পদার্থবিদ্যার চৌহদ্দি থেকে সমাজবিজ্ঞানের উঠোনে

  মাহবুব কামাল ১১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পদার্থবিদ্যার চৌহদ্দি থেকে সমাজবিজ্ঞানের উঠোনে
ছবি: সংগৃহীত

একটা বিষয় না বোঝার কিছু নেই, তবু বলা। ধরা যাক, সাধারণ এক লোক এমন কিছু বললেন বা চিন্তার প্রকাশ ঘটালেন, যা রবীন্দ্রনাথের কথার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। দেখা যাবে, তার সেই কথা হেলাফেলায় উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কেউ একজন কোনো না কোনোভাবে বিখ্যাত হওয়ার পর যদি গ্রামের একজন কৃষক অনেক আগেই ভেবে রেখেছেন তেমন কিছু একটা বলেন, সেটা গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হবে পত্রিকায়। কারণ আর কিছুই না, গ্রামের ওই লোকটি নিজের অথরিটি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি অথবা নিজেকে ফোকাসে নিয়ে আসার কায়দা-কানুন তার জানা নেই, বিখ্যাত লোকটি তা পেরেছেন।

কত মজাদার কাণ্ড! নিজের কবিতাটি আবৃত্তি করার আগে বন্ধুকে বললেন- সেটা রবীন্দ্রনাথের কবিতা, আবৃত্তি শেষে দেখবেন সে বলছে- এরই নাম রবীন্দ্রনাথ! আর যদি রবীন্দ্রনাথের কবিতা স্বরচিত আখ্যা দিয়ে শোনান, তাহলে টিটকিরি মেরে বলবে- কবিতাটা নোবেল কমিটিতে পাঠা! এই উপহাস অনেকটা এরকম : কেউ একজন টেলিভিশনের পারফরমার হওয়ার চেষ্টা করছে, তো তার ফাজিল বন্ধু বলল- তোর চেহারা-সুরত খুব ভালো যেহেতু, রেডিওতে ট্রাই র্ক।

আমরা আজ খুবই সাধারণ কিছু কথা বলব; কিন্তু লোকে যাতে সেই কথা মান্য করে, তাই একজন বিখ্যাত লোকের নাম ভাঙাব। তিনি যেমন-তেমন বিখ্যাত নন, জগদ্বিখ্যাত। কেমন, সেটা বলি আগে। তার জন্মশতবার্ষিকীতে একটা আলোচনা সভা হচ্ছিল জার্মানিতে। তো এক বক্তা শুরু করলেন এভাবে : ধরুন, এই পৃথিবী একদিন ধ্বংস হয়ে গেল। কিছুই নেই- ঘরবাড়ি, মানুষজন, পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল, নদী-নালা কিছুই। ধ্বংসস্তূপ আর খা খা করা বিরানভূমির অতিরিক্ত কিছুই নেই। এ অবস্থায় একদিন ভিনগ্রহ থেকে বুদ্ধিমান এক প্রজাতির কিছু প্রাণী কেমন করে যেন পৌঁছল এখানে। অচেনা-অজানা জায়গা। তখন কেউ একজন যদি অন্যদের জিজ্ঞেস করে- এ কোথায় এলাম আমরা- ওদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী প্রাণীটি বলে উঠবে- আরে, এই সেই জায়গা, যেখানে আইনস্টাইন বাস করতেন! পাঠক, বুঝলেন তো, কার কথা বলছিলাম। হ্যাঁ, উত্তরদাতা ঠিকই বলেছেন- পৃথিবীর আরেক পরিচয়, এর বুকেই বাস করতেন আইনস্টাইন।

আমাদের অনেকেই বিশেষণের সঠিক প্রয়োগ জানি না। এক লেখা এডিট করার সময় দেখলাম লেখা হয়েছে- প্রচণ্ড বৃষ্টি! অথচ স্কুলের নরেন স্যার শিখিয়েছিলেন- লিখবে প্রচণ্ড শীত, প্রখর রোধ, প্রবল বৃষ্টি ইত্যাদি। আইনস্টাইনের মেধাকে বিশেষায়িত করতে হলে কোন্ বিশেষণ ব্যবহার করতে হবে জানি না, সহজ উপায়টিই বেছে নিলাম তাই- যারপরনাই মেধা। মানবজনমের রহস্যটা বুঝি এমন যে, এর ক্ষমতার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। আইনস্টাইন এই সীমা লঙ্ঘন করে গেছেন। আগামীর কেউ এই লঙ্ঘিত সীমাকে আরও বিস্তৃত করবেন হয়তো; কিন্তু সেটা করতে হবে আইনস্টাইনের কাছে ঋণী থেকেই। তিনি যে কত বড় জ্ঞানী ও ধীশক্তিসম্পন্ন ছিলেন, তা বোঝাতে জোকসও তৈরি হয়েছে অনেক।

একটা এমন : আইনস্টাইন গেছেন এক রেস্টুরেন্টে। ওয়েটার মেনু নিয়ে এলে তিনি ভুলে চশমা আনেননি বলে তাকে আইটেমগুলো পড়ে শোনাতে বললেন। ওয়েটার বলল- স্যার, আমিও আপনার মতো মূর্খ! পাঠক বলুন তো, আইনস্টাইনের জায়গায় অন্য কেউ হলে জোকসটা কি এত জমত?

আমরা আরও কিছুক্ষণ হাসব, তারপর সিরিয়াস হয়ে যাব। আইনস্টাইনের থিওরি অফ রিলেটিভিটি (আপেক্ষিকতার তত্ত্ব) প্রকাশিত হওয়ার পর বিজ্ঞান তথা জ্ঞানের জগত অন্যরকম হয়ে গিয়েছিল। দুনিয়াজুড়ে হৈ হৈ। এ যে ভয়ঙ্কর পরিষ্কার চিন্তা! স্বপ্নেও কি এভাবে খুলতে পারে মাথা? কত যে মাত্রা এ তত্ত্বের! সাধারণের বোধগম্য করতে উদাহরণটা এমন হতে পারে- বাধ্যতামূলকভাবে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে থাকলে সময়কে খুব দীর্ঘ মনে হবে আর প্রেমিকার সঙ্গে একই সময় ধরে গল্প করলে টেরই পাওয়া যাবে না সময়টা কীভাবে কেটেছে। যা হোক, আইনস্টাইনের এই তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে তার ডাক পড়তে থাকল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচার দিতে। আজ এ দেশ, তো কাল অন্য। এত লেকচার, শুনতে শুনতে তার ড্রাইভারও বুঝে গেছে সব। তো একবার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে প্রবেশ করার পর ক্লান্তবোধ হওয়ায় আইনস্টাইন ড্রাইভারকে বললেন- এরা তো কেউ আমার চেহারা চেনে না, তুমিই বক্তৃতাটা দিয়ে আসো, আমি গাড়িতে ঘুমাই। ড্রাইভার গেলেন, অভ্যর্থনার পর যথারীতি সবিস্তার ব্যাখ্যা করলেন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব। বক্তৃতা শেষ হওয়ার পর অডিয়েন্স থেকে এক অধ্যাপক এমন এক প্রশ্ন করে বসলেন, যা ড্রাইভারের মুখস্থবিদ্যায় কুলোচ্ছিল না। তিনি পরিস্থিতি সামাল দেবেন কীভাবে? বললেন- আপনি পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক, অথচ এই সামান্য বিষয়টা বুঝতে পারছেন না! এটা তো আমার ড্রাইভারও বোঝে। আমি টায়ার্ড ফিল করছি। দাঁড়ান ড্রাইভারকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। এরপর তিনি পার্কিং এরিয়ায় এসে গাড়িতে বসলেন, উঠে গিয়ে উত্তরটা দিয়ে আসলেন আইনস্টাইন!

এখন থেকে হাসাহাসি বন্ধ। বিজ্ঞানের নানা শাখায় কতশত সূত্রের সঙ্গে আমরা পরিচিত! তবে সম্ভবত E=mc2B এযাবতকালের সেরা সমীকরণ। মাথানত হয়ে আসে এই ছোট্ট সমীকরণটির স্রষ্টার প্রতি। বস্তু ও শক্তি একই কথা এবং একটি আরেকটিতে রূপান্তরিত হতে পারে এবং হয়। আইনস্টাইন সূত্রটির মাধ্যমে বললেন- বস্তু থেকে রূপান্তরিত শক্তির পরিমাণ বস্তুটির সঙ্গে আলোর বেগের বর্গের গুণফলের সমান। এই সূত্র ধরেই তৈরি হয়েছিল পরমাণু বোমা। আইনস্টাইন এই বোমা তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকেননি, বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের কাছে লেখা চিঠিতে কেন তিনি এ ধরনের বোমা তৈরি করতে নিষেধ করেননি, সেজন্য পরবর্তীকালে অনুতাপও করেছেন। বলেছিলেন- এটা ছিল তার জীবনের এক বড় ভুল। শান্তিবাদী আইনস্টাইন আনবিক শক্তির ভয়াবহতা সম্পর্কে সাবধানবাণীই শুধু উচ্চারণ করেননি, বলেছিলেন- To kill in war time, it seems to me, is in no ways better than common murder- যুদ্ধকালীন হত্যা আমার কাছে কোনোভাবেই সাধারণ হত্যার চেয়ে ভালো নয়।

আইনস্টাইনের নাম ভাঙাব বলেছিলাম। হ্যাঁ, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ কথাই আমাদের আজকের প্রসঙ্গ। বলেছিলেন- সুকুমার বৃত্তি ছাড়া বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে। হতে পারে, তার হাতের বেহালাটি ছিল তার এই চিন্তার প্রতীকী প্রদর্শন। ছোট্ট উদাহরণ, তারপরও দেখুন। দেশলাই বিজ্ঞানেরই অবদান; এটা দিয়ে যে চুলা জ্বালাই, বই পোড়াই না- সে তো সুকুমার বৃত্তির গুণেই। অথবা লাইসেন্স করা দুই ব্যারেলের বন্দুক দিয়ে পাখি শিকার করে খাই; কিন্তু সামান্য কথা কাটাকাটিতে কারও বুকে গুলি করি না- সেটা কীসের জোরে? অবশ্য পাখি শিকার সুকুমার বৃত্তির পরিচয় কিনা, সেটা এক বিতর্ক বটে।

একটা মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে চলেছে সামনের দিকে। বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যে দ্রুত সমৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ ঘটছে, যা ধীরে ধীরে, কখনও বা দ্রুতই এই গ্লোবাল ভিলেজে আমাদেরও সম্পদ হয়ে যাচ্ছে- তার পাশাপাশি সুকুমার বৃত্তির চর্চাটা কি হচ্ছে আশানুরূপ? যদি না হচ্ছে, তাহলে দ্বিতীয় প্রশ্ন- যতই যন্ত্র বা প্রযুক্তিসমৃদ্ধ হচ্ছি না কেন, মননশীলতা ছাড়া মানুষ আসলে কতদূর যেতে পারে? অথবা যতদূরেই পৌঁছাই না কেন, সেটা কি সুন্দরতম জায়গা? অন্তত সুন্দরতর?

দুর্দশা আর কাকে বলে! ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল যখন, এক কলামে লিখেছিলাম- ‘সৈয়দ মুজতবা আলীকে মনে পড়ে। তিনি লিখেছিলেন- এক দম্পতি একটি বড় দোকানে গেছে কেনাকাটা করবে বলে। দোকানি এটা দেখায়, সেটা দেখায়- কিন্তু দম্পতির কিছুই পছন্দ হয় না। সবশেষে দোকানি বললেন- তাহলে কিছু বই কিনে নিয়ে যান। শুনে স্ত্রী বলে উঠলেন- আরে, ওটাও তো আমাদের একটা আছে! লিবারেল আর্ট শেখানোর জন্য একটা ইউনিভার্সিটি হল বটে!’ তবে অনেকদিন পর এই লেখা শেষ করার আগে সেখানকার এক শিক্ষকের কাছে জানলাম- ওটা নামেই লিবারেল আর্টস! ধরা যাক, কামেও। তাতে কী? বাংলায় একটা বাগধারা আছে- সর্বনাশে কিঞ্চিৎ রক্ষা। একটা ইউনিভার্সিটি দিয়ে সেই কিঞ্চিৎ রক্ষাটুকুও কি হয়? এছাড়া লিবারেল আর্টস তো ঢাকঢোল পিটিয়ে শেখানোর কিছু নয়। কিংবা নয় এটা শুধু সঙ্গীত, নৃত্য অথবা চারুকলা। মানুষ তার ব্যক্তিগত-পারিবারিক-সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শিল্পসম্মত আচরণ করবে- কথা তো সেটাই, লিবারেল আর্টসের সংজ্ঞা অথবা এর আওতাভুক্ত রয়েছে কী কী, তা নিয়ে মাথা ঘামানোর কিছু নেই। সেই প্রক্রিয়াটি কি চালু রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক কোনোভাবেই?

মাঝে মাঝে শাহবাগ মোড় ও আজিজ সুপার মার্কেট ঘুরে আসি। কাফকা, বালজাক, বুদ্ধদেব বসু- এসব নাম তো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র অথবা শাহবাগ ছাড়া ঢাকা শহরের আর কোথাও শুনতে পাওয়া যায় না, তাই সেখানেই যাই। কিঞ্চিৎ রক্ষার কিছু দৃশ্য অবশ্য জেলা-উপজেলা শহরগুলোয়ও দেখা যায়। উদয়ন, শাপলা, সৃজন ইত্যাদি নামের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর আওতায় এক ধরনের সুকুমার বৃত্তির চর্চা করে যাচ্ছে তরুণ-যুবসমাজের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ। মহাসমুদ্রের উথাল-পাতাল তরঙ্গাভিঘাতে এসব ছোট ছোট দ্বীপ কতদিনই বা টিকে থাকতে পারবে, সেটা এক প্রশ্ন।

তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান যুগে পৃথিবীময় দেখছি শুধু টেকনিশিয়ান আর টেকনিশিয়ান, বিউটিশিয়ান নেই। সোশ্যাল মিডিয়ার কথাই ধরি। আইনস্টাইন বেঁচে থাকলে হয়তো E=mc2-এর মতো পদার্থবিজ্ঞানের জটিল নয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের খুব সাধারণ একটি কথাই সমীকরণের আকারে দেখিয়ে দিতেন। হতে পারত সেটা D=2R, মানে democracy সমান সমান right I responsibility'র যোগফল। আবার সত্য এই যে, অধিকারের সীমা আছে, দায়িত্ববোধের নেই। অতঃপর সোশ্যাল মিডিয়ায় গণতন্ত্র চর্চা করতে হলে অধিকারের সীমাটুকু বুঝে ওঠা চাই। সোশ্যাল মিডিয়াকে অনেকে বলেন এডিটরবিহীন মিডিয়া। কথাটা ঠিক নয়। এ মিডিয়ায় প্রত্যেকেই এডিটর, শুধু এডিটিংটা জানতে হবে। কোনোকিছু পোস্ট করার আগে অত্যাবশ্যকীয়ভাবে তিনটি বিষয় আমলে নেয়া চাই- এক. তা যেন অন্যের ভাবাবেগে আঘাত না করে। দুই. তা যেন মানুষের বুদ্ধিবিভ্রম না ঘটায় এবং তিন. তা যেন মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি নষ্ট করে হট্টগোল না পাকায়। ওঁৎ পেতে থাকে নানা ধরনের অপশক্তি, শুধু একটু ইঙ্গিতের অপেক্ষায়। পেলেই শুরু করে স্বার্থ হাসিলের কাজ, কখনও আবার চালাতে পারে তাণ্ডব। গণতন্ত্র চর্চা অথবা সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে এসব মাথায় না রাখলে চলবে কেন?

তর্ক উঠতেই পারে, সত্য প্রকাশের দায় পূরণ করতে হলে তো ক্ষেত্রবিশেষে হট্টগোল বাধতেই পারে। অথবা অপরাধীর ভাবাবেগের কী মূল্য! এখানেই প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে সুরুচি ও সুকুমার বৃত্তির প্রশ্ন। এটা মানুষকে শেখায় অনুপাতজ্ঞানও!

মাহবুব কামাল : সাংবাদিক

[email protected]

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.