জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা জরুরি
jugantor
জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা জরুরি

  মো. শফিউল আলম  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমানে যে শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে, সেটি জীবনবিমুখ শিক্ষাব্যবস্থা। এতে জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠদান করা হয় না। ফলে দক্ষ জনশক্তির অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বেকারত্বও প্রকট আকার ধারণ করছে। সম্প্রতি শিক্ষাব্যবস্থায় যে পরিবর্তন আনার কথা বলা হচ্ছে, তা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবন ও জাতি গঠনে কতটুকু ভূমিকা রাখবে, তা কোর্স কারিকুলাম প্রকাশিত হওয়ার পর বোঝা যাবে। গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি, প্রাথমিক শ্রেণিতে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকবে না। এটি খুবই ইতিবাচক। আমাদের দেশে পরীক্ষা মানেই মানসিক টর্চার। এ টর্চারের ফলে শিশুর মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়। তাছাড়া পরীক্ষা মানেই মুখস্থবিদ্যা। এতে সৃজনশীলতার বিকাশও ব্যাহত হয়। তবে পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ছিল শিখন ফল যাচাই করা। এগুলো শ্রেণিকক্ষে যাচাই করা হয়ে থাকে। কারণ ক্লাসে পর্যবেক্ষণ মেথড, মোরাল মেথড, চেকলিস্ট পদ্ধতিতেই সঠিক শিক্ষণ ফল যাচাই করা যায়। কিন্তু এগুলোর ওপর আস্থা নেই। একটি শিশুর শিক্ষার শুরুই হয় আস্থাহীনতার মধ্যে দিয়ে। ফলে এ শিক্ষা দিয়ে প্রকৃত দায়িত্ববান নাগরিক তৈরি হওয়া সম্ভব নয়।

সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিও এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদেরও এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এজন্য শিক্ষা কারিকুলাম যুগোপযোগী করা অতীব জরুরি। নতুন প্রজন্মকে যুগোপযোগী শিক্ষা দিতে হলে প্রধানমন্ত্রীর এ কথার বাস্তবায়ন জরুরি। বর্তমানে দেশে উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় বেকারত্ব। এটি নিরসনে জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। এটিই পারে বেকারত্বের পথ নিরসন করতে। শিক্ষায় এসএসসির আগে বিভাগের বিভাজন নয়, এটি যদি বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনের উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে তা খুবই ইতিবাচক। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন-দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে ৭০ শতাংশ কারিগরি এবং ৩০ শতাংশ সাধারণ শিক্ষাপদ্ধতি চালু করা হবে। প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রমে অবশ্যই এটির বাস্তব প্রয়োগ থাকা উচিত। তবেই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের তরুণ প্রজন্ম সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারবে বলে বিশ্বাস করি।

মো. শফিউল আলম : অধ্যক্ষ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ

জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা জরুরি

 মো. শফিউল আলম 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমানে যে শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে, সেটি জীবনবিমুখ শিক্ষাব্যবস্থা। এতে জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠদান করা হয় না। ফলে দক্ষ জনশক্তির অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বেকারত্বও প্রকট আকার ধারণ করছে। সম্প্রতি শিক্ষাব্যবস্থায় যে পরিবর্তন আনার কথা বলা হচ্ছে, তা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবন ও জাতি গঠনে কতটুকু ভূমিকা রাখবে, তা কোর্স কারিকুলাম প্রকাশিত হওয়ার পর বোঝা যাবে। গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি, প্রাথমিক শ্রেণিতে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকবে না। এটি খুবই ইতিবাচক। আমাদের দেশে পরীক্ষা মানেই মানসিক টর্চার। এ টর্চারের ফলে শিশুর মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়। তাছাড়া পরীক্ষা মানেই মুখস্থবিদ্যা। এতে সৃজনশীলতার বিকাশও ব্যাহত হয়। তবে পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ছিল শিখন ফল যাচাই করা। এগুলো শ্রেণিকক্ষে যাচাই করা হয়ে থাকে। কারণ ক্লাসে পর্যবেক্ষণ মেথড, মোরাল মেথড, চেকলিস্ট পদ্ধতিতেই সঠিক শিক্ষণ ফল যাচাই করা যায়। কিন্তু এগুলোর ওপর আস্থা নেই। একটি শিশুর শিক্ষার শুরুই হয় আস্থাহীনতার মধ্যে দিয়ে। ফলে এ শিক্ষা দিয়ে প্রকৃত দায়িত্ববান নাগরিক তৈরি হওয়া সম্ভব নয়।

সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিও এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদেরও এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এজন্য শিক্ষা কারিকুলাম যুগোপযোগী করা অতীব জরুরি। নতুন প্রজন্মকে যুগোপযোগী শিক্ষা দিতে হলে প্রধানমন্ত্রীর এ কথার বাস্তবায়ন জরুরি। বর্তমানে দেশে উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় বেকারত্ব। এটি নিরসনে জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। এটিই পারে বেকারত্বের পথ নিরসন করতে। শিক্ষায় এসএসসির আগে বিভাগের বিভাজন নয়, এটি যদি বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনের উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে তা খুবই ইতিবাচক। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন-দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে ৭০ শতাংশ কারিগরি এবং ৩০ শতাংশ সাধারণ শিক্ষাপদ্ধতি চালু করা হবে। প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রমে অবশ্যই এটির বাস্তব প্রয়োগ থাকা উচিত। তবেই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের তরুণ প্রজন্ম সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারবে বলে বিশ্বাস করি।

মো. শফিউল আলম : অধ্যক্ষ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন