কৃষিতে প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে হবে
jugantor
স্বদেশ ভাবনা
কৃষিতে প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে হবে

  আবদুল লতিফ মন্ডল  

১৮ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ১০ মে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে মাথাপিছু আয় ও জিডিপি এবং খাতওয়ারি প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব উপস্থাপন করেছে।

এতে দেখানো হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষে মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়াবে ২ হাজার ৮২৪ ডলারে, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ২৩৩ ডলার বেশি। আর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত অর্থবছরে ছিল ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির খাতওয়ারি প্রাক্কলনে দেখা যায়, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে শিল্প, সেবা, ব্যাংক ও বিমা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নির্মাণ খাতে প্রবৃদ্ধি হার ইতিবাচক হলেও কৃষি খাতে তা নেতিবাচক।

সাময়িক প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতে (শস্য উপখাত, প্রাণিসম্পদ উপখাত এবং বন উপখাত নিয়ে গঠিত) প্রবৃদ্ধি হার হবে ২ দশমিক ২০ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের তুলনায় কম। গত কয়েক বছর ধরে কৃষি খাতে নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধি হারের কারণে আমাদের প্রতিবছর বেশকিছু পরিমাণ চাল এবং বিপুল পরিমাণ গম আমদানি করতে হচ্ছে। তাছাড়া দেশীয় উৎপাদনে চাহিদা না মেটায় আমদানি করতে হচ্ছে আরও কিছু খাদ্যপণ্য।

কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদনে প্রবৃদ্ধিহার বৃদ্ধিতে দেশ কী কী সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, প্রবৃদ্ধিহার হ্রাস পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উচ্চমূল্যে এসব পণ্য আমদানিতে আমাদের অর্থনীতি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কীভাবে কৃষিজাত খাদ্যপণ্যের প্রবৃদ্ধিহার ঊর্ধ্বমুখী করা যেতে পারে, তা আলোচনা করাই এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য।

এটা সত্য, আগের তুলনায় জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কমে গেছে। স্বাধীনতার প্রথম দশকে জিডিপির চার ভাগের প্রায় তিন ভাগ আসত এ খাত থেকে। এখন তা ২০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কমে গেলেও এখনো ‘কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান কর্মকাণ্ড এবং জীবনীশক্তি’ (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮)। তাছাড়া সার্বিক জিডিপিতে কৃষির রয়েছে পরোক্ষ অবদান। বিশেষ করে বৃহৎ সেবা খাতের মধ্যে পাইকারি ও খুচরা বিপণন, হোটেল ও রেস্তোরাঁ এবং পরিবহণ, সংরক্ষণ ও যোগাযোগ খাতের প্রবৃদ্ধিতে এ খাতের রয়েছে মূল্যবান অবদান। তাছাড়া সক্ষম শ্রমশক্তির ৪০ ভাগের বেশি কৃষিতে নিয়োজিত।

গত এক দশক ধরে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিহার নিম্নমুখী। সরকারি তথ্য মোতাবেক ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপর প্রবৃদ্ধি হার কমে ২০০৩-০৪ অর্থবছরে তা ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশে দাঁড়ায় (বাংলাদেশ ইকোনমিক রিভিউ-২০০৫)। এরপর প্রবৃদ্ধির হার একটু একটু করে বেড়ে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৬ দশমিক ১৫ শতাংশে পৌঁছে। এরপর প্রবৃদ্ধি হারে আবার নিম্নমুখিতা দেখা দেয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিগত ১০ বছরে কৃষি খাতে ৩.৭ শতাংশ গড় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।’ ২০২০-২১ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ; যা বিবিএসের সাময়িক প্রাক্কলন অনুযায়ী হ্রাস পেয়ে চলতি অর্থবছরে দাঁড়াবে ২ দশমিক ২০ শতাংশে। কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হার হ্রাসের ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে শস্য উপখাতের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফসল ধান বা চাল এবং গুরুত্বের দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা গম উৎপাদনের ওপর। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও অন্যান্য রিপোর্টে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছর বাদ দিলে ২০১৬-১৭ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি হার নেতিবাচক থেকে ১ দশমিক ৩০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এ প্রবৃদ্ধি হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের (১ দশমিক ৩৭ শতাংশ) চেয়ে কম। আর খাদ্যশস্যের দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গমের চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চললেও এর উৎপাদন নব্বইয়ের দশকের শেষদিকের তুলনায় অনেক কম। সরকারি তথ্য মোতাবেক, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে দেশে গমের উৎপাদন হয়েছিল ১৯ লাখ ৮ হাজার টন।

এটি এ পর্যন্ত দেশে গমের সর্বোচ্চ উৎপাদন। এরপর থেকে গমের উৎপাদন কমতে থাকে এবং ২০০৬-০৭ অর্থবছরে উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ লাখ ২৫ টনে (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০০৯)। এরপর অবশ্য পণ্যটির উৎপাদন কিছুটা বাড়তে থাকে। সরকারি ও অন্য সূত্রে পাওয়া তথ্য মোতাবেক ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে গমের উৎপাদন দাঁড়ায় যথাক্রমে ১২ লাখ ৪৬ হাজার এবং ১২ লাখ ৩৩ হাজার টনে। চলতি অর্থবছরে দেশে গম উৎপাদনের পরিমাণ সরকারিভাবে প্রকাশ না করা হলেও অন্য এক সূত্রে পাওয়া তথ্য মোতাবেক এ অর্থবছরে গমের উৎপাদন দাঁড়াবে ১১ লাখ ৬৭ হাজার টনে। অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে গম উৎপাদনে প্রবৃদ্ধিহার ঋণাত্মক।

এটা ঠিক, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে আমাদের প্রধান খাদ্য চালের উৎপাদন তিনগুণের বেশি বেড়েছে। স্বাধীনতার সময়ের কমবেশি ১ কোটি টন চালের উৎপাদন বর্তমানে সাড়ে ৩ কোটি টন ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু জনসংখ্যা বৃিদ্ধ, জনসংখ্যা বৃদ্ধিহারের তুলনায় চাল উৎপাদনে নিম্ন প্রবৃদ্ধি হার, বীজ হিসাবে সংরক্ষণ, পশুখাদ্য হিসাবে ব্যবহার এবং কাটামাড়া থেকে শুরু করে খাবার হিসাবে পরিবেশন পর্যন্ত অপচয় ইত্যাদি কারণে উৎপাদিত চালে আমাদের চাহিদা মিটছে না।

ফলে প্রায় প্রতিবছর আমাদের বেশকিছু পরিমাণ চাল আমদানি করতে হচ্ছে। দেশে খাদ্যশস্যের দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গমের বার্ষিক চাহিদা যখন কমবেশি ৭০ লাখ টন, তখন দেশে উৎপাদিত গমের পরিমাণ ১২-১৩ লাখ টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই দেশে গমের চাহিদা মেটানোর প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে আমদানি। ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমদানিকৃত গমের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৫৬ লাখ ৯ হাজার, ৫৭ লাখ ৭৯ হাজার, ৫৫ লাখ ৩৬ হাজার এবং ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার টন (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১)। একই সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে গম আমদানিতে ব্যয় হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৪৯৪, ১ হাজার ৪৩৬ এবং ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

দেশে উৎপাদিত আরও কিছু কৃষিজাত খাদ্যপণ্য আমাদের চাহিদা মেটাতে না পারায় আমদানির মাধ্যমে সেগুলোর অভাব পূরণ করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোজ্যতেল, চিনি, গুঁড়া দুধ, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন রকমের মসলা।

প্রধান খাদ্য চালসহ খাদ্যপণ্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনে দেশ বেশকিছু সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (জুলাই ২০২০-জুন ২০২৫) চিহ্নিত এসব সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে-ক. নিম্ন উৎপাদনশীলতা; খ. জলবায়ু পরিবর্তন ও এ সম্পর্কিত অন্যান্য চ্যালেঞ্জ; গ. প্রাকৃতিক সম্পদের ভিত্তির অবনমন; ঘ. ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস; ঙ. কৃষিজমির প্রাপ্যতা হ্রাস; চ. কৃষি ঋণপ্রাপ্তিতে সমস্যা; ছ. খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি সমস্যা; জ. যথাযথ ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাত ব্যবস্থার অভাব। এ ছাড়া অন্য যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো হলো-কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ধীরগতি, সেচ ব্যবস্থার অদক্ষতা, নিম্নমানের ও ভেজাল কৃষি উপকরণ (বীজ, সার ও কীটনাশক), নীতিজ্ঞানবিবর্জিত ব্যবসায়ী কর্তৃক বাজারজাতকরণ, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ এবং উৎপাদনকারীদের জন্য খামার গেটে মূল্য সহায়তার অনুপস্থিতি। এসব সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বেশকিছু কৌশল অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-এক. ফসলের উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যের সহজলভ্যতা, খাদ্যের অধিকার ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি; দুই. পুষ্টিকর, নিরাপদ ও চাহিদা রয়েছে এমন খাদ্যের চাহিদা নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন; তিন. করোনা মহামারির পর কৃষিপণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন সাধন, করোনার বিরূপ প্রভাব সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে এনে সংকট-পরবর্তী কৃষির প্রবৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; চার. কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষিপণ্যের বিপণন সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে কৃষককে সহায়তা প্রদান; পাঁচ. মূল্যসংযোজন, সরবরাহ শৃঙ্খলার উন্নয়ন, চাহিদা উপযোগী ও রপ্তানিমুখী কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি বাণিজ্যিকীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা।

এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের পূর্বাভাস দিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বেড়ে চলা খাদ্য সংকট বিশ্বকে একটি মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আগামী মৌসুমে (২০২২-২৩) খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক মজুত কমার পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিল (আইজিসি)। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মৌসুমে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের মজুত দাঁড়াবে মোট ৫৮ কোটি ১০ লাখ টনে, যা চলতি বছরের হালনাগাদকৃত মজুতের (৬০ কোটি ৮০ লাখ) তুলনায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বা ২ কোটি ৭০ লাখ টন কম। রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটি বলেছে, ২০২২-২৩ সালে ইউক্রেনে খাদ্যশস্য উৎপাদন হ্রাস পাবে, কারণ দেশটির ২০ থেকে ৩০ শতাংশ জমি অনাবাদি থাকবে। আর বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) প্রধান ডেভিড বিসলি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্যের দাম এতটাই বেড়ে যেতে পারে যে, তা বিশ্বের দরিদ্র মানুষের জন্য বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। রাশিয়া ও ইউক্রেন দুটি দেশই খাদ্যশস্যের বড় রপ্তানিকারক। যুদ্ধের কারণে এরই মধ্যে খাদ্য উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং খাদ্যের দাম বাড়ছে। এ কারণে এখন বিশ্বজুড়ে অনেক মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে।

এ অবস্থা থেকে আমাদের পরিত্রাণের প্রধান উপায় হলো কৃষিজাত খাদ্যপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি। এক্ষেত্রে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যেসব সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো মোকাবিলায় উদ্যোগ নিতে হবে। সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যেসব কৌশল অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হার ঊর্ধ্বমুখী করতে হবে। এটা করা গেলে, সম্ভাব্য বৈশ্বিক খাদ্য সংকট থেকে আমরা অনেকটা নিরাপদে থাকতে পারব। মনে রাখতে হবে, গত দুই বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকালে অর্থনীতির অন্যসব খাত যখন ধরাশায়ী হয়ে পড়ে, তখন কৃষি খাতই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।

আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক খাদ্য সচিব, কলাম লেখক

latifm43@gmail.com

স্বদেশ ভাবনা

কৃষিতে প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে হবে

 আবদুল লতিফ মন্ডল 
১৮ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ১০ মে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে মাথাপিছু আয় ও জিডিপি এবং খাতওয়ারি প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব উপস্থাপন করেছে।

এতে দেখানো হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষে মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়াবে ২ হাজার ৮২৪ ডলারে, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ২৩৩ ডলার বেশি। আর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত অর্থবছরে ছিল ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির খাতওয়ারি প্রাক্কলনে দেখা যায়, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে শিল্প, সেবা, ব্যাংক ও বিমা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নির্মাণ খাতে প্রবৃদ্ধি হার ইতিবাচক হলেও কৃষি খাতে তা নেতিবাচক।

সাময়িক প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতে (শস্য উপখাত, প্রাণিসম্পদ উপখাত এবং বন উপখাত নিয়ে গঠিত) প্রবৃদ্ধি হার হবে ২ দশমিক ২০ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের তুলনায় কম। গত কয়েক বছর ধরে কৃষি খাতে নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধি হারের কারণে আমাদের প্রতিবছর বেশকিছু পরিমাণ চাল এবং বিপুল পরিমাণ গম আমদানি করতে হচ্ছে। তাছাড়া দেশীয় উৎপাদনে চাহিদা না মেটায় আমদানি করতে হচ্ছে আরও কিছু খাদ্যপণ্য।

কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদনে প্রবৃদ্ধিহার বৃদ্ধিতে দেশ কী কী সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, প্রবৃদ্ধিহার হ্রাস পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উচ্চমূল্যে এসব পণ্য আমদানিতে আমাদের অর্থনীতি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কীভাবে কৃষিজাত খাদ্যপণ্যের প্রবৃদ্ধিহার ঊর্ধ্বমুখী করা যেতে পারে, তা আলোচনা করাই এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য।

এটা সত্য, আগের তুলনায় জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কমে গেছে। স্বাধীনতার প্রথম দশকে জিডিপির চার ভাগের প্রায় তিন ভাগ আসত এ খাত থেকে। এখন তা ২০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কমে গেলেও এখনো ‘কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান কর্মকাণ্ড এবং জীবনীশক্তি’ (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮)। তাছাড়া সার্বিক জিডিপিতে কৃষির রয়েছে পরোক্ষ অবদান। বিশেষ করে বৃহৎ সেবা খাতের মধ্যে পাইকারি ও খুচরা বিপণন, হোটেল ও রেস্তোরাঁ এবং পরিবহণ, সংরক্ষণ ও যোগাযোগ খাতের প্রবৃদ্ধিতে এ খাতের রয়েছে মূল্যবান অবদান। তাছাড়া সক্ষম শ্রমশক্তির ৪০ ভাগের বেশি কৃষিতে নিয়োজিত।

গত এক দশক ধরে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিহার নিম্নমুখী। সরকারি তথ্য মোতাবেক ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপর প্রবৃদ্ধি হার কমে ২০০৩-০৪ অর্থবছরে তা ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশে দাঁড়ায় (বাংলাদেশ ইকোনমিক রিভিউ-২০০৫)। এরপর প্রবৃদ্ধির হার একটু একটু করে বেড়ে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৬ দশমিক ১৫ শতাংশে পৌঁছে। এরপর প্রবৃদ্ধি হারে আবার নিম্নমুখিতা দেখা দেয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিগত ১০ বছরে কৃষি খাতে ৩.৭ শতাংশ গড় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।’ ২০২০-২১ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ; যা বিবিএসের সাময়িক প্রাক্কলন অনুযায়ী হ্রাস পেয়ে চলতি অর্থবছরে দাঁড়াবে ২ দশমিক ২০ শতাংশে। কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হার হ্রাসের ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে শস্য উপখাতের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফসল ধান বা চাল এবং গুরুত্বের দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা গম উৎপাদনের ওপর। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও অন্যান্য রিপোর্টে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছর বাদ দিলে ২০১৬-১৭ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি হার নেতিবাচক থেকে ১ দশমিক ৩০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এ প্রবৃদ্ধি হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের (১ দশমিক ৩৭ শতাংশ) চেয়ে কম। আর খাদ্যশস্যের দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গমের চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চললেও এর উৎপাদন নব্বইয়ের দশকের শেষদিকের তুলনায় অনেক কম। সরকারি তথ্য মোতাবেক, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে দেশে গমের উৎপাদন হয়েছিল ১৯ লাখ ৮ হাজার টন।

এটি এ পর্যন্ত দেশে গমের সর্বোচ্চ উৎপাদন। এরপর থেকে গমের উৎপাদন কমতে থাকে এবং ২০০৬-০৭ অর্থবছরে উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ লাখ ২৫ টনে (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০০৯)। এরপর অবশ্য পণ্যটির উৎপাদন কিছুটা বাড়তে থাকে। সরকারি ও অন্য সূত্রে পাওয়া তথ্য মোতাবেক ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে গমের উৎপাদন দাঁড়ায় যথাক্রমে ১২ লাখ ৪৬ হাজার এবং ১২ লাখ ৩৩ হাজার টনে। চলতি অর্থবছরে দেশে গম উৎপাদনের পরিমাণ সরকারিভাবে প্রকাশ না করা হলেও অন্য এক সূত্রে পাওয়া তথ্য মোতাবেক এ অর্থবছরে গমের উৎপাদন দাঁড়াবে ১১ লাখ ৬৭ হাজার টনে। অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে গম উৎপাদনে প্রবৃদ্ধিহার ঋণাত্মক।

এটা ঠিক, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে আমাদের প্রধান খাদ্য চালের উৎপাদন তিনগুণের বেশি বেড়েছে। স্বাধীনতার সময়ের কমবেশি ১ কোটি টন চালের উৎপাদন বর্তমানে সাড়ে ৩ কোটি টন ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু জনসংখ্যা বৃিদ্ধ, জনসংখ্যা বৃদ্ধিহারের তুলনায় চাল উৎপাদনে নিম্ন প্রবৃদ্ধি হার, বীজ হিসাবে সংরক্ষণ, পশুখাদ্য হিসাবে ব্যবহার এবং কাটামাড়া থেকে শুরু করে খাবার হিসাবে পরিবেশন পর্যন্ত অপচয় ইত্যাদি কারণে উৎপাদিত চালে আমাদের চাহিদা মিটছে না।

ফলে প্রায় প্রতিবছর আমাদের বেশকিছু পরিমাণ চাল আমদানি করতে হচ্ছে। দেশে খাদ্যশস্যের দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গমের বার্ষিক চাহিদা যখন কমবেশি ৭০ লাখ টন, তখন দেশে উৎপাদিত গমের পরিমাণ ১২-১৩ লাখ টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই দেশে গমের চাহিদা মেটানোর প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে আমদানি। ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমদানিকৃত গমের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৫৬ লাখ ৯ হাজার, ৫৭ লাখ ৭৯ হাজার, ৫৫ লাখ ৩৬ হাজার এবং ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার টন (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১)। একই সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে গম আমদানিতে ব্যয় হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৪৯৪, ১ হাজার ৪৩৬ এবং ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

দেশে উৎপাদিত আরও কিছু কৃষিজাত খাদ্যপণ্য আমাদের চাহিদা মেটাতে না পারায় আমদানির মাধ্যমে সেগুলোর অভাব পূরণ করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোজ্যতেল, চিনি, গুঁড়া দুধ, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন রকমের মসলা।

প্রধান খাদ্য চালসহ খাদ্যপণ্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনে দেশ বেশকিছু সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (জুলাই ২০২০-জুন ২০২৫) চিহ্নিত এসব সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে-ক. নিম্ন উৎপাদনশীলতা; খ. জলবায়ু পরিবর্তন ও এ সম্পর্কিত অন্যান্য চ্যালেঞ্জ; গ. প্রাকৃতিক সম্পদের ভিত্তির অবনমন; ঘ. ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস; ঙ. কৃষিজমির প্রাপ্যতা হ্রাস; চ. কৃষি ঋণপ্রাপ্তিতে সমস্যা; ছ. খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি সমস্যা; জ. যথাযথ ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাত ব্যবস্থার অভাব। এ ছাড়া অন্য যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো হলো-কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ধীরগতি, সেচ ব্যবস্থার অদক্ষতা, নিম্নমানের ও ভেজাল কৃষি উপকরণ (বীজ, সার ও কীটনাশক), নীতিজ্ঞানবিবর্জিত ব্যবসায়ী কর্তৃক বাজারজাতকরণ, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ এবং উৎপাদনকারীদের জন্য খামার গেটে মূল্য সহায়তার অনুপস্থিতি। এসব সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বেশকিছু কৌশল অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-এক. ফসলের উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যের সহজলভ্যতা, খাদ্যের অধিকার ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি; দুই. পুষ্টিকর, নিরাপদ ও চাহিদা রয়েছে এমন খাদ্যের চাহিদা নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন; তিন. করোনা মহামারির পর কৃষিপণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন সাধন, করোনার বিরূপ প্রভাব সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে এনে সংকট-পরবর্তী কৃষির প্রবৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; চার. কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষিপণ্যের বিপণন সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে কৃষককে সহায়তা প্রদান; পাঁচ. মূল্যসংযোজন, সরবরাহ শৃঙ্খলার উন্নয়ন, চাহিদা উপযোগী ও রপ্তানিমুখী কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি বাণিজ্যিকীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা।

এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের পূর্বাভাস দিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বেড়ে চলা খাদ্য সংকট বিশ্বকে একটি মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আগামী মৌসুমে (২০২২-২৩) খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক মজুত কমার পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিল (আইজিসি)। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মৌসুমে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের মজুত দাঁড়াবে মোট ৫৮ কোটি ১০ লাখ টনে, যা চলতি বছরের হালনাগাদকৃত মজুতের (৬০ কোটি ৮০ লাখ) তুলনায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বা ২ কোটি ৭০ লাখ টন কম। রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটি বলেছে, ২০২২-২৩ সালে ইউক্রেনে খাদ্যশস্য উৎপাদন হ্রাস পাবে, কারণ দেশটির ২০ থেকে ৩০ শতাংশ জমি অনাবাদি থাকবে। আর বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) প্রধান ডেভিড বিসলি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্যের দাম এতটাই বেড়ে যেতে পারে যে, তা বিশ্বের দরিদ্র মানুষের জন্য বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। রাশিয়া ও ইউক্রেন দুটি দেশই খাদ্যশস্যের বড় রপ্তানিকারক। যুদ্ধের কারণে এরই মধ্যে খাদ্য উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং খাদ্যের দাম বাড়ছে। এ কারণে এখন বিশ্বজুড়ে অনেক মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে।

এ অবস্থা থেকে আমাদের পরিত্রাণের প্রধান উপায় হলো কৃষিজাত খাদ্যপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি। এক্ষেত্রে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যেসব সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো মোকাবিলায় উদ্যোগ নিতে হবে। সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যেসব কৌশল অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হার ঊর্ধ্বমুখী করতে হবে। এটা করা গেলে, সম্ভাব্য বৈশ্বিক খাদ্য সংকট থেকে আমরা অনেকটা নিরাপদে থাকতে পারব। মনে রাখতে হবে, গত দুই বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকালে অর্থনীতির অন্যসব খাত যখন ধরাশায়ী হয়ে পড়ে, তখন কৃষি খাতই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।

আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক খাদ্য সচিব, কলাম লেখক

latifm43@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন