কালের চক্র বক্র গতিতে

  ড. শেখ আবদুস সালাম ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কালের চক্র বক্র গতিতে
যুবলীগের নতুন চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল

কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতার পঙ্ক্তিমালা এমন- ‘কালের চক্র বক্র গতিতে ঘুরিতেছে অবিরত; আজ যারা কালের শীর্ষে কাল তারা পদানত’। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে যে ঝড়ো বাতাস বইতে শুরু করেছে, তার প্রভাব-পরিণতি আঁচ করতে গিয়ে আমার মনে বারবার এ পঙ্ক্তিমালাটি এসে নাড়া দিচ্ছে।

গেল কিছু সময়ের মধ্যে বিশেষ করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির অভিযোগ আর সে কারণে তাদের জন্য গণভবন তথা প্রধানমন্ত্রীর দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া, অতঃপর তাদের কপাল থেকে নেতৃত্বের ললাট খুলে পড়া- ছাত্র রাজনীতি তথা দেশের চলমান অপরাজনীতিতে ডুবে থাকা নেতাদের জন্য এক বিপদ সংকেত ছিল বৈকি। তার পরপরই যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, এমনকি এ সংগঠনের খোদ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা কাওসার, সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ প্রমুখের ঘটনা ছিল যেন আকাশ থেকে তারা খুলে পড়ার মতো। এ যেন উপরের ওই পঙ্ক্তিমালার সঙ্গে ঘটনার হুবহু মিলে যাওয়া। ছাত্রলীগ নেতাদের ঘিরে বিপদ সংকেতের পরপরই আমাদের সামনে চলে এসেছিল ক্যাসিনোঝড়; তার আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রকল্পের বালিশ-পর্দা-নিত্যদ্রব্য-বই-যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন ক্রয়ে অস্বাভাবিক এবং অকল্পনীয় লুটপাট ও অনাচারের খবর; দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের অপ্রত্যাশিত আচরণ ও উদ্ভট কর্মকাণ্ডের সব ঘটনা।

সবকিছু মিলে দেশে যেন এক ঝড়ের পূর্বাভাস তৈরি হয়ে গেছে। এসবের যৎকিঞ্চিৎ নিয়ে গত অক্টোবরের শেষদিকে আমি ‘শ্রবণ প্রতিবন্ধী এক শ্বেতাঙ্গ গাড়িচালক ও আমরা’ শিরোনামে একটি লেখা লিখেছিলাম। ইতিমধ্যে দেশে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, যা আমাদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছে। আমাদের সবাইকে রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে। সব দেখেশুনে মনে হচ্ছে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দিনশেষে কি একা হয়ে পড়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে ঢুকে পড়ছেন? ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু কিন্তু এরকম এক অবস্থার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তবে আশার কথা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি বুঝতে পেরে বোধহয় আগেভাগেই ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছেন। তার উদ্যোগকে সবার সাধুবাদ জানানো দরকার।

২০০৭ সালের জেঁকে বসা ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের শেষ সময়ে একটি অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় দফায় ২০০৯ সালে যখন মহাজোট সরকার গঠন করে, তখন দেশে দৃশ্যমান রাজনৈতিক বিভাজন তথা পক্ষ-প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক শক্তি ছিল আওয়ামী লীগ (ও তার নেতৃত্বে ১৪ দল) বনাম বিএনপি (তার নেতৃত্বে ২০ দল)। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক ভাবনা ছাড়াও শুরু থেকে মূল রাজনৈতিক বিভাজন রেখাটি ছিল জাতীয়তাবাদকে কেন্দ্র করে। এক পক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদ, অন্যপক্ষ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। আসলে জাতীয়তাবাদের এ ভাবনা-চেতনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে আমাদের রাষ্ট্রীয় ভাবনা, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি, দর্শন অনেক কিছুই। বর্তমান সরকার দ্বিতীয় দফার প্রথম পাঁচ বছরে (২০০৯-১৪) সফলভাবে রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার রোপণ আর আইনি ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ১ম ও ২য় বার (২০১৪-১৮) মিলে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং রায়ের প্রয়োগের কাজটি অনেকাংশে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে গোটা জাতিকে নতুন করে চিন্তা-চেতনার প্রায় এক ট্রেনে (১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধে বিশ্বাস) তুলে আনতে সক্ষম হয়েছে। এ সময়ে গোটা জাতির মনে স্বাধীনতা এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ চেতনার একটি ঝাপটা তৈরি করা, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ফলপ্রসূ অবস্থান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দ্বারা ১৯৭৫ সালের পর থেকে বাংলাদেশের যে উল্টো যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই গতি শ্লথ করে দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে এক উন্নয়নস্পর্শী বাংলাদেশের স্বপ্নের বুনন এবং বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর বিশ্বাসকে মানুষের মনে ঢুকিয়ে দিয়ে তা সবার মধ্যে খানিকটা হলেও ছড়িয়ে দিতে পেরেছে। সরকারের কট্টর সমালোচকদেরও এ সময়ে তাই বলতে শুনেছি, শাসন পরিচালনায় সরকার কর্তৃত্ববাদী এবং অনেক সময় গণতান্ত্রিক আচরণের তোয়াক্কা না করলেও অর্থনৈতিকভাবে শেখ হাসিনার সরকার এ পর্যন্ত দুর্বল বাংলাদেশের শরীরে এক ধরনের উন্নয়নের ছাপ দৃশ্যমান করতে পেরেছে। সরকারের সমালোচকদেরও এক ধরনের বিশ্বাস জন্মেছে, আর কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নয়নের দিকে অনেক পথ এগিয়ে যাবে। শুধু দেশের মানুষের ভাবনায় নয়, বিশ্বের বহু দেশের রাজন্যবর্গ বাংলাদেশের ক্রমে এগিয়ে যাওয়ার রহস্য কী, তা জানতে-বুঝতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। প্রতিবেশী দেশ ভারতের অর্থনীতি ও সামাজিক সূচকের সঙ্গে তুলনা করে নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের মতো ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে কোনো কোনো সামাজিক-অর্থনৈতিক সূচকে ভারতকেও টপকে গেছে। পাকিস্তানের পত্রিকাগুলো লিখেছে- বাংলাদেশের অগ্রগতি তাদের জন্য শিক্ষণীয়। বিশ্বব্যাংক পর্যন্ত আভাস দিচ্ছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কয়েক বছরের মধ্যে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে। আজকাল বাংলাদেশের মানুষ অন্তত না খেয়ে থাকে না; মানুষের গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০ বছর; মাথাপিছু আয় প্রায় ১৯০০ ডলার। অর্থনীতিবিদদের উন্নয়ন ভাবনায় বাংলাদেশ এখন ‘প্রি-টেক অব স্টেজের’ প্রায় কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক তথা সুশাসনের জায়গায় বেশকিছু সমালোচনা থাকলেও দৃশ্যমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের চলমান অগ্রযাত্রাকে কেউ এখন অস্বীকার করতে পারছে না। বাংলাদেশের উন্নয়নের এ সোপান আমাদের দেশের জন্য সবসময় মসৃণ থাকবে তা ভাবার কোনো অবকাশ নেই। আমাদের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার শক্তি দেশে-বিদেশে সবখানেই রয়েছে। বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের এমনতর স্তরে প্রবেশ করতে যাচ্ছে, তখন মিয়ানমার থেকে ১১-১২ লাখ লোককে আমাদের দেশে ঠেলে দেয়া এবং আজও পর্যন্ত বিশেষ করে চীন, ভারত, রাশিয়ার মতো দেশগুলো এ বিষয়টির প্রতি সেভাবে তোয়াক্কা না করায় আমাদের বন্ধু প্রতিবেশী ও আন্তর্জাতিক শক্তিখ্যাত দেশগুলো আমাদের কতটুকু ভালো চায়, সে ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহের কারণ রয়েছে। আমরা যখন নিজেদের ১৭ কোটি মানুষের বোঝা মাথায় নিয়ে চলছি এবং আকস্মিকভাবে মিয়ানমার থেকে আসা ১১-১২ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি, তখন প্রতিবেশী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পরিচালিত এনআরসি কর্মসূচি ও তার প্রভাব-ফলাফল আমাদের জন্য ভবিষ্যতে কতটুকু সুখকর হবে- সে ব্যাপারটি খুবই ভাবিয়ে তুলছে; এ বিষয়টি সক্রিয়ভাবে আমাদের ভাবনার মধ্যে রাখতে হবে। এ ব্যাপারে মানুষের মনে কিন্তু এক অজানা দুশ্চিন্তা দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

এ পটভূমিতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভারত সফরকালে তিস্তার পানির জন্য হাহাকারের মুখে এ ব্যাপারে কোনো প্রকার উচ্চবাচ্য ছাড়া যখন ভারতকে আমাদের ফেনী নদীর পানি দেয়ার চুক্তি হল, তখন স্বাভাবিকভাবে দেশের অধিকাংশ মানুষের মনে অন্যরকম প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। আমাদের রাজন্যবর্গ যাই বুঝুন কিংবা দেশের মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন না কেন, এ পানি চুক্তির বিষয়টি মানুষের মনে কিন্তু সামান্য হলেও দাগ কেটেছে এবং তা নেতিবাচক। দেশের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণার জন্য এ সুযোগ নেবেই। প্রায় দেড়শ’ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নদী থেকে খাওয়ার জন্য প্রতিবেশী যে কোনো দেশ এক-দুই হাজার কিউসেক পানি নিতেই পারে। এবারের এ চুক্তি ছাড়া ভারত এ পানি বহুদিন থেকে নিচ্ছিলও। এতে বাংলাদেশের তেমন বড় কোনো ক্ষতিও হচ্ছিল না। বিষয়টি বড় হয়ে দাঁড়াল তখন, যখন এ দেশের মানুষ তিস্তার নায্য পানি চুক্তির আশা করছে অথচ সে ব্যাপারে কোনো কিছু না করে বাংলাদেশ বরং চুক্তি করে ভারতকে ফেনী নদীর পানি দিয়ে এলো। এর ফলে বাংলাদেশের মানুষের মনে এক ধরনের নেতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক জায়গা তৈরি হয়েছে। এতে সরকারের প্রতিও মানুষের আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তিস্তা ও ফেনী নদীর আনুষ্ঠানিক পানি চুক্তি একসঙ্গে করতে পারলে ভালো হতো, মানুষ তাতে খুশি হতো। তবে আমার মনে হয়, এ চুক্তি থেকে সরকার তিস্তার পানির ব্যাপারে ভবিষ্যতে একটি লাভজনক কূটনৈতিক সুবিধা নিতে পারবে। ভারতের ওপর বাংলাদেশ একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে ভারত আলোচনার টেবিলে মানসিকভাবে এ কারণে দুর্বল থাকবে যে, বাংলাদেশের তেমন উদ্বৃত্ত পানি নেই অথচ সেই দেশ উদারতা দেখাতে পারল; কিন্তু ভারত তিস্তার ব্যাপারে তা না করলে কেমন হয়? আশা করি, সাম্প্রতিক এ পানি চুক্তি নিয়ে সরকারের ওপর এ মুহূর্তে এই ন্যায্য সমালোচনা থাকলেও সরকার মাথা ঠাণ্ডা রেখে ভবিষ্যতে তিস্তার ব্যাপারে এ চুক্তিকে পুঁজি করে একটা ভালো ফল নিয়ে আসতে পারবে। আর তা না করতে পারলে ভবিষ্যতেও সরকারকে জনগণের কাছে এ ইস্যুতে সমালোচিত থাকতে হবে।

আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে সম্পাদিত ত্রিপুরায় জ্বালানি তেল সরবরাহের ব্যাপারটি প্রধানমন্ত্রীর ৯ অক্টোবর প্রেস কনফারেন্সে প্রদত্ত বক্তব্যের আগ পর্যন্ত মানুষের মনে এক ‘প্রশ্নবোধক’ বিষয় ছিল। আসলে এ বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলার আগে মানুষের কাছে আদৌ বিষয়টি এতটা স্পষ্ট ছিল না; খবরটি পরিবেশনের ক্ষেত্রেও দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে এক ধরনের নেতিবাচক ‘টিলট’ ছিল না, তা বলা যাবে না। ভারতের ত্রিপুরায় এলপিজি গ্যাস রফতানিকালে আমাদের একটা জিনিস ভাবতে হবে, আমরা বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ক্রুড গ্যাস এলপিজিতে রূপান্তর করে তা ভারতে রফতানির মাধ্যমে কতটা ব্যবসা করতে পারব আর এ কারণে বাংলাদেশের মাটিতে যখন এ ক্রুড গ্যাস পরিশোধিত করতে হবে, তখন তাতে আমাদের পরিবেশ-বায়ু-পানি কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মানুষকে এ বিষয়টিও পরিষ্কার করে জানানো দরকার, নইলে সমালোচনার সুযোগ কিন্তু থেকেই যাবে। এসব ইস্যু নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ক্ষেত্রে কেউ কাউকে শত্রু বা মিত্র ভাবা অথবা এ নিয়ে মান-অভিমানের কোনো জায়গা নেই। সত্যকে সব সময় স্থিরভাবে এবং সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করা ভালো।

বর্তমান সরকার একটানা তিন মেয়াদ পার করছে। এ দীর্ঘসময়ে অনেক সফলতার সঙ্গে কিছু সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। বর্তমান সময়ে এসে, বিশেষ করে, বিরোধী পক্ষের কাছ থেকে সরকারের সমালোচনার একটি বড় জায়গা হচ্ছে- সারা দেশে দলীয় কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণভাবে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অভাব। সমালোচনার আরও একটি জায়গা হচ্ছে- শাসনব্যবস্থায় আমলা-পুলিশের দৌরাত্ম্য দৃশ্যমান। আপাতত সেসব বিতর্ক বা আলোচনায় না গেলেও এটা ঠিক, দেশে নিকট অতীতে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা আখেরে গিয়ে সরকারের ওপর আস্তে আস্তে কালো দাগ ফেলছে এবং শেষমেশ গিয়ে সমালোচনার তীর পড়ছে প্রধানমন্ত্রীর ওপর। ব্যাংক এবং শেয়ারবাজারের অব্যবস্থাপনা, প্রকল্পের কাজ এবং কেনাকাটা থেকে অস্বাভাবিক চুরি-চামারি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় দাপট, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে খোদ ভিসিদের কর্মকাণ্ড ইত্যাদি নিয়ে মানুষের মধ্যে যখন চাপা ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। ঠিক সেই সময়ে এসে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ উপসর্গ এবং সবশেষে এসে পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সরকারকে সত্যিই একটা বেকায়দায় ফেলে দিতে যাচ্ছে। সরকার শক্ত হাতে এসব নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস রয়েছে। মানুষের মনে বড় রক্তক্ষয় ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে বুয়েটে আবরার হত্যার ঘটনা নিয়ে। এই পাষণ্ডদের কত বড় সাহস এবং এসব দুর্বৃত্ত সীমা অতিক্রম করে কতটা দূরে চলে গেছে, প্রধানমন্ত্রী যখন তার দলের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী (মূল দলের থেকেও পুরনো) সেই ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিদের ফায়ার করে দিলেন (যা সত্যিই নজিরবিহীন) এবং যেখানে তিনি ঘোষণা দিলেন, দুর্নীতিবাজ তার পরিবারের কেউ হলেও এবার ছাড় নেই, তখন ছাত্রলীগের নামে এসব পাষণ্ডের দল পিটিয়ে মানুষ হত্যা করার ঘৃণ্য এ কাজে লিপ্ত হচ্ছে। আমরা লক্ষ করেছি, ক্যাসিনোকে ঘিরে সম্প্রতি যেসব বড় বা মাঝারি বোয়াল আটক হয়েছে, এদের সম্ভবত একজন বাদে সবাই কিন্তু সরকারি দলে অনুপ্রবেশকারী। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন গণসংগঠনে আশ্রিত এসব অনুপ্রবেশকারী এখন তাদের আসল ‘গেম’ খেলতে শুরু করেছে কি না, তা সরকারকে অবশ্যই ভাবতে হবে। এ ক্ষেত্রেও সরকারকে কঠিন অবস্থানে থাকতে হবে। সুযোগসন্ধানীরা নিজের ঘরের বা অনুপ্রবেশকারী যেই হোক না কেন, এসব দুর্বৃত্তের একটা কঠিন শিক্ষা হওয়া জরুরি।

ড. শেখ আবদুস সালাম : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×