এত পানি কোথায় ছিল!
jugantor
এত পানি কোথায় ছিল!

  ড. মো. ফখরুল ইসলাম  

২১ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আষাঢ়ের শুরুতে আকাশটা ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গিয়েছিল। মাসের দুদিন না পেরোতেই সারা দেশে অবিরাম বজ্রবৃষ্টি নিয়ে হাজির যেন বর্ষা রানী। অবশ্য গত সপ্তাহে দার্জিলিং, মেঘালয়, আসাম ইত্যাদি অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ হয়েছে। একটানা অতিবর্ষণ পাহাড়ি ঢল হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে আমাদের সবুজ-শ্যামলিমাকে ডুবিয়ে দিয়েছে। থই থই বন্যার পানিতে সয়লাব বৃহত্তর সিলেট। তার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, এবং বাদ যায়নি গাইবান্ধা, শেরপুর, নেত্রকোনা, সিরাজগঞ্জ ইত্যাদি জেলাও। এ বছর দ্বিতীয়বার বন্যা ধেয়ে এসেছে ঢলের পানির তোড়ের সঙ্গে। নিয়ে এসেছে ভয়ংকর এক আগ্রাসী মাতম। জুন মাসের ১৭ তারিখে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গেছে সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলায়।

এ বছর এক মাসের ব্যবধানে আবারও সিলেটে বন্যা দেখা দিয়েছে। এবারের বন্যা শুধু হাওড়ে নয়, শহর-গ্রাম সব জায়গায়। হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে হু হু শব্দ করে উজান থেকে ধেয়ে এসে বাড়িতে ঢুকছে পানি, থই থই করছে চারদিক। বাদ যায়নি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোটা ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক হলেও পানি উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি ক্লাস, পরীক্ষা সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে বহুবার বন্যা হয়েছে। কিন্তু এবারের মতো এত দ্রুত এত বিপুল জলরাশি ধেয়ে আসেনি কখনো। এই এলাকায় এত ভয়াবহ অবস্থা কোনোদিন কেউ ঘটতে দেখেনি। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের বাসায় পানিবন্দি হয়ে ঘরের মধ্যে আটকা পড়ে আছেন। রাস্তা, টিনশেড ও একতলা বাড়ির ঘরে পানি, গ্যারেজে পানি, প্রায় সব বহুতল বাড়ির নিচতলার মধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে। জুন ১৬ তারিখ থেকে একটু একটু করে পানি বেড়ে ১৭ তারিখের বিকাল চারটার মধ্যে গোটা ক্যাম্পাস পানিতে ডুবে গেছে।

এবারের সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে এর প্রভাবে গোটা দেশের আসন্ন এসএসসি ও সমমানের সব পাবলিক পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ জন্য প্রস্তুতি নিয়েও ৩০ লাখ ২১, ৮৬৮ জন পরীক্ষার্থী বিপাকে পড়েছে।

এছাড়া ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে পানি ঢোকায় বিমান ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। ঢাকামুখী রাস্তাসহ ছোট-বড় সব রাস্তা উপচে পানির স্রোত বইতে থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি ঢুকে পড়ায় গোটা অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের সাব-স্টেশনগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় গোটা সুনামগঞ্জ জেলা অন্ধকারে ডুবে আছে।

সুনামগঞ্জের শহর-গ্রাম সব এলাকায় ভয়ংকর অবস্থা বিরাজমান। একতলা বাড়িঘরের নিশানা নেই। কোথাও কোথাও ঘরের চালের ওপর দিয়ে বইছে বন্যার পানির স্রোত। অল্পসংখ্যক দোতলা-তিনতলা বাড়িতে বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তারা সেখানে গিজ গিজ করে আছেন। সবাই বাড়ির মালামাল, আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদি বাঁচানোর আশা ছেড়ে দিয়ে জীবন বাঁচানোর তাগিদে আশ্রয়ের খোঁজে হন্যে হয়ে পড়েছেন। দোয়ারাবাজার, ছাতক ও সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোনের ব্যাটারি চার্জের অভাবে জরুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন অনেক রিমোট এলাকার মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ জন শিক্ষার্থী সেখানে সফরে গিয়ে পানিতে আটকা পড়ে আছেন বলে সংবাদ বেরিয়েছে।

সিলেট রেলস্টেশনে পানি উঠে ১ ও ২নং প্ল্যাটফরমের লাইন ডুবে যাওয়ায় ছাতক, সুনামগঞ্জের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে ঢাকার সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ হতে পারে।

সুনামগঞ্জে বন্যার পানির এত ভয়াবহ অবস্থা যে স্থানীয় মানুষ নিজেরা উদ্ধার কাজ করতে অপারগ। তাই সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দলকে নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে জলবন্দি মানুষ ও গবাদিপশু উদ্ধারের জন্য ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তারা হেলিকপ্টারে করে পানির বোতল, স্যালাইন ও শুকনো খাবার সরবরাহের আবেদন জানিয়েছেন।

অনেকে অভিযোগ করেছেন, তারা এত কষ্টের মধ্যে জীবন বাজি রেখে পানির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, অথচ তাদের এই আকুতি টিভি বা গণমাধ্যমে তেমন করে প্রচারিত হচ্ছে না। এমনকি কেউ তাদের উদ্ধার বা সাহায্য করতে এখনো এগিয়ে আসছে না। তারা বলছেন, দেশের এত টিভি চ্যানেল ও মিডিয়ার লোকজন কোথায়? তারা এখনো নীরব কেন?

টানা বর্ষণে শুধু সুরমা নয়, দেশের ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, ধরলা, সোমেশ্বরী নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দু-তিন দিন পর দেশের মধ্যাঞ্চলে বন্যার প্রকোপ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

দ্বিতীয় ধাপের এ বন্যার এত ভয়ংকর চেহারা আগে কেউ কখনো দেখেননি। বন্যার পানির স্রোতের এত বেগ হবে তা কেউ কখনো কল্পনাও করেননি। এত পানি উজানের কোত্থেকে ধেয়ে আসছে তা নিয়ে অনেকের মনে বিস্ময়। সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই নদী নাব্য হারিয়েছে অনেক আগেই। এসব নদী উজানের এত বিপুল জলরাশির চাপ সহ্য করতে অপারগ। অনেকে বলছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন কাজের জন্য নদীগুলোতে পানি প্রবেশের দ্বারগুলো সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তাই পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে রাস্তা উপচিয়ে শহর ও গ্রামের জনবসতি ভাসিয়ে দিচ্ছে। কেউ আবার করুণ স্বরে বলছেন, এটা আমাদের শুধু নিয়তি বললে ভুল হবে। এটা যতটা না নিয়তি, ততটা আমাদের প্রতিবেশীদের প্রাকৃতিক দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্যপ্রদানে অসহযোগিতার নমুনা। বার বার হঠাৎ হু হু করে ধেয়ে আসা বন্যার লক্ষণ খুই অশুভ। এটা আমাদের সার্বিক উন্নয়ন প্রচেষ্টার পথে বড় বাধা।

তবে ক্রমাগত বিপর্যয়ের মুখে পড়ে যে যাই বলুন না কেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন-নদীভাঙন, অকাল বন্যা, ফ্লাশ ফ্লাড, বারবার বন্যা, ভূমিধস ইত্যাদি যেহেতু আমাদের পাহাড়ি ও সমতল সব এলাকার মানুষের এক বড় নিয়তি, সেহেতু এসব বিপর্যয় ঠেকাতে হলে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সব নদীর সব মৌসুমের পানিপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করতে হবে এবং কার্যকর চুক্তি করতে হবে। খরা মৌসুমে অভ্যন্তরীণ সব নদীতে ড্রেজিং করে পানি প্রবেশের সংকুচিত দ্বারগুলো প্রশস্ত ও সাগরে যাওয়ার পথকে উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

ড. মো. ফখরুল ইসলাম : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন

fakrul@ru.ac.bd

এত পানি কোথায় ছিল!

 ড. মো. ফখরুল ইসলাম 
২১ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আষাঢ়ের শুরুতে আকাশটা ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গিয়েছিল। মাসের দুদিন না পেরোতেই সারা দেশে অবিরাম বজ্রবৃষ্টি নিয়ে হাজির যেন বর্ষা রানী। অবশ্য গত সপ্তাহে দার্জিলিং, মেঘালয়, আসাম ইত্যাদি অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ হয়েছে। একটানা অতিবর্ষণ পাহাড়ি ঢল হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে আমাদের সবুজ-শ্যামলিমাকে ডুবিয়ে দিয়েছে। থই থই বন্যার পানিতে সয়লাব বৃহত্তর সিলেট। তার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, এবং বাদ যায়নি গাইবান্ধা, শেরপুর, নেত্রকোনা, সিরাজগঞ্জ ইত্যাদি জেলাও। এ বছর দ্বিতীয়বার বন্যা ধেয়ে এসেছে ঢলের পানির তোড়ের সঙ্গে। নিয়ে এসেছে ভয়ংকর এক আগ্রাসী মাতম। জুন মাসের ১৭ তারিখে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গেছে সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলায়।

এ বছর এক মাসের ব্যবধানে আবারও সিলেটে বন্যা দেখা দিয়েছে। এবারের বন্যা শুধু হাওড়ে নয়, শহর-গ্রাম সব জায়গায়। হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে হু হু শব্দ করে উজান থেকে ধেয়ে এসে বাড়িতে ঢুকছে পানি, থই থই করছে চারদিক। বাদ যায়নি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোটা ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক হলেও পানি উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি ক্লাস, পরীক্ষা সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে বহুবার বন্যা হয়েছে। কিন্তু এবারের মতো এত দ্রুত এত বিপুল জলরাশি ধেয়ে আসেনি কখনো। এই এলাকায় এত ভয়াবহ অবস্থা কোনোদিন কেউ ঘটতে দেখেনি। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের বাসায় পানিবন্দি হয়ে ঘরের মধ্যে আটকা পড়ে আছেন। রাস্তা, টিনশেড ও একতলা বাড়ির ঘরে পানি, গ্যারেজে পানি, প্রায় সব বহুতল বাড়ির নিচতলার মধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে। জুন ১৬ তারিখ থেকে একটু একটু করে পানি বেড়ে ১৭ তারিখের বিকাল চারটার মধ্যে গোটা ক্যাম্পাস পানিতে ডুবে গেছে।

এবারের সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে এর প্রভাবে গোটা দেশের আসন্ন এসএসসি ও সমমানের সব পাবলিক পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ জন্য প্রস্তুতি নিয়েও ৩০ লাখ ২১, ৮৬৮ জন পরীক্ষার্থী বিপাকে পড়েছে।

এছাড়া ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে পানি ঢোকায় বিমান ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। ঢাকামুখী রাস্তাসহ ছোট-বড় সব রাস্তা উপচে পানির স্রোত বইতে থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি ঢুকে পড়ায় গোটা অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের সাব-স্টেশনগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় গোটা সুনামগঞ্জ জেলা অন্ধকারে ডুবে আছে।

সুনামগঞ্জের শহর-গ্রাম সব এলাকায় ভয়ংকর অবস্থা বিরাজমান। একতলা বাড়িঘরের নিশানা নেই। কোথাও কোথাও ঘরের চালের ওপর দিয়ে বইছে বন্যার পানির স্রোত। অল্পসংখ্যক দোতলা-তিনতলা বাড়িতে বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তারা সেখানে গিজ গিজ করে আছেন। সবাই বাড়ির মালামাল, আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদি বাঁচানোর আশা ছেড়ে দিয়ে জীবন বাঁচানোর তাগিদে আশ্রয়ের খোঁজে হন্যে হয়ে পড়েছেন। দোয়ারাবাজার, ছাতক ও সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোনের ব্যাটারি চার্জের অভাবে জরুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন অনেক রিমোট এলাকার মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ জন শিক্ষার্থী সেখানে সফরে গিয়ে পানিতে আটকা পড়ে আছেন বলে সংবাদ বেরিয়েছে।

সিলেট রেলস্টেশনে পানি উঠে ১ ও ২নং প্ল্যাটফরমের লাইন ডুবে যাওয়ায় ছাতক, সুনামগঞ্জের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে ঢাকার সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ হতে পারে।

সুনামগঞ্জে বন্যার পানির এত ভয়াবহ অবস্থা যে স্থানীয় মানুষ নিজেরা উদ্ধার কাজ করতে অপারগ। তাই সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দলকে নৌকা, স্পিডবোট নিয়ে জলবন্দি মানুষ ও গবাদিপশু উদ্ধারের জন্য ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তারা হেলিকপ্টারে করে পানির বোতল, স্যালাইন ও শুকনো খাবার সরবরাহের আবেদন জানিয়েছেন।

অনেকে অভিযোগ করেছেন, তারা এত কষ্টের মধ্যে জীবন বাজি রেখে পানির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, অথচ তাদের এই আকুতি টিভি বা গণমাধ্যমে তেমন করে প্রচারিত হচ্ছে না। এমনকি কেউ তাদের উদ্ধার বা সাহায্য করতে এখনো এগিয়ে আসছে না। তারা বলছেন, দেশের এত টিভি চ্যানেল ও মিডিয়ার লোকজন কোথায়? তারা এখনো নীরব কেন?

টানা বর্ষণে শুধু সুরমা নয়, দেশের ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, ধরলা, সোমেশ্বরী নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দু-তিন দিন পর দেশের মধ্যাঞ্চলে বন্যার প্রকোপ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

দ্বিতীয় ধাপের এ বন্যার এত ভয়ংকর চেহারা আগে কেউ কখনো দেখেননি। বন্যার পানির স্রোতের এত বেগ হবে তা কেউ কখনো কল্পনাও করেননি। এত পানি উজানের কোত্থেকে ধেয়ে আসছে তা নিয়ে অনেকের মনে বিস্ময়। সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই নদী নাব্য হারিয়েছে অনেক আগেই। এসব নদী উজানের এত বিপুল জলরাশির চাপ সহ্য করতে অপারগ। অনেকে বলছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন কাজের জন্য নদীগুলোতে পানি প্রবেশের দ্বারগুলো সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তাই পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে রাস্তা উপচিয়ে শহর ও গ্রামের জনবসতি ভাসিয়ে দিচ্ছে। কেউ আবার করুণ স্বরে বলছেন, এটা আমাদের শুধু নিয়তি বললে ভুল হবে। এটা যতটা না নিয়তি, ততটা আমাদের প্রতিবেশীদের প্রাকৃতিক দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্যপ্রদানে অসহযোগিতার নমুনা। বার বার হঠাৎ হু হু করে ধেয়ে আসা বন্যার লক্ষণ খুই অশুভ। এটা আমাদের সার্বিক উন্নয়ন প্রচেষ্টার পথে বড় বাধা।

তবে ক্রমাগত বিপর্যয়ের মুখে পড়ে যে যাই বলুন না কেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন-নদীভাঙন, অকাল বন্যা, ফ্লাশ ফ্লাড, বারবার বন্যা, ভূমিধস ইত্যাদি যেহেতু আমাদের পাহাড়ি ও সমতল সব এলাকার মানুষের এক বড় নিয়তি, সেহেতু এসব বিপর্যয় ঠেকাতে হলে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সব নদীর সব মৌসুমের পানিপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করতে হবে এবং কার্যকর চুক্তি করতে হবে। খরা মৌসুমে অভ্যন্তরীণ সব নদীতে ড্রেজিং করে পানি প্রবেশের সংকুচিত দ্বারগুলো প্রশস্ত ও সাগরে যাওয়ার পথকে উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

ড. মো. ফখরুল ইসলাম : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন

fakrul@ru.ac.bd

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন