মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকুক

  একেএম শামসুদ্দিন ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাদকবিরোধী অভিযান
ছবি: সংগৃহীত

চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে জনমনে এখনও সংশয় কাটেনি। এ অভিযানের প্রাথমিক পর্যায়ে জনমনে যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল, এখন সে আগ্রহের পরিবর্তে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

যে উদ্দেশ্য নিয়ে অভিযান শুরু হয়েছিল, এই পর্যন্ত সে অভিযানের কতটুকু প্রকৃত সাফল্য পাওয়া গেছে, সবার মনে সে প্রশ্ন জাগতেই পারে। আমরা মনে করি, অভিযানের প্রস্তুতি পর্বে অভিযানের উদ্দেশ্য, কার্যকর পরিকল্পনা এবং পরিকল্পনা অনুসারে তা বাস্তবায়নের ফর্মূলা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পর্যায়ে বিশদভাবে আলোচনা বা পর্যালোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশব্যাপী অভিযানে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষের সঙ্গে কর্মপদ্ধতি নিয়েও নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে।

বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বছরের শুরু থেকেই অন্তত তিনটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে তার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেছেন এবং তার ওই সব বক্তব্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, মাদক চোরাচালান এবং মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে। মূলত এরপর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়।

এ ধরনের অভিযানের পূর্বে ঢাকঢোল পেটানোর কোনো প্রয়োজন আছে? বরং ঢাকঢোল পেটালে আসল অপরাধীদের কিছুটা ছাড় দেয়া হয়ে যায়। কারণ তখন তারা গা ঢাকা দেয়ার একটা সুযোগ পেয়ে যায়। সরকার সম্ভবত এ কথা বিবেচনায় রেখে আনুষ্ঠানিক পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এ অভিযান শুরু করে।

কিন্তু বাস্তবে আমরা কি দেখেছি? বিভিন্ন মিডিয়ার সূত্রে জানতে পেরেছি যে, পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য অভিযান শুরুর আগেই তালিকাভুক্ত অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে এ তথ্য জানিয়ে দেয়। ফলে চিহ্নিত ব্যক্তিরা খুব সহজেই বর্ডার ক্রস করে ওপারে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বিভিন্ন মিডিয়ায় এ সংবাদগুলো যখন প্রকাশ পায়, তখন স্বাভাবিক কারণেই জনমনে এ অভিযান নিয়ে এক ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়।

সবচেয়ে দুঃখজনক হল, যে মিয়ানমার প্রায় দশ লাখ মুসলমান রোহিঙ্গাকে তাদের ভিটেমাটি থেকে বিতারিত করে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণে বাধ্য করেছে, সেই মিয়ানমারেই আমাদের দেশের মাদক চোরাকারবারিরা নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছে।

ধারণা করা যায়, মাদকবিরোধী অভিযানের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলো নিজ নিজ পর্যায়ে মাদক চোরাচালান এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করেছে।

অভিযান শুরু হওয়ার পর মিডিয়ার বদৌলতে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্যে আমরা এ আভাসই পেয়েছি। আশা করি এ সমস্ত এজেন্সির তালিকাগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ক্রস-চেক, রি-চেকের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে নিশ্চয়ই একটি চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যাতে একজনও নিরপরাধ ব্যক্তি এ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

বাস্তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত চৌকস ও দক্ষ কর্মকর্তারা উল্লিখিত ব্যবস্থাই গ্রহণ করে থাকেন যাতে সরকারের যে কোনো উদ্দেশ্য বা ভালো পদক্ষেপ দেশের জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। আমরা সবাই জানি চলমান অভিযান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত হচ্ছে এবং এ কথা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, এ চূড়ান্ত তালিকাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত।

সরল হিসেবে তা-ই হওয়ার কথা। আর তা যদি না হয়ে থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে, এ অভিযানের প্রস্তুতি পর্বে সমন্বয়ে যথেষ্ট ঘাটতি ছিল যার কিছু আলামত বর্তমানে দৃশ্যমান। আর যদি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রস্তুতকৃত তালিকা ক্রস-চেক, রি-চেক না করে আলাদাভাবে অভিযানে অংশগ্রহণকারী বাহিনীগুলোকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে, তাহলে বলা যায়, ভুল পদ্ধতিতে এ অভিযান শুরু হয়েছে।

একরামের মৃত্যুর পর যে অডিও টেপ জনসমক্ষে চলে এসেছে তা পর্যালোচনা করলে অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পর মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে মানুষের আগ্রহ- আতংকে রূপান্তরিত হয়েছে। অভিযান শুরু হওয়ার পর এযাবৎ আনুমানিক দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একরামের মৃত্যুর পর সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী কাউন্সিলার একরামকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

এই অভিযানের স্ট্রাটেজি বা কৌশল কি ছিল তাও কিন্তু স্পষ্ট নয়। অভিযান শুরুর আগে মাদকব্যবসায় জড়িত মূল হোতা বা পৃষ্ঠপোষকদের আটক করে আইনের আওতায় আনার কি কোনো পরিকল্পনা ছিল? বিশেষ করে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত উচ্চপর্যায়ের অপরাধীদের আটকের কোনো পরিকল্পনা ছিল কিনা, সে সংশয় থেকে যায়। আমরা মনে করি, এ সব অপরাধীর আটকের নিশ্চয়ই পরিকল্পনা ছিল। তা না হলে অভিযানটাই তো অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এখন প্রশ্ন হল, এ অপরাধীদের আটকের কৌশল কী ছিল?

দুদকসহ দায়িতপ্রাপ্ত সব সংস্থার তৈরি তালিকায় তাদের দলের একজন সংসদ সদস্যের নাম থাকা সত্ত্বেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

দেশে যে পরিমাণে মাদকদ্রব্য সেবন করা হয় তার পঞ্চাশ শতাংশই ইয়াবা এবং বাকি পঞ্চাশ শতাংশের অধিকাংশই ফেনসিডিল। এই মাদকদ্রব্যের খুব অল্পসংখ্যক দেশে তৈরি হয়। দ্রব্য দুটি ভারত এবং মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এটা আজ পরিষ্কার যে, মাদক চোরাচালানের সঙ্গে আইন-শৃংখলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য ও কিছু ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেতার আশির্বাদপুষ্ট মাদক ব্যবসায়ী জড়িত।

কিন্তু এই পর্যন্ত কতজন উচ্চপর্যায়ের মাদক চোরাকারবারীকে আটক করা হয়েছে কিংবা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মৃত্যু হয়েছে সে পরিসংখ্যান আমাদের জানা নেই। তবে অভিযান শুরু হওয়ার পর এই পর্যন্ত যতজন মাদকব্যবসায়ী আটক কিংবা নিহত হয়েছে তার অধিকাংশ ক্ষুদ্র মাদকব্যবসায়ী, মাদকবহনকারী অথবা মাদকসেবনকারী; মাদক চোরাকারবারী বা পৃষ্ঠপোষকরা রয়ে গেছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

বিশেষজ্ঞদের মতে জানা যায়, প্রথমেই যদি মাদকব্যবসার সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের টার্গেট করে অভিযান শুরু করা যেত তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এই অভিযানের এক সুদূরপ্রসারী ফল পাওয়া সম্ভব হতো। অথচ বাস্তবে আমরা তা দেখলাম না।

অপর এক পরিসংখ্যানে জানা যায় যে, দেশব্যাপী এই ব্যাপক অভিযান চলার পরও দেশের অভ্যন্তরে যে পরিমাণ মাদকদ্রব্য মজুদ আছে তা দিয়ে বর্তমান হারে মাদক সেবন করলেও আগামী ছয় মাস অনায়াসেই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। সুতরাং এই ছয় মাসের মধ্যে চলমান অভিযান স্তিমিত হয়ে পড়লে ঘাপটি মেরে থাকা মাদকের গডফাদার পূর্বের অবস্থানে ফিরে এসে পুনরায় ব্যবসা শুরু করতে কোনো অসুবিধা হবে না।

মাদকবিরোধী অভিযান কতদিন চলবে সরকারে পক্ষ থেকে তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট জোড়ালো ঘোষণা আমরা শুনিনি। যদিও ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে বলে তাদের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

তারপরও এই অভিমতের উপর সাধারণ জনগণ ভরসা রাখতে পারছে বলে মনে হচ্ছে না। এরই মধ্যে গত ১ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বেঠকে আমাদের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বাংলাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য চলমান অভিযান একটি সাময়িক ব্যবস্থা বলে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালেও কিন্তু সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মাদকদ্রব্য দেশে প্রবেশ বন্ধ হয়নি! এই পরিস্থিতিতে সংশয় হয়, তাহলে কি আমাদের সীমান্ত রক্ষাবাহিনী সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না? সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মাদক প্রবেশ বন্ধ করা না গেলে এই অভিযান কোনোদিই সাফল্যের মুখ দেখবে না। দেশের অভ্যন্তরে মাদকের যে মহামারী চলছে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে সরকারকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিষয় তিনটি হল- প্রথমত মাদকদ্রব্য উৎপাদনের উৎসমূল উৎপাটন, দ্বিতীয়ত সীমান্তে মাদক প্রতিরোধ এবং তৃতীয়ত মাদকব্যবসার সঙ্গে জড়িত গডফাদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আগেই উল্লেখ করেছি যে, আমাদের দেশে প্রচলিত মাদকদ্রব্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক হল ইয়াবা এবং ফেনসিডিল এবং এ দু’টি দ্রব্যের সিংহভাগ আসে আমাদের প্রতিবশী ভারত এবং মিয়ানমার থেকে।

বাংলাদেশকে টার্গেট করেই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সীমানা বরাবর কারখানা গড়ে তুলে ইয়াবা এবং ফেনসিডিল তৈরি করছে। শুধু ইয়াবা চোরাচালানে বাংলাদেশ থেকে প্রতিমাসে ১০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ইয়াবা এবং ফেনসিডিল তৈরির মূল উৎস বন্ধ করতে হলে এই দুটি দেশের সঙ্গে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। ভারতকে আমরা বরাবরই আমাদের প্রকৃত বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করে এসেছি।

বিশেষ করে বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা প্রশ্নাতীত। তাছাড়া বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত আমাদের কাছে থেকে অনেক কিছু পেয়েছে। এই বক্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায় কলকাতা সফরোত্তর সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।

সুতরাং আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে চাই, বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে উভয় দেশের সমান সংখ্যক সদস্যের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে সীমান্ত বরাবর মাদক উৎপাদনের কারখানাগুলো বন্ধ করতে সক্ষম হবে। আমরা আশা করি, ভারত সরকারও প্রতিদান হিসেবে আমাদের মাদকাসক্ত যুবসমাজকে বাঁচাতে উল্লেখিত কারখানাগুলো বন্ধ করার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কিছুটা শিথিল হলেও আন্তর্জাতিক মহলকে সম্পৃক্ত করে সঠিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমারে অবস্থিত ইয়াবা কারখানাগুলো বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে প্রতিয়মান হয়।

আমাদের সীমান্ত প্রহরা আরও দৃঢ় করতে হবে। উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৪০০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে আর মিয়ানমারের সঙ্গে রয়েছে ২৫২ কিলোমিটার সীমান্ত। এই আন্তর্জাতিক সীমান্তে এমন জায়গা আছে, যেখানে অনেক ফাঁকফোকর রয়ে গেছে। এই সব ফাঁকফোকর দিয়ে অবাধে চলে মাদক চোরাচালন। এ সব সীমান্তে প্রহরা কড়াকড়ি করা কঠিন হয়ে পড়েছে দুর্নীতির কারণে। এ জন্য সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সাধারণ জনগণকেও বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। একটা কথা মনে রাখতে হবে, সীমান্ত এলাকার জনগণের আন্তরিক সহোযোগিতা ছাড়া চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় নিয়োজিত আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের অর্থের বিনিময় এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। কারণ এটা সহজেই অনুমেয় যে, এ ধরনের নিয়োগপ্রাপ্তদের মানসিক দৃঢ়তা বেশ দুর্বল থাকে। এ সব সদস্য অতিসহজেই অসাধু রাজনৈতিক নেতাদের ক্রীড়নকে পরিণত হয়। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী স্পর্শকাতর থানা ও চৌকিগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারী বৃদ্ধি করতে হবে। তা না হলে সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানে যদি বিপুল অর্থ খরচ করে বদলি ম্যানেজ করতে হয় তবে সে সব বদলিকৃত সদস্যরা সীমান্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কী? বরং তারা মূলধন তুলতেই ব্যস্ত হয়ে পড়বে। এ সব জটিলতা মীমাংসা করে যদি সীমান্ত এলাকায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায় তাহলে মাদক প্রবেশ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে- এটা আশা করা যায়। বহুল আলোচিত উঁচু পর্যায়ের মাদকব্যবসায়ী ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত মাদকব্যবসার সঙ্গে জড়িত নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া। বিশেষ করে স্থানীয় ও প্রভাবশালী অসাধু রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক হতে হবে। এ ব্যাপারে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকে নির্দেশনা থাকতে হবে। দুদকসহ অন্যান্য নজরদারী সংস্থাগুলোকেও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে সঠিক ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে। আশার কথা, দুদক ইতিমধ্যে উঁচু পর্যায়ের ৩০০ মাদক ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করেছে এবং এদের দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছে।

মাদকবিরোধী অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া হওয়া উচিত। সময় বেশি লাগলেও এই অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের চারপাশে মাদক যতটা বিস্তৃত হয়েছে, অল্পদিনের অভিযানে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের কোনো কোনো নেতা এই অভিযানকে যতই সাময়িক পদক্ষেপ বলে আখ্যায়িত করুক না কেন, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উপর আস্থা রাখতে চাই। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তার এক বক্তব্যে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন। এই পর্যন্ত সব ভুলত্রুটি চিহ্নিত ও সংশোধন করে- মাদকসমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত- নিরপেক্ষভাবে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter