মাঝি ছাড়া নাও, মুরুব্বি ছাড়া গাঁও
jugantor
মাঝি ছাড়া নাও, মুরুব্বি ছাড়া গাঁও

  বিমল সরকার  

২০ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানে এ এক দুঃসহ বিড়ম্বনা। বাংলা ভাষায় প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে-‘মাঝি ছাড়া নাও আর মুরুব্বি ছাড়া গাঁও’। নতুন সরকারি হওয়া কলেজগুলোর হয়েছে তেমনই এক দশা। ২০১৬ সালে সরকারীকরণের ঘোষণা হয়। জিও (সরকারি আদেশ) জারি হয় ২০১৮ সালে আর জিও জারির সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয়ে যায় গভর্নিং বডি। তাহলে পরিস্থিতিটি সহজেই অনুমেয়। নিয়মিত অধ্যক্ষ, এমনকি উপাধ্যক্ষ নেই। গভর্নিং বডি নেই। বলা যায়, এ-ও একধরনের ‘ফ্রিস্টাইল’। এভাবেই চলছে একেকটি কলেজ বছরের পর বছর! প্রণিধানযোগ্য যে, এমন কলেজের সংখ্যা একশর বেশি।

সর্বশেষ ঘোষিত সরকারি কলেজগুলোর প্রতি সবার আরও বেশি মনোনিবেশ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। শিক্ষক স্বল্পতা, বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষশূন্য থাকা এসব প্রতিষ্ঠানে দুরারোগ্য ব্যাধির রূপ ধারণ করেছে। অধ্যক্ষের পদ শূন্য, গভর্নিং বডি বাতিল এমন পরিস্থিতিতে কলেজে কলেজে ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ’রা প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়ে একদিকে হচ্ছেন গলদঘর্ম, অন্যদিকে তাদের কর্মকাণ্ডে সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠানগুলোয় নেই কোনো কার্যকর গতি। তাদের মধ্যে অযোগ্য, অদক্ষ, সংকীর্ণমনা ও স্বার্থান্বেষীদের স্বেচ্ছাচারিতায় আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘিত হওয়া, এমনকি সরকারের ভাবমূর্তিও ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী, প্রতিষ্ঠান তথা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে যেসব কলেজে অধ্যক্ষের পদ শূন্য রয়েছে, সেগুলোয় অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ সংকটের সৃষ্টি করোনাকালীন নয়, করোনার প্রকোপ দেখা দেওয়ারও অনেক আগে। আমি আমার নিজ জেলা কিশোরগঞ্জের কথা বলি। ঘোষণা অনুযায়ী, এ জেলার সরকারি হওয়া ১০টি কলেজের মধ্যে ছয়টিই অধ্যক্ষশূন্য। কেবল অধ্যক্ষ নয়, ডিগ্রি স্তরের এ ছয়টি কলেজের কোনোটিতেই উপাধ্যক্ষও নেই। নিয়মিত অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ না থাকায় শিক্ষকদের মধ্য থেকে ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ’ হিসাবে নিয়োগ দিয়ে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে অধ্যক্ষের কাজ। ময়মনসিংহ জেলার চিত্রটাও ঠিক এমনই। সরকারি হওয়া নয়টি কলেজের মধ্যে ছয়টিতে নিয়মিত অধ্যক্ষ নেই। টাঙ্গাইলের আটটির মধ্যে চারটিতে আর নেত্রকোনার ছয়টির মধ্যে নিয়মিত অধ্যক্ষশূন্য তিনটি। আরও স্পষ্ট করে বললে, ময়মনসিংহ অঞ্চলে (ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর ও শেরপুর জেলা) মোট ৩৯টি কলেজ সরকারি হলেও ১৬টিতেই নিয়মিত অধ্যক্ষের পদ শূন্য। কেবল ময়মনসিংহ অঞ্চল নয়, এমন চিত্র সারা দেশেরই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত আগ্রহ ও নির্দেশে যেসব উপজেলায় কোনো সরকারি কলেজ ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই, সেসব উপজেলায় একটি করে কলেজ ও একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করার কাজ চলছে। মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দফায় দফায় নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন (ইনস্পেকশন) কাজ সম্পন্ন হয়েছে অনেক আগেই। দানপত্র (ডিড অব গিফট) সম্পাদনের পর প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানে জারি করা হয় সরকারি আদেশ (জিও)। ২০১৬ সালে ঘোষণার পর একের পর এক বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে এখন চলছে সরকারীকরণের শেষ ধাপ বলে বিবেচিত শিক্ষক-কর্মচারীদের পদায়নের কাজ। মাধ্যমিক বা উচ্চশিক্ষা স্তরে একসঙ্গে এত অধিকসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণ আমাদের দেশে এই প্রথম। এমন একটি মহতি উদ্যোগ ও কার্যক্রমে কেবল বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী নয়, বলা যায়, সর্বস্তরের মানুষের মনেই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কথা এখানে নয়, সরকারীকরণের উল্লিখিত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ৩০৩টি কলেজ। লক্ষ করার বিষয়, এই ৩০৩টির মধ্যে আনুমানিক ১২০টি কলেজেই (এক-তৃতীয়াংশের বেশি) অধ্যক্ষের পদ খালি। আনুমানিক ১০০টি কলেজ রয়েছে একই সঙ্গে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষবিহীন। দুই বছর, চার বছর, এমনকি টানা পাঁচ-সাত বছর কলেজগুলো চলছে ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ’ দিয়ে। ‘ভারপ্রাপ্ত’ একটি সাময়িক ব্যবস্থা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কখনো কখনো তা হতেই পারে। তাই বলে বছরের পর বছর, ৪ বা ৫ বছর কিংবা আরও বেশি সময় ধরে? উল্লেখ্য, কলেজের মতো একেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রয়েছে দুই হাজার, তিন-চার-পাঁচ হাজার বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থী, ৮০ বা ১০০ কিংবা এর চেয়েও বেশিসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী!

এছাড়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানে একধরনের তেলেসমাতি কাণ্ড। আইন ও প্রচলিত বিধিবিধান লঙ্ঘনের ঘটনা একটির পর একটি ঘটেই চলেছে। একশ্রেণির মতলববাজ শিক্ষক ও রাজনীতিক এবং মাউশি (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) ও মন্ত্রণালয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত একটি চক্র গত পাঁচ বছর ধরে কী এক অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে তা জিইয়ে রেখেছেন, তা সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারও পক্ষে বোধকরি কল্পনা করাও কঠিন। এ নিয়ে হয়েছে মামলা-মোকদ্দমা, দেনদরবার, লুকোচুরি, আরও কতকিছু। দৃষ্টান্ত হিসাবে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর কলেজ ও ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজ এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট শহীদ স্মৃতি কলেজসহ ডজন ডজন কলেজের নাম বলা যায়।

আমাদের দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে সমস্যার অন্ত নেই। কারণ করোনা সারা বিশ্বের মতো কেবল শিক্ষা নয়, আমাদের গোটা জাতীয় জীবনব্যবস্থাকেই তছনছ করে দিয়েছে। আশা করি, আমরা শিগগির করোনার ছোবল থেকে পরিত্রাণ পাব। কিন্তু কালবিলম্ব না করে উল্লিখিত ১২০টি কলেজে নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগ করাটাকে অতীব জরুরি বলে মনে করি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষাব্যবস্থা তথা গোটা জাতির স্বার্থেই কাজটি দ্রুত করা উচিত।

বিমল সরকার : অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক

মাঝি ছাড়া নাও, মুরুব্বি ছাড়া গাঁও

 বিমল সরকার 
২০ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানে এ এক দুঃসহ বিড়ম্বনা। বাংলা ভাষায় প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে-‘মাঝি ছাড়া নাও আর মুরুব্বি ছাড়া গাঁও’। নতুন সরকারি হওয়া কলেজগুলোর হয়েছে তেমনই এক দশা। ২০১৬ সালে সরকারীকরণের ঘোষণা হয়। জিও (সরকারি আদেশ) জারি হয় ২০১৮ সালে আর জিও জারির সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয়ে যায় গভর্নিং বডি। তাহলে পরিস্থিতিটি সহজেই অনুমেয়। নিয়মিত অধ্যক্ষ, এমনকি উপাধ্যক্ষ নেই। গভর্নিং বডি নেই। বলা যায়, এ-ও একধরনের ‘ফ্রিস্টাইল’। এভাবেই চলছে একেকটি কলেজ বছরের পর বছর! প্রণিধানযোগ্য যে, এমন কলেজের সংখ্যা একশর বেশি।

সর্বশেষ ঘোষিত সরকারি কলেজগুলোর প্রতি সবার আরও বেশি মনোনিবেশ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। শিক্ষক স্বল্পতা, বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষশূন্য থাকা এসব প্রতিষ্ঠানে দুরারোগ্য ব্যাধির রূপ ধারণ করেছে। অধ্যক্ষের পদ শূন্য, গভর্নিং বডি বাতিল এমন পরিস্থিতিতে কলেজে কলেজে ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ’রা প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়ে একদিকে হচ্ছেন গলদঘর্ম, অন্যদিকে তাদের কর্মকাণ্ডে সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠানগুলোয় নেই কোনো কার্যকর গতি। তাদের মধ্যে অযোগ্য, অদক্ষ, সংকীর্ণমনা ও স্বার্থান্বেষীদের স্বেচ্ছাচারিতায় আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘিত হওয়া, এমনকি সরকারের ভাবমূর্তিও ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী, প্রতিষ্ঠান তথা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে যেসব কলেজে অধ্যক্ষের পদ শূন্য রয়েছে, সেগুলোয় অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ সংকটের সৃষ্টি করোনাকালীন নয়, করোনার প্রকোপ দেখা দেওয়ারও অনেক আগে। আমি আমার নিজ জেলা কিশোরগঞ্জের কথা বলি। ঘোষণা অনুযায়ী, এ জেলার সরকারি হওয়া ১০টি কলেজের মধ্যে ছয়টিই অধ্যক্ষশূন্য। কেবল অধ্যক্ষ নয়, ডিগ্রি স্তরের এ ছয়টি কলেজের কোনোটিতেই উপাধ্যক্ষও নেই। নিয়মিত অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ না থাকায় শিক্ষকদের মধ্য থেকে ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ’ হিসাবে নিয়োগ দিয়ে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে অধ্যক্ষের কাজ। ময়মনসিংহ জেলার চিত্রটাও ঠিক এমনই। সরকারি হওয়া নয়টি কলেজের মধ্যে ছয়টিতে নিয়মিত অধ্যক্ষ নেই। টাঙ্গাইলের আটটির মধ্যে চারটিতে আর নেত্রকোনার ছয়টির মধ্যে নিয়মিত অধ্যক্ষশূন্য তিনটি। আরও স্পষ্ট করে বললে, ময়মনসিংহ অঞ্চলে (ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর ও শেরপুর জেলা) মোট ৩৯টি কলেজ সরকারি হলেও ১৬টিতেই নিয়মিত অধ্যক্ষের পদ শূন্য। কেবল ময়মনসিংহ অঞ্চল নয়, এমন চিত্র সারা দেশেরই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত আগ্রহ ও নির্দেশে যেসব উপজেলায় কোনো সরকারি কলেজ ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই, সেসব উপজেলায় একটি করে কলেজ ও একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করার কাজ চলছে। মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দফায় দফায় নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন (ইনস্পেকশন) কাজ সম্পন্ন হয়েছে অনেক আগেই। দানপত্র (ডিড অব গিফট) সম্পাদনের পর প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানে জারি করা হয় সরকারি আদেশ (জিও)। ২০১৬ সালে ঘোষণার পর একের পর এক বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে এখন চলছে সরকারীকরণের শেষ ধাপ বলে বিবেচিত শিক্ষক-কর্মচারীদের পদায়নের কাজ। মাধ্যমিক বা উচ্চশিক্ষা স্তরে একসঙ্গে এত অধিকসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণ আমাদের দেশে এই প্রথম। এমন একটি মহতি উদ্যোগ ও কার্যক্রমে কেবল বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী নয়, বলা যায়, সর্বস্তরের মানুষের মনেই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কথা এখানে নয়, সরকারীকরণের উল্লিখিত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ৩০৩টি কলেজ। লক্ষ করার বিষয়, এই ৩০৩টির মধ্যে আনুমানিক ১২০টি কলেজেই (এক-তৃতীয়াংশের বেশি) অধ্যক্ষের পদ খালি। আনুমানিক ১০০টি কলেজ রয়েছে একই সঙ্গে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষবিহীন। দুই বছর, চার বছর, এমনকি টানা পাঁচ-সাত বছর কলেজগুলো চলছে ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ’ দিয়ে। ‘ভারপ্রাপ্ত’ একটি সাময়িক ব্যবস্থা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কখনো কখনো তা হতেই পারে। তাই বলে বছরের পর বছর, ৪ বা ৫ বছর কিংবা আরও বেশি সময় ধরে? উল্লেখ্য, কলেজের মতো একেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রয়েছে দুই হাজার, তিন-চার-পাঁচ হাজার বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থী, ৮০ বা ১০০ কিংবা এর চেয়েও বেশিসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী!

এছাড়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানে একধরনের তেলেসমাতি কাণ্ড। আইন ও প্রচলিত বিধিবিধান লঙ্ঘনের ঘটনা একটির পর একটি ঘটেই চলেছে। একশ্রেণির মতলববাজ শিক্ষক ও রাজনীতিক এবং মাউশি (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) ও মন্ত্রণালয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত একটি চক্র গত পাঁচ বছর ধরে কী এক অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে তা জিইয়ে রেখেছেন, তা সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারও পক্ষে বোধকরি কল্পনা করাও কঠিন। এ নিয়ে হয়েছে মামলা-মোকদ্দমা, দেনদরবার, লুকোচুরি, আরও কতকিছু। দৃষ্টান্ত হিসাবে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর কলেজ ও ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজ এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট শহীদ স্মৃতি কলেজসহ ডজন ডজন কলেজের নাম বলা যায়।

আমাদের দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে সমস্যার অন্ত নেই। কারণ করোনা সারা বিশ্বের মতো কেবল শিক্ষা নয়, আমাদের গোটা জাতীয় জীবনব্যবস্থাকেই তছনছ করে দিয়েছে। আশা করি, আমরা শিগগির করোনার ছোবল থেকে পরিত্রাণ পাব। কিন্তু কালবিলম্ব না করে উল্লিখিত ১২০টি কলেজে নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগ করাটাকে অতীব জরুরি বলে মনে করি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষাব্যবস্থা তথা গোটা জাতির স্বার্থেই কাজটি দ্রুত করা উচিত।

বিমল সরকার : অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন