শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এ চুক্তির গুরুত্ব অনেক
jugantor
পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২৩ বছর
শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এ চুক্তির গুরুত্ব অনেক

  ড. দেলোয়ার হোসেন  

০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের শান্তি ও নিরাপত্তার উন্নয়নে চুক্তিটির গুরুত্ব

আবারও অনুধাবন করছি। ভূ-রাজনৈতিকভাবে একটি অশান্ত ও বৈরী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এ চুক্তিটি তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এ চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে অভূতপূর্ব সৌহার্দ্য, সহাবস্থান ও মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে পার্বত্য অঞ্চলে সরকার, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সবার শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও দীর্ঘকালীন একটি সংঘাতপূর্ণ পরিবেশের কারণে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস তৈরির কাজটি জটিল এবং সময়সাপেক্ষ; কিন্তু এ শান্তিচুক্তির ফলে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সেটাকে সব পক্ষের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজে লাগানো উচিত। আজ আমরা এ কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, শান্তিচুক্তির ফলে পার্বত্য অঞ্চলে নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে ওঠার কারণে এ অঞ্চলটিকে আরও সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শান্তিচুক্তির সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন সবার কাছেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকার ছাড়াও অন্যান্য পক্ষের এ বিষয়ে সহযোগিতা করার প্রয়োজন রয়েছে।

বর্তমান বাস্তবতায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন ধরনের ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসগরীয় অঞ্চল এ বাস্তবতার অন্যতম ক্ষেত্র। ফলে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে সংকীর্ণ স্বার্থে ব্যবহার না করে এ ব্যাপারে একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক মনোভাব নিয়ে ভূমিকা রাখা উচিত।

ড. দেলোয়ার হোসেন : অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২৩ বছর

শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এ চুক্তির গুরুত্ব অনেক

 ড. দেলোয়ার হোসেন 
০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের শান্তি ও নিরাপত্তার উন্নয়নে চুক্তিটির গুরুত্ব

আবারও অনুধাবন করছি। ভূ-রাজনৈতিকভাবে একটি অশান্ত ও বৈরী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এ চুক্তিটি তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এ চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে অভূতপূর্ব সৌহার্দ্য, সহাবস্থান ও মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে পার্বত্য অঞ্চলে সরকার, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সবার শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও দীর্ঘকালীন একটি সংঘাতপূর্ণ পরিবেশের কারণে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস তৈরির কাজটি জটিল এবং সময়সাপেক্ষ; কিন্তু এ শান্তিচুক্তির ফলে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সেটাকে সব পক্ষের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজে লাগানো উচিত। আজ আমরা এ কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, শান্তিচুক্তির ফলে পার্বত্য অঞ্চলে নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে ওঠার কারণে এ অঞ্চলটিকে আরও সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শান্তিচুক্তির সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন সবার কাছেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকার ছাড়াও অন্যান্য পক্ষের এ বিষয়ে সহযোগিতা করার প্রয়োজন রয়েছে।

বর্তমান বাস্তবতায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন ধরনের ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসগরীয় অঞ্চল এ বাস্তবতার অন্যতম ক্ষেত্র। ফলে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে সংকীর্ণ স্বার্থে ব্যবহার না করে এ ব্যাপারে একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক মনোভাব নিয়ে ভূমিকা রাখা উচিত।

ড. দেলোয়ার হোসেন : অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়