প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আরেকটু ভাবা দরকার

  সালাহ্ উদ্দিন নাগরী ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোনো কোনো শিশুসন্তানের প্রতিবন্ধিতার বিষয়টি প্রথমদিকে খুব একটা বোঝা যায় না। বাসার স্বাভাবিক পরিবেশে তারা বেড়ে উঠছে, খেলাধুলা করছে, স্কুল-কলেজ ও মা-বাবার সঙ্গে বাইরেও যাচ্ছে; কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কিছু কিছু মানসিক অসঙ্গতি লক্ষ করা যাচ্ছে।

মা-বাবার চোখে ধরা পড়লেও অনেক ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো কারও সঙ্গে শেয়ার করতে চান না। আত্মীয়স্বজন, পরিচিতজন বা যাদের সঙ্গে তাদের নিয়মিত ইন্টারঅ্যাকশন হচ্ছে, তারা কিন্তু খুব সহজেই বিষয়গুলো অনুভব করতে পারেন। যেহেতু মা-বাবাই এসব নিয়ে আলোচনা করতে চান না; তাই আত্মীয়স্বজনরাও কোনো কথা বলেন না। সবদিক থেকে পুরো বিষয়টিতে এক ধরনের মৌনতা অবলম্বন করা হয়।

এ সন্তানরা যখন কৈশোর, তারুণ্যে শারীরিকভাবে শক্ত-সামর্থ্য হয়, তখন অনেক ক্ষেত্রেই ঘরের মধ্যে জিনিসপত্র ভাংচুর ও কারণে-অকারণে চিৎকার-চেঁচামেচি করে। পরিবারের অন্য সদস্যদের, এমনকি মা-বাবাকেও মারধর করে। অনেক ক্ষেত্রে ওইসব শিশু আর দশটা শিশু থেকে লেখাপড়ায়ও ভালো হয়।

ফলে মা-বাবা ধরেই নেয় তার সন্তানের মানসিক কোনো সমস্যা নেই। অনেক সময় ভাবেন অতিরিক্ত মেধাবী হওয়ায় তার সামগ্রিক আচরণ আর পাঁচ-দশটা শিশু থেকে হয়তো ভিন্ন; কিন্তু বড় হলেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। সকালে ঘুম ভাঙা থেকে রাতে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত ওই সন্তানরা নিজের দৈনন্দিন কাজকর্ম মোটামুটিভাবে সম্পন্ন করতে পারলেও তাদের মাথার ওপর কাউকে না কাউকে থাকতেই হয়। আর এ দায়িত্বটি পরম বিশ্বস্ততা, আন্তরিকতা, স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে মা-বাবাই পালন করে থাকেন।

অভিভাবকরা ছোটবেলায় তাদের ডাক্তারের কাছে নেন না। সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পড়ানো হয়, ফলে তাদের মেন্টাল ম্যাচিউরিটিতে সমস্যা থেকেইে যায়। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বুঝে প্রতিক্রিয়া করার বিষয়টি বুঝে উঠতে পারে না। এতে পরিবারে অশান্তি ও অস্বস্তি দেখা দেয়।

অভিভাবকদের এ ব্যাপারে সচেতন ও বাস্তববাদী হতে হবে। ছোট বয়সে এ ধরনের সন্তানকে চিকিৎসা করানো ও তাদের উপযোগী প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া ও প্রশিক্ষণে অনেক বেশি ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

প্রতিবন্ধীদের জীবনমান ও দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যান্য দেশের মতো প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন ধরনের আইন প্রণয়ন, সজ্ঞায়িত ও শ্রেণিবিন্যাসও করা হয়েছে। প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩’-তে বলা হচ্ছে ‘যে কোনো কারণে ঘটিত দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ীভাবে কোনো ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিগত, বিকাশগত বা ইন্দ্রিয়গত ক্ষতিগ্রস্ততা বা প্রতিকূলতা এবং ওই ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিগত ও পরিবেশগত বাধার পারস্পরিক প্রভাব যার কারণে ওই ব্যক্তির সমতার ভিত্তিতে সমাজে পূর্ণ ও কার্যকর অংশগ্রহণে বাধাগ্রস্ত হয়’।

তৎপ্রেক্ষিতে এরূপ যে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন যে কেউ ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তি’। বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন-২০০১-এ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ৬ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, শারীরিক প্রতিবন্ধী, শ্রবণ প্রতিবন্ধী, বাকপ্রতিবন্ধী, মানসিক প্রতিবন্ধী ও বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী। অটিজমের ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে ‘অটিজম মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশের এরূপ একটি জটিল প্রতিবন্ধকতা এ ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাধারণত শারীরিক গঠনে কোনো সমস্যা বা ত্রুটি থাকে না এবং তাদের চেহারা ও অবয়ব অন্যান্য সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের মতোই হয়ে থাকে।’

আগে আমাদের সমাজে প্রতিবন্ধীদের অবজ্ঞা ও অবমূল্যায়ন করা হতো। তাদের সঙ্গে যথাযথ আচরণ পর্যন্ত করা হতো না। চাকরি-বাকরি ও কর্মসংস্থানের কোনো উপায়ও ছিল না। সম্প্রতি অবশ্য তাদের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা এবং সচেতনতা বেড়েছে; কিন্তু ইসলাম তাদের ব্যাপারে কোনো পার্থক্য রাখেনি। প্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের ৪৮নং সূরা আল ফাতহ-এর ১৭নং আয়াতে মহান আল্লাহ পাক বলছেন, ‘অন্ধের ওপর দোষ নেই, খোঁড়ার ওপর দোষ নেই, রোগীর ওপর কোনো দোষ নেই। আর যে কেউই আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করবেন।’ মহান আল্লাহপাক সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন তার দৃষ্টিতে সবাই সমান, যারা মুত্তাকি। আর মুত্তাকি হওয়ার জন্য প্রতিবন্ধিতা কখনোই কোনো বাধা নয়।

প্রতিবন্ধীদের অসহায় অবস্থার অবসান, দক্ষতা বাড়ানো ও জীবন মানোন্নয়নে আমাদের দেশে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ, প্রতিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান, যাতায়াত সুবিধা, ক্রীড়া-সংস্কৃতি ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানে ২০০১ সালের প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইনে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

এরই আলোকে তাদের ঋণ সুবিধা, ভাতা, উপবৃত্তি, Bachelor of Special Education (BSED) ডিগ্রি ও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধায় ‘সমাজকল্যাণ’ শাখা চালু এবং যানবাহনে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলা এবং ৩৯টি উপজেলায় ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং অটিজম সেন্টারও চালু করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে চালু করা হয়েছে ‘প্রয়াস’ নামের প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়।

প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য অবকাঠামোগত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যাপক উদ্যোগ এবং ওরা যেন সাধারণ ছেলেমেয়েদের সঙ্গে মিশতে পারে সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালার আওতায় ৫০টি বিদ্যালয়ে প্রায় ১০ হাজার প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রী পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। টঙ্গী ও ফকিরহাটে থাকা-খাওয়ার সুবিধাসহ ৬ মাসমেয়াদি বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কর্মসংস্থানের উদ্দেশে তাদের দ্বারা পরিচালিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ‘মুক্তা’ নামের মিনারেল ওয়াটার প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং সরকারি-আধা সরকারি সব প্রতিষ্ঠানে এ মুক্তা পানি ব্যবহারের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

অন্যদের মতো প্রতিবন্ধীরাও লেখাপড়া, কোনো প্রশিক্ষণ গ্রহণ বা কাজ শেষে বাসায় ফিরছে। মা-বাবার আদর-সোহাগে আপ্লুত হচ্ছে। মায়ের বুকে-মুখ গুঁজে পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ছে। কিন্তু এ সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তায় কত মা-বাবা যে বিনিদ্র রজনী পার করছেন, চোখের পানিতে বালিশ ভিজিয়েছেন সে খবরও হয়তো আমাদের কাছে নেই। শেষ বয়সে তাদের অনুপস্থিতিতে সন্তানের কী অবস্থা হবে, তা ভেবে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। তাদের জীবন থেকে আনন্দ-উল্লাস হারিয়ে যাচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রে তারা অস্থির হয়ে এ ধরনের সন্তানের বিয়ের বয়স হওয়া মাত্র পারিবারিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ পরিবারের পাত্র-পাত্রীর সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। তাদের অনুপস্থিতিতে সন্তানের স্বামী-স্ত্রী ও ওই পরিবারের সদস্যরা অন্তত আগলিয়ে রাখবে এ আশায়। প্রতিবন্ধী সন্তানের জীবন চালিয়ে নেয়ার জন্য এটা একটা সমাধান হতে পারে; কিন্তু এটাকে তো সাধারণীকরণ করা যাবে না। মা-বাবার মৃত্যুর পর ভাইবোন, আত্মীয়স্বজনের আশ্রয়ে অনুগ্রহ ও করুণার পাত্র হয়ে থাকা স্থায়ী কোনো ফয়সালা নয়।

জ্যেষ্ঠ এক সহকর্মী এ প্রসঙ্গে বলছিলেন, তার এক মানসিক প্রতিবন্ধী আত্মীয় ৭০-৭২ বছর বয়সে অল্প কয়েকদিন আগে মারা গেলেন তার (মৃতের) বড় ভাইয়ের আশ্রয়ে প্রায় ২৫-৩০ বছর থাকার পর। ঢাকা শহরে তাদের বাড়ি-গাড়ি, সহায়-সম্পত্তি সবই ছিল।

বিয়েশাদি হয়নি, একা একা জীবন পরিচালনার সক্ষমতাও তার ছিল না। তাই মা-বাবার মৃত্যুর পর বাকি জীবন তাকে ভাইয়ের আশ্রয়েই থাকতে হয়েছিল। ভাইও পিতৃস্নেহে আগলে রেখেছিলেন; কিন্তু বছরের পর বছর ভাইয়ের বাসায় থাকায় তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক চরম তিক্ততায় পৌঁছেছিল; পারিবারিক অশান্তি লেগেই থাকত।

প্রকৃতপক্ষে কারও বাসায়ই বছরের পর বছর থাকা সম্ভব হয় না, তাতে শুধু নতুন নতুন সমস্যারই সৃষ্টি হয়। এ ধরনের উদাহরণ সমাজে একেবারেই কম নয়। সরকারের উচ্চপদে অধিষ্ঠিত এক কর্মকর্তা তার মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে ক’দিন আগে গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের অল্প শিক্ষিত মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে গ্রামেই স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন; তাদের অনুপস্থিতিতে সন্তানের অনিশ্চিত জীবনের নিরাপত্তার আশায়। এ সুযোগ তো সব পরিবার পায় না, সবাই প্রতিবন্ধী সন্তানের বিয়েও দিতে পারে না।

মা-বাবার মৃত্যুর পর প্রতিবন্ধী সন্তানের পক্ষে একা একা জীবিকা নির্বাহ করা, একটি বাসা বা আবাসস্থল মাস-বছরব্যাপী পরিচালনা এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সহায়-সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে যে সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনার দরকার, একজন মানসিক প্রতিবন্ধীর পক্ষে সেটি সম্ভব নয় বলেই মনে হয়। তাহলে, তাদের জীবনে যখন এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটবে, তখন তারা কোথায় যাবে? জীবন পরিচালনার জন্য কোথায় পাবে সে অন্যের সহযোগিতা?

কোথায় হবে তার নিরাপদ আশ্রয়স্থল? না, ওইসব অসহায় মানুষকে কারও ভরসায়ই অরক্ষিত রাখা যাবে না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩-তে বলা হয়েছে- ‘মাতা-পিতা বা পরিবারের ওপর নির্ভরশীল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি মাতা-পিতা বা পরিবার হইতে বিছিন্ন হইলে বা তাদের আবাসন ও ভরণপোষণের যথাযথ সংস্থান না হইলে যথাসম্ভব নিরাপদ আবাসন ও পুনর্বাসনপ্রাপ্তির অধিকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তির থাকিবে।’ তাই রাষ্ট্রকেই নিতে হবে তাদের দায়িত্ব। করে দিতে হবে আজীবনের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা।

যে কোনো বয়সের প্রতিবন্ধীদের তাদের পিতা-মাতার অনুপস্থিতিতে নির্বিঘ্ন জীবনের নিশ্চয়তায় আজীবনের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। এটি হবে বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রের মতো। সন্তান-সন্ততি, স্বামী-স্ত্রী বা আত্মীয়স্বজন দ্বারা উপেক্ষিত এবং বাকি জীবন পার করার ঠাঁই নেই- এমন ব্যক্তিরা সাধারণত বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে যান। আর প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রে ওই ধরনের অবস্থায় নিপতিত ব্যক্তিসহ যাদের বাসাবাড়ি, বাবা-মায়ের সহায়-সম্পত্তি আছে; কিন্তু এগুলো পরিচালনার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করার মতো যথেষ্ট সক্ষমতা নেই তারাও যাবে। তাদের অভিভাবকদের রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে ব্যয় নির্বাহ করা যেতে পারে।

সে ওখান থেকেই স্কুল-কলেজে যাবে বা চাকরি-বাকরি ও বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সামাজিকতা রক্ষা করবে। সন্তান বাইরে গেলে বাবা-মা যেমন অপেক্ষায় থাকে, ঠিক তদ্রূপ তার জন্য কাউকে না কাউকে অপেক্ষায় থাকতে হবে, অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ওই আশ্রয় কেন্দ্র তার সবকিছু তো দেখাশোনা করবেই, একই সঙ্গে তার সহায়-সম্পত্তিও আগলে রাখবে।

এ ধরনের পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরি হলে অভিভাবকরা যখন বুঝবে, তাদের অনুপস্থিতিতে তার সন্তান অপাঙ্ক্তেয় ও আশ্রয়হীন হয়ে যাবে না, রাষ্ট্রনামক মহীরুহ সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তখন তারা আশ্বস্ত ও দুশ্চিন্তামুক্ত হবে।

এটি একটি উপস্থাপনা মাত্র। এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে, বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া যেতে পারে, বাস্তবায়নের পথ ও পদ্ধতি বের করা যেতে পারে। বিষয়টি টেকসই হবে কিনা, তা-ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যেতে পারে। কিন্তু পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়তো সমীচীন হবে না।

বহু উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের এখানে প্রতিবন্ধীদের জীবন মানোন্নয়নে অনেক অনেক বেশি কাজ হচ্ছে। তাদের স্বাবলম্বী করার জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের মানসিকভাবে চাঙ্গা করারও পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৯-১৬ শতাংশের মতো জনগোষ্ঠী প্রতিবন্ধী, সে হিসাবে এর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। তাদের বাদ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়; কিন্তু স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা ব্যতীত উন্নয়নের যাত্রাপথে তারা শুধু বাধাপ্রাপ্তই হবে। জীবনের কোনো একটি পর্যায়ে সে যদি আশ্রয়হীন হয়ে যায় তাহলে আমাদের এত আয়োজন, এত কর্মসূচি, জীবন মানোন্নয়নের এত প্রচেষ্টা সবকিছুই ভেস্তে যাবে।

তাই সবার আগে যে কোনো বয়সের প্রতিবন্ধীর জন্য স্থায়ী আবাস তৈরির প্রয়োজনীয়তা ভীষণভাবে অনুভূত হচ্ছে। আশার কথা, ২০২১ সালের মধ্যে দেশের অসহায় সব মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকার ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে।

সালাহ্ উদ্দিন নাগরী : সরকারি চাকরিজীবী

[email protected]

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত