করোনা বিপর্যস্ত এইচএসসি ও উচ্চশিক্ষার প্রতিযোগিতা
jugantor
করোনা বিপর্যস্ত এইচএসসি ও উচ্চশিক্ষার প্রতিযোগিতা

  ড. এম এ মোত্তালিব  

২০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রয়োজনই মানুষকে কৌশল বের করতে শেখায়। বর্তমান সময়ে দুর্দমনীয়, অপ্রতিরোধ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা এক অদৃশ্য জীবনঘাতী জীবাণুর নাম করোনা। করোনা আজ সমগ্র বিশ্বের স্বাভাবিক গতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। জীবনযাত্রার স্বাভাবিকতায় ছন্দপতন ঘটিয়ে বিকল্প পথে চলতে বাধ্য করছে। নিয়ন্ত্রণহীন ও প্রতিষেধকবিহীন অবস্থায় করোনার এ ছোবল থেকে কেউ-ই নিরাপদ নয়।

পৃথিবীর শক্তিধর থেকে শুরু করে মহাশক্তিধর রাষ্ট্রের উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের গগনচুম্বী সাফল্য যার কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে। উন্নত, স্বল্পোন্নত কিংবা দরিদ্র সব রাষ্ট্র আজ এককাতারে শামিল। এমতাবস্থায় প্রতিটি রাষ্ট্রের গুরু দায়িত্ব হল- আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক, মানবসৃষ্ট বা প্রাকৃতিকভাবে আগত, যে কোনো দুর্যোগ মুহূর্তে জনগণের পাঁচটি মৌলিক অধিকার- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষাসেবার সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ, দুর্বল অবকঠামো, নীতি-নৈতিকতার প্রতি উদাসীন নাগরিক, অনুন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, তথ্যপ্রযুক্তির অপ্রতুলতাসহ হাজারো সমস্যায় জর্জরিত ক্ষুদ্র একটি রাষ্ট্রের ভূমিকা কী হওয়া উচিত আর সীমাবদ্ধতাই বা কতটুকু তা সবারই উপলব্ধি করা প্রয়োজন। সার্বিক বিষয়ে চরম সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও কৌশলগত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার কারণে হতদরিদ্র ও কর্মজীবী মানুষের জীবন মান সচল রেখে অদৃশ্য এ ভাইরাসের সঙ্গে পাল্লা দিতে বাংলাদেশের ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

সমালোচনার দৃষ্টিতে নয় বরং মূল্যায়নের দৃষ্টিতে যদি সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা যায়, তবে আমার দৃষ্টিতে এমনটিই প্রতীয়মান হয়। জাতীয়ভাবে রক্তের সঙ্গে মিশে থাকা অনৈতিকতা ও দুর্নীতি প্রতিটি সেক্টরকে বাধাগ্রস্ত করলেও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে রাষ্ট্র ও জনগণের ভূমিকাকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুর্যোগ ও মহামারীকে উপেক্ষা করেও এ দেশের কৃষক তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে খাদ্য উৎপাদনে পিছপা হয়নি।

দেশের চিকিৎসা সেবার সহায়ক পিপিই, মাস্ক বা অনুরূপ সরঞ্জামসহ দেশের জনগণের বস্ত্রের চাহিদা মিটিয়ে বস্ত্রশিল্পের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণে এ দেশের শ্রমজীবী জনগণ তাদের জীবনকে উৎসর্গ করে চলেছে। বন্যা, নদীভাঙন কিংবা নানা কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে বাস্তুহারা জনগণ নিজেদের প্রচেষ্টায় মাথা গোঁজার ঠাঁই গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় যে বিশৃঙ্খল অবস্থা গেড়ে বসেছিল, করোনার কারণে তাতেও কিছুটা সংস্কারের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। কাজেই বলা যায় সারা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর করুণ দশার তুলনায় বাংলাদেশকে মহান আল্লাহ অবশ্যই একটা নিরাপদ অবস্থানে রেখেছেন। মহান আল্লাহ আমাদের আরও নিরাপদ করুন এ আশাবাদই রাখছি।

এবার মূল আলোচনায় আসা যাক। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বব্যাপী করোনার ভয়াল থাবায় ভীত হয়ে আকস্মিকভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তখনও কিন্তু শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কেউ-ই আঁচ করতে পারেনি এর সীমা-পরিসীমার কথা। সবাই ভেবেছিল দু’তিন সপ্তাহের মধ্যে হয়তো আবার স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে। আবার শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সবার আনাগোনায় প্রাণের শিক্ষাঙ্গন মুখরিত হবে।

পরীক্ষা নামক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। পরীক্ষা শেষে কাক্সিক্ষত ফলাফলের আশায় সদা প্রহর গুনতে থাকবে। এরপর আসবে জীবনের সবচেয়ে আনন্দ ও কাক্সিক্ষত মুহূর্তটি। ফলাফল প্রকাশ। শিক্ষা জীবনে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিনটি যে কত আনন্দের, সব সুধীজনেরই তা জানা।

কিন্তু না। সবার জল্পনা-কল্পনা ও সবার সব হিসাব-নিকাশ ব্যর্থ। করোনা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় ছুটি বাড়াতে বাধ্য হল রাষ্ট্রপক্ষ। কারণ লেখাপড়ার চেয়ে জীবনকে প্রাধান্য দেয়াই তখন মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। এভাবেই চলতে থাকে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ অবধি। এখানে লক্ষণীয় যে, এইচএসসি পরীক্ষার ঘোষিত তারিখ ছিল ১ এপ্রিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হল ১৭-১৮ মার্চ। সময়টি ছিল কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ প্রস্তুতি গ্রহণের চূড়ান্ত মুহূর্ত। কারণ আর মাত্র ক’টা দিন পরই তাদের অংশ নিতে হবে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায়।

এ ক্ষেত্রে কোনো ছাত্রছাত্রীই কিন্তু হেলায় খেলায় বসে ছিল না যে, করোনার কারণে তাদের পরীক্ষা দিতে হবে না। কাজেই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এ পর্যন্ত সম্পূর্ণ সফল। এরপর অবস্থার ভয়াবহতা বিবেচনায় রাষ্ট্রপক্ষ যখন একের পর এক ছুটি বাড়াতে বাধ্য হল, তখনও কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের প্রস্তুতিতে ছেদ টানেনি।

যেখানে ১ এপ্রিল পরীক্ষা অনুষ্ঠানের তারিখ সুনির্দিষ্ট ছিল, সেখান থেকে অক্টোবর অবধি দীর্ঘ আটটি মাস সব বিষয়ের প্রস্তুতি ধরে রাখা কতটা জটিল ও কষ্টের ছিল তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই বলতে পারবে। অভিভাবকরাও হয়তো কিছুটা আঁচ করতে পেরেছেন। শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও হতাশার ছাপ এতটাই প্রকট ছিল যে, তাদের মনমেজাজেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা জীবনের ওপর চরমভাবে হতাশ হয়ে পড়তে শুরু করেছিল।

যাক, এমন এক কঠিন ও দুঃসময়ে রাষ্ট্রপক্ষ তথা মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মাতৃত্বের ভূমিকা পালন করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকারগ্রস্ততার হাত থেকে রক্ষা করেছেন। হয়তো বা তিনি স্বাস্থ্য ও রোগ বিশেষজ্ঞ, না হলে এমন সিদ্ধান্ত আসা এতটা সহজ হতো না। নিজে ডাক্তার হওয়ায় তিনি যথাযথ উপলব্ধি করেছেন যে, শিক্ষার চেয়ে জীবন রক্ষাটা বেশি গুরুত্বের।

ঘোষণা এলো অটোপাস বা অটো মূল্যায়নের। শুরু হল পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি। এমনকি কোনো এক শিক্ষার্থীর পক্ষ হয়ে উকিল নোটিশ পর্যন্ত জারি করা হল শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নামে। বিতর্ক এখনও থামেনি বা আদৌ থামবে কিনা তা বলা মুশকিল। কারণ অনেক। কেউ বলছেন কীভাবে মূল্যায়ন হবে?

কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে? গ্রুপ পরিবর্তন, মান উন্নয়ন, অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ ইত্যাদি বিষয়গুলো মূল্যায়নে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে, এমনিতর হাজারো প্রশ্ন। কেউ একটিবারের জন্যও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করছে না। অথবা তাদের মঙ্গল কামনা করেই হয়তো এতসব প্রশ্নের অবতারণা হচ্ছে। সেই সঙ্গে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের সর্বোচ্চ সংগঠন ভিসি পরিষদে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো কোনো ভিসি মহোদয়ের মন্তব্য এসব প্রশ্নের যৌক্তিকতা আরও জোরালো করে তুলছে।

তবে কি মেডিকেল, বুয়েট ও ইঞ্জিনিয়ারিংসহ দেশের পাবলিক, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এবারের এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষা উপেক্ষিত বলে গণ্য হবে, নাকি আগের চলমান ধারাবাহিকতায় মূল্যায়ন করা হবে? দেশ ও জাতির সম্ভাবনাময় একটি জনগোষ্ঠীকে নিয়ে যেন কোনো হেয়ালিপনা না হয় তা এখনই পরিষ্কার করার উপযুক্ত সময়।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় উচ্চ পর্যায়ের পরামর্শকবৃন্দের সমন্বয়ে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তা কীভাবে বাস্তবায়ন করলে দেশ-বিদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও শিক্ষা শেষে চাকরি-বাকরির কোনো ক্ষেত্রে যেন আমাদের এ কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বঞ্চনার শিকার না হয় সেটি নিশ্চিত হবে? কারণ এখানে শিক্ষার্থীদের বিন্দুমাত্র কোনো দুর্বলতা আমি দেখি না। বৈশ্বিক মহামারীর কারণে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে তাদের পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হল না, যার দায় তাদের ওপর কোনোভাবেই বর্তায় না। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ হল-

এইচএসসির ফলাফল অর্থ অটো পাস নয়, অটো মূল্যায়ন। যা বিগত দুটি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের গড় নির্ধারণের মাধ্যমে হতেই পারে। যেসব শিক্ষার্থী জেএসসি ও এসএসসি খারাপ ফলাফলের কারণে এইচএসসি পরীক্ষাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে চায় তাদের জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা। অনলাইনে তাদের আবেদন গ্রহণ করে একটি নমুনা পরীক্ষা গ্রহণ করা। আমার মনে হয় না এমন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা খুব বেশি হবে।

ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের পরীক্ষা নেয়া সম্ভব। এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসিতে মানবিক বা বাণিজ্য যে শাখাতেই আসুক, তাদের মূল্যায়নে সুনির্দিষ্ট পন্থা অবলম্বন করা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা যেন আগের মতো এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার স্কোর থেকে বঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নৈতিক দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা স্তরের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ইউজিসিভুক্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়গণের মাধ্যমে বিষয়টির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অনলাইন পরীক্ষার যে ফর্মুলা ঘোষণা করা হয়েছে তা পূর্ব-পরীক্ষিত না হলে বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থাকবে না বলে নিশ্চিত হওয়া মুশকিল। কারণ ২৩ বছরের চাকরি জীবনের বিভিন্ন সময়ে ৮ বছর ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের কাজে অংশ গ্রহণের সুযোগ হয়েছে এবং সনাতন, এমসিকিউ এবং ওএমআর তিন পদ্ধতির প্রশ্ন প্রণয়ন, প্রিন্ট ও পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতার আলোকে আমার কাছে বিষয়টি জটিল বলেই মনে হচ্ছে। কারণ ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির পলিসি বহুমাত্রিক। কাজেই বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে।

সে ক্ষেত্রে উদ্ভাবিত সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরই একটা ডেমো পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। যদি অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে ওই পদ্ধতিতে পুরো এইচএসসি পরীক্ষাই গ্রহণ করা সম্ভব হবে এবং পুরো জাতি একটি বিতর্ক থেকে উদ্ধার পাবে। পরে সেটি ভর্তি পরীক্ষার মতো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায়ও প্রয়োগ করা যেতে পারে। তার আগে নয়।

বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়িয়ে এক বেঞ্চে এক সিট পদ্ধতি অনুসরণ করেও যেখানে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ করার কোনো পলিসি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ বের করতে পারেনি, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ইউনিক, গুচ্ছ, স্টেডিয়াম, অন-লাইন ইত্যাদি যে ফর্মুলাগুলো দেয়া হচ্ছে তা নিয়ে ব্যাপক চিন্তার বিষয় রয়েছে।

সমস্যা হল কুপি বাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা শেষে আমরা যখন শিক্ষাবিদ বা সমাজ পরিচালনার কোনো দায়িত্ব পাই, তখন আর ওই গ্রামের কথা মনে থাকে না। গ্রামকে আমরা যতই ভুলি না কেন, গ্রাম কিন্তু এখনও আছে। বন্যা, দুর্যোগ, অভাব ও দরিদ্রতার কশাঘাতের মধ্যেই কিন্তু এখনও সত্যিকারের অনেক সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটছে। আমাদের গৃহীত কোনো পদক্ষেপে অসহায় এ শিক্ষার্থীরা যেন বঞ্চিত না হয় তা শতভাগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

উল্লেখিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করে এইচএসসি পরীক্ষার সরকারি গেজেটের মাধ্যমে আইনে পরিণত করতে পারলেই অটো মূল্যায়নকৃত ফলাফল শিক্ষার্থীদের কাজে আসবে নতুবা প্রতি পদে পদে তারা ভোগান্তির শিকার হবে।

রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উল্লিখিত পদক্ষেপ অনুসরণ করে এইচএসসিকে গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব না হলে যখনই সম্ভব হবে তখনই পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের মূল্যায়ন করেই এইচএসসির ফলাফল ঘোষণা করা যৌক্তিক, নচেৎ নয়। কারণ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অবমূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই। তাদের কোনো দুর্বলতা নেই এবং এ রকম ফলাফলের জন্য তারা কোনোভাবেই দায়ী নয়।

ড. এম এ মোত্তালিব : প্রফেসর, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

করোনা বিপর্যস্ত এইচএসসি ও উচ্চশিক্ষার প্রতিযোগিতা

 ড. এম এ মোত্তালিব 
২০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রয়োজনই মানুষকে কৌশল বের করতে শেখায়। বর্তমান সময়ে দুর্দমনীয়, অপ্রতিরোধ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা এক অদৃশ্য জীবনঘাতী জীবাণুর নাম করোনা। করোনা আজ সমগ্র বিশ্বের স্বাভাবিক গতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। জীবনযাত্রার স্বাভাবিকতায় ছন্দপতন ঘটিয়ে বিকল্প পথে চলতে বাধ্য করছে। নিয়ন্ত্রণহীন ও প্রতিষেধকবিহীন অবস্থায় করোনার এ ছোবল থেকে কেউ-ই নিরাপদ নয়।

পৃথিবীর শক্তিধর থেকে শুরু করে মহাশক্তিধর রাষ্ট্রের উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের গগনচুম্বী সাফল্য যার কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে। উন্নত, স্বল্পোন্নত কিংবা দরিদ্র সব রাষ্ট্র আজ এককাতারে শামিল। এমতাবস্থায় প্রতিটি রাষ্ট্রের গুরু দায়িত্ব হল- আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক, মানবসৃষ্ট বা প্রাকৃতিকভাবে আগত, যে কোনো দুর্যোগ মুহূর্তে জনগণের পাঁচটি মৌলিক অধিকার- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষাসেবার সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ, দুর্বল অবকঠামো, নীতি-নৈতিকতার প্রতি উদাসীন নাগরিক, অনুন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, তথ্যপ্রযুক্তির অপ্রতুলতাসহ হাজারো সমস্যায় জর্জরিত ক্ষুদ্র একটি রাষ্ট্রের ভূমিকা কী হওয়া উচিত আর সীমাবদ্ধতাই বা কতটুকু তা সবারই উপলব্ধি করা প্রয়োজন। সার্বিক বিষয়ে চরম সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও কৌশলগত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার কারণে হতদরিদ্র ও কর্মজীবী মানুষের জীবন মান সচল রেখে অদৃশ্য এ ভাইরাসের সঙ্গে পাল্লা দিতে বাংলাদেশের ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

সমালোচনার দৃষ্টিতে নয় বরং মূল্যায়নের দৃষ্টিতে যদি সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা যায়, তবে আমার দৃষ্টিতে এমনটিই প্রতীয়মান হয়। জাতীয়ভাবে রক্তের সঙ্গে মিশে থাকা অনৈতিকতা ও দুর্নীতি প্রতিটি সেক্টরকে বাধাগ্রস্ত করলেও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে রাষ্ট্র ও জনগণের ভূমিকাকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুর্যোগ ও মহামারীকে উপেক্ষা করেও এ দেশের কৃষক তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে খাদ্য উৎপাদনে পিছপা হয়নি।

দেশের চিকিৎসা সেবার সহায়ক পিপিই, মাস্ক বা অনুরূপ সরঞ্জামসহ দেশের জনগণের বস্ত্রের চাহিদা মিটিয়ে বস্ত্রশিল্পের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণে এ দেশের শ্রমজীবী জনগণ তাদের জীবনকে উৎসর্গ করে চলেছে। বন্যা, নদীভাঙন কিংবা নানা কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে বাস্তুহারা জনগণ নিজেদের প্রচেষ্টায় মাথা গোঁজার ঠাঁই গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় যে বিশৃঙ্খল অবস্থা গেড়ে বসেছিল, করোনার কারণে তাতেও কিছুটা সংস্কারের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। কাজেই বলা যায় সারা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর করুণ দশার তুলনায় বাংলাদেশকে মহান আল্লাহ অবশ্যই একটা নিরাপদ অবস্থানে রেখেছেন। মহান আল্লাহ আমাদের আরও নিরাপদ করুন এ আশাবাদই রাখছি।

এবার মূল আলোচনায় আসা যাক। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বব্যাপী করোনার ভয়াল থাবায় ভীত হয়ে আকস্মিকভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তখনও কিন্তু শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কেউ-ই আঁচ করতে পারেনি এর সীমা-পরিসীমার কথা। সবাই ভেবেছিল দু’তিন সপ্তাহের মধ্যে হয়তো আবার স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে। আবার শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সবার আনাগোনায় প্রাণের শিক্ষাঙ্গন মুখরিত হবে।

পরীক্ষা নামক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। পরীক্ষা শেষে কাক্সিক্ষত ফলাফলের আশায় সদা প্রহর গুনতে থাকবে। এরপর আসবে জীবনের সবচেয়ে আনন্দ ও কাক্সিক্ষত মুহূর্তটি। ফলাফল প্রকাশ। শিক্ষা জীবনে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিনটি যে কত আনন্দের, সব সুধীজনেরই তা জানা।

কিন্তু না। সবার জল্পনা-কল্পনা ও সবার সব হিসাব-নিকাশ ব্যর্থ। করোনা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় ছুটি বাড়াতে বাধ্য হল রাষ্ট্রপক্ষ। কারণ লেখাপড়ার চেয়ে জীবনকে প্রাধান্য দেয়াই তখন মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। এভাবেই চলতে থাকে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ অবধি। এখানে লক্ষণীয় যে, এইচএসসি পরীক্ষার ঘোষিত তারিখ ছিল ১ এপ্রিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হল ১৭-১৮ মার্চ। সময়টি ছিল কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ প্রস্তুতি গ্রহণের চূড়ান্ত মুহূর্ত। কারণ আর মাত্র ক’টা দিন পরই তাদের অংশ নিতে হবে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায়।

এ ক্ষেত্রে কোনো ছাত্রছাত্রীই কিন্তু হেলায় খেলায় বসে ছিল না যে, করোনার কারণে তাদের পরীক্ষা দিতে হবে না। কাজেই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এ পর্যন্ত সম্পূর্ণ সফল। এরপর অবস্থার ভয়াবহতা বিবেচনায় রাষ্ট্রপক্ষ যখন একের পর এক ছুটি বাড়াতে বাধ্য হল, তখনও কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের প্রস্তুতিতে ছেদ টানেনি।

যেখানে ১ এপ্রিল পরীক্ষা অনুষ্ঠানের তারিখ সুনির্দিষ্ট ছিল, সেখান থেকে অক্টোবর অবধি দীর্ঘ আটটি মাস সব বিষয়ের প্রস্তুতি ধরে রাখা কতটা জটিল ও কষ্টের ছিল তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই বলতে পারবে। অভিভাবকরাও হয়তো কিছুটা আঁচ করতে পেরেছেন। শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও হতাশার ছাপ এতটাই প্রকট ছিল যে, তাদের মনমেজাজেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা জীবনের ওপর চরমভাবে হতাশ হয়ে পড়তে শুরু করেছিল।

যাক, এমন এক কঠিন ও দুঃসময়ে রাষ্ট্রপক্ষ তথা মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মাতৃত্বের ভূমিকা পালন করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকারগ্রস্ততার হাত থেকে রক্ষা করেছেন। হয়তো বা তিনি স্বাস্থ্য ও রোগ বিশেষজ্ঞ, না হলে এমন সিদ্ধান্ত আসা এতটা সহজ হতো না। নিজে ডাক্তার হওয়ায় তিনি যথাযথ উপলব্ধি করেছেন যে, শিক্ষার চেয়ে জীবন রক্ষাটা বেশি গুরুত্বের।

ঘোষণা এলো অটোপাস বা অটো মূল্যায়নের। শুরু হল পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি। এমনকি কোনো এক শিক্ষার্থীর পক্ষ হয়ে উকিল নোটিশ পর্যন্ত জারি করা হল শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নামে। বিতর্ক এখনও থামেনি বা আদৌ থামবে কিনা তা বলা মুশকিল। কারণ অনেক। কেউ বলছেন কীভাবে মূল্যায়ন হবে?

কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে? গ্রুপ পরিবর্তন, মান উন্নয়ন, অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ ইত্যাদি বিষয়গুলো মূল্যায়নে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে, এমনিতর হাজারো প্রশ্ন। কেউ একটিবারের জন্যও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করছে না। অথবা তাদের মঙ্গল কামনা করেই হয়তো এতসব প্রশ্নের অবতারণা হচ্ছে। সেই সঙ্গে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের সর্বোচ্চ সংগঠন ভিসি পরিষদে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো কোনো ভিসি মহোদয়ের মন্তব্য এসব প্রশ্নের যৌক্তিকতা আরও জোরালো করে তুলছে।

তবে কি মেডিকেল, বুয়েট ও ইঞ্জিনিয়ারিংসহ দেশের পাবলিক, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এবারের এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষা উপেক্ষিত বলে গণ্য হবে, নাকি আগের চলমান ধারাবাহিকতায় মূল্যায়ন করা হবে? দেশ ও জাতির সম্ভাবনাময় একটি জনগোষ্ঠীকে নিয়ে যেন কোনো হেয়ালিপনা না হয় তা এখনই পরিষ্কার করার উপযুক্ত সময়।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় উচ্চ পর্যায়ের পরামর্শকবৃন্দের সমন্বয়ে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তা কীভাবে বাস্তবায়ন করলে দেশ-বিদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও শিক্ষা শেষে চাকরি-বাকরির কোনো ক্ষেত্রে যেন আমাদের এ কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বঞ্চনার শিকার না হয় সেটি নিশ্চিত হবে? কারণ এখানে শিক্ষার্থীদের বিন্দুমাত্র কোনো দুর্বলতা আমি দেখি না। বৈশ্বিক মহামারীর কারণে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে তাদের পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হল না, যার দায় তাদের ওপর কোনোভাবেই বর্তায় না। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ হল-

এইচএসসির ফলাফল অর্থ অটো পাস নয়, অটো মূল্যায়ন। যা বিগত দুটি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের গড় নির্ধারণের মাধ্যমে হতেই পারে। যেসব শিক্ষার্থী জেএসসি ও এসএসসি খারাপ ফলাফলের কারণে এইচএসসি পরীক্ষাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে চায় তাদের জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা। অনলাইনে তাদের আবেদন গ্রহণ করে একটি নমুনা পরীক্ষা গ্রহণ করা। আমার মনে হয় না এমন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা খুব বেশি হবে।

ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের পরীক্ষা নেয়া সম্ভব। এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসিতে মানবিক বা বাণিজ্য যে শাখাতেই আসুক, তাদের মূল্যায়নে সুনির্দিষ্ট পন্থা অবলম্বন করা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা যেন আগের মতো এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার স্কোর থেকে বঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নৈতিক দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা স্তরের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ইউজিসিভুক্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়গণের মাধ্যমে বিষয়টির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অনলাইন পরীক্ষার যে ফর্মুলা ঘোষণা করা হয়েছে তা পূর্ব-পরীক্ষিত না হলে বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থাকবে না বলে নিশ্চিত হওয়া মুশকিল। কারণ ২৩ বছরের চাকরি জীবনের বিভিন্ন সময়ে ৮ বছর ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের কাজে অংশ গ্রহণের সুযোগ হয়েছে এবং সনাতন, এমসিকিউ এবং ওএমআর তিন পদ্ধতির প্রশ্ন প্রণয়ন, প্রিন্ট ও পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতার আলোকে আমার কাছে বিষয়টি জটিল বলেই মনে হচ্ছে। কারণ ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির পলিসি বহুমাত্রিক। কাজেই বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে।

সে ক্ষেত্রে উদ্ভাবিত সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরই একটা ডেমো পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। যদি অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে ওই পদ্ধতিতে পুরো এইচএসসি পরীক্ষাই গ্রহণ করা সম্ভব হবে এবং পুরো জাতি একটি বিতর্ক থেকে উদ্ধার পাবে। পরে সেটি ভর্তি পরীক্ষার মতো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায়ও প্রয়োগ করা যেতে পারে। তার আগে নয়।

বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়িয়ে এক বেঞ্চে এক সিট পদ্ধতি অনুসরণ করেও যেখানে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ করার কোনো পলিসি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ বের করতে পারেনি, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ইউনিক, গুচ্ছ, স্টেডিয়াম, অন-লাইন ইত্যাদি যে ফর্মুলাগুলো দেয়া হচ্ছে তা নিয়ে ব্যাপক চিন্তার বিষয় রয়েছে।

সমস্যা হল কুপি বাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা শেষে আমরা যখন শিক্ষাবিদ বা সমাজ পরিচালনার কোনো দায়িত্ব পাই, তখন আর ওই গ্রামের কথা মনে থাকে না। গ্রামকে আমরা যতই ভুলি না কেন, গ্রাম কিন্তু এখনও আছে। বন্যা, দুর্যোগ, অভাব ও দরিদ্রতার কশাঘাতের মধ্যেই কিন্তু এখনও সত্যিকারের অনেক সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটছে। আমাদের গৃহীত কোনো পদক্ষেপে অসহায় এ শিক্ষার্থীরা যেন বঞ্চিত না হয় তা শতভাগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

উল্লেখিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করে এইচএসসি পরীক্ষার সরকারি গেজেটের মাধ্যমে আইনে পরিণত করতে পারলেই অটো মূল্যায়নকৃত ফলাফল শিক্ষার্থীদের কাজে আসবে নতুবা প্রতি পদে পদে তারা ভোগান্তির শিকার হবে।

রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উল্লিখিত পদক্ষেপ অনুসরণ করে এইচএসসিকে গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব না হলে যখনই সম্ভব হবে তখনই পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের মূল্যায়ন করেই এইচএসসির ফলাফল ঘোষণা করা যৌক্তিক, নচেৎ নয়। কারণ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অবমূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই। তাদের কোনো দুর্বলতা নেই এবং এ রকম ফলাফলের জন্য তারা কোনোভাবেই দায়ী নয়।

ড. এম এ মোত্তালিব : প্রফেসর, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া