জিরো টলারেন্সের জিরো
jugantor
জিরো টলারেন্সের জিরো

  মো. ফিরোজ মিয়া  

২১ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থ পাচার

রাজনীতিকরা নন; বরং সরকারি কর্মচারীরাই বেশি অর্থ পাচার করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এরূপ বক্তব্য এবং সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি পাওয়া শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে তেলের দাম নিচ্ছেন সরকারি কোষাগার থেকে-সংবাদমাধ্যমের এরূপ খবরেই বোঝা যায় সরকারি কর্মচারীদের নৈতিকতা ও ভাবমূর্তি বর্তমানে কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে অর্থ পাচারের খবরের চুলচেরা বিশ্লেষণ না করেও বলা যায়-অর্থ পাচারে সরকারি কর্মচারীদের সংখ্যা বেশি হলেও পাচারকৃত অর্থের পরিমাণের দিক থেকে তা কোনোক্রমেই অন্যান্য গোষ্ঠীর অর্থ পাচারের পরিমাণের ধারেকাছেও নয়।

‘সব সময় জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা সরকারি কর্মচারীর কর্তব্য’। সরকারি কর্মচারীরা যাতে জনসেবায় নিজেদের সব সময় নিয়োজিত রাখেন সে উদ্দেশ্যেই সংবিধানে এ মূলমন্ত্র সংযোজন করা হয়েছে। সংবিধানের এ মূলমন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবেই সরকারি কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত বিধিবিধান প্রণীত হওয়ার কথা।

অন্যদের মতো সরকারি কর্মচারীরাও দুর্নীতির সহায়ক পরিবেশ ও সুযোগ পেলে দুর্নীতি করবে এটাই তো স্বাভাবিক। এ জন্য সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশে কঠোর দণ্ডের বিধান সংবলিত চাকরিবিধি প্রণয়ন করা হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে এর উল্টো চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে!

সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তবে এ জিরো টলারেন্স নীতি সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ, সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক চাকরিবিধিরও প্রয়োজন রয়েছে। অবশ্য ২০১৮ সালের আগে সরকারি কর্মচারীদের ঘুষ, দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনজনিত অন্যান্য অপরাধের জন্য চাকরি সংক্রান্ত বিধিবিধানে অপেক্ষাকৃত কঠোর বিধান বিদ্যমান ছিল। ২০১৮ সালে এসেই হঠাৎ করে তা যেন সম্পূর্ণ পাল্টে গেল। কঠোর দণ্ডের পরিবর্তে এলো দুর্নীতিকে উৎসাহিত করার মতো নমনীয় দণ্ডের বিধান!

২০১৮ সালের আগে সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য ছিল ১৯৮৫ সালের শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা। ওই বিধিমালায় দুর্নীতির জন্য সর্বনিু দণ্ড ছিল চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দান। অর্থাৎ, ছোট হোক বা বড় হোক, যে কোনো দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পর কোনো সরকারি কর্মচারীকে চাকরিতে বহাল রাখার সুযোগ ছিল না। এ কারণে দুর্নীতি করার সময় চাকরি চলে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই দুর্নীতি করা থেকে বিরত থাকত। ২০১৮ সালে ১৯৮৫ সালের বিধিমালাটি বাতিল করে জারি করা হয়েছে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮। এ বিধিমালায় দুর্নীতিকে উৎসাহিত করার মতো বিধান সংযোজন করা হয়েছে। বিধিমালাটিতে দুর্নীতির জন্য যে কোনো ধরনের দণ্ডের বিধান করে তিরস্কার দণ্ডের মতো হালকা দণ্ড আরোপেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিধিমালাটিতে একাধিকবার দুর্নীতি করার কেবল সুযোগই রাখা হয়নি; বরং একাধিকবার দুর্নীতির ক্ষেত্রেও তিরস্কার দণ্ড আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। দুর্নীতির জন্য তিরস্কার দণ্ড বা অন্য কোনো লঘুদণ্ড আরোপ করে চাকরিতে বহাল রাখার মতো এরূপ অনৈতিক সুবিধা বিশ্বের অন্য কোনো দেশের সরকারি কর্মচারীরা ভোগ করেন বলে জানা নেই। বিধিমালাটিতে আরও অবাক করার বিষয় হল কোনো কর্মচারী চাকরিতে ৬০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে তার ওপর তিরস্কার দণ্ডের চেয়ে কঠোর দণ্ড আরোপ করার বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, বিধিমালাটিতে দুর্নীতির চেয়ে চাকরিতে ৬০ দিনের বেশি অনুপস্থিতিকে অধিক গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এটা সুস্থ চিন্তার ফসল বলে ভাবার কি কোনো অবকাশ আছে!

এ ছাড়া ২০১৮ সালের আগে কোনো সরকারি কর্মচারী ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি, ছিনতাই, নারীর শ্লীলতাহানি বা নৈতিক স্খলনজনিত যে কোনো অপরাধে আদালত কর্তৃক কারাদণ্ডে বা জরিমানা দণ্ডে দণ্ডিত হলে রায় ঘোষণার দিন থেকে গণকর্মচারী ডিসমিসাল অন কনভিকশন অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত হতো। কিন্তু ২০১৮ সালে ওই অধ্যাদেশটি বাতিল করে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-তে এ সংক্রান্ত অত্যন্ত নমনীয় ও অনৈতিক বিধান সংযোজন করা হয়েছে। সরকারি চাকরি আইনটি ১ অক্টোবর ২০১৯ থেকে কার্যকর করা হয়েছে। সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি, ছিনতাই, নারীর শ্লীলতাহানি বা যে কোনো নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে কোনো সরকারি কর্মচারী এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে বা যে কোনো পরিমাণের অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হলে, তা কয়েক কোটি টাকা হলেও চাকরিতে বহাল থাকবেন। অর্থাৎ, কারাদণ্ড ভোগকালীনও তিনি তার সরকারি পদটি অলংকৃত করে রাখবেন এবং এক বছর কারাদণ্ড ভোগ শেষে নিজ চেয়ারে বসে দাপটের সঙ্গে জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন! বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এ ধরনের বিধান আছে বলে জানা নেই।

ঘুষ, দুর্নীতি বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে বা যে কোনো পরিমাণের অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হলেও চাকরিতে বহাল থাকার এ সুযোগ দুর্নীতি প্রতিরোধের সহায়ক বিধান বলে ভাবার কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ঘুষ ও দুর্নীতির জন্য দুদক যেসব মামলা করেছে বা করবে, সেসব মামলায় যেসব সরকারি কর্মচারীর এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হবে, তারা এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ শেষে অথবা কয়েক কোটি টাকা অর্থদণ্ড হলে ওই অর্থদণ্ড পরিশোধ করে আবার চাকরিতে যোগদান করে বহাল তবিয়তে চাকরি করে অবসরে যাবেন এবং সরকারি কোষাগার থেকে পেনশন পাবেন। আইনের এরূপ বিধান অবশ্যই সুস্থ চিন্তার সহায়ক নয় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধেও সহায়ক নয়।

দুদকের দায়িত্ব কেবল দুর্নীতির মামলা করা বা দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিত করা নয়। দুর্নীতি প্রতিরোধের পরিপন্থী আইনের বিধান সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের গোচরে আনাও দুদকের দায়িত্ব।

দুর্নীতিবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে ওই নীতির পরিপন্থী আইনকানুন প্রণয়ন করা হলে জিরো টলারেন্স নীতি জিরো হয়েই থাকবে বলে জনমনে ধারণা।

মো. ফিরোজ মিয়া : অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব, চাকরি ও আইন সংক্রান্ত গ্রন্থের লেখক

জিরো টলারেন্সের জিরো

 মো. ফিরোজ মিয়া 
২১ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
অর্থ পাচার
ফাইল ছবি

রাজনীতিকরা নন; বরং সরকারি কর্মচারীরাই বেশি অর্থ পাচার করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এরূপ বক্তব্য এবং সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি পাওয়া শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে তেলের দাম নিচ্ছেন সরকারি কোষাগার থেকে-সংবাদমাধ্যমের এরূপ খবরেই বোঝা যায় সরকারি কর্মচারীদের নৈতিকতা ও ভাবমূর্তি বর্তমানে কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে অর্থ পাচারের খবরের চুলচেরা বিশ্লেষণ না করেও বলা যায়-অর্থ পাচারে সরকারি কর্মচারীদের সংখ্যা বেশি হলেও পাচারকৃত অর্থের পরিমাণের দিক থেকে তা কোনোক্রমেই অন্যান্য গোষ্ঠীর অর্থ পাচারের পরিমাণের ধারেকাছেও নয়।

‘সব সময় জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা সরকারি কর্মচারীর কর্তব্য’। সরকারি কর্মচারীরা যাতে জনসেবায় নিজেদের সব সময় নিয়োজিত রাখেন সে উদ্দেশ্যেই সংবিধানে এ মূলমন্ত্র সংযোজন করা হয়েছে। সংবিধানের এ মূলমন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবেই সরকারি কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত বিধিবিধান প্রণীত হওয়ার কথা।

অন্যদের মতো সরকারি কর্মচারীরাও দুর্নীতির সহায়ক পরিবেশ ও সুযোগ পেলে দুর্নীতি করবে এটাই তো স্বাভাবিক। এ জন্য সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশে কঠোর দণ্ডের বিধান সংবলিত চাকরিবিধি প্রণয়ন করা হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে এর উল্টো চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে!

সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তবে এ জিরো টলারেন্স নীতি সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ, সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক চাকরিবিধিরও প্রয়োজন রয়েছে। অবশ্য ২০১৮ সালের আগে সরকারি কর্মচারীদের ঘুষ, দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনজনিত অন্যান্য অপরাধের জন্য চাকরি সংক্রান্ত বিধিবিধানে অপেক্ষাকৃত কঠোর বিধান বিদ্যমান ছিল। ২০১৮ সালে এসেই হঠাৎ করে তা যেন সম্পূর্ণ পাল্টে গেল। কঠোর দণ্ডের পরিবর্তে এলো দুর্নীতিকে উৎসাহিত করার মতো নমনীয় দণ্ডের বিধান!

২০১৮ সালের আগে সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য ছিল ১৯৮৫ সালের শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা। ওই বিধিমালায় দুর্নীতির জন্য সর্বনিু দণ্ড ছিল চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দান। অর্থাৎ, ছোট হোক বা বড় হোক, যে কোনো দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পর কোনো সরকারি কর্মচারীকে চাকরিতে বহাল রাখার সুযোগ ছিল না। এ কারণে দুর্নীতি করার সময় চাকরি চলে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই দুর্নীতি করা থেকে বিরত থাকত। ২০১৮ সালে ১৯৮৫ সালের বিধিমালাটি বাতিল করে জারি করা হয়েছে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮। এ বিধিমালায় দুর্নীতিকে উৎসাহিত করার মতো বিধান সংযোজন করা হয়েছে। বিধিমালাটিতে দুর্নীতির জন্য যে কোনো ধরনের দণ্ডের বিধান করে তিরস্কার দণ্ডের মতো হালকা দণ্ড আরোপেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিধিমালাটিতে একাধিকবার দুর্নীতি করার কেবল সুযোগই রাখা হয়নি; বরং একাধিকবার দুর্নীতির ক্ষেত্রেও তিরস্কার দণ্ড আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। দুর্নীতির জন্য তিরস্কার দণ্ড বা অন্য কোনো লঘুদণ্ড আরোপ করে চাকরিতে বহাল রাখার মতো এরূপ অনৈতিক সুবিধা বিশ্বের অন্য কোনো দেশের সরকারি কর্মচারীরা ভোগ করেন বলে জানা নেই। বিধিমালাটিতে আরও অবাক করার বিষয় হল কোনো কর্মচারী চাকরিতে ৬০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে তার ওপর তিরস্কার দণ্ডের চেয়ে কঠোর দণ্ড আরোপ করার বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, বিধিমালাটিতে দুর্নীতির চেয়ে চাকরিতে ৬০ দিনের বেশি অনুপস্থিতিকে অধিক গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এটা সুস্থ চিন্তার ফসল বলে ভাবার কি কোনো অবকাশ আছে!

এ ছাড়া ২০১৮ সালের আগে কোনো সরকারি কর্মচারী ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি, ছিনতাই, নারীর শ্লীলতাহানি বা নৈতিক স্খলনজনিত যে কোনো অপরাধে আদালত কর্তৃক কারাদণ্ডে বা জরিমানা দণ্ডে দণ্ডিত হলে রায় ঘোষণার দিন থেকে গণকর্মচারী ডিসমিসাল অন কনভিকশন অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত হতো। কিন্তু ২০১৮ সালে ওই অধ্যাদেশটি বাতিল করে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-তে এ সংক্রান্ত অত্যন্ত নমনীয় ও অনৈতিক বিধান সংযোজন করা হয়েছে। সরকারি চাকরি আইনটি ১ অক্টোবর ২০১৯ থেকে কার্যকর করা হয়েছে। সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি, ছিনতাই, নারীর শ্লীলতাহানি বা যে কোনো নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে কোনো সরকারি কর্মচারী এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে বা যে কোনো পরিমাণের অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হলে, তা কয়েক কোটি টাকা হলেও চাকরিতে বহাল থাকবেন। অর্থাৎ, কারাদণ্ড ভোগকালীনও তিনি তার সরকারি পদটি অলংকৃত করে রাখবেন এবং এক বছর কারাদণ্ড ভোগ শেষে নিজ চেয়ারে বসে দাপটের সঙ্গে জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন! বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এ ধরনের বিধান আছে বলে জানা নেই।

ঘুষ, দুর্নীতি বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে বা যে কোনো পরিমাণের অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হলেও চাকরিতে বহাল থাকার এ সুযোগ দুর্নীতি প্রতিরোধের সহায়ক বিধান বলে ভাবার কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ঘুষ ও দুর্নীতির জন্য দুদক যেসব মামলা করেছে বা করবে, সেসব মামলায় যেসব সরকারি কর্মচারীর এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হবে, তারা এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ শেষে অথবা কয়েক কোটি টাকা অর্থদণ্ড হলে ওই অর্থদণ্ড পরিশোধ করে আবার চাকরিতে যোগদান করে বহাল তবিয়তে চাকরি করে অবসরে যাবেন এবং সরকারি কোষাগার থেকে পেনশন পাবেন। আইনের এরূপ বিধান অবশ্যই সুস্থ চিন্তার সহায়ক নয় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধেও সহায়ক নয়।

দুদকের দায়িত্ব কেবল দুর্নীতির মামলা করা বা দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিত করা নয়। দুর্নীতি প্রতিরোধের পরিপন্থী আইনের বিধান সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের গোচরে আনাও দুদকের দায়িত্ব।

দুর্নীতিবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে ওই নীতির পরিপন্থী আইনকানুন প্রণয়ন করা হলে জিরো টলারেন্স নীতি জিরো হয়েই থাকবে বলে জনমনে ধারণা।

মো. ফিরোজ মিয়া : অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব, চাকরি ও আইন সংক্রান্ত গ্রন্থের লেখক