কেমন আছে শিক্ষার্থীরা
jugantor
কেমন আছে শিক্ষার্থীরা

  মো. কামরুজ্জামান  

২৪ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রায় দেড় বছর আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তালা ঝুলছে। লকডাউন শুরুর কিছুদিন পর অনলাইনে শিক্ষার কার্যক্রম সচল রাখার কথা বলা হলেও কার্যত কিছুদিনের মধ্যেই সেই ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ে। তথ্যপ্রযুক্তির অপ্রতুলতাকেই অনেকে দায়ী করে থাকেন।

তবে আমি এগুলোর সঙ্গে পুরোপুরি একমত পোষণ করতে পারছি না বলে দুঃখিত। ছাত্রছাত্রীরা ফেসবুক চালাতে পারলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকটিভ থাকতে পারলে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখায় সমস্যা কোথায়, আমার সেটা বুঝে আসে না। যুক্তরাষ্ট্রে লকডাউন চলাকালে সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক করে দেওয়া হয় এবং পুরোপুরি সচল আছে এখন।

আগামী ‘ফল সেমিস্টার’ থেকে শতভাগ ইন-পার্সন ক্লাস শুরু হবে। তবে আপনারা অনেকেই বলতে পারেন- আমেরিকা উন্নত দেশ ও শিক্ষা খাতে প্রচুর বরাদ্দ থাকার কারণে তাদের পক্ষে সম্ভব হলেও আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কথাটির সঙ্গেও আমি একমত হতে অপারগ।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার বলতে আমরা রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট বুঝলেও সামগ্রিকভাবে চিন্তা করলে এটা হচ্ছে যোগাযোগের মহাসড়ক; ইন্টারনেটের সংযোগ এর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। শুধু সড়ক বা ব্রিজ উন্নয়নের চাবিকাঠি নয়। ডাটার যাতায়াতও অনেক সময় মানুষের যাতায়াতের চেয়ে কম গুরুত্ব বহন করে না। যাই হোক, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার সরকারের যে কর্মপরিকল্পনা রয়েছে, সেখানে তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামোর উন্নয়ন অপরিহার্য। ডিজিটালাইজেশন এখন পুরনো শব্দ, মানুষ এখন অনলাইন সুপার হাইওয়ে চায়।

দেশের সেলুলার ফোন কোম্পানিগুলোর যে নেটওয়ার্ক কভারেজ আছে, ওইগুলো ব্যবহার করেও আমরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে পারি। যদিও আমাদের একটা বিশাল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ওই ব্যবস্থাও অপ্রতুল। আসলে সবকিছু প্রায়োরিটি, আপনি কোনটাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন; তার ওপর নির্ভর করবে আপনি তাতে কত বাজেট রাখবেন।

তেমনি সরকারের বেলায়ও একই কথা-বাজেটের আকার ও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দেখলেই বোঝা যাবে, জাতির জন্য শিক্ষাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষাখাতে জিডিপির ২.১০ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। কিন্তু ইউনেস্কো এডুকেশন ফ্রেমওয়ার্ক একটি দেশের জিডিপির সর্বনিু ৪-৬ শতাংশ রাখার পরামর্শ দেয়।

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা শিক্ষা খাতে যথাক্রমে জিডিপির ৩.৮, ৩.৭ ও ৩.৬ শতাংশ ব্যয় করে। উন্নত দেশের কথা না হয় বাদই দিলাম; তারপর আবার বরাবরের মতো শিক্ষা খাতের বরাদ্দ বাড়িয়ে দেখানোর জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এবং তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের বাজেট একত্রিত করে শিক্ষা খাতে দেখানো হয়েছে। এ থেকেই অনুমেয় আমরা কোথায় আছি!

বেসরকারি গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ৫৯.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দূরশিক্ষণে অংশই নিতে পারেনি। এই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে উচ্চশিক্ষায় তথা বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শিথিল করা বা বন্ধ করা অযৌক্তিক বলে আমার মনে হয়। প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের অনলাইনে লেখাপড়ায় যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও গার্ডিয়ানদের সচেতনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অপরদিকে মাধ্যমিক স্তরে ক্যারিয়ার সচেতন না হওয়ার কারণে সেটিও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তুলনা করা সমীচীন হবে না। এ করোনার সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা তৈরি করে শিক্ষা কার্যক্রম; অন্তত তা উচ্চশিক্ষায় সচল রাখা গেলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কম ক্ষতির সম্মুখীন হতো।

এখন অনেকেই মহামারির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের তাগিদ দিচ্ছেন। তথ্যপ্রযুক্তির হাইওয়ে উন্নয়ন ও কম্পিউটারসহ যোগাযোগ মাধ্যমের সহজপ্রাপ্যতা তৈরি করে এ সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া যেতে পারে। কৃষিক্ষেত্রে যেমন ঋণের ব্যবস্থা করা হয়, তেমনি শিক্ষাক্ষেত্রেও ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা ঋণের আওতায় আনা যেতে পারে।

স্বল্প বা নামমাত্র সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে দূরশিক্ষণের সরঞ্জামাদি যেমন- কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ক্ষেত্রবিশেষে মোবাইল ফোন ক্রয়ে ঋণ দেওয়া যেতে পারে। আমেরিকাতে একটি বিরাট সংখ্যক ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যাংক বা স্টেট গভর্মেন্ট থেকে লোন নিয়ে পড়ালেখা শেষ করে এবং চাকরি জীবনে এসে সরকার বা ব্যাংকগুলোকে কিস্তি আকারে তা পরিশোধ করে থাকে।

আমরা অন্তত শিক্ষা উপকরণে এই লোনের ব্যবস্থা করতে পারি। বাংলাদেশে শিক্ষা লোনের ব্যবস্থা ব্যাংকগুলোর আছে বললেও তার বাস্তব বরাদ্দ আমরা তেমন একটা দেখতে পাই না অথবা ছিটেফোঁটা থাকলেও তা সবার জন্য অ্যাক্সিসেবল নয়। এ যোগাযোগ সরঞ্জামাদির আপডেট করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সমতালে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা এখন সময়ের দাবি। না হলে দেশ পিছিয়ে পড়তে পারে।

এবার আসি শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়ন, সফটওয়্যারের ব্যবহারে পারদর্শী করা ও তার সহজলভ্যতা তৈরির বিষয়ে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শুরু করা যেতে পারে; আস্তে আস্তে তা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। ক্যানভাস, ব্ল্যাকবোর্ড, সক্রেটিভ, গুগল ক্লাসরুম, জুম ইত্যাদি অ্যাপের মাধ্যমে দূরশিক্ষণ কার্যক্রম খুব ভালোভাবেই পরিচালনা করা যায়।

এখানে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করা, প্রজেক্ট দেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্ক্রিপ্ট মূল্যায়ন করা, মার্কিং করা, স্টুডেন্ট ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি কাজ অনেক সময় ইন-পার্সন ক্লাসের চেয়ে আরও ভালো করা যায়। চার বছর আগেও আমি আমার ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্টদের সক্রেটিভ অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়েছিলাম এবং শতভাগ স্টুডেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছিল।

এজন্য তাদের পরীক্ষা নেওয়ার আগে থেকে গেজেটস সম্পর্কে তথ্য ও সিস্টেমেটিক ওয়েতে প্রয়োজনীয় ট্রেনিং দিয়ে নিয়েছিলাম। প্যানডেমিকের আগেও আমেরিকার টপ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ অ্যাপসগুলোর মাধ্যমে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করত। এখন মহামারির সময় এগুলোর ব্যবহার আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইন্টারনেট, টেলিভিশন, কমিউনিটি রেডিও কভারেজ ব্যবহার করে সরকার শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করলেও অনেক অদৃশ্য কারণে যেন সবকিছু বন্ধ হয়ে আছে। নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো; একদম সবকিছু বন্ধ করে দেওয়ার চেয়ে, শতভাগ পৌঁছাতে না পারলেও অনলাইন এডুকেশন সচল রাখা উচিত। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করে, অতি দ্রুত কীভাবে তাদের এই শিক্ষার আওতায় আনা যায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে।

তাদের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না বলে- যাদের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে; তাদেরকে বঞ্চিত করার তো কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে কতটা কভারেজ রয়েছে তা জানা থাকলেও উচ্চশিক্ষা তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের কভারেজ কতটা আছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান আমাদের জানা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলগুলো খুলে দেওয়া সম্ভব হলে এই শিক্ষা কার্যক্রম শতভাগ পরিচালনা সম্ভব বলে অনেকেই মনে করেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে হলগুলো খোলা কতটা সম্ভব, তা পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে বলে আমার মনে হয়। চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের মানুষ এই মহামারিতে সবচেয়ে ভালনারেবল। আমাদের ছাত্রছাত্রীদের বয়স ১৮ থেকে ২৫-এর মধ্যে- এটা একটা পজিটিভ বিষয়।

অন্যদিকে হলগুলোর কমন স্পেইসগুলো বন্ধ করে, হাইজিন মেইনটেইন করে অন্যান্য অফিস-আদালত যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালিয়ে যাচ্ছে; সেভাবে করা যায় কিনা, তা ভেবে দেখা যেতে পারে। আসলে হলগুলো রেসিডেনশিয়াল ইউনিভার্সিটির এক একটা শিক্ষা ইউনিট। বিদেশের অভিজ্ঞতা নিয়ে এই শিক্ষা ইউনিটগুলোকে ঢেলে সাজানো যেতে পারে।

একশ বছর আগের একই পরিস্থিতির মুখে আজকের বিশ্ব। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যক্ষ্মায় ইউরোপ আর আমেরিকাতে মারা যেত প্রতি সাতজনে একজন। যক্ষ্মার প্রতিরোধক টিকা আবিষ্কার হয় ১৯২১ সালে, সেই টিকা পৌঁছাতে সময় লেগে যায় আরও বেশ কিছু বছর। ওই পরিস্থিতিতে বাচ্চারা যাতে স্কুলে যেতে পারে, তার সমাধান হিসাবে জন্ম নেয় খোলা মাঠে স্কুলব্যবস্থা।

এই আইডিয়া প্রথম চালু হয় জার্মানি আর বেলজিয়ামে ১৯০৪ সালে। আমেরিকায় খোলা মাঠে শিক্ষাদান শুরু হয় ১৯০৭ সালে। নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, সে বছর রোড আইল্যান্ডের দুজন ডাক্তার প্রস্তাব দেন শহরের খোলা জায়গাগুলোতে স্কুল বসাতে। পরে উঁচু ভবনের ছাদে, খোলা চত্বরে, এমন কী পরিত্যক্ত জায়গায় এই স্কুলিং পরিচালিত হতো।

ভারতশাসিত কাশ্মীরে উন্মুক্ত স্থানে পাঠদান ইতোমধ্যেই একটা সমাধান হিসাবে চালু হয়ে গেছে। সিঙ্গাপুরে বহু বছর ধরেই খোলা আকাশের নিচে লেখাপড়া শেখানোর চল রয়েছে। দেশটি ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্ত করে তোলার জন্য খোলা জায়গায় পাঠদানে সাফল্য পেয়েছে। ফিনল্যান্ডে জঙ্গলে স্কুল বেশ জনপ্রিয়। ডেনমার্কেও উন্মুক্ত স্থানে বিশেষ দিনে ক্লাস করার প্রথা চালু রয়েছে। বহু শিক্ষক ও স্কুল নিয়মিতভাবে এ বিশেষ দিনে বাইরে স্কুল শিক্ষার আয়োজন করেন। ডেনমার্কে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কোভিড-১৯ এর মধ্যে এই সংস্কৃতিকে আরও উৎসাহিত করেছে।

১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বোলপুরে শান্তিনিকেতনে উন্মুক্ত পরিবেশে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; লক্ষ্য ছিল প্রকৃতির সাহচর্যে আদর্শ প্রাকৃতিক পরিবেশে শিশুদের শিক্ষাদান। এমন কী শহরেও এ ধরনের স্কুলের কথা ভাবা যেতে পারে। এ ধরনের স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য পার্ক ও জনসাধারণের জন্য খোলা জায়গা কীভাবে বাড়ানো যায়, সেটাও ভাবা উচিত।

অতিসত্বর ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরিয়ে না আনলে সরকার নিরক্ষরতা দূরীকরণে ইতোমধ্যে যে সফলতা অর্জন করেছে, তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। দেশের ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ছাড়াও ঢাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর হলগুলোতে যারা বসবাস করে, তারা অনেকে টিউশনির মাধ্যমে গ্রামে তাদের পরিবারের আর্থিক জোগানও দিয়ে থাকে।

দীর্ঘসময় মূলস্রোতে না থাকলে তার জব মার্কেটের উপযোগী হয়ে গড়ে ওঠায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এ ছাড়াও অনেক ছাত্রছাত্রী শিক্ষাবিমুখ হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝরে পড়তে পারে, যেটা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে পারে। সমাজে অস্থিরতা, অপরাধপ্রবণতা তথা নেশাদ্রব্যের ব্যবহারসহ অন্যান্য সামাজিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে বলে গবেষকরা ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন। এদের শিক্ষাব্যবস্থায় পুনরায় ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।

পরিশেষে বলতে চাই, প্রায় দেড় বছর ধরে শিক্ষাব্যবস্থায় যে ‘ডেডলক’ হয়ে আছে, তা থেকে শিক্ষা খাতকে উদ্ধার করতে না পারলে যোগ্য ও দক্ষ কর্মশক্তির অভাবে দেশের যে স্লো-পয়জনিং হবে; যা এখন আপাতদৃষ্টিতে দেখা যাচ্ছে না, তা মোকাবিলায় আমরা কতটা প্রস্তুত, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।

মো. কামরুজ্জামান : গবেষক, টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; সহকারী অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

কেমন আছে শিক্ষার্থীরা

 মো. কামরুজ্জামান 
২৪ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রায় দেড় বছর আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তালা ঝুলছে। লকডাউন শুরুর কিছুদিন পর অনলাইনে শিক্ষার কার্যক্রম সচল রাখার কথা বলা হলেও কার্যত কিছুদিনের মধ্যেই সেই ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ে। তথ্যপ্রযুক্তির অপ্রতুলতাকেই অনেকে দায়ী করে থাকেন।

তবে আমি এগুলোর সঙ্গে পুরোপুরি একমত পোষণ করতে পারছি না বলে দুঃখিত। ছাত্রছাত্রীরা ফেসবুক চালাতে পারলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকটিভ থাকতে পারলে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখায় সমস্যা কোথায়, আমার সেটা বুঝে আসে না। যুক্তরাষ্ট্রে লকডাউন চলাকালে সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক করে দেওয়া হয় এবং পুরোপুরি সচল আছে এখন।

আগামী ‘ফল সেমিস্টার’ থেকে শতভাগ ইন-পার্সন ক্লাস শুরু হবে। তবে আপনারা অনেকেই বলতে পারেন- আমেরিকা উন্নত দেশ ও শিক্ষা খাতে প্রচুর বরাদ্দ থাকার কারণে তাদের পক্ষে সম্ভব হলেও আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কথাটির সঙ্গেও আমি একমত হতে অপারগ।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার বলতে আমরা রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট বুঝলেও সামগ্রিকভাবে চিন্তা করলে এটা হচ্ছে যোগাযোগের মহাসড়ক; ইন্টারনেটের সংযোগ এর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। শুধু সড়ক বা ব্রিজ উন্নয়নের চাবিকাঠি নয়। ডাটার যাতায়াতও অনেক সময় মানুষের যাতায়াতের চেয়ে কম গুরুত্ব বহন করে না। যাই হোক, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার সরকারের যে কর্মপরিকল্পনা রয়েছে, সেখানে তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামোর উন্নয়ন অপরিহার্য। ডিজিটালাইজেশন এখন পুরনো শব্দ, মানুষ এখন অনলাইন সুপার হাইওয়ে চায়।

দেশের সেলুলার ফোন কোম্পানিগুলোর যে নেটওয়ার্ক কভারেজ আছে, ওইগুলো ব্যবহার করেও আমরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে পারি। যদিও আমাদের একটা বিশাল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ওই ব্যবস্থাও অপ্রতুল। আসলে সবকিছু প্রায়োরিটি, আপনি কোনটাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন; তার ওপর নির্ভর করবে আপনি তাতে কত বাজেট রাখবেন।

তেমনি সরকারের বেলায়ও একই কথা-বাজেটের আকার ও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দেখলেই বোঝা যাবে, জাতির জন্য শিক্ষাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষাখাতে জিডিপির ২.১০ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। কিন্তু ইউনেস্কো এডুকেশন ফ্রেমওয়ার্ক একটি দেশের জিডিপির সর্বনিু ৪-৬ শতাংশ রাখার পরামর্শ দেয়।

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা শিক্ষা খাতে যথাক্রমে জিডিপির ৩.৮, ৩.৭ ও ৩.৬ শতাংশ ব্যয় করে। উন্নত দেশের কথা না হয় বাদই দিলাম; তারপর আবার বরাবরের মতো শিক্ষা খাতের বরাদ্দ বাড়িয়ে দেখানোর জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এবং তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের বাজেট একত্রিত করে শিক্ষা খাতে দেখানো হয়েছে। এ থেকেই অনুমেয় আমরা কোথায় আছি!

বেসরকারি গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ৫৯.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দূরশিক্ষণে অংশই নিতে পারেনি। এই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে উচ্চশিক্ষায় তথা বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শিথিল করা বা বন্ধ করা অযৌক্তিক বলে আমার মনে হয়। প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের অনলাইনে লেখাপড়ায় যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও গার্ডিয়ানদের সচেতনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অপরদিকে মাধ্যমিক স্তরে ক্যারিয়ার সচেতন না হওয়ার কারণে সেটিও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তুলনা করা সমীচীন হবে না। এ করোনার সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা তৈরি করে শিক্ষা কার্যক্রম; অন্তত তা উচ্চশিক্ষায় সচল রাখা গেলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কম ক্ষতির সম্মুখীন হতো।

এখন অনেকেই মহামারির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের তাগিদ দিচ্ছেন। তথ্যপ্রযুক্তির হাইওয়ে উন্নয়ন ও কম্পিউটারসহ যোগাযোগ মাধ্যমের সহজপ্রাপ্যতা তৈরি করে এ সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া যেতে পারে। কৃষিক্ষেত্রে যেমন ঋণের ব্যবস্থা করা হয়, তেমনি শিক্ষাক্ষেত্রেও ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা ঋণের আওতায় আনা যেতে পারে।

স্বল্প বা নামমাত্র সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে দূরশিক্ষণের সরঞ্জামাদি যেমন- কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ক্ষেত্রবিশেষে মোবাইল ফোন ক্রয়ে ঋণ দেওয়া যেতে পারে। আমেরিকাতে একটি বিরাট সংখ্যক ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যাংক বা স্টেট গভর্মেন্ট থেকে লোন নিয়ে পড়ালেখা শেষ করে এবং চাকরি জীবনে এসে সরকার বা ব্যাংকগুলোকে কিস্তি আকারে তা পরিশোধ করে থাকে।

আমরা অন্তত শিক্ষা উপকরণে এই লোনের ব্যবস্থা করতে পারি। বাংলাদেশে শিক্ষা লোনের ব্যবস্থা ব্যাংকগুলোর আছে বললেও তার বাস্তব বরাদ্দ আমরা তেমন একটা দেখতে পাই না অথবা ছিটেফোঁটা থাকলেও তা সবার জন্য অ্যাক্সিসেবল নয়। এ যোগাযোগ সরঞ্জামাদির আপডেট করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সমতালে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা এখন সময়ের দাবি। না হলে দেশ পিছিয়ে পড়তে পারে।

এবার আসি শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়ন, সফটওয়্যারের ব্যবহারে পারদর্শী করা ও তার সহজলভ্যতা তৈরির বিষয়ে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শুরু করা যেতে পারে; আস্তে আস্তে তা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। ক্যানভাস, ব্ল্যাকবোর্ড, সক্রেটিভ, গুগল ক্লাসরুম, জুম ইত্যাদি অ্যাপের মাধ্যমে দূরশিক্ষণ কার্যক্রম খুব ভালোভাবেই পরিচালনা করা যায়।

এখানে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করা, প্রজেক্ট দেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্ক্রিপ্ট মূল্যায়ন করা, মার্কিং করা, স্টুডেন্ট ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি কাজ অনেক সময় ইন-পার্সন ক্লাসের চেয়ে আরও ভালো করা যায়। চার বছর আগেও আমি আমার ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্টদের সক্রেটিভ অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়েছিলাম এবং শতভাগ স্টুডেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছিল।

এজন্য তাদের পরীক্ষা নেওয়ার আগে থেকে গেজেটস সম্পর্কে তথ্য ও সিস্টেমেটিক ওয়েতে প্রয়োজনীয় ট্রেনিং দিয়ে নিয়েছিলাম। প্যানডেমিকের আগেও আমেরিকার টপ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ অ্যাপসগুলোর মাধ্যমে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করত। এখন মহামারির সময় এগুলোর ব্যবহার আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইন্টারনেট, টেলিভিশন, কমিউনিটি রেডিও কভারেজ ব্যবহার করে সরকার শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করলেও অনেক অদৃশ্য কারণে যেন সবকিছু বন্ধ হয়ে আছে। নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো; একদম সবকিছু বন্ধ করে দেওয়ার চেয়ে, শতভাগ পৌঁছাতে না পারলেও অনলাইন এডুকেশন সচল রাখা উচিত। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করে, অতি দ্রুত কীভাবে তাদের এই শিক্ষার আওতায় আনা যায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে।

তাদের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না বলে- যাদের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে; তাদেরকে বঞ্চিত করার তো কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে কতটা কভারেজ রয়েছে তা জানা থাকলেও উচ্চশিক্ষা তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের কভারেজ কতটা আছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান আমাদের জানা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলগুলো খুলে দেওয়া সম্ভব হলে এই শিক্ষা কার্যক্রম শতভাগ পরিচালনা সম্ভব বলে অনেকেই মনে করেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে হলগুলো খোলা কতটা সম্ভব, তা পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে বলে আমার মনে হয়। চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের মানুষ এই মহামারিতে সবচেয়ে ভালনারেবল। আমাদের ছাত্রছাত্রীদের বয়স ১৮ থেকে ২৫-এর মধ্যে- এটা একটা পজিটিভ বিষয়।

অন্যদিকে হলগুলোর কমন স্পেইসগুলো বন্ধ করে, হাইজিন মেইনটেইন করে অন্যান্য অফিস-আদালত যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালিয়ে যাচ্ছে; সেভাবে করা যায় কিনা, তা ভেবে দেখা যেতে পারে। আসলে হলগুলো রেসিডেনশিয়াল ইউনিভার্সিটির এক একটা শিক্ষা ইউনিট। বিদেশের অভিজ্ঞতা নিয়ে এই শিক্ষা ইউনিটগুলোকে ঢেলে সাজানো যেতে পারে।

একশ বছর আগের একই পরিস্থিতির মুখে আজকের বিশ্ব। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যক্ষ্মায় ইউরোপ আর আমেরিকাতে মারা যেত প্রতি সাতজনে একজন। যক্ষ্মার প্রতিরোধক টিকা আবিষ্কার হয় ১৯২১ সালে, সেই টিকা পৌঁছাতে সময় লেগে যায় আরও বেশ কিছু বছর। ওই পরিস্থিতিতে বাচ্চারা যাতে স্কুলে যেতে পারে, তার সমাধান হিসাবে জন্ম নেয় খোলা মাঠে স্কুলব্যবস্থা।

এই আইডিয়া প্রথম চালু হয় জার্মানি আর বেলজিয়ামে ১৯০৪ সালে। আমেরিকায় খোলা মাঠে শিক্ষাদান শুরু হয় ১৯০৭ সালে। নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, সে বছর রোড আইল্যান্ডের দুজন ডাক্তার প্রস্তাব দেন শহরের খোলা জায়গাগুলোতে স্কুল বসাতে। পরে উঁচু ভবনের ছাদে, খোলা চত্বরে, এমন কী পরিত্যক্ত জায়গায় এই স্কুলিং পরিচালিত হতো।

ভারতশাসিত কাশ্মীরে উন্মুক্ত স্থানে পাঠদান ইতোমধ্যেই একটা সমাধান হিসাবে চালু হয়ে গেছে। সিঙ্গাপুরে বহু বছর ধরেই খোলা আকাশের নিচে লেখাপড়া শেখানোর চল রয়েছে। দেশটি ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্ত করে তোলার জন্য খোলা জায়গায় পাঠদানে সাফল্য পেয়েছে। ফিনল্যান্ডে জঙ্গলে স্কুল বেশ জনপ্রিয়। ডেনমার্কেও উন্মুক্ত স্থানে বিশেষ দিনে ক্লাস করার প্রথা চালু রয়েছে। বহু শিক্ষক ও স্কুল নিয়মিতভাবে এ বিশেষ দিনে বাইরে স্কুল শিক্ষার আয়োজন করেন। ডেনমার্কে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কোভিড-১৯ এর মধ্যে এই সংস্কৃতিকে আরও উৎসাহিত করেছে।

১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বোলপুরে শান্তিনিকেতনে উন্মুক্ত পরিবেশে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; লক্ষ্য ছিল প্রকৃতির সাহচর্যে আদর্শ প্রাকৃতিক পরিবেশে শিশুদের শিক্ষাদান। এমন কী শহরেও এ ধরনের স্কুলের কথা ভাবা যেতে পারে। এ ধরনের স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য পার্ক ও জনসাধারণের জন্য খোলা জায়গা কীভাবে বাড়ানো যায়, সেটাও ভাবা উচিত।

অতিসত্বর ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরিয়ে না আনলে সরকার নিরক্ষরতা দূরীকরণে ইতোমধ্যে যে সফলতা অর্জন করেছে, তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। দেশের ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ছাড়াও ঢাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর হলগুলোতে যারা বসবাস করে, তারা অনেকে টিউশনির মাধ্যমে গ্রামে তাদের পরিবারের আর্থিক জোগানও দিয়ে থাকে।

দীর্ঘসময় মূলস্রোতে না থাকলে তার জব মার্কেটের উপযোগী হয়ে গড়ে ওঠায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এ ছাড়াও অনেক ছাত্রছাত্রী শিক্ষাবিমুখ হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝরে পড়তে পারে, যেটা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে পারে। সমাজে অস্থিরতা, অপরাধপ্রবণতা তথা নেশাদ্রব্যের ব্যবহারসহ অন্যান্য সামাজিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে বলে গবেষকরা ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন। এদের শিক্ষাব্যবস্থায় পুনরায় ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।

পরিশেষে বলতে চাই, প্রায় দেড় বছর ধরে শিক্ষাব্যবস্থায় যে ‘ডেডলক’ হয়ে আছে, তা থেকে শিক্ষা খাতকে উদ্ধার করতে না পারলে যোগ্য ও দক্ষ কর্মশক্তির অভাবে দেশের যে স্লো-পয়জনিং হবে; যা এখন আপাতদৃষ্টিতে দেখা যাচ্ছে না, তা মোকাবিলায় আমরা কতটা প্রস্তুত, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।

মো. কামরুজ্জামান : গবেষক, টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; সহকারী অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন