শিক্ষা সংস্কারের চ্যালেঞ্জ আমাদের করণীয়
jugantor
শিক্ষা সংস্কারের চ্যালেঞ্জ আমাদের করণীয়

  ড. মো. আকতারুজ্জামান  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মানবসভ্যতার প্রথম দিন থেকেই জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের প্রক্রিয়া চলে আসছে। জ্ঞানের ব্যাপ্তি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার তিনটি মূল উপাদান-শিক্ষণ (টিচিং), শেখা (লার্নিং) ও মূল্যায়ন (অ্যাসেসমেন্ট) আরও আনুষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত হয়ে ওঠে।

শেখাকে আমরা যা শুনি, দেখি বা অনুভব করি তার প্রক্রিয়াকরণ ও আত্তীকরণ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়, যা আমাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মনোভাবকে পরিবর্তন করে বা উন্নত করে। শিক্ষণ হলো শেখার প্রতি আদেশ, উদ্দীপনা, নির্দেশনা ও উৎসাহের সংযোজন। আর শিক্ষার্থীদের শেখার মূল্যায়ন হলো সেই প্রক্রিয়া যেখানে শিক্ষার্থীদের শেখার বিষয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয় এবং কিছু মানদণ্ডের নিরিখে তা বিচার করা হয়।

মূল্যায়নের আধুনিক ধারণা শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক, বিষয়বস্তুকেন্দ্রিক নয়। এটি সন্তানের মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা ও আগ্রহ পূরণ করে এবং শিক্ষণের চেয়ে শেখার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা শিক্ষার্থীদের চাহিদা, যোগ্যতা, উদ্ভাবনী শিক্ষণ, মূল্যায়ন কৌশল ইত্যাদির চেয়ে বেশি বিষয়বস্তু শিক্ষণে আগ্রহী।

তাই প্রায়ই দেখা যায়, শিশুদের বই এবং আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের ওজন তাদের নিজস্ব ওজনের চেয়ে বেশি হয়, যাদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তি একেবারে থাকে না বললেই চলে। ইউএনডিপি পরিচালিত গ্লোবাল নলেজ ইনডেক্স ২০২০-এর জরিপেও এ বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে ১৩৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১২তম।

সরকার সম্প্র্রতি উচ্চমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে (এইচএসপিই) প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নতুন কারিকুলাম অনুমোদন দিয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির আগে কোনো পরীক্ষা নেই এবং দশম শ্রেণির পাঁচটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এসএসসি এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পরে দুটি আলাদা পরীক্ষার ফলাফল একত্রিত করে এইচএসসি পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

নবম শ্রেণির পরিবর্তে একাদশ শ্রেণিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা মূল তিনটি কোর্স-বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটির পাশাপাশি বিজ্ঞান, মানবিক বা ব্যবসায়িক ধারা থেকে আরও তিনটি এবং কারিগরি থেকে একটি মোট চারটি ঐচ্ছিক কোর্স নিতে পারবে। এর বাস্তবায়ন পর্যায়ক্রমে ২০২৩ সাল থেকে এবং পাইলটিং ২০২২ সাল থেকে শুরু হচ্ছে। গত ২০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে অনুরূপ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

অবশ্যই এটি একটি ভালো শুরু; তবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, শিক্ষার্থীদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং এর জন্য আমাদের শিক্ষকরা পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার ওপর ভালোভাবে প্রশিক্ষিত। এখন যদি দেশকে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে সফল হতে হয়, তাহলে ইতোমধ্যেই যারা এটি বাস্তবায়ন করেছে সেই দেশগুলোর অন্তর্নিহিত পলিসি এবংও প্র্যাকটিসগুলো অনুসরণ করতে হবে, অন্যথায় এ রূপান্তরটির ফলাফল শূন্য হতে পারে, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে খারাপ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

আজকের প্রেক্ষাপটে দুই ধরনের মূল্যায়ন প্রাসঙ্গিক-প্রথমত, ধারাবাহিক বা গঠনমূলক মূল্যায়ন যা শিক্ষণের সময় শেখার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে এবং ছাত্র ও শিক্ষক উভয়েরই কাছে ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া প্রদান করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কুইজ, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রকল্প, উপস্থাপনা, মধ্যবর্তী পরীক্ষা (আনুষ্ঠানিক উপায়ে নয়)। দ্বিতীয়ত, সামষ্টিক মূল্যায়ন যা একটি কোর্স বা ইউনিটের শেষে হয় এবং প্রচলিত অর্থে মানুষকে প্রত্যয়ন করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা।

উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর বেশি মনোনিবেশ করে, যেখানে আমরা সামষ্টিক পরীক্ষার ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল, যা মুখস্থ বিদ্যার মতো খারাপ অভ্যাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমাদের অবশ্যই এটিকে একটি মূল্যায়ন পদ্ধতি দ্বারা প্রতিস্থাপন করতে হবে, যা যুগপৎ, পারফরম্যান্সভিত্তিক ও গঠনমূলক; হতে পারে সেটাই এই নতুন কারিকুলামের ভিত্তি।

নতুন কারিকুলাম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য আমাদের নীতিনির্ধারকদের অবিলম্বে নিুলিখিত পলিসি ও প্র্যাকটিসগুলোর বিষয়ে মনোযোগ প্রয়োজন, যা এদেশে অনেকটাই অনুপস্থিত।

ক. উন্নত বিশ্বের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্কুল অব এডুকেশন বা ফ্যাকাল্টি অব এডুকেশন বা গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশন রয়েছে, যারা কেবল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক তৈরি করতে পারে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত তিনটি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে-শৈশবের শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা এবং মাধ্যমিক/উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা।

উন্নত দেশে এই প্রোগ্রামগুলোয় সরকার সরাসরি অর্থায়ন করে, যেখানে অন্যান্য প্রোগ্রামে পড়ার সময় শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর ৩০-৫০ হাজার ডলার টিউশন ফি দিতে হয়। দেশে শিক্ষা সম্পর্কিত হাতেগোনা কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যদিও তাদের লক্ষ্যগুলো পৃথিবীর সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বিশেষ করে ব্লেন্ডেড, অনলাইন ও ডিজিটাল (বোল্ড) শিক্ষার যুগে।

খ. শিক্ষা সম্পর্কিত ইনস্টিটিউটগুলো প্রধানত কোর্সের বিষয়বস্তু বা এমনকি সাবজেক্ট বিষয়ে দক্ষতার পরিবর্তে উদ্ভাবনী শিক্ষণ, শেখা ও মূল্যায়ন পদ্ধতির ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। কী শেখানোর পরিবর্তে কীভাবে শেখানো যায়-এটি সেই বিষয়ে তাদের মনোযোগ দেয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাধ্যমিক শিক্ষার ওপর মাস্টার্স প্রোগ্রামে ১৬টি কোর্স রয়েছে, যার মধ্যে ১০টি মূল কোর্স, দুটি পেশাগত অনুশীলন কোর্স ৬০ দিনের জন্য সরসরি স্কুলে গিয়ে এবং দুটি বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জনের জন্য দুটি করে মোট চারটি কোর্স নিতে হয় বিজ্ঞান, গণিত, আইটি, ভিজ্যুয়াল আর্ট ইত্যাদি এরিয়া থেকে।

এই প্রোগ্রামের মূল কোর্সের মধ্যে কারিকুলাম ও পেডাগজি বিষয়ক ৬টি কোর্স রয়েছে-ফাউন্ডেশন, পরিকল্পনা, মূল্যায়ন, প্রথম স্পেশালাইজেশন এরিয়া (যেমন গণিত), দ্বিতীয় স্পেশালাইজেশন এরিয়া (যেমন বিজ্ঞান), এবং লার্নিং প্রজেক্ট। এ ছাড়া রয়েছে ডিজিটাল পেডাগজি, শিশু ও কিশোর বিকাশ, কালচারাল স্টাডিজ, বিভিন্ন শিক্ষার্থীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষণ, নেতা এবং উদ্যোক্তা চিন্তাবিদ হিসাবে শিক্ষক ইত্যাদি মানের কোর্স।

এখন আমাদের শিক্ষকরা তাদের মাস্টার্স প্রোগ্রামে যা পড়েন, তার সঙ্গে এই প্রোগ্রামটির তুলনা করুন, অনেক ভিন্নতা খুঁজে পাবেন। এ জন্যই আমরা ক্রমাগত শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছি। সমস্যার মূলে না গিয়ে সারফেস লেভেলে চিন্তা করলে কখনোই ভালো ফল আসবে না।

গ. ধরুন পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি সম্পন্ন একজন গ্রাজুয়েটের কথা। উন্নত দেশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পদার্থবিজ্ঞান পড়ানোর সুযোগ তিনি কখনোই পাবেন না, যতক্ষণ না তার একটি টিচিং কোয়ালিফিকেশন থাকবে, যেমন মাস্টার অফ টিচিং (সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে দুই মাসের অভিজ্ঞতাসহ)। বাংলাদেশে একজন গ্র্যাজুয়েট পাশ করার পরপরই একজন শিক্ষক হওয়ার সুযোগ পান, যা উন্নত দেশে কখনোই সম্ভব নয়। আমাদের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যদিও বিএড বা এমএড প্রোগ্রাম আছে, কিন্তু সেগুলো বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও প্র্যাকটিসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ঘ. অনেকেই জিজ্ঞাসা করতে পারেন, কেন একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক হিসাবে কাজ করবে? উন্নত দেশগুলো উচ্চমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের সম্মান ও বেতনের দিক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান বলে মনে করে, যা বাংলাদেশেও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ঙ. উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষকদের পেশাদার লাইসেন্সিং এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়। যে কোনো একাডেমিক অসদাচরণ, যৌন হয়রানি, পেশাদারিত্ব ও নীতিশাস্ত্রের ব্যত্যয় ঘটে এমন কার্যকলাপ অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হয়। দোষী সাব্যস্ত হলে কোনো ব্যক্তি কখনো লাইসেন্স পাবে না। ফলে যে কোনো স্তরে শিক্ষক হিসাবে কাজ করার তার আর সুযোগ থাকে না।

চ. প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থায় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মতোই ব্যর্থ হয়, যা তাদের সৃজনশীলতা ও বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। শিক্ষার্থীদের যেমন ব্যক্তিগত কৃত বিষয়বস্তু ও মূল্যায়নের প্রয়োজন, তেমনি শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা-বিকাশের প্রয়োজন। একজন শিক্ষার্থী কীভাবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করবে, যদি শিক্ষকের নিজেরই সেই দক্ষতা না থাকে? শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ অনেক দক্ষতা অর্জন করা জরুরি যেমন কলাবোরেশন, সহপাঠীদের মাধ্যমে শেখা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং উপযুক্ত পেডাগজি।

ছ. ২০২১ সালের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে এটুআই’র পলিসি উপদেষ্টা অনির চৌধুরী বলেছেন, শিক্ষার্থীরা কিছু শিখেছে কিনা তা না জেনে শেখানো অর্থহীন একটি ব্যায়াম বৈকি। আমাদের অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে ঠিক আছে; কিন্তু আজ পর্যন্ত আমরা যে পদ্ধতিতে এটি করছি তার পরিবর্তন দরকার। প্রচলিত মূল্যায়ন সব সিস্টেমের জন্য একই সমাধানের নামান্তর।

এর পরিবর্তে আমাদের এমন সব বিষয় বিবেচনা করতে হবে যেমন-শিক্ষার্থীর শেখার ইচ্ছা, ব্যবহারিকভাবে জ্ঞান ব্যবহার করার ইচ্ছা, তার সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা করার ইচ্ছা, চিন্তাভাবনায় তার দক্ষতা এবং সমস্যা-সমাধানের ক্ষেত্রে এই জ্ঞানের প্রয়োগ ইত্যাদি। সামষ্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে এ দিকগুলো পরিমাপ করা কঠিন। কিন্তু একুশ শতকের দক্ষতার এই প্যারামিটারগুলো মূল্যায়নের জন্য উদ্ভাবনী গঠনমূলক বা ধারাবাহিক মূল্যায়নগুলো কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

নতুন কারিকুলামের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আগে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি প্রয়োজন, সেটা স্থানীয়ভাবে ও জাতীয়ভাবে হতে পারে। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা এখন আর অতটা কার্যকর নয়, যেমন নয় প্রচলিত মূল্যায়ন কৌশলও। একুশ শতকের দক্ষতার জন্য একুশ শতকের শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজন। এ ধারণার ওপর ভিত্তি করে আমি বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ইউনিভার্সিটিতে ব্যাচেলর ইন আইসিটি এডুকেশন চালু করেছিলাম ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার অফ টিচিং ইন ডিজিটাল এডুকেশনের প্রস্তাব করেছি ২০২১ সালে।

এ ধরনের প্রোগ্রামের গ্র্যাজুয়েটরা টেকনোলজি ও পেডাগজিতে সমানভাবে দক্ষ হবে এবং প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কারিকুলাম সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। তাই প্রোগ্রামগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। ধারাবাহিক মূল্যায়ননির্ভর প্রস্তাবিত এইচএসপিই কারিকুলাম আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে একটি সাহসী উদ্যোগ; তবে সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা, ডিজাইন ও বাস্তবায়ন না করতে পারলে এটি একটি দুঃসহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে পারে।

ড. মো. আকতারুজ্জামান : অধ্যাপক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি; প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগীয় প্রধান, আইসিটি ও শিক্ষা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি

শিক্ষা সংস্কারের চ্যালেঞ্জ আমাদের করণীয়

 ড. মো. আকতারুজ্জামান 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মানবসভ্যতার প্রথম দিন থেকেই জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের প্রক্রিয়া চলে আসছে। জ্ঞানের ব্যাপ্তি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার তিনটি মূল উপাদান-শিক্ষণ (টিচিং), শেখা (লার্নিং) ও মূল্যায়ন (অ্যাসেসমেন্ট) আরও আনুষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত হয়ে ওঠে।

শেখাকে আমরা যা শুনি, দেখি বা অনুভব করি তার প্রক্রিয়াকরণ ও আত্তীকরণ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়, যা আমাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মনোভাবকে পরিবর্তন করে বা উন্নত করে। শিক্ষণ হলো শেখার প্রতি আদেশ, উদ্দীপনা, নির্দেশনা ও উৎসাহের সংযোজন। আর শিক্ষার্থীদের শেখার মূল্যায়ন হলো সেই প্রক্রিয়া যেখানে শিক্ষার্থীদের শেখার বিষয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয় এবং কিছু মানদণ্ডের নিরিখে তা বিচার করা হয়।

মূল্যায়নের আধুনিক ধারণা শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক, বিষয়বস্তুকেন্দ্রিক নয়। এটি সন্তানের মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা ও আগ্রহ পূরণ করে এবং শিক্ষণের চেয়ে শেখার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা শিক্ষার্থীদের চাহিদা, যোগ্যতা, উদ্ভাবনী শিক্ষণ, মূল্যায়ন কৌশল ইত্যাদির চেয়ে বেশি বিষয়বস্তু শিক্ষণে আগ্রহী।

তাই প্রায়ই দেখা যায়, শিশুদের বই এবং আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের ওজন তাদের নিজস্ব ওজনের চেয়ে বেশি হয়, যাদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তি একেবারে থাকে না বললেই চলে। ইউএনডিপি পরিচালিত গ্লোবাল নলেজ ইনডেক্স ২০২০-এর জরিপেও এ বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে ১৩৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১২তম।

সরকার সম্প্র্রতি উচ্চমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে (এইচএসপিই) প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নতুন কারিকুলাম অনুমোদন দিয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির আগে কোনো পরীক্ষা নেই এবং দশম শ্রেণির পাঁচটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এসএসসি এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পরে দুটি আলাদা পরীক্ষার ফলাফল একত্রিত করে এইচএসসি পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

নবম শ্রেণির পরিবর্তে একাদশ শ্রেণিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা মূল তিনটি কোর্স-বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটির পাশাপাশি বিজ্ঞান, মানবিক বা ব্যবসায়িক ধারা থেকে আরও তিনটি এবং কারিগরি থেকে একটি মোট চারটি ঐচ্ছিক কোর্স নিতে পারবে। এর বাস্তবায়ন পর্যায়ক্রমে ২০২৩ সাল থেকে এবং পাইলটিং ২০২২ সাল থেকে শুরু হচ্ছে। গত ২০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে অনুরূপ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

অবশ্যই এটি একটি ভালো শুরু; তবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, শিক্ষার্থীদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং এর জন্য আমাদের শিক্ষকরা পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার ওপর ভালোভাবে প্রশিক্ষিত। এখন যদি দেশকে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে সফল হতে হয়, তাহলে ইতোমধ্যেই যারা এটি বাস্তবায়ন করেছে সেই দেশগুলোর অন্তর্নিহিত পলিসি এবংও প্র্যাকটিসগুলো অনুসরণ করতে হবে, অন্যথায় এ রূপান্তরটির ফলাফল শূন্য হতে পারে, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে খারাপ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

আজকের প্রেক্ষাপটে দুই ধরনের মূল্যায়ন প্রাসঙ্গিক-প্রথমত, ধারাবাহিক বা গঠনমূলক মূল্যায়ন যা শিক্ষণের সময় শেখার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে এবং ছাত্র ও শিক্ষক উভয়েরই কাছে ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া প্রদান করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কুইজ, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রকল্প, উপস্থাপনা, মধ্যবর্তী পরীক্ষা (আনুষ্ঠানিক উপায়ে নয়)। দ্বিতীয়ত, সামষ্টিক মূল্যায়ন যা একটি কোর্স বা ইউনিটের শেষে হয় এবং প্রচলিত অর্থে মানুষকে প্রত্যয়ন করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা।

উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর বেশি মনোনিবেশ করে, যেখানে আমরা সামষ্টিক পরীক্ষার ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল, যা মুখস্থ বিদ্যার মতো খারাপ অভ্যাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমাদের অবশ্যই এটিকে একটি মূল্যায়ন পদ্ধতি দ্বারা প্রতিস্থাপন করতে হবে, যা যুগপৎ, পারফরম্যান্সভিত্তিক ও গঠনমূলক; হতে পারে সেটাই এই নতুন কারিকুলামের ভিত্তি।

নতুন কারিকুলাম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য আমাদের নীতিনির্ধারকদের অবিলম্বে নিুলিখিত পলিসি ও প্র্যাকটিসগুলোর বিষয়ে মনোযোগ প্রয়োজন, যা এদেশে অনেকটাই অনুপস্থিত।

ক. উন্নত বিশ্বের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্কুল অব এডুকেশন বা ফ্যাকাল্টি অব এডুকেশন বা গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশন রয়েছে, যারা কেবল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক তৈরি করতে পারে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত তিনটি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে-শৈশবের শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা এবং মাধ্যমিক/উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা।

উন্নত দেশে এই প্রোগ্রামগুলোয় সরকার সরাসরি অর্থায়ন করে, যেখানে অন্যান্য প্রোগ্রামে পড়ার সময় শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর ৩০-৫০ হাজার ডলার টিউশন ফি দিতে হয়। দেশে শিক্ষা সম্পর্কিত হাতেগোনা কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যদিও তাদের লক্ষ্যগুলো পৃথিবীর সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বিশেষ করে ব্লেন্ডেড, অনলাইন ও ডিজিটাল (বোল্ড) শিক্ষার যুগে।

খ. শিক্ষা সম্পর্কিত ইনস্টিটিউটগুলো প্রধানত কোর্সের বিষয়বস্তু বা এমনকি সাবজেক্ট বিষয়ে দক্ষতার পরিবর্তে উদ্ভাবনী শিক্ষণ, শেখা ও মূল্যায়ন পদ্ধতির ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। কী শেখানোর পরিবর্তে কীভাবে শেখানো যায়-এটি সেই বিষয়ে তাদের মনোযোগ দেয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাধ্যমিক শিক্ষার ওপর মাস্টার্স প্রোগ্রামে ১৬টি কোর্স রয়েছে, যার মধ্যে ১০টি মূল কোর্স, দুটি পেশাগত অনুশীলন কোর্স ৬০ দিনের জন্য সরসরি স্কুলে গিয়ে এবং দুটি বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জনের জন্য দুটি করে মোট চারটি কোর্স নিতে হয় বিজ্ঞান, গণিত, আইটি, ভিজ্যুয়াল আর্ট ইত্যাদি এরিয়া থেকে।

এই প্রোগ্রামের মূল কোর্সের মধ্যে কারিকুলাম ও পেডাগজি বিষয়ক ৬টি কোর্স রয়েছে-ফাউন্ডেশন, পরিকল্পনা, মূল্যায়ন, প্রথম স্পেশালাইজেশন এরিয়া (যেমন গণিত), দ্বিতীয় স্পেশালাইজেশন এরিয়া (যেমন বিজ্ঞান), এবং লার্নিং প্রজেক্ট। এ ছাড়া রয়েছে ডিজিটাল পেডাগজি, শিশু ও কিশোর বিকাশ, কালচারাল স্টাডিজ, বিভিন্ন শিক্ষার্থীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষণ, নেতা এবং উদ্যোক্তা চিন্তাবিদ হিসাবে শিক্ষক ইত্যাদি মানের কোর্স।

এখন আমাদের শিক্ষকরা তাদের মাস্টার্স প্রোগ্রামে যা পড়েন, তার সঙ্গে এই প্রোগ্রামটির তুলনা করুন, অনেক ভিন্নতা খুঁজে পাবেন। এ জন্যই আমরা ক্রমাগত শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছি। সমস্যার মূলে না গিয়ে সারফেস লেভেলে চিন্তা করলে কখনোই ভালো ফল আসবে না।

গ. ধরুন পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি সম্পন্ন একজন গ্রাজুয়েটের কথা। উন্নত দেশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পদার্থবিজ্ঞান পড়ানোর সুযোগ তিনি কখনোই পাবেন না, যতক্ষণ না তার একটি টিচিং কোয়ালিফিকেশন থাকবে, যেমন মাস্টার অফ টিচিং (সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে দুই মাসের অভিজ্ঞতাসহ)। বাংলাদেশে একজন গ্র্যাজুয়েট পাশ করার পরপরই একজন শিক্ষক হওয়ার সুযোগ পান, যা উন্নত দেশে কখনোই সম্ভব নয়। আমাদের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যদিও বিএড বা এমএড প্রোগ্রাম আছে, কিন্তু সেগুলো বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও প্র্যাকটিসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ঘ. অনেকেই জিজ্ঞাসা করতে পারেন, কেন একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক হিসাবে কাজ করবে? উন্নত দেশগুলো উচ্চমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের সম্মান ও বেতনের দিক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান বলে মনে করে, যা বাংলাদেশেও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ঙ. উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষকদের পেশাদার লাইসেন্সিং এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়। যে কোনো একাডেমিক অসদাচরণ, যৌন হয়রানি, পেশাদারিত্ব ও নীতিশাস্ত্রের ব্যত্যয় ঘটে এমন কার্যকলাপ অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হয়। দোষী সাব্যস্ত হলে কোনো ব্যক্তি কখনো লাইসেন্স পাবে না। ফলে যে কোনো স্তরে শিক্ষক হিসাবে কাজ করার তার আর সুযোগ থাকে না।

চ. প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থায় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মতোই ব্যর্থ হয়, যা তাদের সৃজনশীলতা ও বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। শিক্ষার্থীদের যেমন ব্যক্তিগত কৃত বিষয়বস্তু ও মূল্যায়নের প্রয়োজন, তেমনি শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা-বিকাশের প্রয়োজন। একজন শিক্ষার্থী কীভাবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করবে, যদি শিক্ষকের নিজেরই সেই দক্ষতা না থাকে? শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ অনেক দক্ষতা অর্জন করা জরুরি যেমন কলাবোরেশন, সহপাঠীদের মাধ্যমে শেখা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং উপযুক্ত পেডাগজি।

ছ. ২০২১ সালের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে এটুআই’র পলিসি উপদেষ্টা অনির চৌধুরী বলেছেন, শিক্ষার্থীরা কিছু শিখেছে কিনা তা না জেনে শেখানো অর্থহীন একটি ব্যায়াম বৈকি। আমাদের অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে ঠিক আছে; কিন্তু আজ পর্যন্ত আমরা যে পদ্ধতিতে এটি করছি তার পরিবর্তন দরকার। প্রচলিত মূল্যায়ন সব সিস্টেমের জন্য একই সমাধানের নামান্তর।

এর পরিবর্তে আমাদের এমন সব বিষয় বিবেচনা করতে হবে যেমন-শিক্ষার্থীর শেখার ইচ্ছা, ব্যবহারিকভাবে জ্ঞান ব্যবহার করার ইচ্ছা, তার সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা করার ইচ্ছা, চিন্তাভাবনায় তার দক্ষতা এবং সমস্যা-সমাধানের ক্ষেত্রে এই জ্ঞানের প্রয়োগ ইত্যাদি। সামষ্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে এ দিকগুলো পরিমাপ করা কঠিন। কিন্তু একুশ শতকের দক্ষতার এই প্যারামিটারগুলো মূল্যায়নের জন্য উদ্ভাবনী গঠনমূলক বা ধারাবাহিক মূল্যায়নগুলো কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

নতুন কারিকুলামের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আগে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি প্রয়োজন, সেটা স্থানীয়ভাবে ও জাতীয়ভাবে হতে পারে। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা এখন আর অতটা কার্যকর নয়, যেমন নয় প্রচলিত মূল্যায়ন কৌশলও। একুশ শতকের দক্ষতার জন্য একুশ শতকের শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজন। এ ধারণার ওপর ভিত্তি করে আমি বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ইউনিভার্সিটিতে ব্যাচেলর ইন আইসিটি এডুকেশন চালু করেছিলাম ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার অফ টিচিং ইন ডিজিটাল এডুকেশনের প্রস্তাব করেছি ২০২১ সালে।

এ ধরনের প্রোগ্রামের গ্র্যাজুয়েটরা টেকনোলজি ও পেডাগজিতে সমানভাবে দক্ষ হবে এবং প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কারিকুলাম সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। তাই প্রোগ্রামগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। ধারাবাহিক মূল্যায়ননির্ভর প্রস্তাবিত এইচএসপিই কারিকুলাম আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে একটি সাহসী উদ্যোগ; তবে সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা, ডিজাইন ও বাস্তবায়ন না করতে পারলে এটি একটি দুঃসহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে পারে।

ড. মো. আকতারুজ্জামান : অধ্যাপক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি; প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগীয় প্রধান, আইসিটি ও শিক্ষা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন