নতুন বিভাগ গঠনের প্রস্তাবনা কিছু বিবেচ্য বিষয়
jugantor
নতুন বিভাগ গঠনের প্রস্তাবনা কিছু বিবেচ্য বিষয়

  গাজীউল হাসান খান  

১৬ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা নামটি তার আদি বাংলা অভিধা ‘কমলাঙ্ক’ থেকে উৎপত্তি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু কুমিল্লা শব্দের কোনো অর্থ কিংবা প্রতিশব্দ বাংলা অভিধানে খুঁজে পাওয়া যায় না।

এটি কোনো ভিন্ন ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে কি না, এরও সঠিক কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। আদিকালে একসময় কুমিল্লা সমতট এবং পরে ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্গত হয়। সুবে বাংলায় এ অঞ্চলে আরবি-ফারসি ভাষার কিছুটা চর্চা কিংবা প্রচলন ঘটলেও কুমিল্লা নামক কোনো অর্থবহ অথবা জনপ্রিয় শব্দের ব্যবহার খুঁজে পাওয়া কঠিন।

কুমিল্লা শহর বা জেলার আদিনাম ‘কমলাঙ্ক’, যার সোজাসাপটা অর্থ হচ্ছে পদ্মপুকুর। এ শহর কিংবা জেলার সঙ্গে আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, এমনকি ঐতিহ্যগত দিক থেকে কমলাঙ্ক নামটির একটি মেলবন্ধন রয়েছে। কারণ বৃহত্তরভাবে উপমহাদেশের কিংবা আঞ্চলিকভাবে বাংলার সমতটের এ আদি শহর কিংবা জেলাটিতে (কুমিল্লা) রয়েছে অসংখ্য পুকুর, দিঘি ও জলাশয়, যার অধিকাংশ এখনো বিদ্যমান। আর জলপদ্মের প্রস্ফুটন এখানে একটি আপেক্ষিক ব্যাপার।

তবে উন্নয়নের আধুনিক ছোঁয়ায় প্রকৃতি ও পরিবেশে এখন বেশ কিছুটা পরিবর্তন এলেও এ জেলার বিশাল বিশাল জলাশয় থেকে শাপলা-শালুকের সমারোহ কিংবা শহর ও গ্রামাঞ্চলের পদ্মপুকুর ও পদ্মদিঘিগুলোর বিস্তার এখনো পরিলক্ষিত হয়। এরকম একটি প্রাকৃতিক কিংবা পরিবেশগত উত্তরণ পর্বে কমলাঙ্ক নামটি পরিবর্তন করে একটি শহর বা জেলার নাম শুধু প্রশাসনিক কারণে কুমিল্লা রাখার খুব একটা যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যায় না। তাছাড়া এর সঙ্গে কোনো উন্নত রুচিবোধ কিংবা সংস্কৃতিরও প্রভাব পরিলক্ষিত হয় না।

একসময় ভারতবর্ষে ইংরেজরা তাদের প্রশাসনিক কাজকর্মকে সহজ কিংবা তাদের কাছে বোধগম্য করার জন্য বিভিন্ন এলাকার আদি নাম পরিবর্তন করেছে। যেমন : চট্টগ্রামের নাম দিয়েছে চিটাগাং, কলকাতার নাম ক্যালকাটা কিংবা মুম্বাইয়ের নাম বম্বে। কিন্তু ইংরেজরা কি কমলাঙ্ক নামটি পরিবর্তনের ব্যাপারে জড়িত ছিল?

তবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রণীত তাদের প্রশাসনিক মানচিত্রে এ অঞ্চলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে ‘কুমিল্লাহ’ (Comillah) হিসাবে। কিন্তু এর সঙ্গে কমলাঙ্ক নামের সাযুজ্য খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে এ পরিবর্তনের ব্যাপারে সুবে বাংলার মোগল শাসকদের হাত থাকতে পারে বলেও ধরে নেওয়া হয়।

বিভিন্ন প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের সংগ্রহ ও পুরাতাত্ত্বিক গবেষণা থেকে জানা যায়, পঞ্চম শতক থেকে গুপ্ত বংশের রাজারা ত্রিপুরাসহ এ অঞ্চলের শাসনভার পরিচালনা করেছেন।

ইতিহাসবিদদের বর্ণনানুযায়ী, সপ্তম থেকে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আমাদের এ আলোচিত অঞ্চল দেব রাজত্বের বৌদ্ধ শাসকদের অধীনে ছিল বলে জানা যায়। এ উপমহাদেশের প্রখ্যাত বিদ্যাপীঠ, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, সুপণ্ডিত শীলা ভদ্রের (পক্ষান্তরে শীল ভদ্র) মাতুলালয়ের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায় কুমিল্লার দেব রাজত্বের শাসকদের সঙ্গে।

সে সময় চীনের বিশিষ্ট পরিব্রাজক হিউয়েন সাং ভারতবর্ষ সফরে এসেছিলেন। এক নাগাড়ে প্রায় দশ বছর তিনি তখন ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিভ্রমণ করেছিলেন বলে জানা যায়। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালীন কোনো একসময়ে এ চীনা পরিব্রাজক হয়তো শীলা ভদ্রের সঙ্গে কিংবা একাকী এ অঞ্চল সফর করেছিলেন বলে অনুমান করা হয়।

হিউয়েন সাং তার লিখিত বর্ণনার এক জায়গায় সমতটের এ অঞ্চলকে কমলাঙ্ক (তার ভাষায় জল পরিবেষ্টিত অঞ্চল) উল্লেখ করেছেন বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের ধারণা। কিন্তু প্রশাসনিক পটপরিবর্তন কিংবা ধারাবাহিকতায় কমলাঙ্ক নামটি পরিবর্তিত হয়ে কখন কুমিল্লা হলো, তা সঠিকভাবে নির্ণয় করা এখন কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

দেবদের পর নবম শতকে কুমিল্লাসহ এ বৃহত্তর অঞ্চল হরিকেল রাজাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং পরে দশম থেকে মধ্য একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত চন্দ্র বংশের রাজাদের শাসনাধীনে ছিল বলে জানা যায়। এর অনেক পরে এ অঞ্চল মোগল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। এবং সে পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে এ সমগ্র অঞ্চল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনস্থ হয়েছে বলে উইকিপিডিয়া সূত্রে জানা যায়। এবং ১৭৯০-এর মধ্যে বৃহত্তরভাবে ত্রিপুরা জেলা গঠন করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

মোগল সেনাবাহিনী আরাকান সৈন্যদের পরাজিত করে ১৬৬৬ সালে (শায়েস্তা খানের শাসনামলে) চট্টগ্রামকে মোগল সাম্রাজ্যের অধীনস্থ করেছিল। তারপর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ অঞ্চলের কর্তৃত্ব গ্রহণ করার পূর্বপর্যন্ত শেষের দিকে বাংলার নবাবরা এ অঞ্চলের শাসনভার পরিচালনা করেছেন। তখন সুবে বাংলাকে প্রশাসন ও বাণিজ্যের স্বার্থে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

তাছাড়া একই কারণে (রাজস্ব আদায়) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বৃহত্তর ত্রিপুরা জেলাকে ১৭৯০ সালের আগেই বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং ১৬৬৬ থেকে ১৭৯০ সালের মধ্যে কোনো একসময়ে কমলাঙ্ক নামক জনপদ বা অঞ্চলের নামটি পরিবর্তন করে কুমিল্লা রাখা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। তবে প্রশাসনিক কিংবা রাজস্ব আদায়ের দিক থেকে কোনো অসুবিধা না হলেও সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে বেশ কিছুটা অস্বস্তির কারণ দেখা দেয়।

প্রথমত, আপামর বাঙালির ধারণা অথবা তাদের মধ্যে একটি কুসংস্কার রয়েছে যে, কু দিয়ে যে নামের উৎপত্তি তার পরিণতি ভালো হতে পারে না। অর্থাৎ কুমিল্লা নামটি পয়মন্ত নয়। তাছাড়া এ নাম নিয়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ নানান কথাবার্তা বলে এবং সমালোচনা করে, যা হৃদয়গ্রাহী নয়। সম্প্রতি সরকার ইংরেজিতে এ নামের (কুমিল্লা) বানান পরিবর্তন করেছে।

তাতে ইরেজি বর্ণমালা ‘ও’ (O)-এর পরিবর্তনে ‘ইউ’ (U) করা হয়েছে। নামের উচ্চারণে তেমন তারতম্য ঘটেনি, ফলে কুমিল্লা নাম নিয়ে অঞ্চলের মানুষের অস্বস্তিটা যেন আরও একটু বেড়ে গেছে। আগে যা ছিল অগ্রাহ্য করার মতো, তা এখন যেন একটি অর্থবহ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কথা উঠেছে ক্যালকাটা, বোম্বে কিংবা মাদ্রাজ নামের যদি পরিবর্তন হতে পারে শত শত বছর পরে, তাহলে চিটাগাং কিংবা কুমিল্লা নামের কেন পরিবর্তন হতে পারবে না? আর যাই হোক, আমরা তো আমাদের ভাষা, কৃষ্টি-সংস্কৃতি কিংবা ঐতিহ্যকে অস্বীকার করতে পারি না। সুতরাং কিছুটা বিলম্বে হলেও আমরা নির্দ্বিধায় আমাদের এ অঞ্চলের আদি নাম কমলাঙ্কে ফিরে যেতে পারি।

বর্তমান কুমিল্লা শহর এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত হয়েছে। চট্টগ্রামের পর কুমিল্লা দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বা নগর। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের ১৩ বছর পর অর্থাৎ ১৯৬০ সালে কুমিল্লা নামেই একটি পৃথক জেলা গঠন করা হয়েছিল।

এর আগে এ অঞ্চল ত্রিপুরা জেলা নামে পরিচিত ছিল। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন শালবন বৌদ্ধবিহারের অবস্থান এ অঞ্চলে হওয়াতে এটি ঐতিহাসিকভাবেই একটি দর্শনীয় স্থানের বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। তাছাড়া, ব্রিটিশ শাসনামলে কুমিল্লার ময়নামতিতে স্থাপিত হয়েছিল পূর্বাঞ্চলের একটি উল্লেখযোগ্য সামরিক ঘাঁটি ও বিমানবন্দর। এছাড়া, ১৮৩৭ সালে কুমিল্লা জিলা স্কুল নামে একটি সরকারি বিদ্যালয় এবং তারপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ।

পরবর্তী পর্যায়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আখতার হামিদ খানের পরিচালনায় কুমিল্লায় স্থাপিত পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এ জেলার গুরুত্ব অনেক বৃদ্ধি করেছে। তাছাড়া, পরবর্তী পর্যায়ে কুমিল্লা শহরের উপকণ্ঠে গড়ে উঠেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা, যা দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্রমে ক্রমে এখন পরিপূর্ণতা লাভ করছে এবং এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে এগিয়ে যেতে শুরু করছে।

এ শহরেরই উপকণ্ঠে পাকিস্তান আমলে স্থাপন করা হয়েছিল একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, যা কারিগরি শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের যথেষ্ট সাহায্য করেছে। শিক্ষা-দীক্ষার ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে স্থাপিত অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কুমিল্লাবাসীকে তাদের অগ্রযাত্রায় দারুণভাবে সাহায্য করেছে।

শুধু তাই নয়, একসময় চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ছাত্রছাত্রীরা ভিক্টোরিয়া কলেজে অধ্যয়ন করতে আসতেন। সার্বিক দিক থেকে বিবেচনা করলে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও কুমিল্লা অন্যদের তুলনায় অনেক এগিয়েছে। একটি শহর বা মহানগরীকে বিভাগীয় প্রশাসনিক মর্যাদা দিতে হলে আর্থসামাজিক কিংবা অবকাঠামোগত ক্ষেত্রে যা যা প্রয়োজন, কুমিল্লায় এর কম-বেশি সবকিছুই রয়েছে।

কুমিল্লাকে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে একটি বিভাগের মর্যাদা প্রদান এখন সময়ের ব্যাপার বলে অনেকে মনে করেন। ঐতিহাসিকভাবে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বলিষ্ঠ অংশগ্রহণের মাধ্যমে কুমিল্লায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এক দুর্বার গতি লাভ করে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মহাত্মাগান্ধীসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সফর এ শহরকে মহিমান্বিত করেছে। তাছাড়া, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়েও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী এ জেলা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ কুমিল্লাকে একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক বিভাগের মর্যাদা দিতে ইতোমধ্যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজনীতি, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও আর্থসামাজিক বুনিয়াদ এবং অবকাঠামোগত উন্নতির কারণে কুমিল্লার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সন্তুষ্ট বলে জানা গেছে। তবে ফেনী ও লক্ষ্মীপুরসহ নোয়াখালী জেলা শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবিত কুমিল্লা বিভাগে যোগ দেবে কি না, সেটি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে সে বিতর্ক নিরসন করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর।

তাছাড়া, কুমিল্লা নাম নিয়ে যে মতবিরোধ রয়েছে, তারও একটা যুক্তিগ্রাহ্য সমাধান শেষ পর্যন্ত হয়তো প্রধানমন্ত্রী খুঁজে বের করবেন বলে এ অঞ্চলবাসী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কুমিল্লার একটি প্রভাবশালী মহল প্রস্তাবিত নতুন বিভাগের নাম ময়নামতি রাখারও প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। আবার এমনও শোনা গেছে, প্রস্তাবিত নতুন বিভাগের নাম স্থানীয় কোনো নদীর নামেও হতে পারে। তবে কুমিল্লা সদরের বর্তমান সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার প্রস্তাবিত নতুন বিভাগের নাম কুমিল্লার নামানুসারেই রাখার পক্ষপাতী। তিনি কুমিল্লার জন্য একটি স্বতন্ত্র বিভাগের মর্যাদা আদায় করতে দীর্ঘদিন নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

তাই কুমিল্লার নামে এ বিভাগটি ঘোষিত হলেও পরবর্তী কোনো একপর্যায়ে এর নাম পরিবর্তন করে এ অঞ্চলের আদি বাংলা নাম কমলাঙ্কে ফিরে যাওয়া যাবে না এমন তো নয়।

কারণ নাম নিয়ে যখন একটা বিতর্ক চলমান রয়েছে, তখন এর একটা ফয়সালা হওয়া অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। বিভিন্ন কারণে উপমহাদেশের বিভিন্ন শহর কিংবা নগরীর নাম এখনো পরিবর্তন করা হচ্ছে। অধিকন্তু এক্ষেত্রে চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ অন্যদের মতামতেরও একটা গুরুত্ব রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। অবিলম্বে সন্তোষজনকভাবে এ বিষয়টির একটি সুরাহা হলে আদি সমতটের বর্তমান অধিবাসীরা অত্যন্ত আনন্দিত ও প্রীতি হবে বলে সবার ধারণা।

গাজীউল হাসান খান : মুক্তিযোদ্ধা ও শব্দসৈনিক (স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র), একুশে পদকপ্রাপ্ত, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক

gaziulhkhan@gmail.com

নতুন বিভাগ গঠনের প্রস্তাবনা কিছু বিবেচ্য বিষয়

 গাজীউল হাসান খান 
১৬ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা নামটি তার আদি বাংলা অভিধা ‘কমলাঙ্ক’ থেকে উৎপত্তি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু কুমিল্লা শব্দের কোনো অর্থ কিংবা প্রতিশব্দ বাংলা অভিধানে খুঁজে পাওয়া যায় না।

এটি কোনো ভিন্ন ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে কি না, এরও সঠিক কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। আদিকালে একসময় কুমিল্লা সমতট এবং পরে ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্গত হয়। সুবে বাংলায় এ অঞ্চলে আরবি-ফারসি ভাষার কিছুটা চর্চা কিংবা প্রচলন ঘটলেও কুমিল্লা নামক কোনো অর্থবহ অথবা জনপ্রিয় শব্দের ব্যবহার খুঁজে পাওয়া কঠিন।

কুমিল্লা শহর বা জেলার আদিনাম ‘কমলাঙ্ক’, যার সোজাসাপটা অর্থ হচ্ছে পদ্মপুকুর। এ শহর কিংবা জেলার সঙ্গে আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, এমনকি ঐতিহ্যগত দিক থেকে কমলাঙ্ক নামটির একটি মেলবন্ধন রয়েছে। কারণ বৃহত্তরভাবে উপমহাদেশের কিংবা আঞ্চলিকভাবে বাংলার সমতটের এ আদি শহর কিংবা জেলাটিতে (কুমিল্লা) রয়েছে অসংখ্য পুকুর, দিঘি ও জলাশয়, যার অধিকাংশ এখনো বিদ্যমান। আর জলপদ্মের প্রস্ফুটন এখানে একটি আপেক্ষিক ব্যাপার।

তবে উন্নয়নের আধুনিক ছোঁয়ায় প্রকৃতি ও পরিবেশে এখন বেশ কিছুটা পরিবর্তন এলেও এ জেলার বিশাল বিশাল জলাশয় থেকে শাপলা-শালুকের সমারোহ কিংবা শহর ও গ্রামাঞ্চলের পদ্মপুকুর ও পদ্মদিঘিগুলোর বিস্তার এখনো পরিলক্ষিত হয়। এরকম একটি প্রাকৃতিক কিংবা পরিবেশগত উত্তরণ পর্বে কমলাঙ্ক নামটি পরিবর্তন করে একটি শহর বা জেলার নাম শুধু প্রশাসনিক কারণে কুমিল্লা রাখার খুব একটা যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যায় না। তাছাড়া এর সঙ্গে কোনো উন্নত রুচিবোধ কিংবা সংস্কৃতিরও প্রভাব পরিলক্ষিত হয় না।

একসময় ভারতবর্ষে ইংরেজরা তাদের প্রশাসনিক কাজকর্মকে সহজ কিংবা তাদের কাছে বোধগম্য করার জন্য বিভিন্ন এলাকার আদি নাম পরিবর্তন করেছে। যেমন : চট্টগ্রামের নাম দিয়েছে চিটাগাং, কলকাতার নাম ক্যালকাটা কিংবা মুম্বাইয়ের নাম বম্বে। কিন্তু ইংরেজরা কি কমলাঙ্ক নামটি পরিবর্তনের ব্যাপারে জড়িত ছিল?

তবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রণীত তাদের প্রশাসনিক মানচিত্রে এ অঞ্চলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে ‘কুমিল্লাহ’ (Comillah) হিসাবে। কিন্তু এর সঙ্গে কমলাঙ্ক নামের সাযুজ্য খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে এ পরিবর্তনের ব্যাপারে সুবে বাংলার মোগল শাসকদের হাত থাকতে পারে বলেও ধরে নেওয়া হয়।

বিভিন্ন প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের সংগ্রহ ও পুরাতাত্ত্বিক গবেষণা থেকে জানা যায়, পঞ্চম শতক থেকে গুপ্ত বংশের রাজারা ত্রিপুরাসহ এ অঞ্চলের শাসনভার পরিচালনা করেছেন।

ইতিহাসবিদদের বর্ণনানুযায়ী, সপ্তম থেকে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আমাদের এ আলোচিত অঞ্চল দেব রাজত্বের বৌদ্ধ শাসকদের অধীনে ছিল বলে জানা যায়। এ উপমহাদেশের প্রখ্যাত বিদ্যাপীঠ, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, সুপণ্ডিত শীলা ভদ্রের (পক্ষান্তরে শীল ভদ্র) মাতুলালয়ের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায় কুমিল্লার দেব রাজত্বের শাসকদের সঙ্গে।

সে সময় চীনের বিশিষ্ট পরিব্রাজক হিউয়েন সাং ভারতবর্ষ সফরে এসেছিলেন। এক নাগাড়ে প্রায় দশ বছর তিনি তখন ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিভ্রমণ করেছিলেন বলে জানা যায়। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালীন কোনো একসময়ে এ চীনা পরিব্রাজক হয়তো শীলা ভদ্রের সঙ্গে কিংবা একাকী এ অঞ্চল সফর করেছিলেন বলে অনুমান করা হয়।

হিউয়েন সাং তার লিখিত বর্ণনার এক জায়গায় সমতটের এ অঞ্চলকে কমলাঙ্ক (তার ভাষায় জল পরিবেষ্টিত অঞ্চল) উল্লেখ করেছেন বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের ধারণা। কিন্তু প্রশাসনিক পটপরিবর্তন কিংবা ধারাবাহিকতায় কমলাঙ্ক নামটি পরিবর্তিত হয়ে কখন কুমিল্লা হলো, তা সঠিকভাবে নির্ণয় করা এখন কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

দেবদের পর নবম শতকে কুমিল্লাসহ এ বৃহত্তর অঞ্চল হরিকেল রাজাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং পরে দশম থেকে মধ্য একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত চন্দ্র বংশের রাজাদের শাসনাধীনে ছিল বলে জানা যায়। এর অনেক পরে এ অঞ্চল মোগল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। এবং সে পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে এ সমগ্র অঞ্চল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনস্থ হয়েছে বলে উইকিপিডিয়া সূত্রে জানা যায়। এবং ১৭৯০-এর মধ্যে বৃহত্তরভাবে ত্রিপুরা জেলা গঠন করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

মোগল সেনাবাহিনী আরাকান সৈন্যদের পরাজিত করে ১৬৬৬ সালে (শায়েস্তা খানের শাসনামলে) চট্টগ্রামকে মোগল সাম্রাজ্যের অধীনস্থ করেছিল। তারপর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ অঞ্চলের কর্তৃত্ব গ্রহণ করার পূর্বপর্যন্ত শেষের দিকে বাংলার নবাবরা এ অঞ্চলের শাসনভার পরিচালনা করেছেন। তখন সুবে বাংলাকে প্রশাসন ও বাণিজ্যের স্বার্থে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

তাছাড়া একই কারণে (রাজস্ব আদায়) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বৃহত্তর ত্রিপুরা জেলাকে ১৭৯০ সালের আগেই বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং ১৬৬৬ থেকে ১৭৯০ সালের মধ্যে কোনো একসময়ে কমলাঙ্ক নামক জনপদ বা অঞ্চলের নামটি পরিবর্তন করে কুমিল্লা রাখা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। তবে প্রশাসনিক কিংবা রাজস্ব আদায়ের দিক থেকে কোনো অসুবিধা না হলেও সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে বেশ কিছুটা অস্বস্তির কারণ দেখা দেয়।

প্রথমত, আপামর বাঙালির ধারণা অথবা তাদের মধ্যে একটি কুসংস্কার রয়েছে যে, কু দিয়ে যে নামের উৎপত্তি তার পরিণতি ভালো হতে পারে না। অর্থাৎ কুমিল্লা নামটি পয়মন্ত নয়। তাছাড়া এ নাম নিয়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ নানান কথাবার্তা বলে এবং সমালোচনা করে, যা হৃদয়গ্রাহী নয়। সম্প্রতি সরকার ইংরেজিতে এ নামের (কুমিল্লা) বানান পরিবর্তন করেছে।

তাতে ইরেজি বর্ণমালা ‘ও’ (O)-এর পরিবর্তনে ‘ইউ’ (U) করা হয়েছে। নামের উচ্চারণে তেমন তারতম্য ঘটেনি, ফলে কুমিল্লা নাম নিয়ে অঞ্চলের মানুষের অস্বস্তিটা যেন আরও একটু বেড়ে গেছে। আগে যা ছিল অগ্রাহ্য করার মতো, তা এখন যেন একটি অর্থবহ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কথা উঠেছে ক্যালকাটা, বোম্বে কিংবা মাদ্রাজ নামের যদি পরিবর্তন হতে পারে শত শত বছর পরে, তাহলে চিটাগাং কিংবা কুমিল্লা নামের কেন পরিবর্তন হতে পারবে না? আর যাই হোক, আমরা তো আমাদের ভাষা, কৃষ্টি-সংস্কৃতি কিংবা ঐতিহ্যকে অস্বীকার করতে পারি না। সুতরাং কিছুটা বিলম্বে হলেও আমরা নির্দ্বিধায় আমাদের এ অঞ্চলের আদি নাম কমলাঙ্কে ফিরে যেতে পারি।

বর্তমান কুমিল্লা শহর এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত হয়েছে। চট্টগ্রামের পর কুমিল্লা দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বা নগর। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের ১৩ বছর পর অর্থাৎ ১৯৬০ সালে কুমিল্লা নামেই একটি পৃথক জেলা গঠন করা হয়েছিল।

এর আগে এ অঞ্চল ত্রিপুরা জেলা নামে পরিচিত ছিল। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন শালবন বৌদ্ধবিহারের অবস্থান এ অঞ্চলে হওয়াতে এটি ঐতিহাসিকভাবেই একটি দর্শনীয় স্থানের বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। তাছাড়া, ব্রিটিশ শাসনামলে কুমিল্লার ময়নামতিতে স্থাপিত হয়েছিল পূর্বাঞ্চলের একটি উল্লেখযোগ্য সামরিক ঘাঁটি ও বিমানবন্দর। এছাড়া, ১৮৩৭ সালে কুমিল্লা জিলা স্কুল নামে একটি সরকারি বিদ্যালয় এবং তারপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ।

পরবর্তী পর্যায়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আখতার হামিদ খানের পরিচালনায় কুমিল্লায় স্থাপিত পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এ জেলার গুরুত্ব অনেক বৃদ্ধি করেছে। তাছাড়া, পরবর্তী পর্যায়ে কুমিল্লা শহরের উপকণ্ঠে গড়ে উঠেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা, যা দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্রমে ক্রমে এখন পরিপূর্ণতা লাভ করছে এবং এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে এগিয়ে যেতে শুরু করছে।

এ শহরেরই উপকণ্ঠে পাকিস্তান আমলে স্থাপন করা হয়েছিল একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, যা কারিগরি শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের যথেষ্ট সাহায্য করেছে। শিক্ষা-দীক্ষার ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে স্থাপিত অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কুমিল্লাবাসীকে তাদের অগ্রযাত্রায় দারুণভাবে সাহায্য করেছে।

শুধু তাই নয়, একসময় চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ছাত্রছাত্রীরা ভিক্টোরিয়া কলেজে অধ্যয়ন করতে আসতেন। সার্বিক দিক থেকে বিবেচনা করলে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও কুমিল্লা অন্যদের তুলনায় অনেক এগিয়েছে। একটি শহর বা মহানগরীকে বিভাগীয় প্রশাসনিক মর্যাদা দিতে হলে আর্থসামাজিক কিংবা অবকাঠামোগত ক্ষেত্রে যা যা প্রয়োজন, কুমিল্লায় এর কম-বেশি সবকিছুই রয়েছে।

কুমিল্লাকে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে একটি বিভাগের মর্যাদা প্রদান এখন সময়ের ব্যাপার বলে অনেকে মনে করেন। ঐতিহাসিকভাবে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বলিষ্ঠ অংশগ্রহণের মাধ্যমে কুমিল্লায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এক দুর্বার গতি লাভ করে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মহাত্মাগান্ধীসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সফর এ শহরকে মহিমান্বিত করেছে। তাছাড়া, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়েও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী এ জেলা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ কুমিল্লাকে একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক বিভাগের মর্যাদা দিতে ইতোমধ্যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজনীতি, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও আর্থসামাজিক বুনিয়াদ এবং অবকাঠামোগত উন্নতির কারণে কুমিল্লার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সন্তুষ্ট বলে জানা গেছে। তবে ফেনী ও লক্ষ্মীপুরসহ নোয়াখালী জেলা শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবিত কুমিল্লা বিভাগে যোগ দেবে কি না, সেটি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে সে বিতর্ক নিরসন করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর।

তাছাড়া, কুমিল্লা নাম নিয়ে যে মতবিরোধ রয়েছে, তারও একটা যুক্তিগ্রাহ্য সমাধান শেষ পর্যন্ত হয়তো প্রধানমন্ত্রী খুঁজে বের করবেন বলে এ অঞ্চলবাসী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কুমিল্লার একটি প্রভাবশালী মহল প্রস্তাবিত নতুন বিভাগের নাম ময়নামতি রাখারও প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। আবার এমনও শোনা গেছে, প্রস্তাবিত নতুন বিভাগের নাম স্থানীয় কোনো নদীর নামেও হতে পারে। তবে কুমিল্লা সদরের বর্তমান সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার প্রস্তাবিত নতুন বিভাগের নাম কুমিল্লার নামানুসারেই রাখার পক্ষপাতী। তিনি কুমিল্লার জন্য একটি স্বতন্ত্র বিভাগের মর্যাদা আদায় করতে দীর্ঘদিন নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

তাই কুমিল্লার নামে এ বিভাগটি ঘোষিত হলেও পরবর্তী কোনো একপর্যায়ে এর নাম পরিবর্তন করে এ অঞ্চলের আদি বাংলা নাম কমলাঙ্কে ফিরে যাওয়া যাবে না এমন তো নয়।

কারণ নাম নিয়ে যখন একটা বিতর্ক চলমান রয়েছে, তখন এর একটা ফয়সালা হওয়া অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। বিভিন্ন কারণে উপমহাদেশের বিভিন্ন শহর কিংবা নগরীর নাম এখনো পরিবর্তন করা হচ্ছে। অধিকন্তু এক্ষেত্রে চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ অন্যদের মতামতেরও একটা গুরুত্ব রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। অবিলম্বে সন্তোষজনকভাবে এ বিষয়টির একটি সুরাহা হলে আদি সমতটের বর্তমান অধিবাসীরা অত্যন্ত আনন্দিত ও প্রীতি হবে বলে সবার ধারণা।

গাজীউল হাসান খান : মুক্তিযোদ্ধা ও শব্দসৈনিক (স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র), একুশে পদকপ্রাপ্ত, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক

gaziulhkhan@gmail.com

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন