উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দেশরত্ন
jugantor
উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দেশরত্ন

  ড. রাশেদা আখতার  

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের বিশ্বস্ত ঠিকানা ও বাংলার উন্নয়নের কাণ্ডারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন। জন্মদিনে বাংলার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের নেত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। তার জন্মদিন বাংলার ইতিহাসে বিভিন্ন কারণে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন।

স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ জনগণকে জানান দেয় শেখ হাসিনার জন্ম কেন বাংলার মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। স্বাধীনতাপূর্ব ও পরবর্তী বাংলাদেশকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন লালন করতেন, ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালো অধ্যায়ের পর তা স্বল্প সময়ের জন্য স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। নবগঠিত বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু যে আদর্শ, পরিকল্পনা ও স্বপ্নের ওপর দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন, তা স্বাধীনতাবিরোধী ও একাত্তরের পরাজিত শক্তির কারণে বঙ্গবন্ধু সমাপ্ত করে যেতে পারেননি। জাতির পিতার অবর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কাণ্ডারি হিসাবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিবের কোল আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শেখ মুজিব সমগ্র জীবন ব্যস্ত ছিলেন বাংলার মানুষের অধিকার ও স্বাধিকার আদায়ের জন্য। ফলে শেখ হাসিনার শৈশব ও কৈশোরের বেশিরভাগ সময় কাটে মায়ের সংস্পর্শে। বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনে ১২ বছরের অধিক সময় জেলে কাটিয়েছেন। বাবার অবর্তমানে ছোট ভাইবোনদের শিক্ষা, লালন-পালনের দায়িত্বও ছিল শেখ হাসিনার কাঁধে। পরিবারেই শেখ হাসিনার রাজনীতির হাতেখড়ি। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালে তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন এবং ঊনসত্তরের গণআন্দোলনসহ স্বাধীনতা-পূর্ব বিভিন্ন গণআন্দোলনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় নেত্রী হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু পরিবারকে এমনভাবে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করেছিল যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কেউ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে দেশে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে। আর এ কারণে নরপশুরা ছোট শিশু শেখ রাসেলকেও হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করেনি। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান আমাদের আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার স্নেহের ছোট বোন শেখ রেহানা। দুই বোন ছাড়া পরিবারের সবার মর্মান্তিক মৃত্যু তাদের অনিশ্চিত পথে ঠেলে দেয়; কিন্তু বাবা ও মা’র দেখানো পথে অক্লান্ত পরিশ্রম করে দীর্ঘ ৬ বছর ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে মনোনিবেশ করার পরপরই তিনি শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়েন এবং বারবার তাকে কারান্তরীণ করা হয়। তাকে হত্যার জন্য কমপক্ষে ১৯ বার সশস্ত্র হামলা হয়।

১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশে সরকার গঠন করে। তিনি বাবার আদর্শকে বুকে আঁকড়ে ধরে দেশ পরিচালনার ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন। তিনি ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, শিক্ষা ও গবেষণায় উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে থাকেন। ১৯৯৬ সালে দেশে ৫৫ শতাংশ মানুষ দরিদ্র ছিল। শেখ হাসিনা সরকারের দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য যুগান্তকারী কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে আজ দেশে দারিদ্র্যের হার ১২.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। দেশে শিক্ষা, রাজনীতি, অর্থনীতি, অবকাঠামোসহ প্রতিটি ক্ষেত্রকে উন্নয়নের এক মহাসড়কে নিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে খাদ্য নিরাপত্তা, সমুদ্র বিজয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় সাফল্য এসেছে।

শেখ হাসিনার শিক্ষাদর্শন আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। নারী শিক্ষা ও দুর্গম এলাকায় মানুষের মাঝে শিক্ষা বিস্তারে বর্তমান সরকার বিশ্ববাসীর রোল মডেল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের ৯৯ শতাংশ শিশু আজ শিক্ষার আওতায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিকাশে বিশেষ সহায়তা প্রদান করে চলেছেন, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উন্নয়ন বাজেট ১৪৪৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ প্রকল্প একটি মাইলফলক। আমরা মনে করি, এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়; নতুন বিভাগ এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি গবেষণার সুযোগের সম্প্রসারণ ঘটবে।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির যে বিস্তরণ, তার সংক্রমণ বাংলাদেশেও ঘটেছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা আশঙ্কা করেছিলেন, পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল রাষ্ট্র বাংলাদেশ করোনা মহামারিতে নাকাল হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিচক্ষণতার কারণে এ মহামারি ভালোভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্যোগ, মাতৃত্ব ও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি, নারীর প্রতি সহিংসতা দমন, বাল্যবিবাহ নিরোধ ইত্যাদিতে বাংলাদেশ এখন অন্যান্য দেশের কাছে অনুকরণীয়। গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০১৬ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৪টি দেশের মধ্যে ৭২তম। ২০০৬ সালে ১১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯১তম। ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় সরকার দেশকে ২০২১ সাল নাগাদ একটি মধ্য আয়ের রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে

তোলার পথ-মানচিত্র এখন ছুঁয়ে ফেলেছে।

সার্বিকভাবে লিঙ্গবৈষম্যের দিক দিয়ে বাংলাদেশ

১১১তম, যেখানে পাকিস্তান ১২৩ ও ভারত ১৩৩ নম্বরে। নারীশিক্ষা এবং নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, পৃথিবীজুড়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সময়ে চল্লিশটিরও বেশি আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন তিনি। গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক প্রদত্ত ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ লাভ করেছেন। দারিদ্র্য দূরীকরণ, পৃথিবীর সুরক্ষা এবং সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের সার্বজনীন আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের সঠিক পথে অগ্রসরের জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিসা ঢালা প্রাচীরের মতো অটল দেশপ্রেম, দৃঢ় মানসিকতা, দূরদর্শিতা ও মানবিক গুণাবলি তাকে আসীন করেছে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার, বিশ্বের অনগ্রসর দেশ ও জাতির আদর্শ শেখ হাসিনা আজ দক্ষ নেতৃত্বের রোল মডেল। তিনিই বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং বাঙালি জাতির সব আশা-ভরসার নিরাপদ আশ্রয়স্থল। তার হাত ধরেই বাঙালি জাতি এক ও অভিন্ন সত্তায় গড়ে উঠছে। তাই শেখ হাসিনার জন্মদিন গোটা বাঙালি জাতির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। জন্মদিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

অধ্যাপক ড. রাশেদা আখতার : কোষাধ্যক্ষ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দেশরত্ন

 ড. রাশেদা আখতার 
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের বিশ্বস্ত ঠিকানা ও বাংলার উন্নয়নের কাণ্ডারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন। জন্মদিনে বাংলার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের নেত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। তার জন্মদিন বাংলার ইতিহাসে বিভিন্ন কারণে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন।

স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ জনগণকে জানান দেয় শেখ হাসিনার জন্ম কেন বাংলার মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। স্বাধীনতাপূর্ব ও পরবর্তী বাংলাদেশকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন লালন করতেন, ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালো অধ্যায়ের পর তা স্বল্প সময়ের জন্য স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। নবগঠিত বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু যে আদর্শ, পরিকল্পনা ও স্বপ্নের ওপর দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন, তা স্বাধীনতাবিরোধী ও একাত্তরের পরাজিত শক্তির কারণে বঙ্গবন্ধু সমাপ্ত করে যেতে পারেননি। জাতির পিতার অবর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কাণ্ডারি হিসাবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিবের কোল আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শেখ মুজিব সমগ্র জীবন ব্যস্ত ছিলেন বাংলার মানুষের অধিকার ও স্বাধিকার আদায়ের জন্য। ফলে শেখ হাসিনার শৈশব ও কৈশোরের বেশিরভাগ সময় কাটে মায়ের সংস্পর্শে। বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনে ১২ বছরের অধিক সময় জেলে কাটিয়েছেন। বাবার অবর্তমানে ছোট ভাইবোনদের শিক্ষা, লালন-পালনের দায়িত্বও ছিল শেখ হাসিনার কাঁধে। পরিবারেই শেখ হাসিনার রাজনীতির হাতেখড়ি। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালে তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন এবং ঊনসত্তরের গণআন্দোলনসহ স্বাধীনতা-পূর্ব বিভিন্ন গণআন্দোলনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় নেত্রী হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু পরিবারকে এমনভাবে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করেছিল যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কেউ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে দেশে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে। আর এ কারণে নরপশুরা ছোট শিশু শেখ রাসেলকেও হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করেনি। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান আমাদের আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার স্নেহের ছোট বোন শেখ রেহানা। দুই বোন ছাড়া পরিবারের সবার মর্মান্তিক মৃত্যু তাদের অনিশ্চিত পথে ঠেলে দেয়; কিন্তু বাবা ও মা’র দেখানো পথে অক্লান্ত পরিশ্রম করে দীর্ঘ ৬ বছর ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে মনোনিবেশ করার পরপরই তিনি শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়েন এবং বারবার তাকে কারান্তরীণ করা হয়। তাকে হত্যার জন্য কমপক্ষে ১৯ বার সশস্ত্র হামলা হয়।

১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশে সরকার গঠন করে। তিনি বাবার আদর্শকে বুকে আঁকড়ে ধরে দেশ পরিচালনার ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন। তিনি ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, শিক্ষা ও গবেষণায় উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে থাকেন। ১৯৯৬ সালে দেশে ৫৫ শতাংশ মানুষ দরিদ্র ছিল। শেখ হাসিনা সরকারের দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য যুগান্তকারী কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে আজ দেশে দারিদ্র্যের হার ১২.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। দেশে শিক্ষা, রাজনীতি, অর্থনীতি, অবকাঠামোসহ প্রতিটি ক্ষেত্রকে উন্নয়নের এক মহাসড়কে নিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে খাদ্য নিরাপত্তা, সমুদ্র বিজয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় সাফল্য এসেছে।

শেখ হাসিনার শিক্ষাদর্শন আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। নারী শিক্ষা ও দুর্গম এলাকায় মানুষের মাঝে শিক্ষা বিস্তারে বর্তমান সরকার বিশ্ববাসীর রোল মডেল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের ৯৯ শতাংশ শিশু আজ শিক্ষার আওতায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিকাশে বিশেষ সহায়তা প্রদান করে চলেছেন, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উন্নয়ন বাজেট ১৪৪৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ প্রকল্প একটি মাইলফলক। আমরা মনে করি, এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়; নতুন বিভাগ এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি গবেষণার সুযোগের সম্প্রসারণ ঘটবে।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির যে বিস্তরণ, তার সংক্রমণ বাংলাদেশেও ঘটেছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা আশঙ্কা করেছিলেন, পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল রাষ্ট্র বাংলাদেশ করোনা মহামারিতে নাকাল হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিচক্ষণতার কারণে এ মহামারি ভালোভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্যোগ, মাতৃত্ব ও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি, নারীর প্রতি সহিংসতা দমন, বাল্যবিবাহ নিরোধ ইত্যাদিতে বাংলাদেশ এখন অন্যান্য দেশের কাছে অনুকরণীয়। গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০১৬ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৪টি দেশের মধ্যে ৭২তম। ২০০৬ সালে ১১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯১তম। ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় সরকার দেশকে ২০২১ সাল নাগাদ একটি মধ্য আয়ের রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে

তোলার পথ-মানচিত্র এখন ছুঁয়ে ফেলেছে।

সার্বিকভাবে লিঙ্গবৈষম্যের দিক দিয়ে বাংলাদেশ

১১১তম, যেখানে পাকিস্তান ১২৩ ও ভারত ১৩৩ নম্বরে। নারীশিক্ষা এবং নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, পৃথিবীজুড়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সময়ে চল্লিশটিরও বেশি আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন তিনি। গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক প্রদত্ত ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ লাভ করেছেন। দারিদ্র্য দূরীকরণ, পৃথিবীর সুরক্ষা এবং সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের সার্বজনীন আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের সঠিক পথে অগ্রসরের জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিসা ঢালা প্রাচীরের মতো অটল দেশপ্রেম, দৃঢ় মানসিকতা, দূরদর্শিতা ও মানবিক গুণাবলি তাকে আসীন করেছে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার, বিশ্বের অনগ্রসর দেশ ও জাতির আদর্শ শেখ হাসিনা আজ দক্ষ নেতৃত্বের রোল মডেল। তিনিই বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং বাঙালি জাতির সব আশা-ভরসার নিরাপদ আশ্রয়স্থল। তার হাত ধরেই বাঙালি জাতি এক ও অভিন্ন সত্তায় গড়ে উঠছে। তাই শেখ হাসিনার জন্মদিন গোটা বাঙালি জাতির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। জন্মদিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

অধ্যাপক ড. রাশেদা আখতার : কোষাধ্যক্ষ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন