সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া পর্যটনের উন্নয়ন সম্ভব নয় : ড. সৈয়দ রাশেদুল হাসান
jugantor
সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া পর্যটনের উন্নয়ন সম্ভব নয় : ড. সৈয়দ রাশেদুল হাসান

  আসিফ রশীদ  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া পর্যটনের উন্নয়ন সম্ভব নয় : ড. সৈয়দ রাশেদুল হাসান

পর্যটন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সৈয়দ রাশিদুল হাসান ইতঃপূর্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিটাইম ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। এ উপলক্ষ্যে তিনি দেশে পর্যটন শিল্পের সমস্যা, এ খাতের বিকাশে করণীয়, বিশেষ করে করোনা মহামারির বিপর্যয় থেকে এ খাতের উত্তরণে করণীয় ইত্যাদি বিষয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আসিফ রশীদ-

যুগান্তর : করোনা মহামারির আগ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্পের বড় আকারের অবদান ছিল, যা বৈশ্বিক জিডিপির ১০.৪ শতাংশ। মহামারির কারণে এ খাতের কতটা ক্ষতি হয়েছে?

ড. সৈয়দ রাশেদুল হাসান : কোভিড-১৯ যেন এক প্রলয়ংকরী ঝড়। এ ঝড় আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ এমন কোনো খাত নেই যেখানে তার ধংসাত্মক চিহ্ন রেখে যায়নি। সাধারণভাবে বলা যায়, বিভিন্ন খাতের মধ্যে এ অতিমারি দ্বারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পর্যটন শিল্প। কারণ পর্যটন শিল্পে সরাসরি সেবা গ্রহণকারী এবং সেবা প্রদানকারীর মিথস্ক্রিয়া সম্পাদন হয়। বিভিন্ন সময় করোনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পর্যটন স্থানগুলোয় লকডাউন দেওয়া হয় এবং এ শিল্পের সব উপ-খাতকে বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর যেখানে মানুষ নেই, সেখানে পর্যটনও নেই।

টঘডঞঙ বা বিশ্ব পর্যটন সংস্থার হিসাবমতে, ২০২০ সালে আগের বছরের চেয়ে ৭০ শতাংশ কম পর্যটক বিদেশ ভ্রমণে গেছেন বা ঘুরে বেড়িয়েছেন। ২০২০ সালের জুলাই ও আগস্ট মাস ছিল পর্যটনের জন্য সবচেয়ে খারাপ সময়। এ সময় আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৭০ লাখ কম পর্যটক বিদেশ ভ্রমণে গিয়েছিলেন। অর্থের হিসাবে ২০১৯ সালের ওই সময়ের চেয়ে প্রায় ৭৩০ বিলিয়ন ডলার আয় কমে যায়। তবে বছরব্যাপী চিত্রটি আরও বেশি হতাশাপূর্ণ। বিগত বছরে সার্বিকভাবে আগের বছরের তুলনায় পর্যটন সেবা খাতের রপ্তানি কম হয়েছে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার। শ্রমবাজারে করোনার প্রভাব আরও ভয়ংকর। সাধারণ হিসাবে বলা যায়, ১ কোটি ৭০ লাখের ওপর মানুষ করোনার প্রভাবে তাদের চাকরি হারিয়েছেন অথবা বেকার হয়েছেন। শুধু ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ ব্যক্তি চাকরি হারিয়েছেন। আর্ট, এন্টারটেইনমেন্ট খাতে ২৮ শতাংশ এবং আবাসন (accommodation) ক্ষেত্রে বেকার হয়েছেন ৩১ শতাংশ চাকরিজীবী। সুতরাং পর্যটন শিল্পে করোনা অতিমারির ঋণাত্মক প্রভাব কতটুকু তা সহজেই অনুমেয়।

যুগান্তর : বর্তমানে বিশ্বে পর্যটন খাতের যে অবস্থা, তাতে এ শিল্পের করোনা-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে কত সময় লাগবে?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বেশ কঠিন। কারণ এক এক সংস্থার পূর্বাভাস এক এক রকমের। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ বিষয়ে কিছু বলতে পারে না। তবে তারা বলেছেন, ভবিষ্যতে আমাদের করোনা সঙ্গে নিয়েই চলতে হতে পারে। তবু আমরা আশাবাদী। অতি আশাবাদীরা মনে করেন, এ বছরেই করোনার প্রাদুর্ভাব কমে আসবে। সে হিসাবে আমরা বলতে পারি, পর্যটন শিল্প তার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবে ২০২৪ সাল নাগাদ।

যুগান্তর : করোনার দেড় বছরে বাংলাদেশের পর্যটন খাত কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : বাংলাদেশের পর্যটন খাতে করোনার কারণে কতটুকু ক্ষতি হয়েছে, তা সঠিকভাবে বলা কঠিন। কারণ সরকারি সূত্র থেকে এ সম্পর্কে এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাইনি। তবে বিভিন্ন প্রফেশনাল সংগঠন তাদের ইচ্ছামতো বিভিন্ন ডেটা ও তথ্য দিয়ে থাকেন। ইউএনডব্লিউটিও’র হিসাবে করোনা অতিমারির কারণে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে মোট ক্ষতি হয়েছে ৪০ বিলিয়ন (৪ হাজার কোটি) বাংলাদেশি টাকা। অপরদিকে ট্যুর অপারেটর’স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (টোয়াব) তথ্যমতে, করোনার জন্য আমাদের এ শিল্পে ক্ষতি হয়েছে ৬০ বিলিয়ন (৬ হাজার কোটি) টাকা। তাদের মতে, এ শিল্পে কর্মরত ৩০ লাখ কর্মজীবীর ৭০ শতাংশই তাদের চাকরি হারিয়েছেন অথবা বেকার হয়ে গেছেন। টোয়াবের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০০ ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যাদের বেশিরভাগই ট্যুর অপারেটর কিংবা ট্রাভেল এজেন্ট, তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। আরেকটি হিসাবে বলা হয়েছে, দেশের আবাসন শিল্পে দুই-তৃতীয়াংশ কর্মজীবী চাকরিচ্যুত হয়েছেন। হিসাবের গরমিল যাই হোক না কেন, মোদ্দাকথা হচ্ছে, করোনা বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের শক্ত ভিত্তিকে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে।

যুগান্তর : দেশের পর্যটন শিল্প যাতে আবার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে সে জন্য কী কী উদ্যোগ নেওয়া উচিত?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : এ বিষয়ে অনেক গবেষণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য পাওয়ার জন্য গবেষণা করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ শিল্পের পূর্ণ বিকাশের জন্য স্বল্প সুদে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। কিন্তু পর্যটন উদ্যোক্তারা এ ঋণ নিতে মোটেই উৎসাহী নন। তাদের মতে, ব্যবসাই নেই তার ওপর এই ঋণ নিয়ে তারা কি বিপদে পড়বেন? পরবর্তী সময়ে সরকার অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা সুদে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। কিন্তু এ প্রকল্পও তেমন সাড়া জাগাতে পেরেছে বলে মনে হয় না। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ক্ষুদ্র মালিকদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন শর্ট কোর্সের ব্যবস্থা করেছে। আমাদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে মোটেই আগ্রহী নয়। তাদের মতে, সরকারকে আগামী কয়েক বছরের জন্য ভ্যাট, ট্যাক্স এবং অন্যান্য ফি মওকুফ করতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষে ট্যাক্স হলিডের ব্যবস্থা করতে হবে।

যুগান্তর : এ ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের কাছ থেকে আমরা কী অভিজ্ঞতা নিতে পারি?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন রকমের ব্যবস্থা নিয়েছে। যেমন, হোটেলে থাকার জন্য যে খরচ তার কিছু অংশ সরকার থেকে সাবসিডি হিসাবে প্রদান করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভ্যাট-ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে। কোথাও বা চাকরিচ্যুত কর্মজীবীদের জন্য স্টাইপেন্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারি।

যুগান্তর : বর্তমানে পর্যটন ক্ষেত্রে ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (টিএসএ) কথাটি বেশ প্রচলিত। বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন কী?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট বা টিএসএ হলো বিশ্বস্বীকৃত একটি উপায়, যার সাহায্যে আমরা কোনো খাতের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ইনডেক্স পরিমাপ করে থাকি। অর্থাৎ টিএসএ হলো একটা স্ট্যান্ডার্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল ফ্রেমওয়ার্ক, যার দ্বারা আমরা সহজে পর্যটনের অর্থনৈতিক বিভিন্ন খাত-উপ খাতের পরিমাপ করতে পারি। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি, একজন ট্যুরিস্ট বাংলাদেশে এসে কোথায় থাকল, থাকার জন্য তার কত খরচ হলো, খাবার জন্য কত খরচ করল, বিনোদনের জন্য কত ব্যয় করল, কতদিন এ দেশে থাকল ইত্যাদি বিষয়ে আমরা সঠিক তথ্য পেতে পারি। বর্তমানে আমাদের আন্দাজ-অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তথ্য তৈরি করা হয়। টিএসএ একটা স্ট্যাটিস্টিক্যাল সফটওয়্যার, যার সাহায্যে আমরা প্রত্যেক ট্যুরিস্টের ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রকৃত তথ্য পেতে পারি। আমাদের জিডিপিতে ট্যুরিজমের প্রকৃত অবদান সম্পর্কেও তথ্য পেতে পারি। আমাদের পাশের দেশ ভারত কয়েক বছর আগে টিএসএ’র ব্যবহার শুরু করেছে। তাই তাদের প্রকাশনাগুলোতে দেখবেন ট্যুরিজম বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। সুখের বিষয় হলো, আমাদের ট্যুরিজম বোর্ড টিএসএ স্থাপনের কাজ শুরু করছে এবং এটি পূর্ণভাবে কাজ শুরু করতে আর তিন-চার মাস লাগতে পারে।

যুগান্তর : দেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশে সাধারণভাবে কী কী প্রতিবন্ধকতা রয়েছে? এসব বাধা দূর করার ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : প্রতিবন্ধকতা অনেক। প্রথমেই বলি, পর্যটন উন্নয়নের জন্য যে বিষয়টি সবচেয়ে জরুরি তা হলো সরকারকে পর্যটনবান্ধব হতে হবে। বিশ্ব অভিজ্ঞতা বলে, সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা (ইনভল্ভমেন্ট) ছাড়া পর্যটনের উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। পর্যটন বিষয়ে দেশের ইমেজ মোটেই ভালো নয়। এতদিনেও আমরা একটা ভালো লোগো বা স্লোগান তৈরি করতে পারলাম না। আমাদের দেশের পর্যটনের ব্যবসা যারা করেন, তারা শুধু ব্যবসা করে মুনাফাই অর্জন করেন। কীভাবে দেশে পর্যটনের উন্নয়ন করা যায়, তা তারা কখনো চিন্তা করেন না। তাদের কাছে পর্যটন হচ্ছে একটা দুধেল গাই, যেখান থেকে শুধু দুধ আহরণ করা যায়।

যুগান্তর : পর্যটন খাতে আর কী কী করণীয়?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : মার্কেট চিহ্নিত করা, ট্যুরিজম প্রোডাক্ট ডেভেলপ করা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা, সম্মানজনক বেতন কাঠামো তৈরি করা, পর্যটন কর্মীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা, বিভিন্ন ধরনের ট্যুরিজম প্রোডাক্টের জন্য নীতিমালা-গাইডলাইন প্রস্তুত করা ইত্যাদিসহ আরও অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। সবচেয়ে বড় কথা, সিভিল এভিয়েশনের থাবা থেকে বেরিয়ে আলাদা পর্যটন মন্ত্রণালয় গঠন করা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আগের রেল বিভাগ থেকে রেলকে আলাদা করে মন্ত্রণালয় গঠন করার পর থেকেই দেখেন এখন বাংলাদেশ রেলওয়ে কতখানি উন্নয়ন করেছে।

যুগান্তর : দেশের ট্যুর অপারেটরগুলো যেভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : দেশের ট্যুর অপারেটরদের কথা আগেই বলেছি। তারা এখনো প্রকৃতপক্ষে প্রফেশনাল হয়ে উঠতে পারেনি। তারা মনে হয় যেন ট্যুরিজম ব্যবসাকেই প্রাধান্য দেয়; ট্যুরিজমের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, নতুন ট্যুরিজম প্রোডাক্ট ডেভেলপ করা এবং ট্যুরিজমের মাধ্যমে দেশকে সেবা দেওয়া ইত্যাদির ব্যাপারে তাদের খুব একটা আগ্রহ আছে বলে মনে হয় না।

যুগান্তর : দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্প কীভাবে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবে? সে সম্ভাবনা কতটুকু আছে?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : বাংলাদেশ পর্যটনের জন্য এক অপার সম্ভাবনার দেশ। সাম্প্রতিক সময়ে ইষঁব ঊপড়হড়সু বা নীল অর্থনীতির সদ্ব্যবহার আমাদের জন্য পর্যটনের এক বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। আমাদের উচিত এখন মেরিটাইম ট্যুরিজমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা এখন ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার। আমাদের রয়েছে ৭০০ কিলোমিটারের ওপর কোস্টাল এরিয়া। রয়েছে ছোট বড় অনেক দ্বীপ। এ বিশাল সম্পদকে কোনোক্রমেই অবহেলা করা উচিত হবে না। এ বিশাল সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশ আর ১০ বছরের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম ‘ট্যুরিজম হাব’ হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। এর জন্য সরকারকে এখনই মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

যুগান্তর : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : আপনাকেও ধন্যবাদ।

সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া পর্যটনের উন্নয়ন সম্ভব নয় : ড. সৈয়দ রাশেদুল হাসান

 আসিফ রশীদ 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া পর্যটনের উন্নয়ন সম্ভব নয় : ড. সৈয়দ রাশেদুল হাসান
ফাইল ছবি

পর্যটন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সৈয়দ রাশিদুল হাসান ইতঃপূর্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিটাইম ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। এ উপলক্ষ্যে তিনি দেশে পর্যটন শিল্পের সমস্যা, এ খাতের বিকাশে করণীয়, বিশেষ করে করোনা মহামারির বিপর্যয় থেকে এ খাতের উত্তরণে করণীয় ইত্যাদি বিষয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আসিফ রশীদ-

যুগান্তর : করোনা মহামারির আগ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্পের বড় আকারের অবদান ছিল, যা বৈশ্বিক জিডিপির ১০.৪ শতাংশ। মহামারির কারণে এ খাতের কতটা ক্ষতি হয়েছে?

ড. সৈয়দ রাশেদুল হাসান : কোভিড-১৯ যেন এক প্রলয়ংকরী ঝড়। এ ঝড় আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ এমন কোনো খাত নেই যেখানে তার ধংসাত্মক চিহ্ন রেখে যায়নি। সাধারণভাবে বলা যায়, বিভিন্ন খাতের মধ্যে এ অতিমারি দ্বারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পর্যটন শিল্প। কারণ পর্যটন শিল্পে সরাসরি সেবা গ্রহণকারী এবং সেবা প্রদানকারীর মিথস্ক্রিয়া সম্পাদন হয়। বিভিন্ন সময় করোনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পর্যটন স্থানগুলোয় লকডাউন দেওয়া হয় এবং এ শিল্পের সব উপ-খাতকে বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর যেখানে মানুষ নেই, সেখানে পর্যটনও নেই।

টঘডঞঙ বা বিশ্ব পর্যটন সংস্থার হিসাবমতে, ২০২০ সালে আগের বছরের চেয়ে ৭০ শতাংশ কম পর্যটক বিদেশ ভ্রমণে গেছেন বা ঘুরে বেড়িয়েছেন। ২০২০ সালের জুলাই ও আগস্ট মাস ছিল পর্যটনের জন্য সবচেয়ে খারাপ সময়। এ সময় আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৭০ লাখ কম পর্যটক বিদেশ ভ্রমণে গিয়েছিলেন। অর্থের হিসাবে ২০১৯ সালের ওই সময়ের চেয়ে প্রায় ৭৩০ বিলিয়ন ডলার আয় কমে যায়। তবে বছরব্যাপী চিত্রটি আরও বেশি হতাশাপূর্ণ। বিগত বছরে সার্বিকভাবে আগের বছরের তুলনায় পর্যটন সেবা খাতের রপ্তানি কম হয়েছে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার। শ্রমবাজারে করোনার প্রভাব আরও ভয়ংকর। সাধারণ হিসাবে বলা যায়, ১ কোটি ৭০ লাখের ওপর মানুষ করোনার প্রভাবে তাদের চাকরি হারিয়েছেন অথবা বেকার হয়েছেন। শুধু ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ ব্যক্তি চাকরি হারিয়েছেন। আর্ট, এন্টারটেইনমেন্ট খাতে ২৮ শতাংশ এবং আবাসন (accommodation) ক্ষেত্রে বেকার হয়েছেন ৩১ শতাংশ চাকরিজীবী। সুতরাং পর্যটন শিল্পে করোনা অতিমারির ঋণাত্মক প্রভাব কতটুকু তা সহজেই অনুমেয়।

যুগান্তর : বর্তমানে বিশ্বে পর্যটন খাতের যে অবস্থা, তাতে এ শিল্পের করোনা-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে কত সময় লাগবে?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বেশ কঠিন। কারণ এক এক সংস্থার পূর্বাভাস এক এক রকমের। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ বিষয়ে কিছু বলতে পারে না। তবে তারা বলেছেন, ভবিষ্যতে আমাদের করোনা সঙ্গে নিয়েই চলতে হতে পারে। তবু আমরা আশাবাদী। অতি আশাবাদীরা মনে করেন, এ বছরেই করোনার প্রাদুর্ভাব কমে আসবে। সে হিসাবে আমরা বলতে পারি, পর্যটন শিল্প তার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবে ২০২৪ সাল নাগাদ।

যুগান্তর : করোনার দেড় বছরে বাংলাদেশের পর্যটন খাত কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : বাংলাদেশের পর্যটন খাতে করোনার কারণে কতটুকু ক্ষতি হয়েছে, তা সঠিকভাবে বলা কঠিন। কারণ সরকারি সূত্র থেকে এ সম্পর্কে এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাইনি। তবে বিভিন্ন প্রফেশনাল সংগঠন তাদের ইচ্ছামতো বিভিন্ন ডেটা ও তথ্য দিয়ে থাকেন। ইউএনডব্লিউটিও’র হিসাবে করোনা অতিমারির কারণে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে মোট ক্ষতি হয়েছে ৪০ বিলিয়ন (৪ হাজার কোটি) বাংলাদেশি টাকা। অপরদিকে ট্যুর অপারেটর’স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (টোয়াব) তথ্যমতে, করোনার জন্য আমাদের এ শিল্পে ক্ষতি হয়েছে ৬০ বিলিয়ন (৬ হাজার কোটি) টাকা। তাদের মতে, এ শিল্পে কর্মরত ৩০ লাখ কর্মজীবীর ৭০ শতাংশই তাদের চাকরি হারিয়েছেন অথবা বেকার হয়ে গেছেন। টোয়াবের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০০ ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যাদের বেশিরভাগই ট্যুর অপারেটর কিংবা ট্রাভেল এজেন্ট, তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। আরেকটি হিসাবে বলা হয়েছে, দেশের আবাসন শিল্পে দুই-তৃতীয়াংশ কর্মজীবী চাকরিচ্যুত হয়েছেন। হিসাবের গরমিল যাই হোক না কেন, মোদ্দাকথা হচ্ছে, করোনা বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের শক্ত ভিত্তিকে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে।

যুগান্তর : দেশের পর্যটন শিল্প যাতে আবার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে সে জন্য কী কী উদ্যোগ নেওয়া উচিত?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : এ বিষয়ে অনেক গবেষণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য পাওয়ার জন্য গবেষণা করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ শিল্পের পূর্ণ বিকাশের জন্য স্বল্প সুদে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। কিন্তু পর্যটন উদ্যোক্তারা এ ঋণ নিতে মোটেই উৎসাহী নন। তাদের মতে, ব্যবসাই নেই তার ওপর এই ঋণ নিয়ে তারা কি বিপদে পড়বেন? পরবর্তী সময়ে সরকার অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা সুদে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। কিন্তু এ প্রকল্পও তেমন সাড়া জাগাতে পেরেছে বলে মনে হয় না। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ক্ষুদ্র মালিকদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন শর্ট কোর্সের ব্যবস্থা করেছে। আমাদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে মোটেই আগ্রহী নয়। তাদের মতে, সরকারকে আগামী কয়েক বছরের জন্য ভ্যাট, ট্যাক্স এবং অন্যান্য ফি মওকুফ করতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষে ট্যাক্স হলিডের ব্যবস্থা করতে হবে।

যুগান্তর : এ ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের কাছ থেকে আমরা কী অভিজ্ঞতা নিতে পারি?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন রকমের ব্যবস্থা নিয়েছে। যেমন, হোটেলে থাকার জন্য যে খরচ তার কিছু অংশ সরকার থেকে সাবসিডি হিসাবে প্রদান করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভ্যাট-ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে। কোথাও বা চাকরিচ্যুত কর্মজীবীদের জন্য স্টাইপেন্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারি।

যুগান্তর : বর্তমানে পর্যটন ক্ষেত্রে ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (টিএসএ) কথাটি বেশ প্রচলিত। বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন কী?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট বা টিএসএ হলো বিশ্বস্বীকৃত একটি উপায়, যার সাহায্যে আমরা কোনো খাতের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ইনডেক্স পরিমাপ করে থাকি। অর্থাৎ টিএসএ হলো একটা স্ট্যান্ডার্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল ফ্রেমওয়ার্ক, যার দ্বারা আমরা সহজে পর্যটনের অর্থনৈতিক বিভিন্ন খাত-উপ খাতের পরিমাপ করতে পারি। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি, একজন ট্যুরিস্ট বাংলাদেশে এসে কোথায় থাকল, থাকার জন্য তার কত খরচ হলো, খাবার জন্য কত খরচ করল, বিনোদনের জন্য কত ব্যয় করল, কতদিন এ দেশে থাকল ইত্যাদি বিষয়ে আমরা সঠিক তথ্য পেতে পারি। বর্তমানে আমাদের আন্দাজ-অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তথ্য তৈরি করা হয়। টিএসএ একটা স্ট্যাটিস্টিক্যাল সফটওয়্যার, যার সাহায্যে আমরা প্রত্যেক ট্যুরিস্টের ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রকৃত তথ্য পেতে পারি। আমাদের জিডিপিতে ট্যুরিজমের প্রকৃত অবদান সম্পর্কেও তথ্য পেতে পারি। আমাদের পাশের দেশ ভারত কয়েক বছর আগে টিএসএ’র ব্যবহার শুরু করেছে। তাই তাদের প্রকাশনাগুলোতে দেখবেন ট্যুরিজম বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। সুখের বিষয় হলো, আমাদের ট্যুরিজম বোর্ড টিএসএ স্থাপনের কাজ শুরু করছে এবং এটি পূর্ণভাবে কাজ শুরু করতে আর তিন-চার মাস লাগতে পারে।

যুগান্তর : দেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশে সাধারণভাবে কী কী প্রতিবন্ধকতা রয়েছে? এসব বাধা দূর করার ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : প্রতিবন্ধকতা অনেক। প্রথমেই বলি, পর্যটন উন্নয়নের জন্য যে বিষয়টি সবচেয়ে জরুরি তা হলো সরকারকে পর্যটনবান্ধব হতে হবে। বিশ্ব অভিজ্ঞতা বলে, সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা (ইনভল্ভমেন্ট) ছাড়া পর্যটনের উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। পর্যটন বিষয়ে দেশের ইমেজ মোটেই ভালো নয়। এতদিনেও আমরা একটা ভালো লোগো বা স্লোগান তৈরি করতে পারলাম না। আমাদের দেশের পর্যটনের ব্যবসা যারা করেন, তারা শুধু ব্যবসা করে মুনাফাই অর্জন করেন। কীভাবে দেশে পর্যটনের উন্নয়ন করা যায়, তা তারা কখনো চিন্তা করেন না। তাদের কাছে পর্যটন হচ্ছে একটা দুধেল গাই, যেখান থেকে শুধু দুধ আহরণ করা যায়।

যুগান্তর : পর্যটন খাতে আর কী কী করণীয়?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : মার্কেট চিহ্নিত করা, ট্যুরিজম প্রোডাক্ট ডেভেলপ করা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা, সম্মানজনক বেতন কাঠামো তৈরি করা, পর্যটন কর্মীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা, বিভিন্ন ধরনের ট্যুরিজম প্রোডাক্টের জন্য নীতিমালা-গাইডলাইন প্রস্তুত করা ইত্যাদিসহ আরও অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। সবচেয়ে বড় কথা, সিভিল এভিয়েশনের থাবা থেকে বেরিয়ে আলাদা পর্যটন মন্ত্রণালয় গঠন করা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আগের রেল বিভাগ থেকে রেলকে আলাদা করে মন্ত্রণালয় গঠন করার পর থেকেই দেখেন এখন বাংলাদেশ রেলওয়ে কতখানি উন্নয়ন করেছে।

যুগান্তর : দেশের ট্যুর অপারেটরগুলো যেভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : দেশের ট্যুর অপারেটরদের কথা আগেই বলেছি। তারা এখনো প্রকৃতপক্ষে প্রফেশনাল হয়ে উঠতে পারেনি। তারা মনে হয় যেন ট্যুরিজম ব্যবসাকেই প্রাধান্য দেয়; ট্যুরিজমের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, নতুন ট্যুরিজম প্রোডাক্ট ডেভেলপ করা এবং ট্যুরিজমের মাধ্যমে দেশকে সেবা দেওয়া ইত্যাদির ব্যাপারে তাদের খুব একটা আগ্রহ আছে বলে মনে হয় না।

যুগান্তর : দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্প কীভাবে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবে? সে সম্ভাবনা কতটুকু আছে?

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : বাংলাদেশ পর্যটনের জন্য এক অপার সম্ভাবনার দেশ। সাম্প্রতিক সময়ে ইষঁব ঊপড়হড়সু বা নীল অর্থনীতির সদ্ব্যবহার আমাদের জন্য পর্যটনের এক বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। আমাদের উচিত এখন মেরিটাইম ট্যুরিজমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা এখন ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার। আমাদের রয়েছে ৭০০ কিলোমিটারের ওপর কোস্টাল এরিয়া। রয়েছে ছোট বড় অনেক দ্বীপ। এ বিশাল সম্পদকে কোনোক্রমেই অবহেলা করা উচিত হবে না। এ বিশাল সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশ আর ১০ বছরের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম ‘ট্যুরিজম হাব’ হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। এর জন্য সরকারকে এখনই মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

যুগান্তর : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

সৈয়দ রাশেদুল হাসান : আপনাকেও ধন্যবাদ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন