ট্রাম্পের অপসারণ কি অনিবার্য?
jugantor
ট্রাম্পের অপসারণ কি অনিবার্য?

  একেএম শামসুদ্দিন  

১৪ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবনে সংঘটিত সহিংসতা নিয়ে তামাম দুনিয়ায় এখন বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। অনেকেই ন্যক্কারজনক এ হামলার নেপথ্য কাহিনি নিয়ে যে যার মতো ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সনদ দেওয়ার এ দিনটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছিলেন, তখন সহিংসতার আশঙ্কা করলেও এ সহিংসতা যে এমন ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে, তা অনেকেরই ধারণা ছিল না।

তারা ভেবেছিলেন, ট্রাম্প হয়তো ব্যাপক লোকের সমাবেশ ঘটিয়ে জো বাইডেনকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সনদ না দেওয়ার জন্য আইনপ্রণেতাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করবেন। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটল, তা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ক্যাপিটল হিলের এ হামলার পর এখন প্রশ্ন উঠেছে, জো বাইডেনকে সনদ না দেওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য আইনপ্রণেতাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করাই কি ট্রাম্পের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো মতলব কাজ করেছে?

ট্রাম্প তার সমর্থকদের ওয়াশিংটন ডিসিতে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানোর পর থেকে একে একে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তা যদি লক্ষ করি, তাহলে হয়তো আমরা এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাব। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন এ সমাবেশ ডাকার জন্য টুইট করেন, তখন তার সেই টুইটের একটি অংশ ছিল এমন- Be there and be Wild. ট্রাম্পের টুইটের এই শেষ বাক্যটিই বলে দিয়েছিল সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হবে না।

তিনি চেয়েছিলেন সমাবেশের দিন সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে সনদ প্রদানের অনুষ্ঠানটি ভণ্ডুল করে দিতে। কিন্তু অবাক কাণ্ড, এই অসৎ উদ্দেশ্য ঠেকানোর জন্য যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ছিল, কর্তৃপক্ষ তা করেনি। ট্রাম্পের উগ্রবাদী সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশের প্রস্তুতি ছিল অপর্যাপ্ত। কংগ্রেস ভবনের নিরাপত্তার জন্য ২৩ হাজার পুলিশ বরাদ্দ থাকলেও সমাবেশের দিন ছিল মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পুলিশ।

সমাবেশের আগের দিন ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে ন্যাশনাল গার্ড নিয়োগের অনুরোধ করেছিলেন। তার সেই অনুরোধও প্রত্যাখ্যাত হয়। ৬ জানুয়ারি সমাবেশের লোকসংখ্যা যখন এক হাজার থেকে দুই হাজার, দুই হাজার থেকে চার হাজার, তারপর আট হাজার করে ধীরে ধীরে

বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ত্রিশ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে, তখনও নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে বোঝা যায়নি কিছুক্ষণের মধ্যেই যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে তা মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত! যেখানে উভয় পক্ষের কংগ্রেসের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন এবং সে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এত বড় একটা সমাবেশ ঘটতে যাচ্ছে, তারপরও নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের এতটুকু নড়েচড়ে বসতে দেখা গেল না! উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে বাধার জন্য যে বেষ্টনী দেওয়া হয়েছিল, তা-ও ছিল নড়বড়ে।

এ কারণে সমাবেশে আগত আগ্রাসী মানুষ বেষ্টনী অতিক্রম করে সহজেই কংগ্রেস ভবনে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল। অনেক পুলিশ সদস্যকে বেষ্টনী খুলে দিয়ে সমাবেশকারীদের নিরাপত্তা জোনে প্রবেশের সুযোগ করে দিতেও দেখা গেছে। অথচ কংগ্রেস ভবনের ভেতরে তখন সেদেশের আইনপ্রণেতারা অবস্থান করছিলেন।

আগ্রাসী এসব লোকের প্রতি পুলিশ সদস্যদের এমন নমনীয় আচরণ দেখে সাধারণ মানুষকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ মুভমেন্টের সময়ে পুলিশের আক্রমণাত্মক ভূমিকার পর ক্যাপিটল হিল দখলে ট্রাম্পের উগ্রবাদী সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এরূপ নমনীয় ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী সমালোচনা শুরু হয়েছে।

কংগ্রেস ভবনে এ কলঙ্কজনক হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, পুরো বিশ্বে নিন্দার ঝড় উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ইতিহাসের এমন জঘন্যতম কাজের উসকানিদাতা হিসেবে ট্রাম্পের অপসারণ এখন অনেকেই চাইছেন। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট পার্টির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্পের পদত্যাগের বিষয়ে সোচ্চার হয়েছেন অনেকে। ৬ জানুয়ারির ঘটনার পর তারা আর ট্রাম্পকে দেশের জন্য নিরাপদ ভাবতে রাজি নন। ট্রাম্পকে উন্মাদ আখ্যা দিয়ে ২০ জানুয়ারির আগে আরও কী অঘটন ঘটে, সে ব্যাপারে তারা সন্দিহান।

৩ নভেম্বর নির্বাচন শেষ হওয়ার পর একের পর এক ট্রাম্প যেভাবে তার হীন মনোভাব প্রকাশ করেছেন, তাতে ডেমোক্র্যাটদের এমন সন্দেহ করার কারণ আছে। নির্বাচনের ফল পাল্টানোর জন্য ৬০টিরও বেশি মামলা করেও হেরে গেছেন ট্রাম্প। আইনি ব্যবস্থায় নির্বাচনের ফল পাল্টানোর সব পথ যখন বন্ধ হয়ে গেছে, তখন নির্লজ্জের মতো তিনি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনি কর্মকর্তার দ্বারস্থ হন এবং টেলিফোনে নির্বাচনের ফল পালটে দিতে অনুরোধ করেন।

এদিকে ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের টেলিফোনের আলোচনার রেকর্ড প্রকাশ করে দিয়ে ট্রাম্পের এ অনৈতিক কর্মকাণ্ড সবার সামনে উন্মোচন করে দেয়। শুধু তা-ই নয়; সর্বশেষ আরও একটি কেলেঙ্কারির তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জর্জিয়ার নির্বাচনোত্তর ভোট গণনার বিষয়টি যিনি তদন্ত করেছিলেন, তাকে ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে বলে সার্টিফাই করার জন্য টেলিফোনে জোর অনুরোধ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এ হীন পদক্ষেপকে অনেকেই ৫০ বছর আগের প্রেসিডেন্ট নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে এ কথা ঠিক, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বিকৃত চিন্তাভাবনার ও ভারসাম্যহীন প্রেসিডেন্ট নিক্সন ছিলেন না। ডেমোক্র্যাটদের ভয় সেখানেই। এসব কথা বিবেচনা করেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ৭ জানুয়ারি সকালে জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলির সঙ্গে আলোচনা করেন।

ট্রাম্প দেশের ভেতরে ও বহির্বিশ্বে যাতে সামরিক সংঘাত শুরু করার সুযোগ না পান, সেজন্য পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের লঞ্চিং কোড যেন তার হাতে না আসে কিংবা তিনি পারমাণবিক হামলা শুরুর নির্দেশ দিতে না পারেন, সে বিষয়ে সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন। তা ছাড়াও পেলোসি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পদত্যাগে বাধ্য করতে কংগ্রেসের রিপাবলিকান নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান। ন্যান্সি পেলোসি ইতোমধ্যে ক্যাপিটল হিলের হামলায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে বার্তা দিয়েছেন।

রিপাবলিকান সমর্থকদের ভেতর মিশ্রপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলেও ঘটনার পরপর এক সমীক্ষার ফল দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৫৫ শতাংশ সমর্থক এ হামলাকে সমর্থন করছেন না। রিপাবলিকান কংগ্রেসের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা নির্বাচনের ফল নিয়ে ট্রাম্পের বাড়াবাড়িতে বিব্রতবোধ করেছেন। তাদের অনেকে প্রকাশ্য বিবৃতিও দিয়েছেন।

কিন্তু সাহস করে ট্রাম্পের মতো পাগলা ঘোড়াকে থামাতে পারেননি। এর মূল কারণ নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাড়ে সাত কোটি ভোটপ্রাপ্তি। ট্রাম্পের প্রতি এ বিপুল জনসমর্থন গণতন্ত্রের জন্য গ্রহণযোগ্য কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিজ্ঞ রিপাবলিকানদের দ্বিধাগ্রস্ত করেছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে খোলাখুলি স্বৈরাচারী, বর্ণবিদ্বেষী, ইসলাম ও অভিবাসনবিরোধী রাজনীতি চালু করেছেন। তার এ রাজনৈতিক দর্শনকে ‘ট্রাম্পের মতবাদ’ হিসেবে একশ্রেণির মানুষের মগজে ঢোকাতে তিনি সক্ষমও হয়েছেন।

এই শ্রেণির মানুষ বেশি উচ্চশিক্ষিত নন। এসব নাগরিকের অধিকাংশই শহরতলী ও গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন। ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিরোধী যে মনোভাব তৈরি হয়েছিল, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প সেই মনোভাবকে উসকে দিয়ে এই শ্রেণির মানুষের মনে জায়গা করে নিয়ছিলেন। পাশাপাশি অভিবাসনবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ তো আছেই। অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত এসব মানুষের ভেতর এ দুটি ইস্যু ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আরও বাড়াতে সাহায্য করেছে।

এসব কিছু বিবেচনা করে রিপাবলিকানদের অনেকেই ট্রাম্পের হীন কর্মকাণ্ডকে সমর্থন না করলেও তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করেননি। ক্যাপিটল হিলের ঘটনার পর অনুমান করা গিয়েছিল, ট্রাম্পবিরোধী এসব রিপাবলিকান তার অপসারণ সমর্থন করবেন। কিন্তু এদের সংখ্যা নগণ্য। অনেকেই মনে করেন, ট্রাম্পকে এভাবে অপসারণ করা হলে রিপাবলিকান সমর্থকদের ভেতর তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে। কারণ, উল্লিখিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থক এখনো মনে করছেন ট্রাম্পকে তার বাকি সময়ের জন্য সরানো উচিত হবে না। উল্লেখ্য, ট্রাম্পকে অপসারণ করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করতে হবে।

এ সংশোধনীতে বলা আছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভা যদি মনে করে যে প্রেসিডেন্ট মানসিক কিংবা শারীরিকভাবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য, তাহলে তাকে সরিয়ে দিতে পারবে। সুতরাং রিপাবলিকানদের পক্ষে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করা সম্ভব হবে না বলেই ধরা যায়। কারণ তারা জানেন এ পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তাদের ভেতর বিভাজন আরও বাড়বে। এ নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতি বিপুল জনপ্রিয়তা এক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা মনে করছেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। তবে এটাও ঠিক, ট্রাম্পকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে

বিরত রাখতে হলে তার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের বিকল্প নেই। ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত হলে ভবিষ্যতে তাকে কোনো সরকারি পদে আসীন হওয়া থেকে বিরত রাখা যাবে। সেক্ষেত্রে ২০২৪ সালে তার আর নির্বাচনে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না। ট্রাম্পের মতো ‘রং হেডেড’ মানুষকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য ইমপিচমেন্টই একমাত্র খোলা পথ। তবে ২০ জানুয়ারির মধ্যে ইমপিচ করা সম্ভব নয়। ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সিনেটরের সমর্থন দরকার হবে। এ প্রস্তাব পাস করতে হলে ডেমোক্র্যাটদের ১৭ জন রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন প্রয়োজন পড়বে। অন্যদিকে হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে বিধায় সেখানে প্রস্তাব পাস করা সহজ হবে; তারপর সিনেটে পাঠাতে হবে। ততদিনে জো বাইডেন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করে ফেলবেন। তখন ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিনেট ভোট জোগাড় করা কঠিন হবে না বলেই অভিজ্ঞ মহল মনে করে।

ক্যাপিটল হিলের ঘটনার পর ট্রাম্প কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্প ধরাশায়ী হলেও তিনি বারবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তবে এজন্য তিনি অনৈতিক পন্থাও ব্যবহার করেছেন। ক্যাপিটল হিলের সমাবেশ ছিল তার সর্বশেষ চেষ্টা। রিপাবলিকানদের অনেকে এ সহিংস ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। কেউ কেউ ট্রাম্পের পদত্যাগের কথাও তুলেছেন। গণতন্ত্র ও সংবিধানের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বিপজ্জনক, ক্যাপিটল হিলের ঘটনা যেন সেটাই সবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

এসব নিয়ে রিপাবলিকান দলের ভেতর নিশ্চয়ই চুলচেরা বিশ্লেষণ হবে। এবারের ভোটে ট্রাম্প রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়েছেন ঠিকই, তবে ৬ জানুয়ারির ঘটনায় তার এ জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়বে কি না, তা ভবিষ্যৎই বলতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রমনা মানুষই ঠিক করবেন রাজনৈতিক ময়দানে ট্রাম্পের অবস্থান কোথায় হবে। সর্বশেষে একটি কথা না বললেই নয়, তা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বুনিয়াদি গণতন্ত্রের চর্চা। ক্যাপিটল হিলের ঘটনার রাতেই ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের কংগ্রেস সদস্যরা যেভাবে জো বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সনদ প্রদান করেছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র যে শক্ত ভিতের উপর দাঁডিয়ে আছে, তা যেন আবারও প্রমাণ হলো।

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

ট্রাম্পের অপসারণ কি অনিবার্য?

 একেএম শামসুদ্দিন 
১৪ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবনে সংঘটিত সহিংসতা নিয়ে তামাম দুনিয়ায় এখন বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। অনেকেই ন্যক্কারজনক এ হামলার নেপথ্য কাহিনি নিয়ে যে যার মতো ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সনদ দেওয়ার এ দিনটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছিলেন, তখন সহিংসতার আশঙ্কা করলেও এ সহিংসতা যে এমন ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে, তা অনেকেরই ধারণা ছিল না।

তারা ভেবেছিলেন, ট্রাম্প হয়তো ব্যাপক লোকের সমাবেশ ঘটিয়ে জো বাইডেনকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সনদ না দেওয়ার জন্য আইনপ্রণেতাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করবেন। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটল, তা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ক্যাপিটল হিলের এ হামলার পর এখন প্রশ্ন উঠেছে, জো বাইডেনকে সনদ না দেওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য আইনপ্রণেতাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করাই কি ট্রাম্পের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো মতলব কাজ করেছে?

ট্রাম্প তার সমর্থকদের ওয়াশিংটন ডিসিতে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানোর পর থেকে একে একে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তা যদি লক্ষ করি, তাহলে হয়তো আমরা এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাব। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন এ সমাবেশ ডাকার জন্য টুইট করেন, তখন তার সেই টুইটের একটি অংশ ছিল এমন- Be there and be Wild. ট্রাম্পের টুইটের এই শেষ বাক্যটিই বলে দিয়েছিল সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হবে না।

তিনি চেয়েছিলেন সমাবেশের দিন সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে সনদ প্রদানের অনুষ্ঠানটি ভণ্ডুল করে দিতে। কিন্তু অবাক কাণ্ড, এই অসৎ উদ্দেশ্য ঠেকানোর জন্য যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ছিল, কর্তৃপক্ষ তা করেনি। ট্রাম্পের উগ্রবাদী সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশের প্রস্তুতি ছিল অপর্যাপ্ত। কংগ্রেস ভবনের নিরাপত্তার জন্য ২৩ হাজার পুলিশ বরাদ্দ থাকলেও সমাবেশের দিন ছিল মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পুলিশ।

সমাবেশের আগের দিন ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে ন্যাশনাল গার্ড নিয়োগের অনুরোধ করেছিলেন। তার সেই অনুরোধও প্রত্যাখ্যাত হয়। ৬ জানুয়ারি সমাবেশের লোকসংখ্যা যখন এক হাজার থেকে দুই হাজার, দুই হাজার থেকে চার হাজার, তারপর আট হাজার করে ধীরে ধীরে

বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ত্রিশ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে, তখনও নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে বোঝা যায়নি কিছুক্ষণের মধ্যেই যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে তা মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত! যেখানে উভয় পক্ষের কংগ্রেসের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন এবং সে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এত বড় একটা সমাবেশ ঘটতে যাচ্ছে, তারপরও নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের এতটুকু নড়েচড়ে বসতে দেখা গেল না! উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে বাধার জন্য যে বেষ্টনী দেওয়া হয়েছিল, তা-ও ছিল নড়বড়ে।

এ কারণে সমাবেশে আগত আগ্রাসী মানুষ বেষ্টনী অতিক্রম করে সহজেই কংগ্রেস ভবনে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল। অনেক পুলিশ সদস্যকে বেষ্টনী খুলে দিয়ে সমাবেশকারীদের নিরাপত্তা জোনে প্রবেশের সুযোগ করে দিতেও দেখা গেছে। অথচ কংগ্রেস ভবনের ভেতরে তখন সেদেশের আইনপ্রণেতারা অবস্থান করছিলেন।

আগ্রাসী এসব লোকের প্রতি পুলিশ সদস্যদের এমন নমনীয় আচরণ দেখে সাধারণ মানুষকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ মুভমেন্টের সময়ে পুলিশের আক্রমণাত্মক ভূমিকার পর ক্যাপিটল হিল দখলে ট্রাম্পের উগ্রবাদী সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এরূপ নমনীয় ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী সমালোচনা শুরু হয়েছে।

কংগ্রেস ভবনে এ কলঙ্কজনক হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, পুরো বিশ্বে নিন্দার ঝড় উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ইতিহাসের এমন জঘন্যতম কাজের উসকানিদাতা হিসেবে ট্রাম্পের অপসারণ এখন অনেকেই চাইছেন। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট পার্টির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্পের পদত্যাগের বিষয়ে সোচ্চার হয়েছেন অনেকে। ৬ জানুয়ারির ঘটনার পর তারা আর ট্রাম্পকে দেশের জন্য নিরাপদ ভাবতে রাজি নন। ট্রাম্পকে উন্মাদ আখ্যা দিয়ে ২০ জানুয়ারির আগে আরও কী অঘটন ঘটে, সে ব্যাপারে তারা সন্দিহান।

৩ নভেম্বর নির্বাচন শেষ হওয়ার পর একের পর এক ট্রাম্প যেভাবে তার হীন মনোভাব প্রকাশ করেছেন, তাতে ডেমোক্র্যাটদের এমন সন্দেহ করার কারণ আছে। নির্বাচনের ফল পাল্টানোর জন্য ৬০টিরও বেশি মামলা করেও হেরে গেছেন ট্রাম্প। আইনি ব্যবস্থায় নির্বাচনের ফল পাল্টানোর সব পথ যখন বন্ধ হয়ে গেছে, তখন নির্লজ্জের মতো তিনি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনি কর্মকর্তার দ্বারস্থ হন এবং টেলিফোনে নির্বাচনের ফল পালটে দিতে অনুরোধ করেন।

এদিকে ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের টেলিফোনের আলোচনার রেকর্ড প্রকাশ করে দিয়ে ট্রাম্পের এ অনৈতিক কর্মকাণ্ড সবার সামনে উন্মোচন করে দেয়। শুধু তা-ই নয়; সর্বশেষ আরও একটি কেলেঙ্কারির তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জর্জিয়ার নির্বাচনোত্তর ভোট গণনার বিষয়টি যিনি তদন্ত করেছিলেন, তাকে ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে বলে সার্টিফাই করার জন্য টেলিফোনে জোর অনুরোধ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এ হীন পদক্ষেপকে অনেকেই ৫০ বছর আগের প্রেসিডেন্ট নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে এ কথা ঠিক, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বিকৃত চিন্তাভাবনার ও ভারসাম্যহীন প্রেসিডেন্ট নিক্সন ছিলেন না। ডেমোক্র্যাটদের ভয় সেখানেই। এসব কথা বিবেচনা করেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ৭ জানুয়ারি সকালে জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলির সঙ্গে আলোচনা করেন।

ট্রাম্প দেশের ভেতরে ও বহির্বিশ্বে যাতে সামরিক সংঘাত শুরু করার সুযোগ না পান, সেজন্য পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের লঞ্চিং কোড যেন তার হাতে না আসে কিংবা তিনি পারমাণবিক হামলা শুরুর নির্দেশ দিতে না পারেন, সে বিষয়ে সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন। তা ছাড়াও পেলোসি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পদত্যাগে বাধ্য করতে কংগ্রেসের রিপাবলিকান নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান। ন্যান্সি পেলোসি ইতোমধ্যে ক্যাপিটল হিলের হামলায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে বার্তা দিয়েছেন।

রিপাবলিকান সমর্থকদের ভেতর মিশ্রপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলেও ঘটনার পরপর এক সমীক্ষার ফল দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৫৫ শতাংশ সমর্থক এ হামলাকে সমর্থন করছেন না। রিপাবলিকান কংগ্রেসের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা নির্বাচনের ফল নিয়ে ট্রাম্পের বাড়াবাড়িতে বিব্রতবোধ করেছেন। তাদের অনেকে প্রকাশ্য বিবৃতিও দিয়েছেন।

কিন্তু সাহস করে ট্রাম্পের মতো পাগলা ঘোড়াকে থামাতে পারেননি। এর মূল কারণ নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাড়ে সাত কোটি ভোটপ্রাপ্তি। ট্রাম্পের প্রতি এ বিপুল জনসমর্থন গণতন্ত্রের জন্য গ্রহণযোগ্য কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিজ্ঞ রিপাবলিকানদের দ্বিধাগ্রস্ত করেছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে খোলাখুলি স্বৈরাচারী, বর্ণবিদ্বেষী, ইসলাম ও অভিবাসনবিরোধী রাজনীতি চালু করেছেন। তার এ রাজনৈতিক দর্শনকে ‘ট্রাম্পের মতবাদ’ হিসেবে একশ্রেণির মানুষের মগজে ঢোকাতে তিনি সক্ষমও হয়েছেন।

এই শ্রেণির মানুষ বেশি উচ্চশিক্ষিত নন। এসব নাগরিকের অধিকাংশই শহরতলী ও গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন। ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিরোধী যে মনোভাব তৈরি হয়েছিল, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প সেই মনোভাবকে উসকে দিয়ে এই শ্রেণির মানুষের মনে জায়গা করে নিয়ছিলেন। পাশাপাশি অভিবাসনবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ তো আছেই। অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত এসব মানুষের ভেতর এ দুটি ইস্যু ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আরও বাড়াতে সাহায্য করেছে।

এসব কিছু বিবেচনা করে রিপাবলিকানদের অনেকেই ট্রাম্পের হীন কর্মকাণ্ডকে সমর্থন না করলেও তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করেননি। ক্যাপিটল হিলের ঘটনার পর অনুমান করা গিয়েছিল, ট্রাম্পবিরোধী এসব রিপাবলিকান তার অপসারণ সমর্থন করবেন। কিন্তু এদের সংখ্যা নগণ্য। অনেকেই মনে করেন, ট্রাম্পকে এভাবে অপসারণ করা হলে রিপাবলিকান সমর্থকদের ভেতর তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে। কারণ, উল্লিখিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থক এখনো মনে করছেন ট্রাম্পকে তার বাকি সময়ের জন্য সরানো উচিত হবে না। উল্লেখ্য, ট্রাম্পকে অপসারণ করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করতে হবে।

এ সংশোধনীতে বলা আছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভা যদি মনে করে যে প্রেসিডেন্ট মানসিক কিংবা শারীরিকভাবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য, তাহলে তাকে সরিয়ে দিতে পারবে। সুতরাং রিপাবলিকানদের পক্ষে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করা সম্ভব হবে না বলেই ধরা যায়। কারণ তারা জানেন এ পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তাদের ভেতর বিভাজন আরও বাড়বে। এ নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতি বিপুল জনপ্রিয়তা এক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা মনে করছেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। তবে এটাও ঠিক, ট্রাম্পকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে

বিরত রাখতে হলে তার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের বিকল্প নেই। ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত হলে ভবিষ্যতে তাকে কোনো সরকারি পদে আসীন হওয়া থেকে বিরত রাখা যাবে। সেক্ষেত্রে ২০২৪ সালে তার আর নির্বাচনে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না। ট্রাম্পের মতো ‘রং হেডেড’ মানুষকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য ইমপিচমেন্টই একমাত্র খোলা পথ। তবে ২০ জানুয়ারির মধ্যে ইমপিচ করা সম্ভব নয়। ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সিনেটরের সমর্থন দরকার হবে। এ প্রস্তাব পাস করতে হলে ডেমোক্র্যাটদের ১৭ জন রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন প্রয়োজন পড়বে। অন্যদিকে হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে বিধায় সেখানে প্রস্তাব পাস করা সহজ হবে; তারপর সিনেটে পাঠাতে হবে। ততদিনে জো বাইডেন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করে ফেলবেন। তখন ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিনেট ভোট জোগাড় করা কঠিন হবে না বলেই অভিজ্ঞ মহল মনে করে।

ক্যাপিটল হিলের ঘটনার পর ট্রাম্প কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্প ধরাশায়ী হলেও তিনি বারবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তবে এজন্য তিনি অনৈতিক পন্থাও ব্যবহার করেছেন। ক্যাপিটল হিলের সমাবেশ ছিল তার সর্বশেষ চেষ্টা। রিপাবলিকানদের অনেকে এ সহিংস ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। কেউ কেউ ট্রাম্পের পদত্যাগের কথাও তুলেছেন। গণতন্ত্র ও সংবিধানের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বিপজ্জনক, ক্যাপিটল হিলের ঘটনা যেন সেটাই সবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

এসব নিয়ে রিপাবলিকান দলের ভেতর নিশ্চয়ই চুলচেরা বিশ্লেষণ হবে। এবারের ভোটে ট্রাম্প রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়েছেন ঠিকই, তবে ৬ জানুয়ারির ঘটনায় তার এ জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়বে কি না, তা ভবিষ্যৎই বলতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রমনা মানুষই ঠিক করবেন রাজনৈতিক ময়দানে ট্রাম্পের অবস্থান কোথায় হবে। সর্বশেষে একটি কথা না বললেই নয়, তা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বুনিয়াদি গণতন্ত্রের চর্চা। ক্যাপিটল হিলের ঘটনার রাতেই ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের কংগ্রেস সদস্যরা যেভাবে জো বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সনদ প্রদান করেছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র যে শক্ত ভিতের উপর দাঁডিয়ে আছে, তা যেন আবারও প্রমাণ হলো।

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা