বর্তমান পরিস্থিতিতে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার সমস্যা ও করণীয়
jugantor
বর্তমান পরিস্থিতিতে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার সমস্যা ও করণীয়

  মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের কোভিড-১৯ মহামারী অবস্থার উন্নতি না হলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হয়তো অনলাইনে ক্লাস নেয়ার পাশাপাশি ফাইনাল পরীক্ষাও নিতে হতে পারে। সেই বিবেচনায় আমি আমার কর্মস্থলে (বিশ্ববিদ্যালয়) বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাচের কয়েকটি ক্লাস টেস্ট অনলাইনে FlexiQuiz.com-এর মাধ্যমে নিয়েছি।

উদ্দেশ্য ছিল ফাইনাল পরীক্ষার আগেই অনলাইনে (Flexi Quiz) পরীক্ষার সিস্টেম সম্পর্কে পরীক্ষার্থীদের একটা স্বচ্ছ ধারণা দেয়া। চেষ্টা করেছি, অনলাইন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ সর্বনিম্ন রাখতে এবং পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করে বেশি নম্বর নিতে না পারে।

সে উদ্দেশ্যে আমি কুইজ সেটিংসের সময় নিম্নলিখিত অপশনগুলো ব্যবহার করেছি : ১. Randomize questions (একই সময়ে ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষার্থীর স্ক্রিনে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন দেখাবে)। ২. Randomize options (ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষার্থীর স্ক্রিনে একই অপশনগুলো ভিন্নভাবে বিন্যস্ত থাকবে)। ৩. Page time limit (প্রতি পৃষ্ঠা-প্রশ্নের জন্য আলাদা সময় নির্দিষ্ট থাকবে, ওই সময়ের মধ্যে সঠিক অপশন বা অপশনগুলো সিলেক্ট করতে হবে)।

৪. IQuiz time limit (সম্পূর্ণ পরীক্ষা শেষ করার সর্বোচ্চ সময়)। ৫. Max. Quiz attempt = 1 (একই পরীক্ষা একাধিকবার দেয়ার সুযোগ নেই)। ৬. Used browser attempts tracker (একই ডিভাইস থেকে একই পরীক্ষা একাধিকবার দেয়ার সুযোগ নেই)। ৭. Previous page navigation (সুযোগ রাখা হয়নি)। ৮. ICut/Copy/Paste (সুযোগ রাখা হয়নি)। ৯. IExam Schedule (পূর্বনির্ধারিত সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে Quiæ Open এবং Quiz Close হবে)।

প্রথমদিকে পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে, পরীক্ষা শুরুর আগে আমি পরীক্ষার্থীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলাম। যেহেতু বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী এ সিস্টেমের সঙ্গে আগে থেকে পরিচিত ছিল না, কাজেই নির্দেশনা দেয়ার পরও কিছু পরীক্ষার্থী কিছু কিছু বিষয় বুঝতে পারেনি, আবার কিছু পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে এবং পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করার কারণে কম নম্বর পেয়েছে।

পরীক্ষার্থীদের অনেক অজুহাত এবং অনেক সমস্যার কথা আমাকে জানানো হল। পরবর্তী সময়ে তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করলাম। প্রথম পরীক্ষা নেয়ার পর বুঝলাম, ওই নির্দেশনাগুলো ছাত্রছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না।

আর সিদ্ধান্ত নিলাম, পরীক্ষার আগে পরীক্ষার্থীদের একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা (বাংলায়, ১ম/২য় সেমিস্টারের ছাত্রছাত্রীদের জন্য) দিতে হবে। সে জন্য একটা পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা তৈরির চেষ্টা করলাম, যা পরবর্তী পরীক্ষাগুলোয় পরীক্ষার্থী এবং পরীক্ষক উভয় পক্ষের জন্য অনেক সহায়ক ছিল। নির্দেশনাগুলো নিচে সংযুক্ত করলাম:

অনলাইন পরীক্ষার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা

১. পরীক্ষা শুরুর আগেই FlexiQuiz.com-এর লিঙ্কটি পরীক্ষার্থীর ই-মেইলে বা নির্দিষ্ট ব্যাচের নির্দিষ্ট Messenger group-এ শেয়ার করা হবে। লিঙ্কে ক্লিক করে প্রথমেই পরীক্ষার্থীর পূর্ণ নাম এবং স্টুডেন্ট আইডি (unique) ব্যবহার করে রেজিস্ট্রি করতে হবে।

২. ‘Welcome Page’-এর নির্দেশনাগুলো ভালোভাবে পড়ার পর ‘Start Quiz’ বাটনে ক্লিক করবে। ‘Start Qui’ বাটনে ক্লিক করার পর থেকে সময় গণনা শুরু হবে।

৩. প্রত্যেক page-এ একটি প্রশ্ন থাকবে। প্রতি প্রশ্নের জন্য Page time limit থাকবে, ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঠিক অপশন সিলেক্ট করতে হবে। অন্যথায় ওই প্রশ্নে প্রাপ্ত নম্বর হবে শূন্য।

৪. ‘Start Quiz’ বাটনে ক্লিক করার পর Top Right Corner-এ ‘Total Quiz Time’ এবং ‘Page Time Limit’-এর কাউন্টডাউন দেখা যাবে।

৫. ‘Back Page Navigation’ (পূর্ববর্তী পৃষ্ঠায় যাওয়া বা দেখা)-এর কোনো সুযোগ নেই। কেউ চেষ্টা করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে।

৬. প্রতি Page শুধু একবারই দেখা যাবে, তাই প্রথমে সম্পূর্ণ প্রশ্নটি একবার দেখার পর উত্তর করার চিন্তা করলে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

৭. ‘Start Quiz’ বাটনে ক্লিক করার পর পরীক্ষা শেষ করার আগে কোনো কারণে কেউ যদি Quiz থেকে বের হয়ে যায়, তাহলে সেটার দায় সম্পূর্ণ পরীক্ষার্থীর নিজের। কাজেই পরীক্ষা চলাকালীন কল রিসিভ করা বা Quiz থেকে বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এরূপ কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে।

৮. একাধিকবার Quiz Start করার সুযোগ নেই। কেউ যদি অসদুপায় অবলম্বন করে দ্বিতীয়বার Quiz Start করার চেষ্টা করে, এটি পরীক্ষায় অসদুপায় হিসেবে গণ্য হবে। তার/তাদের পরীক্ষা বাতিল হবে এবং প্রাপ্ত মোট নম্বর হবে শূন্য।

৯. পরীক্ষার সময় ওয়াই-ফাইয়ের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে মোবাইল ডেটা ব্যবহার করাই উত্তম।

১০. উল্লিখিত নির্দেশনাগুলো ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে সমস্যা বা বিশৃঙ্খলা দেখা গেলে কর্তৃপক্ষ/পরীক্ষা কমিটি/পরীক্ষা তদারককারীর গৃহীত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

FlexiQuiz.com-এর Free Plan ব্যবহারের কিছু অসুবিধা এবং সম্ভাব্য সমাধান

FlexiQuiz.com-এ তিনটি আলাদা PLANS (FREE, PREMIUM, ENTERPRISE) আছে। যাতে পরীক্ষকদের (শিক্ষক) পরীক্ষা নেয়ার জন্য কোনো অতিরিক্ত খরচ করতে না হয়, সে বিবেচনায় আমি FlexiQuiz.com-এর Free Plan-টা ব্যবহার করেছি। কাজেই কিছু অসুবিধা (কিন্তু সমাধানসাধ্য) থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না।

অসুবিধা-১ : কোনো পরীক্ষায় ১০টি প্রশ্নের বেশি দেয়া যায় না। সম্ভাব্য সমাধান : ১০টি প্রশ্নের অধিক প্রশ্ন (২০টি বা ৫০টি প্রশ্ন) সহকারে পরীক্ষা নেয়ার উপায় আছে। একাধিক কুইজ (প্রতি কুইজে ১০টি প্রশ্ন) তৈরি করে লিঙ্ক করে দিলে সম্ভব। ১ম কুইজের সঙ্গে ২য় কুইজ, ২য় কুইজের সঙ্গে ৩য় কুইজ লিঙ্ক করলে একটি পরীক্ষায় ৩০টি প্রশ্ন দেয়া সম্ভব। একইভাবে প্রয়োজন অনুসারে ৫০টি বা ১০০টি প্রশ্নসহকারে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব।

অসুবিধা-২ : একসঙ্গে ২০ জনের বেশি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়া যায় না। সম্ভাব্য সমাধান : ২০ জনের অধিক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা একসঙ্গে নেয়া সম্ভব। অনুরূপ দুই সেট প্রশ্ন করে একসঙ্গে ৪০ জনের পরীক্ষা নেয়া আর অনুরূপ তিন সেট প্রশ্ন করে একসঙ্গে ৬০ জনের পরীক্ষা নেয়া সম্ভব। একইভাবে প্রয়োজনে ১০০ জন পরীক্ষার্থীরও পরীক্ষা নেয়া সম্ভব।

অসুবিধা-৩ : পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রশ্নের Screenshots নিয়ে অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করে।

সম্ভাব্য সমাধান : এ সমস্যা সমাধানে আমি দুটি ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। প্রথমত, যৌক্তিক সময় (Reasonable time) দেয়া হয়; অতিরিক্ত সময় দেয়া হয় না, যাতে সিস্টেমের অপব্যবহার করতে না পারে। দ্বিতীয়ত, Randomize options সেট করা থাকে। কাজেই ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষার্থীর স্ক্রিনে একই অপশন ভিন্নভাবে বিন্যস্ত থাকবে।

অনলাইনে পরীক্ষায় উত্তরপত্র ছবি তুলে আপলোড করার ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধা এবং সম্ভাব্য সমাধান : অনেক পরীক্ষক (শিক্ষক) পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে, ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্ন দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তরপত্রের ছবি তুলে আপলোড করার পদ্ধতি অনুসরণ করেন। অনলাইনে পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্রের ছবি তুলে আপলোড করার ক্ষেত্রে আমি ফেসবুক মেসেঞ্জার অ্যাপ ব্যবহার করে থাকি। প্রথমেই ব্যাচভিত্তিক সব ছাত্রছাত্রী একটি নির্দিষ্ট মেসেঞ্জার গ্রুপে যুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা করি।

অসুবিধা : এক পরীক্ষার্থীর লেখা উত্তরপত্রের ছবি সংগ্রহ করে অন্যান্য পরীক্ষার্থীও আপলোড করে দেয়।

সম্ভাব্য সমাধান : এ সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আমি দুটি ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। প্রথমত, পরীক্ষার আগে পরীক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেয়া থাকে, ছবি তোলার আগে অবশ্যই প্রতি পৃষ্ঠায় পরীক্ষার্থীর পূর্ণনাম এবং স্টুডেন্ট আইডি লিখতে হবে। হাতে লিখিত নাম এবং আইডি ব্যতীত উত্তরপত্রের কোনো ছবি গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিতীয়ত, ‘Upload Time Limit’ দেয়া থাকে।

ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছবি তুলে আপলোড করতে হবে। অতিরিক্ত সময় দেয়া হয় না, যাতে পরীক্ষার্থীরা সিস্টেমের অপব্যবহার করতে না পারে; কিন্তু যৌক্তিক সময় (Reasonable time)-এর চেয়ে কিছুটা বেশি সময় দিতে হবে। পরবর্তী সময়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপলোড করেছে কি না, সেটি ছবিতে ক্লিক করে info দেখলে হয়, যেখানে ছবি আপলোডের সময়টা (অপরিবর্তনীয়) রেকর্ড করা থাকে।

দেশের এ কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতিতে, FlexiQuiz.com ব্যবহার করে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ সর্বনিম্ন রাখা সম্ভব; কিন্তু পরীক্ষা নেয়ার আগে একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ গাইডলাইন তৈরি করে ছাত্রছাত্রীদের জানাতে হবে এবং কিছু ট্রায়াল ভিত্তিতে পরীক্ষা নেয়ার মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের স্বচ্ছ ধারণা দিতে হবে।

মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম : সহকারী অধ্যাপক, পদার্থবিদ্যা, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, কুমিল্লা সেনানিবাস

বর্তমান পরিস্থিতিতে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার সমস্যা ও করণীয়

 মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের কোভিড-১৯ মহামারী অবস্থার উন্নতি না হলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হয়তো অনলাইনে ক্লাস নেয়ার পাশাপাশি ফাইনাল পরীক্ষাও নিতে হতে পারে। সেই বিবেচনায় আমি আমার কর্মস্থলে (বিশ্ববিদ্যালয়) বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাচের কয়েকটি ক্লাস টেস্ট অনলাইনে FlexiQuiz.com-এর মাধ্যমে নিয়েছি।

উদ্দেশ্য ছিল ফাইনাল পরীক্ষার আগেই অনলাইনে (Flexi Quiz) পরীক্ষার সিস্টেম সম্পর্কে পরীক্ষার্থীদের একটা স্বচ্ছ ধারণা দেয়া। চেষ্টা করেছি, অনলাইন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ সর্বনিম্ন রাখতে এবং পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করে বেশি নম্বর নিতে না পারে।

সে উদ্দেশ্যে আমি কুইজ সেটিংসের সময় নিম্নলিখিত অপশনগুলো ব্যবহার করেছি : ১. Randomize questions (একই সময়ে ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষার্থীর স্ক্রিনে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন দেখাবে)। ২. Randomize options (ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষার্থীর স্ক্রিনে একই অপশনগুলো ভিন্নভাবে বিন্যস্ত থাকবে)। ৩. Page time limit (প্রতি পৃষ্ঠা-প্রশ্নের জন্য আলাদা সময় নির্দিষ্ট থাকবে, ওই সময়ের মধ্যে সঠিক অপশন বা অপশনগুলো সিলেক্ট করতে হবে)।

৪. IQuiz time limit (সম্পূর্ণ পরীক্ষা শেষ করার সর্বোচ্চ সময়)। ৫. Max. Quiz attempt = 1 (একই পরীক্ষা একাধিকবার দেয়ার সুযোগ নেই)। ৬. Used browser attempts tracker (একই ডিভাইস থেকে একই পরীক্ষা একাধিকবার দেয়ার সুযোগ নেই)। ৭. Previous page navigation (সুযোগ রাখা হয়নি)। ৮. ICut/Copy/Paste (সুযোগ রাখা হয়নি)। ৯. IExam Schedule (পূর্বনির্ধারিত সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে Quiæ Open এবং Quiz Close হবে)।

প্রথমদিকে পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে, পরীক্ষা শুরুর আগে আমি পরীক্ষার্থীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলাম। যেহেতু বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী এ সিস্টেমের সঙ্গে আগে থেকে পরিচিত ছিল না, কাজেই নির্দেশনা দেয়ার পরও কিছু পরীক্ষার্থী কিছু কিছু বিষয় বুঝতে পারেনি, আবার কিছু পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে এবং পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করার কারণে কম নম্বর পেয়েছে।

পরীক্ষার্থীদের অনেক অজুহাত এবং অনেক সমস্যার কথা আমাকে জানানো হল। পরবর্তী সময়ে তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করলাম। প্রথম পরীক্ষা নেয়ার পর বুঝলাম, ওই নির্দেশনাগুলো ছাত্রছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না।

আর সিদ্ধান্ত নিলাম, পরীক্ষার আগে পরীক্ষার্থীদের একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা (বাংলায়, ১ম/২য় সেমিস্টারের ছাত্রছাত্রীদের জন্য) দিতে হবে। সে জন্য একটা পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা তৈরির চেষ্টা করলাম, যা পরবর্তী পরীক্ষাগুলোয় পরীক্ষার্থী এবং পরীক্ষক উভয় পক্ষের জন্য অনেক সহায়ক ছিল। নির্দেশনাগুলো নিচে সংযুক্ত করলাম:

অনলাইন পরীক্ষার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা

১. পরীক্ষা শুরুর আগেই FlexiQuiz.com-এর লিঙ্কটি পরীক্ষার্থীর ই-মেইলে বা নির্দিষ্ট ব্যাচের নির্দিষ্ট Messenger group-এ শেয়ার করা হবে। লিঙ্কে ক্লিক করে প্রথমেই পরীক্ষার্থীর পূর্ণ নাম এবং স্টুডেন্ট আইডি (unique) ব্যবহার করে রেজিস্ট্রি করতে হবে।

২. ‘Welcome Page’-এর নির্দেশনাগুলো ভালোভাবে পড়ার পর ‘Start Quiz’ বাটনে ক্লিক করবে। ‘Start Qui’ বাটনে ক্লিক করার পর থেকে সময় গণনা শুরু হবে।

৩. প্রত্যেক page-এ একটি প্রশ্ন থাকবে। প্রতি প্রশ্নের জন্য Page time limit থাকবে, ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঠিক অপশন সিলেক্ট করতে হবে। অন্যথায় ওই প্রশ্নে প্রাপ্ত নম্বর হবে শূন্য।

৪. ‘Start Quiz’ বাটনে ক্লিক করার পর Top Right Corner-এ ‘Total Quiz Time’ এবং ‘Page Time Limit’-এর কাউন্টডাউন দেখা যাবে।

৫. ‘Back Page Navigation’ (পূর্ববর্তী পৃষ্ঠায় যাওয়া বা দেখা)-এর কোনো সুযোগ নেই। কেউ চেষ্টা করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে।

৬. প্রতি Page শুধু একবারই দেখা যাবে, তাই প্রথমে সম্পূর্ণ প্রশ্নটি একবার দেখার পর উত্তর করার চিন্তা করলে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

৭. ‘Start Quiz’ বাটনে ক্লিক করার পর পরীক্ষা শেষ করার আগে কোনো কারণে কেউ যদি Quiz থেকে বের হয়ে যায়, তাহলে সেটার দায় সম্পূর্ণ পরীক্ষার্থীর নিজের। কাজেই পরীক্ষা চলাকালীন কল রিসিভ করা বা Quiz থেকে বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এরূপ কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে।

৮. একাধিকবার Quiz Start করার সুযোগ নেই। কেউ যদি অসদুপায় অবলম্বন করে দ্বিতীয়বার Quiz Start করার চেষ্টা করে, এটি পরীক্ষায় অসদুপায় হিসেবে গণ্য হবে। তার/তাদের পরীক্ষা বাতিল হবে এবং প্রাপ্ত মোট নম্বর হবে শূন্য।

৯. পরীক্ষার সময় ওয়াই-ফাইয়ের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে মোবাইল ডেটা ব্যবহার করাই উত্তম।

১০. উল্লিখিত নির্দেশনাগুলো ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে সমস্যা বা বিশৃঙ্খলা দেখা গেলে কর্তৃপক্ষ/পরীক্ষা কমিটি/পরীক্ষা তদারককারীর গৃহীত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

FlexiQuiz.com-এর Free Plan ব্যবহারের কিছু অসুবিধা এবং সম্ভাব্য সমাধান

FlexiQuiz.com-এ তিনটি আলাদা PLANS (FREE, PREMIUM, ENTERPRISE) আছে। যাতে পরীক্ষকদের (শিক্ষক) পরীক্ষা নেয়ার জন্য কোনো অতিরিক্ত খরচ করতে না হয়, সে বিবেচনায় আমি FlexiQuiz.com-এর Free Plan-টা ব্যবহার করেছি। কাজেই কিছু অসুবিধা (কিন্তু সমাধানসাধ্য) থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না।

অসুবিধা-১ : কোনো পরীক্ষায় ১০টি প্রশ্নের বেশি দেয়া যায় না। সম্ভাব্য সমাধান : ১০টি প্রশ্নের অধিক প্রশ্ন (২০টি বা ৫০টি প্রশ্ন) সহকারে পরীক্ষা নেয়ার উপায় আছে। একাধিক কুইজ (প্রতি কুইজে ১০টি প্রশ্ন) তৈরি করে লিঙ্ক করে দিলে সম্ভব। ১ম কুইজের সঙ্গে ২য় কুইজ, ২য় কুইজের সঙ্গে ৩য় কুইজ লিঙ্ক করলে একটি পরীক্ষায় ৩০টি প্রশ্ন দেয়া সম্ভব। একইভাবে প্রয়োজন অনুসারে ৫০টি বা ১০০টি প্রশ্নসহকারে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব।

অসুবিধা-২ : একসঙ্গে ২০ জনের বেশি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়া যায় না। সম্ভাব্য সমাধান : ২০ জনের অধিক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা একসঙ্গে নেয়া সম্ভব। অনুরূপ দুই সেট প্রশ্ন করে একসঙ্গে ৪০ জনের পরীক্ষা নেয়া আর অনুরূপ তিন সেট প্রশ্ন করে একসঙ্গে ৬০ জনের পরীক্ষা নেয়া সম্ভব। একইভাবে প্রয়োজনে ১০০ জন পরীক্ষার্থীরও পরীক্ষা নেয়া সম্ভব।

অসুবিধা-৩ : পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রশ্নের Screenshots নিয়ে অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করে।

সম্ভাব্য সমাধান : এ সমস্যা সমাধানে আমি দুটি ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। প্রথমত, যৌক্তিক সময় (Reasonable time) দেয়া হয়; অতিরিক্ত সময় দেয়া হয় না, যাতে সিস্টেমের অপব্যবহার করতে না পারে। দ্বিতীয়ত, Randomize options সেট করা থাকে। কাজেই ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষার্থীর স্ক্রিনে একই অপশন ভিন্নভাবে বিন্যস্ত থাকবে।

অনলাইনে পরীক্ষায় উত্তরপত্র ছবি তুলে আপলোড করার ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধা এবং সম্ভাব্য সমাধান : অনেক পরীক্ষক (শিক্ষক) পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে, ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্ন দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তরপত্রের ছবি তুলে আপলোড করার পদ্ধতি অনুসরণ করেন। অনলাইনে পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্রের ছবি তুলে আপলোড করার ক্ষেত্রে আমি ফেসবুক মেসেঞ্জার অ্যাপ ব্যবহার করে থাকি। প্রথমেই ব্যাচভিত্তিক সব ছাত্রছাত্রী একটি নির্দিষ্ট মেসেঞ্জার গ্রুপে যুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা করি।

অসুবিধা : এক পরীক্ষার্থীর লেখা উত্তরপত্রের ছবি সংগ্রহ করে অন্যান্য পরীক্ষার্থীও আপলোড করে দেয়।

সম্ভাব্য সমাধান : এ সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আমি দুটি ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। প্রথমত, পরীক্ষার আগে পরীক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেয়া থাকে, ছবি তোলার আগে অবশ্যই প্রতি পৃষ্ঠায় পরীক্ষার্থীর পূর্ণনাম এবং স্টুডেন্ট আইডি লিখতে হবে। হাতে লিখিত নাম এবং আইডি ব্যতীত উত্তরপত্রের কোনো ছবি গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিতীয়ত, ‘Upload Time Limit’ দেয়া থাকে।

ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছবি তুলে আপলোড করতে হবে। অতিরিক্ত সময় দেয়া হয় না, যাতে পরীক্ষার্থীরা সিস্টেমের অপব্যবহার করতে না পারে; কিন্তু যৌক্তিক সময় (Reasonable time)-এর চেয়ে কিছুটা বেশি সময় দিতে হবে। পরবর্তী সময়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপলোড করেছে কি না, সেটি ছবিতে ক্লিক করে info দেখলে হয়, যেখানে ছবি আপলোডের সময়টা (অপরিবর্তনীয়) রেকর্ড করা থাকে।

দেশের এ কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতিতে, FlexiQuiz.com ব্যবহার করে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ সর্বনিম্ন রাখা সম্ভব; কিন্তু পরীক্ষা নেয়ার আগে একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ গাইডলাইন তৈরি করে ছাত্রছাত্রীদের জানাতে হবে এবং কিছু ট্রায়াল ভিত্তিতে পরীক্ষা নেয়ার মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের স্বচ্ছ ধারণা দিতে হবে।

মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম : সহকারী অধ্যাপক, পদার্থবিদ্যা, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, কুমিল্লা সেনানিবাস