সুবিবেচিত পাঠ্যবিষয়ের সমাহারে সমন্বিত মাধ্যমিক শিক্ষা

  ড. আবদুস সাত্তার মোল্লা ১১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা

আধুনিক বিশ্বের সব দেশেই ১৭-১৮ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ- এই তিনটি স্তরে বিন্যস্ত। স্তরগুলোর ব্যাপ্তিও প্রায় সমান সমান (৫ থেকে ৭ বছর)। অস্ট্রেলিয়ার মতো যেসব দেশে একশ্রেণির প্রাক-প্রাথমিক (যাকে তারা ‘জিরো ইয়ার’ নামে ডাকে) শিক্ষা ছয় শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একীভূত, সেসব দেশে মোট সাত শ্রেণির প্রাথমিক, ছয় শ্রেণির মাধ্যমিক এবং পাঁচ-ছয় বছরের উচ্চশিক্ষার ব্যাপ্তি (৭+৬+৫) একটি সুন্দর পিরামিডের আকৃতি ধারণ করে।

কিন্তু বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর তৃতীয় বছর থেকেই অতি উচ্চাশা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পাঁচ থেকে আট বছরে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও আমরা এ শিক্ষার মেয়াদ অধিকাংশ দেশের মতো ষষ্ঠ শ্রেণিতেও উন্নীত করতে পারিনি। ফলে বাংলাদেশে মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরের ব্যাপ্তি সবচেয়ে বেশি (৭ বছর)।

এক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা পেটমোটা, অনেকটা মাকু-আকৃতির। সাত বছরের এ শিক্ষাস্তর তিনটি উপস্তরে বিভক্ত : নিম্নমাধ্যমিক তিন বছর (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি), মধ্য-মাধ্যমিক (আমরা একে শুধু ‘মাধ্যমিক’ নামে ডাকি) দু’বছর (৯ম-১০ম শ্রেণি) এবং উচ্চমাধ্যমিক (১১শ-১২শ শ্রেণি) দু’বছর।

শিখনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্য অর্জন করানোর জন্য শিক্ষাক্রম পরিকল্পনা করা হয়। আমেরিকান শিক্ষা মনোবিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ব্লুম তার দলবল নিয়ে ১৯৫৩ সালে গবেষণা শুরু করে ১৯৫৬ সালে শিক্ষার যে তিন ধরনের (বুদ্ধিবৃত্তিক, আবেগিক ও মনোপেশিজ) উদ্দেশ্য ‘আবিষ্কার’ করেছিলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্যাবলির শ্রেণিবিন্যাস হিসেবে তা ধ্রুপদী আকার পেয়েছিল।

ওই শ্রেণিবিন্যাসের বুদ্ধিবৃত্তিক ও মনোপেশিজ ক্ষেত্রের প্রায় সব স্তরের উদ্দেশ্যকেই দক্ষতা বলা গেলেও আবেগিক ক্ষেত্রের উদ্দেশ্যগুলো ঠিক ‘কিছু করার দক্ষতা’ নয়, এগুলো আসলে মনোভাব-দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে ‘কিছু হয়ে ওঠা’। এই ‘হয়ে ওঠা’কে জে. ডেলর (১৯৯৬) তার শিখনের চারটি স্তম্ভের মধ্যে একটির মর্যাদা দিয়েছিলেন। কিন্তু গত বিশ-ত্রিশ বছর ধরে বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করাকেই শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

এতে প্রাপ্ত তথ্য (জ্ঞান) অনুধাবন, প্রয়োগ, বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ ইত্যাদি ব্যক্তিক, বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতার মধ্যে বিশ্লেষণকে ‘সমালোচনামূলক চিন্তন’ (Critical Thinking) বা সমস্যা-সমাধান দক্ষতা এবং সংশ্লেষণ বা সৃষ্টিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ দক্ষতা বা ‘সৃজনশীল চিন্তন’ (Creative Thinking)-এর মতো কতগুলো গালভরা নাম দেয়া হয়েছে।

এছাড়া অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারার দক্ষতা এবং সমাজে অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে চলার মনোবৃত্তি ‘সামাজিক দক্ষতা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ দশকে আবার শিক্ষার সব উদ্দেশ্যকেই নাম দেয়া হচ্ছে ‘যোগ্যতা’।

দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রবক্তাদের অনেকে বলতে চান জ্ঞান, বিশেষত এর প্রাথমিক স্তর-স্মৃতি (Recall) শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় (কেউ কেউ একে ঝেঁটিয়ে বিদায় করারও দাবি করেন)। কিন্তু কিছু তথ্য-জ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে স্মরণে রাখা একটি মৌলিক যোগ্যতা এবং প্রখর স্মৃতিশক্তি একটি বড় গুণ। উচ্চতর দক্ষতা অর্জন করতে এ স্মৃতি সবসময়ই সহযোগিতা করে।

অনেকে বলেন, দক্ষতার বিভিন্ন স্তরে উঠতে ও বিচরণ করতে বিষয়জ্ঞান তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। বাস্তবে বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞান সব দক্ষতা অর্জনের ভিত মজবুত করে। তাই অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশের শিক্ষাক্রমে সাধারণ সামর্থ্যরে পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিভিন্ন শিখন ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করা হয়।

আবার জ্ঞানভাণ্ডার বেশি সমৃদ্ধ করার জন্য শিক্ষাক্রমে বিষয় ও তথ্যভার অতিরিক্ত হলে তথ্য পড়তে আর মুখস্থ করতেই শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত থাকতে হয়, দক্ষতার বিভিন্ন স্তরে পৌঁছা সম্ভব হয় না। তাই তথ্যভার এবং দক্ষতা-যোগ্যতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি।

দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাক্রম এ পর্যন্ত তিনবার প্রস্তুত ও পরিমার্জন করা হয়েছে। স্বাধীন দেশে প্রথম প্রস্তুত করা মাধ্যমিক শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি নিম্নমাধ্যমিক উপস্তরে (৬ষ্ঠ শ্রেণিতে) বাস্তবায়ন শুরু হয় ১৯৮১ সালে, দ্বিতীয়বার ১৯৯৬ সালে (১৫ বছর পর)। তৃতীয় আবর্তনের শিক্ষাক্রম ২০১১-১২ সালে পরিমার্জন করে (‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০১২’ নামে অনুমোদিত) অধিকাংশ শ্রেণিতে বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০১৩ সালে (দ্বিতীয়বারেরটির ১৭ বছর পরে)। কিন্তু এবার মাত্র ৭-৮ বছর পর মাধ্যমিক স্তরের সব উপস্তরের শিক্ষাক্রম আবারও পরিমার্জন করা হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশে শিক্ষাক্রম পরিমার্জন ও বাস্তবায়ন ১০-১২ বছর পরপর করা হয়ে থাকে। সেদিক থেকে বাংলাদেশে এতদিন তা করা হয়েছে বেশি দেরি করে; কিন্তু এবার করা হচ্ছে একটু বেশি আগে। পরিকল্পিত শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করতে হয় পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক নির্দেশিকা তৈরি করার পর শিক্ষকদের কাছে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের বৈশিষ্ট্য নিয়ে শিক্ষাক্রম বিস্তরণ প্রশিক্ষণ দেয়ার পর। অর্থাৎ যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে।

কিন্তু আমরা বরাবরই শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করে তাড়াহুড়ো করে পাঠ্যপুস্তক রচনা করা মাত্র বাস্তবায়নে চলে যাই, পরে আস্তে-ধীরে শিক্ষক নির্দেশিকা তৈরি করি। আর শিক্ষাক্রম বিস্তরণ প্রশিক্ষণ শুরু করতে আমাদের আরও দেরি হয় এবং অধিকাংশ সময় সব শিক্ষকের প্রশিক্ষণ শেষ না করেই ‘বাজেট ও সময়ের অভাব’র অজুহাতে এ কার্যক্রম বন্ধ করে দিই। এবার শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ আগেভাগে শুরু করায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েই বাস্তবায়ন শুরু করা যেতে পারে।

বিষয় ও তথ্যভার এবং দক্ষতা-যোগ্যতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার কথা বলেছি। ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০১২’তে নিম্নমাধ্যমিক উপস্তরে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি- এ ছয়টি ‘কোর’ বিষয়ের সঙ্গে ‘প্রাক-বৃত্তিমূলক’ শিক্ষার জন্য নতুন বিষয় ‘কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা’ আবশ্যিক করা হয়। ধর্ম (ও নৈতিক শিক্ষা), শারীরিক শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলাও থাকে আবশ্যিক।

এছাড়া কৃষিশিক্ষা/গার্হস্থ্য বিজ্ঞানের মধ্যে একটির পাঠও আবশ্যিক। এভাবে মোট ১৩টি পত্রের পাঠ বর্তমানে আবশ্যিক রয়েছে। বিষয়ের এ সংখ্যাকে বেশ ভারিই বলা যায়। ভার কিছুটা কমানোর দুটো উপায় আছে। ‘কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা’ পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তু প্রধানত শিক্ষার্থীদের কর্মে উৎসাহ প্রদান ও উদ্বুদ্ধ করার জন্য লেখা। এ উদ্বুদ্ধ করার প্রধান দায়িত্ব বিশেষত সাহিত্যের।

সুতরাং পরিমার্জনাধীন শিক্ষাক্রমে এসব বিষয়বস্তুর অধিকাংশ প্রধানত বাংলায় এবং কিছু অন্য বিষয়ে পুরে দেয়া যায়। তাতে বিষয়-শিক্ষক ছাড়া একটি বিষয় পড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা থেকেও বাঁচা যায়। এছাড়া শারীরিক শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলা বিষয় দুটোকে পড়ার চেয়ে প্রধানত ‘করায়’ রূপান্তর করা যায়। এতে পাঠ্যবিষয় ও তথ্যভার বেশ একটু কমে আসবে।

দেশে এতকাল এসএসসি ভোকেশনাল নামে নবম-দশম শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা শুরু হতো। এ বছর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কিছুসংখ্যক স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে নতুন বিষয় ‘কর্মমুখী প্রকৌশল শিক্ষা’র মাধ্যমে জেএসসি ভোকেশনাল নামে তা চালু করা হচ্ছে। নতুন বিষয়টি সাধারণ শিক্ষাধারায় পাঠ্য করতে হলে সাধারণ স্কুলে কারিগরি বিদ্যালয়ের মতো মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরি বা কারখানা স্থাপন করা লাগতে পারে।

বর্তমানে প্রচলিত কৃষিশিক্ষা এবং গার্হস্থ্য বিজ্ঞান কোনো মৌলিক বিষয় নয়, এগুলোও বৃত্তিমূলক। সুতরাং নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষাক্রমকে তথ্য ভারাক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে কৃষিশিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান এবং সম্ভাব্য নতুন বিষয় প্রকৌশল শিক্ষার মধ্যে একটিকে পাঠ্য করার অপশন থাকা দরকার হবে।

নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ শিক্ষা ১৯৬৩ সাল থেকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা ধারায় বিভক্ত। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশে এ স্তরের শিক্ষায় স্পষ্ট শাখাবিভাজন নেই; তবে বিষয়গুচ্ছ থেকে বিভিন্ন বিষয় নির্বাচনের খোলা সুযোগ রয়েছে। এভাবে বিভিন্ন বিষয় নির্বাচনের ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রকৃতপক্ষে শাখান্বিতই হয়ে পড়ে।

আর একটি বিষয় লক্ষণীয়- এশিয়ার কয়েকটি উন্নত দেশ- থাইল্যান্ড, চীন, জাপান ও কোরিয়া সপ্তম-দ্বাদশ শ্রেণির মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে নিজস্ব ধারায় তিন শ্রেণির (৭ম-৯ম) নিম্নমাধ্যমিক এবং তিন শ্রেণির (১০ম-১২শ) উচ্চমাধ্যমিক উপস্তর প্রবর্তন করেছে।

কিন্তু বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ইত্যাদি দেশ ইংল্যান্ড-আমেরিকার ও-লেভেল (৯ম-১০ম শ্রেণি) এবং এ-লেভেল (১১শ’-১২শ’) শিক্ষার সুযোগ রাখতে মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরকে তিনটি উপস্তরে ভাগ করে। তাই আমরা এশিয়ার নিজস্ব ধারা অনুসরণ করতে পারি না; আমাদের নবম-দশম শ্রেণির বিষয় নির্বাচনে ও-লেভেল বিষয়গুলোর সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে হয়।

সিঙ্গাপুরের এক্সপ্রেস কোর্সে ও- লেভেলের বিষয়গুচ্ছে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের তিন ধরনের কম্বিনেশন আছে। প্রতিটিতে মোট ২০০ নম্বরের বিজ্ঞান পাঠ্য। আর যুক্তরাজ্য ও ক্যামব্রিজ উভয় পদ্ধতির ও-লেভেল কোর্সে (যা বাংলাদেশেও প্রচলিত) পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান তিনটি পৃথক বিষয় রয়েছে।

দেশে ২০০৪-০৫ সালে নবম-দশম শ্রেণিতে শাখাবিভাজন বর্জন করে ‘একমুখী শিক্ষা’ প্রবর্তনের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। জানা যায়, পরিমার্জনাধীন শিক্ষাক্রমে নবম-দশম শ্রেণিতে আবারও শাখাবিহীন এক ধারার শিক্ষা প্রবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০১২’-এর আওতায় ১২টি পত্রের পাঠ এবং ১২০০ (+ঐচ্ছিক ১০০) নম্বরের এসএসসি পরীক্ষা চলার পর আশা করা যায়, উচ্চশিক্ষার ভিত তৈরি করার উপযোগী পাঠ্যবিষয়ের সঠিক সমাবেশ করে এক ধারার সমন্বিত মাধ্যমিক শিক্ষা বাস্তবায়নযোগ্য হতে পারে। এর জন্য বিজ্ঞানশিক্ষার প্রয়োজনীয় ভিত যেন কোনোভাবেই দুর্বল করা না হয় সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে।

স্মর্তব্য, ২০০৫ সালে পরিকল্পিত ‘একমুখী শিক্ষা’ সফল না হওয়ার প্রধান কারণ ছিল একপত্রের দুর্বল বিজ্ঞান বিষয়ের পরিকল্পনা এবং এর বিরোধিতা করে জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘বিজ্ঞান শিক্ষা ক্রসফায়ারে’ শীর্ষক নিবন্ধ প্রকাশ।

উচ্চশিক্ষাস্তরে যে কোনো শাখা ও বিষয় পড়ার মজবুত ভিত তৈরি করার জন্য বাংলা, ইংরেজি, গণিত (একক), ধর্ম এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মতো ‘কোর’ বিষয়গুলো ছাড়াও বিজ্ঞান, মানবিক এবং ব্যবসা শিক্ষা- প্রত্যেক ধারার এক/একাধিক বিষয়ের সমাহার ঘটাতে হবে। তবে নবম-দশম শ্রেণিতে বর্তমানে প্রচলিত ‘ক্যারিয়ার শিক্ষা’ নিম্নমাধ্যমিকের কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষার বর্ধিত সংস্করণ এবং এর বিষয়বস্তু একই যুক্তিতে অন্যান্য বিষয়ে আত্মীকৃত হতে পারে।

বিজ্ঞানের ভিত মজবুত করার জন্য ভৌতবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান নামে দুটি পত্রের ব্যবস্থা থাকা দরকার। পরিবেশ শিক্ষার মূল বিষয়গুলো ভৌত ও জীব উভয় বিজ্ঞানে এবং শারীরিক শিক্ষার জীববৈজ্ঞানিক ধারণাগুলো জীববিজ্ঞানে অন্তর্ভুক্ত করলে পরিবেশ শিক্ষা বা শারীরিক শিক্ষার কোনোটার জন্যই পৃথক পাঠ্যবিষয় দরকার হবে না।

বিশ্বনাগরিকত্ব ও উচ্চতর মানববিদ্যার ভিত রচনার জন্য দরকার বিশ্বসভ্যতার (বাংলাদেশসহ) ইতিহাসসংবলিত (যাতে ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের ভিত তৈরি হয়) একটি পত্র এবং পৌরনীতি ও অর্থনীতির মূল বিষয়গুলো নিয়ে আরেকটি পত্র।

ব্যবসা শিক্ষার ভিত তৈরির জন্য হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনার মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে যে পত্রটি পাঠ্য হতে পারে তাকে কৃষিশিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান এবং সম্ভাব্য নতুন বিষয় প্রকৌশল শিক্ষার মতো বৃত্তিমূলক বিষয়ের মধ্যে একটির অপশন দিলে পত্রের মোট সংখ্যা ১২-এর মধ্যে সীমিত রাখা যাবে। উচ্চমাধ্যমিক উপস্তরের পাঠ্যবিষয় বর্তমানের মতোই থাকতে পারে।

ড. আবদুস সাত্তার মোল্লা : শিক্ষাগবেষক এবং বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার সদস্য

[email protected]

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×