম ৪৪ দশমিক ৯৪, ঢাকা ৩০ দশমিক ৭৯, খুলনা ৫৪ দশমিক ৭৮, ময়মনসিংহ ৫৫ দশমিক ৭৫, রাজশাহী ৫১ দশমিক ১১, রংপুর ৫৫ দশমিক ৪৭এবং সিলেট ৪৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এ থেকে বোঝা যায়, কৃষি আমাদের জীবন ও অর্থনীতিতে কত গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষির ওপর নির্ভরশীলতা মানে জমির ওপর নির্ভরশীলতা। কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, দেশের জনসংখ্যা যখন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন হ্রাস পাচ্ছে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ। স্বাধীনতা-পরবর্তী সাড়ে ৭ কোটি জনসংখ্যা ২০১১ সালের সর্বশেষ পঞ্চম আদমশুমারিতে দাঁড়ায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ ১৮ হাজারে। পরবর্তী ষষ্ঠ আদমশুমারি ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য মোতাবেক, বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫০ লাখের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে। বিবিএসের ‘লেবার ফোর্স সার্ভে-২০১৬-১৭ অনুযায়ী, দেশের মোট ১০ কোটি ৯০ লাখ কর্মক্ষম শ্রমশক্তির ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ, যাদের বয়স ১৫-৩৪ বছরের মধ্যে। এরা একাধিক সন্তান জন্মদানে সক্ষম। এর অর্থ দাঁড়ায়, দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির বর্তমান হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ থেকে কমে আসার আশঙ্কা অদূর ভবিষ্যতে নেই।

দেশের জনসংখ্যা একদিকে যখন বেড়ে চলেছে, তখন অন্যদিকে কৃষিজমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। সত্তরের দশকের শেষদিকে প্রণীত দ্বিবার্ষিক পরিকল্পনায় (১৯৭৮-৮০) বলা হয়, দেশে কৃষিজমির পরিমাণ প্রায় ৯০ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর।

তৃতীয় বার্ষিক পরিকল্পনায় (১৯৮৫-৯০) বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মাথাপিছু জমির পরিমাণ সবচেয়ে কম বাংলাদেশে। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১১-১৫) বলা হয়, কৃষিজমির বহুবিধ ব্যবহার এবং নদীভাঙনের কারণে মাথাপিছু জমির প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে এবং বছরে প্রায় ১ শতাংশ হারে কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। বিবিএসের কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০১৭ অনুযায়ী, দেশে মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ৭৭ লাখ হেক্টরে।

কৃষিজমির পরিমাণ হ্রাসের মূল কারণ অকৃষি খাতে এর ব্যবহার। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ভূমি ও কৃষিজমি রক্ষায় রাষ্ট্রের সমন্বিত কোনো পরিকল্পনা নেই। ফলে অপরিকল্পিতভাবে ব্যাপক হারে কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। যেসব কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে সেগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল আবাসন, শিল্পকারখানা স্থাপন, রাস্তা, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ। তবে সবচেয়ে বেশি কৃষিজমি চলে যাচ্ছে আবাসন খাতে এবং তার বেশিরভাগ পল্লী অঞ্চলে।

পল্লী অঞ্চলে আবাসন খাতে কৃষিজমি ব্যবহারের ওপর চাপ কমাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২০১৩ সালে ‘পল্লী জনপদ’ নামে একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করে। দেশের তৎকালীন ৭টি বিভাগের প্রতিটির একটি করে গ্রামে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত হয়। প্রকল্প এলাকায় স্বল্প পরিমাণ জমির ওপর আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ চার তলা ভবন নির্মাণ এবং প্রকল্প এলাকায় হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশুর খামার স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নের শেষ সময় নির্ধারিত ছিল ২০১৭ সালের জুন মাস, কিন্তু সেটি আলোর মুখ দেখতে পারেনি।

২০১১ সালের আদমশুমারিতে দেশে বসতবাড়ির (household) সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ কোটি ১৮ লাখ ৬৩ হাজারে, যা ২০০১ সালের আদমশুমারির ২ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজারের তুলনায় ৭০ লাখ ১৩ হাজার বেশি (বৃদ্ধির হার ২৮ দশমিক ২২ শতাংশ)। ২০২১ সালের আদমশুমারিতে বসতবাড়ির সংখ্যা যে কমবেশি সাড়ে ৪ কোটিতে পৌঁছতে পারে।

শিল্প খাতেও ঘটছে কৃষিজমির হস্তান্তর। এটা ঠিক যে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পায়নের গুরুত্ব অপরিসীম। কৃষি খাতের তুলনায় জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান দ্বিগুণেরও বেশি (৩৩ শতাংশ)। শিল্পায়নের মাধ্যমে আমরা পাচ্ছি আধুনিক জীবনের অপরিহার্য উপকরণগুলো।

তবে সেই সঙ্গে এটাও ঠিক যে, কৃষি খাত আমাদের মৌলিক চাহিদা- খাদ্যের জোগান দেয়। কৃষক ও কৃষি খাতের অবদানে আজ আমরা আমাদের প্রধান খাদ্য চাল, শাকসবজি এবং আমিষের প্রধান উৎস মাছে স্বনির্ভরতা অর্জনের দোরগোড়ায় পৌঁছেছি।

মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য রফতানির মাধ্যমে বাংলাদেশ মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। আমরা যেসব খাদ্যদ্রব্য যথা- গম, মাংস, ডাল, খাবার তেল, দুধ, ফলমূল, মসলা চাহিদা মোতাবেক জোগান দিতে পারছি না, সেসব পণ্য অধিক পরিমাণে উৎপাদনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কৃষক ও সরকার। শিল্প খাতের কাঁচামাল সরবরাহে ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধিতে মূল্যবান অবদান রেখে আসছে কৃষি খাত। পাট উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ পাটের জন্মরহস্য উন্মোচন করে এর উন্নত উৎপাদন ও বহুমাত্রিক ব্যবহারের সুযোগ এনে দিয়েছে। পাটশিল্প নানা সমস্যায় ভুগলেও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্যগুলো রফতানি করে দেশ ১০২৬ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯)। তাছাড়া দেশের কর্মক্ষম শ্রমশক্তির অর্ধেকের কাছাকাছি নিয়োজিত কৃষি খাতে। প্রধানমন্ত্রী তাই যথার্থই বলেছেন, ‘আমরা উন্নত হব, শিল্পায়নে যাব। কিন্তু সেটা কৃষককে ত্যাগ করে নয়, কৃষিকে ত্যাগ করে নয়।’

আমাদের কৃষি খাত বেশ কিছু সমস্যায় ভুগছে এবং এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে জিডিপিতে এ খাতের অবদান অনেকটা বৃদ্ধি পাবে। সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে- এক. সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার কমে গেছে। কৃষিতে উৎপাদনের হার অধিকতর বৃদ্ধির লক্ষ্যে নব্বইয়ের দশকে সরকার থেকে বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়ার ফলে ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৯ শতাংশে (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০০৫)। স্বাধীনতার পর কোনো বছরে এটিই ছিল কৃষিতে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। এরপর কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেতে থাকলেও ২০০৬-০৭ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ দশমিক ০৪ শতাংশে। ২০০৭-০৮ এবং ২০০৮-০৯ অর্থবছরে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৩ দশমিক ৮৭ এবং ৩ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশে নেমে এলেও ২০০৯-১০ অর্থবছরে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশে দাঁড়ায়। এরপর থেকে অনেকটা ধারাবাহিকভাবে কৃষিতে প্রবৃদ্ধির হার হ্রাস পাচ্ছে।

২০১০-১১, ২০১১-১২, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কৃষিতে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়ায় যথাক্রমে ৩ দশমিক ৮৯, ২ দশমিক ৪১, ১ দশমিক ৪৭, ৩ দশমিক ৮১, ২ দশমিক ৪৫, ১ দশমিক ৭৯ এবং ১ দশমিক ৯৬ শতাংশে (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮)। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় দাবি করেন, ‘বিগত ১০ বছরে কৃষি খাতে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।’ তার এ দাবি মেনে নেয়া হলেও তা ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হারের প্রায় অর্ধেক। কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি দারিদ্র্যবিমোচনে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

দুই. সার্বিক কৃষি খাতের একটি উপ-খাত প্রাণিসম্পদের প্রবৃদ্ধি অনেকটা স্থবির। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য এবং অন্যান্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি দৈনিক বণিক বার্তায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে একই হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে পাঁচ বছর ধরে। ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত টানা পাঁচ অর্থবছরে দেশে গবাদি পশু ও পোলট্রি উৎপাদন বেড়েছে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ হারে।

প্রাণিসম্পদ খাতের প্রবৃদ্ধিতে স্থবরিতা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের একজন সদস্যের মন্তব্য রয়েছে প্রতিবেদনটিতে। তিনি বলেছেন, দেশে গবাদি পশু উৎপাদনে একদমই প্রবৃদ্ধি নেই। কিছুটা প্রবৃদ্ধি রয়েছে মুরগি ও পোলট্রিতে। ফলে সার্বিকভাবে প্রবৃদ্ধি একটি নির্দিষ্ট বৃত্তে আটকে গেছে। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, মৎস্য খাতে যে উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে গবাদি পশু-পাখির ক্ষেত্রে তা মোটেই লক্ষণীয় নয়। মুরগি ও হাঁস পালনে যথেষ্ট অগ্রগতি হলেও চতুষ্পদ প্রাণীর মানোন্নয়ন এবং সরবরাহে কোনো অগ্রগতি নেই।

তিন. আমাদের চাহিদার তুলনায় আমরা খুব সামান্য পরিমাণ গম উৎপাদন করতে পারছি। সরকারি তথ্য মোতাবেক, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে দেশে যখন গমের উৎপাদন হয়েছিল ১৯ লাখ ৮ হাজার টন, তখন গমের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমতে কমতে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে তা দাঁড়ায় ৭ লাখ ২৫ টনে (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০০৯)। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গমের উৎপাদন কিছুটা বাড়তে থাকলেও নতুন সমস্যার উদ্ভব হওয়ায় সে অগ্রগতি থেমে গেছে।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গমক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে গমের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই অর্থবছরে গমের উৎপাদন দাঁড়ায় ১৩ লাখ টনে। দেশে বর্তমানে প্রায় ৭০ লাখ টন গমের চাহিদার বিপরীতে আমাদের উৎপাদন ১৩-১৪ লাখ টনে সীমাবদ্ধ। গমের চাহিদার তুলনায় উৎপাদনের পরিমাণ পাঁচ ভাগের এক ভাগ হওয়ায় দেশ গমে প্রায় পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে।

কৃষি খাতের উন্নয়নে উপর্যুক্ত ও অন্যসব সমস্যা সমাধানে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যেমন শিল্পায়ন দরকার, তেমনি খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের কৃষির উন্নতি প্রয়োজন। দেশের অগ্রগতির লক্ষ্যে কৃষি খাত ও শিল্পখাত হাত ধরাধরি করে চলুক।

আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×