করোনাভাইরাস: সামাজিক বিচ্ছিন্নতার পাশাপাশি প্রয়োজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

  ড. এম এ মাননান ২৫ মার্চ ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস: সামাজিক বিচ্ছিন্নতার পাশাপাশি প্রয়োজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাস যেভাবে বিগত তিন মাস ধরে চীনের পর বিশ্বব্যাপী ছড়াচ্ছে, তাতে এর দ্বারা সৃষ্ট কোভিড-১৯ নামক ব্যাধিটি বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নিয়েছে। ২৩ মার্চ পর্যন্ত ১৯২টি দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে; এদেশগুলোয় সব মিলিয়ে ১০০ কোটির বেশি মানুষ কোয়ারেন্টিনে (জনবিচ্ছিন্ন) রয়েছে (সমকাল, ২২ মার্চ ২০২০)।

এর ব্যাপকতায় শঙ্কিত হয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার সতর্ক করছে সব দেশকে; বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির জন্যও পরামর্শ দিয়েছে, যদিও এখানে এটি মহামারীর রূপ পরিগ্রহ করেনি। তবে সাবধানের মার নেই।

মহামারী হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। একবার দুর্যোগ শুরু হয়ে গেলে তখন কিছুই করার থাকবে না; যেহেতু করোনাভাইরাসের কোনো ওষুধ আবিষ্কারই হয়নি। তবে চীন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, হাতের কাছে লভ্য চিকিৎসার ব্যবহার আর সব শেষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স) প্রয়োগ করে ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। সময় থাকতে আমরা কি চীনের পথে হাঁটতে পারি না?

সময় বয়ে গেলে কিছুই করার থাকবে না। সময়ের এক ফোঁড় যে অসময়ের দশ ফোঁড়ের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর, এ কথাটি নিশ্চয়ই আমরা ভুলে যাব না। চীনের দেখাদেখি আরও কিছু দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে কিংবা করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

চীন কী করেছে? চীন সরকার করোনা শনাক্তে হুয়াওয়ে নামক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেছে এবং এখনও করছে। সফলতাও পেয়েছে। করোনা আক্রান্তদের কোভিড-১৯ নির্ণয়ে দক্ষ ‘ইমেজিং’ চিকিৎসকের অভাব ছিল চীনে।

চীনের ‘জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন’ হুয়াওয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার পদ্ধতিটি ব্যবহার করছে। এ ক্ষেত্রে ‘সিটি কোয়ান্টিফিকেশন’ (CT Quantification) খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল চিত্রাকারে প্রকাশ করতে পারে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপ-এর গণনা ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে খুব দ্রুত যে কোনো নমুনার ‘কোয়ান্টাইজেশন’ ফলাফল নির্ণয় করতে পারে।

চীনের স্বাস্থ্য কমিশন সিটি কোয়ান্টিফিকেশনকে তাদের ‘ক্লিনিক্যাল ডায়াগনসিস স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে গ্রহণ করে হুবেই প্রদেশে (যেখান থেকে করোনার উৎপত্তি হয়ে প্রথমে চীনে এবং পরে অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে) স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ব্যবহার করা শুরু করে। চীনে হুয়াওয়ে ক্লাউডের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের কারণে ইমেজিং চিকিৎসকের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। হুবেই প্রদেশ এখন করোনামুক্ত।

সমকালের একটি খবরে দেখা যায়, ‘ক্লিনিক্যাল তথ্য-উপাত্ত এবং গবেষণাগারে প্রাপ্ত ফলাফলের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে এটি কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর বর্তমান অবস্থা ও রোগের পর্যায় সম্পর্কে সঠিক তথ্য সরবরাহ করে যথাযথ চিকিৎসা প্রদানে ডাক্তারদের সহায়তা করে থাকে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বেগবান করা এ কারণেও জরুরি যে, একটি নতুন ওষুধ বাজারে ছাড়তে হলে আইডিয়া সৃষ্টি থেকে শুরু করে গবেষণা পরিচালনার পর ওষুধটি ব্যবহারের উপযোগী পর্যায়ে আনতে সময় লাগে অনেক বছর এবং খরচও হয় প্রচুর- দুই থেকে তিন মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্যর্থতা তো আছেই)। কাজেই আমরা ধরে নিতে পারি, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের ওষুধ যদি আবিষ্কার করা সম্ভবও হয়, তাহলেও সময়গত প্রতিবন্ধকতার কারণে আমাদের এমন কিছু বিকল্পের ওপর নির্ভর করতে হবে যার জন্য সময়ের প্রয়োজন হবে না। নতুবা লাখ লাখ লোক পৃথিবীব্যাপী মারা যাবে।

চীনের হুবেই শহর ছাড়াও অন্যান্য আক্রান্ত স্থানে করোনাভাইরাসের প্রসার নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রচুর সংখ্যায় রোবট ব্যবহার করা হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। অধ্যাপক ইয়ং যখন হোটেলে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন, তখন তিনিও খাবার পেতেন রোবটের মাধ্যমে। তার খাবার সরবরাহকারী রোবটটি নিজে নিজে লিফটে উঠতে-নামতে পারে, যে কোনো রুমের কাছে গিয়ে কলিং বেল টিপে রুমে ঢুকতে পারে।

হাসপাতালে মানুষের পরিবর্তে ডিসইনফেকশন রোবট ব্যবহার করা হয়েছে। যা মানুষ করতে পারে অনেক সময় ও ভয় নিয়ে, রোবট তা অল্প সময়েই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছে নির্দ্বিধায়। চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্স একটি প্রোটোটাইপ রোবট বানিয়েছে, যা দিয়ে টেস্ট করার জন্য রিমোটলি রোগীর oropharyngeal swabs সংগ্রহ করছে, যার ফলে চিকিৎসক বা চিকিৎসাকর্মীকে সরাসরি রোগীর কাছে গিয়ে ‘সোয়াব’ নিতে হয় না।

এ কারণেই চীনের পক্ষে অল্প সময়ের মধ্যে করোনার সংক্রমণ দমানো সম্ভব হয়েছে, যা না করার কারণে ইতালি বা অন্য অনেক দেশে সংক্রমণের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়নি। ইতালি সামাল দিতে না পারায় দৈনিক গড়ে আট-নয়শ’ আক্রান্ত মানুষ মারা যাচ্ছে গত কয়েক দিন ধরে। আমরা কি ইতালি থেকে শিক্ষা নেব না?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণা করে বিভিন্ন দেশের এমন পাঁচটি ওষুধ আবিষ্কারক কোম্পানি করোনাভাইরাস নির্ণয়ে এবং চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে। কোম্পানিগুলো হল ডিয়ারগ্যান (দক্ষিণ কোরিয়া), ইনসিলিকো মেডিসিন (সিঙ্গাপুর), এসআরআই বায়োসায়েন্স (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও ইকটোস (প্যারিস) কনসোর্টিয়াম এবং বেনিভোলেন্ট এআই (ব্রিটেন)।

একই সঙ্গে ‘মেডিকেল রোবোটিকস কমিউনিটি’ করোনাভাইরাস সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে বেশ মাথা ঘামাচ্ছে। চীনের সাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল রোবোটিক্সের প্রফেসর গুয়াং ঝং ইয়াং (যিনি বিশ্বব্যাপী মেডিকেল রোবোটিক্সের গুরু হিসেবে পরিচিত) বিদেশ থেকে প্রত্যাগত হওয়ার কারণে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন এবং কোয়ারেন্টিনে থাকার কারণে বাইরে যেতে পারেননি বটে; কিন্তু হোটেলে থেকে হুবেই প্রদেশের করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রোবটের ব্যবহারের ওপর গবেষণা করেছেন এবং সাফল্যের সঙ্গে তার সহকর্মীদের সাহায্যে রোগীর জ্বর চেক করা, হাসপাতাল জীবাণুমুক্ত করা এবং রোবটের সাহায্যে মেডিসিন আর খাবার ডেলিভারি দেয়ার কাজ সম্পাদন করেছেন।

বাংলাদেশেও আমরা করোনা আক্রান্ত রোগীদের জ্বর চেক করা, আইসোলেশনে বা কোয়ারেন্টিনে থাকা লোকদের মধ্যে খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ এবং হাসপাতাল/ক্লিনিক/কোয়ারেন্টিন-গৃহ পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহার করতে পারি। তারা ড্রোনও ব্যবহার করেছে খাবার সরবরাহের জন্য। রোবট আর ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে সংস্পর্শের বিষয়টি ভালোভাবে ম্যানেজ করতে পারি, যা এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। স্পর্শ-বিলাসী জাতি হিসেবে আমরা বাঙালিরা বিশ্বখ্যাত।

তাই স্পর্শ-সংস্কৃতি থেকে আত্মরক্ষার জন্য রোবট আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের দিকে মনোযোগী হওয়া দরকার। প্রফেসর ইয়ং মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে যদি সারা বিশ্বের মেডিকেল রোবটিস্টরা একযোগে গবেষণা করেন, তাহলে রোবটের মাধ্যমে করোনাভাইরাসসহ সংক্রামক রোগ চিকিৎসার একটা উপায় খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

সারা বিশ্বে মহামারী রূপে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস থেকে আমরা অন্তত একটা শিক্ষা তো অবশ্যই পেয়েছি। আর তা হল, কোনো নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব হলে- ভাইরাসজাতীয় হলে তো কথাই নেই- প্রথমেই জোর দিতে হবে, ছড়িয়ে পড়ার আগে, ভাইরাস/রোগটাকে শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুতগতিতে নেয়ার ওপর। সকালে সিদ্ধান্ত নিয়ে দুপুরের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য। বিকালের জন্য অপেক্ষা করা যাবে না; পরের দিনের চিন্তা করার তো প্রশ্নই ওঠে না। ‘করব, করব’ চিন্তা করতে গেলেই সুযোগ হারিয়ে যাবে।

করোনার ক্ষেত্রে চীনের সাফল্যের প্রধান কারণ, ডিসেম্বরে ভাইরাসটি হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ধরা পড়ার পরপরই সে দেশের সরকার উহান শহরটিকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, এমনকি প্রদেশের ৫ কোটি বাসিন্দাকেও হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বাধ্য করে। সরকার সারা দেশের নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়িতে থাকার জন্য উৎসাহিতই করেনি, দলীয় স্থানীয় কমিটিগুলোকে নজরদারি করার দায়িত্ব অর্পণ করে।

ফলে দুই সপ্তাহের মধ্যেই উহানে সংক্রমণ কমতে থাকে। এ সামাজিক বিচ্ছিন্নতাই চীনকে দেশব্যাপী ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে। একই সঙ্গে সবার মাস্ক পরা (না পরলে নিজের বাড়িতে ঢোকাও নিষিদ্ধ ছিল), ভবন/দোকানে প্রবেশের আগে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। এসব না করা হলে প্রায় ১৫০ কোটি লোকের দেশটিতে অভাবনীয় বিপর্যয় ঘটে যেত।

চীনকে দেখেও রাশিয়া ছাড়া ইউরোপের দেশগুলোসহ অন্যান্য দেশ পাত্তা দেয়নি (রাশিয়া জানুয়ারি মাসেই চীনের সঙ্গে ২৬০০ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত বন্ধ করে দেয় এবং আক্রান্ত হওয়ার আগেই অনেক এলাকা কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত করে রাখে)।

তারা অপেক্ষা করছিল দেখার জন্য চীন কী করে, তারা কী করে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করে কিংবা পরিস্থিতি সামাল দেয় ইত্যাদি। সময় থাকতে কোনো দেশই আগেভাগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। বিনা বাধায় প্রথমে একটি দেশে/অঞ্চলে ঢুকেই ভাইরাসটি মহাসুখে লাফিয়ে লাফিয়ে মানুষ থেকে মানুষে গড়াগড়ি করে দাপটের সঙ্গে নিজ প্রাধান্য বজায় রেখেছে।

বাংলাদেশসহ কোনো কোনো দেশে তো একশ্রেণির মানুষ ধর্মের মাথার ওপর ঝুড়ি রেখে স্বর্গ থেকে কাল্পনিক ফায়দা পাওয়ার নিষ্ফল চেষ্টা করছে। মহামারী কেন, যে কোনো দুর্যোগে অবশ্যই স্রষ্টার কাছে সাহায্য চাইতে হবে; একই সঙ্গে তকদিরের ওপর পুরোপুরি ভরসা না করে ‘তদবিরে’র কাজটাও চালিয়ে যেতে হবে। স্রষ্টার বিধান এমনই। আমরা বাংলাদেশের মানুষ কি আমাদের চিন্তাচেতনাকে ধুয়ে-মুছে একটু বদলাতে পারব? বদলাতে পারলে টিকে থাকব, না বদলালে আমাদের নিয়তি প্রকৃতিই নির্ধারণ করে ফেলবে।

ভুলে গেলে চলবে না, আরও অনেক রকমের ভাইরাস আসবে ভবিষ্যতে। অ্যান্টার্কটিকার হাজারও বছর ধরে জমে থাকা বরফের স্তূপ গলতে শুরু করেছে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় আর গলে যাওয়া বরফ থেকে বেরিয়ে আসছে অনেক রকমের ভাইরাস। করোনার মতোই বিভিন্ন প্রাণী থেকেও জন্ম নেবে বহুবিধ ভাইরাস, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে। পঙ্গপাল তো একটা আসন্ন বিপদ বলেই মনে হয়। প্রস্তুত থাকতে হবে আগেভাগেই। তাই আমাদের মনমানসিকতা, চিন্তাভাবনা আর নৈতিকতার রূপান্তর ঘটানোর কোনো বিকল্প আছে বলে মনে হয় না।

প্রফেসর ইয়ংয়ের একটি পরামর্শ বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। তিনি ২০ মার্চ IEEE Spectrum-এর সঙ্গে একটি টেলিফোনিক কথোপকথনে বলেছেন, তিনটি পর্যায়ে কাজ করা দরকার। প্রথমত, সরকারি পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ফান্ডিংয়ের বিষয়ে এবং একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কীভাবে প্ল্যান করা হবে এবং সবচেয়ে খারাপ অবস্থার জন্য কীভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে সেসব বিষয়ে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে রোবটিক্স কমিউনিটিতে নেতৃত্ব সৃষ্টি করে সচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং সংক্রামক রোগের প্রতিকারের জন্য রোবটিক্স চ্যালেঞ্জের মতো বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণার কাজ প্রমোট করতে হবে। স্বচালিত রোবট প্রযুক্তিতে চীন অনেক এগিয়েছে। তবে রোগীদের ফ্রন্টলাইন ম্যানেজমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি (যেমন: রোবটিক আইসিইউ) এখনও তেমন বিকশিত হয়নি, যা ভাইরাস ঠেকানোর মতো কাজে ব্যবহার করা যায়।

গণপরিবহনে রোবটিক প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়েও ভাবার বিষয় আছে। পরিবহনের ভেতরে যেখানে যাত্রীরা বসে, সেখানে ভাইরাস প্রতিরোধের প্রযুক্তির গুরুত্ব এ মহাসংকটের সময় খুব বেশি অনুভূত হচ্ছে যাতে রোগ ছড়ানো/সংক্রমণ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনের প্রয়োজন না হয়, যা এ মুহূর্তে হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। তৃতীয় পর্যায় হল ফ্রন্টলাইন ক্লিনিসিয়ানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপন।

এদের প্রয়োজনগুলো আমাদের বুঝতে হবে ভালো করে; শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতার প্রবণতা ত্যাগ করতে হবে। সামনের সারিতে যারা কাজ করে তাদের নিরাপত্তা/সুরক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ তিনটি পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হলে একটা সামগ্রিক রূপান্তর ঘটবে এবং আমরা পরবর্তী সংকটের জন্য নিজেদের প্রস্তুত মনে করতে পারব।

একটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। মানুষ যখন আইসোলেশনে থাকে, তখন সে জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে মানসিক চাপের মধ্যে দিনাতিপাত করে, বিশেষ করে যারা একান্নবর্তী পরিবারে থাকে না বা যাদের ছেলেমেয়ে বড় হয়ে কাজের সুবাদে অন্যত্র থাকে এবং অন্যান্য আত্মীয়স্বজনও কাছেধারে বসবাস করে না, তাদের কাছে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা যথেষ্ট পীড়াদায়ক।

এ ক্ষেত্রে ‘সামাজিক রোবটিক’ কার্যক্রম বেশ সহায়ক হতে পারে। সামাজিক রোবটরা মানুষের সঙ্গে খেলাধুলা করতে পারবে, গল্প করতে পারবে এবং হাসি-তামাশাও করতে পারবে; সোজা কথায় মানুষের মতোই সঙ্গ দিতে পারবে।

তাই মেডিকেল রোবটিকের পাশাপাশি সামাজিক রোবটিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করার কাজে হাত দেয়া জরুরি। বিভিন্ন দেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষক আর বিশেষজ্ঞরা মিলে যৌথভাবে প্রচেষ্টা চালালে সফলতা আসবেই। গবেষণার দুয়ার খুলে দেয়ার এখনই শ্রেষ্ঠ সময়। বৈশ্বিক মহাদুর্যোগই বিশ্বের সব দেশের শ্রেষ্ঠ গবেষকদের একত্রিত করবে এক ছাতার নিচে, যদি ইতিবাচক-আক্রোশী নেতৃত্ব দেয় কোনো একটি দেশ। এ মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার উদ্যোগে এরূপ নেতৃত্বে কি বাংলাদেশ থাকতে পারে না?

ড. এম এ মাননান : কলামিস্ট; উপাচার্য, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫৬ ২৬
বিশ্ব ৯,৬২,৮৮২২,০৩,২৭৪৪৯,১৯১
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×