নীরব ঘাতক হেপাটাইটিস চিকিৎসায় বিলম্ব নয়
jugantor
নীরব ঘাতক হেপাটাইটিস চিকিৎসায় বিলম্ব নয়

  ডা. ফারুক আহমেদ  

২৮ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হেপাটাইটিস লিভারের একটি সংক্রামক ব্যাধি। প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একজন রোগী হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। হেপাটাইটিস একটি নীরব ঘাতক।

তাই সারা বিশ্বের মানুষের মাঝে হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রতিবছর ২৮ জুলাই ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস’ পালিত হয়ে থাকে। এ বছর বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো-‘আর দেরি নয়, হেপাটাইটিস নির্মূলের এখনই সময়’।

একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে সারা বিশ্বে ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১১ লাখ মানুষ মারা গেছেন। বাংলাদেশেও হেপাটাইটিস রোগটির প্রাদুর্ভাব লক্ষণীয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশে প্রায় ১ কোটি হেপাটাইটিস বি ও সি রোগী রয়েছে। এ রোগীদের অধিকাংশই পরে লিভার ক্যানসার অথবা লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। হেপাটাইটিসের এ ভয়াবহতা উপলব্ধি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস নির্মূলের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

হেপাটাইটিস বলতে সাধারণত যকৃতের প্রদাহকে বোঝায়। হেপাটাইটিস নানাবিধ কারণে হতে পারে; কিন্তু যখন এটি ভাইরাসজনিত কারণে হয়ে থাকে, তখন এটিকে আমরা ভাইরাল হেপাটাইটিস বলে থাকি। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ভাইরাল হেপাটাইটিসই রোগীদের বেশি হয়ে থাকে। ভাইরাল হেপাটাইটিস সাধারণত স্বল্পমেয়াদি বা একিউট এবং দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক দুই রকমই হয়ে থাকে। যদি হেপাটাইটিসের মেয়াদ ৬ মাসের চেয়ে কম হয় তাহলে সেটি স্বল্পমেয়াদি হেপাটাইটিস; আর যদি আক্রান্ত ব্যক্তি ৬ মাসের মধ্যে সুস্থ না হয় তাহলে সেটি দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস। ভাইরাল হেপাটাইটিসের জন্য মূলত হেপাটাইটিস এ, বি, সি ও ই ভাইরাসই দায়ী। এগুলোর মধ্যে বি ও সি ভাইরাস দীর্ঘমেয়াদি এবং এ ও ই ভাইরাস স্বল্পমেয়াদি।

হেপাটাইটিস নানা উপায়ে ছড়াতে পারে। স্বল্পমেয়াদি হেপাটাইটিস যেমন-এ ও ই ভাইরাস সাধারণত খাদ্যদ্রব্য, পানীয় জল, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস যেমন-বি ও সি ভাইরাস সাধারণত অবাধ যৌনমিলন, সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ, আক্রান্ত ব্যক্তির রেজার-ব্লেড, অসতর্কভাবে দাঁতের চিকিৎসা, শিরাপথে মাদকসেবন ইত্যাদি উপায়ে সংক্রমিত হয়। শুধু তা-ই নয়, গর্ভবতী মা যদি হেপাটাইটিস বি অথবা সিতে আক্রান্ত হন, তাহলে তার গর্ভের শিশুও হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। কিন্তু আক্রান্ত মায়ের দুগ্ধ পান করলে হেপাটাইটিস বি অথবা সি ছড়ায় না।

কীভাবে বুঝবেন আপনি হেপাটাইটিসে আক্রান্ত? আগেই বলা হয়েছে, হেপাটাইটিস একটি নীরব ঘাতক। কিন্তু কিছু সুনির্দিষ্ট উপসর্গের মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন এ রোগটি আপনার হয়েছে কি না। স্বল্পমেয়াদি হেপাটাইটিস হলে শরীর ব্যথা, প্রস্রাবের রং হলুদ বর্ণ ধারণ করা, ক্ষুধামান্দ্য, অরুচি, বমি-এ ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিসে প্রাথমিক কোনো উপসর্গ থাকে না। রক্ত পরীক্ষা অথবা বিদেশ যাওয়ার পূর্বকালীন চেকআপে হেপাটাইটিস বি অথবা সি-এর সংক্রমণ ধরা পড়ে। আবার অনেকেই পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা অথবা দুর্বলতা বা সাধারণ অসুস্থতা অনুভব করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ভাইরাল হেপাটাইটিস খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের লিভার সিরোসিস অথবা লিভার ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে হেপাটাইটিস শনাক্ত হলে আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বর্তমানে ভাইরাসের উপস্থিতি ও সক্রিয়তা নিরূপণের জন্য নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা রয়েছে, যার মাধ্যমে রোগীর শরীরে ভাইরাসের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে লিভার সিরোসিস নিয়েও সুস্থ থাকা সম্ভব। দেশে বর্তমানে হেপাটাইটিস বি ও সি-এর সর্বাধুনিক চিকিৎসা সম্ভব। হেপাটাইটিস বি-এর চিকিৎসায় টেনোফোভির, এন্টেকাভির এবং হেপাটাইটিস সি-এর চিকিৎসায় সফোসবুভির, ভেলপাটাসভির, গ্লেকাপ্রেভির-পিব্রেন্টাসভির ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহৃত হচ্ছে, যেগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণিত। অনেকেই হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়ে ঝাড়ফুঁক, হোমিওপ্যাথি, কবিরাজি চিকিৎসকের কাছে যান, যেগুলো অকার্যকর। তাই সচেতন হোন এবং এদের থেকে দূরে থাকুন। নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মাধ্যমে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগীও সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সক্ষম। হেপাটাইটিস বি ও সি প্রতিরোধে নিম্নোক্ত জীবনাচারণগুলো অনুসরণ করা জরুরি-

অবাধ যৌনমিলন ও সমকামিতা প্রতিরোধ করতে হবে। অনিরাপদ যৌন সংসর্গ বর্জন করতে হবে। রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে সঠিক নিয়মে স্ক্রিনিং করতে হবে। অন্যের ব্যবহৃত ক্ষুর, রেজার, ব্রাশ এগুলোর ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। দাঁতের চিকিৎসার সময় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। গর্ভবতী মহিলাদের হেপাটাইটিস বি ও সি পরীক্ষা করাতে হবে এবং যদি হেপাটাইটিস থাকে, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শমতো চিকিৎসা নিতে হবে। টিকা গ্রহণের মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি ও এ ভাইরাস প্রতিরোধ সম্ভব।

আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে সুচিকিৎসার মাধ্যমে হেপাটাইটিস সম্পূর্ণ নিরাময় এবং অনিরাময়যোগ্য জটিলতাবিহীন স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। হেপাটাইটিস আক্রান্ত হলেই কেউ বিদেশযাত্রায় অযোগ্য নয়, সঠিক চিকিৎসা গ্রহণে হেপাটাইটিস আক্রান্ত ব্যক্তিও সুস্থ হয়ে বিদেশ যেতে পারবেন।

এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় অনুযায়ী নিচের বিষয়গুলো ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস নির্মূলে যথাযথ ভূমিকা রাখবে।

Hepatitis cant’s wait- হেপাটাইটিস আর অপেক্ষা নয়। হেপাটাইটিসে আক্রান্ত অজানা রোগী শনাক্তে পরীক্ষা করতে আর অপেক্ষা নয়। হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগীদের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসায় আর অপেক্ষা নয়। প্রসূতি মায়েদের হেপাটাইটিস শনাক্তে পরীক্ষা ও চিকিৎসায় আর অপেক্ষা নয়। নবজাতক শিশু জন্মের পর পর হেপাটাইটিস বি-এর টিকা দেওয়ায় আর অপেক্ষা নয়। হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগীদের লজ্জা ও বৈষম্য দূর করতে আর অপেক্ষা নয়। সামাজিক সংগঠনগুলোর হেপাটাইটিস নির্মূলে ব্যাপক বিনিয়োগে আর অপেক্ষা নয়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে হেপাটাইটিস নির্মূলে বৃহত্তর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে আর অপেক্ষা নয়।

ডা. ফারুক আহমেদ : বিভাগীয় প্রধান, লিভার বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ

নীরব ঘাতক হেপাটাইটিস চিকিৎসায় বিলম্ব নয়

 ডা. ফারুক আহমেদ 
২৮ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হেপাটাইটিস লিভারের একটি সংক্রামক ব্যাধি। প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একজন রোগী হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। হেপাটাইটিস একটি নীরব ঘাতক।

তাই সারা বিশ্বের মানুষের মাঝে হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রতিবছর ২৮ জুলাই ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস’ পালিত হয়ে থাকে। এ বছর বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো-‘আর দেরি নয়, হেপাটাইটিস নির্মূলের এখনই সময়’।

একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে সারা বিশ্বে ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১১ লাখ মানুষ মারা গেছেন। বাংলাদেশেও হেপাটাইটিস রোগটির প্রাদুর্ভাব লক্ষণীয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশে প্রায় ১ কোটি হেপাটাইটিস বি ও সি রোগী রয়েছে। এ রোগীদের অধিকাংশই পরে লিভার ক্যানসার অথবা লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। হেপাটাইটিসের এ ভয়াবহতা উপলব্ধি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস নির্মূলের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

হেপাটাইটিস বলতে সাধারণত যকৃতের প্রদাহকে বোঝায়। হেপাটাইটিস নানাবিধ কারণে হতে পারে; কিন্তু যখন এটি ভাইরাসজনিত কারণে হয়ে থাকে, তখন এটিকে আমরা ভাইরাল হেপাটাইটিস বলে থাকি। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ভাইরাল হেপাটাইটিসই রোগীদের বেশি হয়ে থাকে। ভাইরাল হেপাটাইটিস সাধারণত স্বল্পমেয়াদি বা একিউট এবং দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক দুই রকমই হয়ে থাকে। যদি হেপাটাইটিসের মেয়াদ ৬ মাসের চেয়ে কম হয় তাহলে সেটি স্বল্পমেয়াদি হেপাটাইটিস; আর যদি আক্রান্ত ব্যক্তি ৬ মাসের মধ্যে সুস্থ না হয় তাহলে সেটি দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস। ভাইরাল হেপাটাইটিসের জন্য মূলত হেপাটাইটিস এ, বি, সি ও ই ভাইরাসই দায়ী। এগুলোর মধ্যে বি ও সি ভাইরাস দীর্ঘমেয়াদি এবং এ ও ই ভাইরাস স্বল্পমেয়াদি।

হেপাটাইটিস নানা উপায়ে ছড়াতে পারে। স্বল্পমেয়াদি হেপাটাইটিস যেমন-এ ও ই ভাইরাস সাধারণত খাদ্যদ্রব্য, পানীয় জল, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস যেমন-বি ও সি ভাইরাস সাধারণত অবাধ যৌনমিলন, সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ, আক্রান্ত ব্যক্তির রেজার-ব্লেড, অসতর্কভাবে দাঁতের চিকিৎসা, শিরাপথে মাদকসেবন ইত্যাদি উপায়ে সংক্রমিত হয়। শুধু তা-ই নয়, গর্ভবতী মা যদি হেপাটাইটিস বি অথবা সিতে আক্রান্ত হন, তাহলে তার গর্ভের শিশুও হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। কিন্তু আক্রান্ত মায়ের দুগ্ধ পান করলে হেপাটাইটিস বি অথবা সি ছড়ায় না।

কীভাবে বুঝবেন আপনি হেপাটাইটিসে আক্রান্ত? আগেই বলা হয়েছে, হেপাটাইটিস একটি নীরব ঘাতক। কিন্তু কিছু সুনির্দিষ্ট উপসর্গের মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন এ রোগটি আপনার হয়েছে কি না। স্বল্পমেয়াদি হেপাটাইটিস হলে শরীর ব্যথা, প্রস্রাবের রং হলুদ বর্ণ ধারণ করা, ক্ষুধামান্দ্য, অরুচি, বমি-এ ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিসে প্রাথমিক কোনো উপসর্গ থাকে না। রক্ত পরীক্ষা অথবা বিদেশ যাওয়ার পূর্বকালীন চেকআপে হেপাটাইটিস বি অথবা সি-এর সংক্রমণ ধরা পড়ে। আবার অনেকেই পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা অথবা দুর্বলতা বা সাধারণ অসুস্থতা অনুভব করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ভাইরাল হেপাটাইটিস খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের লিভার সিরোসিস অথবা লিভার ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে হেপাটাইটিস শনাক্ত হলে আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বর্তমানে ভাইরাসের উপস্থিতি ও সক্রিয়তা নিরূপণের জন্য নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা রয়েছে, যার মাধ্যমে রোগীর শরীরে ভাইরাসের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে লিভার সিরোসিস নিয়েও সুস্থ থাকা সম্ভব। দেশে বর্তমানে হেপাটাইটিস বি ও সি-এর সর্বাধুনিক চিকিৎসা সম্ভব। হেপাটাইটিস বি-এর চিকিৎসায় টেনোফোভির, এন্টেকাভির এবং হেপাটাইটিস সি-এর চিকিৎসায় সফোসবুভির, ভেলপাটাসভির, গ্লেকাপ্রেভির-পিব্রেন্টাসভির ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহৃত হচ্ছে, যেগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণিত। অনেকেই হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়ে ঝাড়ফুঁক, হোমিওপ্যাথি, কবিরাজি চিকিৎসকের কাছে যান, যেগুলো অকার্যকর। তাই সচেতন হোন এবং এদের থেকে দূরে থাকুন। নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মাধ্যমে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগীও সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সক্ষম। হেপাটাইটিস বি ও সি প্রতিরোধে নিম্নোক্ত জীবনাচারণগুলো অনুসরণ করা জরুরি-

অবাধ যৌনমিলন ও সমকামিতা প্রতিরোধ করতে হবে। অনিরাপদ যৌন সংসর্গ বর্জন করতে হবে। রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে সঠিক নিয়মে স্ক্রিনিং করতে হবে। অন্যের ব্যবহৃত ক্ষুর, রেজার, ব্রাশ এগুলোর ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। দাঁতের চিকিৎসার সময় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। গর্ভবতী মহিলাদের হেপাটাইটিস বি ও সি পরীক্ষা করাতে হবে এবং যদি হেপাটাইটিস থাকে, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শমতো চিকিৎসা নিতে হবে। টিকা গ্রহণের মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি ও এ ভাইরাস প্রতিরোধ সম্ভব।

আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে সুচিকিৎসার মাধ্যমে হেপাটাইটিস সম্পূর্ণ নিরাময় এবং অনিরাময়যোগ্য জটিলতাবিহীন স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। হেপাটাইটিস আক্রান্ত হলেই কেউ বিদেশযাত্রায় অযোগ্য নয়, সঠিক চিকিৎসা গ্রহণে হেপাটাইটিস আক্রান্ত ব্যক্তিও সুস্থ হয়ে বিদেশ যেতে পারবেন।

এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় অনুযায়ী নিচের বিষয়গুলো ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস নির্মূলে যথাযথ ভূমিকা রাখবে।

Hepatitis cant’s wait- হেপাটাইটিস আর অপেক্ষা নয়। হেপাটাইটিসে আক্রান্ত অজানা রোগী শনাক্তে পরীক্ষা করতে আর অপেক্ষা নয়। হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগীদের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসায় আর অপেক্ষা নয়। প্রসূতি মায়েদের হেপাটাইটিস শনাক্তে পরীক্ষা ও চিকিৎসায় আর অপেক্ষা নয়। নবজাতক শিশু জন্মের পর পর হেপাটাইটিস বি-এর টিকা দেওয়ায় আর অপেক্ষা নয়। হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগীদের লজ্জা ও বৈষম্য দূর করতে আর অপেক্ষা নয়। সামাজিক সংগঠনগুলোর হেপাটাইটিস নির্মূলে ব্যাপক বিনিয়োগে আর অপেক্ষা নয়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে হেপাটাইটিস নির্মূলে বৃহত্তর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে আর অপেক্ষা নয়।

ডা. ফারুক আহমেদ : বিভাগীয় প্রধান, লিভার বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন