গবাদি পশুর বিপণন ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি কতটা?

  ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও ড. ইসমত আরা বেগম ০৯ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আর কয়েক সপ্তাহ পর ঈদুল আজহা। গরু, মহিষ, ছাগল জবাই করে আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রার্থনা করার দিন। বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে, ২০১৯ সালে ঈদুল আজহায় ১ দশমিক ০৫ কোটি গবাদি পশু জবাই করাসহ ঈদুল আজহার অর্থনীতি ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার ওপর।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মতে, কেবল গবাদি পশু বিক্রি হয়েছিল ২৮ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকার। পিআরআইয়ের তথ্যমতে, ২০১৯ সালের ঈদুল আজহার অর্থনীতির আকার ছিল ৪৫ হাজার কোটি টাকা; যার মধ্যে গবাদি পশু বিক্রি থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা আর বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা ছিল পরিবহন, পর্যটন, খাদ্যদ্রব্য, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, আসবাবপত্র, মসলা ও কাপড়-চোপড় বিক্রি থেকে।

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে অর্থনীতি হয় ব্যাপক চাঙ্গা। ঈদুল আজহায় মুসলিম উম্মাহের ত্যাগের আত্মতুষ্টি যেমন জড়িত, তেমনিভাবে জড়িত আছে লাখ লাখ খামারির বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ এবং তাদের জীবিকা নির্বাহের প্রশ্ন।

গবাদি পশু বিক্রয়ের পাশাপাশি জবাইয়ের জন্য যন্ত্রপাতি, মসলা, রেফ্রিজারেটর, চামড়া ইত্যাদি বাজারে অর্থপ্রবাহ তৈরি করে। খামারিদের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন বাজার কুশীলব, পরিবহন, বাজার ইজারা, খাজনা, জবাইয়ের জন্য কসাইসহ অদৃশ্য আরও কিছু অংশীদার জড়িত।

চামড়া বা চামড়াজাত পণ্য প্রাণিসম্পদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপপণ্য, যা সংগ্রহ হয়ে থাকে এ ঈদে। করোনাকালীন এ ঈদুল আজহায় কীভাবে হবে গবাদি পশুর বিপণন, জবাই ও কোরবানির মাংস বিতরণ, তা বড় জিজ্ঞাসা সবার কাছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাব মতে, এবার কোরবানির জন্য তৈরি প্রাণীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ। তাদের মতে, করোনাকালীন গত কয়েক মাসে অবিক্রীত পশুর সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ লাখ, যা বাজারে আসার অপেক্ষায় আছে।

তার সঙ্গে গত বছরের হাটে তোলা অবিক্রীত প্রায় ১০ শতাংশ। এর অর্থ হল চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ অনেক বেশি। বাংলাদেশ মাংস বিক্রেতা সমিতির সূত্র মতে, করোনায় আয় কমে যাওয়ার কারণে গবাদি পশুর চাহিদা প্রায় ৩০ শতাংশ কমবে বলে ধরে নেয়ার পরও পশুর চাহিদা হবে ৮০ লাখের ওপর। সাধারণত অন্য বছর এ সংখ্যাটি হয়ে থাকে ১ দশমিক ১৫ কোটি থেকে ১ দশমিক ২০ কোটির মতো।

নীতিনির্ধারকসহ সব অংশীদারের জন্য বড় এক কঠিন সময় এখন। একদিকে মুসলিম উম্মাহের ত্যাগের আত্মতুষ্টি, অন্যদিকে উদ্যোক্তা ও খামারিদের বিনিয়োগ এবং করোনা সংক্রমিত হওয়ার ভয়। পত্রপত্রিকা, সামাজিক মাধ্যমে অনেকে অনেক মতামত দিলেও আর্থসামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মতামত হতে হবে বাস্তবসম্মত।

কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গবাদি পশুর বাজার বসানো, কোরবানি দেয়া ও মাংস বিতরণ করা যায়, তা নিয়ে ২৫ জুন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভা হলেও তার চূড়ান্ত গাইডলাইন এখনও তৈরি করা হয়নি। ৯ জুলাই পুনরায় সভা করে তা চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে আমাদের ভাবনাগুলো হল- ১. অঞ্চলভিত্তিক গবাদি পশু বেচাকেনা ব্যবস্থাপনা : গত কয়েক বছরের হিসাব মতে, সরকার দেশব্যাপী প্রায় ১ হাজার ৩শ’ গবাদি পশুর বাজারের ইজারার অনুমোদন দিলেও তার বাইরে রাস্তার পাশের বাজার মিলে মোট বাজার সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল প্রায় ২ হাজার।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে করোনার সংক্রমণ কোন এলাকায় কেমন তা জানা আছে- যার ওপর ভিত্তি করে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করা হয়েছে। সরকার সংক্রমিত জোনের সঙ্গে গবাদি পশুর সরবরাহ ও চাহিদার হিসাব মেলাতে পারে। গত কয়েক বছরে রাজধানী, মহানগর, জেলা, উপজেলায় কত সংখ্যক গবাদি পশু জবাই হয়েছে, তার হিসাব প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কাছে আছে। তাদের হিসাব মতে, ১ কোটি ১০ লাখ গবাদি পশুর স্থানিক বণ্টন জানা আছে।

স্থানিক বণ্টন অনুযায়ী, কেবল উদ্বৃত্ত অঞ্চলের গবাদি পশু ঘাটতি অঞ্চলে প্রেরণ করা যেতে পারে। যেসব এলাকায় সংক্রমিত বেশি সেসব এলাকার অস্থায়ী বাজারে কেনাবেচা সীমিত করা যেতে পারে। অঞ্চলভিত্তিক বেচাকেনা করা, যাতে করে কোভিড-১৯ সংক্রমণ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হাতে এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করবে।

২. কোরবানি ঈদের সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতির যোগসূত্র অনেক বেশি। আমাদের দেশের চামড়া ও পাদুকা শিল্প কোরবানির চামড়ার ওপর নির্ভরশীল। তাই এ খাতকে বাঁচাতে হলে আমাদের চাহিদা যাতে না কমে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। তাই অঞ্চলভিত্তিক অস্থায়ী বাজারে বিক্রির পাশাপাশি যত বেশি সংখ্যক বেচাকেনা অনলাইনে করা যায় তার জন্য অনলাইনে পশুর হাট ও তার ব্যবস্থাপনায় জোর দিতে হবে।

কয়েক বছর ধরেই অনলাইন প্ল্যাটফরম যেমন ই-ক্যাব, কোরবানি ডটকম বেঙ্গলমিট ডটকম, ডারাজ ডটকম, শুদ্ধ কৃষি, সেবা ডটএক্সওয়াইজেড, বিক্রয় ডটকম, খামার-ই লিমিটেড, গ্রামীণ ফ্রেন্ডস ইত্যাদি অনলাইনে গবাদি পশু বেচাকেনা করে আসছে। যেখানে গবাদি পশুর চাহিদার পরিমাণ প্রায় কোটির কাছাকাছি, সেক্ষেত্রে রাতারাতি অনলাইনে বিক্রির পরিমাণ বাড়িয়ে শতভাগ করা যাবে না। তাই অনলাইনে কেনাবেচাকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার পাশাপাশি অস্থায়ী বাজারও চালু থাকতে পারে।

অনলাইনে বেচাকেনাকে সর্বোচ্চ করার ক্ষেত্রে তথ্য মন্ত্রণালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের মাধ্যমে গঠিত ‘ফুড ফর নেশনের’ মতো প্ল্যাটফরম খুবই সাহায্যকারী হবে। সরাসরি বেচাকেনার মতোই ক্রেতা-বিক্রেতা গবাদি পশুর কেনাবেচার জন্য অনলাইনে মিলিত হবেন।

তারা গরুর আকার, বয়স, ওজন, দাঁত, রং ও দাম নির্ধারণ করবে। তারপর বিক্রেতা গরুকে ক্রেতার জায়গায় পৌঁছে দিয়ে পশুর বিনিময় মূল্য ডেবিট, ক্রেডিট কার্ডে বা সরাসরি গ্রহণ করবে কিংবা অন্যান্য লেনদেন প্ল্যাটফরম যেমন- বিকাশ, রকেট ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে।

অনলাইন প্ল্যাটফরমে কেনাবেচা যদি সঠিক গাইডলাইন মেনে করা যায়, তার বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়। অনলাইনে কেনাবেচাকে সহজতর ও ক্রেতা-বিক্রেতাবান্ধব করার জন্য বিনামূলে পশুর কানে ট্যাগ লাগানো, ওজন মাপার ফিতা, ভেটেরিয়ানদের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সনদ ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে প্রাণী স্থানান্তরের সময় কোনো ধরনের হয়রানিতে পড়তে যাতে না হয়, সেসব বিষয়ে সরকার আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিদ্যমান অবকাঠামো ও জনসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইন কেনাবেচাকে একটি পর্যায়ে নিয়ে নিতে পারে।

- সক্রিয় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে অনলাইন কেনাবেচায় ব্যবহার করতে পারে। ক্রেতা-বিক্রেতা সেন্টারগুলোর মাধ্যমে সংযুক্ত হবে। কলাকৌশল ব্যবহারের দক্ষতার পাশাপাশি যাতে ক্রেতা-বিক্রেতা নিরাপদে কোনো ধরনের ঝুঁকি ব্যতীত অনলাইনে লেনদেন করতে পারে, সে ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিতে পারে।

থ্রিজি নেটওয়ার্কের কভারেজ দেশজুড়ে থাকলেও রাজধানী ও বিভাগীয় শহরে গতি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। লোকজনের অনলাইন প্ল্যাটফরম, সামাজিক মিডিয়া যেমন- ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদির ব্যবহারসহ অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতির ব্যবহার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। যেহেতু রাজধানী ও বড় বিভাগীয় মহানগরীতে করোনা সংক্রমণ হার বেশি, তাই এসব মহানগরীতে অনলাইনভিত্তিক কেনাবেচা বাস্তবিকভাবে সম্ভব।

৩. অনলাইন প্ল্যাটফরমে কেনাবেচাকে উৎসাহিত করার জন্য সরকারের ঘোষিত উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে জরুরি ভিত্তিতে এ কাজে দক্ষ বেকার যুবকদের ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কয়েক মাস ধরে সামাজিক উৎসব, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি পুরোপুরি চালু না থাকায় গবাদি পশুর সরবরাহ বেশি। ফলে দাম পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও ব্যাপক।

এ ব্যবস্থায় অনলাইনভিত্তিক বিক্রয় বাড়ানো গেলে চাহিদা ধরে রাখা সম্ভব। অনেক পরিবার আছে যারা একাধিক পশু কিনে কোরবানি দিয়ে আত্মীয়স্বজন ও গরিবদের মাঝে বিলি করে থাকে। তারা করোনাকালীন পশু কিনে জবাই করে বিতরণ করতে গিয়ে করোনা সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে চাহিদা সীমিত করে দিতে পারে। ফলে ওই শ্রেণির ক্রেতাদের অনলাইন প্ল্যাটফরমে কেনাবেচা ও জবাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করতে পারলে তাদের চাহিদা ধরে রাখা যাবে।

৪. স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্পসংখ্যক অস্থায়ী বাজার চালু রাখা : বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় বড় একটি প্রশ্ন কতজন ক্রেতা বা বিক্রেতার কলাকৌশল তথা অনলাইন প্ল্যাটফরম ব্যবহারের মতো জ্ঞান বা দক্ষতা আছে, সে বিবেচনায় স্বল্পসংখ্যক অস্থায়ী বাজার চালু থাকতে পারে।

স্বাস্থ্যবিধি যেমন- সামাজিক দূরত্ব (৫ ফুট) বজায় রাখা, বাধ্যতামূলকভাবে মাক্স ব্যবহার, পর্যাপ্ত হাত ধৌতকরণ ইত্যাদির বাস্তবায়ন করতে হবে কঠোরভাবে। অস্থায়ী বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় কীভাবে সামলানো হবে, ঢোকা ও বের হওয়ার পথ ভিন্ন হবে কি না, ইজারাদার কতজন বাজারে থাকতে পারবে, তাপমাত্রার মাপার কী ব্যবস্থা, গরুকে কত দূরে দূরে রাখতে হবে, ক্রেতা কত দূরত্ব থেকে গরু দেখবে, কোনো রোগাক্রান্ত গরুকে বাজারে আসতে না দেয়া, দূরদূরান্ত থেকে খামারিরা কীভাবে আসবে, একটি বাজারে সর্বোচ্চ কতটি পশু থাকবে, কীভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হবে- এ ব্যাপারে ভেটেরিনারি ডাক্তারদের সহযোগিতা সহকারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পাশাপাশি তার বাস্তবায়ন হতে হবে শক্তভাবে।

৫. জবাই ও মাংস বিতরণ প্রক্রিয়ায় সমন্বয় বৃদ্ধিকরণ : গবাদি পশু কেনা, বাড়িতে নিয়ে এসে ঈদের দিন জবাই করা ও মাংস বিতরণ করা- প্রধানত তিনটি কাজ। গরু জবাইয়ের সময় বেশ কয়েকজন লোক প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে কমিউনিটি পর্যায়ে যাদের অসুস্থতার বাহ্যিক কোনো লক্ষণ নেই তারাই কেবল পর্যায়ক্রমিকভাবে জবাইয়ের কাজে সহায়তা করবে। কসাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে জবাই ও মাংস কাটার ব্যবস্থা করবে।

সব জায়গায় হয়তো পর্যাপ্ত সংখ্যক কসাই না-ও পাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কেবল সুস্থ কয়েকজন ব্যক্তি মিলে মাংস কাটার কাজ করবে। বাচ্চা ও বয়স্ক লোক মাংস কাটার সময় জড়ো হতে পারবে না। এক্ষেত্রে কমিউনিটি নেতা, মসজিদ-মক্তবের হুজুর সবার উদ্দেশে আহ্বান রাখতে পারেন, যার কথা সবাই শোনেন। কোথায় কীভাবে গরু জবাই করতে হবে, সে বিষয়েও নির্দেশনা থাকতে হবে।

জবাইকৃত পশুর মাংসের এক-তৃতীয়াংশ গরিবদের মাঝে বিলি করা হয়। বিশেষ করে শহরে দেখা যায় গরিব লোকজন মাংস সংগ্রহের জন্য বাসায় বাসায় দলবেঁধে যেতে থাকে। করোনার এ সময়ে একদিকে গরিবের সংখ্যা বৃদ্ধি, অন্যদিকে গবাদি পশুর জবাই প্রত্যাশিতভাবে কম হওয়ার কারণে গরিব লোকদের মাংস সংগ্রহের এ চলাচল বেড়ে যাবে।

এক্ষেত্রে কমিউনিটি নেতা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর সংশ্লিষ্ট এলাকা বা ওয়ার্ডের মাংস এক সঙ্গে সংগ্রহ করে ছোট ছোট দলে প্যাকেট করে কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গায় স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরিবদের মাঝে বিতরণ করতে পারে। গরিবদের তালিকা জানা থাকলে বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দেয়া যেতে পারে। এ কাজটি সুষ্ঠুভাবে করার জন্য স্থানীয় সরকারের পাশাপাশি ধর্ম মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করতে পারে। মসজিদের খতিব যদি এ বিষয়গুলো ঈদের আগের দিন মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেন, তাহলে লোকজন শুনবে।

পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী, সীমান্তরক্ষীদের সজাগ থাকতে হবে যাতে করে কোনো পশু ভারত থেকে চোরাই পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে। ভারতে যেহেতু পুরুষ গরুর চাহিদা কম; ফলে সামান্য দামে বর্ডার দিয়ে গরু ব্যবসা করতে পারলে সেটাই তাদের লাভ।

সর্বোপরি, কোরবানি ঈদ শেষে বিক্রীত-অবিক্রীত গবাদি পশুর খামারিরা যাতে সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ নিয়ে তাদের গবাদি পশু পালন ও ব্যবসা করতে পারে, তার যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে। তার সঙ্গে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে পশুখাদ্যের কাঁচামাল যেমন- সয়াবিন আমদানি শুল্ক ও প্রোটিন কনসেনট্রেটের হ্রাসকৃত আমদানি শুল্কের সুবিধা নিয়ে প্রাণিসম্পদ খাত যাতে টিকে থাকতে পারে, তার জন্য প্রয়োজনীয় সব করতে হবে।

জীবন-জীবিকার এ যুদ্ধে আসুন ত্যাগের মহিমায় সবাই হাতে হাত ধরে ঈদের মতো আনন্দ ও মেলবন্ধনের দিনটি ফিরিয়ে আনি।

ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম : প্রফেসর, কৃষিব্যবসা ও বিপণন বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

ড. ইসমত আরা বেগম : প্রফেসর, কৃষি অর্থনীতি বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত