দু’বছর আগেই ভারতে নির্বাচনি প্রচারণা
jugantor
দু’বছর আগেই ভারতে নির্বাচনি প্রচারণা

  আতাহার খান  

১৭ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৪ সালে। দু’বছর বাকি। অথচ ক্ষমতাসীন বিজেপি সেই নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যেই তাদের লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেছে। খুলেই বলি, তাদের লক্ষ্য দিল্লির মসনদ জয়ের হ্যাটট্রিক অর্জন, অর্থাৎ পরপর তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় বসা। এজন্য শেষ শক্তি দিয়ে তারা শুরু করেছে নতুনভাবে পথচলা।

গণসংযোগ, জনসভা সবকিছুর ভেতরেই এখন চলছে নির্বাচনি প্রচারণা। বিজেপি সেই ২০২১ সালের মে মাসের মধ্যেই অগ্রাধিকার দিয়ে প্রণয়ন করে রূপরেখা। তখন থেকে রূপরেখা অনুযায়ী শুরু হয় তাদের নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসাবে নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। বিজেপি চাইছে উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে ভোটারদের কাছে টানতে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশ ভারতে এখন ধীরগতিতে হলেও চলছে নির্বাচনি প্রচারণা।

কিন্তু কেন এত আগে থেকে বিজেপি শুরু করল তাদের নির্বাচনি প্রচারণা? এর কারণ হলো, ২০১৪ সালের পর ২০১৯ সালে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে একাধিক সমস্যায় জড়িয়ে বেকায়দায় পড়ে মোদি সরকার। এর মধ্যে কোভিড নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা তো আছেই, পাশাপাশি আছে কৃষি আইনকে কেন্দ্র করে কৃষকের বিক্ষোভ, মানুষের কাজ হারানোর মতো জটিল সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে, নেই তার স্পষ্ট দিশা। এরকম প্রতিকূল অবস্থায় বিজেপির কড়া সমর্থকদের একটা বড় অংশ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের ভোটপ্রাপ্তির বিষয়ে বিজেপির সংশয় থাকতে পারে। এছাড়া যারা ভাসমান ভোটার, তারা কোনো দলের অন্ধ সমর্থক নন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা ঠিক করে কাকে ভোট দেবে। এটি খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। ভারতে এ অংশের সংখ্যা কম নয়। নির্বাচনি ফলাফল নির্ধারণে তারা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে ২০২১ সালের মে মাস থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি উন্নয়নকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের জন্য ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ঠিক করে দিয়েছেন। নির্বাচনের আগেই যাতে সাধারণ মানুষের আয় বাড়ে এবং প্রত্যেকেই আত্মনির্ভরশীল হয়ে দাঁড়াতে পারে, সে লক্ষ্যে দেশের সর্বত্রই নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মোদি সরকার। প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এ ব্যাপারে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না। রেয়াত যে কাউকেই দেওয়া হয়নি, তা বোঝা গেল এরই মধ্যে। চাকরি খুইয়েছেন স্বাস্থ্য, রেল ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী। তাদের সরিয়ে মন্ত্রিসভায় আনা হয়েছে নতুন মুখ, যাতে ব্যর্থতার জন্য সরাসরি সরকারকে কেউ দায়ী না করেন।

বিজেপি নেতারাও স্বীকার করে নিয়েছেন, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই প্রথম নানাবিধ সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ে সরকার। তবু প্রধানমন্ত্রী চুপ করে বসে থাকেননি। বেশ ক’জন মন্ত্রীকে সরিয়ে দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন, আশানুরূপ ফল না পেলে দল ও মন্ত্রিসভার জন্য কেউই অপরিহার্য নন। এর মানে হলো, দলের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে যে কেউ বলি হতে পারেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সাফ নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন রাজ্যে নতুন মুখকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে সুফলও পাওয়া গেছে। সম্প্রতি পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভার যে নির্বাচনি ফলাফল ঘোষিত হয়, তাতে দেখা যায়, শুধু পাঞ্জাব ছাড়া বাকি রাজ্যগুলোয় বিজেপি অত্যন্ত ভালো ফল করেছে। তিনটি রাজ্যে তো তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। সামনের দিনে আরও বেশ ক’টি রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন রয়েছে। সেখানেও বিজেপি জাতপাতের সমীকরণ মেনে নতুন মুখকে দায়িত্ব দিয়েছে।

নতুন মুখ সামনে এগিয়ে আনার এ কৌশল শুধু দলকে উজ্জীবিত করেনি, নরেন্দ্র মোদিকেও অনতিক্রম্য মহীরুহে রূপান্তরিত করেছে। সত্যিই তাকে মোকাবিলা করার মতো সর্বভারতীয় কোনো নেতা যে আজ বিরোধী পক্ষে নেই-এ বাস্তবতা না মানার কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ নেই। বিজেপির শক্তির উৎস হিন্দুত্ববাদ, এটি কারও অজানা নয়। তবে, আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ) রাখঢাক না করেই খোলামেলাভাবে হিন্দু জাতীয়তাবাদের কথা বলে, আর বিজেপি বলে কৌশলে-পার্থক্য শুধু এটুকুই। গুজরাটের পর উত্তর প্রদেশসহ আরও ক’টি রাজ্যে হিন্দুত্ববাদের ব্যাপক উজ্জীবন ঘটেছে।

নির্বাচনে এর সুফল বিজেপির পকেটেই জমা হবে। শুধু কি তাই, বিশাল কর্মীবাহিনী পরিচালনার জন্য আছে তাদের বিশেষ ব্যবস্থা, আছে তথ্য সংগ্রহের গবেষণা ফোরাম। আরও আছে ভোট চলাকালীন বুথে বসিয়ে রাখার মতো লাখ লাখ পরীক্ষিত কর্মী। এ সুবিধা অন্য কোনো দলে নেই। তাই সংগত কারণেই ধারণা করা হয়, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে তৃতীয় দফায় দিল্লির ক্ষমতায় আবার বসতে যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। এর কারণ হলো, বিরোধীরা আজ অবধি নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য বিকল্প কোনো ব্যক্তিত্ব দাঁড় করাতে পারেনি।

২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনেও এর প্রতিফলন আমরা দেখতে পেয়েছি। লোকসভার ৫৪৫টি আসনের মধ্যে জোটের বাইরে বিজেপি একাই পায় তিন শতাধিক আসন। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ। সেই দলের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অর্জন ছিল মাত্র ৫২টি আসন। আসন সংখ্যার দিক থেকে কংগ্রেস দ্বিতীয় অবস্থানে থাকার পরও লোকসভায় কোনো বিরোধী দল নেই। কারণ, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। লোকসভায় বিরোধী দলের জন্য কমপক্ষে ১০ শতাংশের বেশি আসনের প্রয়োজন হয়। সেই নির্দিষ্টসংখ্যক আসন কংগ্রেস লাভ করতে পারেনি। তাই বিরোধী দলহীন লোকসভায় বিজেপিকে একক দল হিসাবেই ব্যাটে ও বলে অপ্রতিরোধ্য আধিপত্য বজায় রেখে রাজত্ব চালিয়ে যেতে হচ্ছে। সত্য করে বলি, তাদের মোকাবিলা করার শক্তি ও সামর্থ্য এখন আর কারও নেই।

কংগ্রেস শক্তিহীন দল মাত্র। রীতিমতো বিপর্যস্ত একটি দল। এর কারণ সবারই জানা। জওহরলাল নেহেরু কিংবা ইন্দিরা গান্ধীর মতো সর্বভারতীয় গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব তাদের উত্তরসূরিদের মধ্যে আর কারও নেই, এটি মানতেই হবে। সোনিয়া গান্ধী এখন আবার কংগ্রেসের হাল ধরেছেন। তার সততা আর আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অর্থহীন। কিন্তু সমস্যা একটা ঠিকই থেকে যায়, সেটি হলো তিনি জন্মগতভাবে ভারতীয় নন, বিদেশি। তাছাড়া পরিবারতন্ত্র নিয়ে ভারতীয় ভোটারদের আগ্রহ কম। সম্ভবত এ বিষয়গুলো কংগ্রেস কখনো মূল্যায়ন করেনি বলে সম্প্রতি বিধানসভার পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচনি ফলাফলে তাদের ভরাডুবি ঘটে। রাজ্যগুলো হলো-উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, মণিপুর ও গোয়া। সেখানে তিনটি রাজ্যে (উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও মণিপুর) বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে আর গোয়ায় তারা পায় ৪০টি আসনের মধ্যে ২০টি। বোঝা যায়, এ চারটি রাজ্যে বিজেপির অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ়। পক্ষান্তরে কংগ্রেসের অবস্থা এত করুণ যে, দুরবিনের সহায়তা ছাড়া তাকে খুঁজে পাওয়া সত্যই কষ্টকর। সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশ। সেখানে লোকসভার আসন সংখ্যা ৮০।

এ রাজ্যের সমর্থন ছাড়া দিল্লির মসনদে বসা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। সেই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যেই কিনা বিধানসভার ৪০৩টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র দুটি আসন। আর যে পাঞ্জাব ছিল কংগ্রেসের হাতের মুঠোয়, সেখানকার ভোটাররাও এবার তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। পাঞ্জাবের ভোটাররা কংগ্রেসকে ছেড়ে দুর্নীতি প্রতিরোধের অঙ্গীকার নিয়ে উঠে আসা কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিকে (আপ) বুকের উষ্ণতা দিয়ে বরণ করে নিয়েছে। পাঞ্জাব বিধানসভার ১১৭টি আসনের মধ্যে ৯২টি আসন লাভ করে আম আদমি পার্টি। তার মানে নিরঙ্কুশ বিজয়। দিল্লির বাইরে পাঞ্জাব এখন আম আদমি পার্টির দখলে। পাঞ্জাব জয়ের ভেতর দিয়ে সর্বভারতীয় দল হিসাবে তাদের নতুনভাবে পথচলা শুরু হলো।

আসলেই কংগ্রেসের হালে পানি নেই। এখনো যে দুটি রাজ্য রাজস্থান ও ছত্তিশগড় তাদের দখলে রয়েছে, সেগুলোর অবস্থাও নাকি দিন দিন নড়বড়ে হয়ে উঠেছে। আগামী বছরের নভেম্বরে এ দুটি রাজ্যসহ মধ্যপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও মিজোরামে বিধানসভার নির্বাচন হবে। আর তার আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে হবে ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ের বিধানসভার নির্বাচন। এর পরপরই মে মাসে হবে কর্নাটকের নির্বাচন। আর চলতি বছরের শেষদিকে বিধানসভার নির্বাচন হবে হিমাচল প্রদেশ আর গুজরাটে। এ ১০টি রাজ্যে কংগ্রেস শক্তিহীন অবস্থায় কোনোক্রমে টিকে আছে।

জাতীয় পর্যায়ে কংগ্রেসের হালহকিকত মোটেও সুবিধার নয়। তাহলে কি ধরে নিতে হবে, ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে বুক উঁচিয়ে দাঁড়াতে পারে এমন কোনো বিকল্প শক্তি নেই? হ্যাঁ, এ মূল্যবান প্রশ্নের উত্তর হলো, আপাতত দলগতভাবে সেই সামর্থ্য কারও নেই, আর নিকট ভবিষ্যতে সে সম্ভাবনার কোনো ইঙ্গিতও নেই। তাই বলে কংগ্রেসকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। কারণ, বেশ ক’টি রাজ্যে, বিশেষ করে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও কর্নাটকে এখনো কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি লড়াইটা হয় বিজেপির। সেখানে কোনো আঞ্চলিক দল নেই। এর বাইরে আরও ক’টি রাজ্য আছে যেমন-মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস বৃহৎ আঞ্চলিক দলের শরিক হিসাবে সক্রিয় আছে মাঠে। তাই কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়েই আঞ্চলিক দলগুলোর উচিত হবে একটি বৃহত্তর মোর্চা গঠন করা।

পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্রের আঞ্চলিক দলগুলোর রয়েছে অদম্য সাহস আর লড়াইয়ের মানসিকতা। উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবও কম শক্তিশালী নন। আর পশ্চিমবঙ্গে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের কথা তো বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই উল্লেখ করতে হয়। বিধানসভায় তাদের বিশাল বিজয়ের পর এখন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আঞ্চলিক দল হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে একক আধিপত্য ধরে রাখতে পারবে।

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু কর্মকাণ্ডে কংগ্রেস বেশ ক্ষুব্ধ। তারা ত্রিপুরা ও আসাম রাজ্যে কংগ্রেসের নেতাদের টার্গেট করে দলে টেনে আনার চেষ্টা করেছেন। ত্রিপুরায় কংগ্রেসি নেতাদের ভাগিয়ে তৃণমূল দল গড়ে তোলা হয়। আর ঘরের পাশে আসামে বাঙালি অধ্যুষিত তিন জেলায় কংগ্রেসের মূল ব্যক্তি সুস্মিতা এখন বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছেন। কংগ্রেসের নেতাকর্মীদের তৃণমূলে ভাগিয়ে আনার বিষয়টিকে কংগ্রেস নিশ্চয়ই স্বাভাবিক চোখে দেখবে না। তাই এসব বিরোধ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে মিটিয়ে নেওয়া ভালো। ক্ষুদ্র স্বার্থ বলি দিয়ে বিজেপিবিরোধী সর্বভারতীয় বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে পারলে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি নিঃসন্দেহে দুশ্চিন্তায় পড়বে।

পশ্চিমবঙ্গের মতো বেশ ক’টি রাজ্য আছে, যেখানে আঞ্চলিক দল ভীষণ শক্তিশালী। সর্বভারতীয় অবস্থান থেকে যদি সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আঞ্চলিক দলগুলোকে কাজে লাগানো যায়, তাহলে সুফল লাভের উজ্জ্বল আশা দেখা দিলেও দিতে পারে। সেজন্য প্রয়োজন ন্যূনতম শর্ত অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রীয় কর্মসূচির ভিত্তিতে আঞ্চলিক দলগুলোর সমন্বয়ে একটি বৃহৎ মোর্চা গড়ে তোলা। সেখানে অবশ্যই দরকার হবে কংগ্রেস, আম আদমিসহ বামধারার দলগুলোকে। তার মানে, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শামিল হওয়ার জন্য একটি বড় জোট গঠন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। সেটি যদি সত্যিই করা যায়, তাহলে সম্ভব হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে সমানে সমান লড়াই করা। আর তার জন্য চাই সব আঞ্চলিক দলসহ বিজেপিবিরোধী জাতীয় দলগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালন। সময়ই বলে দেবে সেটা আদৌ সম্ভব কিনা।

আতাহার খান : সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা ও কবি

দু’বছর আগেই ভারতে নির্বাচনি প্রচারণা

 আতাহার খান 
১৭ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৪ সালে। দু’বছর বাকি। অথচ ক্ষমতাসীন বিজেপি সেই নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যেই তাদের লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেছে। খুলেই বলি, তাদের লক্ষ্য দিল্লির মসনদ জয়ের হ্যাটট্রিক অর্জন, অর্থাৎ পরপর তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় বসা। এজন্য শেষ শক্তি দিয়ে তারা শুরু করেছে নতুনভাবে পথচলা।

গণসংযোগ, জনসভা সবকিছুর ভেতরেই এখন চলছে নির্বাচনি প্রচারণা। বিজেপি সেই ২০২১ সালের মে মাসের মধ্যেই অগ্রাধিকার দিয়ে প্রণয়ন করে রূপরেখা। তখন থেকে রূপরেখা অনুযায়ী শুরু হয় তাদের নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসাবে নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। বিজেপি চাইছে উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে ভোটারদের কাছে টানতে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশ ভারতে এখন ধীরগতিতে হলেও চলছে নির্বাচনি প্রচারণা।

কিন্তু কেন এত আগে থেকে বিজেপি শুরু করল তাদের নির্বাচনি প্রচারণা? এর কারণ হলো, ২০১৪ সালের পর ২০১৯ সালে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে একাধিক সমস্যায় জড়িয়ে বেকায়দায় পড়ে মোদি সরকার। এর মধ্যে কোভিড নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা তো আছেই, পাশাপাশি আছে কৃষি আইনকে কেন্দ্র করে কৃষকের বিক্ষোভ, মানুষের কাজ হারানোর মতো জটিল সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে, নেই তার স্পষ্ট দিশা। এরকম প্রতিকূল অবস্থায় বিজেপির কড়া সমর্থকদের একটা বড় অংশ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের ভোটপ্রাপ্তির বিষয়ে বিজেপির সংশয় থাকতে পারে। এছাড়া যারা ভাসমান ভোটার, তারা কোনো দলের অন্ধ সমর্থক নন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা ঠিক করে কাকে ভোট দেবে। এটি খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। ভারতে এ অংশের সংখ্যা কম নয়। নির্বাচনি ফলাফল নির্ধারণে তারা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে ২০২১ সালের মে মাস থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি উন্নয়নকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের জন্য ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ঠিক করে দিয়েছেন। নির্বাচনের আগেই যাতে সাধারণ মানুষের আয় বাড়ে এবং প্রত্যেকেই আত্মনির্ভরশীল হয়ে দাঁড়াতে পারে, সে লক্ষ্যে দেশের সর্বত্রই নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মোদি সরকার। প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এ ব্যাপারে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না। রেয়াত যে কাউকেই দেওয়া হয়নি, তা বোঝা গেল এরই মধ্যে। চাকরি খুইয়েছেন স্বাস্থ্য, রেল ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী। তাদের সরিয়ে মন্ত্রিসভায় আনা হয়েছে নতুন মুখ, যাতে ব্যর্থতার জন্য সরাসরি সরকারকে কেউ দায়ী না করেন।

বিজেপি নেতারাও স্বীকার করে নিয়েছেন, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই প্রথম নানাবিধ সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ে সরকার। তবু প্রধানমন্ত্রী চুপ করে বসে থাকেননি। বেশ ক’জন মন্ত্রীকে সরিয়ে দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন, আশানুরূপ ফল না পেলে দল ও মন্ত্রিসভার জন্য কেউই অপরিহার্য নন। এর মানে হলো, দলের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে যে কেউ বলি হতে পারেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সাফ নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন রাজ্যে নতুন মুখকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে সুফলও পাওয়া গেছে। সম্প্রতি পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভার যে নির্বাচনি ফলাফল ঘোষিত হয়, তাতে দেখা যায়, শুধু পাঞ্জাব ছাড়া বাকি রাজ্যগুলোয় বিজেপি অত্যন্ত ভালো ফল করেছে। তিনটি রাজ্যে তো তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। সামনের দিনে আরও বেশ ক’টি রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন রয়েছে। সেখানেও বিজেপি জাতপাতের সমীকরণ মেনে নতুন মুখকে দায়িত্ব দিয়েছে।

নতুন মুখ সামনে এগিয়ে আনার এ কৌশল শুধু দলকে উজ্জীবিত করেনি, নরেন্দ্র মোদিকেও অনতিক্রম্য মহীরুহে রূপান্তরিত করেছে। সত্যিই তাকে মোকাবিলা করার মতো সর্বভারতীয় কোনো নেতা যে আজ বিরোধী পক্ষে নেই-এ বাস্তবতা না মানার কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ নেই। বিজেপির শক্তির উৎস হিন্দুত্ববাদ, এটি কারও অজানা নয়। তবে, আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ) রাখঢাক না করেই খোলামেলাভাবে হিন্দু জাতীয়তাবাদের কথা বলে, আর বিজেপি বলে কৌশলে-পার্থক্য শুধু এটুকুই। গুজরাটের পর উত্তর প্রদেশসহ আরও ক’টি রাজ্যে হিন্দুত্ববাদের ব্যাপক উজ্জীবন ঘটেছে।

নির্বাচনে এর সুফল বিজেপির পকেটেই জমা হবে। শুধু কি তাই, বিশাল কর্মীবাহিনী পরিচালনার জন্য আছে তাদের বিশেষ ব্যবস্থা, আছে তথ্য সংগ্রহের গবেষণা ফোরাম। আরও আছে ভোট চলাকালীন বুথে বসিয়ে রাখার মতো লাখ লাখ পরীক্ষিত কর্মী। এ সুবিধা অন্য কোনো দলে নেই। তাই সংগত কারণেই ধারণা করা হয়, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে তৃতীয় দফায় দিল্লির ক্ষমতায় আবার বসতে যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। এর কারণ হলো, বিরোধীরা আজ অবধি নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য বিকল্প কোনো ব্যক্তিত্ব দাঁড় করাতে পারেনি।

২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনেও এর প্রতিফলন আমরা দেখতে পেয়েছি। লোকসভার ৫৪৫টি আসনের মধ্যে জোটের বাইরে বিজেপি একাই পায় তিন শতাধিক আসন। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ। সেই দলের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অর্জন ছিল মাত্র ৫২টি আসন। আসন সংখ্যার দিক থেকে কংগ্রেস দ্বিতীয় অবস্থানে থাকার পরও লোকসভায় কোনো বিরোধী দল নেই। কারণ, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। লোকসভায় বিরোধী দলের জন্য কমপক্ষে ১০ শতাংশের বেশি আসনের প্রয়োজন হয়। সেই নির্দিষ্টসংখ্যক আসন কংগ্রেস লাভ করতে পারেনি। তাই বিরোধী দলহীন লোকসভায় বিজেপিকে একক দল হিসাবেই ব্যাটে ও বলে অপ্রতিরোধ্য আধিপত্য বজায় রেখে রাজত্ব চালিয়ে যেতে হচ্ছে। সত্য করে বলি, তাদের মোকাবিলা করার শক্তি ও সামর্থ্য এখন আর কারও নেই।

কংগ্রেস শক্তিহীন দল মাত্র। রীতিমতো বিপর্যস্ত একটি দল। এর কারণ সবারই জানা। জওহরলাল নেহেরু কিংবা ইন্দিরা গান্ধীর মতো সর্বভারতীয় গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব তাদের উত্তরসূরিদের মধ্যে আর কারও নেই, এটি মানতেই হবে। সোনিয়া গান্ধী এখন আবার কংগ্রেসের হাল ধরেছেন। তার সততা আর আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অর্থহীন। কিন্তু সমস্যা একটা ঠিকই থেকে যায়, সেটি হলো তিনি জন্মগতভাবে ভারতীয় নন, বিদেশি। তাছাড়া পরিবারতন্ত্র নিয়ে ভারতীয় ভোটারদের আগ্রহ কম। সম্ভবত এ বিষয়গুলো কংগ্রেস কখনো মূল্যায়ন করেনি বলে সম্প্রতি বিধানসভার পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচনি ফলাফলে তাদের ভরাডুবি ঘটে। রাজ্যগুলো হলো-উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, মণিপুর ও গোয়া। সেখানে তিনটি রাজ্যে (উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও মণিপুর) বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে আর গোয়ায় তারা পায় ৪০টি আসনের মধ্যে ২০টি। বোঝা যায়, এ চারটি রাজ্যে বিজেপির অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ়। পক্ষান্তরে কংগ্রেসের অবস্থা এত করুণ যে, দুরবিনের সহায়তা ছাড়া তাকে খুঁজে পাওয়া সত্যই কষ্টকর। সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশ। সেখানে লোকসভার আসন সংখ্যা ৮০।

এ রাজ্যের সমর্থন ছাড়া দিল্লির মসনদে বসা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। সেই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যেই কিনা বিধানসভার ৪০৩টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র দুটি আসন। আর যে পাঞ্জাব ছিল কংগ্রেসের হাতের মুঠোয়, সেখানকার ভোটাররাও এবার তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। পাঞ্জাবের ভোটাররা কংগ্রেসকে ছেড়ে দুর্নীতি প্রতিরোধের অঙ্গীকার নিয়ে উঠে আসা কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিকে (আপ) বুকের উষ্ণতা দিয়ে বরণ করে নিয়েছে। পাঞ্জাব বিধানসভার ১১৭টি আসনের মধ্যে ৯২টি আসন লাভ করে আম আদমি পার্টি। তার মানে নিরঙ্কুশ বিজয়। দিল্লির বাইরে পাঞ্জাব এখন আম আদমি পার্টির দখলে। পাঞ্জাব জয়ের ভেতর দিয়ে সর্বভারতীয় দল হিসাবে তাদের নতুনভাবে পথচলা শুরু হলো।

আসলেই কংগ্রেসের হালে পানি নেই। এখনো যে দুটি রাজ্য রাজস্থান ও ছত্তিশগড় তাদের দখলে রয়েছে, সেগুলোর অবস্থাও নাকি দিন দিন নড়বড়ে হয়ে উঠেছে। আগামী বছরের নভেম্বরে এ দুটি রাজ্যসহ মধ্যপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও মিজোরামে বিধানসভার নির্বাচন হবে। আর তার আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে হবে ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ের বিধানসভার নির্বাচন। এর পরপরই মে মাসে হবে কর্নাটকের নির্বাচন। আর চলতি বছরের শেষদিকে বিধানসভার নির্বাচন হবে হিমাচল প্রদেশ আর গুজরাটে। এ ১০টি রাজ্যে কংগ্রেস শক্তিহীন অবস্থায় কোনোক্রমে টিকে আছে।

জাতীয় পর্যায়ে কংগ্রেসের হালহকিকত মোটেও সুবিধার নয়। তাহলে কি ধরে নিতে হবে, ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে বুক উঁচিয়ে দাঁড়াতে পারে এমন কোনো বিকল্প শক্তি নেই? হ্যাঁ, এ মূল্যবান প্রশ্নের উত্তর হলো, আপাতত দলগতভাবে সেই সামর্থ্য কারও নেই, আর নিকট ভবিষ্যতে সে সম্ভাবনার কোনো ইঙ্গিতও নেই। তাই বলে কংগ্রেসকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। কারণ, বেশ ক’টি রাজ্যে, বিশেষ করে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও কর্নাটকে এখনো কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি লড়াইটা হয় বিজেপির। সেখানে কোনো আঞ্চলিক দল নেই। এর বাইরে আরও ক’টি রাজ্য আছে যেমন-মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস বৃহৎ আঞ্চলিক দলের শরিক হিসাবে সক্রিয় আছে মাঠে। তাই কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়েই আঞ্চলিক দলগুলোর উচিত হবে একটি বৃহত্তর মোর্চা গঠন করা।

পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্রের আঞ্চলিক দলগুলোর রয়েছে অদম্য সাহস আর লড়াইয়ের মানসিকতা। উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবও কম শক্তিশালী নন। আর পশ্চিমবঙ্গে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের কথা তো বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই উল্লেখ করতে হয়। বিধানসভায় তাদের বিশাল বিজয়ের পর এখন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আঞ্চলিক দল হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে একক আধিপত্য ধরে রাখতে পারবে।

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু কর্মকাণ্ডে কংগ্রেস বেশ ক্ষুব্ধ। তারা ত্রিপুরা ও আসাম রাজ্যে কংগ্রেসের নেতাদের টার্গেট করে দলে টেনে আনার চেষ্টা করেছেন। ত্রিপুরায় কংগ্রেসি নেতাদের ভাগিয়ে তৃণমূল দল গড়ে তোলা হয়। আর ঘরের পাশে আসামে বাঙালি অধ্যুষিত তিন জেলায় কংগ্রেসের মূল ব্যক্তি সুস্মিতা এখন বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছেন। কংগ্রেসের নেতাকর্মীদের তৃণমূলে ভাগিয়ে আনার বিষয়টিকে কংগ্রেস নিশ্চয়ই স্বাভাবিক চোখে দেখবে না। তাই এসব বিরোধ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে মিটিয়ে নেওয়া ভালো। ক্ষুদ্র স্বার্থ বলি দিয়ে বিজেপিবিরোধী সর্বভারতীয় বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে পারলে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি নিঃসন্দেহে দুশ্চিন্তায় পড়বে।

পশ্চিমবঙ্গের মতো বেশ ক’টি রাজ্য আছে, যেখানে আঞ্চলিক দল ভীষণ শক্তিশালী। সর্বভারতীয় অবস্থান থেকে যদি সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আঞ্চলিক দলগুলোকে কাজে লাগানো যায়, তাহলে সুফল লাভের উজ্জ্বল আশা দেখা দিলেও দিতে পারে। সেজন্য প্রয়োজন ন্যূনতম শর্ত অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রীয় কর্মসূচির ভিত্তিতে আঞ্চলিক দলগুলোর সমন্বয়ে একটি বৃহৎ মোর্চা গড়ে তোলা। সেখানে অবশ্যই দরকার হবে কংগ্রেস, আম আদমিসহ বামধারার দলগুলোকে। তার মানে, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শামিল হওয়ার জন্য একটি বড় জোট গঠন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। সেটি যদি সত্যিই করা যায়, তাহলে সম্ভব হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে সমানে সমান লড়াই করা। আর তার জন্য চাই সব আঞ্চলিক দলসহ বিজেপিবিরোধী জাতীয় দলগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালন। সময়ই বলে দেবে সেটা আদৌ সম্ভব কিনা।

আতাহার খান : সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা ও কবি

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন