শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি
jugantor
শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি

  তারাপদ আচার্য্য  

১৮ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘কৃষ’ ধাতু থেকে ‘কৃষ্ণ’ শব্দটি এসেছে। ‘কৃষ্’ ধাতুর মানে হচ্ছে আকর্ষণ করা, সবাইকে টেনে নেওয়া। কৃষ্+ন প্রত্যয় করে ‘কৃষ্ণ’ শব্দ নিষ্পন্ন হয়। অর্থাৎ, যে সত্তা মহাবিশ্বের সবকিছুকে নিজের দিকে আকর্ষণ করছে, টানছে; বলছে আমিই তোমার আশ্রয়, আমিই তোমাকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করব, তুমি আমার কাছে এসো। যিনি এই কথা বলছেন, সবাইকে নিজের দিকে টানছেন, তিনিই কৃষ্ণ। সংস্কৃতে ‘কৃষ্ণ’ শব্দের অর্থ ‘কালো’। ব্রাহ্মণ সাহিত্যে কৃষ্ণকে নীল মেঘের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। কৃষ্ণানুসারীদের মতে এবং সংখ্যাতত্ত্ববিদদের ধারণায় খ্রিষ্টপূর্ব ৩ হাজার ২২৮ অব্দে শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার জন্মতিথি নিয়ে মতান্তরও আছে। মতান্তর যাই থাক না কেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম তার ভক্তদের কাছে ‘জন্মাষ্টমী’ নামে যুগ যুগ ধরে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে।

চন্দ্রবংশীয় রাজা যযাতি নহুশের পুত্র। যযাতির যদু, তুর্ব্বসু, দ্রুহ্যু, অণু ও পুরু এ পাঁচ পুত্র। তার মধ্যে যদু সবার বড়। কৃষ্ণ এ যদু বংশে মহাত্মা বসুদেবের ঔরসে দেবকীর গর্ভে কংসের কারাগারে জন্মগ্রহণ করেন। বসুদেবের পুত্র বলে তিনি বাসুদেব নামেও ভক্তদের কাছে পরিচিত।

গীতাতে শ্রীকৃষ্ণ তার জন্ম নিয়ে বলেছেন, ‘আমি জন্মহীন, অব্যয় আত্মা, ভূতগণের ঈশ্বর (শাসক, নিয়ন্তা, স্রষ্টা) হয়েও নিজ প্রকৃতিকে (অনির্বচনীয় মায়াশক্তিকে) আশ্রয় করে আত্মমায়ায় জন্মগ্রহণ করি।’ এছাড়া তিনি আরও বলেছেন, ‘আমার জন্ম সাধারণ মানুষের মতো নয়; আমার মৃত্যুও সাধারণ মানুষের মতো নয়। মানুষ জন্মগ্রহণ করে এবং মারা যায়, কিন্তু আমি জন্মরহিত হয়েও আবির্ভূত হই এবং অবিনশ্বর হয়েও অন্তর্ধান করে থাকি। আবির্ভূত হওয়া এবং অন্তর্হিত হওয়া-দুটিই আমার অলৌকিক লীলা।’

দ্বাপরের যুগ সন্ধিক্ষণে রোহণী নক্ষত্রে অষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব। শ্রীকৃষ্ণের অপ্রাকৃত লীলাকে কেন্দ্র করেই জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত হয়। একসময় অসুররূপী রাজশক্তির দাপটে পৃথিবী হয়ে উঠেছিল ম্রিয়মাণ। ধর্ম ও ধার্মিকরা ছিলেন অসহায়। বসুমতির পরিত্রাণের জন্য প্রজাপতি ব্রহ্মার শরণাপন্ন হন। ব্রহ্মার পরামর্শে পরিত্রাণের উপায় খুঁজে বের করতে দেবতারা মিলে যান দেবাদিদেব মহাদেবের কাছে। সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের যুগসন্ধিক্ষণে তারা বিষ্ণুর বন্দনা করেন। স্বয়ং ব্রহ্মা মগ্ন হন কঠোর তপস্যায়। এরপর অভয়বাণী শুনিয়ে বলেন, দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তানরূপে শঙ্খ, চক্র, গদাপদ্মধারী শ্রীকৃষ্ণ নামে তিনি অচিরেই মানবরূপে ধরাধামে অবতীর্ণ হবেন।

সেদিন ছিল ভাদ্র মাসের অষ্টমী তিথি। মধ্যরাত্রির নিবিড় অন্ধকারে ভুবন আবৃত। সবাই গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন। এরকম সময়ে শঙ্খ চক্র, গদাপদ্মধারী, চতুর্ভুজ মূর্তিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কংসের কারাগারে জন্মগ্রহণ করেন। বসুদেব দেবকী বিস্ময় বিস্ফোরিত চোখে প্রত্যক্ষ করেন ভগবানের সেই জ্যোতির্ময় আবির্ভাব। আলোর বন্যায় ভেসে গেল বিশ্ব চরাচর। আবির্ভূত দেবকী-বসুদেব নয়নভরে দেখেন অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত মনোহর শিশুটিকে-চতুর্ভুজ, বর্ণমালা পিতাসন পরিহিত অবস্থায়। সর্ব অঙ্গে বহুমূল্য বলয়, বক্ষে শ্রীবৎস চিহ্ন, সারা অঙ্গে মণিমুক্তাখচিত বহু মূল্যবান অলংকারাদি। ভগবানের আবির্ভাবের ক্ষণটিও সর্বসুলক্ষণযুক্ত, ঐশ্বর্যমণ্ডিত তাৎপর্যে উদ্ভাসিত। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব লীলা সত্যিই অপূর্ব সুশোভমণ্ডিত, তাৎপর্যপূর্ণ। কৃষ্ণের নির্দেশমতো তাকে কোলে করে সেই ঘোর আঁধার রাতে বেরোন বসুদেব। কারাগারে লোহার শিকল, বন্ধ দরজা আপনাআপনি খুলে যায়। অঝোর বারিধারা থেকে শ্রীকৃষ্ণকে বাঁচাতে অনন্তদেব এসে ফণা বিস্তার করে চক্রধারণ করেন। ভরা ভাদ্রের প্রমত্তা যমুনাও কৃষ্ণগমনের পথ সুগম করে দেন নিজেই। এসবই শ্রীকৃষ্ণের অলৌকিক ঐশ্বর্যের প্রকাশ। শ্রীমদ্ভগবদগীতায় উল্লেখ আছে, যিনি যেভাবে তাকে ভজন করেন, ভগবান সেভাবেই তাকে অনুগ্রহ করেন। তাই কংসের কারাগারে দেবকী-বসুদেবের সম্মুখে শ্রীকৃষ্ণ চতুর্ভুজ শঙ্খ, চক্র, গদাপদ্মধারী, আর নন্দালয়ে তিনি পূর্ণ অবতারস্বরূপ দ্বিভুজ মূর্তিতে উপস্থিত। ঐশ্বর্যলেশহীন বাৎসল্য প্রেমে নন্দালয়ে শ্রীকৃষ্ণের অভিষেক হলো সাধারণ মানবিক পরিবেশে।

অন্যান্য প্রাণী যেমন কর্মের ফলস্বরূপ জন্মগ্রহণ করে, ভগবান কিন্তু তেমনভাবে আবির্ভূত হন না। কর্মের ফলরূপে জন্ম হলে দুটি ব্যাপার থাকে-আয়ু এবং সুখ বা দুঃখভোগ। ভগবানের এ দুটির কোনোটাই হয় না। কারণ তিনি আয়ু, সুখ ও দুঃখের ঊর্ধ্বে। অবতরণের সময় ভগবান নিজ শুদ্ধ প্রকৃতিরূপ শক্তিকে আশ্রয় করে অবতরণ করেন এবং অবতাররূপে এ শক্তি দিয়ে কাজ করেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলায় পুতনাবধ, দাম বন্ধন লীলা, কালীয়দমন, গোবর্ধন ধারণ ইত্যাদি কার্যের মধ্যে তার অলৌকিক শক্তির পরিচয় মেলে। এ ছাড়া মুষ্টিক ও চানুর নামক দুই মল্লযোদ্ধার নিধন, কংস বধ, অকাসুর বধ, শিশুপাল বধ ইত্যাদি ঘটনার মধ্য দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের ঐশ্বরিক শক্তির প্রকাশ লক্ষ করা যায়।

তারাপদ আচার্য্য : সাধারণ সম্পাদক, সাধু নাগ মহাশয় আশ্রম, দেওভোগ, নারায়ণগঞ্জ

শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি

 তারাপদ আচার্য্য 
১৮ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘কৃষ’ ধাতু থেকে ‘কৃষ্ণ’ শব্দটি এসেছে। ‘কৃষ্’ ধাতুর মানে হচ্ছে আকর্ষণ করা, সবাইকে টেনে নেওয়া। কৃষ্+ন প্রত্যয় করে ‘কৃষ্ণ’ শব্দ নিষ্পন্ন হয়। অর্থাৎ, যে সত্তা মহাবিশ্বের সবকিছুকে নিজের দিকে আকর্ষণ করছে, টানছে; বলছে আমিই তোমার আশ্রয়, আমিই তোমাকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করব, তুমি আমার কাছে এসো। যিনি এই কথা বলছেন, সবাইকে নিজের দিকে টানছেন, তিনিই কৃষ্ণ। সংস্কৃতে ‘কৃষ্ণ’ শব্দের অর্থ ‘কালো’। ব্রাহ্মণ সাহিত্যে কৃষ্ণকে নীল মেঘের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। কৃষ্ণানুসারীদের মতে এবং সংখ্যাতত্ত্ববিদদের ধারণায় খ্রিষ্টপূর্ব ৩ হাজার ২২৮ অব্দে শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার জন্মতিথি নিয়ে মতান্তরও আছে। মতান্তর যাই থাক না কেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম তার ভক্তদের কাছে ‘জন্মাষ্টমী’ নামে যুগ যুগ ধরে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে।

চন্দ্রবংশীয় রাজা যযাতি নহুশের পুত্র। যযাতির যদু, তুর্ব্বসু, দ্রুহ্যু, অণু ও পুরু এ পাঁচ পুত্র। তার মধ্যে যদু সবার বড়। কৃষ্ণ এ যদু বংশে মহাত্মা বসুদেবের ঔরসে দেবকীর গর্ভে কংসের কারাগারে জন্মগ্রহণ করেন। বসুদেবের পুত্র বলে তিনি বাসুদেব নামেও ভক্তদের কাছে পরিচিত।

গীতাতে শ্রীকৃষ্ণ তার জন্ম নিয়ে বলেছেন, ‘আমি জন্মহীন, অব্যয় আত্মা, ভূতগণের ঈশ্বর (শাসক, নিয়ন্তা, স্রষ্টা) হয়েও নিজ প্রকৃতিকে (অনির্বচনীয় মায়াশক্তিকে) আশ্রয় করে আত্মমায়ায় জন্মগ্রহণ করি।’ এছাড়া তিনি আরও বলেছেন, ‘আমার জন্ম সাধারণ মানুষের মতো নয়; আমার মৃত্যুও সাধারণ মানুষের মতো নয়। মানুষ জন্মগ্রহণ করে এবং মারা যায়, কিন্তু আমি জন্মরহিত হয়েও আবির্ভূত হই এবং অবিনশ্বর হয়েও অন্তর্ধান করে থাকি। আবির্ভূত হওয়া এবং অন্তর্হিত হওয়া-দুটিই আমার অলৌকিক লীলা।’

দ্বাপরের যুগ সন্ধিক্ষণে রোহণী নক্ষত্রে অষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব। শ্রীকৃষ্ণের অপ্রাকৃত লীলাকে কেন্দ্র করেই জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত হয়। একসময় অসুররূপী রাজশক্তির দাপটে পৃথিবী হয়ে উঠেছিল ম্রিয়মাণ। ধর্ম ও ধার্মিকরা ছিলেন অসহায়। বসুমতির পরিত্রাণের জন্য প্রজাপতি ব্রহ্মার শরণাপন্ন হন। ব্রহ্মার পরামর্শে পরিত্রাণের উপায় খুঁজে বের করতে দেবতারা মিলে যান দেবাদিদেব মহাদেবের কাছে। সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের যুগসন্ধিক্ষণে তারা বিষ্ণুর বন্দনা করেন। স্বয়ং ব্রহ্মা মগ্ন হন কঠোর তপস্যায়। এরপর অভয়বাণী শুনিয়ে বলেন, দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তানরূপে শঙ্খ, চক্র, গদাপদ্মধারী শ্রীকৃষ্ণ নামে তিনি অচিরেই মানবরূপে ধরাধামে অবতীর্ণ হবেন।

সেদিন ছিল ভাদ্র মাসের অষ্টমী তিথি। মধ্যরাত্রির নিবিড় অন্ধকারে ভুবন আবৃত। সবাই গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন। এরকম সময়ে শঙ্খ চক্র, গদাপদ্মধারী, চতুর্ভুজ মূর্তিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কংসের কারাগারে জন্মগ্রহণ করেন। বসুদেব দেবকী বিস্ময় বিস্ফোরিত চোখে প্রত্যক্ষ করেন ভগবানের সেই জ্যোতির্ময় আবির্ভাব। আলোর বন্যায় ভেসে গেল বিশ্ব চরাচর। আবির্ভূত দেবকী-বসুদেব নয়নভরে দেখেন অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত মনোহর শিশুটিকে-চতুর্ভুজ, বর্ণমালা পিতাসন পরিহিত অবস্থায়। সর্ব অঙ্গে বহুমূল্য বলয়, বক্ষে শ্রীবৎস চিহ্ন, সারা অঙ্গে মণিমুক্তাখচিত বহু মূল্যবান অলংকারাদি। ভগবানের আবির্ভাবের ক্ষণটিও সর্বসুলক্ষণযুক্ত, ঐশ্বর্যমণ্ডিত তাৎপর্যে উদ্ভাসিত। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব লীলা সত্যিই অপূর্ব সুশোভমণ্ডিত, তাৎপর্যপূর্ণ। কৃষ্ণের নির্দেশমতো তাকে কোলে করে সেই ঘোর আঁধার রাতে বেরোন বসুদেব। কারাগারে লোহার শিকল, বন্ধ দরজা আপনাআপনি খুলে যায়। অঝোর বারিধারা থেকে শ্রীকৃষ্ণকে বাঁচাতে অনন্তদেব এসে ফণা বিস্তার করে চক্রধারণ করেন। ভরা ভাদ্রের প্রমত্তা যমুনাও কৃষ্ণগমনের পথ সুগম করে দেন নিজেই। এসবই শ্রীকৃষ্ণের অলৌকিক ঐশ্বর্যের প্রকাশ। শ্রীমদ্ভগবদগীতায় উল্লেখ আছে, যিনি যেভাবে তাকে ভজন করেন, ভগবান সেভাবেই তাকে অনুগ্রহ করেন। তাই কংসের কারাগারে দেবকী-বসুদেবের সম্মুখে শ্রীকৃষ্ণ চতুর্ভুজ শঙ্খ, চক্র, গদাপদ্মধারী, আর নন্দালয়ে তিনি পূর্ণ অবতারস্বরূপ দ্বিভুজ মূর্তিতে উপস্থিত। ঐশ্বর্যলেশহীন বাৎসল্য প্রেমে নন্দালয়ে শ্রীকৃষ্ণের অভিষেক হলো সাধারণ মানবিক পরিবেশে।

অন্যান্য প্রাণী যেমন কর্মের ফলস্বরূপ জন্মগ্রহণ করে, ভগবান কিন্তু তেমনভাবে আবির্ভূত হন না। কর্মের ফলরূপে জন্ম হলে দুটি ব্যাপার থাকে-আয়ু এবং সুখ বা দুঃখভোগ। ভগবানের এ দুটির কোনোটাই হয় না। কারণ তিনি আয়ু, সুখ ও দুঃখের ঊর্ধ্বে। অবতরণের সময় ভগবান নিজ শুদ্ধ প্রকৃতিরূপ শক্তিকে আশ্রয় করে অবতরণ করেন এবং অবতাররূপে এ শক্তি দিয়ে কাজ করেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলায় পুতনাবধ, দাম বন্ধন লীলা, কালীয়দমন, গোবর্ধন ধারণ ইত্যাদি কার্যের মধ্যে তার অলৌকিক শক্তির পরিচয় মেলে। এ ছাড়া মুষ্টিক ও চানুর নামক দুই মল্লযোদ্ধার নিধন, কংস বধ, অকাসুর বধ, শিশুপাল বধ ইত্যাদি ঘটনার মধ্য দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের ঐশ্বরিক শক্তির প্রকাশ লক্ষ করা যায়।

তারাপদ আচার্য্য : সাধারণ সম্পাদক, সাধু নাগ মহাশয় আশ্রম, দেওভোগ, নারায়ণগঞ্জ

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন