লং কোভিডের সমস্যা থেকে পরিত্রাণে করণীয়
jugantor
লং কোভিডের সমস্যা থেকে পরিত্রাণে করণীয়

  ড. আনোয়ার খসরু পারভেজ ও এহসানুর রহমান  

১৫ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সুস্থ হওয়ার পর তথা আবার পরীক্ষায় রোগী করোনা নেগেটিভ হওয়ার পর তার মাঝে কিছু কিছু উপসর্গ থেকে যায়। যেমন : শারীরিক দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, কাজ করার ক্ষমতা কমে যাওয়া, বেশিক্ষণ হাঁটাচলা করতে না পারা, সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করতে না পারা ইত্যাদি। আক্রান্তের তারিখ থেকে সপ্তাহ অনুযায়ী এ রোগকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়।

কোভিডে আক্রান্তের ১১ সপ্তাহ পর্যন্ত এসব সমস্যা স্থায়ী হলে তাকে ‘পোস্ট-অ্যাকিউট কোভিড’ এবং ১২ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় স্থায়ী হলে তাকে ‘লং কোভিড’ নামে অভিহিত করা হয়। লং কোভিড কখনো কখনো দীর্ঘমেয়াদিও হতে পরে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি সর্বদা অসুস্থতা ও অস্বস্তিতে ভুগতে থাকেন, মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন, যার সঙ্গে নতুন করে দেখা দেয় বিভিন্ন জটিল রোগ। যেমন: ডায়বেটিস, উচ্চরক্তচাপ, স্ট্রোক, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা ইত্যাদি। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস অথবা ফাঙ্গাস দ্বারা সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ইংল্যান্ডের মোট আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ১০ শতাংশ লোক লং কোভিডের শিকার। বাংলাদেশে কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ২২.৫ শতাংশ মানুষ লং কোভিডে ভুগছেন, যাদের প্রায় ৮৩ শতাংশের মধ্যে শারীরিক দুর্বলতা প্রকট। ইংল্যান্ডের সেই ১০ শতাংশ মানুষের কোভিড-পরবর্তী চিকিৎসার জন্য ৪০টিরও বেশি পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে। তবে বাংলাদেশে সিআরপি সাভার ও সিআরপি মিরপুরে তাদের পুনর্বাসনে ব্যবস্থা রয়েছে।

লং কোভিডের সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চলা উচিত:

* একজন রোগীকে পরিপূর্ণভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে, যার মধ্যে অবশ্যই রোগীর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলো যেমন : রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন, অক্সিজেন স্যাচুরেশন, হার্টের অবস্থা, ফুসফুসের অবস্থা ইত্যাদি থাকতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় রোগী মাথা ঘুরানো এবং হালকা ব্যায়ামে বুকে চাপ অনুভব করতে পারেন; তখন তার অবস্থা নিরুপণ করে চিকিৎসা প্রণালি পুনর্বিন্যাস করতে হয়।

* সংকটজনক রোগীর ক্ষেত্রে স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এতে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। রোগীকে ভিটামিন এ, বি, সি, ডি, ই, মিনারেল, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান সংবলিত সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে।

* দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন ডায়বেটিস বা কো-মরবিডিটি থাকলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে অন্যান্য জীবাণু দ্বারা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা দরকার। পার্শ্ববর্তী দেশে দেখা গেছে, নতুন আতঙ্ক হিসাবে পরিচিত ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণে’ (মিউকোরমাইকোসিস) বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়াবেটিস এবং স্টেরয়েড ব্যবহারকারী রোগীরা।

* গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিভ-১৯ আক্রান্ত প্রায় ১৯ শতাংশ রোগীর কো-ইনফেকশন (একই সময়ে ইনফেকশন) এবং ২৪ শতাংশ রোগীর সুপারিনফেকশন (পরবর্তীকালে ইনফেকশন) রয়েছে, যা মৃত্যুহার বৃদ্ধি করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীদের শ্বাসপ্রশ্বাসের সংক্রমণজনিত অন্যান্য সংক্রমণ আছে কি না তার ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা জরুরি।

* রোগীর যদি শ্বাসকষ্ট থাকে, তাহলে ফুসফুসের একটি সিটিস্ক্যান করিয়ে কতটুকু ফাইব্রোসিস হয়েছে, তা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত হতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শমতে, ওষুধের পাশাপাশি রোগীকে তখন পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনে অংশগ্রহণ করতে হবে। রোগীর যদি দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে সমস্যা হয়, তাহলে বুঝতে হবে তার শ্বাসপ্রশ্বাসের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে গেছে। সঠিক ব্রিদিং এক্সারসাইজ করতে হবে।

* রোগীর পজিশন বা অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বসার সময় সামনের দিকে ঝুঁকে বসলে বা চেয়ারে বসে টেবিলের ওপর বালিশ রেখে উপুড় হয়ে মাথা রাখলে ফুসফুস সম্প্রসারিত হয়।

* ‘ডিপ ব্রিদিং’ অনুশীলন করুন। বিছানায় আরাম করে বসে দুই হাত পেটের মাঝে রাখুন। অতঃপর শ্বাস নেওয়ার সময় পেট ফুলান ও হাত দিয়ে তা অনুভব করুন। তারপর আস্তে আস্তে শ্বাস ছেড়ে দিন। এ এক্সারসাইজের ফলে ‘ডায়াফ্রামের’ কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়।

* মনে রাখতে হবে, কোভিডের পর শ্বাস ছাড়ার ক্ষমতা (এক্সপিরেশন) বেশি হ্রাস পায়, কাজেই ‘পারস লিপ ব্রিদিং’ অনুশীলন করুন, ৩ সেকেন্ডে বুক ভরে শ্বাস নিয়ে ৬ সেকেন্ডে আস্তে আস্তে মুখ গোল করে শ্বাস ছাড়ার অনুশীলন করুন। তবে তীব্র শ্বাসকষ্টে এ এক্সারসাইজ করবেন না।

* শরীরে নানা রকম ব্যথার উৎপত্তি হতে পারে। এসব ব্যথা নিরাময়ে ফিজিওথেরাপিস্টদের পরামর্শ অনুযায়ী স্ট্রেচিং অ্যান্ড স্ট্রেন্দেনিং এক্সারসাইজের সঙ্গে সঙ্গে থার্মাল থেরাপি (গরম পানি সেঁক বা বরফের সেঁক) খুবই ফলপ্রসূ।

* রোগীসহ সব ব্যক্তিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে খুব কার্যকরী পদক্ষেপ। এর কোনো বিকল্প নেই। মাস্ক পরিধান করতে হবে। বিশেষ করে জনসমাগমে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। করোনা পরিস্থিতে করোনাভাইরাসসহ যে কোনো ক্ষতিকারক ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস থেকে মুক্তি পেতে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব অপরিহার্য।

* করোনায় আক্রান্ত একজন রোগীর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার মানসিক স্বাস্থ্য। রোগীকে পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। সর্বদা হাসিখুশি এবং দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। পারিবারিকভাবে সচেতন থাকলে কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তিরা দ্রুত মনোবল ফিরে পান এবং এতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ মহামারির সময় একজন রোগীর পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বারবার উল্লেখ করেছে।

আনোয়ার খসরু পারভেজ : গবেষক ও অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; কোষাধ্যক্ষ (প্রেষণে), পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

এহসানুর রহমান : সহযোগী অধ্যাপক, বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউট, সিআরপি, সাভার, ঢাকা

khasru73@juniv.edu

লং কোভিডের সমস্যা থেকে পরিত্রাণে করণীয়

 ড. আনোয়ার খসরু পারভেজ ও এহসানুর রহমান 
১৫ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সুস্থ হওয়ার পর তথা আবার পরীক্ষায় রোগী করোনা নেগেটিভ হওয়ার পর তার মাঝে কিছু কিছু উপসর্গ থেকে যায়। যেমন : শারীরিক দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, কাজ করার ক্ষমতা কমে যাওয়া, বেশিক্ষণ হাঁটাচলা করতে না পারা, সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করতে না পারা ইত্যাদি। আক্রান্তের তারিখ থেকে সপ্তাহ অনুযায়ী এ রোগকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়।

কোভিডে আক্রান্তের ১১ সপ্তাহ পর্যন্ত এসব সমস্যা স্থায়ী হলে তাকে ‘পোস্ট-অ্যাকিউট কোভিড’ এবং ১২ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় স্থায়ী হলে তাকে ‘লং কোভিড’ নামে অভিহিত করা হয়। লং কোভিড কখনো কখনো দীর্ঘমেয়াদিও হতে পরে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি সর্বদা অসুস্থতা ও অস্বস্তিতে ভুগতে থাকেন, মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন, যার সঙ্গে নতুন করে দেখা দেয় বিভিন্ন জটিল রোগ। যেমন: ডায়বেটিস, উচ্চরক্তচাপ, স্ট্রোক, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা ইত্যাদি। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস অথবা ফাঙ্গাস দ্বারা সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ইংল্যান্ডের মোট আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ১০ শতাংশ লোক লং কোভিডের শিকার। বাংলাদেশে কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ২২.৫ শতাংশ মানুষ লং কোভিডে ভুগছেন, যাদের প্রায় ৮৩ শতাংশের মধ্যে শারীরিক দুর্বলতা প্রকট। ইংল্যান্ডের সেই ১০ শতাংশ মানুষের কোভিড-পরবর্তী চিকিৎসার জন্য ৪০টিরও বেশি পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে। তবে বাংলাদেশে সিআরপি সাভার ও সিআরপি মিরপুরে তাদের পুনর্বাসনে ব্যবস্থা রয়েছে।

লং কোভিডের সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চলা উচিত:

* একজন রোগীকে পরিপূর্ণভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে, যার মধ্যে অবশ্যই রোগীর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলো যেমন : রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন, অক্সিজেন স্যাচুরেশন, হার্টের অবস্থা, ফুসফুসের অবস্থা ইত্যাদি থাকতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় রোগী মাথা ঘুরানো এবং হালকা ব্যায়ামে বুকে চাপ অনুভব করতে পারেন; তখন তার অবস্থা নিরুপণ করে চিকিৎসা প্রণালি পুনর্বিন্যাস করতে হয়।

* সংকটজনক রোগীর ক্ষেত্রে স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এতে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। রোগীকে ভিটামিন এ, বি, সি, ডি, ই, মিনারেল, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান সংবলিত সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে।

* দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন ডায়বেটিস বা কো-মরবিডিটি থাকলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে অন্যান্য জীবাণু দ্বারা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা দরকার। পার্শ্ববর্তী দেশে দেখা গেছে, নতুন আতঙ্ক হিসাবে পরিচিত ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণে’ (মিউকোরমাইকোসিস) বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়াবেটিস এবং স্টেরয়েড ব্যবহারকারী রোগীরা।

* গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিভ-১৯ আক্রান্ত প্রায় ১৯ শতাংশ রোগীর কো-ইনফেকশন (একই সময়ে ইনফেকশন) এবং ২৪ শতাংশ রোগীর সুপারিনফেকশন (পরবর্তীকালে ইনফেকশন) রয়েছে, যা মৃত্যুহার বৃদ্ধি করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীদের শ্বাসপ্রশ্বাসের সংক্রমণজনিত অন্যান্য সংক্রমণ আছে কি না তার ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা জরুরি।

* রোগীর যদি শ্বাসকষ্ট থাকে, তাহলে ফুসফুসের একটি সিটিস্ক্যান করিয়ে কতটুকু ফাইব্রোসিস হয়েছে, তা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত হতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শমতে, ওষুধের পাশাপাশি রোগীকে তখন পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনে অংশগ্রহণ করতে হবে। রোগীর যদি দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে সমস্যা হয়, তাহলে বুঝতে হবে তার শ্বাসপ্রশ্বাসের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে গেছে। সঠিক ব্রিদিং এক্সারসাইজ করতে হবে।

* রোগীর পজিশন বা অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বসার সময় সামনের দিকে ঝুঁকে বসলে বা চেয়ারে বসে টেবিলের ওপর বালিশ রেখে উপুড় হয়ে মাথা রাখলে ফুসফুস সম্প্রসারিত হয়।

* ‘ডিপ ব্রিদিং’ অনুশীলন করুন। বিছানায় আরাম করে বসে দুই হাত পেটের মাঝে রাখুন। অতঃপর শ্বাস নেওয়ার সময় পেট ফুলান ও হাত দিয়ে তা অনুভব করুন। তারপর আস্তে আস্তে শ্বাস ছেড়ে দিন। এ এক্সারসাইজের ফলে ‘ডায়াফ্রামের’ কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়।

* মনে রাখতে হবে, কোভিডের পর শ্বাস ছাড়ার ক্ষমতা (এক্সপিরেশন) বেশি হ্রাস পায়, কাজেই ‘পারস লিপ ব্রিদিং’ অনুশীলন করুন, ৩ সেকেন্ডে বুক ভরে শ্বাস নিয়ে ৬ সেকেন্ডে আস্তে আস্তে মুখ গোল করে শ্বাস ছাড়ার অনুশীলন করুন। তবে তীব্র শ্বাসকষ্টে এ এক্সারসাইজ করবেন না।

* শরীরে নানা রকম ব্যথার উৎপত্তি হতে পারে। এসব ব্যথা নিরাময়ে ফিজিওথেরাপিস্টদের পরামর্শ অনুযায়ী স্ট্রেচিং অ্যান্ড স্ট্রেন্দেনিং এক্সারসাইজের সঙ্গে সঙ্গে থার্মাল থেরাপি (গরম পানি সেঁক বা বরফের সেঁক) খুবই ফলপ্রসূ।

* রোগীসহ সব ব্যক্তিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে খুব কার্যকরী পদক্ষেপ। এর কোনো বিকল্প নেই। মাস্ক পরিধান করতে হবে। বিশেষ করে জনসমাগমে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। করোনা পরিস্থিতে করোনাভাইরাসসহ যে কোনো ক্ষতিকারক ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস থেকে মুক্তি পেতে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব অপরিহার্য।

* করোনায় আক্রান্ত একজন রোগীর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার মানসিক স্বাস্থ্য। রোগীকে পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। সর্বদা হাসিখুশি এবং দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। পারিবারিকভাবে সচেতন থাকলে কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তিরা দ্রুত মনোবল ফিরে পান এবং এতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ মহামারির সময় একজন রোগীর পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বারবার উল্লেখ করেছে।

আনোয়ার খসরু পারভেজ : গবেষক ও অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; কোষাধ্যক্ষ (প্রেষণে), পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

এহসানুর রহমান : সহযোগী অধ্যাপক, বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউট, সিআরপি, সাভার, ঢাকা

khasru73@juniv.edu

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন