গ্রাম হোক পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র
jugantor
বিশ্ব পর্যটন দিবস
গ্রাম হোক পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র

  মো. ইকবাল সরোয়ার  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। পর্যটনের আর্থিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (UNWTC) উদ্যোগে প্রতিবছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়ে আসছে। পর্যটন শিল্প বর্তমান বিশ্বের বৃহত্তম ও দ্রুতবর্ধনশীল একক শিল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। পৃথিবীর অনেক দেশ শুধু অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ঘটিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে সুদৃঢ় অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছে। কারণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ জাতীয় অর্থনীতিতে রয়েছে পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এ শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বর্তমান বিশ্বে (করোনা মহামারীর আগ পর্যন্ত) প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে ঘুরতে যায় অর্থাৎ প্রতি সাতজনের একজন ট্যুরিস্ট। পর্যটকরা সাধারণত নতুন জায়গা, সংস্কৃতি, খাদ্য ও নতুন অভিজ্ঞতার জন্য পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়, এটাই পর্যটনের ধর্ম। বিশ্বের পর্যটনক্ষেত্র হিসেবে বাংলাদেশ প্রাকৃতিকভাবে অপার সম্ভাবনার দেশ। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, জীববৈচিত্র্য, সুন্দরবন, কক্সবাজার, চারু ও কারুশিল্প, মনোরম পার্বত্য অঞ্চল, সমৃদ্ধ নৃগোষ্ঠী ইত্যাদি এ দেশের পর্যটন আকর্ষণের অন্যতম ক্ষেত্র।

দেশের পর্যটনকে বিশ্বব্যাপী প্রচারের উদ্দেশ্যে এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পর্যটন আইন-২০১০-এর ক্ষমতাবলে সরকার ২০১০ সালে জাতীয় পর্যটন সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (BTB) গঠন করে। এছাড়া Exclusive Tourist Zone গঠন এবং Community Based Tourism (CBT) উন্নয়ন, Eco-Tourism, হোটেল-মোটেল ও সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার।

World Travel and Tourism Council (WTTC)-২০১৮-এর হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ব জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ১১ শতাংশ এবং ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১.৫ বিলিয়ন। কিন্তু ২০২০ সালের শুরু থেকেই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এ খাত সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। করোনাজনিত কারণে ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বে পর্যটক আগমন হ্রাস পেয়েছে ৬৫ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন খাত থেকে বিশ্ব বঞ্চিত হয়েছে ৪৬০ বিলিয়ন ডলার। বর্তমান স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটন খাত স্বাভাবিক হতে দুই থেকে চার বছর লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের হিসাবে, করোনাভাইরাসের কারণে দেশে পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রায় ৪০ লাখ মানুষ জীবন-জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে এবং আয় বন্ধ হওয়ায় তাদের ওপর নির্ভরশীল প্রায় দেড় কোটি মানুষ কঠিন বিপদে রয়েছে। টোয়াবের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে করোনার কারণে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫৭০০ কোটি টাকা।

২০২০ সালের বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল প্রতিপাদ্য- ‘পর্যটন ও গ্রামীণ উন্নয়ন’। কৃষি, মৎস্য ও বনজসম্পদের বাইরে গ্রামীণ পর্যটনও বাংলাদেশের জন্য করোনা-পরবর্তী এক বিশাল সম্ভাবনার ক্ষেত্র হতে পারে। যেমন এ দেশের ধানচাষ পদ্ধতি, গ্রামীণ দেশীয় মৎস্যচাষ, চারু ও কারুশিল্প, তাঁত ও জামদানি, গ্রামীণ পিঠা, পাহাড়ি ঝরনা ও হ্রদ, জুমচাষ ইত্যাদি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রামীণ পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে। কক্সবাজার, সিলেট ও সুন্দরবন ছাড়া গ্রামীণ পর্যটনকে যথাযথভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে পারলে বিদেশি অতিথিদের জন্য পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। এছাড়া দেশের নদী, পাহাড়, হ্রদ, ঝরনা ইত্যাদি অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রামকেন্দ্রিক। এসব জায়গায় পর্যটক আগমন বৃদ্ধি পেলে গ্রামীণ উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল হবে, মজবুত হবে দেশের অর্থনীতিও; মানুষও তার করোনা-পরবর্তী হারানো মনোবল ও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পাবে। এজন্য গ্রামীণ জনপদের শিক্ষা, পরিবেশ ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। এসব যথাযথভাবে পূরণ করতে পারলেই এবারের পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য সার্থকতা অর্জন করবে।

করোনা-পরবর্তী পর্যটনকে ‘আরও উন্নতর অবস্থায়’ ফিরিয়ে আনতে UNWTO তিনটি পর্যায়ে বেশকিছু সুপারিশমালা প্রণয়ন করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিম্নোক্ত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে : ১. পর্যটন সংশ্লিষ্টদের ব্যবসা ধরে রাখা এবং পর্যটন প্রান্তজন ও জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা প্রদান; ২. পর্যটন শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তারল্য সহযোগিতা বৃদ্ধি; ৩. পর্যটনসংশ্লিষ্ট কর, চার্জ, শুল্ক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সহজ করা অথবা মওকুফ করা; ৪. বৈশ্বিক অর্থনৈতিক জরুরি প্যাকেজে পর্যটনকে অন্তর্ভুক্ত করা; ৫. সর্বক্ষেত্রে সব ধরনের যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করা; ৬. পর্যটন খাতে বিনিয়োগ ও পরিচালনায় আর্থিক সাহায্য অথবা প্রণোদনা নিশ্চিত করা; ৭. পর্যটন খাত পুনরুদ্বারে আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজে পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা; এবং ৮. টেকসই পর্যটনের বিষয়টিকে স্থায়ীভাবে জাতীয় কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা।

মো. ইকবাল সরোয়ার : সহযোগী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

বিশ্ব পর্যটন দিবস

গ্রাম হোক পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র

 মো. ইকবাল সরোয়ার 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। পর্যটনের আর্থিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (UNWTC) উদ্যোগে প্রতিবছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়ে আসছে। পর্যটন শিল্প বর্তমান বিশ্বের বৃহত্তম ও দ্রুতবর্ধনশীল একক শিল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। পৃথিবীর অনেক দেশ শুধু অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ঘটিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে সুদৃঢ় অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছে। কারণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ জাতীয় অর্থনীতিতে রয়েছে পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এ শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বর্তমান বিশ্বে (করোনা মহামারীর আগ পর্যন্ত) প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে ঘুরতে যায় অর্থাৎ প্রতি সাতজনের একজন ট্যুরিস্ট। পর্যটকরা সাধারণত নতুন জায়গা, সংস্কৃতি, খাদ্য ও নতুন অভিজ্ঞতার জন্য পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়, এটাই পর্যটনের ধর্ম। বিশ্বের পর্যটনক্ষেত্র হিসেবে বাংলাদেশ প্রাকৃতিকভাবে অপার সম্ভাবনার দেশ। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, জীববৈচিত্র্য, সুন্দরবন, কক্সবাজার, চারু ও কারুশিল্প, মনোরম পার্বত্য অঞ্চল, সমৃদ্ধ নৃগোষ্ঠী ইত্যাদি এ দেশের পর্যটন আকর্ষণের অন্যতম ক্ষেত্র।

দেশের পর্যটনকে বিশ্বব্যাপী প্রচারের উদ্দেশ্যে এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পর্যটন আইন-২০১০-এর ক্ষমতাবলে সরকার ২০১০ সালে জাতীয় পর্যটন সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (BTB) গঠন করে। এছাড়া Exclusive Tourist Zone গঠন এবং Community Based Tourism (CBT) উন্নয়ন, Eco-Tourism, হোটেল-মোটেল ও সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার।

World Travel and Tourism Council (WTTC)-২০১৮-এর হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ব জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ১১ শতাংশ এবং ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১.৫ বিলিয়ন। কিন্তু ২০২০ সালের শুরু থেকেই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এ খাত সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। করোনাজনিত কারণে ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বে পর্যটক আগমন হ্রাস পেয়েছে ৬৫ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন খাত থেকে বিশ্ব বঞ্চিত হয়েছে ৪৬০ বিলিয়ন ডলার। বর্তমান স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটন খাত স্বাভাবিক হতে দুই থেকে চার বছর লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের হিসাবে, করোনাভাইরাসের কারণে দেশে পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রায় ৪০ লাখ মানুষ জীবন-জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে এবং আয় বন্ধ হওয়ায় তাদের ওপর নির্ভরশীল প্রায় দেড় কোটি মানুষ কঠিন বিপদে রয়েছে। টোয়াবের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে করোনার কারণে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫৭০০ কোটি টাকা।

২০২০ সালের বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল প্রতিপাদ্য- ‘পর্যটন ও গ্রামীণ উন্নয়ন’। কৃষি, মৎস্য ও বনজসম্পদের বাইরে গ্রামীণ পর্যটনও বাংলাদেশের জন্য করোনা-পরবর্তী এক বিশাল সম্ভাবনার ক্ষেত্র হতে পারে। যেমন এ দেশের ধানচাষ পদ্ধতি, গ্রামীণ দেশীয় মৎস্যচাষ, চারু ও কারুশিল্প, তাঁত ও জামদানি, গ্রামীণ পিঠা, পাহাড়ি ঝরনা ও হ্রদ, জুমচাষ ইত্যাদি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রামীণ পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে। কক্সবাজার, সিলেট ও সুন্দরবন ছাড়া গ্রামীণ পর্যটনকে যথাযথভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে পারলে বিদেশি অতিথিদের জন্য পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। এছাড়া দেশের নদী, পাহাড়, হ্রদ, ঝরনা ইত্যাদি অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রামকেন্দ্রিক। এসব জায়গায় পর্যটক আগমন বৃদ্ধি পেলে গ্রামীণ উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল হবে, মজবুত হবে দেশের অর্থনীতিও; মানুষও তার করোনা-পরবর্তী হারানো মনোবল ও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পাবে। এজন্য গ্রামীণ জনপদের শিক্ষা, পরিবেশ ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। এসব যথাযথভাবে পূরণ করতে পারলেই এবারের পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য সার্থকতা অর্জন করবে।

করোনা-পরবর্তী পর্যটনকে ‘আরও উন্নতর অবস্থায়’ ফিরিয়ে আনতে UNWTO তিনটি পর্যায়ে বেশকিছু সুপারিশমালা প্রণয়ন করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিম্নোক্ত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে : ১. পর্যটন সংশ্লিষ্টদের ব্যবসা ধরে রাখা এবং পর্যটন প্রান্তজন ও জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা প্রদান; ২. পর্যটন শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তারল্য সহযোগিতা বৃদ্ধি; ৩. পর্যটনসংশ্লিষ্ট কর, চার্জ, শুল্ক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সহজ করা অথবা মওকুফ করা; ৪. বৈশ্বিক অর্থনৈতিক জরুরি প্যাকেজে পর্যটনকে অন্তর্ভুক্ত করা; ৫. সর্বক্ষেত্রে সব ধরনের যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করা; ৬. পর্যটন খাতে বিনিয়োগ ও পরিচালনায় আর্থিক সাহায্য অথবা প্রণোদনা নিশ্চিত করা; ৭. পর্যটন খাত পুনরুদ্বারে আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজে পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা; এবং ৮. টেকসই পর্যটনের বিষয়টিকে স্থায়ীভাবে জাতীয় কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা।

মো. ইকবাল সরোয়ার : সহযোগী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]