মিঠে কড়া সংলাপ

আমরা আশরাফুল মাখলুকাত

  ড. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন ৩০ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মহান আল্লাহর সৃষ্ট সর্বশ্রেষ্ঠ জীব হল মানুষ। তিনি তাঁর এ সৃষ্টিকে আশরাফুল মাখলুকাত অর্থাৎ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বলে উল্লেখ করেছেন। আর প্রথম মানব হিসেবে হজরত আদমকে (আ.) সৃষ্টি করে তাঁকে সিজদা করার জন্য ফেরেশতাদের প্রতি আল্লাহর নির্দেশের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় তিনি মানুষকে কতটা উচ্চস্থানে আসীন করেছেন।

অথচ আমরা মানুষ দিনরাত আল্লাহর নাফরমানি করে চলেছি। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তার গুণগান ও ইবাদত-বন্দেগিসহ মানুষের প্রতি মমত্ববোধ, দয়া-মায়া, সহমর্মিতা প্রদর্শন আমাদের ধর্ম হলেও তা না করে আমরা পৃথিবীর মানবসমাজ নিজেদের মধ্যে দিনরাত কলহ, ফ্যাসাদ, বিবাদে লিপ্ত হয়ে পড়েছি। একে অন্যের ক্ষতি করে চলেছি। সমাজে সমাজে, জাতিতে জাতিতে বিবাদ-বিসংবাদ, যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত হয়ে পড়েছি।

অতীতে মানবসমাজকে এসব পাপকর্ম হতে দূরে থেকে সঠিক পথে চলার দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য মহান আল্লাহ পৃথিবীতে সময়ে সময়ে নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন এবং তাঁরা আল্লাহর পথে চালিত হওয়ার জন্য আমাদের সঠিক পথের সন্ধান দিয়ে গেছেন। আল্লাহ প্রেরিত হজরত মুসা (আ.), হজরত ঈসা (আ.), হজরত মুহাম্মদসহ (সা.) সব নবী-রাসূলই আল্লাহর একত্ববাদ এবং সর্বশক্তি অধিকারিত্বের কথা প্রচার ও প্রকাশের মাধ্যমে মানবসমাজকে ভুলপথে পরিচালিত না হতে বলে গেছেন।

কিন্তু তারপরও মানুষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে বিপথগামী হয়েছে। সারা বিশ্বে মানবসমাজ মারামারি-হানাহানিতে লিপ্ত হয়ে একে অপরের প্রাণহানি করেছে, সম্পদ হরণ করেছে। একে অপরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থেকেছে।

আর এভাবে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রসহ সারা পৃথিবীর মানুষের অধিকাংশই মহান আল্লাহর আদেশ-নির্দেশ উপেক্ষা করে নিজেদের ইচ্ছামতো পথ চলেছে এবং চলছে। তারা নিজ নিজ ধর্মের নবী-রাসূলের দেখানো পথ অনুসরণ থেকে বিরত থেকে নিজেদের পাপ-পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত করেছে। অনেকেই আবার হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ইত্যাদিসহ পৃথিবীর কোনো ধর্মকেই নিজেদের জীবনের পথ ও পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করেনি।

অথচ ধর্ম ছাড়া মানুষের জীবন অর্থহীন। একমাত্র ধর্মই মানুষের জীবনকে পূর্ণতা দিতে পারে, ধর্মই মানবজীবনকে পবিত্রতা দান করে, ধর্মই মানবজীবনকে সার্থক করে। বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থে মানবসমাজের আচার-আচরণ ও করণীয় সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে নিজ নিজ ধর্মের অনুসারীদের খাওয়াদাওয়া, চলাফেরা, পোশাক ইত্যাদি সম্পর্কে নিয়মকানুনের উল্লেখ করা আছে।

খ্রিস্টধর্মে যিশুখ্রিস্ট তার অনুসারীদের মানবজীবনে করণীয়-বর্জনীয় সম্পর্কে পবিত্র বাইবেলে সম্যক ধ্যানধারণা, উপদেশ-নির্দেশ প্রদান করেছেন। সর্বোপরি আমাদের শেষ নবী ও রাসূল হজরত মুহাম্মদের (সা.) মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে ইসলাম ধর্মে মানবজীবনের যে বিধানের কথা বলেছেন, সারা পৃথিবীর মানুষের সর্বকালের সব সময়ের জন্য তা একটি পড়সঢ়ষবঃব পড়ফব ড়ভ ষরভব হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

কিন্তু এতৎসত্ত্বেও পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ এসব মেনে চলেন বলে মনে হয় না! বিভিন্ন ব্যক্তি, সমাজ, জাতি, রাষ্ট্রকে এসবে গুরুত্ব না দিয়ে অনেকটা গায়ের জোরে চলতে দেখা যায়। খাদ্য, খাবার, ভোগবিলাস, সামাজিক আচার-আচরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে তারা ধর্মীয় রীতিনীতি, ধর্মীয় অনুশাসনের ধার ধারেন না! যদিও পৃথিবীর সব দেশের সব জাতির মানুষকেই ধর্ম পালন করতে দেখা যায়। দেশে দেশে কিছু ধর্মহীন বা নাস্তিক মানুষ থাকলেও প্রতিটি দেশের অধিকাংশ মানুষই ধর্মের অনুশীলন করে থাকেন।

এ অবস্থায় প্রশ্ন থেকে যায়, ধর্ম পালনকারী ওইসব কোটি কোটি মানুষ তাদের ধর্মীয় নির্দেশগুলো যথাযথভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করেন কি না? কারণ সব ধর্মেই যেখানে নীতি-নৈতিকতাবিবর্জিত কাজ থেকে দূরে থাকার জন্য মানবসমাজকে সাবধান করা হয়েছে, চুরি-ডাকাতিসহ যে কোনো অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করাকে পাপ-পঙ্কিল কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে পৃথিবীজুড়ে বর্তমানে এসব অপকর্ম আরও জোরেশোরে শুরু হয়েছে।

সব ধর্মেই যেখানে মানবসমাজের জীবনাচার সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে জীবনযাপনের তাগিদ দেয়া হয়েছে, সেক্ষেত্রে সেসব নিয়মাচার মেনে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে জীবনযাপন করা হচ্ছে না। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও জাতি সেসব অবজ্ঞা করে নিজেদের ইচ্ছামতো ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে অবৈধ যৌনাচারসহ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। আর এসব করে আমরা মানবসমাজ নিজেরাই যে নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছি তা বলাই বাহুল্য।

কে জানে, বর্তমানের কোভিড-১৯ আমাদেরই তৈরি, আমাদেরই কৃতকর্মের ফল কি না। কারণ, আমরা ধর্মীয় নিয়মাচার বা কোনো শিষ্টাচার না মেনে আমাদের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যা খুশি তা-ই করব, আমোদ-ফুর্তির নামে যা খুশি তা-ই করব, যে কোনো জীবজন্তুর মাংস বা যা খুশি তা-ই খাব; আর প্রকৃতি আমাদের এসব অনিয়ম-অনাচার মেনে নিয়ে আমাদের রোগ-জ্বরা-ব্যাধিমুক্ত রাখার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, এটিও বোধহয় ঠিক নয়।

বরং আহার-বিহার, আমোদ-ফুর্তি, আয়-রোজগার, চলাফেরা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মশৃঙ্খলা, শিষ্টাচার ফিরিয়ে আনাসহ জীবনের সব ক্ষেত্রে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুশীলন করতে পারলে আমাদের জীবনব্যবস্থা, স্বাস্থ্যব্যবস্থায় উন্নতি আসতে বাধ্য।

এখানে এ বিষয়ে চীনের ধর্মীয়, সামাজিক কিছু বিষয় প্রাসঙ্গিক মনে করছি বিধায় তা নিয়ে কিছুটা আলোচনা করা যেতেই পারে। আমি চীন ভ্রমণ করে যা দেখেছি বা বুঝেছি, সেদেশে ধর্ম বলতে যতটুকু আছে, সেক্ষেত্রে এখনও বৌদ্ধ ধর্মেরই প্রাধান্য।

তবে বড় বড় বৌদ্ধমন্দিরে গৌতম বুদ্ধের বিরাট বিরাট মূর্তি শোভা পেলেও তাদের খাওয়াদাওয়াসহ অন্যান্য জীবনাচারে ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটকের কোনো প্রতিফলন নেই। ত্রিপিটকের প্রথম অধ্যায়, বিনয় পিটকে খাওয়াপড়া, চলাফেরাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুন্দর সুন্দর যেসব নিয়মাচারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে সেখানে তা পালিত হয় বলে মনে হয় না। কারণ, বর্তমানে সেখানকার মানুষের ধর্ম-কর্মে তেমন আগ্রহ নেই। জনসংখ্যার অধিকাংশই ধর্মাচার করে না।

ফলে খাওয়াদাওয়া-চলাফেরায় তারা ধর্মীয় মূল্যবোধের ধার ধারেন না। বরং বলা চলে, বাছ-বিচার ছাড়াই তারা যা তা খায়! এসব বিষয়ে তারা পাপ-পুণ্যের বিচার করেন না। অধিকন্তু নাইটক্লাব, বার ইত্যাদিতেও বর্তমানে তারা পাশ্চাত্য জগতকে ছাড়িয়ে গেছেন। এ অবস্থায় সেদেশের মানুষও ভোগবিলাসে বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। সুতরাং তাদের দেশ থেকে বা তাদের মাধ্যমে নতুন কোনো রোগবালাই ছড়াতেই পারে।

এমনকি কোভিড-১৯ ছাড়াও ভবিষ্যতে আরও নতুন কোনো রোগ তাদের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়লেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ তারা যেসব জীবজন্তু আহার্য হিসেবে গ্রহণ করেন, আর যেভাবে তা করেন, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশ ও জাতির মানুষ তা করেন না। আর চীনে নতুন কোনো রোগবালাই দেখা দিলে অতি দ্রুতই তা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। কারণ সারা পৃথিবী এখন চীনে উৎপাদিত দ্রব্যসামগ্রীর ওপর নির্ভরশীল।

চীনের কথা বাদ দিয়ে এবার নিজের দেশের কথায় ফেরা যাক। চীনারা ধর্ম নিয়ে তেমন মাথা না ঘামালেও আমাদের দেশের মানুষ কিন্তু এ বিষয়ে অন্য অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে। ধর্ম-কর্ম পালনে আমরা অনেক মুসলিম দেশ অপেক্ষা বেশি আনুষ্ঠানিকতা পালন করে পোশাক-পরিচ্ছদে ধর্মীয় লেবাস ধারণ করি।

যে কারণে আমাদের ধর্মীয় অনুভূতি অন্য অনেক মুসলিম দেশ ও জাতি অপেক্ষাও বেশি বলে মনে হয়। আমি তুরস্কসহ পৃথিবীর বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ ভ্রমণ করে দেখেছি, তারা যার যার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সাধারণ পোশাক পরেই মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেন।

কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা অনেক বেশি ফরমাল, যা অত্যন্ত ভালো ও খুশির কথা। কিন্তু প্রশ্নটা অন্যখানে। আর তা হল, নীতিনৈতিকতা, আচার-আচরণ, আয়-রোজগার, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিকতা, খাওয়াদাওয়া, ভোগবিলাস, চলাফেরা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে আমরা কতটুকু ইসলামিক আদর্শের অনুসারী?

এই যে অফিসে অফিসে এখনও অব্যাহত ঘুষ-বাণিজ্য, ব্যবসার নামে লুটপাট, ক্যাসিনো ব্যবসা, গরিব মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একটি ট্যাবলেটের পয়সা পর্যন্ত চুরি- এসব কি কোনো মুসলমানের কাজ, নাকি কোনো ইসলামিক আদর্শ?

অথচ এসব অপকর্মের হোতাও কিন্তু পরিপূর্ণ লেবাসে নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়ে ভিড় জমান। যদিও এ কথা বলে তাদের মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়কে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে না; কিন্তু একশ্রেণির মানুষকে অবশ্যই বলব, অতঃপর আপনারাই ঠিক করুন, ধর্ম-কর্ম পালনের পাশাপাশি, ব্যবসা-বাণিজ্যে জালজোচ্চুরি, ঠকবাজি, অবৈধ মুনাফাগিরি, নকলবাজি, ভেজালবাজি এবং অফিসে বসে ঘুষবাণিজ্য একই সঙ্গে চালাবেন কি না।

সরকারি দফতরের বিভিন্ন চেয়ারে বসে যারা গোগ্রাসে ঘুষের টাকা গিলে চলেছেন, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, বর্তমান সরকার আপনাদের বেতন-ভাতা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে অবসরকালে বেশির ভাগ চাকরিজীবীই এককালীন কোটি টাকা নিয়ে ঘরে যাচ্ছেন, মাসে মাসে ভালো অঙ্কের টাকা পেনশন প্রাপ্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় ঘুষখোর হিসেবে ঘরে না ঢুকে একজন সাচ্চা মুসলমান হিসেবে, ঈমানদার হিসেবেও তো ঘরে ঢোকা যায়, নাকি?

মনে রাখবেন, আপনারা সহযোগিতা না করলে এ করোনা মহামারীর সময়ও একশ্রেণির ব্যবসায়ী অনলাইন ব্যবসার নামে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ভেজাল পণ্য বিক্রি করতে পারত না, ভেজাল করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী পৌঁছে দিতে পারত না। আবার স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন হাসপাতাল, দফতর-অধিদফতরেও ভেজাল মালামাল গছানো সম্ভব হতো না, সাহেদ নামে ডাকাতের মতো হাসপাতাল ব্যবসায়ী তৈরি হতো না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মতো স্থানে চাকরি করে ভেজাল পণ্যের ব্যবসায়ী তৈরি হতো না।

আচ্ছা, বর্তমান সরকার তো আপনাদের অনেক কিছু দিয়েছে, আপনাদের জন্য অনেক কিছু করেছে এবং এখনও তা করে চলেছে, এবার তাহলে আপনারাও সৎভাবে কাজ করে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা করুন। ভালো কিছু করে সরকারকে সহযোগিতা করতে অসুবিধা কোথায়?

বিভিন্ন সরকারি দফতর-অধিদফতরে এখনও যেভাবে ঘুষবাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে তাতে সরকারের সুনাম বলতে তো কিছুই অবশিষ্ট থাকছে না। এই তো সেদিন আয়কর দফতর সংক্রান্ত একটি অভিযোগে জানা গেল, একজন অনেক পুরনো আয়করদাতা, যিনি ভালোমতো হিসাব করে নিয়মিত সঠিকভাবে বেশ বড় অঙ্কের আয়কর প্রদান করেন, তার নথিটিই বারবার অডিটে পাঠানো হচ্ছে।

আর তিনি সর্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে কাজটি করেন বলেই মধ্যস্বত্বভোগীরা নাখোশ হয়ে বারবার তাকে হেনস্তা করে চলেছে। অথচ সরকারের উচ্চ মহল থেকে পুরনো করদাতাদের এভাবে হয়রানি না করে নতুন করদাতা খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কিন্তু কার কথা কে শোনে!

লেখাটির কলেবর আর না বাড়িয়ে উপসংহার টেনে বলতে চাই, মানুষ মাত্রই ভুল করে। আর মহান আল্লাহও পবিত্র কোরআনে সে কথাটি উল্লেখ করে তাঁর বান্দাদের কৃতকর্ম বা ভুলের জন্য মাফ চাইতে বলেছেন। তাঁর বান্দা ভুল করে মাফ চাইলে তিনি মাফ করে দেন, আমাদের ধর্মে তেমনটিই বলা হয়েছে।

কিন্তু তাই বলে সব ধরনের ভুল বা পাপ বা বারবার একই ভুল বা অপরাধ কিন্তু ক্ষমাযোগ্য নয়। মহান আল্লাহ আমাদের ভালোবাসেন বলে তওবা করলে তিনি আমাদের অনেক গুনাহ মাফ করে দেন। তাই অতীতের কৃতকর্মের জন্য; ভুলভ্রান্তি, গুনাহের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে তওবা করে আমাদের মাফ চাওয়া উচিত।

আল্লাহ চাইলে তিনি আমাদের মাফ করে দেবেন। আমরা আল্লাহর সৃষ্টি আশরাফুল মাখলুকাত, এটি মনে রেখে নিজেদের কাজকর্মের মাধ্যমে যথার্থভাবে কথাটির প্রমাণ দিলে তিনি নিশ্চয়ই আমাদের ডাকে সাড়া দেবেন।

ড. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন : কবি, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত