দেশপ্রেমের চশমা

করোনাভাইরাসের চেয়েও মারাত্মক

  মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার ১০ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাপিয়া। ফাইল ছবি

দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। অর্থনীতিতে পড়ছে এর নেতিবাচক প্রভাব। চীনে এখন আর কোনো পর্যটক যাচ্ছেন না। পর্যটন শিল্প থেকে চীন তার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের যে ১১ শতাংশ অর্জন করত, তা কমেছে আশঙ্কাজনক মাত্রায়।

চীনের বড় শহরের হোটেলগুলো এখন ফাঁকা। অনেক দেশ চীন ভ্রমণের ওপর সতর্কবার্তা জারি করায় পর্যটকরা তাদের ফ্লাইট ও হোটেল বুকিং বাতিল করেছেন। বিদেশিরা তো দূরের কথা, চীনারাই করোনার আতঙ্কে অনেকে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

অবশ্য ঘরে থাকলে যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, বিষয়টি এমন নয়। সবার মধ্যে এখন পরিচ্ছন্ন থাকার প্রচেষ্টা বেড়েছে। হ্যান্ডওয়াশ এবং মাস্ক বিক্রি বেড়েছে বিশ্বব্যাপী। বাইরে থেকে ঘরে ঢুকে মানুষ এখন হাতমুখ ধুচ্ছেন।

চীনের বাতাস আগের চেয়ে অনেক বেশি দূষণমুক্ত হয়েছে। কারণ, করোনার আতঙ্কে মানুষ বেশি বাইরে বের হচ্ছেন না। কলকারখানা এবং যানবাহন অনেক কম চলায় দেশটিতে পরিবেশ দূষণ কমেছে।

মহাকাশ সংস্থা নাসা এমন দাবি করে বলছে, চীনে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড হ্রাস পাওয়ায় সেখানকার বাতাস এখন আগের চেয়ে অনেক বিশুদ্ধ। নাসা গত বছরের এই সময়ের এবং বর্তমানের যে দুটি স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে, সেখানে বায়ুদূষণের বড় পার্থক্য দৃশ্যমান।

এ কারণে গত চার বছরের মধ্যে চীনের শেয়ারবাজারে সর্বনিম্ন ধস নেমেছে। বহুজাতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো চীন থেকে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। করোনার কারণে এর মধ্যেই চীনের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে সাড়ে সাত কোটি মার্কিন ডলার।

চিকিৎসা খাতে ব্যয় বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। দেশের আমদানির ৩৫ ভাগই আসে চীন থেকে। এ বাণিজ্যেও লেগেছে মন্দা। চীন থেকে প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ।

করোনা আতঙ্কের পর দু’দেশের আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। চায়না বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি পরিবেশিত তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২১ সালে ১৮ বিলিয়নে উন্নীত হতো।

এ অঙ্ক এখন ভিন্নভাবে হিসাব করা হবে। বাংলাদেশ চীনে পাটজাতদ্রব্য, চা, পোশাক এবং মাছজাতীয় পণ্য রফতানি করে। বিশেষ করে বাংলাদেশ কাঁকড়া এবং কুঁচিয়া রফতানি করে যে কোটি কোটি টাকা আয় করে, তার প্রায় ৯০ শতাংশ আসে চীন থেকে।

উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে কেবল কাঁকড়া রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করে ৫৮০ কোটি টাকা। এখন এ রফতানি বন্ধ থাকায় দেশীয় বাজারে কাঁকড়া ও কুঁচিয়া কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

আবার বাংলাদেশের কিছু মেগা প্রকল্পে ৯০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে চীন। এসব মেগা প্রকল্পের কাজের গতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বকে আতঙ্কে ফেলেছে করোনাভাইরাস।

এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও নিহতের পরিসংখ্যান জরিপ থেকে দেখা যায়, মুসলমানদের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ খুব কম। এ জন্য চীনারা নাকি মুসলমানদের জীবনাচরণ উপলব্ধি করতে চাইছে।

সাধারণ জ্ঞানে অনুধাবন করা যায়, পরিচ্ছন্নতা যদি এ রোগের হাত থেকে পরিত্রাণের একটি উপায় হয়, তাহলে তো পারফরমিং মুসলমানদের এ রোগ কম হওয়ারই কথা।

কারণ, ধর্মবিশ্বাসী মুসলিমদের নামাজ পড়ার জন্য দৈনিক পাঁচবার ওজু করার জন্য হাত, পা, মুখের ভেতর, নাক, কানের ছিদ্র এবং মুখমণ্ডল পানি দিয়ে ধুতে হয়।

এ কারণে ইসলাম ধর্ম পালনকারীদের দৈনিক পাঁচবার তো এটা করা বাধ্যতামূলক। সে কারণেই তাদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ কম কিনা, তা এ রোগ বিষয়ে গবেষণাকারীরা খতিয়ে দেখবেন।

বাংলাদেশের মানুষ করোনাভাইরাসকে যে খুব ভয় পেয়েছেন, এমন মনে হয় না। কারণ, এ দেশের মানুষ ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পোড় খাওয়া। ঝড়-বন্যা, ঘূর্ণিঝড় (আইলা, সিডর ইত্যাদি), ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এরা অনেক পোক্ত মানসিকতার।

যে কোনো বিপদ মোকাবেলা করে এরা উঠে দাঁড়াতে বা ঘুরে দাঁড়াতে জানে। সে জন্য অন্যান্য বিপদাপদের মতো করোনাকেও এরা স্বাভাবিক একটি বিপদ হিসেবে নিয়েছে। শিক্ষিত ও সচেতনরা কিছুটা দুশ্চিন্তা প্রকাশ করলেও এ জন্য জীবনের স্বাভাবিক গতিতে পরিবর্তন আনেননি।

শহরে শহরে সবাই যে মাস্ক পরে হাঁটছেন, এমনও দেখা যাচ্ছে না। সিডর, আইলা, ডেঙ্গু মোকাবেলার মতো এরা একেও একটি সাময়িক বিপদ হিসেবে দেখছেন এবং ভাবছেন, অচিরেই হয়তো এটা কমে যাবে। অথবা চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এর ওষুধ আবিষ্কারে সক্ষম হবেন।

তবে সচেতন ও শিক্ষিত বাংলাদেশিরা করোনায় ভয় না পেলেও পাপিয়ার মতো পাপের সম্রাজ্ঞী-সম্রাটদের ভয় পাচ্ছেন। জি কে শামিম, ক্যাসিনো খালেদ প্রভৃতিদের মদ, জুয়া ও মাদক ব্যবসার নামে দুর্নীতি দেখে মানুষ যতটা বিস্মিত হয়েছিলেন, তার চেয়ে বেশি ভয় পেয়েছেন পাপিয়ার কর্মকাণ্ড চাউর হওয়ার পর।

প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের ঘরে ছেলেমেয়ে আছে। ভাই-বোন আছে। তাদের মধ্যে যদি পাপিয়ার কর্মকাণ্ডের সংক্রমণ হয় তাহলে তারা কীভাবে সমাজে মুখ দেখাবেন? কীভাবে বাঁচবেন? করোনায় ভীত না হলেও এ আতঙ্কে আজ অনেকেই ভীত।

উল্লেখ্য, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জাল টাকা বহন ও পাচারের অভিযোগে নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ও গুলি করে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করা তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমনসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

এরপর অভিযান চালিয়ে তাদের বাসা থেকে অবৈধ পিস্তল, গুলির ম্যাগাজিন, দামি বিদেশি মদ, মোটা অঙ্কের অর্থ, ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি চেকবই, বিদেশি মুদ্রা, ১০টি ভিসা ও বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

এখন ক্রমান্বয়ে কেচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হওয়ার মতো পাপিয়া দম্পতির দেশে-বিদেশে বিশাল সম্পদের পাহাড়ের খবর বের হয়ে আসছে। যে সম্পদ, গাড়ি, বাড়ি ও ব্যাংক-ব্যালান্সের কথা বলা হচ্ছে বা পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে, তা হল বিশাল আইসবার্গের সামান্য চূড়া মাত্র।

সঠিকভাবে অনুসন্ধান করে এদের সব সম্পদ বের করতে পারলেই শুধু অনুধাবন করা যাবে এরা অবৈধভাবে কত বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন।

কী করেননি পাপিয়া? কোন অপরাধ বাদ রেখেছেন? যৌন ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, মাদকের ব্যবসা, নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, বড় বড় নেতাকে ব্ল্যাকমেইলিং করে টাকা কামানো, জাল মুদ্রা তৈরির ব্যবসা, জি কে শামীমের সঙ্গে টেন্ডার বাণিজ্য, অনলাইনভিত্তিক যৌন ব্যবসার প্লাটফরম ‘এসকর্ট’ গড়ে তোলা, রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলের প্রেসিডেন্ট স্যুট ভাড়া করে গণ্যমান্যদের নিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম ও বৈঠক করা ছিল তার নিত্যদিনের কাজ।

চাকরি দেয়ার কথা বলে সুন্দরী নারীদের রাজধানীতে এনে তাদের দিয়ে অবৈধ কাজ করা, এসব মেয়ের এবং গণ্যমান্যের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ধারণ করে পরে তাদের ব্ল্যাকমেইল করার খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। শুধু বাংলাদেশের নারী নয়, তিনি থাই ও রুশ মডেলদেরও এ দেশে নিয়ে এসেছেন।

পাপিয়ার অবৈধ কাজের ডেরায় কারা যেতেন? তাদের তালিকা অনেক দীর্ঘ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া ৩০ জনের নাম বলেছেন। গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যমতে, পাপিয়ার আস্তানায় যাতায়াতকারীদের মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী রয়েছেন।

এ ছাড়া এমন তালিকায় ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা, জি কে শামীম এবং একজন টিভি টকশোর আলোচকের নামও রয়েছে (মানবজমিন, ০২-০৩-২০২০)।

হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরা ও পাপিয়ার গোপন ভিডিও যাচাই করে এসব বিষয়ে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন। রাজনীতিতে ওপরে ওঠার সিঁড়ি হিসেবে পাপিয়া ব্যবহার করেছেন অর্থ ও নারীকে।

টাকার জোরে পাপিয়া নরসিংদী যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পদটি পান। খবরে প্রকাশ, গত সংসদ নির্বাচনে এমপি টিকিট পাওয়ার জন্য তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেও সফল হতে পারেননি।

যুব মহিলা লীগের এক নেত্রীর কথা থেকে জানা যায়, তিনি কোনো নেতার সঙ্গে দেখা করতে গেলে সঙ্গে ৫-৭ জন সুন্দরী নারীসহ যেতেন। ধনাঢ্যদের সঙ্গে পরিচয় হলে তাদের ডাকতেন ওয়েস্টিনের অন্দরমহলে।

তার নিয়োগ বাণিজ্যের রেটও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি রেলে ১০ এবং পুলিশে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি দিতেন। সিএনজি স্টেশনের অনুমতি পাইয়ে দিতে নিতেন ৩০ লাখ টাকা।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া বেশ কিছুসংখ্যক সরকারদলীয় নেতার নাম উল্লেখ করেন, যাদের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে (যুগান্তর, ২৬-০২-২০২০)। কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের দুই নেত্রীসহ সুন্দরী ওই নারীদের তিনি রাজনৈতিকভাবে উপরে ওঠার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও পাপিয়া নিয়মিত কালীমন্দিরে যেতেন এবং শিবলিঙ্গেরও পূজা করতেন। তার এক হাতে পবিত্র কাবা শরিফের এবং অন্য হাতে মন্দিরের ছবি আঁকা রয়েছে (যুগান্তর, ২৬-০২-২০২০)। এখন যেসব নেতা, আমলা ও ব্যবসায়ী তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছিলেন তাদের মধ্যে করোনাভাইরাস নয়, পাপিয়াভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

এই যদি হয় একজন যুব মহিলা নেত্রীর চরিত্র, তাহলে কেন কোনো ভালো মেয়ে রাজনীতিতে আগ্রহী হবেন? কেন যুব মহিলা লীগে যোগ দেয়ার কথা ভাববেন? কেন অভিভাবকরা তাদের মেয়ে রাজনীতি করলে বাধা দেবেন না?

এই পাপিয়া তো আর একদিনে পাপিয়া হননি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও গোয়েন্দাদের কাছে এ সম্পর্কে তথ্য ছিল। তাহলে তারা কেন তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেননি। কেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেয়ার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে?

এ থেকেই আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ-গোয়েন্দাদের পেশাদারিত্ব অনুধাবন করা যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাপিয়াকে গ্রেফতার করতে নির্দেশ দেয়ায় তাকে অবশ্যই ধন্যবাদ দেয়া যায়। কিন্তু প্রশ্ন হল, তাকে কেন এ কাজ করতে হবে?

আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীতে কি চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে? তারা কি অপরাধী শনাক্ত করে ধরার ক্ষমতা রাখেন না? কেন ঘটা করে সরকারদলীয় সাধারণ সম্পাদককে বলতে হবে, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) শামীমা নূর পাপিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে’ (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৫-০২-২০২০)।

এ কারণে বাংলাদেশে সরকারদলীয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, নেতা, ব্যবসায়ী, আমলা, সবার মধ্যে এখন করোনাভীতির চেয়ে পাপিয়াভীতিই জোরালো। নাগরিক সমাজের মানসিকতায়ও এর নেতিবাচক প্রতিফলন পড়েছে। নেতৃত্বের এমন অবক্ষয় দেখে তারাও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত।

ছাত্রজীবনে পড়া বিলি গ্রাহামের একটি প্রসিদ্ধ ইংরেজি উক্তি এ প্রসঙ্গে মনে পড়ছে। 'When wealth is lost, nothing is lost; when health is lost, something is lost, when character is lost, everything is lost.' পাপিয়ার পাপের কাহিনী যতই বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে, ততই আমার শুধু এ উক্তিটি মনে পড়ছে। আরও মনে হচ্ছে, আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের অনেকেই চরিত্র হারিয়েছেন।

চরিত্রভ্রষ্ট এ নেতারা সুন্দর চেহারার কুৎসিত পাপিয়ার মতো শুধু অর্থ আর ক্ষমতার পেছনে ছুটছেন। এই রেষ বন্ধ করে তাদের উচিত মানুষের কল্যাণে কাজ করা। পাপিয়াভীতি থেকে রাজনৈতিক নেতারা এটুকু শিক্ষা গ্রহণ করলে তারা জনগণের হৃদয়ে আসন পেতে পারেন।

ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : পাপের রাজ্যে পাপিয়া

আরও
আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত