বই পৌঁছে যাক সবার দোরগোড়ায়
jugantor
বই পৌঁছে যাক সবার দোরগোড়ায়

  মাছুম বিল্লাহ  

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বই পৌঁছে যাক সবার দোরগোড়ায়

কাজে মন না বসলে মনকে কেন্দ্রীভূত করা প্রয়োজন আর সেটি করতে পারে বই। কোনো বিষয়ের প্রতি আরও বেশি মনোযোগী ও ফোকাসড হতে বই পড়ার জুড়ি নেই।

বৃদ্ধ বয়সে অ্যালঝাইমার্স সিনড্রোমের মতো স্মৃতিভ্রম রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তাদের, যাদের বই পড়ার অভ্যাস নেই। বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় জানা যায়, বইয়ের সম্ভাব্য বাস্তবতা ও কল্পনা পাঠকের মনে নতুন আবেগ ও অনুভূতি সৃষ্টি করে, যা তাকে অন্য সংস্কৃতির মানুষকে বোঝা ও তাদের প্রতি সহমর্মী হতে সাহায্য করে।

মানসিক চাপ ও অশান্তি দূর করতে হলে বই পড়তে হবে। ফেলুদা, ব্যেমকেশ কিংবা শার্লক হোমসের মতো ডিটেকটিভ উপন্যাস পাঠকের বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার উন্নতি ঘটায়।

একজন চিত্রশিল্পী অনুপ্রেরণা পায় বিখ্যাত চিত্রশিল্পীদের রেখে যাওয়া চিত্রকর্ম থেকে। তেমনই একজন লেখক বিখ্যাত সব লেখকের লেখা পড়ে নিজে সাহিত্য সৃষ্টির স্পৃহা পান। একজন ভালো পাঠকই একজন ভালো লেখকে পরিণত হতে পারেন।

মুক্তজ্ঞানের চর্চা ব্যাপক হারে প্রয়োজন বর্তমান সমাজে, যা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন দ্বারা সম্ভব নয়। মনুষত্বের প্রকৃত বিকাশও সম্ভব নয় শুধু পাঠ্যবই পড়ে। দেশে নতুন নতুন লেখক তৈরি হচ্ছেন।

তাদের বইয়ের বাজার তৈরি করতে হবে, তাদের ধারণাগুলোকে সমাজে ধরে রাখতে হবে। তাই দরকার নতুন নতুন লাইব্রেরি, প্রয়োজন নতুন নতুন পাঠক তৈরি করা। পাঠকগণ লেখকের ভাবনায় প্রভাবিত হন। সুশিক্ষায় শিক্ষিত জাতি হতে হবে আর তাই বই পড়তে হবে, বই পড়াতে হবে।

হৃদয়কে আমরা যদি বড় করতে পারি, স্বপ্নকে বিশাল করতে পারি তাহলে সামাজিক নানা অনাচার, শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা দূর করা সম্ভব হবে। আর এগুলো করা সম্ভব বই পড়ার ও পড়ানোর মাধ্যমে।

জ্ঞানার্জন, গবেষণা, চেতনা ও মূল্যবোধের বিকাশ, সংস্কৃতিচর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষকে আলোকিত করে তোলা এবং পাঠ্যাভ্যাস নিশ্চিতকরণে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অপরিসীম। মনের তৃপ্তি ও দীপ্তি গ্রন্থপাঠের মাধ্যমেই সম্ভব। গ্রন্থ মানুষকে দেয় জীবনীশক্তি, জ্ঞানকে নিজের মধ্যে বন্দি করে রাখার ক্ষমতা।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গ্রন্থাগার সম্পর্কে বলেন, ‘লাইব্রেরির মধ্যে আমরা সহস পথের চৌমাথার ওপর দাঁড়াইয়া আছি। কোন পথ অনন্ত সমুদ্রে গিয়াছে, কোন পথ অনন্ত শিখরে উঠিয়াছে, কোন পথ মানব হৃদয়ের অতল পরশে নামিয়াছে। যে যে দিকে ইচ্ছা ধাবমান হও, কোথাও বাধা পাইবো না।

মানুষ আপনার পরিত্রাণকে এতটুকু জায়গার মধ্যে বাঁধাইয়া রাখিয়াছে।’ কোনো শিক্ষক বিশেষ কোনো কারণে বিদ্যালয়ে না আসতে পারলে শিক্ষার্থীদের পাঠাগারে পাঠিয়ে দেয়ার রীতি কোথাও কোথাও চালু আছে। এটি একটি চমৎকার পন্থা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় যদি লাইব্রেরি না থাকে কিংবা লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বই না থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীরা অবসর সময় ব্যয় করে অপ্রয়োজনীয় কাজে।

জ্ঞানপিপাসু, মেধাবী শিক্ষার্থীদের আরও চিন্তাশীল করতে, উন্নত দেশ ও জাতি গঠন করতে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা ও প্রসারের বিকল্প নেই।

প্রতিটি বিদ্যালয়ে, প্রতিটি মহাবিদ্যালয়ে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, প্রচলিত গ্রন্থাগারগুলোর প্রসার ঘটানো প্রয়োজন। দিনের চরম ব্যস্ততার মাঝেও আমরা যদি কিছু সময় বের করে কয়েক পাতা বই পড়ি, তবে কিছু দিন পর বই পড়ার সময় এমনিতেই বেরিয়ে আসবে। সময় পেতে কষ্ট হবে না।

আমরা নিজেরা একে অপরকে বই উপহার দিতে পারি। আজ সমাজের হানাহানি, হিংসা, দ্বেষ, বাস্তববাদিতা, ভোগবাদিতার মধ্যেও স্থিরতা, শান্তি ও প্রগতির বার্তা নিয়ে আসতে পারে একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ সমাজ, যা সময়োপযোগী বই পড়ার মধ্য দিয়ে সম্ভব। প্রমথ চৌধুরী তার বইপড়া প্রবন্ধে যথার্থই বলেছেন, ‘আমি লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিই এ কারণে যে, এ স্থলে লোকে স্বেচ্ছায় স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়; প্রতিটি লোক তার স্বীয় শক্তি ও রুচি অনুসারে নিজের মনকে নিজের চেষ্টায় আত্মার রাজ্যে জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিতে পারে।

স্কুল-কলেজ বর্তমানে আমাদের যে অপকার করছে সে অপকারের প্রতিকারের জন্য শুধু নগরে নগরে নয়, গ্রামে গ্রামে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা কর্তব্য। আমি আগে বলেছি যে, লাইব্রেরি হাসপাতালের চেয়ে কম উপকারী নয়, তার কারণ আমাদের শিক্ষার বর্তমান অবস্থায় লাইব্রেরি এক রকম মনের হাসপাতাল।’

জীবনকে সুন্দরভাবে বাঁচাতে বই হয়ে ওঠে প্রধান সঙ্গী। শত ব্যস্ততার মাঝে কিছুটা স্বস্তির খোরাক হতে পারে প্রিয় কোনো বই। বই ভালো বন্ধু, এই স্লোগানের মাধ্যমে পাঠক তৈরি করা যায়।

একজন পাঠক তৈরি করতে পারেন একাধিক পাঠক। সুপরিকল্পিতভাবে ধাপে ধাপে নতুন পাঠকের মাঝে বই পড়ার নেশা একবার তৈরি করে দিতে পারলেই হয়। একখানা বই পড়ে একাধিক লোক যদি তা নিয়ে আলোচনা করে, তবে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে বাধ্য।

এতে বেশ কিছু ভালো পাঠক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমাদের হৃদয়কে প্রসারিত করার, স্বপ্নকে বিশাল করার নিমিত্তে আমাদের বই পড়তে হবে, পড়াতে হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।

সামাজিক নানা অনাচার, উচ্চতর শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা, বইয়ের পরিবর্তে অস্ত্রের ঝনঝনানি, রাজনীতির নামে বর্বরতা গোটা জাতিকে গ্রাস করেছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় হতে পারে বই পড়া, বই পড়ানো, বইয়ের জগতে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে ডুবিয়ে রাখা। নেতৃত্বের বিকাশ শুধু কথা বলার দ্বারা হয় না, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে জ্ঞান আহরণ করতে হয়।

আমাদের অনেক শিক্ষার্থী ভাবেন নেতা হওয়ার উপায় হচ্ছে সন্ত্রাস করা, অন্যকে ভীতি প্রদর্শন করা, শক্তি প্রদর্শন করা। তাই তারা বই কেনা, বইপড়া ছেড়ে দিয়েছেন। তাদের আবারও বই পড়াতে হবে।

পাঠক এখনও বই পড়ে তবে তারা পড়তে চায় স্বনামধন্য ও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের বই। নতুন লেখকদের ভেতরেও অনেক প্রতিশ্রুতিশীল লেখক আছেন। দেশের লাইব্রেরিতে তাদের বইয়ের সংগ্রহ থাকলে পাঠকরা তা পড়তে পারবেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে মানুষ অনেকটা আত্মকেন্দ্রিক, ব্যস্ত এবং ক্যারিয়ার ওরিয়েন্টেড।

তাই তারা বই কম পড়তে চান। যাও পড়তে চান তাড়াহুড়া করে হাতের মুঠাফোন খুলেই পড়ে ফেলেন। কাগজের বইয়ের জন্য অপেক্ষা করেন না বা প্রয়োজনও মনে করেন না। তারপরও আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, প্রতিবছর বইমেলা হয়, মোটামুটি ভালো পরিমাণে বই বিক্রি হয়। এটি পজিটিভ দিক। তার সঙ্গে যুক্ত হল জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস।

এ উদ্যোগ সবার দোরগোড়ায় নিয়ে যাবে বই। দেশের সব ধরনের লেখককে দেশ, সমাজ, শিক্ষা, সাহিত্য, মানবিকতা নিয়ে চিন্তার নির্যাস পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে দেশের সর্বত্র এবং সব ধরনের মানুষের কাছে।

মাছুম বিল্লাহ : ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত; সাবেক ক্যাডেট কলেজ, রাজউক কলেজ ও বাউবির শিক্ষক

masumbillah65@gmail.com

বই পৌঁছে যাক সবার দোরগোড়ায়

 মাছুম বিল্লাহ 
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বই পৌঁছে যাক সবার দোরগোড়ায়
ফাইল ফটো

কাজে মন না বসলে মনকে কেন্দ্রীভূত করা প্রয়োজন আর সেটি করতে পারে বই। কোনো বিষয়ের প্রতি আরও বেশি মনোযোগী ও ফোকাসড হতে বই পড়ার জুড়ি নেই।

বৃদ্ধ বয়সে অ্যালঝাইমার্স সিনড্রোমের মতো স্মৃতিভ্রম রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তাদের, যাদের বই পড়ার অভ্যাস নেই। বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় জানা যায়, বইয়ের সম্ভাব্য বাস্তবতা ও কল্পনা পাঠকের মনে নতুন আবেগ ও অনুভূতি সৃষ্টি করে, যা তাকে অন্য সংস্কৃতির মানুষকে বোঝা ও তাদের প্রতি সহমর্মী হতে সাহায্য করে।

মানসিক চাপ ও অশান্তি দূর করতে হলে বই পড়তে হবে। ফেলুদা, ব্যেমকেশ কিংবা শার্লক হোমসের মতো ডিটেকটিভ উপন্যাস পাঠকের বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার উন্নতি ঘটায়।

একজন চিত্রশিল্পী অনুপ্রেরণা পায় বিখ্যাত চিত্রশিল্পীদের রেখে যাওয়া চিত্রকর্ম থেকে। তেমনই একজন লেখক বিখ্যাত সব লেখকের লেখা পড়ে নিজে সাহিত্য সৃষ্টির স্পৃহা পান। একজন ভালো পাঠকই একজন ভালো লেখকে পরিণত হতে পারেন।

মুক্তজ্ঞানের চর্চা ব্যাপক হারে প্রয়োজন বর্তমান সমাজে, যা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন দ্বারা সম্ভব নয়। মনুষত্বের প্রকৃত বিকাশও সম্ভব নয় শুধু পাঠ্যবই পড়ে। দেশে নতুন নতুন লেখক তৈরি হচ্ছেন।

তাদের বইয়ের বাজার তৈরি করতে হবে, তাদের ধারণাগুলোকে সমাজে ধরে রাখতে হবে। তাই দরকার নতুন নতুন লাইব্রেরি, প্রয়োজন নতুন নতুন পাঠক তৈরি করা। পাঠকগণ লেখকের ভাবনায় প্রভাবিত হন। সুশিক্ষায় শিক্ষিত জাতি হতে হবে আর তাই বই পড়তে হবে, বই পড়াতে হবে।

হৃদয়কে আমরা যদি বড় করতে পারি, স্বপ্নকে বিশাল করতে পারি তাহলে সামাজিক নানা অনাচার, শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা দূর করা সম্ভব হবে। আর এগুলো করা সম্ভব বই পড়ার ও পড়ানোর মাধ্যমে।

জ্ঞানার্জন, গবেষণা, চেতনা ও মূল্যবোধের বিকাশ, সংস্কৃতিচর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষকে আলোকিত করে তোলা এবং পাঠ্যাভ্যাস নিশ্চিতকরণে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অপরিসীম। মনের তৃপ্তি ও দীপ্তি গ্রন্থপাঠের মাধ্যমেই সম্ভব। গ্রন্থ মানুষকে দেয় জীবনীশক্তি, জ্ঞানকে নিজের মধ্যে বন্দি করে রাখার ক্ষমতা।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গ্রন্থাগার সম্পর্কে বলেন, ‘লাইব্রেরির মধ্যে আমরা সহস পথের চৌমাথার ওপর দাঁড়াইয়া আছি। কোন পথ অনন্ত সমুদ্রে গিয়াছে, কোন পথ অনন্ত শিখরে উঠিয়াছে, কোন পথ মানব হৃদয়ের অতল পরশে নামিয়াছে। যে যে দিকে ইচ্ছা ধাবমান হও, কোথাও বাধা পাইবো না।

মানুষ আপনার পরিত্রাণকে এতটুকু জায়গার মধ্যে বাঁধাইয়া রাখিয়াছে।’ কোনো শিক্ষক বিশেষ কোনো কারণে বিদ্যালয়ে না আসতে পারলে শিক্ষার্থীদের পাঠাগারে পাঠিয়ে দেয়ার রীতি কোথাও কোথাও চালু আছে। এটি একটি চমৎকার পন্থা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় যদি লাইব্রেরি না থাকে কিংবা লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বই না থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীরা অবসর সময় ব্যয় করে অপ্রয়োজনীয় কাজে।

জ্ঞানপিপাসু, মেধাবী শিক্ষার্থীদের আরও চিন্তাশীল করতে, উন্নত দেশ ও জাতি গঠন করতে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা ও প্রসারের বিকল্প নেই।

প্রতিটি বিদ্যালয়ে, প্রতিটি মহাবিদ্যালয়ে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, প্রচলিত গ্রন্থাগারগুলোর প্রসার ঘটানো প্রয়োজন। দিনের চরম ব্যস্ততার মাঝেও আমরা যদি কিছু সময় বের করে কয়েক পাতা বই পড়ি, তবে কিছু দিন পর বই পড়ার সময় এমনিতেই বেরিয়ে আসবে। সময় পেতে কষ্ট হবে না।

আমরা নিজেরা একে অপরকে বই উপহার দিতে পারি। আজ সমাজের হানাহানি, হিংসা, দ্বেষ, বাস্তববাদিতা, ভোগবাদিতার মধ্যেও স্থিরতা, শান্তি ও প্রগতির বার্তা নিয়ে আসতে পারে একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ সমাজ, যা সময়োপযোগী বই পড়ার মধ্য দিয়ে সম্ভব। প্রমথ চৌধুরী তার বইপড়া প্রবন্ধে যথার্থই বলেছেন, ‘আমি লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিই এ কারণে যে, এ স্থলে লোকে স্বেচ্ছায় স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়; প্রতিটি লোক তার স্বীয় শক্তি ও রুচি অনুসারে নিজের মনকে নিজের চেষ্টায় আত্মার রাজ্যে জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিতে পারে।

স্কুল-কলেজ বর্তমানে আমাদের যে অপকার করছে সে অপকারের প্রতিকারের জন্য শুধু নগরে নগরে নয়, গ্রামে গ্রামে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা কর্তব্য। আমি আগে বলেছি যে, লাইব্রেরি হাসপাতালের চেয়ে কম উপকারী নয়, তার কারণ আমাদের শিক্ষার বর্তমান অবস্থায় লাইব্রেরি এক রকম মনের হাসপাতাল।’

জীবনকে সুন্দরভাবে বাঁচাতে বই হয়ে ওঠে প্রধান সঙ্গী। শত ব্যস্ততার মাঝে কিছুটা স্বস্তির খোরাক হতে পারে প্রিয় কোনো বই। বই ভালো বন্ধু, এই স্লোগানের মাধ্যমে পাঠক তৈরি করা যায়।

একজন পাঠক তৈরি করতে পারেন একাধিক পাঠক। সুপরিকল্পিতভাবে ধাপে ধাপে নতুন পাঠকের মাঝে বই পড়ার নেশা একবার তৈরি করে দিতে পারলেই হয়। একখানা বই পড়ে একাধিক লোক যদি তা নিয়ে আলোচনা করে, তবে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে বাধ্য।

এতে বেশ কিছু ভালো পাঠক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমাদের হৃদয়কে প্রসারিত করার, স্বপ্নকে বিশাল করার নিমিত্তে আমাদের বই পড়তে হবে, পড়াতে হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।

সামাজিক নানা অনাচার, উচ্চতর শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা, বইয়ের পরিবর্তে অস্ত্রের ঝনঝনানি, রাজনীতির নামে বর্বরতা গোটা জাতিকে গ্রাস করেছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় হতে পারে বই পড়া, বই পড়ানো, বইয়ের জগতে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে ডুবিয়ে রাখা। নেতৃত্বের বিকাশ শুধু কথা বলার দ্বারা হয় না, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে জ্ঞান আহরণ করতে হয়।

আমাদের অনেক শিক্ষার্থী ভাবেন নেতা হওয়ার উপায় হচ্ছে সন্ত্রাস করা, অন্যকে ভীতি প্রদর্শন করা, শক্তি প্রদর্শন করা। তাই তারা বই কেনা, বইপড়া ছেড়ে দিয়েছেন। তাদের আবারও বই পড়াতে হবে।

পাঠক এখনও বই পড়ে তবে তারা পড়তে চায় স্বনামধন্য ও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের বই। নতুন লেখকদের ভেতরেও অনেক প্রতিশ্রুতিশীল লেখক আছেন। দেশের লাইব্রেরিতে তাদের বইয়ের সংগ্রহ থাকলে পাঠকরা তা পড়তে পারবেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে মানুষ অনেকটা আত্মকেন্দ্রিক, ব্যস্ত এবং ক্যারিয়ার ওরিয়েন্টেড।

তাই তারা বই কম পড়তে চান। যাও পড়তে চান তাড়াহুড়া করে হাতের মুঠাফোন খুলেই পড়ে ফেলেন। কাগজের বইয়ের জন্য অপেক্ষা করেন না বা প্রয়োজনও মনে করেন না। তারপরও আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, প্রতিবছর বইমেলা হয়, মোটামুটি ভালো পরিমাণে বই বিক্রি হয়। এটি পজিটিভ দিক। তার সঙ্গে যুক্ত হল জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস।

এ উদ্যোগ সবার দোরগোড়ায় নিয়ে যাবে বই। দেশের সব ধরনের লেখককে দেশ, সমাজ, শিক্ষা, সাহিত্য, মানবিকতা নিয়ে চিন্তার নির্যাস পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে দেশের সর্বত্র এবং সব ধরনের মানুষের কাছে।

মাছুম বিল্লাহ : ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত; সাবেক ক্যাডেট কলেজ, রাজউক কলেজ ও বাউবির শিক্ষক

masumbillah65@gmail.com

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন