করোনায় মানবতার লকডাউন কাম্য নয়
jugantor
করোনায় মানবতার লকডাউন কাম্য নয়

  ড. মো. ফখরুল ইসলাম  

০১ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ছয় মাস আগেও একবার লকডাউন করা হয়েছিল স্পেনের মাদ্রিদ ও কাতালান। আবার নতুন লকডাউন মানতে পারছেন না সেখানকার অধিবাসীরা। এর প্রতিবাদে পুলিশের সঙ্গে সে কী ধস্তাধস্তি! টেলিভিশনে কালো পোশাকের পুলিশের সঙ্গে রাজপথে নারী-পুরুষের মারামারি দেখে মনে হচ্ছিল, কুস্তি খেলা চলছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় সেখানকার মানুষকে পুনরায় ‘ঘরবন্দি’ হওয়ার নির্দেশনা দিতেই এ খেলা দেখল বিশ্ববাসী। করোনায় লকডাউনে কোনো একটি দেশে বা অঞ্চলে মানুষের নড়াচড়া সীমিত করে দেয়া হয়। সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়। যানবাহনের চলাচল থাকে খুবই সীমিত। কেয়ামতের দিন হাশরের মাঠে মানুষ যেমন ‘ইয়া নাফসি’ করবে, ঠিক তেমন অবস্থা হয় ঘরে বন্দি মানুষের মধ্যে।

করোনায় আক্রান্তদের যখন আইসোলেশনে রাখা হয়, সেটা আরেক করুণ পরিবেশ তৈরি করে। বাড়িতে আইসোলেশন তবুও কিছুটা স্বস্তিদায়ক। পরিবারের সদস্যরা হয়তো দয়াপরবশ হয়ে রোগীর কক্ষে উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখে খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের আইসোলেশন থেকে ফিরে আসা একজন রোগী জানিয়েছেন- আইসোলেশনকালীন অবস্থাটা তার কাছে অন্ধকার কবরের মতো মনে হয়েছে।

একুশ দিন আইসোলেশনে তিনি বারবার ‘কবরের মধ্যে আছি’ বলে অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। গলা শুকিয়ে গেলে অনেক হাঁকডাক করলেও কেউ একটু পানি দিতে আসেনি। জিন্দকালেই কবরে থাকার স্বাদ পেয়েছেন তিনি। সেটা ঘটেছে ইউরোপের এক হাসপাতালে; যখন চিকিৎসকরা নিজেরাই সেখানে আক্রান্ত হচ্ছিলেন, এটা তখনকার কথা।

করোনার আগ্রাসী প্রভাবে সারা দুনিয়ায় মানুষের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে। প্রথম ঢেউয়ে কর্মহারা হয়েছেন লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষ। শ্রমিক ছাঁটাই, নতুন নিয়োগ বন্ধ, কলকারখানায় উৎপাদন বন্ধ ‘দিন আনে দিন খায়’ এমন মজুরদের পেটে পাথর বেঁধে বেঁচে থাকার কঠিন ব্রতে ঠেলে দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে। যখন বেঁচে থাকার আর কোনো অবলম্বন নেই, তখন নিরুপায় ও দিশেহারা হয়ে মানুষ রাস্তায় নেমে পড়ে। অন্যায় পথ খুঁজে নেয় অথবা হয়ে ওঠে প্রতিবাদী; যেমন হয়েছে ফিলিস্তিনের মানুষ।

ফিলিস্তিনের জনগণ নিজভূমে পরবাসী। তাদের স্বাধীনতা নেই কোনো কিছু করার। যুগ যুগ ধরে তারা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে লকডাউনের মধ্যে জীবনযাপন করে চলেছে। তাদের হাতে আধুনিক অস্ত্র আসার উপায় নেই। তাই তারা এখনও হাতে পাথর বা মাটির ঢিল নিয়ে আধুনিক মারণাস্ত্রের সামনে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে।

ইসরাইলি সৈন্যদের বোমা, গুলি, ট্যাঙ্ক, বিমান হামলা কোনোটাকেই তারা ভয় পায় না। ছোট ছোট শিশু ও তাদের মায়েরাও প্রতিবাদ করে, জীবন বিসর্জন দেয় অহরহ। করোনার ভয়ে লকডাউনের আগেই তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে লকডাউনের আসল মর্ম কী! যদিও এ দুই লকডাউনের মধ্যে ব্যবহারিক পার্থক্য রয়েছে।

করোনা শুরুর আগে থেকে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিমদের নির্যাতন করা হতো। এখনও আরোপ করা হচ্ছে অবরোধ। করোনা সংক্রমণের মধ্যে কাশ্মীরে শুরু হয়েছে লকডাউন বা অবরোধ। আধুনিক সভ্যতার ধ্বজাধারী কিছু দেশে করোনা যেন মানবতার প্রতি চরম নির্যাতনের প্রতিবাদী বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে।

যারা অস্ত্র-ক্ষমতার আত্মগরিমা ও মিথ্যা-জালিয়াতির বড়াই করে মানুষ হত্যা করত, নিরীহ মানুষকে নিজ জন্মভূমিতে অবরোধ করে রাখত, মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করত, তারা করোনার ভয়ে চুপসে গেছে। করোনা তাদের নাস্তানাবুদ করে ক্ষমতার দম্ভকে ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে। করোনার কালো থাবায় তারা নিজেদের বালাখানায় বসে নিজেরাই লকডাউন সূচিত করে চোরের মতো ঘাপটি মেরে জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছে।

কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন- তারা না হয় খারাপ, তাহলে ভালো মানুষ কেন করোনায় মারা যাচ্ছে? মহামারীতে মৃত্যু ইতিহাসের অংশ। মহামারী কাউকে শাস্তি দেয়, কাউকে শিক্ষা দেয়। ইতিহাসের শিক্ষা হল, মহামারী বা দুর্যোগ শুরু হলে মানুষ যেন ভালো হওয়ার শিক্ষা নেয়। ভালোদের দলে ভিড়ে যায়।

যেমনটি হয়েছিল নূহ নবীর (আ.) সময়ে মহাপ্লাবনে কিস্তি ভাসানোর ঘটনায়। তখন যারা নূহ নবীকে (আ.) সঠিক নবী বলে মেনে নিয়ে কিস্তিতে আরোহণ করেছিল, তারা বেঁচে গিয়েছিল। যারা অবজ্ঞা করে কিস্তিতে ওঠেনি, তারা প্লাবনের পানিতে ডুবে মরেছিল। এমন কী নূহ নবীর (আ.) আপন ছেলেও তাকে অবজ্ঞা করায় ডুবে প্রাণ হারিয়েছিল। অর্থাৎ মহামারী ও বিপর্যয় থেকে মানুষকে ভালো হওয়ার শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

অথচ আমরা দেখছি, করোনা নামক অতিমহামারী এসে মানুষকে চরম শিক্ষা দিলেও কিছু মানুষের বোধোদয় হচ্ছে না। তারা মানবতাকে এখনও অবহেলা করে চলেছে। ন্যায়কে ভুলে, তাচ্ছিল্য করে তারা আরও বেশি অপরাধ করছে, মাদকদ্রব্য গ্রহণ করছে। মাদকের ব্যবসা করে মানুষকে নষ্ট করছে।

কিছু পাপাচারী, পথভ্রষ্ট মানুষ এ কঠিন সময়ে সততার শিক্ষা গ্রহণ না করে আরও ঘৃণ্য, আরও বেপরোয়া জীবনযাপন করছে। তিনটি বিষয় মানুষকে পশুত্বে নামিয়ে দেয়- মাদক, ক্রোধ ও কৃপণতা। করোনার সময় এ তিনটি জিনিসকে বেশি করে প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যাচ্ছে।

শয়তান এ তিনটি জিনিসের মাধ্যমে মানুষকে ভুল পথে নেয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। মুসলমান নামধারী মানুষ ইসলামের পথ ভুলে অনৈসলামিক পন্থায় জীবনযাপন করার জন্য অস্থির হয়ে নানা ধরনের ‘শয়তানি আমলে’ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। করোনার এ কঠিন সময়ে এভাবে ভয়ংকর অপরাধীরা এটাকে মোক্ষম সময় ভেবে মানুষের চরিত্র হনন করতে মাঠে নেমে পড়েছে।

মানুষ এখন আর ঘরবন্দি থাকতে চাচ্ছে না। স্পেনের রাস্তায় মানুষের প্রতিবাদ করোনার প্রতি নয়- যেন তা নতুন ফিলিস্তিন, নতুন কাশ্মীর, নতুন উইঘুরদের মতো নিঃশ্বাস চেপে ধরা মানবতা লুণ্ঠনকারী শাসকদের বিরুদ্ধে নির্যাতিত মানুষের হাতাহাতি-ধস্তাধস্তিকে প্রকাশ করছে।

কোভিড-১৯ ছয় মাসের মধ্যেই যেন গোটা পৃথিবীটাকে অবরোধ করে রেখেছে। এ অবরোধের চাপে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ দিশেহারা, দিগ্ভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ, অভাব ও দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। পৃ

থিবীর মানুষ- ফিরে এসো ন্যায়ের পথে, ছেড়ে দাও সব জুলুম, অন্যায় ও অত্যাচার। অসীম ধৈর্যের পরীক্ষায় জয়ী হয়ে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের মাধ্যমেই কল্যাণ হোক বিশ্বমানবতার। অবসান ঘটুক মানবতার লকডাউনের।

ড. মো. ফখরুল ইসলাম : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান

[email protected]

করোনায় মানবতার লকডাউন কাম্য নয়

 ড. মো. ফখরুল ইসলাম 
০১ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ছয় মাস আগেও একবার লকডাউন করা হয়েছিল স্পেনের মাদ্রিদ ও কাতালান। আবার নতুন লকডাউন মানতে পারছেন না সেখানকার অধিবাসীরা। এর প্রতিবাদে পুলিশের সঙ্গে সে কী ধস্তাধস্তি! টেলিভিশনে কালো পোশাকের পুলিশের সঙ্গে রাজপথে নারী-পুরুষের মারামারি দেখে মনে হচ্ছিল, কুস্তি খেলা চলছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় সেখানকার মানুষকে পুনরায় ‘ঘরবন্দি’ হওয়ার নির্দেশনা দিতেই এ খেলা দেখল বিশ্ববাসী। করোনায় লকডাউনে কোনো একটি দেশে বা অঞ্চলে মানুষের নড়াচড়া সীমিত করে দেয়া হয়। সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়। যানবাহনের চলাচল থাকে খুবই সীমিত। কেয়ামতের দিন হাশরের মাঠে মানুষ যেমন ‘ইয়া নাফসি’ করবে, ঠিক তেমন অবস্থা হয় ঘরে বন্দি মানুষের মধ্যে।

করোনায় আক্রান্তদের যখন আইসোলেশনে রাখা হয়, সেটা আরেক করুণ পরিবেশ তৈরি করে। বাড়িতে আইসোলেশন তবুও কিছুটা স্বস্তিদায়ক। পরিবারের সদস্যরা হয়তো দয়াপরবশ হয়ে রোগীর কক্ষে উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখে খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের আইসোলেশন থেকে ফিরে আসা একজন রোগী জানিয়েছেন- আইসোলেশনকালীন অবস্থাটা তার কাছে অন্ধকার কবরের মতো মনে হয়েছে।

একুশ দিন আইসোলেশনে তিনি বারবার ‘কবরের মধ্যে আছি’ বলে অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। গলা শুকিয়ে গেলে অনেক হাঁকডাক করলেও কেউ একটু পানি দিতে আসেনি। জিন্দকালেই কবরে থাকার স্বাদ পেয়েছেন তিনি। সেটা ঘটেছে ইউরোপের এক হাসপাতালে; যখন চিকিৎসকরা নিজেরাই সেখানে আক্রান্ত হচ্ছিলেন, এটা তখনকার কথা।

করোনার আগ্রাসী প্রভাবে সারা দুনিয়ায় মানুষের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে। প্রথম ঢেউয়ে কর্মহারা হয়েছেন লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষ। শ্রমিক ছাঁটাই, নতুন নিয়োগ বন্ধ, কলকারখানায় উৎপাদন বন্ধ ‘দিন আনে দিন খায়’ এমন মজুরদের পেটে পাথর বেঁধে বেঁচে থাকার কঠিন ব্রতে ঠেলে দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে। যখন বেঁচে থাকার আর কোনো অবলম্বন নেই, তখন নিরুপায় ও দিশেহারা হয়ে মানুষ রাস্তায় নেমে পড়ে। অন্যায় পথ খুঁজে নেয় অথবা হয়ে ওঠে প্রতিবাদী; যেমন হয়েছে ফিলিস্তিনের মানুষ।

ফিলিস্তিনের জনগণ নিজভূমে পরবাসী। তাদের স্বাধীনতা নেই কোনো কিছু করার। যুগ যুগ ধরে তারা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে লকডাউনের মধ্যে জীবনযাপন করে চলেছে। তাদের হাতে আধুনিক অস্ত্র আসার উপায় নেই। তাই তারা এখনও হাতে পাথর বা মাটির ঢিল নিয়ে আধুনিক মারণাস্ত্রের সামনে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে।

ইসরাইলি সৈন্যদের বোমা, গুলি, ট্যাঙ্ক, বিমান হামলা কোনোটাকেই তারা ভয় পায় না। ছোট ছোট শিশু ও তাদের মায়েরাও প্রতিবাদ করে, জীবন বিসর্জন দেয় অহরহ। করোনার ভয়ে লকডাউনের আগেই তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে লকডাউনের আসল মর্ম কী! যদিও এ দুই লকডাউনের মধ্যে ব্যবহারিক পার্থক্য রয়েছে।

করোনা শুরুর আগে থেকে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিমদের নির্যাতন করা হতো। এখনও আরোপ করা হচ্ছে অবরোধ। করোনা সংক্রমণের মধ্যে কাশ্মীরে শুরু হয়েছে লকডাউন বা অবরোধ। আধুনিক সভ্যতার ধ্বজাধারী কিছু দেশে করোনা যেন মানবতার প্রতি চরম নির্যাতনের প্রতিবাদী বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে।

যারা অস্ত্র-ক্ষমতার আত্মগরিমা ও মিথ্যা-জালিয়াতির বড়াই করে মানুষ হত্যা করত, নিরীহ মানুষকে নিজ জন্মভূমিতে অবরোধ করে রাখত, মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করত, তারা করোনার ভয়ে চুপসে গেছে। করোনা তাদের নাস্তানাবুদ করে ক্ষমতার দম্ভকে ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে। করোনার কালো থাবায় তারা নিজেদের বালাখানায় বসে নিজেরাই লকডাউন সূচিত করে চোরের মতো ঘাপটি মেরে জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছে।

কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন- তারা না হয় খারাপ, তাহলে ভালো মানুষ কেন করোনায় মারা যাচ্ছে? মহামারীতে মৃত্যু ইতিহাসের অংশ। মহামারী কাউকে শাস্তি দেয়, কাউকে শিক্ষা দেয়। ইতিহাসের শিক্ষা হল, মহামারী বা দুর্যোগ শুরু হলে মানুষ যেন ভালো হওয়ার শিক্ষা নেয়। ভালোদের দলে ভিড়ে যায়।

যেমনটি হয়েছিল নূহ নবীর (আ.) সময়ে মহাপ্লাবনে কিস্তি ভাসানোর ঘটনায়। তখন যারা নূহ নবীকে (আ.) সঠিক নবী বলে মেনে নিয়ে কিস্তিতে আরোহণ করেছিল, তারা বেঁচে গিয়েছিল। যারা অবজ্ঞা করে কিস্তিতে ওঠেনি, তারা প্লাবনের পানিতে ডুবে মরেছিল। এমন কী নূহ নবীর (আ.) আপন ছেলেও তাকে অবজ্ঞা করায় ডুবে প্রাণ হারিয়েছিল। অর্থাৎ মহামারী ও বিপর্যয় থেকে মানুষকে ভালো হওয়ার শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

অথচ আমরা দেখছি, করোনা নামক অতিমহামারী এসে মানুষকে চরম শিক্ষা দিলেও কিছু মানুষের বোধোদয় হচ্ছে না। তারা মানবতাকে এখনও অবহেলা করে চলেছে। ন্যায়কে ভুলে, তাচ্ছিল্য করে তারা আরও বেশি অপরাধ করছে, মাদকদ্রব্য গ্রহণ করছে। মাদকের ব্যবসা করে মানুষকে নষ্ট করছে।

কিছু পাপাচারী, পথভ্রষ্ট মানুষ এ কঠিন সময়ে সততার শিক্ষা গ্রহণ না করে আরও ঘৃণ্য, আরও বেপরোয়া জীবনযাপন করছে। তিনটি বিষয় মানুষকে পশুত্বে নামিয়ে দেয়- মাদক, ক্রোধ ও কৃপণতা। করোনার সময় এ তিনটি জিনিসকে বেশি করে প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যাচ্ছে।

শয়তান এ তিনটি জিনিসের মাধ্যমে মানুষকে ভুল পথে নেয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। মুসলমান নামধারী মানুষ ইসলামের পথ ভুলে অনৈসলামিক পন্থায় জীবনযাপন করার জন্য অস্থির হয়ে নানা ধরনের ‘শয়তানি আমলে’ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। করোনার এ কঠিন সময়ে এভাবে ভয়ংকর অপরাধীরা এটাকে মোক্ষম সময় ভেবে মানুষের চরিত্র হনন করতে মাঠে নেমে পড়েছে।

মানুষ এখন আর ঘরবন্দি থাকতে চাচ্ছে না। স্পেনের রাস্তায় মানুষের প্রতিবাদ করোনার প্রতি নয়- যেন তা নতুন ফিলিস্তিন, নতুন কাশ্মীর, নতুন উইঘুরদের মতো নিঃশ্বাস চেপে ধরা মানবতা লুণ্ঠনকারী শাসকদের বিরুদ্ধে নির্যাতিত মানুষের হাতাহাতি-ধস্তাধস্তিকে প্রকাশ করছে।

কোভিড-১৯ ছয় মাসের মধ্যেই যেন গোটা পৃথিবীটাকে অবরোধ করে রেখেছে। এ অবরোধের চাপে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ দিশেহারা, দিগ্ভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ, অভাব ও দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। পৃ

থিবীর মানুষ- ফিরে এসো ন্যায়ের পথে, ছেড়ে দাও সব জুলুম, অন্যায় ও অত্যাচার। অসীম ধৈর্যের পরীক্ষায় জয়ী হয়ে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের মাধ্যমেই কল্যাণ হোক বিশ্বমানবতার। অবসান ঘটুক মানবতার লকডাউনের।

ড. মো. ফখরুল ইসলাম : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান

[email protected]

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস