ট্রাম্পকে ফিরে যেতেই হবে
jugantor
ট্রাম্পকে ফিরে যেতেই হবে

  একেএম শামসুদ্দিন  

৩০ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৩ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেন জয়লাভ করলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের একগুঁয়ে মনোভাবের জন্য ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি গত তিন সপ্তাহ ধরে ঝুলে আছে। নির্বাচনের ফলাফল হাতছাড়া হওয়া শুরু হলে ট্রাম্প ফলাফল প্রকাশে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বাধার সৃষ্টি করে চলেছেন। একের পর এক আইনি লড়াইয়ে ব্যর্থ হওয়ার পরও হোয়াইট হাউস ত্যাগ না করার জেদ ধরে আছেন। ট্রাম্প এ পর্যন্ত ত্রিশটি মামলা করে ফলাফল তার পক্ষে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত মিশিগান রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই কিছুটা নরম হয়েছেন বলে মনে হয়েছে। এতদিন তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় বাইডেনকে অসহযোগিতা করে আসছিল। জো বাইডেন শিবির ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিএসএ) অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এমিলি মারফির কাছে সরকারি নথি ও দলিলদস্তাবেজ চেয়ে ব্যর্থ হয়েছে।

এ নিয়ে সমালোচনার ঝড়ও বয়ে গেছে। নিজ দলের কিছু জ্যেষ্ঠ রিপাবলিকান নেতাও নানা বিবৃতির মাধ্যমে নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার না করে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার এ হীন চেষ্টার সমালোচনাও করেছেন। অতঃপর জর্জিয়া এবং সর্বশেষ মিশিগানের নির্বাচনের ফলাফলের সত্যায়নে বা সনদের সরকারি ঘোষণার পর ট্রাম্প এমিলি মারফি ও তার দলকে প্রক্রিয়া শুরু করার সুপারিশ করেছেন। এ সুপারিশের মাধ্যমে ট্রাম্প নির্বাচনে কার্যত হার মেনে নিয়েছেন বলা যায়; কিন্তু তারপরও কথা আছে। ট্রাম্প এমন চরিত্রের মানুষ যার বিচিত্র মানসিকতা ও কর্মকাণ্ড চার বছর ধরে বিশ্ববাসী দেখে আসছে। তাকে বিশ্বাস করাও মুশকিল। আপাতদৃষ্টিতে হার মেনে নিয়েছেন মনে হলেও তিনি হাল ছাড়ার পাত্র নন। তাই ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে সম্মতি দিলেও নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ থেকে সরে দাঁড়াবেন এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। আমাদের দেশে প্রাচীন একটি প্রবাদ আছে, ভাঙব কিন্তু মচকাবো না। ট্রাম্প হলেন সেই চরিত্রের পাত্র। অর্থাৎ আইনি সব অপশন ব্যবহার করে ব্যর্থ হলেও জো বাইডেনের কাছে তিনি হার স্বীকার করবেন না। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।

ট্রাম্প যে নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করবে না তার আরও একটি মহড়া দেখলাম ২৬ নভেম্বর। থ্যাংকসগিভিং অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি হোয়াইট হাউস তখনই ছাড়ব যখন ইলেক্টোরাল কলেজ আনুষ্ঠানিকভাবে জো বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা করবে। অর্থাৎ তিনি এখনও বিশ্বাস করেন, ইলেক্টোরাল কলেজ বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা না-ও করতে পারে! ট্রাম্প কতটুকু নির্লজ্জ ও আত্মঅহঙ্কারী যে তিনি একটার পর একটা কূটচাল চেলেও মার খেয়ে এখনও মনে করেন হোয়াইট হাউসের গদি আঁকড়ে ধরে রাখা সম্ভব! যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশব্যাপী নির্বাচন হলেও সরাসরি জনগণের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয় না। সংখ্যাধিক্য ইলেক্টোরাল ভোটের জোরে প্র্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিসহ ৫০টি রাজ্যের প্রতিটির নাগরিকদের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে মোট ইলেক্টোরালের সংখ্যা নির্ধারিত হয়ে থাকে। এবার বাইডেন ৩০৬টি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে ২৭০টি ভোট পেলেই নির্বাচিত হওয়া সম্ভব। অপরদিকে ট্রাম্প পেয়েছেন ২৩২টি ভোট। বাইডেন শুধু ইলেক্টোরাল ভোটেই ট্রাম্পকে পরাজিত করেননি; ৬০ লাখ পপুলার ভোট বেশি পেয়েও ট্রাম্পকে পেছনে ফেলেছেন। অবশ্য সংবিধান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যগুলো নির্বাচনের ফলাফল সত্যায়ন সনদ দিলেও বিজয়ী প্রার্থীদের সরকারিভাবে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা যায় না, যতক্ষণ না সব ইলেক্টোরস একসঙ্গে বসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করে।

সাধারণত ইলেক্টোরসদের এ মিটিং ডিসেম্বরের ১৪ তারিখ অনুষ্ঠিত হয় এবং মিটিংয়ের পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল সরকারিভাবে ঘোষণার করা হয়। ১৪ ডিসেম্বরের এ ইলেক্টোরাল মিটিংয়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যকে নির্বাচনের ফলাফলের সনদ প্রদান প্রক্রিয়া ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার নিয়ম। রাজ্যগুলো অবশ্য এ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে। ট্রাম্প চেষ্টা করছে এ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে কোনো রকমে ৮ ডিসেম্বর পার করে দিতে যাতে আরও একটি আইনি জটিলতার সৃষ্টি করা যায়। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, এ ব্যাপারে ট্রাম্প ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ ট্রাম্প শিবির ইতোমধ্যে মিশিগান, জর্জিয়া ও পেনসিলভানিয়ায় এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে সুবিধা করতে পারেনি। তারপরও ট্রাম্প আশা ছাড়েননি; তার প্রত্যাশা ১৪ ডিসেম্বর ইলেক্টোরাল মিটিং থেকে তার পক্ষে হয়তো চমকপ্রদ কোনো ঘোষণা আসতে পারে; যাকে একটি কাল্পনিক স্বপ্নই বলা চলে। তিনি তার বক্তব্যে আরও যোগ করেন, ইলেক্টোরাল কলেজ যদি বাইডেনকেই বিজয়ী ঘোষণা করে তাহলে তা হবে একটি বিরাট ভুল বা ‘ভ্রান্তি’।

ট্রাম্পের এ ধরনের অস্থির এবং বিভ্রান্তিকর আচরণের কারণ খুঁজতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে ক্ষমতা ছাড়ার পর ট্রাম্পের Clean Escape Route নিশ্চিত করা। ক্ষমতায় থাকাকালীন ট্রাম্প অপকর্ম করেছেন এবং এর জের ধরে তার বিরুদ্ধে উল্লেখ করার মতো বেশ কয়েকটি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা হয়েছে। দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এতদিন এসব মামলা থেকে দায়মুক্তির সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর এসব মামলা পুনরুজ্জীবিত হবে সন্দেহ নেই; এমনকি তার জেলও হয়ে যেতে পারে। তবে এ ঝামেলা থেকে মুক্তির পথও আছে। তা হল ক্ষমতা ছাড়ার পর পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনই পারবেন তাকে জেলখাটা থেকে বাঁচাতে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী অব্যবহিত উত্তরাধিকারী প্রেসিডেন্টকে সে ক্ষমতা দেয়া আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর নজিরও আছে। ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারির জেরে রিচার্ড নিক্সন ক্ষমতা ছেড়ে দিলে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, নিক্সন এবং ফোর্ড একই দল রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সেজন্য শাস্তি থেকে অব্যাহতি পেতে নিক্সনের জন্য সহজতর ছিল। অনেকের ধারণা ট্রাম্প বুঝে গেছে ক্ষমতা তাকে ছাড়তে হবেই। ক্ষমতা ছাড়ার পর তাকে হয়তো শাস্তির মুখোমুখিও হতে পারে। তাই সে আপ্রাণ চেষ্টা করছে যে কোনো ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে, নয়তো ঘোলা পরিস্থিতি তৈরি করে বাইডেনের সঙ্গে এক ধরনের সমঝোতা করে শাস্তি থেকে অব্যহতি পাওয়ার পথ পরিষ্কার করতে। তবে এ ধরনের সম্ভাবনা আমি আপাতত দেখছি না। আমাদের মতো দেশে এ ধরনের অদ্ভুত বোঝাপড়া সম্ভব হলেও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বুনিয়াদি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বারংবার তা সম্ভব নয়। মনে রাখতে হবে, বাইডেন ও ট্রাম্প, নিক্সন ও ফোর্ডের মতো একই দলের সদস্য নন। সুতরাং ট্রাম্পের জন্য ওই তথাকথিত Clean Escape Route খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। এই Clean Escape Route-এর কথা উঠলেই আমাদের দেশের ২০০৭ সালের ১/১১-এর নায়কদের কথা মনে পড়ে যায়। এখনও আমরা এই Clean Escape Route-এর সুবিধাভোগী দু-একজনের গল্প শুনি। তাদের একজনকে তো এখন দেশের একজন অন্যতম ক্ষমতাভোগী হিসেবে দেশবাসী দেখছে। অপরজনের কথা মাঝে মধ্যে সংবাদমাধ্যমে খবর হয় দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছেন। তাদের এই Escape Route সম্পর্কে কিছুটা ইঙ্গিত পার্শ্ববর্তী একটি দেশের একজন বিখ্যাত ব্যক্তির জীবনীগ্রন্থেও উল্লেখ আছে বলে আমরা শুনেছি; যা কিছুদিন আগেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ প্রচার ছিল।

আমাদের দেশে এসব সম্ভব হলেও যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প একই ধরনের অভিযোগ তুলে সুবিধা করতে পারেননি। কারণ তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া এমনই পরীক্ষিত যে, তা সম্ভবও নয়। রাজনৈতিক সততার অনন্য উদাহরণ এবার আমরা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে দেখেছি। একই দলের সিনেটর এবং রাজ্যের গভর্নর হয়েও নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য তারা ট্রাম্পের অনাকাঙ্ক্ষিত আবদারের পক্ষে কথা বলেননি। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ট্রাম্প হারলেও গণতন্ত্রকে পরাজিত হতে তারা দেননি। দলীয় সমর্থক বলে পরিচিত সংবাদমাধ্যমগুলোকেও কিন্তু ট্রাম্পের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। তারাও কিন্তু দলকানা সমর্থক হিসেবে অবস্থান না নিয়ে গণতন্ত্রের পাশে দাঁড়িয়েছে। সেদিন ট্রাম্পের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ফক্স নিউজের উপস্থাপককে বলতে শোনা গেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর বাইরে যদি কেউ কিছু বলে, তাহলে তিনি মিথ্যাবাদী।’

এ লেখা যখন লিখছি, তখন পর্যন্ত বেসরকারিভাবে নির্বাচিত জো বাইডেন তার সরকারের বেশ কয়েকজন সেক্রেটারির নাম ঘোষণা করেছেন। এ ঘোষণায় যেমন চমক আছে, তেমনি তা বৈচিত্র্যে ভরা। আফ্রো-আমেরিকান, হিস্পানিক (দক্ষিণ আমেরিকা বংশোদ্ভূত), মহিলা প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন ক্যাবিনেটে। তার এ সিদ্ধান্তে সবাই খুশি হয়েছে বলে মনে হয়েছে। ক্যাবিনেটের ধরন দেখে বোঝা যায়, গত চার বছরে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে যেভাবে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন বাইডেন তার এ টিম নিয়ে পুনরায় আগের অবস্থাতে যেতে সক্ষম হবেন। আশার কথা, ট্রাম্প পরাজয় স্বীকার না করলেও যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বাইডেনের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। তাদের অনুসরণ করে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বাইডেন সরকারকে সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করেছে। তবে এসব কিছুকে ছাপিয়ে সবচেয়ে ভালো লেগেছে ট্রাম্প ক্ষমতায় বহাল থাকার চেষ্টার অংশ হিসেবে সামরিক বাহিনীকেও কাজে লাগাতে পারে এমন চিন্তার কথা প্রকাশ পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের ২০তম চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক এ মেলির সময়োপযোগী বক্তব্যটি। তিনি একটি সামরিক জাদুঘরের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমি যখন বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা সফরে যাই তখন সাধারণ সৈনিকদের চোখে ও কণ্ঠে দেশের নিরাপত্তা ও সংবিধান সংরক্ষণের তীব্র আকাঙ্ক্ষার ছায়া দেখি ও শুনতে পাই। আমরা সৈনিক হিসেবে কোনো রাজা বা রানীর সেবার জন্য শপথ গ্রহণ করিনি, আমরা কোনো স্বৈরাচারকে রক্ষা করার জন্য শপথ গ্রহণ করিনি, আমরা কোনো ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থ রক্ষায় শপথ গ্রহণ করিনি, আমরা কোনো ট্রাইব বা ধর্মকে রক্ষা করার জন্য শপথ নেইনি। আমরা সংবিধানকে সমুন্নত রাখার শপথ নিয়েছি।’ এতকিছুর পরও যদি ট্রাম্পের শুভবুদ্ধির উদয় না ঘটে, তাহলে সামনে তাকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। আর বেশি দূরে নয়; ১৪ ডিসেম্বর ইলেক্টোরাল মিটিংয়ের দিনেই ট্রাম্পের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যাবে। পরাজয় স্বীকার করুক বা না করুক ক্ষমতা তাকে ছাড়তেই হবে এবং তারপর তার বিরুদ্ধে রুজু করা মামলার মুখামুখি হতে হবে। এসব মামলার যে কোনোটিতে যদি জেল হয়ে যায় তাহলে তার জনসমর্থনের পারদও তখন নিজ থেকেই নিুগামী হতে শুরু করবে সন্দেহ নেই। তখন হয়তো রাজনীতির পথ ছেড়ে তার যে আসল অবস্থান, সেই ব্যবসায় মনোযোগ দিতে তাকে ফিরে যেতে হবে।

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

ট্রাম্পকে ফিরে যেতেই হবে

 একেএম শামসুদ্দিন 
৩০ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৩ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেন জয়লাভ করলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের একগুঁয়ে মনোভাবের জন্য ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি গত তিন সপ্তাহ ধরে ঝুলে আছে। নির্বাচনের ফলাফল হাতছাড়া হওয়া শুরু হলে ট্রাম্প ফলাফল প্রকাশে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বাধার সৃষ্টি করে চলেছেন। একের পর এক আইনি লড়াইয়ে ব্যর্থ হওয়ার পরও হোয়াইট হাউস ত্যাগ না করার জেদ ধরে আছেন। ট্রাম্প এ পর্যন্ত ত্রিশটি মামলা করে ফলাফল তার পক্ষে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত মিশিগান রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই কিছুটা নরম হয়েছেন বলে মনে হয়েছে। এতদিন তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় বাইডেনকে অসহযোগিতা করে আসছিল। জো বাইডেন শিবির ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিএসএ) অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এমিলি মারফির কাছে সরকারি নথি ও দলিলদস্তাবেজ চেয়ে ব্যর্থ হয়েছে।

এ নিয়ে সমালোচনার ঝড়ও বয়ে গেছে। নিজ দলের কিছু জ্যেষ্ঠ রিপাবলিকান নেতাও নানা বিবৃতির মাধ্যমে নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার না করে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার এ হীন চেষ্টার সমালোচনাও করেছেন। অতঃপর জর্জিয়া এবং সর্বশেষ মিশিগানের নির্বাচনের ফলাফলের সত্যায়নে বা সনদের সরকারি ঘোষণার পর ট্রাম্প এমিলি মারফি ও তার দলকে প্রক্রিয়া শুরু করার সুপারিশ করেছেন। এ সুপারিশের মাধ্যমে ট্রাম্প নির্বাচনে কার্যত হার মেনে নিয়েছেন বলা যায়; কিন্তু তারপরও কথা আছে। ট্রাম্প এমন চরিত্রের মানুষ যার বিচিত্র মানসিকতা ও কর্মকাণ্ড চার বছর ধরে বিশ্ববাসী দেখে আসছে। তাকে বিশ্বাস করাও মুশকিল। আপাতদৃষ্টিতে হার মেনে নিয়েছেন মনে হলেও তিনি হাল ছাড়ার পাত্র নন। তাই ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে সম্মতি দিলেও নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ থেকে সরে দাঁড়াবেন এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। আমাদের দেশে প্রাচীন একটি প্রবাদ আছে, ভাঙব কিন্তু মচকাবো না। ট্রাম্প হলেন সেই চরিত্রের পাত্র। অর্থাৎ আইনি সব অপশন ব্যবহার করে ব্যর্থ হলেও জো বাইডেনের কাছে তিনি হার স্বীকার করবেন না। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।

ট্রাম্প যে নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করবে না তার আরও একটি মহড়া দেখলাম ২৬ নভেম্বর। থ্যাংকসগিভিং অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি হোয়াইট হাউস তখনই ছাড়ব যখন ইলেক্টোরাল কলেজ আনুষ্ঠানিকভাবে জো বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা করবে। অর্থাৎ তিনি এখনও বিশ্বাস করেন, ইলেক্টোরাল কলেজ বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা না-ও করতে পারে! ট্রাম্প কতটুকু নির্লজ্জ ও আত্মঅহঙ্কারী যে তিনি একটার পর একটা কূটচাল চেলেও মার খেয়ে এখনও মনে করেন হোয়াইট হাউসের গদি আঁকড়ে ধরে রাখা সম্ভব! যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশব্যাপী নির্বাচন হলেও সরাসরি জনগণের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয় না। সংখ্যাধিক্য ইলেক্টোরাল ভোটের জোরে প্র্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিসহ ৫০টি রাজ্যের প্রতিটির নাগরিকদের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে মোট ইলেক্টোরালের সংখ্যা নির্ধারিত হয়ে থাকে। এবার বাইডেন ৩০৬টি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে ২৭০টি ভোট পেলেই নির্বাচিত হওয়া সম্ভব। অপরদিকে ট্রাম্প পেয়েছেন ২৩২টি ভোট। বাইডেন শুধু ইলেক্টোরাল ভোটেই ট্রাম্পকে পরাজিত করেননি; ৬০ লাখ পপুলার ভোট বেশি পেয়েও ট্রাম্পকে পেছনে ফেলেছেন। অবশ্য সংবিধান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যগুলো নির্বাচনের ফলাফল সত্যায়ন সনদ দিলেও বিজয়ী প্রার্থীদের সরকারিভাবে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা যায় না, যতক্ষণ না সব ইলেক্টোরস একসঙ্গে বসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করে।

সাধারণত ইলেক্টোরসদের এ মিটিং ডিসেম্বরের ১৪ তারিখ অনুষ্ঠিত হয় এবং মিটিংয়ের পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল সরকারিভাবে ঘোষণার করা হয়। ১৪ ডিসেম্বরের এ ইলেক্টোরাল মিটিংয়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যকে নির্বাচনের ফলাফলের সনদ প্রদান প্রক্রিয়া ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার নিয়ম। রাজ্যগুলো অবশ্য এ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে। ট্রাম্প চেষ্টা করছে এ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে কোনো রকমে ৮ ডিসেম্বর পার করে দিতে যাতে আরও একটি আইনি জটিলতার সৃষ্টি করা যায়। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, এ ব্যাপারে ট্রাম্প ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ ট্রাম্প শিবির ইতোমধ্যে মিশিগান, জর্জিয়া ও পেনসিলভানিয়ায় এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে সুবিধা করতে পারেনি। তারপরও ট্রাম্প আশা ছাড়েননি; তার প্রত্যাশা ১৪ ডিসেম্বর ইলেক্টোরাল মিটিং থেকে তার পক্ষে হয়তো চমকপ্রদ কোনো ঘোষণা আসতে পারে; যাকে একটি কাল্পনিক স্বপ্নই বলা চলে। তিনি তার বক্তব্যে আরও যোগ করেন, ইলেক্টোরাল কলেজ যদি বাইডেনকেই বিজয়ী ঘোষণা করে তাহলে তা হবে একটি বিরাট ভুল বা ‘ভ্রান্তি’।

ট্রাম্পের এ ধরনের অস্থির এবং বিভ্রান্তিকর আচরণের কারণ খুঁজতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে ক্ষমতা ছাড়ার পর ট্রাম্পের Clean Escape Route নিশ্চিত করা। ক্ষমতায় থাকাকালীন ট্রাম্প অপকর্ম করেছেন এবং এর জের ধরে তার বিরুদ্ধে উল্লেখ করার মতো বেশ কয়েকটি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা হয়েছে। দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এতদিন এসব মামলা থেকে দায়মুক্তির সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর এসব মামলা পুনরুজ্জীবিত হবে সন্দেহ নেই; এমনকি তার জেলও হয়ে যেতে পারে। তবে এ ঝামেলা থেকে মুক্তির পথও আছে। তা হল ক্ষমতা ছাড়ার পর পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনই পারবেন তাকে জেলখাটা থেকে বাঁচাতে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী অব্যবহিত উত্তরাধিকারী প্রেসিডেন্টকে সে ক্ষমতা দেয়া আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর নজিরও আছে। ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারির জেরে রিচার্ড নিক্সন ক্ষমতা ছেড়ে দিলে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, নিক্সন এবং ফোর্ড একই দল রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সেজন্য শাস্তি থেকে অব্যাহতি পেতে নিক্সনের জন্য সহজতর ছিল। অনেকের ধারণা ট্রাম্প বুঝে গেছে ক্ষমতা তাকে ছাড়তে হবেই। ক্ষমতা ছাড়ার পর তাকে হয়তো শাস্তির মুখোমুখিও হতে পারে। তাই সে আপ্রাণ চেষ্টা করছে যে কোনো ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে, নয়তো ঘোলা পরিস্থিতি তৈরি করে বাইডেনের সঙ্গে এক ধরনের সমঝোতা করে শাস্তি থেকে অব্যহতি পাওয়ার পথ পরিষ্কার করতে। তবে এ ধরনের সম্ভাবনা আমি আপাতত দেখছি না। আমাদের মতো দেশে এ ধরনের অদ্ভুত বোঝাপড়া সম্ভব হলেও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বুনিয়াদি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বারংবার তা সম্ভব নয়। মনে রাখতে হবে, বাইডেন ও ট্রাম্প, নিক্সন ও ফোর্ডের মতো একই দলের সদস্য নন। সুতরাং ট্রাম্পের জন্য ওই তথাকথিত Clean Escape Route খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। এই Clean Escape Route-এর কথা উঠলেই আমাদের দেশের ২০০৭ সালের ১/১১-এর নায়কদের কথা মনে পড়ে যায়। এখনও আমরা এই Clean Escape Route-এর সুবিধাভোগী দু-একজনের গল্প শুনি। তাদের একজনকে তো এখন দেশের একজন অন্যতম ক্ষমতাভোগী হিসেবে দেশবাসী দেখছে। অপরজনের কথা মাঝে মধ্যে সংবাদমাধ্যমে খবর হয় দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছেন। তাদের এই Escape Route সম্পর্কে কিছুটা ইঙ্গিত পার্শ্ববর্তী একটি দেশের একজন বিখ্যাত ব্যক্তির জীবনীগ্রন্থেও উল্লেখ আছে বলে আমরা শুনেছি; যা কিছুদিন আগেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ প্রচার ছিল।

আমাদের দেশে এসব সম্ভব হলেও যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প একই ধরনের অভিযোগ তুলে সুবিধা করতে পারেননি। কারণ তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া এমনই পরীক্ষিত যে, তা সম্ভবও নয়। রাজনৈতিক সততার অনন্য উদাহরণ এবার আমরা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে দেখেছি। একই দলের সিনেটর এবং রাজ্যের গভর্নর হয়েও নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য তারা ট্রাম্পের অনাকাঙ্ক্ষিত আবদারের পক্ষে কথা বলেননি। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ট্রাম্প হারলেও গণতন্ত্রকে পরাজিত হতে তারা দেননি। দলীয় সমর্থক বলে পরিচিত সংবাদমাধ্যমগুলোকেও কিন্তু ট্রাম্পের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। তারাও কিন্তু দলকানা সমর্থক হিসেবে অবস্থান না নিয়ে গণতন্ত্রের পাশে দাঁড়িয়েছে। সেদিন ট্রাম্পের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ফক্স নিউজের উপস্থাপককে বলতে শোনা গেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর বাইরে যদি কেউ কিছু বলে, তাহলে তিনি মিথ্যাবাদী।’

এ লেখা যখন লিখছি, তখন পর্যন্ত বেসরকারিভাবে নির্বাচিত জো বাইডেন তার সরকারের বেশ কয়েকজন সেক্রেটারির নাম ঘোষণা করেছেন। এ ঘোষণায় যেমন চমক আছে, তেমনি তা বৈচিত্র্যে ভরা। আফ্রো-আমেরিকান, হিস্পানিক (দক্ষিণ আমেরিকা বংশোদ্ভূত), মহিলা প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন ক্যাবিনেটে। তার এ সিদ্ধান্তে সবাই খুশি হয়েছে বলে মনে হয়েছে। ক্যাবিনেটের ধরন দেখে বোঝা যায়, গত চার বছরে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে যেভাবে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন বাইডেন তার এ টিম নিয়ে পুনরায় আগের অবস্থাতে যেতে সক্ষম হবেন। আশার কথা, ট্রাম্প পরাজয় স্বীকার না করলেও যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বাইডেনের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। তাদের অনুসরণ করে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বাইডেন সরকারকে সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করেছে। তবে এসব কিছুকে ছাপিয়ে সবচেয়ে ভালো লেগেছে ট্রাম্প ক্ষমতায় বহাল থাকার চেষ্টার অংশ হিসেবে সামরিক বাহিনীকেও কাজে লাগাতে পারে এমন চিন্তার কথা প্রকাশ পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের ২০তম চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক এ মেলির সময়োপযোগী বক্তব্যটি। তিনি একটি সামরিক জাদুঘরের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমি যখন বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা সফরে যাই তখন সাধারণ সৈনিকদের চোখে ও কণ্ঠে দেশের নিরাপত্তা ও সংবিধান সংরক্ষণের তীব্র আকাঙ্ক্ষার ছায়া দেখি ও শুনতে পাই। আমরা সৈনিক হিসেবে কোনো রাজা বা রানীর সেবার জন্য শপথ গ্রহণ করিনি, আমরা কোনো স্বৈরাচারকে রক্ষা করার জন্য শপথ গ্রহণ করিনি, আমরা কোনো ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থ রক্ষায় শপথ গ্রহণ করিনি, আমরা কোনো ট্রাইব বা ধর্মকে রক্ষা করার জন্য শপথ নেইনি। আমরা সংবিধানকে সমুন্নত রাখার শপথ নিয়েছি।’ এতকিছুর পরও যদি ট্রাম্পের শুভবুদ্ধির উদয় না ঘটে, তাহলে সামনে তাকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। আর বেশি দূরে নয়; ১৪ ডিসেম্বর ইলেক্টোরাল মিটিংয়ের দিনেই ট্রাম্পের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যাবে। পরাজয় স্বীকার করুক বা না করুক ক্ষমতা তাকে ছাড়তেই হবে এবং তারপর তার বিরুদ্ধে রুজু করা মামলার মুখামুখি হতে হবে। এসব মামলার যে কোনোটিতে যদি জেল হয়ে যায় তাহলে তার জনসমর্থনের পারদও তখন নিজ থেকেই নিুগামী হতে শুরু করবে সন্দেহ নেই। তখন হয়তো রাজনীতির পথ ছেড়ে তার যে আসল অবস্থান, সেই ব্যবসায় মনোযোগ দিতে তাকে ফিরে যেতে হবে।

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা