ঘটনাটি ছিল জাতীয় ইতিহাসের আশীর্বাদ

  হারুন হাবীব ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু

পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্ত স্বদেশভূমিতে ফিরে আসার ঘটনা বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসের আরেক আশীর্বাদ। পাকিস্তানের শাসকরা যেখানে তাকে হত্যা করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল, সেখানে বঙ্গবন্ধুর সসম্মানে ফিরে আসার সব প্রস্তুতি তাদেরই সম্পন্ন করতে হয়। এ সিদ্ধান্তের পেছনে একদিকে ছিল প্রবল আন্তর্জাতিক চাপ, অন্যদিকে বাংলাদেশের মাটিতে পরাজিত ও আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সৈন্যদের নিরাপদে স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়ার তাগিদ।

বলাই বাহুল্য, বঙ্গবন্ধুর মুক্তির প্রশ্নে এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর ব্যক্তিগত ও তার নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের ভূমিকা অপরিসীম, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তান যেন বঙ্গবন্ধুর তথাকথিত বিচার সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, তিনি যেন সসম্মানে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রে ধরনা দিয়েছেন ইন্দিরা গান্ধী। শেখ মুজিবের মুক্তিকে বাংলাদেশ সংকট সমাধানের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে গোটা বিশ্বে প্রবল প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি। এরপরও বঙ্গবন্ধুকে যখন প্রহসনমূলক গোপন বিচারে হত্যা করার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত করা হয় তখন, ১১ আগস্ট ১৯৭১, ২৪ শীর্ষ বিশ্ব রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে ব্যক্তিগত আবেদন পাঠান ইন্দিরা গান্ধী। ঠিক একই সময় শেখ মুজিবুর রহমানের প্রাণদণ্ড না দেয়ার বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে শক্ত ভাষায় সতর্ক করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব, ব্রিটেন ও ফ্রান্সও বঙ্গবন্ধুর মুক্তির ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

হোয়াইট হাউসে শ্রীমতী গান্ধী মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন ৪ নভেম্বর ১৯৭১, যে বৈঠকের মূল প্রসঙ্গ ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি। কিন্তু আলোচনা ব্যর্থ হয়। নিক্সন ও কিসিঞ্জার বিলক্ষণ অনুধাবন করেন ইন্দিরা গান্ধীকে বাগে আনা যাবে না, বাংলাদেশ প্রশ্নে তিনি একচুলও ছাড় দেবেন না। কার্যত বাংলাদেশ প্রশ্নে লাগাতার চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা এবং ওয়াশিংটনের দুর্ভাগ্যজনক পাকিস্তানপন্থী কৌশলগুলো অকার্যকর পরিণত করেন ইন্দিরা গান্ধী। তার যুক্তি, দৃঢ়তা এবং বিস্ময়কর আন্তর্জাতিক জনসংযোগের ফলে বিশ্ব জনমত বাংলাদেশের পক্ষে আসে।

এদিকে মুক্তিবাহিনীর ক্রমাগত আক্রমণে অক্টোবর-নভেম্বর থেকে পাকিস্তান বাহিনী ব্যাপকভাবে পর্যুদস্ত হতে থাকে। ৩ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিম অংশে পাকিস্তান আকস্মিক আক্রমণ চালালে যুদ্ধ পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। গঠিত হয় ‘বাংলাদেশ-ভারত যৌথ সামরিক কমান্ড’। একইদিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতিয়ালিতে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক বসে। সে বৈঠকে ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর করার প্রস্তাব আনা হয়। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’বার ‘ভেটো’ প্রদান করে প্রস্তাবটিকে অকার্যকর করে দেয়। এর ফলে যৌথ বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ পাকিস্তান বাহিনী দ্রুত পরাজয়বরণ করতে থাকে এবং আত্মসমর্পণের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়।

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। পাকিস্তান বাহিনী মুক্ত ঢাকায় লাখো মানুষের আকাশ ফাটানো জয় বাংলা ধ্বনির মধ্যে আত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশ পরিপূর্ণভাবে শত্রুমুক্ত হয়। ২১ ডিসেম্বর ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস তাদের সরকারের কাছে দুটি সুপারিশ পাঠায় : দ্রুত বাংলাদেশ সরকারকে মেনে নেয়া এবং অবিলম্বে শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে পাকিস্তান সরকারকে চাপ প্রয়োগ করা।

ইন্দিরা গান্ধী বিলক্ষণ অনুধাবন করেন, পাকিস্তান কেবল পরাজিতই নয়, দেশটির প্রায় ১ লাখ সৈন্য বাংলাদেশ-ভারতের মাটিতে বন্দি, কাজেই বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই তার সামনে। কাজেই ১৬ ডিসেম্বর লোকসভায় দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক খবরটি তিনি যখন দেশবাসীকে জানান তখনও ভারত নেত্রী বলেন : We hope and trust that the Father of this nwe nation, Sheikh Mujibur Rahman, will take his rightful place among his own people and lead Bangladesh to peace, progress and prosperity.

মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার সদস্যরা কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন ২২ ডিসেম্বর, ১৯৭১। শত্রুমুক্ত ঢাকায় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা এসে পৌঁছলে হাজার হাজার মানুষ তাদের বীরোচিত সংবর্ধনা জানায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়, কিন্তু সেই স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু তখনও পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি। কিন্তু পাকিস্তান এ ব্যাপারে প্রচণ্ড নীরবতা অবলম্বন করে। বলাই বাহুল্য, ঢাকার মাটিতে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্যের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের পর পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। ২১ ডিসেম্বর জুলফিকার আলী ভুট্টো শেখ মুজিবুর রহমানকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেন। কিন্তু কবে, কখন এসবের কিছুই জানানো হয় না।

পাকিস্তানের কারাগারে নয় মাসের বন্দিজীবন শেষে বঙ্গবন্ধু মুক্তি লাভ করেন ৮ জানুয়ারি ১৯৭২। সেদিনই পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছেন। সেদিনই লন্ডনের ক্লারিস হোটেলের এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনক ও রাষ্ট্রপতি। সেই ভাষণে তিনি বাংলাদেশকে এক Unchallengeable reality বলে উল্লেখ করেন। বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছে। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি যখন পাকিস্তানের কারাগারে কনডেম্ড সেলে ফাঁসিতে ঝুলবার অপেক্ষায় ছিলাম, বাংলাদেশের মানুষ তখনও আমাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে।’ এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, পোল্যান্ডসহ পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলো এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে বাংলাদেশের সমর্থনে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।

লন্ডনে প্রায় ২৪ ঘণ্টা অবস্থানের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বঙ্গবন্ধু। ৯ জানুয়ারি ব্রিটিশ রয়াল এয়ার ফোর্সের বিশেষ বিমানে ঢাকার পথে যাত্রা করেন তিনি। ১০ জানুয়ারি তিনি দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে (ইন্দিরা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট) যাত্রাবিরতি করেন। বিমানবন্দরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ মন্ত্রিসভার সব সদস্য ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা বাংলাদেশের জাতির পিতাকে ঐতিহাসিক অভ্যর্থনা জানান। একুশবার গান স্যালুটের মধ্য দিয়ে তাকে রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানানো হয়, ওড়ানো হয় বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় পতাকা। বাজানো হয় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত।

বঙ্গবন্ধুকে সাদর অভ্যর্থনা জানিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি মন্তব্য করেন, The emergence of independent Bangladesh is itself a unique event in the annals of democratic movements in world history.You have truly been acclaimed the Father of the nwe nation , Bangladesh. উত্তরে বঙ্গবন্ধু ভারতের জনগণ, সরকার, বিশেষ করে ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। প্রায় সব আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রে পরদিন প্রায় একই ধরনের শিরোনাম হয়- A WELCOME DELHI WILL REMEMBER.

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকায় পৌঁছেন বঙ্গবন্ধু।

পাকিস্তানের কারাগারে থেকেও যিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রাণপুরুষ, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রতি, সেই প্রাণপ্রিয় নেতাকে মুক্ত স্বদেশে স্বাগত জানায় লাখো উদ্বেলিত মানুষ। সব রকমের নিরাপত্তা বেষ্টনী উপেক্ষা করে লাখো মানুষ ঢুকে পড়ে তেজগাঁও বিমানবন্দরে। রয়াল এয়ার ফোর্সের বিমানটি থামার পর তাকে ঘিরে রাখে উদ্বেলিত জনতা, একজন নবীন সাংবাদিক হিসেবে যা দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল।

মাটিতে অবতরণ করার আগে বঙ্গবন্ধু বিমানের জানালা দিয়ে তার প্রাণপ্রিয় ‘সোনার বাংলা’ দেখেন, যাকে পরাধীনতা থেকে মুক্তি দিতে তিনি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গোটা মুজিবনগর মন্ত্রিসভা, মুক্তিযুদ্ধের বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব, শীর্ষ ছাত্র নেতাবৃন্দসহ লাখো মানুষ বঙ্গবন্ধুকে স্বদেশের মাটিতে আবেগময় অভ্যর্থনা জানান। এরপর মোটর শোভাযাত্রায় তিনি রমনা রেসকোর্সে পৌঁছেন, যেখানে ৭ মার্চ ১৯৭১ ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি।

পরদিন, অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার বৈঠক বসে। সে বৈঠকে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা থেকে বঙ্গবন্ধু দেশকে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের পথে ধাবিত করেন। ১২ জানুয়ারি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন এবং প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু ।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন,‘আমাকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছিল; কিন্তু আমি জানতাম বাংলাদেশ স্বাধীন হবে। বাংলার মানুষ মুক্ত হাওয়ায় বাস করবে, খেয়ে-পরে সুখে থাকবে, এটাই ছিল আমার সাধনা। বাংলার এক কোটি লোক প্রাণভয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের খাবার, বাসস্থান দিয়ে সাহায্য করেছে ভারত। আমরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, ভারত সরকার ও ভারতবাসীকে আমাদের অন্তরের অন্তস্থল থেকে জানাই কৃতজ্ঞতা। বাংলার স্বাধীনতা যুদ্ধে সমর্থনদান ও সহযোগিতাদানের জন্য ব্রিটিশ, জার্মান, ফ্রান্স, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন জনগণকেও আমি ধন্যবাদ জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইয়াহিয়া খান আমার ফাঁসির হুকুম দিয়েছিলেন। আমি বাঙালি, আমি মানুষ, আমি মুসলমান। বাঙালিরা একবারই মরতে জানে। তাই বলেছি, ক্ষমা চাই না। তাদের বলেছি, তোমরা মারলে ক্ষতি নেই। কিন্তু আমার লাশ বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিও। ... ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধিকে আমি চিনি। তাকে আমি জানাই আমার শ্রদ্ধা। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বের সব রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে আমার মুক্তির জন্য আবেদন করেছেন।’

পাকিস্তানের সামরিক আদালতে যে বিচার প্রহসন চালানো হয়েছিল সে সম্পর্কে ডেভিড ফ্রস্টের সঙ্গে বহুলালোচিত সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু বলেন : দেশদ্রোহিতা, পাকিস্তান ও তার সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং পাকিস্তানের পূর্ব অংশকে স্বাধীন করাসহ ১২টি অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। ফাঁসিতে ঝোলানোর সব ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছিল। তিনি এও বলেন, কারাগারের পাশেই তার কবর খোঁড়া হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের নেতৃত্ব গ্রহণের ঘটনাটি ছিল জাতীয় ইতিহাসের আশীর্বাদ। তার ফিরে আসায় মুজিবনগর সরকারের অভ্যন্তরীণ সংকট দূর হয়, মুক্তিবাহিনীর অস্ত্র সংবরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি দ্রুত সম্পন্ন হয়, যা ছিল যুদ্ধ-পরবর্তীকালের বড় চ্যালেঞ্জ। তারই আহ্বানে মাত্র দুই মাসের মাথায় ভারতীয় মিত্র বাহিনী বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাহার করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে নতুন যাত্রাপথ নির্মিত হয়। একের পর এক সুচিন্তিত পদক্ষেপে তিনি নতুন রাষ্ট্রের ভিত্তি নির্মাণে স্বচেষ্ট হন, শুরু করেন তার ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’, যার সফল বাস্তবায়ন ঘটেনি। তারই নেতৃত্বে চীনসহ কিছু রাষ্ট্রের প্রতিরোধ উপেক্ষা করে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপ্রাপ্তি ঘটে, জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন এবং ‘ওআইসি’ বা বিশ্ব ইসলামী জোটের সদস্য হয় বাংলাদেশ।

কিন্তু স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা বসে থাকেনি। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো হয় এবং অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করা হয়। বলা যায়, ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ থেকেই স্বাধীনতার শত্রুরা নতুন রাষ্ট্র ও তার জনককে চূড়ান্ত আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত হতে থাকে। তারই পরিণতি ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে।

হারুন হাবীব: মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও লেখক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter