চাল আমদানির সিদ্ধান্তের যথার্থতা
jugantor
স্বদেশ ভাবনা
চাল আমদানির সিদ্ধান্তের যথার্থতা

  আবদুল লতিফ মন্ডল  

১২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকার অবশেষে সরকারি খাতে ‘প্রয়োজনীয় পরিমাণ’ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিল।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এরূপ একটি প্রস্তাবে গত সপ্তাহে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারি ভাষ্যে এবং মিডিয়ার রিপোর্টে চাল আমদানির জন্য যে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে তা হল, ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় চালকল মালিকরা চুক্তিমূল্যে সরকারকে বোরো চাল সরবরাহে আগ্রহী হচ্ছেন না।

তারা সরকারের কাছে সরবরাহতব্য চালের দাম বাড়ানোর দাবি তোলেন। তাই চাল আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন প্রদানের আগেই খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চালকল মালিকদের কারসাজি ঠেকাতে এবং চালের বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে প্রয়োজনে আমদানি শুল্ক কমিয়ে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করা হবে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের অভ্যন্তরীণ বোরো উৎপাদন থেকে সাড়ে ১৯ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে সরকার। সে অনুযায়ী সরকার ৩৬ টাকা কেজি দরে মিলারদের কাছ থেকে ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ৩৫ টাকা কেজিতে দেড় লাখ টন আতপ চাল এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজিতে আট লাখ টন বোরো ধান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখ্য, সরকার কৃষকদের কাছ থেকে যে পরিমাণ ধান কেনে এবং চালকল মালিকদের কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে যে পরিমাণ চাল সংগ্রহ করে থাকে, তা মোট উৎপাদনের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ (৬ থেকে ৮ শতাংশ)।

বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (ব্রি) সাম্প্রতিক এক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জুনে উৎপাদিত ধানের মজুদে চালকল মালিকদের অংশ ছিল ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২০ সালের জুনে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশে।

ধান ব্যবসায়ীদের অংশ ২০১৯ সালের জুনের ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২০ সালের জুনে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর কৃষকের মজুদের অংশ ২০১৯ সালের জুনে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৯ দশমিক ১ শতাংশ। উল্লেখ করা দরকার, এখানে কৃষক বলতে বড় ও মাঝারি কৃষককে বোঝাবে। কারণ কৃষক পরিবারগুলোর বৃহত্তর অংশ ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষীদের ঘরে মৌসুম শেষে কোনো ধান থাকে না।

তারা ধারদেনা করে ফসল ফলান এবং তাদের সংসারে নানা অভাব-অনটন লেগেই থাকে। ধারদেনা পরিশোধ এবং সংসারের নানা অভাব-অনটন মেটাতে মৌসুমের শুরুতেই তারা ধান বিক্রি করে দেন। ব্রির গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, করোনা মহামারীকালে অধিক লাভের আশায় ধান মজুদে একধরনের নতুন মার্কেট প্লেয়ার যুক্ত হয়েছে। এরা মূলত শহর থেকে চাকরি কিংবা ব্যবসা হারিয়ে বা নিরাপদে থাকার আশায় গ্রামে ফেরেন। হাতে স্বল্প কিছু টাকা থাকায় ধান-চালের ব্যবসা বা মজুদকে নিরাপদ মনে করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব নতুন ব্যবসায়ী বা মজুদদারের অংশ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য মোতাবেক, সদ্যসমাপ্ত বোরো মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে ৮ লাখ টন বোরো ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সংগৃহীত হয়েছে মাত্র এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৬৭ টন। আর সাড়ে ১১ লাখ টন চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ওই তারিখ পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৮৫ টন। এদিকে সরকারি সংগ্রহ অভিযান শেষ হতে তিন সপ্তাহের কম সময় হাতে রয়েছে।

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে খোলাবাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকদের সরকারি গুদামে চাল বিক্রিতে অনীহা, ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় চুক্তিবদ্ধ মিল মালিকদের সরকারকে চাল সরবরাহে কিছুটা অসহযোগিতা কিংবা মিল মালিকদের চালের মজুদ গতবারের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা গতবছরের তুলনায় এবার কৃষকদের কাছে কিছুটা বেশি পরিমাণ চাল মজুদ থাকা প্রভৃতি চাল আমদানিতে কিছুটা প্রভাব ফেললেও চাল আমদানির পেছনে মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- এক. ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৯-২০) দেশে চালের উৎপাদন হ্রাস; দুই. করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (এফএফপি) মাধ্যমে গরিব ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে নামমাত্র দামে চাল সরবরাহে প্রচুর পরিমাণ চালের প্রয়োজনীয়তা; তিন. বাজারে চালের দাম জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে গেলে ওএমএস পরিচালনার মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণ; চার. বৈশ্বিক করোনা প্রাদুর্ভাবের স্থায়িত্ব দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক চালের বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও অন্যান্য রিপোর্ট থেকে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে চালের উৎপাদন দাঁড়ায় ৩ কোটি ৬২ লাখ ৭৯ হাজার টনে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চাল উৎপাদনে ধনাত্মক প্রবৃদ্ধি ঘটে। প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চালের উৎপাদন দাঁড়ায় ৩ কোটি ৬৭ লাখ টনে। অর্থাৎ এ অর্থবছরে চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি ঘটে ১ দশমিক ১৬ শতাংশ হারে।

সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৯-২০) দেশে মোট চাল উৎপাদনের তথ্য সরকার প্রকাশ করেছে বলে জানা যায়নি। তবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের মে মাসে খাদ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ওই অর্থবছরে আমন, বোরো ও আউশ মিলে ৩ কোটি ৭০ লাখ টন চাল উৎপাদন হবে।

এদিকে একই মাসে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) পূর্বাভাসে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশে চালের মোট উৎপাদন দাঁড়াবে ৩ কোটি ৬০ লাখ টনে। অর্থাৎ ইউএসডিএর হিসাব অনুযায়ী সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে চালের উৎপাদন আগের অর্থবছরের (১৯১৮-১৯) তুলনায় প্রায় ৭ লাখ টন কম হয়েছে। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির হার ঋণাত্মক। ইউএসডিএর প্রাক্কলনকে সরকার এখন পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ করেছে বলে জানা যায়নি।

সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৯-২০) একাধিক কারণে চালের উৎপাদন এর আগের দু’বছরের তুলনায় কমে গেছে। প্রথমত বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা (২ কোটি ৪ লাখ টন) পূরণ হয়নি। আগের দুই অর্থবছরে (২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯) উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে বোরো ধান বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় কৃষক ২০১৯-২০ অর্থবছরে কম জমিতে বোরো আবাদ করেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে জমি আবাদ লক্ষ্যমাত্রা প্রায় এক লাখ হেক্টর কম অর্জিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে পল্লী এলাকায় হাটবাজারের দোকানপাট বন্ধ থাকায় কৃষক সময়মতো সার সরবরাহ পাননি। এতে বোরোর ফলন ব্যাহত হয়েছে। তৃতীয়ত, ২০-২১ মে উপকূলীয় জেলাগুলো এবং উপকূলীয় নয় এমন ১৭টি জেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে ৪৭ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বোরোর উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে।

তাছাড়া করোনা আতঙ্ক ও দীর্ঘায়িত খরার কারণে এবার আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৫-১৫ শতাংশ পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। খাদ্যমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, এবার আউশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা (৩৬ লাখ টন) অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সম্প্রতি দৈনিক বণিক বার্তায় বলা হয়েছে, করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমেছে ৮০ শতাংশ। কর্মসংস্থানের সুযোগ হ্রাস মানে বেকারত্ব বৃদ্ধি। আর বেকারত্ব ও দারিদ্র্য একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। গত জুনে একাধিক বেসরকারি গবেষণা সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬ মার্চ থেকে মে পর্যন্ত করোনা মহামারীতে লকডাউনের মতো অবস্থা সৃষ্টির কারণে দেশে দারিদ্র্য হার ৩৫ শতাংশে বৃদ্ধি পায়, যা সরকারের দাবি মোতাবেক ২০১৯-এ ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (এফএফপি) মাধ্যমে সরকার চলতি অর্থবছরে ৫০ লাখ গরিব ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে প্রতিমাসে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে কমবেশি ১১ লাখ টন চাল দরকার হবে। চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার ঋণাত্মক হওয়ায় দেশে উৎপাদিত চাল দিয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য মোতাবেক, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের প্রধান খাদ্য মোটা চালের দাম বর্তমানে কেজিপ্রতি ৪৫ টাকা। মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে কোনো কোনো পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়া হলে ২০১৭ সালের নজিরবিহীন মোটা চালের দাম (কেজিপ্রতি ৫২ টাকা) ছুঁতে বেশি দিন সময় লাগবে না। এফএফপি কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গে ওএমএস কর্মসূচিতে চাল বিক্রিরও সময় এসেছে। এতে সরকারের অতিরিক্ত চালের প্রয়োজন হবে।

চীনসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে নোভেল করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ এসে লেগেছে। দক্ষিণ এশিয়াসহ অন্যান্য দেশ বা অঞ্চলেও এ ঢেউ এসে পড়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। তেমনটি হলে চালের রফতানি বাজার সংকুচিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। আমাদের স্মরণে রাখতে হবে ২০০৭-০৮ অর্থবছরের কথা, যখন বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কয়েকটি চাল রফতানিকারক দেশ চাল রফতানি বন্ধ বা সীমিত করে দিয়েছিল। দেশের তৎকালীন সরকারকে চাল রফতানি করতে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল। বর্তমানে চাল রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও মিয়ানমার। ২০১৭ সালেও চাল আমদানি করলে ইন্দোনেশিয়া এখন চাল রফতানিকারক দেশগুলোর ক্লাবে ঢুকে পড়েছে। অন্যদিকে চাল আমাদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিলিপাইন, চীন, ইইউ, নাইজেরিয়া, আইভোরিকোস্টসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশ। বৈশ্বিক করোনাভাইরাসের স্থায়িত্ব দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বৃদ্ধিসহ আমদানিতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই আমাদের উচিত হবে প্রয়োজনীয় চাল আমদানি ত্বরান্বিত করা।

চাল আমদানিতে সরকারকে যেসব বিষয় স্মরণে রাখতে হবে সেগুলো মধ্যে রয়েছে- ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে চালের প্রকৃত উৎপাদন, সরকারি গুদামে ও বেসরকারি খাতে (মিল মালিক, চাল ব্যবসায়ী, কৃষকের কাছে) বর্তমানে চালের প্রকৃত মজুদ, গরিব ও নিম্নবিত্তদের মাঝে কেজিপ্রতি ১০ টাকা দরে চাল বিক্রি, ওএমএস পরিচালনা, স্ট্যাটিউটরি রেশনিংয়ের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিসহ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত চালের সম্ভাব্য চাহিদা এবং পর পর দু’বার বন্যায় এবং আগামী সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য বন্যায় আমন আবাদের ক্ষতি।

সবশেষে বলতে চাই, চলমান পরিস্থিতিতে সরকারের চাল আমদানির সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে। উপর্যুক্ত ফ্যাক্টরগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণ চাল আমদানি করতে হবে। আর চাল আমদানিতে দেরি করা সমীচীন হবে না। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল আমদানি করা না হয়। তাহলে আগামী দিনে আমাদের কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। মোট কথা, ২০১৭ সালের চাল সংকটের যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে।

আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক খাদ্য সচিব, কলাম লেখক

[email protected]

স্বদেশ ভাবনা

চাল আমদানির সিদ্ধান্তের যথার্থতা

 আবদুল লতিফ মন্ডল 
১২ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকার অবশেষে সরকারি খাতে ‘প্রয়োজনীয় পরিমাণ’ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিল।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এরূপ একটি প্রস্তাবে গত সপ্তাহে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারি ভাষ্যে এবং মিডিয়ার রিপোর্টে চাল আমদানির জন্য যে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে তা হল, ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় চালকল মালিকরা চুক্তিমূল্যে সরকারকে বোরো চাল সরবরাহে আগ্রহী হচ্ছেন না।

তারা সরকারের কাছে সরবরাহতব্য চালের দাম বাড়ানোর দাবি তোলেন। তাই চাল আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন প্রদানের আগেই খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চালকল মালিকদের কারসাজি ঠেকাতে এবং চালের বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে প্রয়োজনে আমদানি শুল্ক কমিয়ে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করা হবে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের অভ্যন্তরীণ বোরো উৎপাদন থেকে সাড়ে ১৯ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে সরকার। সে অনুযায়ী সরকার ৩৬ টাকা কেজি দরে মিলারদের কাছ থেকে ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ৩৫ টাকা কেজিতে দেড় লাখ টন আতপ চাল এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজিতে আট লাখ টন বোরো ধান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখ্য, সরকার কৃষকদের কাছ থেকে যে পরিমাণ ধান কেনে এবং চালকল মালিকদের কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে যে পরিমাণ চাল সংগ্রহ করে থাকে, তা মোট উৎপাদনের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ (৬ থেকে ৮ শতাংশ)।

বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (ব্রি) সাম্প্রতিক এক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জুনে উৎপাদিত ধানের মজুদে চালকল মালিকদের অংশ ছিল ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২০ সালের জুনে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশে।

ধান ব্যবসায়ীদের অংশ ২০১৯ সালের জুনের ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২০ সালের জুনে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর কৃষকের মজুদের অংশ ২০১৯ সালের জুনে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৯ দশমিক ১ শতাংশ। উল্লেখ করা দরকার, এখানে কৃষক বলতে বড় ও মাঝারি কৃষককে বোঝাবে। কারণ কৃষক পরিবারগুলোর বৃহত্তর অংশ ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষীদের ঘরে মৌসুম শেষে কোনো ধান থাকে না।

তারা ধারদেনা করে ফসল ফলান এবং তাদের সংসারে নানা অভাব-অনটন লেগেই থাকে। ধারদেনা পরিশোধ এবং সংসারের নানা অভাব-অনটন মেটাতে মৌসুমের শুরুতেই তারা ধান বিক্রি করে দেন। ব্রির গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, করোনা মহামারীকালে অধিক লাভের আশায় ধান মজুদে একধরনের নতুন মার্কেট প্লেয়ার যুক্ত হয়েছে। এরা মূলত শহর থেকে চাকরি কিংবা ব্যবসা হারিয়ে বা নিরাপদে থাকার আশায় গ্রামে ফেরেন। হাতে স্বল্প কিছু টাকা থাকায় ধান-চালের ব্যবসা বা মজুদকে নিরাপদ মনে করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব নতুন ব্যবসায়ী বা মজুদদারের অংশ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য মোতাবেক, সদ্যসমাপ্ত বোরো মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে ৮ লাখ টন বোরো ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সংগৃহীত হয়েছে মাত্র এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৬৭ টন। আর সাড়ে ১১ লাখ টন চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ওই তারিখ পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৮৫ টন। এদিকে সরকারি সংগ্রহ অভিযান শেষ হতে তিন সপ্তাহের কম সময় হাতে রয়েছে।

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে খোলাবাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকদের সরকারি গুদামে চাল বিক্রিতে অনীহা, ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় চুক্তিবদ্ধ মিল মালিকদের সরকারকে চাল সরবরাহে কিছুটা অসহযোগিতা কিংবা মিল মালিকদের চালের মজুদ গতবারের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা গতবছরের তুলনায় এবার কৃষকদের কাছে কিছুটা বেশি পরিমাণ চাল মজুদ থাকা প্রভৃতি চাল আমদানিতে কিছুটা প্রভাব ফেললেও চাল আমদানির পেছনে মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- এক. ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৯-২০) দেশে চালের উৎপাদন হ্রাস; দুই. করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (এফএফপি) মাধ্যমে গরিব ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে নামমাত্র দামে চাল সরবরাহে প্রচুর পরিমাণ চালের প্রয়োজনীয়তা; তিন. বাজারে চালের দাম জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে গেলে ওএমএস পরিচালনার মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণ; চার. বৈশ্বিক করোনা প্রাদুর্ভাবের স্থায়িত্ব দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক চালের বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও অন্যান্য রিপোর্ট থেকে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে চালের উৎপাদন দাঁড়ায় ৩ কোটি ৬২ লাখ ৭৯ হাজার টনে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চাল উৎপাদনে ধনাত্মক প্রবৃদ্ধি ঘটে। প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চালের উৎপাদন দাঁড়ায় ৩ কোটি ৬৭ লাখ টনে। অর্থাৎ এ অর্থবছরে চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি ঘটে ১ দশমিক ১৬ শতাংশ হারে।

সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৯-২০) দেশে মোট চাল উৎপাদনের তথ্য সরকার প্রকাশ করেছে বলে জানা যায়নি। তবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের মে মাসে খাদ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ওই অর্থবছরে আমন, বোরো ও আউশ মিলে ৩ কোটি ৭০ লাখ টন চাল উৎপাদন হবে।

এদিকে একই মাসে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) পূর্বাভাসে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশে চালের মোট উৎপাদন দাঁড়াবে ৩ কোটি ৬০ লাখ টনে। অর্থাৎ ইউএসডিএর হিসাব অনুযায়ী সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে চালের উৎপাদন আগের অর্থবছরের (১৯১৮-১৯) তুলনায় প্রায় ৭ লাখ টন কম হয়েছে। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির হার ঋণাত্মক। ইউএসডিএর প্রাক্কলনকে সরকার এখন পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ করেছে বলে জানা যায়নি।

সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৯-২০) একাধিক কারণে চালের উৎপাদন এর আগের দু’বছরের তুলনায় কমে গেছে। প্রথমত বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা (২ কোটি ৪ লাখ টন) পূরণ হয়নি। আগের দুই অর্থবছরে (২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯) উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে বোরো ধান বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় কৃষক ২০১৯-২০ অর্থবছরে কম জমিতে বোরো আবাদ করেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে জমি আবাদ লক্ষ্যমাত্রা প্রায় এক লাখ হেক্টর কম অর্জিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে পল্লী এলাকায় হাটবাজারের দোকানপাট বন্ধ থাকায় কৃষক সময়মতো সার সরবরাহ পাননি। এতে বোরোর ফলন ব্যাহত হয়েছে। তৃতীয়ত, ২০-২১ মে উপকূলীয় জেলাগুলো এবং উপকূলীয় নয় এমন ১৭টি জেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে ৪৭ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বোরোর উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে।

তাছাড়া করোনা আতঙ্ক ও দীর্ঘায়িত খরার কারণে এবার আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৫-১৫ শতাংশ পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। খাদ্যমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, এবার আউশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা (৩৬ লাখ টন) অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সম্প্রতি দৈনিক বণিক বার্তায় বলা হয়েছে, করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমেছে ৮০ শতাংশ। কর্মসংস্থানের সুযোগ হ্রাস মানে বেকারত্ব বৃদ্ধি। আর বেকারত্ব ও দারিদ্র্য একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। গত জুনে একাধিক বেসরকারি গবেষণা সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬ মার্চ থেকে মে পর্যন্ত করোনা মহামারীতে লকডাউনের মতো অবস্থা সৃষ্টির কারণে দেশে দারিদ্র্য হার ৩৫ শতাংশে বৃদ্ধি পায়, যা সরকারের দাবি মোতাবেক ২০১৯-এ ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (এফএফপি) মাধ্যমে সরকার চলতি অর্থবছরে ৫০ লাখ গরিব ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে প্রতিমাসে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে কমবেশি ১১ লাখ টন চাল দরকার হবে। চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার ঋণাত্মক হওয়ায় দেশে উৎপাদিত চাল দিয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য মোতাবেক, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের প্রধান খাদ্য মোটা চালের দাম বর্তমানে কেজিপ্রতি ৪৫ টাকা। মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে কোনো কোনো পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়া হলে ২০১৭ সালের নজিরবিহীন মোটা চালের দাম (কেজিপ্রতি ৫২ টাকা) ছুঁতে বেশি দিন সময় লাগবে না। এফএফপি কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গে ওএমএস কর্মসূচিতে চাল বিক্রিরও সময় এসেছে। এতে সরকারের অতিরিক্ত চালের প্রয়োজন হবে।

চীনসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে নোভেল করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ এসে লেগেছে। দক্ষিণ এশিয়াসহ অন্যান্য দেশ বা অঞ্চলেও এ ঢেউ এসে পড়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। তেমনটি হলে চালের রফতানি বাজার সংকুচিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। আমাদের স্মরণে রাখতে হবে ২০০৭-০৮ অর্থবছরের কথা, যখন বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কয়েকটি চাল রফতানিকারক দেশ চাল রফতানি বন্ধ বা সীমিত করে দিয়েছিল। দেশের তৎকালীন সরকারকে চাল রফতানি করতে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল। বর্তমানে চাল রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও মিয়ানমার। ২০১৭ সালেও চাল আমদানি করলে ইন্দোনেশিয়া এখন চাল রফতানিকারক দেশগুলোর ক্লাবে ঢুকে পড়েছে। অন্যদিকে চাল আমাদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিলিপাইন, চীন, ইইউ, নাইজেরিয়া, আইভোরিকোস্টসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশ। বৈশ্বিক করোনাভাইরাসের স্থায়িত্ব দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বৃদ্ধিসহ আমদানিতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই আমাদের উচিত হবে প্রয়োজনীয় চাল আমদানি ত্বরান্বিত করা।

চাল আমদানিতে সরকারকে যেসব বিষয় স্মরণে রাখতে হবে সেগুলো মধ্যে রয়েছে- ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে চালের প্রকৃত উৎপাদন, সরকারি গুদামে ও বেসরকারি খাতে (মিল মালিক, চাল ব্যবসায়ী, কৃষকের কাছে) বর্তমানে চালের প্রকৃত মজুদ, গরিব ও নিম্নবিত্তদের মাঝে কেজিপ্রতি ১০ টাকা দরে চাল বিক্রি, ওএমএস পরিচালনা, স্ট্যাটিউটরি রেশনিংয়ের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিসহ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত চালের সম্ভাব্য চাহিদা এবং পর পর দু’বার বন্যায় এবং আগামী সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য বন্যায় আমন আবাদের ক্ষতি।

সবশেষে বলতে চাই, চলমান পরিস্থিতিতে সরকারের চাল আমদানির সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে। উপর্যুক্ত ফ্যাক্টরগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণ চাল আমদানি করতে হবে। আর চাল আমদানিতে দেরি করা সমীচীন হবে না। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল আমদানি করা না হয়। তাহলে আগামী দিনে আমাদের কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। মোট কথা, ২০১৭ সালের চাল সংকটের যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে।

আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক খাদ্য সচিব, কলাম লেখক

[email protected]