জাদুঘর ব্যবস্থাপনার বর্তমান কাঠামো ভাঙতে হবে
jugantor
জাদুঘর ব্যবস্থাপনার বর্তমান কাঠামো ভাঙতে হবে

  এ কে এম শাহনাওয়াজ  

১১ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ৭ আগস্ট করোনাকালের সংযমে পালিত হল জাদুঘর দিবস। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে এবং অনলাইনে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এদিন বিকালে। অনেক প্রাজ্ঞজন উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব।

জাদুঘরের ট্রাস্টিদের অনেককে পেয়েছি। অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বও ছিলেন সেখানে। আমন্ত্রিত হওয়ার সুবাদে এ সভা থেকে আমারও অনেক কিছু জানার সুযোগ হয়েছিল। একটি নিটোল পরিচ্ছন্ন অনুষ্ঠানই হয়েছে বলা যায়। বক্তাদের অনেক কথার ভেতর থেকে একটি প্রশ্ন সামনে চলে এসেছিল যে এই ১০৭ বছরের পুরনো জাতীয় প্রতিষ্ঠানটি সক্ষমতা নিয়ে কতটুকু এগোতে পেরেছে।

সমুদয় আলোচনার ভেতরে জাদুঘর এবং এর মৌলিক দায়-দায়িত্ব নিয়ে কথা খুব বেশি হয়নি। জাদুঘর যে শুধু ঐতিহ্য প্রদর্শনের স্থান নয়, পাশাপাশি জাদুঘর একটি দেশের ঐতিহ্য গবেষণার কেন্দ্র হতে পারে এবং গবেষকদের জন্য জাদুঘরের দ্বার যে উন্মুক্ত করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে খুব সামান্য কথাই আলোচনায় জায়গা পেয়েছে।

একটি সভ্য জাতির আত্মচৈতন্যকে সামনে নিয়ে আসার জন্য জাদুঘরের যে বিশেষ ভূমিকা থাকে, তা এদেশে কখনও গুরুত্ব পায়নি। শুধু জাতীয় জাদুঘরই নয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের পরিচালনায়ও রয়েছে অনেক স্থানীয় প্রত্নস্থল জাদুঘর। প্রত্নবস্তুতে এসব জাদুঘর যথেষ্ট সমৃদ্ধ হলেও তা গবেষকদের প্রয়োজনে তেমন কাজে লাগছে না।

সিদ্ধান্ত প্রণেতাদের ধারণায় হয়তো এ বিষয়গুলো ছুঁয়ে যায়নি। এর মধ্যে বর্তমানে প্রায় সারা বিশ্বে অচল কিছু ঔপনিবেশিক এবং কিছু মনগড়া নীতি চালু রেখে দর্শক ও গবেষকদের কাছে জাদুঘর থেকে জ্ঞান অন্বেষণের পথ অনেকটা সংকীর্ণ করে ফেলা হয়েছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত জাদুঘরগুলোয় এখনও প্রদর্শিত প্রত্নবস্তুর ছবি তোলা নিষেধ। ছবি তুলতে গেলে জাদুঘরের লোকজন বাধা দেয়। আমি অনেক সময় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর এবং জাতীয় জাদুঘরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ছবি না তুলতে দেয়ার কারণ জিজ্ঞেস করে সঠিক জবাব পাইনি।

সম্ভবত জবাব তাদের কাছে নেই। শুধু একটি গৎবাঁধা জবাব থাকে ‘উপর থেকে নির্দেশ আছে।’ আমি দেখেছি ঔপনিবেশিক যুগের ব্রিটিশ নিয়মকানুন অবনতমস্তকে বা নির্বিবাদে মানতে আমরা পছন্দ করি। অথচ যুগের পরিবর্তনে ব্রিটিশদের কাছেই এসব এখন পরিত্যাজ্য। আমার দেখা পৃথিবীর কয়েকটি বিখ্যাত জাদুঘরের কথা বলতে পারি, যেখানে সব ধরনের ক্যামেরায় ছবি তোলার অবারিত সুযোগ রয়েছে। লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়াম, ভিক্টোরিয়া আলবার্ট মিউজিয়াম, প্যারিসের লুভ্যর মিউজিয়ামে আমি অসংখ্য ছবি তুলেছি।

শুধু ইতালির ছোট্ট শহর ব্রেসসিয়ার একটি মিউজিয়ামের পেইনটিং গ্যালারিতে ফ্ল্যাশ ব্যবহার করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেখতে পেয়েছিলাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সদ্য যোগদানকারী সচিব মহোদয় আমাদের মিউজিয়ামগুলোয় ছবি তুলতে না দেয়ার তথ্যে বিস্মিত হলেন। তিনি নিজেও ব্রিটিশ মিউজিয়ামে অনেক ছবি তুলেছেন বলে জানালেন। আমরা আশা করব, এরপর হয়তো মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করবে ছবি তোলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারত সম্ভবত ঔপনিবেশিক ভূত তাড়াতে পারেনি। নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ কোনো সাধারণ যুক্তিকেও কাজে লাগাচ্ছে না। যখন কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচালিত হতো তখন আমি অনেকবার সেখানে গিয়েছি। এ বাড়ির একটি অংশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর তার পরিবারের ব্যবহার করা বস্তুসামগ্রী সংরক্ষিত ছিল।

দর্শকদের সুযোগ ছিল তা অবাধে দেখার। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মাত্র বিভাগ রেখে বাকি বিভাগ এ বাড়ি থেকে সরিয়ে ফেলে ঠাকুরবাড়িকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। এখন ছবি তোলায় ভীষণ কড়াকড়ি। নিচে ক্যামেরা জমা রেখে উপরে উঠতে হয়। আমি ভেবে পাই না কবিগুরুর খাট-পালঙ্ক, পোশাক, রান্নাঘরের তৈজসপত্রের ছবি তুললে কী ক্ষতি হয়ে যাবে! এককালের সাহেবদের হুকুম মানার রোগটিকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে টিকিয়ে রাখতে পছন্দ করছি যেন!

তবে বলতেই হবে, ৭ আগস্টের আলোচনা সভায় সংস্কৃতিবিষয়ক মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এবং সচিব মহোদয়ের বক্তব্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। মন্ত্রী মহোদয় জানালেন জাতীয় জাদুঘরের নতুন রূপায়ণে একটি বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এটি খুব আশার কথা। তবে এই নতুন রূপায়ণের পাশাপাশি যদি জাদুঘর এর কাম্য লক্ষ্য অর্জন করতে পারে, তাহলেই দেশের ঐতিহ্য রক্ষা ও জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালিত হবে।

মিউজিয়াম অর্থাৎ জাদুঘর ধারণাটি প্রথম ব্যাপক অর্থ নিয়ে সামনে আসে খ্রিস্টপূর্ব ৩১৩ অব্দে মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ায়। আলেকজান্ডার এখানে মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন। মিউজিয়াম ধারণা তখন অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। এ প্রতিষ্ঠানটিতে যেমন প্রত্নবস্তু ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক নিদর্শন সংরক্ষণ এবং প্রদর্শন করা হতো তেমনি জ্ঞান চর্চারও স্থান ছিল এখানে। সেসময়ের ধারণা ছিল জাদুঘরে অবশ্যই লাইব্রেরি থাকতে হবে আর অবারিত করে দিতে হবে গবেষকদের তথ্য সংগ্রহের দরজা-জানালা। এখানে বসেই হবে বড় বড় গবেষণা।

আমাদের জাতীয় জাদুঘরে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি রয়েছে। মহাপরিচালক মহোদয়ের অনুমতি সাপেক্ষে এখানে পাঠক ও গবেষকরা পড়াশোনা করতে পারেন। তবে প্রত্নবস্তু বিশ্লেষণে গবেষকদের জন্য দরজা অবরুদ্ধই বলা যায়। একটি সময় ছিল যখন এদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রত্নতত্ত্ব পড়ার সুযোগ হয়নি। খোলা হয়নি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। জাদুঘরের সঙ্গে প্রত্নতত্ত্ব বিদ্যার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও জাদুঘর পরিচালনা এবং কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হতো নানা বিষয়ের গ্রাজুয়েটদের নিয়ে।

তিন দশক ধরে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ পাঠদান ও গবেষণা চালাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে খোলা হয়েছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। প্রায় সাত বছর এ বিভাগ শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ’ নামে একটি বিভাগ রয়েছে। এখন আর জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদ গঠন ও কর্মকর্তা নিয়োগে বিষয়-অভিজ্ঞ মানুষের সংকট নেই; কিন্তু সংকট রয়ে গেছে নীতি প্রণয়নে। কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞাপনে প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ের গ্রাজুয়েটদের আলাদা করে অন্তর্ভুক্তির স্থান নেই।

ফলে দেখা যাবে গত দুই দশকে প্রত্নতত্ত্ব (যেখানে মিউজোলজি, প্রত্নবস্তু সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ইত্যাদি পাঠদান করা হয়, চলে নিয়মিত গবেষণা) বিভাগ থেকে বেরোনো মেধাবী শিক্ষার্থীদের তেমন অন্তর্ভুক্তি নেই জাদুঘরে। জাদুঘরের নীতিনির্ধারকরা এভাবে ভাবতে পারছেন কি না, এ বিষয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এসব বিষয় মনে করিয়ে দেয়ায় ভূমিকা রাখতে পারেন জাদুঘর পরিচালনা বোর্ড তথা ট্রাস্টি বোর্ড।

ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের ছক অনেক পুরনো। সময়ের বাস্তবতায় এর কোনো সংস্কার করা হয়নি। এসব কারণেই সম্ভবত যথাযথ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় না। জাদুঘরে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখার কথা প্রত্নতত্ত্ব বিদ্যা চর্চাকারী বিশেষজ্ঞদের। কিন্তু বিশাল ট্রাস্টি বোর্ড তথা পরিচালনা পর্ষদে অনেক গুণী ব্যক্তিত্ব থাকলেও বিষয় বিশেষজ্ঞের ঘাটতি স্পষ্ট। বিশেষ করে কখনও এখানে প্রত্নতত্ত্বের অধ্যাপক ও গবেষকের জায়গা হয়নি। অথচ প্রত্নতত্ত্বের অনেক স্বনামধন্য অধ্যাপক তাদের গবেষণার জন্য দেশ ও দেশের বাইরে সুনাম অর্জন করেছেন, যারা তৈরি করছেন অনেক গবেষক।

এসব সীমাবদ্ধতার জন্যই বোধহয় জাদুঘর এর কাম্য লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। অতীতের মতো বর্তমানেও গবেষকদের জন্য জাতীয় জাদুঘর ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের দরজা প্রায় বন্ধই বলা যায়। তবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রত্নতত্ত্বে স্নাতক-স্নাতকোত্তর করা অনেকে নিয়োগ পাওয়ার পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আমাদের তত্ত্বাবধানে এমফিল, পিএইচডি করতে আসা কোনো কোনো শিক্ষক গবেষক এ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কিছুটা সহযোগিতা পেলেও জাতীয় জাদুঘর অনেকটাই অবরুদ্ধ।

প্রত্নতত্ত্বের একজন গবেষকের প্রয়োজন জাদুঘরে প্রদর্শিত প্রত্ননিদর্শন ও তালাবদ্ধ সংরক্ষণাগারে রক্ষিত তার গবেষণার বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রত্ননিদর্শন পরীক্ষা করা- তথ্য অনুসন্ধান করা। কিন্তু গবেষক যেখানে প্রদর্শিত প্রত্ননিদর্শনের ছবিই ঠিকমতো তোলার অনুমতি পান না, সেখানে তাকে সংরক্ষণাগারের তালা খুলে দেবে কে!

অনুষ্ঠানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের ডিজি মহোদয় নিজেই জানালেন তাদের সংরক্ষণাগারে অসংখ্য প্রত্ননিদর্শন রয়েছে বহু বছরেও যার ক্যাটালগ করা হয়নি। এ কারণে গবেষকের সামনে তা উপস্থাপনও কঠিন। তাহলে প্রশ্ন জাগে এ সমস্যার সমাধান করবে কে? আমি জানি মহাপরিচালকদেরও অনেক ক্ষেত্রে করার কিছু থাকে না।

সরকার পক্ষের হয়তো পরিষ্কার ধারণা থাকে না সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট কেমন হওয়া উচিত। তা ছাড়াও লোকবলের ভীষণ অভাব রয়েছে তাদের। এরপরও বলতেই হবে দেশের প্রত্ননিদর্শন গবেষণা করে ঐতিহ্য উন্মোচনই যদি করা না যায় তবে তা তালাবদ্ধ করে রেখে কার উপকার হচ্ছে? নাকি কিছুকাল পরপর খুলে কিছু মূল্যবান প্রত্নবস্তু খোয়া যাওয়ার কাহিনীই শুনতে হবে।

মাঝে মাঝে সংবাদমাধ্যমে খবর বেরোয় জাতীয় জাদুঘরের গুদামের অব্যবস্থাপনার কথা। অনেক আগে একটি খবর বেরিয়েছিল ১৮ ও ১৯ শতকের অনেক মূল্যবান কাগজের দলিল নাকি সঠিক সংরক্ষণের অভাবে শক্ত হয়ে গিয়েছে যা আর ব্যবহারযোগ্য নয়। এসব খুঁটিনাটি দিক নিয়ে কণ্ঠ সরব করার কথা বিষয়-অভিজ্ঞ মানুষের। কিন্তু তারা ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন কোথায়!

এদেশে প্রত্নতত্ত্ববিষয়ক জ্ঞান উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে চর্চার সুযোগ না থাকায় একসময় বিষয়-অভিজ্ঞের কাজটি করতেন বিশেষ করে ইতিহাস-অভিজ্ঞ অধ্যাপক ও গবেষকরা। বর্তমান সময়ে এর ধারাবাহিকতা কিছুটা অব্যাহত থাকলেও এ বিবেচনাটি কখনও করা হয় না যে ইতিহাসের নানা শাখা রয়েছে।

বুঝতে হবে শিল্প ও ইতিহাস-অভিজ্ঞ না হয়ে আধুনিক যুগের ইতিহাস গবেষকের জাদুঘরে ভূমিকা রাখার সুযোগ কম। এখানে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস গবেষক, বিশেষ করে শিল্প-ইতিহাসের গবেষক-অধ্যাপকদের অবদান রাখার কথা; কিন্তু জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের সময় এসব কি কখনও বিবেচনায় রাখা হয়েছে? চোখের ডাক্তারকে দিয়ে যে হার্টের চিকিৎসা করানো যায় না একথা কি নীতিনির্ধারকরা কখনও ভেবেছেন? সুতরাং আমরা জাদুঘর ব্যবস্থাপনায় যথাযথ ভূমিকা রাখার আশা করব কেমন করে!

এভাবে নানা দুর্বোধ্যতার মধ্য দিয়ে আমাদের জাদুঘর ব্যবস্থাপনার কাঠামো বজায় থাকছে। তাই মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় জাদুঘর উন্নয়নে যে আশাবাদের কথা শুনিয়েছেন তাতে আনন্দিত হওয়ার কারণ রয়েছে। তবে বর্তমান কাঠামো ও নীতি বজায় রেখে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে কি না, এ ব্যাপারে রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ।

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

জাদুঘর ব্যবস্থাপনার বর্তমান কাঠামো ভাঙতে হবে

 এ কে এম শাহনাওয়াজ 
১১ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ৭ আগস্ট করোনাকালের সংযমে পালিত হল জাদুঘর দিবস। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে এবং অনলাইনে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এদিন বিকালে। অনেক প্রাজ্ঞজন উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব।

জাদুঘরের ট্রাস্টিদের অনেককে পেয়েছি। অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বও ছিলেন সেখানে। আমন্ত্রিত হওয়ার সুবাদে এ সভা থেকে আমারও অনেক কিছু জানার সুযোগ হয়েছিল। একটি নিটোল পরিচ্ছন্ন অনুষ্ঠানই হয়েছে বলা যায়। বক্তাদের অনেক কথার ভেতর থেকে একটি প্রশ্ন সামনে চলে এসেছিল যে এই ১০৭ বছরের পুরনো জাতীয় প্রতিষ্ঠানটি সক্ষমতা নিয়ে কতটুকু এগোতে পেরেছে।

সমুদয় আলোচনার ভেতরে জাদুঘর এবং এর মৌলিক দায়-দায়িত্ব নিয়ে কথা খুব বেশি হয়নি। জাদুঘর যে শুধু ঐতিহ্য প্রদর্শনের স্থান নয়, পাশাপাশি জাদুঘর একটি দেশের ঐতিহ্য গবেষণার কেন্দ্র হতে পারে এবং গবেষকদের জন্য জাদুঘরের দ্বার যে উন্মুক্ত করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে খুব সামান্য কথাই আলোচনায় জায়গা পেয়েছে।

একটি সভ্য জাতির আত্মচৈতন্যকে সামনে নিয়ে আসার জন্য জাদুঘরের যে বিশেষ ভূমিকা থাকে, তা এদেশে কখনও গুরুত্ব পায়নি। শুধু জাতীয় জাদুঘরই নয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের পরিচালনায়ও রয়েছে অনেক স্থানীয় প্রত্নস্থল জাদুঘর। প্রত্নবস্তুতে এসব জাদুঘর যথেষ্ট সমৃদ্ধ হলেও তা গবেষকদের প্রয়োজনে তেমন কাজে লাগছে না।

সিদ্ধান্ত প্রণেতাদের ধারণায় হয়তো এ বিষয়গুলো ছুঁয়ে যায়নি। এর মধ্যে বর্তমানে প্রায় সারা বিশ্বে অচল কিছু ঔপনিবেশিক এবং কিছু মনগড়া নীতি চালু রেখে দর্শক ও গবেষকদের কাছে জাদুঘর থেকে জ্ঞান অন্বেষণের পথ অনেকটা সংকীর্ণ করে ফেলা হয়েছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত জাদুঘরগুলোয় এখনও প্রদর্শিত প্রত্নবস্তুর ছবি তোলা নিষেধ। ছবি তুলতে গেলে জাদুঘরের লোকজন বাধা দেয়। আমি অনেক সময় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর এবং জাতীয় জাদুঘরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ছবি না তুলতে দেয়ার কারণ জিজ্ঞেস করে সঠিক জবাব পাইনি।

সম্ভবত জবাব তাদের কাছে নেই। শুধু একটি গৎবাঁধা জবাব থাকে ‘উপর থেকে নির্দেশ আছে।’ আমি দেখেছি ঔপনিবেশিক যুগের ব্রিটিশ নিয়মকানুন অবনতমস্তকে বা নির্বিবাদে মানতে আমরা পছন্দ করি। অথচ যুগের পরিবর্তনে ব্রিটিশদের কাছেই এসব এখন পরিত্যাজ্য। আমার দেখা পৃথিবীর কয়েকটি বিখ্যাত জাদুঘরের কথা বলতে পারি, যেখানে সব ধরনের ক্যামেরায় ছবি তোলার অবারিত সুযোগ রয়েছে। লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়াম, ভিক্টোরিয়া আলবার্ট মিউজিয়াম, প্যারিসের লুভ্যর মিউজিয়ামে আমি অসংখ্য ছবি তুলেছি।

শুধু ইতালির ছোট্ট শহর ব্রেসসিয়ার একটি মিউজিয়ামের পেইনটিং গ্যালারিতে ফ্ল্যাশ ব্যবহার করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেখতে পেয়েছিলাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সদ্য যোগদানকারী সচিব মহোদয় আমাদের মিউজিয়ামগুলোয় ছবি তুলতে না দেয়ার তথ্যে বিস্মিত হলেন। তিনি নিজেও ব্রিটিশ মিউজিয়ামে অনেক ছবি তুলেছেন বলে জানালেন। আমরা আশা করব, এরপর হয়তো মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করবে ছবি তোলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারত সম্ভবত ঔপনিবেশিক ভূত তাড়াতে পারেনি। নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ কোনো সাধারণ যুক্তিকেও কাজে লাগাচ্ছে না। যখন কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচালিত হতো তখন আমি অনেকবার সেখানে গিয়েছি। এ বাড়ির একটি অংশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর তার পরিবারের ব্যবহার করা বস্তুসামগ্রী সংরক্ষিত ছিল।

দর্শকদের সুযোগ ছিল তা অবাধে দেখার। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মাত্র বিভাগ রেখে বাকি বিভাগ এ বাড়ি থেকে সরিয়ে ফেলে ঠাকুরবাড়িকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। এখন ছবি তোলায় ভীষণ কড়াকড়ি। নিচে ক্যামেরা জমা রেখে উপরে উঠতে হয়। আমি ভেবে পাই না কবিগুরুর খাট-পালঙ্ক, পোশাক, রান্নাঘরের তৈজসপত্রের ছবি তুললে কী ক্ষতি হয়ে যাবে! এককালের সাহেবদের হুকুম মানার রোগটিকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে টিকিয়ে রাখতে পছন্দ করছি যেন!

তবে বলতেই হবে, ৭ আগস্টের আলোচনা সভায় সংস্কৃতিবিষয়ক মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এবং সচিব মহোদয়ের বক্তব্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। মন্ত্রী মহোদয় জানালেন জাতীয় জাদুঘরের নতুন রূপায়ণে একটি বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এটি খুব আশার কথা। তবে এই নতুন রূপায়ণের পাশাপাশি যদি জাদুঘর এর কাম্য লক্ষ্য অর্জন করতে পারে, তাহলেই দেশের ঐতিহ্য রক্ষা ও জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালিত হবে।

মিউজিয়াম অর্থাৎ জাদুঘর ধারণাটি প্রথম ব্যাপক অর্থ নিয়ে সামনে আসে খ্রিস্টপূর্ব ৩১৩ অব্দে মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ায়। আলেকজান্ডার এখানে মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন। মিউজিয়াম ধারণা তখন অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। এ প্রতিষ্ঠানটিতে যেমন প্রত্নবস্তু ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক নিদর্শন সংরক্ষণ এবং প্রদর্শন করা হতো তেমনি জ্ঞান চর্চারও স্থান ছিল এখানে। সেসময়ের ধারণা ছিল জাদুঘরে অবশ্যই লাইব্রেরি থাকতে হবে আর অবারিত করে দিতে হবে গবেষকদের তথ্য সংগ্রহের দরজা-জানালা। এখানে বসেই হবে বড় বড় গবেষণা।

আমাদের জাতীয় জাদুঘরে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি রয়েছে। মহাপরিচালক মহোদয়ের অনুমতি সাপেক্ষে এখানে পাঠক ও গবেষকরা পড়াশোনা করতে পারেন। তবে প্রত্নবস্তু বিশ্লেষণে গবেষকদের জন্য দরজা অবরুদ্ধই বলা যায়। একটি সময় ছিল যখন এদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রত্নতত্ত্ব পড়ার সুযোগ হয়নি। খোলা হয়নি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। জাদুঘরের সঙ্গে প্রত্নতত্ত্ব বিদ্যার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও জাদুঘর পরিচালনা এবং কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হতো নানা বিষয়ের গ্রাজুয়েটদের নিয়ে।

তিন দশক ধরে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ পাঠদান ও গবেষণা চালাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে খোলা হয়েছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। প্রায় সাত বছর এ বিভাগ শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ’ নামে একটি বিভাগ রয়েছে। এখন আর জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদ গঠন ও কর্মকর্তা নিয়োগে বিষয়-অভিজ্ঞ মানুষের সংকট নেই; কিন্তু সংকট রয়ে গেছে নীতি প্রণয়নে। কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞাপনে প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ের গ্রাজুয়েটদের আলাদা করে অন্তর্ভুক্তির স্থান নেই।

ফলে দেখা যাবে গত দুই দশকে প্রত্নতত্ত্ব (যেখানে মিউজোলজি, প্রত্নবস্তু সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ইত্যাদি পাঠদান করা হয়, চলে নিয়মিত গবেষণা) বিভাগ থেকে বেরোনো মেধাবী শিক্ষার্থীদের তেমন অন্তর্ভুক্তি নেই জাদুঘরে। জাদুঘরের নীতিনির্ধারকরা এভাবে ভাবতে পারছেন কি না, এ বিষয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এসব বিষয় মনে করিয়ে দেয়ায় ভূমিকা রাখতে পারেন জাদুঘর পরিচালনা বোর্ড তথা ট্রাস্টি বোর্ড।

ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের ছক অনেক পুরনো। সময়ের বাস্তবতায় এর কোনো সংস্কার করা হয়নি। এসব কারণেই সম্ভবত যথাযথ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় না। জাদুঘরে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখার কথা প্রত্নতত্ত্ব বিদ্যা চর্চাকারী বিশেষজ্ঞদের। কিন্তু বিশাল ট্রাস্টি বোর্ড তথা পরিচালনা পর্ষদে অনেক গুণী ব্যক্তিত্ব থাকলেও বিষয় বিশেষজ্ঞের ঘাটতি স্পষ্ট। বিশেষ করে কখনও এখানে প্রত্নতত্ত্বের অধ্যাপক ও গবেষকের জায়গা হয়নি। অথচ প্রত্নতত্ত্বের অনেক স্বনামধন্য অধ্যাপক তাদের গবেষণার জন্য দেশ ও দেশের বাইরে সুনাম অর্জন করেছেন, যারা তৈরি করছেন অনেক গবেষক।

এসব সীমাবদ্ধতার জন্যই বোধহয় জাদুঘর এর কাম্য লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। অতীতের মতো বর্তমানেও গবেষকদের জন্য জাতীয় জাদুঘর ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের দরজা প্রায় বন্ধই বলা যায়। তবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রত্নতত্ত্বে স্নাতক-স্নাতকোত্তর করা অনেকে নিয়োগ পাওয়ার পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আমাদের তত্ত্বাবধানে এমফিল, পিএইচডি করতে আসা কোনো কোনো শিক্ষক গবেষক এ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কিছুটা সহযোগিতা পেলেও জাতীয় জাদুঘর অনেকটাই অবরুদ্ধ।

প্রত্নতত্ত্বের একজন গবেষকের প্রয়োজন জাদুঘরে প্রদর্শিত প্রত্ননিদর্শন ও তালাবদ্ধ সংরক্ষণাগারে রক্ষিত তার গবেষণার বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রত্ননিদর্শন পরীক্ষা করা- তথ্য অনুসন্ধান করা। কিন্তু গবেষক যেখানে প্রদর্শিত প্রত্ননিদর্শনের ছবিই ঠিকমতো তোলার অনুমতি পান না, সেখানে তাকে সংরক্ষণাগারের তালা খুলে দেবে কে!

অনুষ্ঠানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের ডিজি মহোদয় নিজেই জানালেন তাদের সংরক্ষণাগারে অসংখ্য প্রত্ননিদর্শন রয়েছে বহু বছরেও যার ক্যাটালগ করা হয়নি। এ কারণে গবেষকের সামনে তা উপস্থাপনও কঠিন। তাহলে প্রশ্ন জাগে এ সমস্যার সমাধান করবে কে? আমি জানি মহাপরিচালকদেরও অনেক ক্ষেত্রে করার কিছু থাকে না।

সরকার পক্ষের হয়তো পরিষ্কার ধারণা থাকে না সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট কেমন হওয়া উচিত। তা ছাড়াও লোকবলের ভীষণ অভাব রয়েছে তাদের। এরপরও বলতেই হবে দেশের প্রত্ননিদর্শন গবেষণা করে ঐতিহ্য উন্মোচনই যদি করা না যায় তবে তা তালাবদ্ধ করে রেখে কার উপকার হচ্ছে? নাকি কিছুকাল পরপর খুলে কিছু মূল্যবান প্রত্নবস্তু খোয়া যাওয়ার কাহিনীই শুনতে হবে।

মাঝে মাঝে সংবাদমাধ্যমে খবর বেরোয় জাতীয় জাদুঘরের গুদামের অব্যবস্থাপনার কথা। অনেক আগে একটি খবর বেরিয়েছিল ১৮ ও ১৯ শতকের অনেক মূল্যবান কাগজের দলিল নাকি সঠিক সংরক্ষণের অভাবে শক্ত হয়ে গিয়েছে যা আর ব্যবহারযোগ্য নয়। এসব খুঁটিনাটি দিক নিয়ে কণ্ঠ সরব করার কথা বিষয়-অভিজ্ঞ মানুষের। কিন্তু তারা ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন কোথায়!

এদেশে প্রত্নতত্ত্ববিষয়ক জ্ঞান উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে চর্চার সুযোগ না থাকায় একসময় বিষয়-অভিজ্ঞের কাজটি করতেন বিশেষ করে ইতিহাস-অভিজ্ঞ অধ্যাপক ও গবেষকরা। বর্তমান সময়ে এর ধারাবাহিকতা কিছুটা অব্যাহত থাকলেও এ বিবেচনাটি কখনও করা হয় না যে ইতিহাসের নানা শাখা রয়েছে।

বুঝতে হবে শিল্প ও ইতিহাস-অভিজ্ঞ না হয়ে আধুনিক যুগের ইতিহাস গবেষকের জাদুঘরে ভূমিকা রাখার সুযোগ কম। এখানে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস গবেষক, বিশেষ করে শিল্প-ইতিহাসের গবেষক-অধ্যাপকদের অবদান রাখার কথা; কিন্তু জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের সময় এসব কি কখনও বিবেচনায় রাখা হয়েছে? চোখের ডাক্তারকে দিয়ে যে হার্টের চিকিৎসা করানো যায় না একথা কি নীতিনির্ধারকরা কখনও ভেবেছেন? সুতরাং আমরা জাদুঘর ব্যবস্থাপনায় যথাযথ ভূমিকা রাখার আশা করব কেমন করে!

এভাবে নানা দুর্বোধ্যতার মধ্য দিয়ে আমাদের জাদুঘর ব্যবস্থাপনার কাঠামো বজায় থাকছে। তাই মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় জাদুঘর উন্নয়নে যে আশাবাদের কথা শুনিয়েছেন তাতে আনন্দিত হওয়ার কারণ রয়েছে। তবে বর্তমান কাঠামো ও নীতি বজায় রেখে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে কি না, এ ব্যাপারে রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ।

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]