শিক্ষার্থীরা মানসিক টর্চার থেকে রেহাই পাবে
jugantor
শিক্ষার্থীরা মানসিক টর্চার থেকে রেহাই পাবে

  মুনতাসীর আহম্মেদ  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাথমিক পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা পদ্ধতি তুলে দিলে শিক্ষার্থীরা মানসিক টর্চার থেকে রেহাই পাবে। অভিভাবকদের অশুভ প্রতিযোগিতার অবসান হবে। কারণ আমরা দেখেছি, সন্তানদের ক্লাসে ফার্স্ট বানানোর জন্য অভিভাবকরা শিক্ষকদের প্রতিও আস্থাহীন হয়ে পড়েন। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের ওপর প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করা হয়। তারাও অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও টিয়া পাখির মতো পড়া মুখস্থ করতে বাধ্য হয়। অথচ উচিত ছিল তাদেরকে আনন্দ দিয়ে পাঠদান করা।

তবে পরীক্ষা না থাকলেও শিক্ষার্থীদের শিখন ফল ঠিকই মূল্যায়িত হবে। কিন্তু সেটা শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করে নয়। যেমন: ক্লাস টেস্ট, অ্যাসাইনমেন্ট। সরকার শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সেটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তাছাড়া এ নতুন শিক্ষাক্রম কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নির্ভর করছে শিক্ষকদের আন্তরিকতার ওপর। শিক্ষকরা উদাসীন হলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

নবম-দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের উপকার হবে। প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতিতে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের একজন শিক্ষার্থী বিজ্ঞানে জ্ঞান আহরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী ব্যবসায় শিক্ষা পাচ্ছে না। এতে একজন শিক্ষার্থী প্রকৃত দক্ষ ও যোগ্য হয়ে উঠছে না। বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা দক্ষ ও যোগ্য হয়ে গড়ে উঠবে। তাছাড়া কোনো শিক্ষার্থী যদি বিশেষ কোনো বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করতে চায়, সেটিরও সুযোগ থাকছে এইচএসসি লেভেলে। এইচএসসিতে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেটিও শিক্ষার্থীবান্ধব। এতে শিক্ষার্থীদের অনেক উপকার হবে। কারণ প্রথম বর্ষের পরীক্ষা প্রথম বছরেই হবে। আবার দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা পৃথকভাবে হবে। ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে অনেকাংশে চাপ কমবে।

মুনতাসীর আহম্মেদ : অধ্যক্ষ, রাজশাহী ল্যাবরেটরি স্কুল

শিক্ষার্থীরা মানসিক টর্চার থেকে রেহাই পাবে

 মুনতাসীর আহম্মেদ 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাথমিক পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা পদ্ধতি তুলে দিলে শিক্ষার্থীরা মানসিক টর্চার থেকে রেহাই পাবে। অভিভাবকদের অশুভ প্রতিযোগিতার অবসান হবে। কারণ আমরা দেখেছি, সন্তানদের ক্লাসে ফার্স্ট বানানোর জন্য অভিভাবকরা শিক্ষকদের প্রতিও আস্থাহীন হয়ে পড়েন। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের ওপর প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করা হয়। তারাও অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও টিয়া পাখির মতো পড়া মুখস্থ করতে বাধ্য হয়। অথচ উচিত ছিল তাদেরকে আনন্দ দিয়ে পাঠদান করা।

তবে পরীক্ষা না থাকলেও শিক্ষার্থীদের শিখন ফল ঠিকই মূল্যায়িত হবে। কিন্তু সেটা শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করে নয়। যেমন: ক্লাস টেস্ট, অ্যাসাইনমেন্ট। সরকার শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সেটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তাছাড়া এ নতুন শিক্ষাক্রম কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নির্ভর করছে শিক্ষকদের আন্তরিকতার ওপর। শিক্ষকরা উদাসীন হলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

নবম-দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের উপকার হবে। প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতিতে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের একজন শিক্ষার্থী বিজ্ঞানে জ্ঞান আহরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী ব্যবসায় শিক্ষা পাচ্ছে না। এতে একজন শিক্ষার্থী প্রকৃত দক্ষ ও যোগ্য হয়ে উঠছে না। বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা দক্ষ ও যোগ্য হয়ে গড়ে উঠবে। তাছাড়া কোনো শিক্ষার্থী যদি বিশেষ কোনো বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করতে চায়, সেটিরও সুযোগ থাকছে এইচএসসি লেভেলে। এইচএসসিতে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেটিও শিক্ষার্থীবান্ধব। এতে শিক্ষার্থীদের অনেক উপকার হবে। কারণ প্রথম বর্ষের পরীক্ষা প্রথম বছরেই হবে। আবার দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা পৃথকভাবে হবে। ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে অনেকাংশে চাপ কমবে।

মুনতাসীর আহম্মেদ : অধ্যক্ষ, রাজশাহী ল্যাবরেটরি স্কুল

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন