চামড়া শিল্প রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা প্রয়োজন
jugantor
চামড়া শিল্প রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা প্রয়োজন

  ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও ড. ইসমত আরা বেগম  

১২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাজার অর্থনীতিতে জোগান ও চাহিদার সমতায় দাম নির্ধারিত হয়। অতিরিক্ত জোগান হলে দাম কমে যায় আর অতিরিক্ত চাহিদা থাকলে দাম বেড়ে যায়। এ অবস্থায় বাজার কুশীলবরা ভিন্ন কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে না।

কিন্তু বাস্তবিক অর্থে এ আদর্শিক অবস্থা যখন বিরাজ করে না, তখনই বাজারকে সঠিকভাবে কাজ করানোর জন্য বাজারে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়। করোনাকালীন চামড়া শিল্পে কোনো অবস্থায়ই বাজার ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি; যদিও এ সময়ে কমবেশি সব খাতই প্রভাবিত হচ্ছে।

ব্যাপ্তি কোথাও কম কিংবা কোথাও বেশি। এ ব্যাপ্তি কমিয়ে আনার জন্য কিংবা কমিয়ে রাখার জন্য সরকার নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চামড়া শিল্প বাংলাদেশে গার্মেন্টের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত হলেও এবারসহ গত কয়েক বছর দামের বিপর্যয় এ খাতের ভবিষ্যৎকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

২০১৩ সালের কোরবানি ঈদে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৮৫-৯০ টাকা এবং খাসির চামড়ার দাম ৫০-৫৫ টাকা থাকলেও ২০১৮ ও ২০১৯ সালে সেই দাম যথাক্রমে ৪০-৫০ টাকা এবং ১৮-২০ টাকায় নেমে আসে।

গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে সরকার ২০২০ সালের ঈদুল আজহার আগে চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা করেছে। দেশে করোনা, বন্যা ও আন্তর্জাতিক বাজার বিবেচনা করে প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম গত বছরের তুলনায় আবারও কমিয়ে ঢাকার ভেতর গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৩৫-৪০ টাকা ও ঢাকার বাইরে গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ২৮-৩২ টাকা এবং সারা দেশে খাসির চামড়া ১৩-১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সংগ্রহ বাবদ শ্রমিক খরচ, লবণ খরচ ও মুনাফা বাদ দিয়েও বড়, মাঝারি ও ছোট চামড়ার দাম যথাক্রমে ১৫০০, ১০০০ ও ৬০০ টাকা। অথচ গরুর চামড়া ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ছাগলের চামড়া ৫-১৫ টাকায় বিক্রয় হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে খাসির চামড়া বিনামূল্যে কিংবা এক কাপ চায়ের বিনিময়ে বিক্রয় হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদমতে, বিক্রয় করতে না পারার কারণে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে চামড়া ফেলে দেয়া কিংবা চট্টগ্রামে ট্রাকভর্তি চামড়া পুঁতে ফেলার খবর কেবল অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়করই নয়; বরং পরিবেশকে করছে মারাত্মকভাবে; মানসিকভাবে বিপর্যস্তও করেছে আমাদের।

কোরবানির পশুর চামড়া (প্রায় ৪৮ ভাগ) থেকেই দেশের সর্বাধিক কাঁচা চামড়ার চাহিদা পূরণ করা হয়। প্রতিবছর সর্বমোট ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া উৎপাদিত হয়ে থাকে। রফতানি খাতে বর্তমানে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের অবদান প্রায় ৯ শতাংশ। বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে রফতানি আয় হয়েছিল ১০৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। কিন্তু ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬.০৬ শতাংশ কমে তা দাঁড়িয়েছিল ১০১ কোটি ডলারে। সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রফতানি হয়েছে ৬৩ কোটি ১৮ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৯ শতাংশ কম। ২০২০-২১ সালে এর পরিমাণ কোথায় দাঁড়াবে, কে জানে!

কোরবানির ঈদে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে বেপারির মাধ্যমে অথবা সরাসরি আড়তদারদের কাছে চামড়া বিক্রয় করে থাকে। কখনও কখনও কোরবানিদাতা নিজে বিক্রয় করে সেই টাকা মাদ্রাসা বা এতিমখানায় দিয়ে থাকেন।

এবার দাম অত্যন্ত কম হওয়ায় অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া কিনতে যায়নি অথবা যারা চামড়া কিনেছে, তারা বিক্রয় করতে পারেনি। ফলে বঞ্চিত হয়েছে মাদ্রাসা বা এতিমখানা; পাশাপাশি মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ট্যানারি মালিকরা প্রতিবছর রফতানির জন্য ১৫ থেকে ১৬ কোটি বর্গফুট চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন, যার অর্ধেকই আসে কোরবানির পশুর চামড়া থেকে। সে অনুযায়ী ৮ কোটি বর্গফুট চামড়া সরকার নির্ধারিত গড় দামে (৩০ টাকা বর্গফুট) বিক্রয় করা সম্ভব হলে তার বাজারমূল্য দাঁড়ায় ২৪০ কোটি টাকা, যা আমাদের অর্থনীতিতে; বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

২০২০ সালসহ গত কয়েক বছর ঈদুল আজহায় কোরবানির চামড়া নিয়ে বাজারে অস্থিরতা, চামড়ার নির্ধারিত দাম না মানা, বকেয়া আদায়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দেনদরবারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তৈরি হয় এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিবেশ। চামড়ার দরপতন নিয়ে আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চামড়ার বাজারকে করে তুলেছে অস্থিতিশীল। বাংলাদেশ ট্যানারি মালিক সমিতি বলেছে, অধিক মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে আড়তদাররা দাম কমিয়ে রাখছে।

অন্যদিকে অন্যবারের মতো এবারও আড়তদাররা বলছে, ট্যানারি মালিকরা তাদের পাওনা পরিশোধ করছে না বিধায় অর্থের অভাবে তারা চামড়া কিনতে পারছে না। বাংলাদেশ ফিনিসড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ট্যানারি মালিকরা লবণযুক্ত চামড়া সরকার নির্ধারিত দামেই কিনবেন। তারা আরও বলেছে, অতিরিক্ত মুনাফার জন্যই নাকি আড়তদাররা দাম কমিয়ে কিনছে। দেখা যাচ্ছে, বিগত বছরগুলোর মতো পরস্পরকে দোষারোপের সেই একই খেলা চলছে। প্রশ্ন হল, এ খেলা কি বছরের পর বছর চলতেই থাকবে? সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করলেও তা কেউ মানেনি! এটা কী করে সম্ভব?

ব্যবসায়ীদের মতে, বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়া ও কাঁচা চামড়া কিনতে পর্যাপ্ত ব্যাংক ঋণ না পাওয়ার কারণে কোরবানির চামড়া সংগ্রহ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। সরকার বলছে, চামড়া কেনার জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থের সংস্থান করা হয়েছে।

জনতা ব্যাংক চামড়া কিনতে সবচেয়ে বেশি ঋণ দিয়ে থাকে; কিন্তু চামড়া খাতের এক ক্রিসেন্ট গ্রুপের কাছে জনতা ব্যাংকের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে। বাংলাদেক শ ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক, ব্যাংকগুলোর ৬৮০ কোটি টাকা দেয়ার কথা থাকলেও কেবল ২৩০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে ৪টি সরকারি ব্যাংক। গত কয়েবছরের হিসাবমতে, যদি কাঁচা চামড়ার বাজারমূল্য ধরা হয় মোট মূল্যের এক-চতুর্থাংশ, তাহলে তা দাঁড়ায় ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। মোট বণ্টনকৃত ঋণ ২৩০ কোটি টাকা হল (সোনালী ব্যাংক ২৫ কোটি, রূপালী ব্যাংক ৩৪ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ৫১ কোটি ও জনতা ব্যাংক ১২০ কোটি টাকা) মোট বাজারমূল্যের মাত্র ১০ ভাগের ১ ভাগ। সুতরাং, এ থেকে প্রতীয়মান হয়, অর্থের স্বল্পতাও প্রভাব ফেলেছে চামড়ার দামের এ বিপর্যয়ের ওপর।

সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় চামড়া খাতকে বাঁচানোর জন্য এ মুহূর্তে প্রয়োজন- শক্তিশালী ‘চামড়া বোর্ড’ গঠনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত চামড়ার বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে কি না, সেটা তদারকি করা।

একই সঙ্গে প্রয়োজন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত দামে কাঁচা চামড়া বেচাকেনা নিশ্চিত করতে এবং কাঁচা চামড়ার গুণাগুণ যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য স্থানীয়ভাবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চামড়া সংরক্ষণের জন্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি লক্ষ রাখার নির্দেশ প্রদান। ‘চামড়া বোর্ড’ সব বিষয়ের দেখাশোনা করবে। শুধু কলসেন্টার দিয়ে চামড়ার বাজারে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয়।

আশির দশকের শেষ পর্যন্ত ওয়েট-ব্লু চামড়া আড়তদারদের বিদেশে রফতানির সুযোগ ছিল। কিন্তু পরে ট্যানারি মালিকদের বিরোধিতার কারণে সরকার সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। সরকার কেস-টু-কেস পদ্ধতিতে শর্তসাপেক্ষে ওয়েট-ব্লু চামড়া রফতানির সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরও চামড়ার দামে এ বিপর্যয় নেমে এসেছে। এ অবস্থায় করণীয় হল, ওয়েট-ব্লু চামড়া রফতানির অনুমোদন বহাল রাখা।

ট্যানারির মতো আড়তদাররা নিরবচ্ছিন্নভাবে রফতানির অনুমতি পেলে ট্যানারি-নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে এনে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের মধ্যে দোষারোপের খেলা বন্ধ করার জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক প্রতিযোগিতা বাড়ানো।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত, আন্তর্জাতিক চামড়ার বাজারে পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সময়ে সময়ে শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা। চীনের বড় রফতানি বাজার আমেরিকা ও ইউরোপ। করোনা ও বিশ্ব রাজনৈতিক কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চায়না পণ্যের ওপর তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন।

এ সুযোগে বাংলাদেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার দখল করার সুযোগ নিতে পারে। এজন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রক্রিয়াজাতকৃত চামড়ার গুণগতমান বজায় রাখা। বাংলাদেশ থেকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, জাপান, তাইওয়ান ও চীনে রফতানি করা হয়। এসব দেশে করোনা পরিস্থিতি উন্নত হচ্ছে বিধায় সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে যৌথ উদ্যোগে চামড়াজাত পণ্য রফতানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে পারে।

হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্পনগরী স্থানান্তরিত করা হলেও বর্জ্য পরিশোধনাগারের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না করায় মিলছে না চামড়া ওয়ার্কিং গ্রুপের অনুমোদন। এতে ইউরোপের বড় বড় ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে চামড়া কিনছে না। এ কারণে সংকুচিত হয়ে পড়ছে চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।

আধুনিক কলাকৌশলসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ (এসএমই) কর্মসূচি চালু করা প্রয়োজন, যার উদ্দেশ্য হবে স্থানীয় ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সহায়তা করা। সঠিকভাবে চামড়া লবণজাত করে কীভাবে সেলফ-লাইফ বাড়ান যায়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ সহায়তা প্রদান করা। চামড়া পচনশীল বলে প্রয়োজনীয় পরিমাণ হিমায়িত সংরক্ষণাগারের প্রাপ্যতা ও প্রবেশাধিকার সুযোগ বৃদ্ধি করা উচিত। এক্ষেত্রে কাঁচা চামড়াকে শিল্পপণ্য বিবেচনার পরিবর্তে শিল্পপণ্যের কাঁচামাল হিসেবে বিবেচনা করে তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেয়া যেতে পারে।

বিদ্যমান এসএমইদের চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও চামড়া ব্যবসায়ের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা। তাদের চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবসায় রেজিস্ট্রেশন প্রদানসহ প্রয়োজনীয় ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা। তাতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে ও চামড়া খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাবে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যে ক্ষতির শিকার হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে সরকার ঘোষিত বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

এক বছর পর অর্থাৎ ২০২১ সালের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ৫০০ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হলেও গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা থেকে সহজেই অনুমেয়, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। তারপরও এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। ২০২৫ সালের মধ্যে চামড়া রফতানিতে বিশ্বের প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রণীত হয়েছে চামড়া খাতে রফতানির রূপরেখা। কেবল রূপরেখা প্রণয়নের মধ্যে না থেকে তা বাস্তবায়নে শক্ত হাতে চামড়া খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি; আর এজন্য প্রয়োজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা।

ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম : প্রফেসর, কৃষিব্যবসা ও বিপণন বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

ড. ইসমত আরা বেগম : প্রফেসর, কৃষি অর্থনীতি বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

 

চামড়া শিল্প রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা প্রয়োজন

 ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও ড. ইসমত আরা বেগম 
১২ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাজার অর্থনীতিতে জোগান ও চাহিদার সমতায় দাম নির্ধারিত হয়। অতিরিক্ত জোগান হলে দাম কমে যায় আর অতিরিক্ত চাহিদা থাকলে দাম বেড়ে যায়। এ অবস্থায় বাজার কুশীলবরা ভিন্ন কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে না।

কিন্তু বাস্তবিক অর্থে এ আদর্শিক অবস্থা যখন বিরাজ করে না, তখনই বাজারকে সঠিকভাবে কাজ করানোর জন্য বাজারে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়। করোনাকালীন চামড়া শিল্পে কোনো অবস্থায়ই বাজার ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি; যদিও এ সময়ে কমবেশি সব খাতই প্রভাবিত হচ্ছে।

ব্যাপ্তি কোথাও কম কিংবা কোথাও বেশি। এ ব্যাপ্তি কমিয়ে আনার জন্য কিংবা কমিয়ে রাখার জন্য সরকার নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চামড়া শিল্প বাংলাদেশে গার্মেন্টের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত হলেও এবারসহ গত কয়েক বছর দামের বিপর্যয় এ খাতের ভবিষ্যৎকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

২০১৩ সালের কোরবানি ঈদে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৮৫-৯০ টাকা এবং খাসির চামড়ার দাম ৫০-৫৫ টাকা থাকলেও ২০১৮ ও ২০১৯ সালে সেই দাম যথাক্রমে ৪০-৫০ টাকা এবং ১৮-২০ টাকায় নেমে আসে।

গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে সরকার ২০২০ সালের ঈদুল আজহার আগে চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা করেছে। দেশে করোনা, বন্যা ও আন্তর্জাতিক বাজার বিবেচনা করে প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম গত বছরের তুলনায় আবারও কমিয়ে ঢাকার ভেতর গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৩৫-৪০ টাকা ও ঢাকার বাইরে গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ২৮-৩২ টাকা এবং সারা দেশে খাসির চামড়া ১৩-১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সংগ্রহ বাবদ শ্রমিক খরচ, লবণ খরচ ও মুনাফা বাদ দিয়েও বড়, মাঝারি ও ছোট চামড়ার দাম যথাক্রমে ১৫০০, ১০০০ ও ৬০০ টাকা। অথচ গরুর চামড়া ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ছাগলের চামড়া ৫-১৫ টাকায় বিক্রয় হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে খাসির চামড়া বিনামূল্যে কিংবা এক কাপ চায়ের বিনিময়ে বিক্রয় হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদমতে, বিক্রয় করতে না পারার কারণে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে চামড়া ফেলে দেয়া কিংবা চট্টগ্রামে ট্রাকভর্তি চামড়া পুঁতে ফেলার খবর কেবল অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়করই নয়; বরং পরিবেশকে করছে মারাত্মকভাবে; মানসিকভাবে বিপর্যস্তও করেছে আমাদের।

কোরবানির পশুর চামড়া (প্রায় ৪৮ ভাগ) থেকেই দেশের সর্বাধিক কাঁচা চামড়ার চাহিদা পূরণ করা হয়। প্রতিবছর সর্বমোট ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া উৎপাদিত হয়ে থাকে। রফতানি খাতে বর্তমানে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের অবদান প্রায় ৯ শতাংশ। বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে রফতানি আয় হয়েছিল ১০৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। কিন্তু ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬.০৬ শতাংশ কমে তা দাঁড়িয়েছিল ১০১ কোটি ডলারে। সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রফতানি হয়েছে ৬৩ কোটি ১৮ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৯ শতাংশ কম। ২০২০-২১ সালে এর পরিমাণ কোথায় দাঁড়াবে, কে জানে!

কোরবানির ঈদে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে বেপারির মাধ্যমে অথবা সরাসরি আড়তদারদের কাছে চামড়া বিক্রয় করে থাকে। কখনও কখনও কোরবানিদাতা নিজে বিক্রয় করে সেই টাকা মাদ্রাসা বা এতিমখানায় দিয়ে থাকেন।

এবার দাম অত্যন্ত কম হওয়ায় অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া কিনতে যায়নি অথবা যারা চামড়া কিনেছে, তারা বিক্রয় করতে পারেনি। ফলে বঞ্চিত হয়েছে মাদ্রাসা বা এতিমখানা; পাশাপাশি মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ট্যানারি মালিকরা প্রতিবছর রফতানির জন্য ১৫ থেকে ১৬ কোটি বর্গফুট চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন, যার অর্ধেকই আসে কোরবানির পশুর চামড়া থেকে। সে অনুযায়ী ৮ কোটি বর্গফুট চামড়া সরকার নির্ধারিত গড় দামে (৩০ টাকা বর্গফুট) বিক্রয় করা সম্ভব হলে তার বাজারমূল্য দাঁড়ায় ২৪০ কোটি টাকা, যা আমাদের অর্থনীতিতে; বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

২০২০ সালসহ গত কয়েক বছর ঈদুল আজহায় কোরবানির চামড়া নিয়ে বাজারে অস্থিরতা, চামড়ার নির্ধারিত দাম না মানা, বকেয়া আদায়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দেনদরবারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তৈরি হয় এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিবেশ। চামড়ার দরপতন নিয়ে আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চামড়ার বাজারকে করে তুলেছে অস্থিতিশীল। বাংলাদেশ ট্যানারি মালিক সমিতি বলেছে, অধিক মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে আড়তদাররা দাম কমিয়ে রাখছে।

অন্যদিকে অন্যবারের মতো এবারও আড়তদাররা বলছে, ট্যানারি মালিকরা তাদের পাওনা পরিশোধ করছে না বিধায় অর্থের অভাবে তারা চামড়া কিনতে পারছে না। বাংলাদেশ ফিনিসড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ট্যানারি মালিকরা লবণযুক্ত চামড়া সরকার নির্ধারিত দামেই কিনবেন। তারা আরও বলেছে, অতিরিক্ত মুনাফার জন্যই নাকি আড়তদাররা দাম কমিয়ে কিনছে। দেখা যাচ্ছে, বিগত বছরগুলোর মতো পরস্পরকে দোষারোপের সেই একই খেলা চলছে। প্রশ্ন হল, এ খেলা কি বছরের পর বছর চলতেই থাকবে? সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করলেও তা কেউ মানেনি! এটা কী করে সম্ভব?

ব্যবসায়ীদের মতে, বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়া ও কাঁচা চামড়া কিনতে পর্যাপ্ত ব্যাংক ঋণ না পাওয়ার কারণে কোরবানির চামড়া সংগ্রহ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। সরকার বলছে, চামড়া কেনার জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থের সংস্থান করা হয়েছে।

জনতা ব্যাংক চামড়া কিনতে সবচেয়ে বেশি ঋণ দিয়ে থাকে; কিন্তু চামড়া খাতের এক ক্রিসেন্ট গ্রুপের কাছে জনতা ব্যাংকের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে। বাংলাদেক শ ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক, ব্যাংকগুলোর ৬৮০ কোটি টাকা দেয়ার কথা থাকলেও কেবল ২৩০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে ৪টি সরকারি ব্যাংক। গত কয়েবছরের হিসাবমতে, যদি কাঁচা চামড়ার বাজারমূল্য ধরা হয় মোট মূল্যের এক-চতুর্থাংশ, তাহলে তা দাঁড়ায় ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। মোট বণ্টনকৃত ঋণ ২৩০ কোটি টাকা হল (সোনালী ব্যাংক ২৫ কোটি, রূপালী ব্যাংক ৩৪ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ৫১ কোটি ও জনতা ব্যাংক ১২০ কোটি টাকা) মোট বাজারমূল্যের মাত্র ১০ ভাগের ১ ভাগ। সুতরাং, এ থেকে প্রতীয়মান হয়, অর্থের স্বল্পতাও প্রভাব ফেলেছে চামড়ার দামের এ বিপর্যয়ের ওপর।

সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় চামড়া খাতকে বাঁচানোর জন্য এ মুহূর্তে প্রয়োজন- শক্তিশালী ‘চামড়া বোর্ড’ গঠনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত চামড়ার বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে কি না, সেটা তদারকি করা।

একই সঙ্গে প্রয়োজন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত দামে কাঁচা চামড়া বেচাকেনা নিশ্চিত করতে এবং কাঁচা চামড়ার গুণাগুণ যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য স্থানীয়ভাবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চামড়া সংরক্ষণের জন্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি লক্ষ রাখার নির্দেশ প্রদান। ‘চামড়া বোর্ড’ সব বিষয়ের দেখাশোনা করবে। শুধু কলসেন্টার দিয়ে চামড়ার বাজারে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয়।

আশির দশকের শেষ পর্যন্ত ওয়েট-ব্লু চামড়া আড়তদারদের বিদেশে রফতানির সুযোগ ছিল। কিন্তু পরে ট্যানারি মালিকদের বিরোধিতার কারণে সরকার সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। সরকার কেস-টু-কেস পদ্ধতিতে শর্তসাপেক্ষে ওয়েট-ব্লু চামড়া রফতানির সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরও চামড়ার দামে এ বিপর্যয় নেমে এসেছে। এ অবস্থায় করণীয় হল, ওয়েট-ব্লু চামড়া রফতানির অনুমোদন বহাল রাখা।

ট্যানারির মতো আড়তদাররা নিরবচ্ছিন্নভাবে রফতানির অনুমতি পেলে ট্যানারি-নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে এনে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের মধ্যে দোষারোপের খেলা বন্ধ করার জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক প্রতিযোগিতা বাড়ানো।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত, আন্তর্জাতিক চামড়ার বাজারে পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সময়ে সময়ে শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা। চীনের বড় রফতানি বাজার আমেরিকা ও ইউরোপ। করোনা ও বিশ্ব রাজনৈতিক কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চায়না পণ্যের ওপর তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন।

এ সুযোগে বাংলাদেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার দখল করার সুযোগ নিতে পারে। এজন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রক্রিয়াজাতকৃত চামড়ার গুণগতমান বজায় রাখা। বাংলাদেশ থেকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, জাপান, তাইওয়ান ও চীনে রফতানি করা হয়। এসব দেশে করোনা পরিস্থিতি উন্নত হচ্ছে বিধায় সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে যৌথ উদ্যোগে চামড়াজাত পণ্য রফতানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে পারে।

হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্পনগরী স্থানান্তরিত করা হলেও বর্জ্য পরিশোধনাগারের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না করায় মিলছে না চামড়া ওয়ার্কিং গ্রুপের অনুমোদন। এতে ইউরোপের বড় বড় ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে চামড়া কিনছে না। এ কারণে সংকুচিত হয়ে পড়ছে চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।

আধুনিক কলাকৌশলসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ (এসএমই) কর্মসূচি চালু করা প্রয়োজন, যার উদ্দেশ্য হবে স্থানীয় ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সহায়তা করা। সঠিকভাবে চামড়া লবণজাত করে কীভাবে সেলফ-লাইফ বাড়ান যায়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ সহায়তা প্রদান করা। চামড়া পচনশীল বলে প্রয়োজনীয় পরিমাণ হিমায়িত সংরক্ষণাগারের প্রাপ্যতা ও প্রবেশাধিকার সুযোগ বৃদ্ধি করা উচিত। এক্ষেত্রে কাঁচা চামড়াকে শিল্পপণ্য বিবেচনার পরিবর্তে শিল্পপণ্যের কাঁচামাল হিসেবে বিবেচনা করে তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেয়া যেতে পারে।

বিদ্যমান এসএমইদের চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও চামড়া ব্যবসায়ের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা। তাদের চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবসায় রেজিস্ট্রেশন প্রদানসহ প্রয়োজনীয় ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা। তাতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে ও চামড়া খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাবে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যে ক্ষতির শিকার হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে সরকার ঘোষিত বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

এক বছর পর অর্থাৎ ২০২১ সালের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ৫০০ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হলেও গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা থেকে সহজেই অনুমেয়, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। তারপরও এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। ২০২৫ সালের মধ্যে চামড়া রফতানিতে বিশ্বের প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রণীত হয়েছে চামড়া খাতে রফতানির রূপরেখা। কেবল রূপরেখা প্রণয়নের মধ্যে না থেকে তা বাস্তবায়নে শক্ত হাতে চামড়া খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি; আর এজন্য প্রয়োজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা।

ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম : প্রফেসর, কৃষিব্যবসা ও বিপণন বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

ড. ইসমত আরা বেগম : প্রফেসর, কৃষি অর্থনীতি বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়