তার চিন্তাভাবনা ছিল সময়ের চেয়ে অগ্রগামী
jugantor
তার চিন্তাভাবনা ছিল সময়ের চেয়ে অগ্রগামী

  এম এ খালেক  

১৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেখতে দেখতে এক বছর পেরিয়ে গেল- বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা স্বপ্নচারী জনাব নুরুল ইসলাম আমাদের মাঝ থেকে চলে গেছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত বছর ১৩ জুলাই তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। কিছু কিছু মৃত্যু আছে, যা পাহাড়ের চেয়েও ভারি। জাতির কাছে শিল্পোদ্যোক্তা নুরুল ইসলামের মৃত্যু ছিল ঠিক তেমনি। আগামীতে অনেকেই নিজেদের উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তুলবেন, সফলও হবেন। কিন্তু একজন নুরুল ইসলামের অভাব কি পূরণ হবে?

তিনি ছিলেন এমনই এক উদ্যোক্তা, যিনি যেখানেই হাত দিয়েছেন, সোনা ফলেছে। তিনি শুধু একজন ব্যক্তিমাত্র ছিলেন না, তিনি স্বীয় কর্মগুণে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিলেন। অনেকেই গতানুগতিক ধারায় শিল্প স্থাপন করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করেন, কিছুটা সফলও হন। কিন্তু উদ্যোক্তা হিসাবে নুরুল ইসলামের চিন্তাভাবনা ছিল সময়ের চেয়ে অগ্রগামী এবং অত্যন্ত সৃজনশীল।

যমুনা ফিউচার পার্ক ছিল নুরুল ইসলামের স্বপ্নের প্রকল্প। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ও আধুনিক এ শপিংমল স্থাপনের চিন্তা একমাত্র নুরুল ইসলামের কাছ থেকেই প্রত্যাশা করা যায়। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল এবং নিভৃতচারী মানুষ। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও বটে। দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি মিডিয়া হাউজের (যুগান্তর ও যমুনা টিভি) মালিক হওয়া সত্ত্বেও তাকে মিডিয়ার সামনে খুব কমই দেখা গেছে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি নুরুল ইসলামকে চিনতাম না অথবা বলা যায়, তার সঙ্গে আমার পরিচয়ের সুযোগ হয়েছিল শুধু একবার। আমি যুগান্তরে লেখা দেওয়ার জন্য যমুনা ফিউচার পার্কে গিয়েছিলাম। যুগান্তর অফিসে প্রবেশ করতে যাব, এমন সময় সাধারণ পোশাকের কেউ একজন আমাকে ইঙ্গিতে কাছে ডাকলেন। আমি এগিয়ে গেলাম। কোনো কোনো সময় পত্রিকায় তার ছবি দেখেছি। তাই তাকে চিনতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি।

কিন্তু আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, তার মতো দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা এমন সাধারণ পোশাকে থাকতে পারেন। আমি কিছুটা ভয়ও পেয়েছিলাম। কারণ শুনেছি তিনি খুবই মেজাজি মানুষ। তাই কিছুটা দ্বিধা নিয়েই তার কাছে গেলাম। তিনি আমার পরিচয় এবং কোথায় যাব তা জানতে চাইলেন। আমি যুগান্তর পত্রিকায় লেখা দিতে যাব বলার পর তিনি আমার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ অত্যন্ত আন্তরিকভাবে পত্রিকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করলেন। এরপর আমার সঙ্গে তার আর দেখা হয়নি। তবে একবারের সাক্ষাতেই তার প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধ অনেক বেড়ে যায়।

আমি যেহেতু একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকে চাকরি করতাম এবং অর্থনীতি নিয়ে লেখালেখি করি, তাই দেশের উদ্যোক্তা-শিল্পপতিদের সম্পর্কে কিছুটা হলেও খোঁজখবর রাখতে হয়। বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে যতটুক জেনেছি- জনাব নুরুল ইসলাম ঢাকার নবাবগঞ্জে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মতারিখ ৩ মে ১৯৪৬। আমার বাড়ি মানিকগঞ্জে আর নবাবগঞ্জ হচ্ছে মানিকগঞ্জের নিকটবর্তী থানা। সেই হিসাবে নুরুল ইসলামকে আমি নিজের এলাকার মানুষ বলেই মনে করতাম। তার মতো একজন খ্যাতিমান শিল্পোদ্যোক্তার জন্মস্থান আমার জেলার পার্শ্ববর্তী থাকায় অনেক সময়ই গর্ববোধ করেছি।

জনাব নুরুল ইসলাম ১৯৭৪ সালে যমুনা শিল্পগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করেন। যমুনা হচ্ছে মানিকগঞ্জ ও নবাবগঞ্জের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত দেশের একটি বিখ্যাত নদী। নদীর নামে তিনি তার শিল্পগোষ্ঠীর নামকরণ করেছেন। এর মাধ্যমে নিজ এলাকার প্রতি তার মমত্ববোধ ফুটে ওঠে। যমুনা শিল্পগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠার পর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এরপরের গল্প শুধু এগিয়ে যাওয়ার। যমুনা শিল্পগোষ্ঠীর আওতায় বর্তমানে ৪২টিরও বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষভাবে ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে অন্তত ৭ লাখ মানুষের। তার প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট সম্পদের পরিমাণ ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। কোনো মানুষই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। জনাব নুরুল ইসলামকে নিয়েও অনেকবারই নানা সমালোচনা হয়েছে। তবে তিনি তার অভীষ্ঠ লক্ষ্য থেকে কখনোই দূরে সরে যাননি। বিশেষ করে তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে যে বিস্ময়কর অবদান রেখেছেন জাতি তা চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে দেখা যায়, অনেক শিল্পগোষ্ঠী নিজস্ব মিডিয়া হাউজ করে তাদের নানা ধরনের অন্যায়কে চাপা দেওয়ার জন্য। কিন্তু জনাব নুরুল ইসলাম তার মিডিয়া হাউজকে কখনোই ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার মাধ্যমে পরিণত করেননি। তাই তার মালিকানাধীন দুটি মিডিয়া হাউজ (যুগান্তর ও যমুনা টিভি) এত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পাঠক-দর্শক এ দুটি মিডিয়ায় প্রচারিত সংবাদ নিশ্চিতভাবেই বিশ্বাস করেন। অনেক সময় দেখেছি, হাউজের নীতির বিরুদ্ধে লেখা দিলেও তা যথারীতি প্রকাশিত হয়েছে। যুগান্তরে লেখার স্বাধীনতা অন্য অনেক পত্রিকার চেয়ে বেশি।

আমাদের দেশের বড় বড় শিল্পোদ্যোক্তাদের একটি বিষয় অনেকেই লক্ষ করবেন, তারা কোনো না কোনো আর্থিক অনিয়মের মধ্যে জড়িয়ে পড়েন। অনেকেই আছেন ঋণখেলাপি। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে যেখানে পুঁজির চাহিদার তুলনায় জোগানের পরিমাণ খুবই কম, সেখানে উদ্যোক্তাদের বেশিরভাগই নিজেদের উৎস থেকে অর্থায়ন করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেন না। ফলে তাদের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ধরনা দিতে হয়।

একজন নুরুল ইসলামও বিভিন্ন সময় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তিনি কখনো ঋণখেলাপি হয়েছেন এমন অভিযোগ তার চরম শত্রুও করতে পারবেন না। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যে আর্থিক সততা ও স্বচ্ছতা সবসময়ই বজায় রেখেছেন। সামান্য ব্যক্তিস্বার্থের কারণে তিনি নিজের আর্থিক সুনাম ক্ষুণ্ন করেননি। আগামীতে যতদিন যমুনা শিল্পগোষ্ঠী থাকবে, তার এই বিশেষ গুণটি সবাই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবেন।

একজন নুরুল ইসলাম যুগে যুগে আসে না। তারা ক্ষণজন্মা। তাই তাদের অবদান বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা দরকার। জনাব নুরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা প্রয়োজন।

এম এ খালেক : সাবেক ব্যাংকার, অর্থনীতি বিশ্লেষক

তার চিন্তাভাবনা ছিল সময়ের চেয়ে অগ্রগামী

 এম এ খালেক 
১৭ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেখতে দেখতে এক বছর পেরিয়ে গেল- বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা স্বপ্নচারী জনাব নুরুল ইসলাম আমাদের মাঝ থেকে চলে গেছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত বছর ১৩ জুলাই তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। কিছু কিছু মৃত্যু আছে, যা পাহাড়ের চেয়েও ভারি। জাতির কাছে শিল্পোদ্যোক্তা নুরুল ইসলামের মৃত্যু ছিল ঠিক তেমনি। আগামীতে অনেকেই নিজেদের উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তুলবেন, সফলও হবেন। কিন্তু একজন নুরুল ইসলামের অভাব কি পূরণ হবে?

তিনি ছিলেন এমনই এক উদ্যোক্তা, যিনি যেখানেই হাত দিয়েছেন, সোনা ফলেছে। তিনি শুধু একজন ব্যক্তিমাত্র ছিলেন না, তিনি স্বীয় কর্মগুণে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিলেন। অনেকেই গতানুগতিক ধারায় শিল্প স্থাপন করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করেন, কিছুটা সফলও হন। কিন্তু উদ্যোক্তা হিসাবে নুরুল ইসলামের চিন্তাভাবনা ছিল সময়ের চেয়ে অগ্রগামী এবং অত্যন্ত সৃজনশীল।

যমুনা ফিউচার পার্ক ছিল নুরুল ইসলামের স্বপ্নের প্রকল্প। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ও আধুনিক এ শপিংমল স্থাপনের চিন্তা একমাত্র নুরুল ইসলামের কাছ থেকেই প্রত্যাশা করা যায়। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল এবং নিভৃতচারী মানুষ। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও বটে। দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি মিডিয়া হাউজের (যুগান্তর ও যমুনা টিভি) মালিক হওয়া সত্ত্বেও তাকে মিডিয়ার সামনে খুব কমই দেখা গেছে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি নুরুল ইসলামকে চিনতাম না অথবা বলা যায়, তার সঙ্গে আমার পরিচয়ের সুযোগ হয়েছিল শুধু একবার। আমি যুগান্তরে লেখা দেওয়ার জন্য যমুনা ফিউচার পার্কে গিয়েছিলাম। যুগান্তর অফিসে প্রবেশ করতে যাব, এমন সময় সাধারণ পোশাকের কেউ একজন আমাকে ইঙ্গিতে কাছে ডাকলেন। আমি এগিয়ে গেলাম। কোনো কোনো সময় পত্রিকায় তার ছবি দেখেছি। তাই তাকে চিনতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি।

কিন্তু আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, তার মতো দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা এমন সাধারণ পোশাকে থাকতে পারেন। আমি কিছুটা ভয়ও পেয়েছিলাম। কারণ শুনেছি তিনি খুবই মেজাজি মানুষ। তাই কিছুটা দ্বিধা নিয়েই তার কাছে গেলাম। তিনি আমার পরিচয় এবং কোথায় যাব তা জানতে চাইলেন। আমি যুগান্তর পত্রিকায় লেখা দিতে যাব বলার পর তিনি আমার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ অত্যন্ত আন্তরিকভাবে পত্রিকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করলেন। এরপর আমার সঙ্গে তার আর দেখা হয়নি। তবে একবারের সাক্ষাতেই তার প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধ অনেক বেড়ে যায়।

আমি যেহেতু একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকে চাকরি করতাম এবং অর্থনীতি নিয়ে লেখালেখি করি, তাই দেশের উদ্যোক্তা-শিল্পপতিদের সম্পর্কে কিছুটা হলেও খোঁজখবর রাখতে হয়। বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে যতটুক জেনেছি- জনাব নুরুল ইসলাম ঢাকার নবাবগঞ্জে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মতারিখ ৩ মে ১৯৪৬। আমার বাড়ি মানিকগঞ্জে আর নবাবগঞ্জ হচ্ছে মানিকগঞ্জের নিকটবর্তী থানা। সেই হিসাবে নুরুল ইসলামকে আমি নিজের এলাকার মানুষ বলেই মনে করতাম। তার মতো একজন খ্যাতিমান শিল্পোদ্যোক্তার জন্মস্থান আমার জেলার পার্শ্ববর্তী থাকায় অনেক সময়ই গর্ববোধ করেছি।

জনাব নুরুল ইসলাম ১৯৭৪ সালে যমুনা শিল্পগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করেন। যমুনা হচ্ছে মানিকগঞ্জ ও নবাবগঞ্জের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত দেশের একটি বিখ্যাত নদী। নদীর নামে তিনি তার শিল্পগোষ্ঠীর নামকরণ করেছেন। এর মাধ্যমে নিজ এলাকার প্রতি তার মমত্ববোধ ফুটে ওঠে। যমুনা শিল্পগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠার পর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এরপরের গল্প শুধু এগিয়ে যাওয়ার। যমুনা শিল্পগোষ্ঠীর আওতায় বর্তমানে ৪২টিরও বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষভাবে ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে অন্তত ৭ লাখ মানুষের। তার প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট সম্পদের পরিমাণ ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। কোনো মানুষই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। জনাব নুরুল ইসলামকে নিয়েও অনেকবারই নানা সমালোচনা হয়েছে। তবে তিনি তার অভীষ্ঠ লক্ষ্য থেকে কখনোই দূরে সরে যাননি। বিশেষ করে তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে যে বিস্ময়কর অবদান রেখেছেন জাতি তা চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে দেখা যায়, অনেক শিল্পগোষ্ঠী নিজস্ব মিডিয়া হাউজ করে তাদের নানা ধরনের অন্যায়কে চাপা দেওয়ার জন্য। কিন্তু জনাব নুরুল ইসলাম তার মিডিয়া হাউজকে কখনোই ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার মাধ্যমে পরিণত করেননি। তাই তার মালিকানাধীন দুটি মিডিয়া হাউজ (যুগান্তর ও যমুনা টিভি) এত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পাঠক-দর্শক এ দুটি মিডিয়ায় প্রচারিত সংবাদ নিশ্চিতভাবেই বিশ্বাস করেন। অনেক সময় দেখেছি, হাউজের নীতির বিরুদ্ধে লেখা দিলেও তা যথারীতি প্রকাশিত হয়েছে। যুগান্তরে লেখার স্বাধীনতা অন্য অনেক পত্রিকার চেয়ে বেশি।

আমাদের দেশের বড় বড় শিল্পোদ্যোক্তাদের একটি বিষয় অনেকেই লক্ষ করবেন, তারা কোনো না কোনো আর্থিক অনিয়মের মধ্যে জড়িয়ে পড়েন। অনেকেই আছেন ঋণখেলাপি। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে যেখানে পুঁজির চাহিদার তুলনায় জোগানের পরিমাণ খুবই কম, সেখানে উদ্যোক্তাদের বেশিরভাগই নিজেদের উৎস থেকে অর্থায়ন করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেন না। ফলে তাদের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ধরনা দিতে হয়।

একজন নুরুল ইসলামও বিভিন্ন সময় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তিনি কখনো ঋণখেলাপি হয়েছেন এমন অভিযোগ তার চরম শত্রুও করতে পারবেন না। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যে আর্থিক সততা ও স্বচ্ছতা সবসময়ই বজায় রেখেছেন। সামান্য ব্যক্তিস্বার্থের কারণে তিনি নিজের আর্থিক সুনাম ক্ষুণ্ন করেননি। আগামীতে যতদিন যমুনা শিল্পগোষ্ঠী থাকবে, তার এই বিশেষ গুণটি সবাই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবেন।

একজন নুরুল ইসলাম যুগে যুগে আসে না। তারা ক্ষণজন্মা। তাই তাদের অবদান বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা দরকার। জনাব নুরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা প্রয়োজন।

এম এ খালেক : সাবেক ব্যাংকার, অর্থনীতি বিশ্লেষক

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : স্বপ্নদ্রষ্টার মৃত্যু নাই