নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে

  ড. বদিউল আলম মজুমদার ১৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মতামত

একটি নির্বাচনের মূল্যায়ন করতে হয় কতগুলো মানদণ্ডের ভিত্তিতে। এগুলো হল- ১. ভোটার তালিকা নিয়ে কোনো সমস্যা আছে কিনা, ২. যারা প্রার্থী হতে চেয়েছেন, তারা প্রার্থী হতে পেরেছেন কিনা, ৩. ভোটারদের সামনে বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প ছিল কিনা, ৪. ভোটাররা নির্বিঘ্নে অর্থাৎ কোনোরকম চাপ ও প্ররোচনামুক্তভাবে ভোট দিতে পেরেছে কিনা, ৫. ভোট গণনা সতর্কতার সঙ্গে হয়েছে কিনা, ৬. পুরো প্রক্রিয়াটি বিশ্বাসযোগ্য ছিল কিনা।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটার তালিকা নিয়ে কোনো প্রশ্ন আমরা শুনিনি। যারা প্রার্থী হতে চেয়েছেন, তারা প্রার্থী হতে পেরেছেন। পাঁচজন প্রার্থী ছিলেন, তাদের মধ্যে প্রধান দুটি দলের শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন। ভোট গণনা সম্পর্কে আমরা কোনো প্রশ্ন শুনিনি। তবে নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বেশকিছু প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে। প্রার্থীদের যে হলফনামা দাখিল করতে হয় তা নিয়ে অনেক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। হলফনামায় ভুল তথ্য দিলে মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে। একইভাবে তথ্য গোপন করে কেউ নির্বাচিত হলে তার নির্বাচন বাতিল হতে পারে। কাজেই এটি নির্বাচন কমিশনের একটি বড় অস্ত্র। কমিশন কেন এটি ব্যবহার করল না, তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। এ অস্ত্র ব্যবহার করা হলে তার সুদূরপ্রসারী ফল পাওয়া যেত। যদি তারা এই পাঁচ প্রার্থীর হলফনামা যাচাই-বাছাই করে দেখত, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনগুলোয় যারা অনাকাক্সিক্ষত ব্যক্তি, যাদের অতীত সম্পর্কে অনেক কিছু লুকানো থাকে, তারা নির্বাচন অঙ্গন থেকে দূরে থাকত। ফলে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনটা কলুষমুক্ত হওয়ার একটা সুযোগ সৃষ্টি হতো। আমি মনে করি, নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ব্যাপারে বহু অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এটিও তাদের একটি ব্যর্থতা।

রিটার্নিং অফিসার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন তার ব্যাপারে তদন্ত না করে, কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে নির্বাচন দেখভাল করতে দেয়। নির্বাচন মনিটরিংয়ে ইসির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এটি অভূতপূর্ব। এমনটি আগে কখনও ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হল সর্বেসর্বা। এই ব্যক্তির ক্ষমতাকে খর্ব করা কোনোভাবে কাঙ্ক্ষিত ছিল না। এটিও নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

আমরা একটি গণমাধ্যমে দেখেছি, তারা ৮০টি কেন্দ্রে গিয়েছে। তার মধ্যে ৬০টিতেই বিরোধীদলীয় প্রার্থীর কোনো পোলিং এজেন্ট পায়নি। এছাড়া বাচ্চাদের ভোট দেয়া, কিছু কেন্দ্র দখল হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কাজেই আপাতদৃষ্টিতে নির্বাচনে কোনোরকম বড় ধরনের অঘটন, সহিংসতা না ঘটলেও সবকিছু যে ভালোভাবে হয়েছে, তা-ও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশনের এখন উচিত অভিযোগগুলো চুলচেরা খতিয়ে দেখা। যারা এর জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য এবং কিছু নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। তাদের ব্যাপারেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

ড. বদিউল আলম মজুমদার : সম্পাদক, সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক)

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter