করোনায় সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত
jugantor
করোনায় সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

  মো. আবদুল জলিল  

২৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনায় সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

উৎপাদন আর উৎপাদনশীলতার মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে সমাজে এখনও ধারণা পরিষ্কার নয়। আমজনতা উৎপাদন বাড়ানো মানেই উৎপাদনশীলতা বাড়ানো মনে করেন। এমনকি যারা উৎপাদনশীলতা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজ করেন, তাদের বাইরে অন্যদের মধ্যেও বিষয় দুটির মৌলিক পার্থক্য এখনও তেমন স্বচ্ছ নয়। এর কারণ উৎপাদনশীলতা বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যয়ন কিংবা প্র্যাকটিস দেশে খুব বেশিদিনের নয়।

অর্থনীতিতে সাধারণভাবে উৎপাদনের চারটি উপকরণ বা ফ্যাক্টর যেমন- ভূমি, শ্রমিক, পুঁজি ও সংগঠন/উদ্যোক্তা সম্পর্কে কমবেশি সবাই অবহিত। এ চারটি উপকরণ ব্যবহার করে শিল্প-কারখানায় পণ্য উৎপাদিত হয়। সেবা খাতেও এ চারটি উপকরণের সংমিশ্রণ থাকে। প্রচলিত অর্থে এ চারটি উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদন বা উৎপাদনশীলতা বাড়ে বলে সাধারণ মানুষ মনে করেন। কিন্তু উৎপাদনশীলতা ধারণাটি আরও একটু বিস্তৃত, আরও গভীর।

সন্দেহ নেই, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সঙ্গে উৎপাদন বৃদ্ধির একটি যোগসূত্র রয়েছে। সাদামাটাভাবে বললে, একই পরিমাণ শ্রমিক, কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও সময় ব্যবহার করে কোনো কারখানায় যদি আগের চেয়ে উৎপাদন বাড়ে, তাহলে উৎপাদনশীলতা বেড়েছে বলে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু উৎপাদনের উপকরণ যেমন- শ্রমিক, কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও সময় ইত্যাদি বাড়িয়ে কারখানায় উৎপাদন বাড়ালে উৎপাদনশীলতা বাড়বে না।

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সঙ্গে উৎপাদনের বিভিন্ন ফ্যাক্টরের দক্ষ ব্যবহার, কাঁচামাল ও সময়ের অপচয় রোধ, শ্রমিক বা মানবসম্পদের দক্ষতা, কর্মস্পৃহা ও আগ্রহ, ঝুঁকিমুক্ত উৎপাদনবান্ধব পরিবেশ এবং উন্নত মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি জড়িত। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার, রোবটিক টেকনোলজি, ন্যানো টেকনোলজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সসহ নতুন নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ। এসব ফ্যাক্টরের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে যদি আগের চেয়ে বেশি পণ্য উৎপাদিত হয়, সেক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বেড়েছে বলে প্রতীয়মান হবে।

উৎপাদনশীলতা বিষয়টি মূলত ব্যবস্থাপনার ধারণা থেকে উৎসারিত। এজন্যই যেসব প্রতিষ্ঠান পণ্য বা সেবা উৎপাদন করে, সেগুলোর ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা নিজেদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতার সূচক ঊর্ধ্বমুখী রাখতে প্রতিনিয়ত প্রয়াস চালিয়ে থাকেন। প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার নিজস্ব উৎপাদনশীলতার গতি ঊর্ধ্বমুখী হলে এর প্রভাব অধীনস্থ শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিফলিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে জাপানের যে অভাবনীয় উন্নতি ঘটেছে, তা গোটা বিশ্বকে আলোড়িত করেছে। ক্ষেত্রবিশেষে অনেক দেশকে উজ্জীবিত করেছে। লক্ষ করলে দেখা যাবে, এর পেছনে রয়েছে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ম্যাজিক। এক্ষেত্রে জাপানি ব্যবস্থাপকদের মেধা-মনন ও চিন্তা-চেতনা অসামান্য অবদান রেখেছে। তারা সব সময় নিজেদের কলকারখানায় উৎপাদনশীলতার গতি ঊর্ধ্বমুখী রাখতে সচেতন ও কর্মতৎপর ছিলেন। এ সময় জাপানি ছোট-বড় সব শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গঠন করা হয় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রোডাক্টিভিটি সেল। এসব সেলের সদস্যরা নিজেরাই নিজেদের উৎপাদনশীলতা পরিমাপ করেছে এবং এর প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে।

শিল্পোন্নত জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার। জাপানের আদলে বাংলাদেশেও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে। উৎপাদনশীলতা আন্দোলন বেগবান করার প্রয়াস চলছে।

গোটা বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থায় ব্যাপক গুণগত পরিবর্তন এসেছে। শিল্প-কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শ্রমের জায়গায় প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি, মানব দক্ষতা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ইত্যাদি স্থান করে নিচ্ছে। একসময়ের উদ্যোক্তা বা এন্ট্রাপ্রেনারশিপ কনসেপ্টের এখন ক্রমেই উদ্ভাবক বা সৃজনশীল উদ্ভাবনে রূপান্তর ঘটছে। এগুলোকে মানব পুঁজি, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে সামাজিক পুঁজি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে উৎপাদন ধারণায়ও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। মানবীয় শ্রম ব্যবহার করে আগে যে পরিমাণ পণ্য বা সেবা উৎপাদিত হতো, আধুনিক প্রযুক্তি বা যন্ত্রপাতির কল্যাণে সেখানে উৎপাদনের পরিমাণ বহুগুণ বেড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে বিভিন্ন দেশ যখন নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে, তখনই কোভিড-১৯ বিশ্বসম্প্রদায়ের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। ছোট অর্থনীতির দেশ তো বটেই; শিল্পোন্নত যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্সের মতো বড় অর্থনীতির দেশেও করোনার ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। তেলের বাজারে হঠাৎ করে ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র তিন সপ্তাহে কাজ হারায় ৩৩ লাখ মানুষ। আর এর পরবর্তী সপ্তাহে জানা যায়, সেদেশে ৬৬ লাখ মানুষ কাজ খুঁজছে। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল ওয়ার্ল্ড ট্রেড ইউনিয়ন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, করোনার প্রভাবে বিশ্ববাণিজ্যের পরিমাণ ২০২০ সালে ১৩ থেকে ৩২ শতাংশ কমতে পারে। এ বছর বিশ্ববাণিজ্যের পরিমাণ ২০০৮-০৯ সময়ের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার চেয়েও কমে যাবে।

অনেক খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞ করোনার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ও আর্থিক কাঠামোর করুণ পরিণতির ব্যাপারে ইতোমধ্যে সতর্কবাণী উচ্চারণ করছেন। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টেলিনা জিওরগিয়েভা বলেছেন, ‘করোনার অভিঘাতে সৃষ্ট বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা যে কোনো আর্থিক মন্দার চেয়ে খারাপ হবে।’ আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এটিই হচ্ছে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। লোকক্ষয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে এর ক্ষতি অপরিমেয়। সে কারণেই মানবজাতিকে বাঁচানো ও অর্থনীতিকে আবার সচল করতে সব জাতি ও রাষ্ট্র একসঙ্গে করোনাবিরোধী লড়াইয়ে শামিল হচ্ছে।

করোনার ভয়াবহ থাবায় বিশ্বের সাড়ে ৭০০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্ব মানবতা ও অর্থনীতির এ দুর্যোগের মধ্যেও করোনার ফলে বিপরীতধর্মী ও চমকপ্রদ খবর বেরিয়ে আসছে। করোনার প্রভাবে একদিকে অর্থনৈতিক মন্দার পদধ্বনি শোনা গেলেও একই সময়ে স্ফীত হচ্ছে বিলিওনিয়ার ও ট্রিলিওনিয়ারের সম্পদের পরিমাণ। যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সপ্তাহের করোনাকালে যেখানে কাজ হারিয়েছে ৪ কোটি ২৬ লাখ লোক, সেখানে একই সময়ে দেশটির বিলিওনিয়ারদের সম্পদ বেড়েছে ১৯ দশমিক ১৫ শতাংশ।

অর্থনীতির উত্থান-পতনের এ লীলাখেলার হিসাব সরল অঙ্কে মেলানো কঠিন। করোনার মধ্যেই সম্পদশালীরা আরও সম্পদের মালিক হচ্ছেন। অন্যদিকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা। আর গরিব মেহনতি মানুষ কর্মচ্যুত হয়ে দু’বেলা উদর জ্বালা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিলিওনিয়ার ও ট্রিলিওনিয়ারের সম্পদের অস্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে প্রযুক্তির বিরাট আশীর্বাদ। তাদের বিনিয়োগ ও ব্যবসা এমন সব খাতে, যেখানে করোনা প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং বিশ্বব্যাপী মানুষ অনিবার্য প্রয়োজনেই করোনাকালীন এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন। প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট দুর্যোগ যত প্রবলই হোক, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে মানবজাতিকে নিবৃত্ত করার কোনো উপায় নেই। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে এর সীমা-পরিসীমা ক্রমেই নির্ধারিত বৃত্ত ছাড়িয়ে অসীম গন্তব্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। যে জাতি তথ্যপ্রযুক্তির এ মহাসুযোগ দক্ষতার সঙ্গে সময়মতো কাজে লাগাতে পারবে, তাদের জন্য রয়েছে সমৃদ্ধির হাতছানি। এক্ষেত্রে নলেজ ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার পাশাপাশি ওইসব শিল্প-কারখানায় প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানো হবে প্রথম কাজ। এজন্য প্রয়োজন বিপুলসংখ্যক সৃজনশীল ও মেধাবী তরুণ উদ্যোক্তা শ্রেণি। আরও প্রয়োজন বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও পরিবেশ। একই সঙ্গে লাগবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা আর উদ্ভাবনী নেতৃত্ব।

বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর বিরাট অংশ তরুণ। এ দেশের তরুণ সম্প্রদায় অত্যন্ত পরিশ্রমী, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিমনস্ক। এখানে বিনিয়োগের পরিবেশ বিরাজ করছে। রয়েছে অভ্যন্তরীণ বিশাল ভোক্তা গোষ্ঠী। করোনার কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনীতির দুরবস্থার মধ্যেও বাংলাদেশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে যেখানে শিল্পোন্নত দেশগুলোয় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ অর্জন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জিডিপি এবং বৈশ্বিক গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি। পাশাপাশি জনগণের মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ৬৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

করোনার অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবেলায় সরকার বিভিন্ন ক্যাটাগরির শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের জন্য ৭২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। দ্রুততার সঙ্গে প্রণোদনা ঘোষণা এবং এর বাস্তবায়নে দেশের শিল্প খাত ক্রমেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে তৈরি পোশাক শিল্প খাত সচল হতে শুরু করেছে। ১ থেকে ২২ আগস্ট বাংলাদেশ ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। শিল্প খাত পুনরুদ্ধারের এ ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে, ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প খাতকে শক্তিশালী করে কর্মসংস্থান ও রফতানি বৃদ্ধির সুযোগ অবারিত করতে হবে।

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। অভ্যন্তরীণ বিশাল বাজার, বিপুল ক্রেতাগোষ্ঠী, তরুণ ও সৃজনশীল শ্রমশক্তি, বন্দর সুবিধা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী কানেক্টিভিটি বিদেশি বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে। বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশ এখন এক পরীক্ষিত রোল মডেল। জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের পথে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ৮, ৯ ও ১২ নম্বর লক্ষ্য শিল্পায়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। দক্ষতার সঙ্গে এসব লক্ষ্য অর্জনে শিল্প খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এজন্য সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগবান্ধব শিল্পনীতি ও করকাঠামো গ্রহণ করেছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা দিচ্ছে। বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শতভাগ ইকুইটি ওনারশিপ ভোগ করছেন। নিজ দেশে তারা নির্বিঘ্নে মুনাফা নিয়ে যেতে পারছেন। তাদের জন্য মেশিনারি ও খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে সরকার শুল্ক ছাড়, রফতানিমুখী শিল্পের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা, ব্যাংকের মাধ্যমে এলসির বিপরীতে ৯০ শতাংশ ঋণ, ইপিজেডের বাইরে বিনিয়োগকৃত রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভ্যন্তরীণ বাজারে ২০ ভাগ পণ্য বিক্রির অনুমতি, ক্ষেত্রবিশেষে ৫ থেকে ৭ বছর কর্পোরেট কর অবকাশ সুবিধা, দ্বিপাক্ষিক কর চুক্তির আওতায় দ্বৈতকর পরিহারসহ বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে।

সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০০টি ইকোনমিক জোন গড়ে তুলছে। এর মাধ্যমে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের টার্গেট রয়েছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটি বড় অংশ বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। ইকোনমিক জোনে স্থাপিত শিল্প-কারখানার অনুকূলে কর রেয়াতসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি সব বিনিয়োগকারীই সমান সুবিধা ভোগ করছেন। পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিসিক শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে একটি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করেছে। এর আওতায় ২০৩০ সাল নাগাদ ২০ হাজার একর জমিতে ৫০টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপন করা হবে। এসব শিল্পপার্কে ৫০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

শুধু অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন নয়, বিনিয়োগ আকর্ষণে সারা দেশে আন্তর্জাতিক মানের সড়ক-মহাসড়ক, বন্দরসহ যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেনের রাস্তা সম্প্রসারণ, পদ্মা বহুমুখী সেতু, পদ্মা রেল সেতু, সংযোগ প্রকল্প, রাজধানীর মেট্রো রেল, ঢাকা-জয়দেবপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেস হাইওয়ে, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু-কক্সবাজার এবং রামু-ঘুমধুম রেলপথ স্থাপন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ফ্লাইওভার নির্মাণ ইত্যাদি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এগুলো বাস্তবায়নের ফলে অভ্যন্তরীণ কানেক্টিভিটি জোরদার হচ্ছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সংযোগ শক্তিশালী হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশের শিল্প খাতে সৃষ্ট বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক উত্তরণে এ সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে হবে।

শিল্প সম্ভাবনার বিবেচনায় বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ জনপদ। এ দেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি ‘অনাবিষ্কৃত রত্ন’ বলে মনে করা হয়। ইতোমধ্যে এ দেশে জাহাজ নির্মাণ, জাহাজভাঙা ও রিসাইক্লিং, ওষুধ, চামড়া, সিরামিক, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল, আইসিটি, টেলিযোগাযোগসহ বেশকিছু শিল্পের প্রসার ঘটেছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী বিপুল পরিমাণে অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্প খাত বিকশিত হচ্ছে। বৈশ্বিক ও দেশীয় চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সফটওয়্যার নির্মাণ, সমুদ্রসম্পদ আহরণ, হিমায়িত মৎস্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, ওষুধ, প্লাস্টিক, ফার্নিচার, হোম টেক্সটাইল, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিভিত্তিক পণ্য প্রক্রিয়াকরণ, পর্যটন, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং, অটোমোবাইল, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মহাকাশ গবেষণাসহ উদীয়মান খাতগুলোয় বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। এছাড়া বাংলাদেশ এখন বিশাল সমুদ্রসীমার অধিকারী। এ সমুদ্রসীমায় রয়েছে মৎস্য, সামুদ্রিক খাদ্য, তেল, গ্যাসসহ প্রাকৃতিক সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার। সমুদ্রসম্পদকেন্দ্রিক ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি সম্প্রসারণের সুযোগ এখন হাতের মুঠোয়।

কোভিড-১৯ বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বদলে দিয়েছে। এতে পেশার রূপান্তর ঘটেছে। উন্নত দেশগুলো শ্রমঘন শিল্পের পরিবর্তে জ্ঞানভিত্তিক শিল্পের দিকে ঝুঁকছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প-কারখানার সংখ্যা বাড়িয়ে কীভাবে করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়, এখন এটাই তাদের আরাধ্য। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মানব শ্রমের ব্যবহার কমিয়ে কীভাবে যান্ত্রিক উপায়ে উৎপাদনশীলতা আরও বাড়ানো যায়, তাদের সব প্রয়াস সে লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে শ্রমঘন ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি স্থানান্তরের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বিশাল বাজার, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রচুর শ্রমশক্তি এ সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করছে। শিল্প-কারখানা স্থানান্তরের সুযোগ কাজে লাগাতে সরকার বিনিয়োগনীতি উদার করেছে। এতে আগামী দিনে এ দেশের সম্ভাবনাময় শিল্প খাতগুলোয় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে। শিল্পোন্নত দেশগুলো থেকে অনেক শ্রমঘন শিল্প-কারখানা স্থানান্তরিত হবে। সব মিলিয়ে করোনা মহামারী আপাতত বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ হলেও এটি শাপে বর হতে চলেছে। এটি সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে। শিল্প স্থানান্তর আর বিদেশি বিনিয়োগের অযুত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে দেশীয় শিল্প-কারখানায় উৎপাদন নয়, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রয়াস বেগবান করা সময়ের অনিবার্য দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

মো. আবদুল জলিল : উপপ্রধান তথ্য অফিসার, শিল্প মন্ত্রণালয়

করোনায় সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

 মো. আবদুল জলিল 
২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
করোনায় সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত
করোনার প্রতীকী ছবি

উৎপাদন আর উৎপাদনশীলতার মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে সমাজে এখনও ধারণা পরিষ্কার নয়। আমজনতা উৎপাদন বাড়ানো মানেই উৎপাদনশীলতা বাড়ানো মনে করেন। এমনকি যারা উৎপাদনশীলতা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজ করেন, তাদের বাইরে অন্যদের মধ্যেও বিষয় দুটির মৌলিক পার্থক্য এখনও তেমন স্বচ্ছ নয়। এর কারণ উৎপাদনশীলতা বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যয়ন কিংবা প্র্যাকটিস দেশে খুব বেশিদিনের নয়।

অর্থনীতিতে সাধারণভাবে উৎপাদনের চারটি উপকরণ বা ফ্যাক্টর যেমন- ভূমি, শ্রমিক, পুঁজি ও সংগঠন/উদ্যোক্তা সম্পর্কে কমবেশি সবাই অবহিত। এ চারটি উপকরণ ব্যবহার করে শিল্প-কারখানায় পণ্য উৎপাদিত হয়। সেবা খাতেও এ চারটি উপকরণের সংমিশ্রণ থাকে। প্রচলিত অর্থে এ চারটি উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদন বা উৎপাদনশীলতা বাড়ে বলে সাধারণ মানুষ মনে করেন। কিন্তু উৎপাদনশীলতা ধারণাটি আরও একটু বিস্তৃত, আরও গভীর।

সন্দেহ নেই, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সঙ্গে উৎপাদন বৃদ্ধির একটি যোগসূত্র রয়েছে। সাদামাটাভাবে বললে, একই পরিমাণ শ্রমিক, কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও সময় ব্যবহার করে কোনো কারখানায় যদি আগের চেয়ে উৎপাদন বাড়ে, তাহলে উৎপাদনশীলতা বেড়েছে বলে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু উৎপাদনের উপকরণ যেমন- শ্রমিক, কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও সময় ইত্যাদি বাড়িয়ে কারখানায় উৎপাদন বাড়ালে উৎপাদনশীলতা বাড়বে না।

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সঙ্গে উৎপাদনের বিভিন্ন ফ্যাক্টরের দক্ষ ব্যবহার, কাঁচামাল ও সময়ের অপচয় রোধ, শ্রমিক বা মানবসম্পদের দক্ষতা, কর্মস্পৃহা ও আগ্রহ, ঝুঁকিমুক্ত উৎপাদনবান্ধব পরিবেশ এবং উন্নত মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি জড়িত। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার, রোবটিক টেকনোলজি, ন্যানো টেকনোলজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সসহ নতুন নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ। এসব ফ্যাক্টরের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে যদি আগের চেয়ে বেশি পণ্য উৎপাদিত হয়, সেক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বেড়েছে বলে প্রতীয়মান হবে।

উৎপাদনশীলতা বিষয়টি মূলত ব্যবস্থাপনার ধারণা থেকে উৎসারিত। এজন্যই যেসব প্রতিষ্ঠান পণ্য বা সেবা উৎপাদন করে, সেগুলোর ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা নিজেদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতার সূচক ঊর্ধ্বমুখী রাখতে প্রতিনিয়ত প্রয়াস চালিয়ে থাকেন। প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার নিজস্ব উৎপাদনশীলতার গতি ঊর্ধ্বমুখী হলে এর প্রভাব অধীনস্থ শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিফলিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে জাপানের যে অভাবনীয় উন্নতি ঘটেছে, তা গোটা বিশ্বকে আলোড়িত করেছে। ক্ষেত্রবিশেষে অনেক দেশকে উজ্জীবিত করেছে। লক্ষ করলে দেখা যাবে, এর পেছনে রয়েছে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ম্যাজিক। এক্ষেত্রে জাপানি ব্যবস্থাপকদের মেধা-মনন ও চিন্তা-চেতনা অসামান্য অবদান রেখেছে। তারা সব সময় নিজেদের কলকারখানায় উৎপাদনশীলতার গতি ঊর্ধ্বমুখী রাখতে সচেতন ও কর্মতৎপর ছিলেন। এ সময় জাপানি ছোট-বড় সব শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গঠন করা হয় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রোডাক্টিভিটি সেল। এসব সেলের সদস্যরা নিজেরাই নিজেদের উৎপাদনশীলতা পরিমাপ করেছে এবং এর প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে।

শিল্পোন্নত জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার। জাপানের আদলে বাংলাদেশেও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে। উৎপাদনশীলতা আন্দোলন বেগবান করার প্রয়াস চলছে।

গোটা বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থায় ব্যাপক গুণগত পরিবর্তন এসেছে। শিল্প-কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শ্রমের জায়গায় প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি, মানব দক্ষতা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ইত্যাদি স্থান করে নিচ্ছে। একসময়ের উদ্যোক্তা বা এন্ট্রাপ্রেনারশিপ কনসেপ্টের এখন ক্রমেই উদ্ভাবক বা সৃজনশীল উদ্ভাবনে রূপান্তর ঘটছে। এগুলোকে মানব পুঁজি, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে সামাজিক পুঁজি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে উৎপাদন ধারণায়ও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। মানবীয় শ্রম ব্যবহার করে আগে যে পরিমাণ পণ্য বা সেবা উৎপাদিত হতো, আধুনিক প্রযুক্তি বা যন্ত্রপাতির কল্যাণে সেখানে উৎপাদনের পরিমাণ বহুগুণ বেড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে বিভিন্ন দেশ যখন নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে, তখনই কোভিড-১৯ বিশ্বসম্প্রদায়ের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। ছোট অর্থনীতির দেশ তো বটেই; শিল্পোন্নত যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্সের মতো বড় অর্থনীতির দেশেও করোনার ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। তেলের বাজারে হঠাৎ করে ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র তিন সপ্তাহে কাজ হারায় ৩৩ লাখ মানুষ। আর এর পরবর্তী সপ্তাহে জানা যায়, সেদেশে ৬৬ লাখ মানুষ কাজ খুঁজছে। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল ওয়ার্ল্ড ট্রেড ইউনিয়ন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, করোনার প্রভাবে বিশ্ববাণিজ্যের পরিমাণ ২০২০ সালে ১৩ থেকে ৩২ শতাংশ কমতে পারে। এ বছর বিশ্ববাণিজ্যের পরিমাণ ২০০৮-০৯ সময়ের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার চেয়েও কমে যাবে।

অনেক খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞ করোনার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ও আর্থিক কাঠামোর করুণ পরিণতির ব্যাপারে ইতোমধ্যে সতর্কবাণী উচ্চারণ করছেন। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টেলিনা জিওরগিয়েভা বলেছেন, ‘করোনার অভিঘাতে সৃষ্ট বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা যে কোনো আর্থিক মন্দার চেয়ে খারাপ হবে।’ আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এটিই হচ্ছে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। লোকক্ষয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে এর ক্ষতি অপরিমেয়। সে কারণেই মানবজাতিকে বাঁচানো ও অর্থনীতিকে আবার সচল করতে সব জাতি ও রাষ্ট্র একসঙ্গে করোনাবিরোধী লড়াইয়ে শামিল হচ্ছে।

করোনার ভয়াবহ থাবায় বিশ্বের সাড়ে ৭০০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্ব মানবতা ও অর্থনীতির এ দুর্যোগের মধ্যেও করোনার ফলে বিপরীতধর্মী ও চমকপ্রদ খবর বেরিয়ে আসছে। করোনার প্রভাবে একদিকে অর্থনৈতিক মন্দার পদধ্বনি শোনা গেলেও একই সময়ে স্ফীত হচ্ছে বিলিওনিয়ার ও ট্রিলিওনিয়ারের সম্পদের পরিমাণ। যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সপ্তাহের করোনাকালে যেখানে কাজ হারিয়েছে ৪ কোটি ২৬ লাখ লোক, সেখানে একই সময়ে দেশটির বিলিওনিয়ারদের সম্পদ বেড়েছে ১৯ দশমিক ১৫ শতাংশ।

অর্থনীতির উত্থান-পতনের এ লীলাখেলার হিসাব সরল অঙ্কে মেলানো কঠিন। করোনার মধ্যেই সম্পদশালীরা আরও সম্পদের মালিক হচ্ছেন। অন্যদিকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা। আর গরিব মেহনতি মানুষ কর্মচ্যুত হয়ে দু’বেলা উদর জ্বালা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিলিওনিয়ার ও ট্রিলিওনিয়ারের সম্পদের অস্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে প্রযুক্তির বিরাট আশীর্বাদ। তাদের বিনিয়োগ ও ব্যবসা এমন সব খাতে, যেখানে করোনা প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং বিশ্বব্যাপী মানুষ অনিবার্য প্রয়োজনেই করোনাকালীন এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন। প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট দুর্যোগ যত প্রবলই হোক, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে মানবজাতিকে নিবৃত্ত করার কোনো উপায় নেই। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে এর সীমা-পরিসীমা ক্রমেই নির্ধারিত বৃত্ত ছাড়িয়ে অসীম গন্তব্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। যে জাতি তথ্যপ্রযুক্তির এ মহাসুযোগ দক্ষতার সঙ্গে সময়মতো কাজে লাগাতে পারবে, তাদের জন্য রয়েছে সমৃদ্ধির হাতছানি। এক্ষেত্রে নলেজ ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার পাশাপাশি ওইসব শিল্প-কারখানায় প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানো হবে প্রথম কাজ। এজন্য প্রয়োজন বিপুলসংখ্যক সৃজনশীল ও মেধাবী তরুণ উদ্যোক্তা শ্রেণি। আরও প্রয়োজন বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও পরিবেশ। একই সঙ্গে লাগবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা আর উদ্ভাবনী নেতৃত্ব।

বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর বিরাট অংশ তরুণ। এ দেশের তরুণ সম্প্রদায় অত্যন্ত পরিশ্রমী, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিমনস্ক। এখানে বিনিয়োগের পরিবেশ বিরাজ করছে। রয়েছে অভ্যন্তরীণ বিশাল ভোক্তা গোষ্ঠী। করোনার কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনীতির দুরবস্থার মধ্যেও বাংলাদেশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে যেখানে শিল্পোন্নত দেশগুলোয় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ অর্জন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জিডিপি এবং বৈশ্বিক গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি। পাশাপাশি জনগণের মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ৬৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

করোনার অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবেলায় সরকার বিভিন্ন ক্যাটাগরির শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের জন্য ৭২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। দ্রুততার সঙ্গে প্রণোদনা ঘোষণা এবং এর বাস্তবায়নে দেশের শিল্প খাত ক্রমেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে তৈরি পোশাক শিল্প খাত সচল হতে শুরু করেছে। ১ থেকে ২২ আগস্ট বাংলাদেশ ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। শিল্প খাত পুনরুদ্ধারের এ ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে, ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প খাতকে শক্তিশালী করে কর্মসংস্থান ও রফতানি বৃদ্ধির সুযোগ অবারিত করতে হবে।

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। অভ্যন্তরীণ বিশাল বাজার, বিপুল ক্রেতাগোষ্ঠী, তরুণ ও সৃজনশীল শ্রমশক্তি, বন্দর সুবিধা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী কানেক্টিভিটি বিদেশি বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে। বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশ এখন এক পরীক্ষিত রোল মডেল। জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের পথে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ৮, ৯ ও ১২ নম্বর লক্ষ্য শিল্পায়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। দক্ষতার সঙ্গে এসব লক্ষ্য অর্জনে শিল্প খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এজন্য সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগবান্ধব শিল্পনীতি ও করকাঠামো গ্রহণ করেছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা দিচ্ছে। বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শতভাগ ইকুইটি ওনারশিপ ভোগ করছেন। নিজ দেশে তারা নির্বিঘ্নে মুনাফা নিয়ে যেতে পারছেন। তাদের জন্য মেশিনারি ও খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে সরকার শুল্ক ছাড়, রফতানিমুখী শিল্পের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা, ব্যাংকের মাধ্যমে এলসির বিপরীতে ৯০ শতাংশ ঋণ, ইপিজেডের বাইরে বিনিয়োগকৃত রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভ্যন্তরীণ বাজারে ২০ ভাগ পণ্য বিক্রির অনুমতি, ক্ষেত্রবিশেষে ৫ থেকে ৭ বছর কর্পোরেট কর অবকাশ সুবিধা, দ্বিপাক্ষিক কর চুক্তির আওতায় দ্বৈতকর পরিহারসহ বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে।

সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০০টি ইকোনমিক জোন গড়ে তুলছে। এর মাধ্যমে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের টার্গেট রয়েছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটি বড় অংশ বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। ইকোনমিক জোনে স্থাপিত শিল্প-কারখানার অনুকূলে কর রেয়াতসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি সব বিনিয়োগকারীই সমান সুবিধা ভোগ করছেন। পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিসিক শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে একটি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করেছে। এর আওতায় ২০৩০ সাল নাগাদ ২০ হাজার একর জমিতে ৫০টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপন করা হবে। এসব শিল্পপার্কে ৫০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

শুধু অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন নয়, বিনিয়োগ আকর্ষণে সারা দেশে আন্তর্জাতিক মানের সড়ক-মহাসড়ক, বন্দরসহ যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেনের রাস্তা সম্প্রসারণ, পদ্মা বহুমুখী সেতু, পদ্মা রেল সেতু, সংযোগ প্রকল্প, রাজধানীর মেট্রো রেল, ঢাকা-জয়দেবপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেস হাইওয়ে, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু-কক্সবাজার এবং রামু-ঘুমধুম রেলপথ স্থাপন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ফ্লাইওভার নির্মাণ ইত্যাদি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এগুলো বাস্তবায়নের ফলে অভ্যন্তরীণ কানেক্টিভিটি জোরদার হচ্ছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সংযোগ শক্তিশালী হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশের শিল্প খাতে সৃষ্ট বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক উত্তরণে এ সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে হবে।

শিল্প সম্ভাবনার বিবেচনায় বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ জনপদ। এ দেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি ‘অনাবিষ্কৃত রত্ন’ বলে মনে করা হয়। ইতোমধ্যে এ দেশে জাহাজ নির্মাণ, জাহাজভাঙা ও রিসাইক্লিং, ওষুধ, চামড়া, সিরামিক, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল, আইসিটি, টেলিযোগাযোগসহ বেশকিছু শিল্পের প্রসার ঘটেছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী বিপুল পরিমাণে অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্প খাত বিকশিত হচ্ছে। বৈশ্বিক ও দেশীয় চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সফটওয়্যার নির্মাণ, সমুদ্রসম্পদ আহরণ, হিমায়িত মৎস্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, ওষুধ, প্লাস্টিক, ফার্নিচার, হোম টেক্সটাইল, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিভিত্তিক পণ্য প্রক্রিয়াকরণ, পর্যটন, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং, অটোমোবাইল, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মহাকাশ গবেষণাসহ উদীয়মান খাতগুলোয় বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। এছাড়া বাংলাদেশ এখন বিশাল সমুদ্রসীমার অধিকারী। এ সমুদ্রসীমায় রয়েছে মৎস্য, সামুদ্রিক খাদ্য, তেল, গ্যাসসহ প্রাকৃতিক সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার। সমুদ্রসম্পদকেন্দ্রিক ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি সম্প্রসারণের সুযোগ এখন হাতের মুঠোয়।

কোভিড-১৯ বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বদলে দিয়েছে। এতে পেশার রূপান্তর ঘটেছে। উন্নত দেশগুলো শ্রমঘন শিল্পের পরিবর্তে জ্ঞানভিত্তিক শিল্পের দিকে ঝুঁকছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প-কারখানার সংখ্যা বাড়িয়ে কীভাবে করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়, এখন এটাই তাদের আরাধ্য। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মানব শ্রমের ব্যবহার কমিয়ে কীভাবে যান্ত্রিক উপায়ে উৎপাদনশীলতা আরও বাড়ানো যায়, তাদের সব প্রয়াস সে লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে শ্রমঘন ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি স্থানান্তরের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বিশাল বাজার, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রচুর শ্রমশক্তি এ সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করছে। শিল্প-কারখানা স্থানান্তরের সুযোগ কাজে লাগাতে সরকার বিনিয়োগনীতি উদার করেছে। এতে আগামী দিনে এ দেশের সম্ভাবনাময় শিল্প খাতগুলোয় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে। শিল্পোন্নত দেশগুলো থেকে অনেক শ্রমঘন শিল্প-কারখানা স্থানান্তরিত হবে। সব মিলিয়ে করোনা মহামারী আপাতত বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ হলেও এটি শাপে বর হতে চলেছে। এটি সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে। শিল্প স্থানান্তর আর বিদেশি বিনিয়োগের অযুত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে দেশীয় শিল্প-কারখানায় উৎপাদন নয়, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রয়াস বেগবান করা সময়ের অনিবার্য দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

মো. আবদুল জলিল : উপপ্রধান তথ্য অফিসার, শিল্প মন্ত্রণালয়