স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ হওয়া উচিত
jugantor
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ হওয়া উচিত

  জাফরুল্লাহ চৌধুরী  

১৭ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় বাজেট ২০২১-২২ সংসদে পড়ে শোনানোর আগে অর্থমন্ত্রী তার দলের মধ্যে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ করেছেন কি? প্রস্তাবিত বাজেট সাত দিন ধরে জনগণকে দেখতে দিলে, পড়তে দিয়ে আলোচনা করার সুযোগ দিলে কি সংবিধান অশুদ্ধ হয়ে যেত? জনগণের মতামত, প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত বাজেট অর্থমন্ত্রী সংসদে পেশ করলে বাজেটের গুরুত্ব বাড়ত। যা হোক, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের কয়েকটি দিক আমি আলোকপাত করতে চাই।

সব মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও সামগ্রীর (অ্যানালাইজার, ক্যাথল্যাব, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, ডিফিবরিলেটর, ভেন্টিলেটর, কার্ডিয়াক মনিটর, সিটি অ্যাপারাটাস হাসপাতাল শয্যা, ব্লাড ব্যাংক, সিরিঞ্জ পাম্প, সার্জিকেল স্টেরাইল গ্লোভস, বায়োসেফটি কেবিনেট ইত্যাদি) ওপর আরোপিত সব ধরনের শুল্ক, অগ্রিম ইনকাম ট্যাক্স (AIT) এজেন্সি ট্যাক্স (AT) প্রত্যাহার করে নিন। সব আমদানি থেকে অগ্রিম ইনকাম ট্যাক্স প্রত্যাহারের জন্য ব্যবসায়ীদের দাবিও বিবেচ্য।

হেমোডায়ালাইসিসের প্রত্যেক রোগীর জন্য একটি ব্লাড টিউবিং ব্যবহার করতে হয়, যার ট্যাক্স ছিল ২৫ শতাংশ; তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, এজন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। কারও কিডনি বিকল হলে ব্যয়বহুল চিকিৎসা করাতে গিয়ে রোগী সর্বস্বান্ত হয়ে যায় তিন বছরের মাথায়। এজন্য সব দরিদ্র কিডনি বিকল রোগীকে প্রতি হেমোডায়ালাইসিসের জন্য ১০০০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া উচিত। উল্লেখ্য, ৫ বছর ধরে সরকার একটি ভারতীয় কোম্পানি ‘স্যানডর’কে প্রতি রোগীর হেমোডায়ালাইসিসের জন্য ২২০০ টাকা ভর্তুকি দিয়ে থাকে।

বিকল কিডনির সর্বোত্তম চিকিৎসা হচ্ছে কিডনি প্রতিস্থাপন। দেশে প্রয়োজন প্রতি বছর ১০ হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন; কিন্তু প্রতিস্থাপিত হয় ২০০-এর অনধিক। বেশির ভাগ রোগী একজনকে সঙ্গে নিয়ে যায় ভারত, শ্রীলংকা, সিঙ্গাপুর, আমেরিকায়। এতে প্রায় হাজার কোটি টাকা বিদেশে ব্যয়িত হয়। এজন্য মূলত দায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। তারা গত দুবছরে হাইকোর্টের নির্দেশ পালন করছে না। হাইকোর্ট একটি যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন, নিকটাত্মীয় ছাড়াও অনাত্মীয় ব্যক্তি বা বন্ধুর জন্য যে কেউ স্বেচ্ছায় কিডনি দান করতে পারবেন।

ওষুধের দাম কমবে কি?

অর্থমন্ত্রী অপর একটি ভালো কাজ করেছেন-স্থানীয়ভাবে ওষুধশিল্পের প্রায় সব কাঁচামালের (Active Pharmaceutical Ingredient-API) ওপর রেয়াতি সুবিধা দিয়েছেন। দেশে API উৎপাদিত হলে সব ওষুধ কোম্পানিকে স্থানীয় API কোম্পানি থেকে কাঁচামাল কেনা বাধ্যতামূলক করা উচিত। অন্য কোনো দেশ থেকে আমদানি করা যাবে না।

তদুপরি প্রত্যেক API কোম্পানিকে রপ্তানির জন্য আগামী ৫ বছরের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন, বিশেষত ভারত ও চীনের উৎপাদক কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সামর্থ্য অর্জনের জন্য। অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ৯২টি দেশে ওষুধের কাঁচামাল রপ্তানির যে তথ্য দিয়েছেন, তা সঠিক নয়। বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানি করে, ওষুধের কাঁচামাল রপ্তানি করে না।

অর্থমন্ত্রী মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ক্যানসার ও হৃদরোগের কিছু ওষুধে রেয়াতি সুবিধা দিয়েছেন, এতে ওষুধ প্রস্তুতকারকরা লাভবান হবেন; কিন্তু ওষুধের দাম কমবে না। ফলে সরকারের সৎ উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। ওষুধের মূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হলে ১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধ নীতির অধ্যাদেশের মূল্য নিয়ন্ত্রণ নিয়মাবলি যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বর্তমানে ১১৭টি ওষুধ, ভ্যাকসিন, পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী ছাড়া অন্যসব ওষুধের মূল্য ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো নিজেরা সরাসরি স্থির করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে জানিয়ে দেয়।

ঔষধ প্রশাসন কেবল মূসক (ভ্যাট) যুক্ত করে ওষুধের মূল্য ঘোষণা করে। এ পদ্ধতি মূল্য নির্দেশক (Indicative Price) পদ্ধতি হিসাবে পরিচিত। ১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধনীতি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হলে ওষুধের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ৫০ শতাংশ কমে আসবে।

অর্থমন্ত্রীর অপর একটি ভালো কাজ হলো জনগণের পুষ্টিবৃদ্ধির জন্য সব পোলট্রি, ডেইরি ও ফিশফিডের প্রয়োজনীয় উপকরণে রেয়াতি সুবিধা প্রদান।

দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্য

১৯৯৪ সালে এক গবেষণায় বিআইডিএসের গবেষক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান দেখিয়েছিলেন, দেশে দারিদ্র্য নিরসন না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে অত্যধিক চিকিৎসা ব্যয়, ভুল চিকিৎসা, অতিরিক্ত ও অপচিকিৎসা। পরবর্তীকালে বিআইডিএসের বর্তমান মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. জিম ইয়ং কিম তার ‘Dying for Growth : Global Inequality and the Health of the poor’ বইয়ে দারিদ্র্যের সঙ্গে স্বাস্থ্যের অন্তর্নিহিত সম্পর্ক উপস্থাপন করেছেন।

দেশে প্রায় অরক্ষিত ৫ হাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, প্রায় ৪৫০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ১৪ হাজার ৩৮৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং কয়েকশ জেলা, বিভাগ ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আছে। কেবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কয়েকজন চিকিৎসকের উপস্থিতি দেখা যায়, ইউনিয়ন পর্যায়ে একজন চিকিৎসককে পাওয়া যায় না। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে বসবাসকারী ৭০-৭৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে ২০ শতাংশ রোগীর ভাগ্যে মৃত্যুর আগেও একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের দর্শনের সৌভাগ্য হয় না।

শুনতে ভালো লাগে, অর্থমন্ত্রী সব সরকারি মেডিকেল কলেজ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ক্যানসার হাসপাতাল, সব জেলা হাসপাতালে নেফ্রোলজি ইউনিট ও কিডনি সেন্টার, ৩৩টি হাসপাতালে অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, ইউনিয়ন পর্যায়ে ১০ শয্যাবিশিষ্ট MCWC মাতৃ ও শিশু সেবাকেন্দ্র, পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম জেলার বাইরে অন্য সব জেলায় শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য, অনকোলজি (ক্যানসার) প্রিভেন্টিভ মেডিসিনের ২৫০ শয্যার সাধারণ হাসপাতাল এবং ন্যূনতম ২০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরির জন্য ১০ বছর আয়কর রহিত করছেন।

কিন্তু এগুলো চালাবেন কারা? আমলাদের মতো সরকারি চিকিৎসকরা নিজের গাড়ি উবারে পাঠিয়ে সরকারি হাসপাতালে অনুপস্থিত থেকে বেসরকারি হাসপাতালে গলাকাটা দরে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে বেড়াবেন না তো?

সরকারি হাসপাতালে সব চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হলে কেবল বরাদ্দ বাড়ালে চলবে না, কতগুলো মৌলিক পরিবর্তন কার্যকর করতে হবে। নিয়ম করতে হবে কোনো সরকারি চিকিৎসক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকে কাজ করতে পারবেন না। সব অবকাঠামোর উন্নতি করতে হবে।

হাসপাতালের নিরাপত্তাপ্রাচীর, গভীর নলকূপ, ইলেকট্রিক সাবস্টেশন, সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নার্স, টেকনিশিয়ান, ডেন্টিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট ও চিকিৎসকদের বাসস্থান, ছাত্রদের জন্য ডরমেটরি, দুজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের বাসস্থান নির্মাণ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে থাকাকে নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। বিনা ভাড়ায় বাসস্থান এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসকদের মাসিক ১০ হাজার টাকা ইউনিয়নে অবস্থান ভাতা দিলে তরুণ চিকিৎসকরা কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক অবস্থান করতে আগ্রহী হবেন। চিকিৎসকদের পর্যায়ক্রমে ছয় মাস একাধিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে, পরীক্ষা নিয়ে সার্টিফাইড বিশেষজ্ঞে উন্নীত করুন এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সার্বক্ষণিক সপরিবারে বসবাস সাপেক্ষে মাসে ৫০ হাজার টাকা নন-প্র্যাকটিসিং বিশেষজ্ঞ ভাতার ব্যবস্থা করা হলে তা আকর্ষণীয় পদক্ষেপ হবে। উল্লেখ্য, সরকার আমলাদের মাসিক ৫০ হাজার টাকা গাড়ি সংরক্ষণ ভাতা দিয়ে থাকে।

আগামী ১০ বছরে ইউনিয়নের লোকসংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজারে উন্নীত হবে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের নিরাপত্তাপ্রাচীর মেরামত, বাসস্থান নির্মাণ, ৩০ শয্যার হাসপাতাল ও সম্প্রসারিত বহিঃবিভাগ, অপারেশন থিয়েটার, ৫ শয্যার CCU/ICU ‘প্রসব রুম, ল্যাবরেটরি’, ছাত্রদের ডরমেটরি, লাইব্রেরি ও ডাইনিং রুমের ব্যবস্থা বাবদ প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট নির্মাণে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মীর বাসস্থান নির্মাণে ৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রত্যেক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা থাকতে হবে। রেফার করা প্রত্যেক রোগী ৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে যাবেন। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক কর্মকর্তার মর্যাদা হবে ডেপুটি সিভিল সার্জনের। নবীন চিকিৎসকরা মোটরসাইকেল কেনার জন্য বিনা সুদে ধার পাবেন।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের সেবাকে আকর্ষণীয় ও জনকল্যাণকর করার লক্ষ্যে একটি মোবাইল এক্সরে, ইসিজি, ইকোগ্রাম, আলট্রাসনোগ্রাম, বায়োকেমিস্ট্রি, রক্ত পরিসঞ্চালন মাইক্রোবায়োলজি, হেমোটোলজি এনালাইজার, কার্ডিয়াক মনিটর, ডিফিবরিলেটর, ভেন্টিলেটর এবং সজ্জিত প্যাথলজি ল্যাবরেটরিতে ৫০ রকমের পরীক্ষা করা যাবে। ব্যয় হবে মাত্র ৪ কোটি টাকা। কমিউনিটি ক্লিনিকে ৮০০ বর্গফুটের একটি প্রসব কক্ষ, একটি প্যাথলজি ও রক্ত পরিসঞ্চালন রুম ও রোগীর বিশ্রাম কক্ষ নির্মাণ বাবদ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির জন্য ব্যয় হবে ২০ লাখ টাকা মাত্র।

সামরিক, পুলিশ, রেলওয়ে ও কারাগার হাসপাতালগুলোকে একীভূত করে সামরিক মেডিকেল কোর (অগঈ) কর্তৃক পরিচালিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। এতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি হবে, সাশ্রয়ী হবে এবং কারাগার ও হাসপাতালে দুর্নীতির অবসান হবে।

বর্তমান বাজেটে ২৫০০ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র, ২০০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৫০০০ কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ এবং সেগুলোকে যন্ত্রপাতি দিয়ে সজ্জিত করুন। দ্বিতীয় বছরে বাকি সেন্টারগুলো নির্মাণ ও যন্ত্রপাতির জন্য বরাদ্দ দিন। প্রতিবছর তরুণ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিন। এতে সেন্টারগুলো সচল ও সক্রিয় হবে। তবে সব চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, ডেন্টিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্টের নিয়োগ হবে জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে, ঢাকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নয়।

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করতে হবে। লাখ লাখ চিকিৎসক সৃষ্টির লক্ষ্যে সব মেডিকেল কলেজে প্রতিবছর ২০ হাজার ছাত্র ভর্তির প্রয়োজন রয়েছে। সাশ্রয়ী ও উন্নত শিক্ষার জন্য মেডিকেল কলেজের ইউনিট হিসাবে ডেন্টিস্ট্রি ও ফিজিওথেরাপি পরিচালনা করা হবে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ। ছাত্রদের ইউনিয়ন পর্যায়ে রেখে শিক্ষাদান করা হলে ব্যয় হবে বছরে ২০ কোটি টাকা।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী : ট্রাস্টি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ হওয়া উচিত

 জাফরুল্লাহ চৌধুরী 
১৭ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় বাজেট ২০২১-২২ সংসদে পড়ে শোনানোর আগে অর্থমন্ত্রী তার দলের মধ্যে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ করেছেন কি? প্রস্তাবিত বাজেট সাত দিন ধরে জনগণকে দেখতে দিলে, পড়তে দিয়ে আলোচনা করার সুযোগ দিলে কি সংবিধান অশুদ্ধ হয়ে যেত? জনগণের মতামত, প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত বাজেট অর্থমন্ত্রী সংসদে পেশ করলে বাজেটের গুরুত্ব বাড়ত। যা হোক, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের কয়েকটি দিক আমি আলোকপাত করতে চাই।

সব মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও সামগ্রীর (অ্যানালাইজার, ক্যাথল্যাব, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, ডিফিবরিলেটর, ভেন্টিলেটর, কার্ডিয়াক মনিটর, সিটি অ্যাপারাটাস হাসপাতাল শয্যা, ব্লাড ব্যাংক, সিরিঞ্জ পাম্প, সার্জিকেল স্টেরাইল গ্লোভস, বায়োসেফটি কেবিনেট ইত্যাদি) ওপর আরোপিত সব ধরনের শুল্ক, অগ্রিম ইনকাম ট্যাক্স (AIT) এজেন্সি ট্যাক্স (AT) প্রত্যাহার করে নিন। সব আমদানি থেকে অগ্রিম ইনকাম ট্যাক্স প্রত্যাহারের জন্য ব্যবসায়ীদের দাবিও বিবেচ্য।

হেমোডায়ালাইসিসের প্রত্যেক রোগীর জন্য একটি ব্লাড টিউবিং ব্যবহার করতে হয়, যার ট্যাক্স ছিল ২৫ শতাংশ; তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, এজন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। কারও কিডনি বিকল হলে ব্যয়বহুল চিকিৎসা করাতে গিয়ে রোগী সর্বস্বান্ত হয়ে যায় তিন বছরের মাথায়। এজন্য সব দরিদ্র কিডনি বিকল রোগীকে প্রতি হেমোডায়ালাইসিসের জন্য ১০০০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া উচিত। উল্লেখ্য, ৫ বছর ধরে সরকার একটি ভারতীয় কোম্পানি ‘স্যানডর’কে প্রতি রোগীর হেমোডায়ালাইসিসের জন্য ২২০০ টাকা ভর্তুকি দিয়ে থাকে।

বিকল কিডনির সর্বোত্তম চিকিৎসা হচ্ছে কিডনি প্রতিস্থাপন। দেশে প্রয়োজন প্রতি বছর ১০ হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন; কিন্তু প্রতিস্থাপিত হয় ২০০-এর অনধিক। বেশির ভাগ রোগী একজনকে সঙ্গে নিয়ে যায় ভারত, শ্রীলংকা, সিঙ্গাপুর, আমেরিকায়। এতে প্রায় হাজার কোটি টাকা বিদেশে ব্যয়িত হয়। এজন্য মূলত দায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। তারা গত দুবছরে হাইকোর্টের নির্দেশ পালন করছে না। হাইকোর্ট একটি যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন, নিকটাত্মীয় ছাড়াও অনাত্মীয় ব্যক্তি বা বন্ধুর জন্য যে কেউ স্বেচ্ছায় কিডনি দান করতে পারবেন।

ওষুধের দাম কমবে কি?

অর্থমন্ত্রী অপর একটি ভালো কাজ করেছেন-স্থানীয়ভাবে ওষুধশিল্পের প্রায় সব কাঁচামালের (Active Pharmaceutical Ingredient-API) ওপর রেয়াতি সুবিধা দিয়েছেন। দেশে API উৎপাদিত হলে সব ওষুধ কোম্পানিকে স্থানীয় API কোম্পানি থেকে কাঁচামাল কেনা বাধ্যতামূলক করা উচিত। অন্য কোনো দেশ থেকে আমদানি করা যাবে না।

তদুপরি প্রত্যেক API কোম্পানিকে রপ্তানির জন্য আগামী ৫ বছরের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন, বিশেষত ভারত ও চীনের উৎপাদক কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সামর্থ্য অর্জনের জন্য। অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ৯২টি দেশে ওষুধের কাঁচামাল রপ্তানির যে তথ্য দিয়েছেন, তা সঠিক নয়। বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানি করে, ওষুধের কাঁচামাল রপ্তানি করে না।

অর্থমন্ত্রী মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ক্যানসার ও হৃদরোগের কিছু ওষুধে রেয়াতি সুবিধা দিয়েছেন, এতে ওষুধ প্রস্তুতকারকরা লাভবান হবেন; কিন্তু ওষুধের দাম কমবে না। ফলে সরকারের সৎ উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। ওষুধের মূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হলে ১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধ নীতির অধ্যাদেশের মূল্য নিয়ন্ত্রণ নিয়মাবলি যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বর্তমানে ১১৭টি ওষুধ, ভ্যাকসিন, পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী ছাড়া অন্যসব ওষুধের মূল্য ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো নিজেরা সরাসরি স্থির করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে জানিয়ে দেয়।

ঔষধ প্রশাসন কেবল মূসক (ভ্যাট) যুক্ত করে ওষুধের মূল্য ঘোষণা করে। এ পদ্ধতি মূল্য নির্দেশক (Indicative Price) পদ্ধতি হিসাবে পরিচিত। ১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধনীতি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হলে ওষুধের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ৫০ শতাংশ কমে আসবে।

অর্থমন্ত্রীর অপর একটি ভালো কাজ হলো জনগণের পুষ্টিবৃদ্ধির জন্য সব পোলট্রি, ডেইরি ও ফিশফিডের প্রয়োজনীয় উপকরণে রেয়াতি সুবিধা প্রদান।

দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্য

১৯৯৪ সালে এক গবেষণায় বিআইডিএসের গবেষক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান দেখিয়েছিলেন, দেশে দারিদ্র্য নিরসন না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে অত্যধিক চিকিৎসা ব্যয়, ভুল চিকিৎসা, অতিরিক্ত ও অপচিকিৎসা। পরবর্তীকালে বিআইডিএসের বর্তমান মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. জিম ইয়ং কিম তার ‘Dying for Growth : Global Inequality and the Health of the poor’ বইয়ে দারিদ্র্যের সঙ্গে স্বাস্থ্যের অন্তর্নিহিত সম্পর্ক উপস্থাপন করেছেন।

দেশে প্রায় অরক্ষিত ৫ হাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, প্রায় ৪৫০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ১৪ হাজার ৩৮৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং কয়েকশ জেলা, বিভাগ ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আছে। কেবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কয়েকজন চিকিৎসকের উপস্থিতি দেখা যায়, ইউনিয়ন পর্যায়ে একজন চিকিৎসককে পাওয়া যায় না। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে বসবাসকারী ৭০-৭৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে ২০ শতাংশ রোগীর ভাগ্যে মৃত্যুর আগেও একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের দর্শনের সৌভাগ্য হয় না।

শুনতে ভালো লাগে, অর্থমন্ত্রী সব সরকারি মেডিকেল কলেজ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ক্যানসার হাসপাতাল, সব জেলা হাসপাতালে নেফ্রোলজি ইউনিট ও কিডনি সেন্টার, ৩৩টি হাসপাতালে অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, ইউনিয়ন পর্যায়ে ১০ শয্যাবিশিষ্ট MCWC মাতৃ ও শিশু সেবাকেন্দ্র, পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম জেলার বাইরে অন্য সব জেলায় শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য, অনকোলজি (ক্যানসার) প্রিভেন্টিভ মেডিসিনের ২৫০ শয্যার সাধারণ হাসপাতাল এবং ন্যূনতম ২০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরির জন্য ১০ বছর আয়কর রহিত করছেন।

কিন্তু এগুলো চালাবেন কারা? আমলাদের মতো সরকারি চিকিৎসকরা নিজের গাড়ি উবারে পাঠিয়ে সরকারি হাসপাতালে অনুপস্থিত থেকে বেসরকারি হাসপাতালে গলাকাটা দরে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে বেড়াবেন না তো?

সরকারি হাসপাতালে সব চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হলে কেবল বরাদ্দ বাড়ালে চলবে না, কতগুলো মৌলিক পরিবর্তন কার্যকর করতে হবে। নিয়ম করতে হবে কোনো সরকারি চিকিৎসক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকে কাজ করতে পারবেন না। সব অবকাঠামোর উন্নতি করতে হবে।

হাসপাতালের নিরাপত্তাপ্রাচীর, গভীর নলকূপ, ইলেকট্রিক সাবস্টেশন, সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নার্স, টেকনিশিয়ান, ডেন্টিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট ও চিকিৎসকদের বাসস্থান, ছাত্রদের জন্য ডরমেটরি, দুজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের বাসস্থান নির্মাণ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে থাকাকে নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। বিনা ভাড়ায় বাসস্থান এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসকদের মাসিক ১০ হাজার টাকা ইউনিয়নে অবস্থান ভাতা দিলে তরুণ চিকিৎসকরা কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক অবস্থান করতে আগ্রহী হবেন। চিকিৎসকদের পর্যায়ক্রমে ছয় মাস একাধিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে, পরীক্ষা নিয়ে সার্টিফাইড বিশেষজ্ঞে উন্নীত করুন এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সার্বক্ষণিক সপরিবারে বসবাস সাপেক্ষে মাসে ৫০ হাজার টাকা নন-প্র্যাকটিসিং বিশেষজ্ঞ ভাতার ব্যবস্থা করা হলে তা আকর্ষণীয় পদক্ষেপ হবে। উল্লেখ্য, সরকার আমলাদের মাসিক ৫০ হাজার টাকা গাড়ি সংরক্ষণ ভাতা দিয়ে থাকে।

আগামী ১০ বছরে ইউনিয়নের লোকসংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজারে উন্নীত হবে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের নিরাপত্তাপ্রাচীর মেরামত, বাসস্থান নির্মাণ, ৩০ শয্যার হাসপাতাল ও সম্প্রসারিত বহিঃবিভাগ, অপারেশন থিয়েটার, ৫ শয্যার CCU/ICU ‘প্রসব রুম, ল্যাবরেটরি’, ছাত্রদের ডরমেটরি, লাইব্রেরি ও ডাইনিং রুমের ব্যবস্থা বাবদ প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট নির্মাণে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মীর বাসস্থান নির্মাণে ৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রত্যেক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা থাকতে হবে। রেফার করা প্রত্যেক রোগী ৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে যাবেন। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক কর্মকর্তার মর্যাদা হবে ডেপুটি সিভিল সার্জনের। নবীন চিকিৎসকরা মোটরসাইকেল কেনার জন্য বিনা সুদে ধার পাবেন।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের সেবাকে আকর্ষণীয় ও জনকল্যাণকর করার লক্ষ্যে একটি মোবাইল এক্সরে, ইসিজি, ইকোগ্রাম, আলট্রাসনোগ্রাম, বায়োকেমিস্ট্রি, রক্ত পরিসঞ্চালন মাইক্রোবায়োলজি, হেমোটোলজি এনালাইজার, কার্ডিয়াক মনিটর, ডিফিবরিলেটর, ভেন্টিলেটর এবং সজ্জিত প্যাথলজি ল্যাবরেটরিতে ৫০ রকমের পরীক্ষা করা যাবে। ব্যয় হবে মাত্র ৪ কোটি টাকা। কমিউনিটি ক্লিনিকে ৮০০ বর্গফুটের একটি প্রসব কক্ষ, একটি প্যাথলজি ও রক্ত পরিসঞ্চালন রুম ও রোগীর বিশ্রাম কক্ষ নির্মাণ বাবদ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির জন্য ব্যয় হবে ২০ লাখ টাকা মাত্র।

সামরিক, পুলিশ, রেলওয়ে ও কারাগার হাসপাতালগুলোকে একীভূত করে সামরিক মেডিকেল কোর (অগঈ) কর্তৃক পরিচালিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। এতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি হবে, সাশ্রয়ী হবে এবং কারাগার ও হাসপাতালে দুর্নীতির অবসান হবে।

বর্তমান বাজেটে ২৫০০ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র, ২০০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৫০০০ কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ এবং সেগুলোকে যন্ত্রপাতি দিয়ে সজ্জিত করুন। দ্বিতীয় বছরে বাকি সেন্টারগুলো নির্মাণ ও যন্ত্রপাতির জন্য বরাদ্দ দিন। প্রতিবছর তরুণ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিন। এতে সেন্টারগুলো সচল ও সক্রিয় হবে। তবে সব চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, ডেন্টিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্টের নিয়োগ হবে জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে, ঢাকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নয়।

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করতে হবে। লাখ লাখ চিকিৎসক সৃষ্টির লক্ষ্যে সব মেডিকেল কলেজে প্রতিবছর ২০ হাজার ছাত্র ভর্তির প্রয়োজন রয়েছে। সাশ্রয়ী ও উন্নত শিক্ষার জন্য মেডিকেল কলেজের ইউনিট হিসাবে ডেন্টিস্ট্রি ও ফিজিওথেরাপি পরিচালনা করা হবে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ। ছাত্রদের ইউনিয়ন পর্যায়ে রেখে শিক্ষাদান করা হলে ব্যয় হবে বছরে ২০ কোটি টাকা।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী : ট্রাস্টি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০২১-২২