ত্রিকালজ্ঞ শিক্ষাক্রম এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
jugantor
ত্রিকালজ্ঞ শিক্ষাক্রম এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

  সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একটা সময় ছিল, যখন তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করতে শিক্ষাক্রম বা অন্য যে কোনো নামে বা যে কোনোভাবে যে পরিকল্পনা করা হতো, সেটি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের একটি স্পষ্ট ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হতো।

উদ্দেশ্য ছিল, শিক্ষার্থীরা অতীত সম্পর্কে জানবে, সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমানকে বোঝার চেষ্টা করবে এবং তারই ধারাবাহিকতায় কীভাবে ভবিষ্যতের জীবনযাপিত হবে, তা কল্পনা করে নিজেকে প্রস্তুত করবে। কিন্তু এখন আর ঠিক সেভাবে শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা সম্ভব নয়। অতীতের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য এখন এত বেশি যে, তাদের মধ্যে ধারাবাহিকতা খুঁজতে গিয়ে আমরা খেই হারিয়ে ফেলি আর ক্রমাগত কুয়াশাচ্ছন্ন হতে থাকা ভবিষ্যৎ একেবারে অদৃশ্য না হলেও খুব স্পষ্ট করে আর দেখা যায় না।

আগে কী হতো একটু কল্পনা করা যাক। ধরুন, আজ থেকে এক হাজার বছর আগে ১০২২ সাল। তখনো মানুষ তো আর ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা ছিল না। কিন্তু অন্তত এটুকু বুঝত যে, সমাজের মৌলিক বিষয়গুলোর পরিবর্তন হবে না। সেই সময়কার মানুষ হয়তো ধরে নিত যে, যেরকম সব সময় রাজা যায় রাজা আসে, সেভাবে শাসকের পরিবর্তন হবে অথবা মহামারিতে উজাড় হবে গ্রামের পর গ্রাম; কিন্তু কামার, কুমোর, জেলে, তাঁতি, চাষি বা নাপিতদের পেশা একই থাকবে, শাসকরা-আমলা বা সৈনিক হিসাবে মানুষকেই নিয়োগ করবে, সমাজ এরকমই পুরুষশাসিত হবে এবং মানুষের সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল হবে চল্লিশের কাছাকাছি। ফলে সেই সময়কার একজন শিশু বড় হয়ে কী হবে বা কী পরিবেশে জীবনযাপন করবে, তা আন্দাজ করা সহজ ছিল এবং সেই অনুযায়ী তাকে প্রস্তুত করা যেত।

আমাদের কালটা একটু ভিন্ন। এখন কামার-কুমোরদের পেশা তো পরিবর্তন হচ্ছেই; এমনকি রসায়ন শাস্ত্রের অধ্যাপক চিত্রপরিচালক হয়ে যাচ্ছেন, ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছেন মন্ত্রী, পদার্থবিদ হচ্ছেন ব্যাংকার, ডাক্তার হচ্ছেন প্রশাসক ইত্যাদি। যাই হোক, তাতেও তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। কারণ, দক্ষতা বিবেচনায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পুরোনো পেশার সঙ্গে নতুন পেশার খুব একটা পার্থক্য ছিল না এবং সবাই যে বাধ্য হয়ে তার নিজের পেশা ত্যাগ করেছেন, তাও নয়। অনেকেই স্বেচ্ছায় নতুন পেশা বেছে নিয়েছেন।

কিন্তু যে শিশু এখন জন্ম নিচ্ছে, সে যখন বড় হবে সে কোন পেশা বা বলা ভালো-কোন পেশা বেছে নেবে, তা বলা খুব কঠিন। ২০৫০ সালকে কল্পনা করে আমরা হয়তো শিক্ষার্থীদের সি + + এ কম্পিউটার কোড লেখা শেখালাম; অথবা সেই সময় চাইনিজ ভাষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ভেবে তাদের ওই ভাষায় দক্ষ করে তুললাম। কিন্তু পরে যদি দেখা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের চাইতে অনেক ভালোভাবে সফটওয়্যার কোড করতে পারছে বা গুগল ট্রান্সলেট দিয়ে কোনো ভাষা না শিখেই সে ভাষায় অন্যদের সঙ্গে নিখুঁতভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছে, তাহলে তখন তো স্রেফ তাদের মাথায় হাত পড়বে।

তাদের যেন সত্যি সত্যি মাথায় হাত না পড়ে, সেরকম শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করা কঠিন। এর প্রধান কারণ, আমরা এখনো এ পরিবর্তনের বিষয়টি বুঝতেই পারছি না। আমরা এখনো ভাবি-ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা আমরা জানি। আমাদের কাছে এখনো মনে হয়, আমাদের সন্তানদের মেডিকেল কলেজ বা বুয়েটে ভর্তি করিয়ে দিতে পারলে তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যাবে। আমরা এখনো মনে করি, অনাদিকাল থেকে যে ছকে আমাদের জীবন চলছে, এখনো সেভাবে চলবে।

এ পর্যন্ত মানুষের জীবন ছিল মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে সে প্রস্তুতি নিত আর জীবনের দ্বিতীয় ভাগে সে সেই প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে বাকি জীবন কাটিয়ে দিত। প্রস্তুতিকালে সে একটু অস্থিরতা ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেত বটে; কিন্তু দ্বিতীয় ভাগে তুলনামূলকভাবে সুস্থির হয়ে সে প্রায় একইভাবে, একই কাজ করে এবং একই মানসিকতা নিয়ে জীবনটা পার করে দিতে পারত।

এ দুইভাগের ছকে বাঁধা জীবন এখন বহুভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, একেকটা ভাগের আয়ু হবে বড়জোর ১০-১২ বছর; অর্থাৎ অন্তত প্রতি ১০-১২ বছরে একবার করে মানুষের মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি, দক্ষতা বা পেশা পরিবর্তন করতে হবে। এর মানে হলো, আমরা আজকের শিশুদের যা শেখাব, তা দিয়ে তাদের বড়জোর ১০-১২ বছর চলবে। তারপর কেবল টিকে থাকার জন্য তাদের নিজ দায়িত্বে জীবনের পরবর্তী ভাগগুলোর জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে থাকতে হবে।

তবে সুবিধা হচ্ছে, এটি তো কেবল আমাদের একার সমস্যা না। সারা পৃথিবী এখন এটা নিয়ে ভাবছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য সৃজনশীলতা, সূক্ষ্মচিন্তন দক্ষতা, খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, সহযোগিতা, সহমর্মিতা বা যোগাযোগ দক্ষতার মতো সফট স্কিল বা তরল দক্ষতা তৈরি করে দেওয়া যায়, তাহলে তারা প্রয়োজনে সেগুলো নতুন নতুন পাত্রে ঢেলে নিজেদের নিত্যনতুনভাবে তৈরি বা আবিষ্কার করতে পারবে।

তবে শুধু যে পেশারই পরিবর্তন হবে, তা কিন্তু নয়। সমাজ, রাষ্ট্র, পারিবারিক সম্পর্ক, দেশের সীমানা, সাইবার মাইগ্রেশন, জেন্ডার আইডেন্টিটি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে ইন্দ্রিয় অনুভূতির মতো ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতসব পরিবর্তনের ধাক্কা সামলানোর জন্য যে মাত্রার মানসিক নমনীয়তা প্রয়োজন, সেটা আমাদের নেই। তার চেয়েও বড় কথা, এ মানসিক নমনীয়তা তৈরির জন্য যে নতুন ধরনের শিক্ষাক্রমের কথা বলা হচ্ছে, সেটা গ্রহণ করার মতো মানসিক ধারণক্ষমতাও তৈরি হয়নি এখনো।

আমাদের দেশে এখন যেটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেটি হচ্ছে-যে শিক্ষাক্রম এখনো পাইলটিং পর্যায়ে আছে, সেটি নিয়ে প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা করা। তাতে যে সেটাকে একটি ত্রিকালজ্ঞ শিক্ষাক্রমে রূপান্তর করা যাবে, তা নয়; কিন্তু আমরা যদি অন্তত শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের প্রয়োজনটা অনুভব করি, তাহলেও প্রযুক্তি ও পরিবর্তন সংকুল ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে চলার জন্য শিক্ষার্থীদের হাতে কিছু উপযুক্ত পাথেয় তুলে দেওয়া যাবে।

সৈয়দ মো গোলাম ফারুক : মাউশি ও নায়েমের সাবেক মহাপরিচালক

ত্রিকালজ্ঞ শিক্ষাক্রম এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

 সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একটা সময় ছিল, যখন তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করতে শিক্ষাক্রম বা অন্য যে কোনো নামে বা যে কোনোভাবে যে পরিকল্পনা করা হতো, সেটি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের একটি স্পষ্ট ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হতো।

উদ্দেশ্য ছিল, শিক্ষার্থীরা অতীত সম্পর্কে জানবে, সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমানকে বোঝার চেষ্টা করবে এবং তারই ধারাবাহিকতায় কীভাবে ভবিষ্যতের জীবনযাপিত হবে, তা কল্পনা করে নিজেকে প্রস্তুত করবে। কিন্তু এখন আর ঠিক সেভাবে শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা সম্ভব নয়। অতীতের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য এখন এত বেশি যে, তাদের মধ্যে ধারাবাহিকতা খুঁজতে গিয়ে আমরা খেই হারিয়ে ফেলি আর ক্রমাগত কুয়াশাচ্ছন্ন হতে থাকা ভবিষ্যৎ একেবারে অদৃশ্য না হলেও খুব স্পষ্ট করে আর দেখা যায় না।

আগে কী হতো একটু কল্পনা করা যাক। ধরুন, আজ থেকে এক হাজার বছর আগে ১০২২ সাল। তখনো মানুষ তো আর ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা ছিল না। কিন্তু অন্তত এটুকু বুঝত যে, সমাজের মৌলিক বিষয়গুলোর পরিবর্তন হবে না। সেই সময়কার মানুষ হয়তো ধরে নিত যে, যেরকম সব সময় রাজা যায় রাজা আসে, সেভাবে শাসকের পরিবর্তন হবে অথবা মহামারিতে উজাড় হবে গ্রামের পর গ্রাম; কিন্তু কামার, কুমোর, জেলে, তাঁতি, চাষি বা নাপিতদের পেশা একই থাকবে, শাসকরা-আমলা বা সৈনিক হিসাবে মানুষকেই নিয়োগ করবে, সমাজ এরকমই পুরুষশাসিত হবে এবং মানুষের সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল হবে চল্লিশের কাছাকাছি। ফলে সেই সময়কার একজন শিশু বড় হয়ে কী হবে বা কী পরিবেশে জীবনযাপন করবে, তা আন্দাজ করা সহজ ছিল এবং সেই অনুযায়ী তাকে প্রস্তুত করা যেত।

আমাদের কালটা একটু ভিন্ন। এখন কামার-কুমোরদের পেশা তো পরিবর্তন হচ্ছেই; এমনকি রসায়ন শাস্ত্রের অধ্যাপক চিত্রপরিচালক হয়ে যাচ্ছেন, ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছেন মন্ত্রী, পদার্থবিদ হচ্ছেন ব্যাংকার, ডাক্তার হচ্ছেন প্রশাসক ইত্যাদি। যাই হোক, তাতেও তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। কারণ, দক্ষতা বিবেচনায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পুরোনো পেশার সঙ্গে নতুন পেশার খুব একটা পার্থক্য ছিল না এবং সবাই যে বাধ্য হয়ে তার নিজের পেশা ত্যাগ করেছেন, তাও নয়। অনেকেই স্বেচ্ছায় নতুন পেশা বেছে নিয়েছেন।

কিন্তু যে শিশু এখন জন্ম নিচ্ছে, সে যখন বড় হবে সে কোন পেশা বা বলা ভালো-কোন পেশা বেছে নেবে, তা বলা খুব কঠিন। ২০৫০ সালকে কল্পনা করে আমরা হয়তো শিক্ষার্থীদের সি + + এ কম্পিউটার কোড লেখা শেখালাম; অথবা সেই সময় চাইনিজ ভাষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ভেবে তাদের ওই ভাষায় দক্ষ করে তুললাম। কিন্তু পরে যদি দেখা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের চাইতে অনেক ভালোভাবে সফটওয়্যার কোড করতে পারছে বা গুগল ট্রান্সলেট দিয়ে কোনো ভাষা না শিখেই সে ভাষায় অন্যদের সঙ্গে নিখুঁতভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছে, তাহলে তখন তো স্রেফ তাদের মাথায় হাত পড়বে।

তাদের যেন সত্যি সত্যি মাথায় হাত না পড়ে, সেরকম শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করা কঠিন। এর প্রধান কারণ, আমরা এখনো এ পরিবর্তনের বিষয়টি বুঝতেই পারছি না। আমরা এখনো ভাবি-ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা আমরা জানি। আমাদের কাছে এখনো মনে হয়, আমাদের সন্তানদের মেডিকেল কলেজ বা বুয়েটে ভর্তি করিয়ে দিতে পারলে তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যাবে। আমরা এখনো মনে করি, অনাদিকাল থেকে যে ছকে আমাদের জীবন চলছে, এখনো সেভাবে চলবে।

এ পর্যন্ত মানুষের জীবন ছিল মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে সে প্রস্তুতি নিত আর জীবনের দ্বিতীয় ভাগে সে সেই প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে বাকি জীবন কাটিয়ে দিত। প্রস্তুতিকালে সে একটু অস্থিরতা ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেত বটে; কিন্তু দ্বিতীয় ভাগে তুলনামূলকভাবে সুস্থির হয়ে সে প্রায় একইভাবে, একই কাজ করে এবং একই মানসিকতা নিয়ে জীবনটা পার করে দিতে পারত।

এ দুইভাগের ছকে বাঁধা জীবন এখন বহুভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, একেকটা ভাগের আয়ু হবে বড়জোর ১০-১২ বছর; অর্থাৎ অন্তত প্রতি ১০-১২ বছরে একবার করে মানুষের মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি, দক্ষতা বা পেশা পরিবর্তন করতে হবে। এর মানে হলো, আমরা আজকের শিশুদের যা শেখাব, তা দিয়ে তাদের বড়জোর ১০-১২ বছর চলবে। তারপর কেবল টিকে থাকার জন্য তাদের নিজ দায়িত্বে জীবনের পরবর্তী ভাগগুলোর জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে থাকতে হবে।

তবে সুবিধা হচ্ছে, এটি তো কেবল আমাদের একার সমস্যা না। সারা পৃথিবী এখন এটা নিয়ে ভাবছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য সৃজনশীলতা, সূক্ষ্মচিন্তন দক্ষতা, খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, সহযোগিতা, সহমর্মিতা বা যোগাযোগ দক্ষতার মতো সফট স্কিল বা তরল দক্ষতা তৈরি করে দেওয়া যায়, তাহলে তারা প্রয়োজনে সেগুলো নতুন নতুন পাত্রে ঢেলে নিজেদের নিত্যনতুনভাবে তৈরি বা আবিষ্কার করতে পারবে।

তবে শুধু যে পেশারই পরিবর্তন হবে, তা কিন্তু নয়। সমাজ, রাষ্ট্র, পারিবারিক সম্পর্ক, দেশের সীমানা, সাইবার মাইগ্রেশন, জেন্ডার আইডেন্টিটি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে ইন্দ্রিয় অনুভূতির মতো ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতসব পরিবর্তনের ধাক্কা সামলানোর জন্য যে মাত্রার মানসিক নমনীয়তা প্রয়োজন, সেটা আমাদের নেই। তার চেয়েও বড় কথা, এ মানসিক নমনীয়তা তৈরির জন্য যে নতুন ধরনের শিক্ষাক্রমের কথা বলা হচ্ছে, সেটা গ্রহণ করার মতো মানসিক ধারণক্ষমতাও তৈরি হয়নি এখনো।

আমাদের দেশে এখন যেটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেটি হচ্ছে-যে শিক্ষাক্রম এখনো পাইলটিং পর্যায়ে আছে, সেটি নিয়ে প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা করা। তাতে যে সেটাকে একটি ত্রিকালজ্ঞ শিক্ষাক্রমে রূপান্তর করা যাবে, তা নয়; কিন্তু আমরা যদি অন্তত শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের প্রয়োজনটা অনুভব করি, তাহলেও প্রযুক্তি ও পরিবর্তন সংকুল ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে চলার জন্য শিক্ষার্থীদের হাতে কিছু উপযুক্ত পাথেয় তুলে দেওয়া যাবে।

সৈয়দ মো গোলাম ফারুক : মাউশি ও নায়েমের সাবেক মহাপরিচালক

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন