চলে গেলেন মানবিক বাংলাদেশের অগ্রদূত
jugantor
চলে গেলেন মানবিক বাংলাদেশের অগ্রদূত

  ড. সৌমিত্র শেখর  

০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিজয়ের মাস শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিন চিরতরে চলে গেলেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। তার চলে যাওয়ার সংবাদটি যখন পাই, তখন আমি তারই অতিপ্রিয় বাংলা বিভাগে অবস্থান করছিলাম।

সহকর্মীরা শোকস্তব্ধ হলেন : অভিভাবকশূন্য হওয়ার শোক পেলাম সবাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ ছিল তার ধ্যানবিন্দু আর বাংলা ও বাঙালির উৎকর্ষ সাধন ছিল তার কর্মের মূলে। শেষ সময় পর্যন্ত তিনি কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন। মস্তিষ্ক ছিল খুবই সজাগ, কিন্তু লেখার ক্ষেত্রে খানিকটা স্থবিরতা এসেছিল।

আমার তত্ত্বাবধানে ফাদার প্রদীপ পেরেজ বাঙালি খ্রিষ্টান সমাজে সাধু আন্তনিওর গীতি ও তার প্রভাব নিয়ে পিএইচ.ডি গবেষণা করেছেন। তার পরীক্ষক ছিলেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। করোনাকালে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এনে পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব ছিল না বলে তার উত্তরাস্থ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল মৌখিক পরীক্ষা। এটিই ছিল রফিকুল ইসলামের শেষ পিএইচ.ডি অভিসন্দর্ভ মূল্যায়ন।

তিনি খুবই প্রশংসা করেছিলেন প্রদীপের। বাঙালি সমাজে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের আচার-আচরণ ও চর্চিত সাহিত্য যে মূল বাঙালি সমাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া দরকার, এ কথা তিনি গভীর প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেছিলেন। তার এই চেতনা নতুন নয়। যৌবন থেকে পাকিস্তানিদের বিপক্ষে অবস্থান করে বাঙালির সর্বধর্মমতের যে সংস্কৃতি তিনি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন, এ কথা তারই বিকশিত কুসুম।

যে সময় তিনি জন্মেছিলেন, সেটি ভারতভাগের কিছুকাল আগে, ১৯৩৪ সাল। তার তরুণ বয়সের সূচনালগ্নে পাকিস্তানপ্রাপ্তি ঘটে। কিন্তু পাকিস্তান যে বাঙালি সত্তার মর্যাদা দেয়নি, তা তিনি যৌবন আগমনের আগেভাগেই বুঝে যান। ততদিনে জন্মস্থান চাঁদপুরের মতলব থেকে তিনি ঢাকায় এসে গেছেন, থাকছেন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকালে তার বয়স মাত্র চৌদ্দ। কিন্তু এ সময়েই হাতে ক্যামেরা নিয়ে তিনি আন্দোলনের ছবি তুলেছিলেন।

আজ প্রমাণিত হয়েছে, এটিও আন্দোলন নিশ্চয়। বিশেষ করে ফটোগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের যে ইতিহাস ধরা আছে, তা অনেক বেশি জীবন্ত। আমাকে তিনি বলেছিলেন, এই ফটোগুলো তুলতে তিনি কখনো ছাদে, কখনো গাছে পর্যন্ত উঠেছিলেন। ব্যক্তিগত আগ্রহে এমন ঐতিহাসিক ফটো তোলার দৃষ্টান্ত সেকালে বিরল। পরে এই ফটোর অনেক রিল হারিয়ে গেছে। অনেকে প্রদর্শনীর জন্য ফটো তৈরি করবেন বলে নিয়ে আর ফেরত না দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। মানে ও সংখ্যায় তার তোলা সব ফটোই মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ। ‘ফটোগ্রাফিক হিস্ট্রি’ হিসাবে তার তোলা সেসব ফটোর পৃথক গুরুত্ব আছে নিশ্চয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষক হিসাবে তিনি অর্ধযুগের বেশি সময় অতিবাহিত করেছেন। ভাষাতত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। নজরুলের ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম পিএইচ.ডি লাভ করেন তিনি। নজরুলের জীবন ও কর্মের ওপর অধিকার তার ছিল অন্যের চেয়ে অনেক বেশি। নজরুলের জীবন ও সৃষ্টি তিনি নতুন করে আবিষ্কার ও ব্যাখ্যা করেছেন।

ফলে বাংলাদেশে নজরুল-মূল্যায়নের ধারাটি তিনি বদলাতে পেরেছিলেন। আর নজরুলের গানের শুদ্ধ প্রয়োগের ব্যাপারে তার অবদান অনস্বীকার্য। আজ তাকে নজরুল-গবেষক হিসাবে অনেকে মনে করলেও ব্যাকরণ ও ভাষাতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি; বইও লিখেছেন। তার ‘বাংলা ব্যাকরণ সমীক্ষা’ ও ‘ভাষাতত্ত্ব’ গ্রন্থ দুটো এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায়। ‘ভাষাতাত্ত্বিক প্রবন্ধাবলী’ গ্রন্থটির নামও এখানে স্মরণ করা চলে।

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম একাধারে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী প্রখর বুদ্ধিজীবী, বৈয়াকরণিক ও ভাষাতাত্ত্বিক, নজরুল-বিশেষজ্ঞ, বাঙালি সংস্কৃতি বিকাশের অগ্রনায়ক। তার রচিত ‘ভাষা আন্দোলন ও শহিদ মিনার’, ‘ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য’, ‘বাংলা ভাষা : সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন’ গ্রন্থে তার ভাষা ও সংস্কৃতিচিন্তা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি লিখেছেন : বাঙালির ভাষা বাংলাদেশ থেকেই বিকশিত হবে এবং এর ওপর যে কোনো ধরনের খবরদারি খর্ব হতে বাধ্য। কারণ, বাঙালি ভাষার ওপর জবরদস্তি মেনে নেয় না।

‘বীরের এ রক্তস্রোত মাতার এ অশ্রুধারা’ গ্রন্থটি তিনি লিখেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অল্প কিছুদিন পরে, বের হয়েছিল বাংলা একাডেমি থেকে। এ বইয়ে আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের ভিন্ন এক রূপ তুলে ধরা হয়েছে। আর ‘নজরুল-নির্দেশিকা’, ‘নজরুল-জীবনী’, ‘কাজী নজরুল ইসলাম : জীবন ও কবিতা’, ‘নজরুল সাহিত্য’, ‘নজরুল সমীক্ষা’, ‘নজরুল স্মৃতিচারণ’ গ্রন্থগুলোয় নজরুল-সাহিত্যের আধুনিক মূল্যায়ন করে রফিকুল ইসলাম দেখিয়েছেন, রবীন্দ্র-সমকালে নজরুল যে সাহিত্য সৃষ্টি করেন, তা শুধু ঔপনিবেশিকতা বিরোধিতায়ই নয়, আঙ্গিকের নতুনত্বেও ভাস্বর। নজরুল যে চেতনার বিস্তার ঘটিয়েছিলেন, সেই চেতনাই তিনি ছড়াতে চেয়েছেন সবখানে।

একজীবনে সব করা মানুষের পক্ষে সম্ভবপর নয়। রফিকুল ইসলাম দেখিয়েছেন, আদর্শিকভাবে দৃঢ় থাকলে একজীবনে সব করা অনেকটাই সম্ভব। পাকিস্তান আমল থেকে যে আদর্শিক দৃঢ়তা নিয়ে তিনি ছিলেন, তা থেকে কখনো পিছিয়ে আসেননি। তিনি চেয়েছিলেন বাংলা ভাষার একটি সুসংস্কৃত সমতাচেতনার রাষ্ট্র-দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তা-ই তিনি চেয়ে গেছেন।

আমরা একটি দেশ পেয়েছি-সেই দেশের স্বাধীনতার পর পঞ্চাশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে; এখন প্রয়োজন সংস্কৃতিময় প্রশান্তি। ভৌত অবকাঠামোর সঙ্গে মানুষের আন্তঃসম্পর্কের উন্নয়নের মাধ্যমেই সেটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব; যেটি হবে মানবিক বাংলাদেশ। জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এজন্যই তার ছাত্রছাত্রীদের শেষ পর্যন্ত উজ্জীবিত করে গেছেন।

ড. সৌমিত্র শেখর : অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

চলে গেলেন মানবিক বাংলাদেশের অগ্রদূত

 ড. সৌমিত্র শেখর 
০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিজয়ের মাস শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিন চিরতরে চলে গেলেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। তার চলে যাওয়ার সংবাদটি যখন পাই, তখন আমি তারই অতিপ্রিয় বাংলা বিভাগে অবস্থান করছিলাম।

সহকর্মীরা শোকস্তব্ধ হলেন : অভিভাবকশূন্য হওয়ার শোক পেলাম সবাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ ছিল তার ধ্যানবিন্দু আর বাংলা ও বাঙালির উৎকর্ষ সাধন ছিল তার কর্মের মূলে। শেষ সময় পর্যন্ত তিনি কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন। মস্তিষ্ক ছিল খুবই সজাগ, কিন্তু লেখার ক্ষেত্রে খানিকটা স্থবিরতা এসেছিল।

আমার তত্ত্বাবধানে ফাদার প্রদীপ পেরেজ বাঙালি খ্রিষ্টান সমাজে সাধু আন্তনিওর গীতি ও তার প্রভাব নিয়ে পিএইচ.ডি গবেষণা করেছেন। তার পরীক্ষক ছিলেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। করোনাকালে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এনে পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব ছিল না বলে তার উত্তরাস্থ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল মৌখিক পরীক্ষা। এটিই ছিল রফিকুল ইসলামের শেষ পিএইচ.ডি অভিসন্দর্ভ মূল্যায়ন।

তিনি খুবই প্রশংসা করেছিলেন প্রদীপের। বাঙালি সমাজে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের আচার-আচরণ ও চর্চিত সাহিত্য যে মূল বাঙালি সমাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া দরকার, এ কথা তিনি গভীর প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেছিলেন। তার এই চেতনা নতুন নয়। যৌবন থেকে পাকিস্তানিদের বিপক্ষে অবস্থান করে বাঙালির সর্বধর্মমতের যে সংস্কৃতি তিনি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন, এ কথা তারই বিকশিত কুসুম।

যে সময় তিনি জন্মেছিলেন, সেটি ভারতভাগের কিছুকাল আগে, ১৯৩৪ সাল। তার তরুণ বয়সের সূচনালগ্নে পাকিস্তানপ্রাপ্তি ঘটে। কিন্তু পাকিস্তান যে বাঙালি সত্তার মর্যাদা দেয়নি, তা তিনি যৌবন আগমনের আগেভাগেই বুঝে যান। ততদিনে জন্মস্থান চাঁদপুরের মতলব থেকে তিনি ঢাকায় এসে গেছেন, থাকছেন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকালে তার বয়স মাত্র চৌদ্দ। কিন্তু এ সময়েই হাতে ক্যামেরা নিয়ে তিনি আন্দোলনের ছবি তুলেছিলেন।

আজ প্রমাণিত হয়েছে, এটিও আন্দোলন নিশ্চয়। বিশেষ করে ফটোগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের যে ইতিহাস ধরা আছে, তা অনেক বেশি জীবন্ত। আমাকে তিনি বলেছিলেন, এই ফটোগুলো তুলতে তিনি কখনো ছাদে, কখনো গাছে পর্যন্ত উঠেছিলেন। ব্যক্তিগত আগ্রহে এমন ঐতিহাসিক ফটো তোলার দৃষ্টান্ত সেকালে বিরল। পরে এই ফটোর অনেক রিল হারিয়ে গেছে। অনেকে প্রদর্শনীর জন্য ফটো তৈরি করবেন বলে নিয়ে আর ফেরত না দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। মানে ও সংখ্যায় তার তোলা সব ফটোই মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ। ‘ফটোগ্রাফিক হিস্ট্রি’ হিসাবে তার তোলা সেসব ফটোর পৃথক গুরুত্ব আছে নিশ্চয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষক হিসাবে তিনি অর্ধযুগের বেশি সময় অতিবাহিত করেছেন। ভাষাতত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। নজরুলের ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম পিএইচ.ডি লাভ করেন তিনি। নজরুলের জীবন ও কর্মের ওপর অধিকার তার ছিল অন্যের চেয়ে অনেক বেশি। নজরুলের জীবন ও সৃষ্টি তিনি নতুন করে আবিষ্কার ও ব্যাখ্যা করেছেন।

ফলে বাংলাদেশে নজরুল-মূল্যায়নের ধারাটি তিনি বদলাতে পেরেছিলেন। আর নজরুলের গানের শুদ্ধ প্রয়োগের ব্যাপারে তার অবদান অনস্বীকার্য। আজ তাকে নজরুল-গবেষক হিসাবে অনেকে মনে করলেও ব্যাকরণ ও ভাষাতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি; বইও লিখেছেন। তার ‘বাংলা ব্যাকরণ সমীক্ষা’ ও ‘ভাষাতত্ত্ব’ গ্রন্থ দুটো এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায়। ‘ভাষাতাত্ত্বিক প্রবন্ধাবলী’ গ্রন্থটির নামও এখানে স্মরণ করা চলে।

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম একাধারে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী প্রখর বুদ্ধিজীবী, বৈয়াকরণিক ও ভাষাতাত্ত্বিক, নজরুল-বিশেষজ্ঞ, বাঙালি সংস্কৃতি বিকাশের অগ্রনায়ক। তার রচিত ‘ভাষা আন্দোলন ও শহিদ মিনার’, ‘ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য’, ‘বাংলা ভাষা : সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন’ গ্রন্থে তার ভাষা ও সংস্কৃতিচিন্তা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি লিখেছেন : বাঙালির ভাষা বাংলাদেশ থেকেই বিকশিত হবে এবং এর ওপর যে কোনো ধরনের খবরদারি খর্ব হতে বাধ্য। কারণ, বাঙালি ভাষার ওপর জবরদস্তি মেনে নেয় না।

‘বীরের এ রক্তস্রোত মাতার এ অশ্রুধারা’ গ্রন্থটি তিনি লিখেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অল্প কিছুদিন পরে, বের হয়েছিল বাংলা একাডেমি থেকে। এ বইয়ে আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের ভিন্ন এক রূপ তুলে ধরা হয়েছে। আর ‘নজরুল-নির্দেশিকা’, ‘নজরুল-জীবনী’, ‘কাজী নজরুল ইসলাম : জীবন ও কবিতা’, ‘নজরুল সাহিত্য’, ‘নজরুল সমীক্ষা’, ‘নজরুল স্মৃতিচারণ’ গ্রন্থগুলোয় নজরুল-সাহিত্যের আধুনিক মূল্যায়ন করে রফিকুল ইসলাম দেখিয়েছেন, রবীন্দ্র-সমকালে নজরুল যে সাহিত্য সৃষ্টি করেন, তা শুধু ঔপনিবেশিকতা বিরোধিতায়ই নয়, আঙ্গিকের নতুনত্বেও ভাস্বর। নজরুল যে চেতনার বিস্তার ঘটিয়েছিলেন, সেই চেতনাই তিনি ছড়াতে চেয়েছেন সবখানে।

একজীবনে সব করা মানুষের পক্ষে সম্ভবপর নয়। রফিকুল ইসলাম দেখিয়েছেন, আদর্শিকভাবে দৃঢ় থাকলে একজীবনে সব করা অনেকটাই সম্ভব। পাকিস্তান আমল থেকে যে আদর্শিক দৃঢ়তা নিয়ে তিনি ছিলেন, তা থেকে কখনো পিছিয়ে আসেননি। তিনি চেয়েছিলেন বাংলা ভাষার একটি সুসংস্কৃত সমতাচেতনার রাষ্ট্র-দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তা-ই তিনি চেয়ে গেছেন।

আমরা একটি দেশ পেয়েছি-সেই দেশের স্বাধীনতার পর পঞ্চাশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে; এখন প্রয়োজন সংস্কৃতিময় প্রশান্তি। ভৌত অবকাঠামোর সঙ্গে মানুষের আন্তঃসম্পর্কের উন্নয়নের মাধ্যমেই সেটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব; যেটি হবে মানবিক বাংলাদেশ। জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এজন্যই তার ছাত্রছাত্রীদের শেষ পর্যন্ত উজ্জীবিত করে গেছেন।

ড. সৌমিত্র শেখর : অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন