যেখানে অনন্য শেখ হাসিনা
jugantor
যেখানে অনন্য শেখ হাসিনা

  মেহেদী হাসান বাবু  

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার নিভৃত পল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুননেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা। ডিজিটাল ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রবক্তা এ নেত্রী ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেন এবং ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। এরপর ২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবার তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ যাত্রায় অনেক বন্ধুর পথ তাকে অতিক্রম করতে হয়েছে। তিনি কারাভোগ করেছেন, একাধিকবার গৃহবন্দি ছিলেন। চারবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। তিনি প্রায় তিন দশক ধরে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর নিভে গিয়েছিল সম্ভাবনার অনন্ত দুয়ার। আমাদের সৌভাগ্য বঙ্গবন্ধু রেখে গেছেন তার যোগ্য উত্তরসূরি। ১৯৭৫-এর সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে বিদেশে থাকার কারণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা। কিন্তু ঘাতকদের ষড়যন্ত্র আর অনিরাপত্তার কারণে পরিবারের সবাইকে হারানোর পরও দীর্ঘ ৬ বছর দেশে ফিরতে পারেননি তারা।

প্রতিকূলতার মাঝেই দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এক সময় চাঙা হয়ে ওঠেন; নতুন করে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে বলীয়ান হয়ে ওঠেন। তখন শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই নেতা-কর্মীরা কাউন্সিলের মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করেন। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে। প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। এরপর ২০০৮ সালে দ্বিতীয়, ২০১৪ সালে তৃতীয় ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।

পিতামাতা হারা নিঃস্ব, সর্বস্বান্ত অবস্থায় জনগণের ডাকে বাংলাদেশে ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। দেশে এসেই আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার কাজে মনোনিবেশ করেন তিনি। তিনি হতাশাগ্রস্ত কর্মীদের উজ্জীবিত করেন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার জন্য দেশব্যাপী সফর করে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করেন। তিনি ফিরেছিলেন বলেই পালটে গেছে বাংলাদেশের গতিপথ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের রাজনীতিতে নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে সাধারণ মানুষের দাবি-দাওয়া আদায়ে বরাবরের মতোই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত গণমানুষের দল হিসাবে তৃণমূল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়েও সুদৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছে দলটি। আমাদের গৌরবের ইতিহাস মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছে। পাশাপাশি ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং সত্তরের নির্বাচনে দলটির দায়িত্বশীল ও সংগ্রামী ভূমিকা মুক্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে আন্দোলিত করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও যৌক্তিক দাবি আদায়ে নেতৃত্বের ভূমিকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভূমিকা অগ্রগণ্য।

প্রতিটি ইতিবাচক আন্দোলন সংগ্রামের প্রথম সারিতে রাজনৈতিক দল হিসাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যথোপযুক্ত ভূমিকা পালন করে দলটি মানুষের মন জয় করেছে। বাঙালির ঐতিহ্য, বাংলার সংস্কৃতি ও সভ্যতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দলটি সৃষ্টিলগ্ন থেকেই মুক্তবুদ্ধির চর্চায় নৈপুণ্য দেখিয়েছে।

শেখ হাসিনার চলার পথ কখনোই মসৃণ ছিল না; কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করেই তিনি আজকের অবস্থানে এসেছেন। বহুবার আক্রমণ হয়েছে তার ওপর, মৌলবাদী গোষ্ঠী শেখ হাসিনাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে এখনো সোচ্চার। এমন বহু বাধা অতিক্রম করেই নিরলস দায়িত্ব পালন করে চলেছেন তিনি।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস হামলা সংঘটিত হয়েছিল খুনি চক্রের মদদে। হামলাকারীরা মনে করেছে, শেখ হাসিনাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে পারলেই তাদের স্বার্থ রক্ষা হবে। কিন্তু সেদিন সৃষ্টিকর্তার মহিমায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা, সেদিন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা যে মানবঢাল তৈরি করেছিলেন সেটিও বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণ বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে। সর্বশেষ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে তিনি মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনাকে মাদার অব হিউম্যানিটি পদকে ভূষিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

শেখ হাসিনার বিচক্ষণ ও সাহসী নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে; উন্নয়নের অনেক সূচকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশ থেকে এগিয়ে রয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ধরে রাখতে সম্প্রতি বিভিন্ন খাতে সময়োপযোগী প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার, যা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। এ কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা-পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণে বিশ্বনেতাদের প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। শুভ জন্মদিন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

মেহেদী হাসান বাবু : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

যেখানে অনন্য শেখ হাসিনা

 মেহেদী হাসান বাবু 
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার নিভৃত পল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুননেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা। ডিজিটাল ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রবক্তা এ নেত্রী ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেন এবং ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। এরপর ২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবার তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ যাত্রায় অনেক বন্ধুর পথ তাকে অতিক্রম করতে হয়েছে। তিনি কারাভোগ করেছেন, একাধিকবার গৃহবন্দি ছিলেন। চারবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। তিনি প্রায় তিন দশক ধরে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর নিভে গিয়েছিল সম্ভাবনার অনন্ত দুয়ার। আমাদের সৌভাগ্য বঙ্গবন্ধু রেখে গেছেন তার যোগ্য উত্তরসূরি। ১৯৭৫-এর সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে বিদেশে থাকার কারণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা। কিন্তু ঘাতকদের ষড়যন্ত্র আর অনিরাপত্তার কারণে পরিবারের সবাইকে হারানোর পরও দীর্ঘ ৬ বছর দেশে ফিরতে পারেননি তারা।

প্রতিকূলতার মাঝেই দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এক সময় চাঙা হয়ে ওঠেন; নতুন করে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে বলীয়ান হয়ে ওঠেন। তখন শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই নেতা-কর্মীরা কাউন্সিলের মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করেন। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে। প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। এরপর ২০০৮ সালে দ্বিতীয়, ২০১৪ সালে তৃতীয় ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।

পিতামাতা হারা নিঃস্ব, সর্বস্বান্ত অবস্থায় জনগণের ডাকে বাংলাদেশে ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। দেশে এসেই আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার কাজে মনোনিবেশ করেন তিনি। তিনি হতাশাগ্রস্ত কর্মীদের উজ্জীবিত করেন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার জন্য দেশব্যাপী সফর করে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করেন। তিনি ফিরেছিলেন বলেই পালটে গেছে বাংলাদেশের গতিপথ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের রাজনীতিতে নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে সাধারণ মানুষের দাবি-দাওয়া আদায়ে বরাবরের মতোই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত গণমানুষের দল হিসাবে তৃণমূল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়েও সুদৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছে দলটি। আমাদের গৌরবের ইতিহাস মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছে। পাশাপাশি ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং সত্তরের নির্বাচনে দলটির দায়িত্বশীল ও সংগ্রামী ভূমিকা মুক্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে আন্দোলিত করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও যৌক্তিক দাবি আদায়ে নেতৃত্বের ভূমিকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভূমিকা অগ্রগণ্য।

প্রতিটি ইতিবাচক আন্দোলন সংগ্রামের প্রথম সারিতে রাজনৈতিক দল হিসাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যথোপযুক্ত ভূমিকা পালন করে দলটি মানুষের মন জয় করেছে। বাঙালির ঐতিহ্য, বাংলার সংস্কৃতি ও সভ্যতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দলটি সৃষ্টিলগ্ন থেকেই মুক্তবুদ্ধির চর্চায় নৈপুণ্য দেখিয়েছে।

শেখ হাসিনার চলার পথ কখনোই মসৃণ ছিল না; কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করেই তিনি আজকের অবস্থানে এসেছেন। বহুবার আক্রমণ হয়েছে তার ওপর, মৌলবাদী গোষ্ঠী শেখ হাসিনাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে এখনো সোচ্চার। এমন বহু বাধা অতিক্রম করেই নিরলস দায়িত্ব পালন করে চলেছেন তিনি।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস হামলা সংঘটিত হয়েছিল খুনি চক্রের মদদে। হামলাকারীরা মনে করেছে, শেখ হাসিনাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে পারলেই তাদের স্বার্থ রক্ষা হবে। কিন্তু সেদিন সৃষ্টিকর্তার মহিমায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা, সেদিন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা যে মানবঢাল তৈরি করেছিলেন সেটিও বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণ বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে। সর্বশেষ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে তিনি মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনাকে মাদার অব হিউম্যানিটি পদকে ভূষিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

শেখ হাসিনার বিচক্ষণ ও সাহসী নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে; উন্নয়নের অনেক সূচকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশ থেকে এগিয়ে রয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ধরে রাখতে সম্প্রতি বিভিন্ন খাতে সময়োপযোগী প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার, যা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। এ কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা-পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণে বিশ্বনেতাদের প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। শুভ জন্মদিন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

মেহেদী হাসান বাবু : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন