দেশে ফার্মেসি পেশার সাফল্য ও সম্ভাবনা
jugantor
দেশে ফার্মেসি পেশার সাফল্য ও সম্ভাবনা

  ড. মো. আবু জাফর সাদেক  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে ফার্মেসি পেশার সাফল্য ও সম্ভাবনা

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের ১৯৩টি সদস্য দেশে একযোগে এ দিবসটি পালিত হচ্ছে। বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘ফার্মেসি- আপনার স্বাস্থ্যের জন্য সর্বদাই বিশ্বস্ত’।

আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের মতে, বিশ্বাস হলো সব মানবিক সম্পর্কের মূল বিষয় এবং তা সামাজিক পুঁজির মূল অনুষঙ্গ। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর প্রতি রোগীর আস্থা আশানুরূপ ফল লাভের তথা আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে বিশাল নিয়ামক হিসাবে কাজ করে। সেই সঙ্গে বিশ্বস্ততার মূল খুঁটি হলো রোগী ও সেবাদানকারীর ইতিবাচক সম্পর্ক, সেবাদানকারীর সক্ষমতা/যোগ্যতা এবং সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতা।

যা হোক, আজকের এ ফার্মাসিস্ট দিবসে চলুন দেখি দেশে ফার্মেসি পেশার সাফল্য ও সম্ভাবনা কতটা। দেশে ফার্মাসিস্ট পেশার ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশীজন এ পেশাজীবীরা (ফার্মাসিস্ট) সামগ্রিকভাবে বেশ সফল ও অগ্রসরমান হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের এখনো বহু পথ পাড়ি দেওয়ার বাকি। মোটামুটিভাবে ফার্মাসিস্টরা ছয়টি মূলধারায় তাদের অবদান রেখে চলেছেন। এগুলো হলো- ওষুধ প্রস্তুতকরণ, ওষুধ বিপণন, হাসপাতাল ফার্মেসি, কমিউনিটি ফার্মেসি, ওষুধবিষয়ক গবেষণা ও শিক্ষকতা।

বাংলাদেশে ওষুধ প্রস্তুতকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফার্মাসিস্টদের সাফল্য অত্যন্ত দৃশমান। তাদের কল্যাণে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৯৯ শতাংশ ওষুধ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি করতে সক্ষম, যার দাম অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের। দেশে বহুল ব্যবহৃত একটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেটের দাম ৮০ পয়সা, যা পার্শ্ববর্তী অনেক দেশের চেয়ে ঈষৎ কম এবং আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের প্রায় ১৫ ভাগের একভাগ।

হেপাটাইটিস-সি প্রতিরোধক ওষুধ সোফোসবুভির ও ভেলপাটাসভির কম্বিনেশন বাংলাদেশে প্রতি ট্যাবলেট বিক্রয় হয় ১০০০ টাকায়, অন্যদিকে এই একই ট্যাবলেট যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রয় হয় ২০ হাজার ৪২৯ টাকায়। নিঃসন্দেহে এটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাপ্রদ একটি দিক।

নতুন নতুন ওষুধ উদ্ভাবন, অভ্যন্তরীণ ওষুধের বাজারে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যার প্রবৃদ্ধি, জ্ঞানভিত্তিক বিপণন, ওষুধের সঠিক তথ্য সরবরাহ, মান বজায় রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ওষুধের সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি বছর ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি- নিঃসন্দেহে এসব বিপণনসংশ্লিষ্ট ফার্মাসিস্টদের আন্তরিক চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফসল।

ফার্মাসিস্ট পেশার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো হাসপাতাল ফার্মেসি, যা সারা বিশ্বে অত্যন্ত স্বীকৃত এবং বহুল প্রচলিত। যে কারণেই হোক, দেশে এখন পর্যন্ত এ সেক্টরটি আশানুরূপ অগ্রসর হতে পারেনি। হাতেগোনা কিছু বড় বেসরকারি হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও গ্র্যাজুয়েট হাসপাতাল ফার্মাসিস্টরা কাজ করছেন বলে জানা নেই। এ কারণে রোগীরা ওষুধের সঠিক ডিপেনসিং, কাউন্সেলিং, অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে আন্তঃক্রিয়া, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং এ সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

দেরিতে হলেও সরকার হাসপাতাল ফার্মেসি চালুর ব্যাপারে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। রোগীর স্বার্থ বিবেচনায় হাসপাতাল ফার্মেসি চালুর প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন। এ সেক্টরে দক্ষ জনবল তৈরির সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা থাকা অত্যাবশ্যক। তাছাড়া হাসপাতাল ফার্মেসি চালু হলেও রোগীরা কাক্সিক্ষত সেবা লাভ থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

মানসম্পন্ন ও সঠিক ওষুধ ক্রয়, যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ, ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহার, নির্দেশনার বিপরীতে সঠিক ওষুধপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা, সুনির্দিষ্ট কাউন্সেলিং ইত্যাদি সেবার জন্য প্রতিটি আদর্শ ওষুধের স্টোরে (ফার্মেসি) একজন গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট থাকা অত্যাবশ্যক, যারা কমিউনিটি ফার্মাসিস্ট হিসাবে পরিচিত। সীমিত আকারে দেশে কমিউনিটি ফার্মেসি চালু হলেও এখনো তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

সঠিক চাকরিবিধি ও তার প্রকৃত বাস্তবায়ন না থাকার কারণে ফার্মেসি পেশার এ উইংটি এখনো পরিপক্বতা লাভ করেনি। সরকারি-বেসরকারি মিলে দেশে প্রায় ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট তৈরি হচ্ছে। কমিউনিটি ফার্মেসি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হলে এ বিপুলসংখ্যক ফার্মাসিস্ট বেকার থেকে যাবেন, সমাজে যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এসবের বাইরে ফার্মাসিস্টদের অন্যতম প্রধান কাজ হলো গবেষণা করা, যার রয়েছে অপার সম্ভাবনা। দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের অভ্যন্তরে আমাদের ফার্মাসিস্টদের এ ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। যা হোক, ফার্মাসিবিষয়ক গবেষণা বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি ধারায় বিভক্ত। এগুলো হলো- ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি, ফার্মাসিউটিক্যাল বায়োটেকনোলজি এবং ফার্মেসির প্রতিটি বেসিক উইংয়ে গবেষণা।

অতি শিগ্গির মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ওষুধের কাঁচামাল তৈরির বিশাল একটি পার্ক উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে, যেখানে বিপুলসংখ্যক ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট দরকার। তবে এটাই সত্য, আমাদের দেশে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ফার্মাসিস্ট হাতেগোনা কয়েকজন, অথবা নেই বললেই চলে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

আধুনিক ওষুধশাস্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ফার্মাসিউটিক্যাল বায়োটেকনোলজি। দু-একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এ নিয়ে কাজ শুরু করলেও এখনো তা আঁতুড়ঘরেই রয়েছে। আমাদের ওষুধশিল্পকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিতে হলে এ বিষয়ে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।

ব্যক্তি পর্যায়ে কিছু শিক্ষকের স্বতন্ত্র কিছু গবেষণা ছাড়া সামগ্রিকভাবে ওষুধশিল্পের অগ্রগতির জন্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খুব একটা গবেষণা হয় না বললেই চলে। অথচ এটি শুধু গুরুত্বপূর্ণই নয়, এ শিল্পের জন্য অপরিহার্যও বটে। তাই এ বিষয়টির প্রতি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও একাডেমিক ফার্মাসিস্টদের একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, যা দেশের ওষুধশিল্পকে দিতে পারে একটি ভিন্ন মাত্রা।

ড. মো. আবু জাফর সাদেক : ফার্মাসিস্ট; সাবেক খণ্ডকালীন পরামর্শক, বিশ্বব্যাংক, ঢাকা

দেশে ফার্মেসি পেশার সাফল্য ও সম্ভাবনা

 ড. মো. আবু জাফর সাদেক 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে ফার্মেসি পেশার সাফল্য ও সম্ভাবনা
ফাইল ছবি

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের ১৯৩টি সদস্য দেশে একযোগে এ দিবসটি পালিত হচ্ছে। বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘ফার্মেসি- আপনার স্বাস্থ্যের জন্য সর্বদাই বিশ্বস্ত’।

আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের মতে, বিশ্বাস হলো সব মানবিক সম্পর্কের মূল বিষয় এবং তা সামাজিক পুঁজির মূল অনুষঙ্গ। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর প্রতি রোগীর আস্থা আশানুরূপ ফল লাভের তথা আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে বিশাল নিয়ামক হিসাবে কাজ করে। সেই সঙ্গে বিশ্বস্ততার মূল খুঁটি হলো রোগী ও সেবাদানকারীর ইতিবাচক সম্পর্ক, সেবাদানকারীর সক্ষমতা/যোগ্যতা এবং সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতা।

যা হোক, আজকের এ ফার্মাসিস্ট দিবসে চলুন দেখি দেশে ফার্মেসি পেশার সাফল্য ও সম্ভাবনা কতটা। দেশে ফার্মাসিস্ট পেশার ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশীজন এ পেশাজীবীরা (ফার্মাসিস্ট) সামগ্রিকভাবে বেশ সফল ও অগ্রসরমান হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের এখনো বহু পথ পাড়ি দেওয়ার বাকি। মোটামুটিভাবে ফার্মাসিস্টরা ছয়টি মূলধারায় তাদের অবদান রেখে চলেছেন। এগুলো হলো- ওষুধ প্রস্তুতকরণ, ওষুধ বিপণন, হাসপাতাল ফার্মেসি, কমিউনিটি ফার্মেসি, ওষুধবিষয়ক গবেষণা ও শিক্ষকতা।

বাংলাদেশে ওষুধ প্রস্তুতকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফার্মাসিস্টদের সাফল্য অত্যন্ত দৃশমান। তাদের কল্যাণে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৯৯ শতাংশ ওষুধ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি করতে সক্ষম, যার দাম অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের। দেশে বহুল ব্যবহৃত একটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেটের দাম ৮০ পয়সা, যা পার্শ্ববর্তী অনেক দেশের চেয়ে ঈষৎ কম এবং আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের প্রায় ১৫ ভাগের একভাগ।

হেপাটাইটিস-সি প্রতিরোধক ওষুধ সোফোসবুভির ও ভেলপাটাসভির কম্বিনেশন বাংলাদেশে প্রতি ট্যাবলেট বিক্রয় হয় ১০০০ টাকায়, অন্যদিকে এই একই ট্যাবলেট যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রয় হয় ২০ হাজার ৪২৯ টাকায়। নিঃসন্দেহে এটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাপ্রদ একটি দিক।

নতুন নতুন ওষুধ উদ্ভাবন, অভ্যন্তরীণ ওষুধের বাজারে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যার প্রবৃদ্ধি, জ্ঞানভিত্তিক বিপণন, ওষুধের সঠিক তথ্য সরবরাহ, মান বজায় রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ওষুধের সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি বছর ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি- নিঃসন্দেহে এসব বিপণনসংশ্লিষ্ট ফার্মাসিস্টদের আন্তরিক চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফসল।

ফার্মাসিস্ট পেশার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো হাসপাতাল ফার্মেসি, যা সারা বিশ্বে অত্যন্ত স্বীকৃত এবং বহুল প্রচলিত। যে কারণেই হোক, দেশে এখন পর্যন্ত এ সেক্টরটি আশানুরূপ অগ্রসর হতে পারেনি। হাতেগোনা কিছু বড় বেসরকারি হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও গ্র্যাজুয়েট হাসপাতাল ফার্মাসিস্টরা কাজ করছেন বলে জানা নেই। এ কারণে রোগীরা ওষুধের সঠিক ডিপেনসিং, কাউন্সেলিং, অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে আন্তঃক্রিয়া, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং এ সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

দেরিতে হলেও সরকার হাসপাতাল ফার্মেসি চালুর ব্যাপারে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। রোগীর স্বার্থ বিবেচনায় হাসপাতাল ফার্মেসি চালুর প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন। এ সেক্টরে দক্ষ জনবল তৈরির সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা থাকা অত্যাবশ্যক। তাছাড়া হাসপাতাল ফার্মেসি চালু হলেও রোগীরা কাক্সিক্ষত সেবা লাভ থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

মানসম্পন্ন ও সঠিক ওষুধ ক্রয়, যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ, ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহার, নির্দেশনার বিপরীতে সঠিক ওষুধপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা, সুনির্দিষ্ট কাউন্সেলিং ইত্যাদি সেবার জন্য প্রতিটি আদর্শ ওষুধের স্টোরে (ফার্মেসি) একজন গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট থাকা অত্যাবশ্যক, যারা কমিউনিটি ফার্মাসিস্ট হিসাবে পরিচিত। সীমিত আকারে দেশে কমিউনিটি ফার্মেসি চালু হলেও এখনো তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

সঠিক চাকরিবিধি ও তার প্রকৃত বাস্তবায়ন না থাকার কারণে ফার্মেসি পেশার এ উইংটি এখনো পরিপক্বতা লাভ করেনি। সরকারি-বেসরকারি মিলে দেশে প্রায় ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট তৈরি হচ্ছে। কমিউনিটি ফার্মেসি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হলে এ বিপুলসংখ্যক ফার্মাসিস্ট বেকার থেকে যাবেন, সমাজে যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এসবের বাইরে ফার্মাসিস্টদের অন্যতম প্রধান কাজ হলো গবেষণা করা, যার রয়েছে অপার সম্ভাবনা। দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের অভ্যন্তরে আমাদের ফার্মাসিস্টদের এ ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। যা হোক, ফার্মাসিবিষয়ক গবেষণা বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি ধারায় বিভক্ত। এগুলো হলো- ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি, ফার্মাসিউটিক্যাল বায়োটেকনোলজি এবং ফার্মেসির প্রতিটি বেসিক উইংয়ে গবেষণা।

অতি শিগ্গির মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ওষুধের কাঁচামাল তৈরির বিশাল একটি পার্ক উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে, যেখানে বিপুলসংখ্যক ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট দরকার। তবে এটাই সত্য, আমাদের দেশে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ফার্মাসিস্ট হাতেগোনা কয়েকজন, অথবা নেই বললেই চলে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

আধুনিক ওষুধশাস্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ফার্মাসিউটিক্যাল বায়োটেকনোলজি। দু-একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এ নিয়ে কাজ শুরু করলেও এখনো তা আঁতুড়ঘরেই রয়েছে। আমাদের ওষুধশিল্পকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিতে হলে এ বিষয়ে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।

ব্যক্তি পর্যায়ে কিছু শিক্ষকের স্বতন্ত্র কিছু গবেষণা ছাড়া সামগ্রিকভাবে ওষুধশিল্পের অগ্রগতির জন্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খুব একটা গবেষণা হয় না বললেই চলে। অথচ এটি শুধু গুরুত্বপূর্ণই নয়, এ শিল্পের জন্য অপরিহার্যও বটে। তাই এ বিষয়টির প্রতি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও একাডেমিক ফার্মাসিস্টদের একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, যা দেশের ওষুধশিল্পকে দিতে পারে একটি ভিন্ন মাত্রা।

ড. মো. আবু জাফর সাদেক : ফার্মাসিস্ট; সাবেক খণ্ডকালীন পরামর্শক, বিশ্বব্যাংক, ঢাকা

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন