পরিচ্ছন্নতার মানদণ্ডে আমাদের অবস্থান কোথায়
jugantor
পরিচ্ছন্নতার মানদণ্ডে আমাদের অবস্থান কোথায়

  ড. মো. আলাউদ্দিন মজুমদার  

২৫ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা সাধারণত ময়লা, আবর্জনা, বর্জ্য ও জীবাণু থেকে মুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে চাই। এরকম একটি নির্মল পরিবেশ সৃষ্টি এবং তা বজায় রাখা তখনই সম্ভব, যখন আমরা পরিচ্ছন্ন থাকব।

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে- ‘Cleanliness is next to odliness।’ অর্থাৎ ধার্মিকতার পরেই পরিচ্ছন্নতা। সুইস ইতিহাসবিদ জ্যাকব বারখার্ড তার ১৮০৬ সালে প্রকাশিত The Civilization of the Renaissance in Italy গ্রন্থে বলেন, ‘Cleanliness is indispensable to our modern notion of social perfection।’ অর্থাৎ সামাজিক উৎকর্ষের আধুনিক ধারণায় পরিচ্ছন্নতা একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। বিভিন্ন ধর্মেও কিন্তু পরিচ্ছন্নতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে সূরা তওবার ১০৮নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘... এবং আল্লাহ পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র মানুষকে ভালোবাসেন।’

সূরা আল মুদ্দাস্সিরের ৪-৫নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘(হে মুহাম্মাদ) তোমার পোশাক-আশাক পবিত্র কর এবং মলিনতা ও অপবিত্রতা পরিহার কর।’ ইসলামে পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে ক্ষেত্রবিশেষ অজু ও গোসলকে ফরজ (অত্যাবশ্যকীয়) করা হয়েছে। হিন্দুদের ধর্মীয় গ্রন্থ ভগবত গীতায় পরিচ্ছন্নতাকে একটি অন্যতম গুণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। খ্রিস্টানদের বাইবেল ও অন্য ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থেও পরিচ্ছন্নতার ওপর অনুরূপ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতার রয়েছে অসংখ্য উপকারিতা। ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর রয়েছে এর ব্যাপক প্রভাব। বলা হয়ে থাকে, পরিচ্ছন্নতা স্বাস্থ্যবিধি চর্চার প্রথম মূলনীতি। শরীর, ব্যবহার্য জিনিসপত্র, বাসস্থান ও কর্মস্থান পরিষ্কার রেখে এবং আহার গ্রহণসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচ্ছন্নরূপে সম্পাদন করে একজন ব্যক্তি প্রকারান্তরে শরীরে জীবাণু সংক্রমণ রোধ করে শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকিকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে সক্ষম হন। এতে দেহের সুস্থতা ও সবলতা বজায় থাকে। বিভিন্ন গবেষণার ফলাফলও তাই বলছে।

ইন্ডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাসস্থান পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে হৃদরোগবিষয়ক সুস্থতার যোগসূত্র রয়েছে। ইউএস সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেন্শনের মতে পাকঘর পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখার মাধ্যমে দূষিত খাদ্য ও খাদ্যে বিষক্রিয়াজনিত কারণে পরিপাকতন্ত্রের রোগ হওয়ার আশঙ্কা কমানো যায়।

বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের যে উপলব্ধি, তাতে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পরিচ্ছন্নতার প্রভাব সুস্পষ্ট। পরিচ্ছন্নতা মনকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে প্রধানত দৃষ্টিগত নান্দনিকতা সৃষ্টির মাধ্যমে। দৃষ্টিগত নান্দনিকতা মনকে হালকা করে, মানসিক অবসাদ দূর করে এবং মানসিক প্রশান্তি বয়ে আনে। আপনি যখন পরিচ্ছন্ন খাবার খান, তা আপনার পরিতৃপ্তি বাড়িয়ে দেয়। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে কাজ করা যে আরামদায়ক, তাতে দ্বিমত করবে কে? পরিচ্ছন্ন ও জঞ্জালমুক্ত পরিবেশে বসবাস যে স্বস্তিদায়ক এবং পরিচ্ছন্ন শোয়ার ঘরের ঘুম যে প্রশান্তিময়, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

আবার যেহেতু শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঘনিষ্ঠভাবে একে ওপরের নির্ভরশীল, পরিচ্ছন্নতার কারণে শারীরিক স্বাস্থ্যের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পরোক্ষ প্রভাব সৃষ্টি হয়। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পরিচ্ছন্নতার প্রভাব নিয়েও অনেক গবেষণা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস এঞ্জেলেসের একদল গবেষক ২০০৯ সালে মায়েদের ওপর এক গবেষণা পরিচালনা করে যে ফলাফল পান তাতে দেখা যায়, যেসব মায়ের বাসস্থান অগোছাল তারা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে ভোগেন।

প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ২০১১ সালের এক গবেষণায় দেখান- পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মনোযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যক্তির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে। সেইন্ট লরেন্স ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, শোয়ার ঘরের নোংরা পরিবেশ তাৎপর্যপূর্ণভাবে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে যে কেবল ব্যক্তি উপকৃত হয় তা নয়; এর রয়েছে ব্যাপক বাহ্যিক উপকারী প্রভাব। অর্থাৎ পরিচ্ছন্নতা উদ্ভূত উপকার ব্যক্তির সীমানা ছাড়িয়ে বিভিন্ন উপায়ে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিস্তৃতি লাভ করে। যেমন- একজন পরিচ্ছন্নতা চর্চাকারী যেহেতু নিজে জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা কম, তার মাধ্যমে সমাজে সংক্রমণ ছড়ানোর শঙ্কাও কম। এতে করে সমাজ একজন অপরিচ্ছন্ন ব্যক্তির চেয়ে একজন পরিচ্ছন্ন ব্যক্তির কাছে অধিকতর নিরাপদ। একজন পরিচ্ছন্ন মানুষের সংস্পর্শে যারা আসেন, তারাও পরিচ্ছন্নতার সুবাসে সুবাসিত হন; এতে কোনো সন্দেহ নেই।

বিষয়টির সহজ উপলব্ধির জন্য কল্পনা করুন- আপনি এমন একজনের সংস্পর্শে এলেন, যিনি নিয়মিত পরিধেয় বস্ত্র পরিষ্কার করেন না। ফলে দুর্গন্ধে তার কাছে ঘেঁষতে পারছেন না। নিশ্চয়ই ব্যাপারটি আপনার জন্য অনেক বিরক্তি ও অসন্তোষের কারণ হবে। আবার একটি অপরিচ্ছন্ন, অগোছাল ও পূতিগন্ধময় পরিবেশ তার সান্নিধ্যে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরক্তি ছড়ায়; যেখানে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি পরিবেশ এনে দেয় অনাবিল প্রশান্তি। তার মানে, একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ তার চারপাশকে পরিষ্কার রেখে সমাজকে যন্ত্রণামুক্ত রাখতে সাহায্য করেন এবং সামাজিক প্রশান্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখেন। এককথায়, ব্যক্তির পরিচ্ছন্নতা বিভিন্নভাবে সমাজের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে।

পরিচ্ছন্নতার মানদণ্ডে জাতি হিসেবে আমাদের অবস্থান কোথায়, সেটা একটু যাচাই করে দেখা যাক। এ প্রবন্ধে যে অর্থে পরিচ্ছন্নতা শব্দটির ব্যবহৃত হচ্ছে, সে অর্থে সরাসরি পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত কোনো সূচক নেই। তবে কিছু সূচকে রয়েছে, যেগুলো পরোক্ষভাবে পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনা অ্যাট চ্যাপেল হিলের ওয়াটার ইন্সটিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত WASH (Water, sanitation and hygiene) performance index অনুযায়ী, ২০১৫ সালের র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৫০। ১১৭ দেশের মধ্যে হওয়া এ র‌্যাংকিংয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে মালদ্বীপ (৪), পাকিস্তান (২৯) ও ভুটান (৩৪)।

ইয়েল ইউনিভার্সিটি কর্তৃক প্রকাশিত Environmental performance index অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ১৮০ দেশের মধ্যে হওয়া র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৯। সার্কভুক্ত সব দেশ র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। এছাড়া দেশের কত শতাংশ মানুষ কমপক্ষে মৌলিক স্যানিটেশন সেবা ব্যবহার করে, সে বিষয়ে তথ্য রয়েছে বিশ্বব্যাংকের তথ্যভাণ্ডার World Development Indicators (WDI)-এ। ২০১৭ সালের ওই তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৪৮.৩ শতাংশ মানুষ কমপক্ষে মৌলিক স্যানিটেশন সেবা ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে ভুটান (৬৯.২৫), নেপাল (৬২.০৫), পাকিস্তান (৫৯.৮৭) এবং ভারত (৫৯.৫৪)।

উল্লিখিত সূচকগুলোয় বাংলাদেশের অবস্থান যে খুব সুবিধাজনক নয়, তা স্পষ্ট। আপেক্ষিক অবস্থান বোঝার জন্য সার্কভুক্ত দেশগুলোর চিত্রও বিবেচনায় আনা হয়েছে। এখানে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল- নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের চেয়ে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকা, যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। বাংলাদেশের এ পিছিয়ে থাকার বিষয়টি আমাদের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা থেকেও প্রতীয়মান হয়। আমাদের জনজীবনের ব্যক্তিক ও সামষ্টিক উভয় স্তরে অপরিচ্ছন্নতার ছাপ স্পষ্ট।

আমরা থুতু ফেলি যত্রতত্র। হাঁচি দেই নাকে কোনো কিছু না দিয়ে। যেখানে-সেখানে নির্বিচারে ময়লা ফেলি। বাদামের খোসা, চিপসের প্যাকেট, কলার চামড়াসহ উচ্ছিষ্ট অনেক কিছু অবলীলায় রাস্তায় কিংবা পাশের ড্রেনে ফেলি। খালের পাশে যেসব আবাসিক ভবন আছে, সেখানে অনেক বাসিন্দা ময়লা পরিষ্কারের খরচ বাঁচাতে ঘরের যাবতীয় আবর্জনা জানালা দিয়ে স্ট্রেইট খালে ফেলে দেন বলেও কথিত আছে। অনেক হোটেলকে দেখেছি, ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য পার্শ্ববর্তী ম্যানহোল ব্যবহার করছে। এসব কারণে পরিবেশ দূষিত হয়। রোগ-জীবাণুর বিস্তার ঘটে। রাস্তা অপরিচ্ছন্ন হয়, দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বন্যার প্রকোপ দেখা দেয়।

এদেশের হোটেলগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বেশির ভাগ হোটেলে শেফ এবং খাবার পরিবেশনকারী কর্মীদের পোশাক এবং কর্মপ্রক্রিয়া স্বাস্থ্যসম্মত নয়। শেফরা রান্না করেন মাস্ক এবং হেডকভার ব্যবহার না করেই। পরিবেশন কর্মীদেরও একই অবস্থা। মাস্ক নেই, হেডকভার নেই। খাদ্য পরিবেশনে ব্যবহার করা হয় খোলা হাত। টেবিল মোছা হয় ময়লা ‘ন্যাকড়া’ দিয়ে। একই প্লেট বারবার তোয়ালে দিয়ে মুছে খাবার পরিবেশন করা হয়।

যে তোয়ালে দিয়ে প্লেট মোছা হয়, তা সর্বশেষ কবে যে ধোয়া হয়েছে; তা বলা কঠিন। আবার যে হাত দিয়ে এসব তোয়ালে ধরা হয়, সেই হাত দিয়ে খাবারও ধরা হয়। কোনো গ্রাহকের রেখে যাওয়া খাবার আবার অনায়াসে অন্য গ্রাহকের পাতে তুলে দেয়া হয়। তাছাড়া খাবার রাখা হয় ঢাকনা দেয়া ছাড়া। এতে খাবারে মাছি বসে। খাবারে তেলাপোকা ও টিকটিকি পাওয়ার ঘটনাও অহরহ ঘটে থাকে। এসব কারণে যারা হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভরশীল এবং যারা শখের বশে হোটেলে খান, তারা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন।

এদিকে সরকারি হাসপাতালগুলোর অবস্থা তথৈবচ। যেখানে-সেখানে বর্জ্য পড়ে থাকার যে চিত্র সরকারি হাসপাতালগুলোয় দেখা যায়, তা অনভিপ্রেত। সরকারি হাসপাতালগুলোর শৌচাগারে যাওয়ার অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তারা জানেন এগুলো কী পরিমাণ অপরিচ্ছন্ন ও পূতিগন্ধময়। করিডরগুলোয় থুতু ও কফ পড়ে থাকার দৃশ্য একেবারে স্বাভাবিক। দু-একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অবস্থাও আশানুরূপ নয়। যেখানে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনের অনন্য নজির স্থাপন করার কথা ছিল এ হাসপাতালগুলোর, সেখানে এরকম করুণ চিত্র নিঃসন্দেহে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বলা হয়ে থাকে, যেখানে অসুস্থ মানুষ হাসপাতালে গিয়ে সুস্থ হয়ে ফেরার কথা; সেখানে আমাদের হাসপাতালগুলোয় সুস্থ মানুষ গিয়ে অসুস্থ হওয়ার উপক্রম হয়।

এ দেশে পরিচ্ছন্নতার যে বেহাল দশা তুলে ধরা হল, তা শুধু হোটেল বা হাসপাতালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সমাজের প্রতিটি পরতেই একই অবস্থা বিরাজমান। একটি উন্নত ও রুচিশীল জাতি হিসেবে নিজেদের বিশ্বের দরবারে পরিচিত করাতে হলে যে জিনিসগুলো প্রয়োজন তার অন্যতম হল পরিচ্ছন্নতার মানদণ্ডে এগিয়ে থাকা। তাই সমাজের সর্বত্র বিদ্যমান অপরিচ্ছন্নতার যে চর্চা, তা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

সৃষ্টি করতে হবে ব্যাপক জনসচেতনতা। প্রয়োজনে পাঠ্যপুস্তকে পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করে প্রাথমিক স্তরের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিশেষ কোর্স চালু করা যেতে পারে। যেসব দেশ পরিচ্ছন্নতার মানদণ্ডে এগিয়ে আছে, বিশেষজ্ঞ গবেষকদের মাধ্যমে তাদের কেস স্টাডি করা প্রয়োজন। তারা কীভাবে এ পর্যায়ে এলো, কেস স্টাডির মাধ্যমে তা চিহ্নিত করে সেগুলো আমাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগের চেষ্টা করতে হবে। এছাড়া সরকারের পাশাপাশি এনজিও, সামাজিক সংগঠন, সুশীলসমাজ ও ধর্মীয় নেতাদেরও এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

ড. মো. আলাউদ্দিন মজুমদার : অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

aldn786@yahoo.com

পরিচ্ছন্নতার মানদণ্ডে আমাদের অবস্থান কোথায়

 ড. মো. আলাউদ্দিন মজুমদার 
২৫ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা সাধারণত ময়লা, আবর্জনা, বর্জ্য ও জীবাণু থেকে মুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে চাই। এরকম একটি নির্মল পরিবেশ সৃষ্টি এবং তা বজায় রাখা তখনই সম্ভব, যখন আমরা পরিচ্ছন্ন থাকব।

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে- ‘Cleanliness is next to odliness।’ অর্থাৎ ধার্মিকতার পরেই পরিচ্ছন্নতা। সুইস ইতিহাসবিদ জ্যাকব বারখার্ড তার ১৮০৬ সালে প্রকাশিত The Civilization of the Renaissance in Italy গ্রন্থে বলেন, ‘Cleanliness is indispensable to our modern notion of social perfection।’ অর্থাৎ সামাজিক উৎকর্ষের আধুনিক ধারণায় পরিচ্ছন্নতা একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। বিভিন্ন ধর্মেও কিন্তু পরিচ্ছন্নতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে সূরা তওবার ১০৮নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘... এবং আল্লাহ পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র মানুষকে ভালোবাসেন।’

সূরা আল মুদ্দাস্সিরের ৪-৫নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘(হে মুহাম্মাদ) তোমার পোশাক-আশাক পবিত্র কর এবং মলিনতা ও অপবিত্রতা পরিহার কর।’ ইসলামে পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে ক্ষেত্রবিশেষ অজু ও গোসলকে ফরজ (অত্যাবশ্যকীয়) করা হয়েছে। হিন্দুদের ধর্মীয় গ্রন্থ ভগবত গীতায় পরিচ্ছন্নতাকে একটি অন্যতম গুণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। খ্রিস্টানদের বাইবেল ও অন্য ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থেও পরিচ্ছন্নতার ওপর অনুরূপ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতার রয়েছে অসংখ্য উপকারিতা। ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর রয়েছে এর ব্যাপক প্রভাব। বলা হয়ে থাকে, পরিচ্ছন্নতা স্বাস্থ্যবিধি চর্চার প্রথম মূলনীতি। শরীর, ব্যবহার্য জিনিসপত্র, বাসস্থান ও কর্মস্থান পরিষ্কার রেখে এবং আহার গ্রহণসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচ্ছন্নরূপে সম্পাদন করে একজন ব্যক্তি প্রকারান্তরে শরীরে জীবাণু সংক্রমণ রোধ করে শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকিকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে সক্ষম হন। এতে দেহের সুস্থতা ও সবলতা বজায় থাকে। বিভিন্ন গবেষণার ফলাফলও তাই বলছে।

ইন্ডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাসস্থান পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে হৃদরোগবিষয়ক সুস্থতার যোগসূত্র রয়েছে। ইউএস সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেন্শনের মতে পাকঘর পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখার মাধ্যমে দূষিত খাদ্য ও খাদ্যে বিষক্রিয়াজনিত কারণে পরিপাকতন্ত্রের রোগ হওয়ার আশঙ্কা কমানো যায়।

বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের যে উপলব্ধি, তাতে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পরিচ্ছন্নতার প্রভাব সুস্পষ্ট। পরিচ্ছন্নতা মনকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে প্রধানত দৃষ্টিগত নান্দনিকতা সৃষ্টির মাধ্যমে। দৃষ্টিগত নান্দনিকতা মনকে হালকা করে, মানসিক অবসাদ দূর করে এবং মানসিক প্রশান্তি বয়ে আনে। আপনি যখন পরিচ্ছন্ন খাবার খান, তা আপনার পরিতৃপ্তি বাড়িয়ে দেয়। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে কাজ করা যে আরামদায়ক, তাতে দ্বিমত করবে কে? পরিচ্ছন্ন ও জঞ্জালমুক্ত পরিবেশে বসবাস যে স্বস্তিদায়ক এবং পরিচ্ছন্ন শোয়ার ঘরের ঘুম যে প্রশান্তিময়, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

আবার যেহেতু শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঘনিষ্ঠভাবে একে ওপরের নির্ভরশীল, পরিচ্ছন্নতার কারণে শারীরিক স্বাস্থ্যের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পরোক্ষ প্রভাব সৃষ্টি হয়। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পরিচ্ছন্নতার প্রভাব নিয়েও অনেক গবেষণা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস এঞ্জেলেসের একদল গবেষক ২০০৯ সালে মায়েদের ওপর এক গবেষণা পরিচালনা করে যে ফলাফল পান তাতে দেখা যায়, যেসব মায়ের বাসস্থান অগোছাল তারা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে ভোগেন।

প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ২০১১ সালের এক গবেষণায় দেখান- পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মনোযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যক্তির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে। সেইন্ট লরেন্স ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, শোয়ার ঘরের নোংরা পরিবেশ তাৎপর্যপূর্ণভাবে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে যে কেবল ব্যক্তি উপকৃত হয় তা নয়; এর রয়েছে ব্যাপক বাহ্যিক উপকারী প্রভাব। অর্থাৎ পরিচ্ছন্নতা উদ্ভূত উপকার ব্যক্তির সীমানা ছাড়িয়ে বিভিন্ন উপায়ে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিস্তৃতি লাভ করে। যেমন- একজন পরিচ্ছন্নতা চর্চাকারী যেহেতু নিজে জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা কম, তার মাধ্যমে সমাজে সংক্রমণ ছড়ানোর শঙ্কাও কম। এতে করে সমাজ একজন অপরিচ্ছন্ন ব্যক্তির চেয়ে একজন পরিচ্ছন্ন ব্যক্তির কাছে অধিকতর নিরাপদ। একজন পরিচ্ছন্ন মানুষের সংস্পর্শে যারা আসেন, তারাও পরিচ্ছন্নতার সুবাসে সুবাসিত হন; এতে কোনো সন্দেহ নেই।

বিষয়টির সহজ উপলব্ধির জন্য কল্পনা করুন- আপনি এমন একজনের সংস্পর্শে এলেন, যিনি নিয়মিত পরিধেয় বস্ত্র পরিষ্কার করেন না। ফলে দুর্গন্ধে তার কাছে ঘেঁষতে পারছেন না। নিশ্চয়ই ব্যাপারটি আপনার জন্য অনেক বিরক্তি ও অসন্তোষের কারণ হবে। আবার একটি অপরিচ্ছন্ন, অগোছাল ও পূতিগন্ধময় পরিবেশ তার সান্নিধ্যে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরক্তি ছড়ায়; যেখানে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি পরিবেশ এনে দেয় অনাবিল প্রশান্তি। তার মানে, একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ তার চারপাশকে পরিষ্কার রেখে সমাজকে যন্ত্রণামুক্ত রাখতে সাহায্য করেন এবং সামাজিক প্রশান্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখেন। এককথায়, ব্যক্তির পরিচ্ছন্নতা বিভিন্নভাবে সমাজের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে।

পরিচ্ছন্নতার মানদণ্ডে জাতি হিসেবে আমাদের অবস্থান কোথায়, সেটা একটু যাচাই করে দেখা যাক। এ প্রবন্ধে যে অর্থে পরিচ্ছন্নতা শব্দটির ব্যবহৃত হচ্ছে, সে অর্থে সরাসরি পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত কোনো সূচক নেই। তবে কিছু সূচকে রয়েছে, যেগুলো পরোক্ষভাবে পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনা অ্যাট চ্যাপেল হিলের ওয়াটার ইন্সটিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত WASH (Water, sanitation and hygiene) performance index অনুযায়ী, ২০১৫ সালের র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৫০। ১১৭ দেশের মধ্যে হওয়া এ র‌্যাংকিংয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে মালদ্বীপ (৪), পাকিস্তান (২৯) ও ভুটান (৩৪)।

ইয়েল ইউনিভার্সিটি কর্তৃক প্রকাশিত Environmental performance index অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ১৮০ দেশের মধ্যে হওয়া র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৯। সার্কভুক্ত সব দেশ র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। এছাড়া দেশের কত শতাংশ মানুষ কমপক্ষে মৌলিক স্যানিটেশন সেবা ব্যবহার করে, সে বিষয়ে তথ্য রয়েছে বিশ্বব্যাংকের তথ্যভাণ্ডার World Development Indicators (WDI)-এ। ২০১৭ সালের ওই তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৪৮.৩ শতাংশ মানুষ কমপক্ষে মৌলিক স্যানিটেশন সেবা ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে ভুটান (৬৯.২৫), নেপাল (৬২.০৫), পাকিস্তান (৫৯.৮৭) এবং ভারত (৫৯.৫৪)।

উল্লিখিত সূচকগুলোয় বাংলাদেশের অবস্থান যে খুব সুবিধাজনক নয়, তা স্পষ্ট। আপেক্ষিক অবস্থান বোঝার জন্য সার্কভুক্ত দেশগুলোর চিত্রও বিবেচনায় আনা হয়েছে। এখানে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল- নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের চেয়ে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকা, যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। বাংলাদেশের এ পিছিয়ে থাকার বিষয়টি আমাদের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা থেকেও প্রতীয়মান হয়। আমাদের জনজীবনের ব্যক্তিক ও সামষ্টিক উভয় স্তরে অপরিচ্ছন্নতার ছাপ স্পষ্ট।

আমরা থুতু ফেলি যত্রতত্র। হাঁচি দেই নাকে কোনো কিছু না দিয়ে। যেখানে-সেখানে নির্বিচারে ময়লা ফেলি। বাদামের খোসা, চিপসের প্যাকেট, কলার চামড়াসহ উচ্ছিষ্ট অনেক কিছু অবলীলায় রাস্তায় কিংবা পাশের ড্রেনে ফেলি। খালের পাশে যেসব আবাসিক ভবন আছে, সেখানে অনেক বাসিন্দা ময়লা পরিষ্কারের খরচ বাঁচাতে ঘরের যাবতীয় আবর্জনা জানালা দিয়ে স্ট্রেইট খালে ফেলে দেন বলেও কথিত আছে। অনেক হোটেলকে দেখেছি, ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য পার্শ্ববর্তী ম্যানহোল ব্যবহার করছে। এসব কারণে পরিবেশ দূষিত হয়। রোগ-জীবাণুর বিস্তার ঘটে। রাস্তা অপরিচ্ছন্ন হয়, দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বন্যার প্রকোপ দেখা দেয়।

এদেশের হোটেলগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বেশির ভাগ হোটেলে শেফ এবং খাবার পরিবেশনকারী কর্মীদের পোশাক এবং কর্মপ্রক্রিয়া স্বাস্থ্যসম্মত নয়। শেফরা রান্না করেন মাস্ক এবং হেডকভার ব্যবহার না করেই। পরিবেশন কর্মীদেরও একই অবস্থা। মাস্ক নেই, হেডকভার নেই। খাদ্য পরিবেশনে ব্যবহার করা হয় খোলা হাত। টেবিল মোছা হয় ময়লা ‘ন্যাকড়া’ দিয়ে। একই প্লেট বারবার তোয়ালে দিয়ে মুছে খাবার পরিবেশন করা হয়।

যে তোয়ালে দিয়ে প্লেট মোছা হয়, তা সর্বশেষ কবে যে ধোয়া হয়েছে; তা বলা কঠিন। আবার যে হাত দিয়ে এসব তোয়ালে ধরা হয়, সেই হাত দিয়ে খাবারও ধরা হয়। কোনো গ্রাহকের রেখে যাওয়া খাবার আবার অনায়াসে অন্য গ্রাহকের পাতে তুলে দেয়া হয়। তাছাড়া খাবার রাখা হয় ঢাকনা দেয়া ছাড়া। এতে খাবারে মাছি বসে। খাবারে তেলাপোকা ও টিকটিকি পাওয়ার ঘটনাও অহরহ ঘটে থাকে। এসব কারণে যারা হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভরশীল এবং যারা শখের বশে হোটেলে খান, তারা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন।

এদিকে সরকারি হাসপাতালগুলোর অবস্থা তথৈবচ। যেখানে-সেখানে বর্জ্য পড়ে থাকার যে চিত্র সরকারি হাসপাতালগুলোয় দেখা যায়, তা অনভিপ্রেত। সরকারি হাসপাতালগুলোর শৌচাগারে যাওয়ার অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তারা জানেন এগুলো কী পরিমাণ অপরিচ্ছন্ন ও পূতিগন্ধময়। করিডরগুলোয় থুতু ও কফ পড়ে থাকার দৃশ্য একেবারে স্বাভাবিক। দু-একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অবস্থাও আশানুরূপ নয়। যেখানে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনের অনন্য নজির স্থাপন করার কথা ছিল এ হাসপাতালগুলোর, সেখানে এরকম করুণ চিত্র নিঃসন্দেহে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বলা হয়ে থাকে, যেখানে অসুস্থ মানুষ হাসপাতালে গিয়ে সুস্থ হয়ে ফেরার কথা; সেখানে আমাদের হাসপাতালগুলোয় সুস্থ মানুষ গিয়ে অসুস্থ হওয়ার উপক্রম হয়।

এ দেশে পরিচ্ছন্নতার যে বেহাল দশা তুলে ধরা হল, তা শুধু হোটেল বা হাসপাতালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সমাজের প্রতিটি পরতেই একই অবস্থা বিরাজমান। একটি উন্নত ও রুচিশীল জাতি হিসেবে নিজেদের বিশ্বের দরবারে পরিচিত করাতে হলে যে জিনিসগুলো প্রয়োজন তার অন্যতম হল পরিচ্ছন্নতার মানদণ্ডে এগিয়ে থাকা। তাই সমাজের সর্বত্র বিদ্যমান অপরিচ্ছন্নতার যে চর্চা, তা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

সৃষ্টি করতে হবে ব্যাপক জনসচেতনতা। প্রয়োজনে পাঠ্যপুস্তকে পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করে প্রাথমিক স্তরের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিশেষ কোর্স চালু করা যেতে পারে। যেসব দেশ পরিচ্ছন্নতার মানদণ্ডে এগিয়ে আছে, বিশেষজ্ঞ গবেষকদের মাধ্যমে তাদের কেস স্টাডি করা প্রয়োজন। তারা কীভাবে এ পর্যায়ে এলো, কেস স্টাডির মাধ্যমে তা চিহ্নিত করে সেগুলো আমাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগের চেষ্টা করতে হবে। এছাড়া সরকারের পাশাপাশি এনজিও, সামাজিক সংগঠন, সুশীলসমাজ ও ধর্মীয় নেতাদেরও এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

ড. মো. আলাউদ্দিন মজুমদার : অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

aldn786@yahoo.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন